সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ৮৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ মশীউজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম

সুওয়ালঃ- মাসিক আল বইয়্যিনাত ৮৫তম সংখ্যায় “সুওয়াল- জাওয়াব” বিভাগে এক জাওয়াবের পরিপ্রেক্ষিতে মাসিক তরজুমান সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈঃ সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নামাজে দু’সিজদার মধ্যে দোয়া পাঠ করা সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রদান করেছে তা কতটুকু সত্য? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াবঃ- মাসিক তরজুমানের উক্ত উত্তরটি সম্পূর্ণ অশুদ্ধ, মিথ্যা, প্রতারণামূলক, জালিয়াতি, ধোকাপূর্ণ, ইবারতচুরি, অনুবাদে ভুল এবং এ ধরণের “প্রায় ৩৫টি ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ থাকায় মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

          উক্ত বিবিধ ত্রুটিপূর্ণ উত্তরটি নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে খন্ডন করে তার সহীহ জাওয়াব ধারাবাহিকভাবে পেশ করা হচ্ছে।

(ধারাবাহিক)

১১. মাসিক তরজুমান সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় উত্তওে বলা হয়েছে, “তবে হানাফীদেও মতেও নফল, তাহাজ্জুদ ও সুন্নাত নামাযসমূহে উপরোক্ত দোয়া দুই সাজদার মাঝখানে চুপে চুপে পড়া উত্তম ও বৈধ।”

তরজুমান গং উপরোক্ত “হানাফীদেও মতেও” বক্তব্য ভঙ্গিমার দ্বারা প্রমাণ করেছে যে, তারা হানাফী মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত নয়! ঊরং তারা রেযাখানী মাযহাব যা বাতিল, তার অনুসারী দাবী কওে নিজেদেরকে গায়ওে মুকাল্লিদ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। যা তাদেও ১১তম জালিয়াতি ও গোমরাহী।

১২. তারা সুন্নত নামাযের কথা উল্লেখ করেছে।

অথচ মুতলাক্ব সুন্নত বলতে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বুঝায়। আর আমাদের হানাফী মাযহাব মতে সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাযেও তুরজুমান জুলাই-আগষ্ট/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় উল্লিখিত দোয়া অর্থাৎ “আল্লাহুম্মারযুকনী ওয়াশফাআনী ওয়াহদিনী এ দোয়াটি পড়া যাবে না।” তারা হানাফী মাযহাবের উদ্ধৃতি দিয়ে সুন্নত নামাযের কথা উল্লেখ কওে হানাফী মাযহাবের প্রতি অপবাদ দিয়েছে। ইহা তাদেও ১২তম জালিয়াতি ও প্রতারণা।

১৩. তারা বলেছে, “উপরোক্ত দোয়া দুই সাজাদার মাঝখানে চুপে চুপে পড়া উত্তম ও বৈধ।”

এখন তরজুমান গংদেও নিকট প্রশ্ন উপরোক্ত দোয়া বলতে কোন দোয়া? তাদেও তরজুমান জুলাই-আগষ্ট/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় উল্লিখিত “আল্লাহুম্মার যুকনী ওয়ার হামনী ওয়াশফাআনী ওয়াহদিনী” দোয়া?

না তাদেরই তরজুমানে সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় আবূ দাউদ, তিরমীযী-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লিখিত-

اللهم اغفرلى وارحمنى واهدنى وعافنى وارزقنى.

দোয়া? না তাদেরই তরজুমানে সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় (নাসায়ী ও দারেমী) মিশকাত শরীফ সুজুদ অধ্যায় পৃষ্ঠা ৮৪) এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লিখিত رب اغفرلى দোয়াটি? ঐদি উপরোক্ত দোয়া বলতে তরজুমানের জুলাই-আগস্ট/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যার দোয়াটি হয় অথবা তরজুমানে সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যার আবূ দাউদ, তিরমীযী-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লিখিত দোয়াটি হয়, তাহলে এর জবাব হলো, উপরোক্ত দোয়াগুলো নফল নামাযের দুই সিজদার মাঝখানে পড়া যাবে। ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝখানে পড়া যাবে না। যা আমাদের প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ৮৫তম সংখ্যায় সুওওয়াল-জাওয়াব বিভাগে সর্বজনমান্য, বিশ্ববিখ্যাত নির্ভরযোগ্য হাদীছ শরীফ ও তার শরাহ এবং বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের পৃষ্ঠাসহ ২২টি আরবী ইবারত উল্লেখ কওে ৩১টি কিতাবের দলীল পেশ কওে সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়েছে, “উক্ত দোয়াটি আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবেক ফরয নামাযে পড়া যাবে না। বরং উক্ত দোয়াটি শুধুমাত্র নফল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজন্য। ফরয নামাযে উক্ত দোয়াটি পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।”

আর যদি উপরোক্ত দোয়া বলতে তরজুমানের সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যার (নাসায়ী ও দারেমী) (মিশকাত শরীফ সুজুদ অধ্যায় পৃষ্ঠা ৮৪) এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লিখিত رب اغفرلى দোয়াটি হয়, তাহলে এর জবাব হলো, শুধুমাত্র رب اغفرلى অথবা  اللهم اغفرلى দোয়াটি ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝখানে পড়া জায়েয রয়েছে। কেননা اللهم اغفرلى পড়ার ব্যাপারে হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিষেধ করেন নি। আর ইবনে আবেদীন শামী বলেছেন, اللهم اغفرلى পড়া জায়েয রয়েছে। কেননা ইহা অর্থাৎ رب اغفرلى বা اللهم اغفرلى মাগফিরাতের দোয়া। আর মাগফিরাতের দোয়া ফরয নামাযে পড়া জায়েয রয়েছে। তারা উপরোক্ত দোয়া বলে যে প্রতারণা করেছে। তা তাদের ১৩তম জালিয়াতি ও প্রতারণা।

১৪. তারা বলেছে, “ফরয নামাযের বেলায় হানাফীদের মধ্যে অনেক ইমাম যদিও মাসনুন বা সুন্নত হিসাবে সাব্যস্ত নয় মর্মে প্রকাশ করেছেন।”

তাদের এ বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হানাফী মাযহাব মুতাবেক “আল্লাহুম্মার যুকনী ওয়ার হামনী ওয়াশফাআনী ওয়াহদিনী” অথবা اللهم اغفرلى وارحمنى واهدنى وعافنى وارزقى. দোয়াটি ফরয নামাযের জন্য নয়। ফরয নামাযের বেলায় হানাফীদের মধ্যে ….. যদিও মাসনুন নয় একথা বলা ইহা তাদের নেক ছূরতে ১৪তম জালিয়াতী ও প্রতারণা।

১৫. তারা বলেছে, “তবে ফরয নামাযের বেলায়ও দুই সিজদার মাঝখানে প্রিয় নবী রাসূলে আকরাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত উক্ত মাগফিরাতের দোয়া চুপে চুপে পড়া বৈধ, মাকরূহ নয় বরং মুস্তাহাব ও উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন।”

তাদের এ বক্তব্য কুফরীমূলক হয়েছে। কারণ তারা বলেছে, “ফরয নামাযের বেলায়ও ………… প্রিয় নবী রাসূলে আকরাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত ….। অথচ হাদীছ শরীফ-এ ফরয নামাযের কথা উল্লেখ নেই। ইহা তাদেও ১৫তম জালিয়াতি ও প্রতারণা।

১৬. তারা বলেছে, “উক্ত মাগফিরাতের দোয়া …..।” অথচ তারা আগেই বলেছে, উপরোক্ত দোয়া যার ব্যাখ্যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি। এরপর আবার এখানে বলেছে, ফরয নামাযের বেলায়ও ……… উক্ত মাগফিরাতের দোয়া চুপে চুপে পড়া বৈধ, মাকরূহ নয়।

তরজুমান গংদেও নিকট প্রশ্ন? যদি উক্ত মাগফিরাতের দোয়া বলতে তাদের তরজুমানের উল্লিখিত-

اللهم اغفرلى وارحمنى واهدنى وعافنى وارزقنى.

এই সম্পূর্ণ দোয়াটি হয় তাহলে এর জবাব হলো, উক্ত সম্পূর্ণ দোয়াটি ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝখানে পড়া যাবে না বরং ফরয নামাযে শুধুমাত্র اللهم اغفرلى পড়তে পারবে। যা তাদেও মাযহাবের কিতাব “ফতওয়ায়ে রেজভিয়ায়”ও উল্লেখ আছে। (ইবারতসহ দলীলের জন্য অপেক্ষা করুন।)

আর ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝখানে اللهم اغفرلى ব্যতীত পরবর্তী অতিরিক্ত সম্পূর্ণ দোয়াগুলো পড়লে আমাদেও হানাফী মাযহাবে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। আর রেযা খান বলেছে, মাকরূহ হবে। (ইবারত সহ দলীলের জন্য অপেক্ষা করুন।)

আর যদি উক্ত মাগফিরাতের দোয়া বলতে তাদেও তরজুমানে উল্লিখিত رب اغفرلى দোয়াটি হয় তাহলে এর জবাব হলো, শুধুমাত্র رب اغفرلى অথবা শুধুমাত্র اللهم اغفرلى দোয়াটি ফরয নামাযের দুই সিজদার মাঝখানে পড়া জায়েয রয়েছে। উক্ত মাগফিরাতের দোয়া বলে তারা ১৬তম জালিয়াতি ও প্রতারণা করেছে।

(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

মুহম্মদ রেজা, গোড়ান, ঢাকা।

সুওয়াল: মাসিক তরজুমান ‘নভেম্বর-ডিসেম্বর’ ’৯৯ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে ছবি বা ফটো তোলা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, “ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় বড় বড় মাহফিল বা অনুষ্ঠানের ছবি উঠিয়ে প্রয়োজনবশতঃ পত্র-পত্রিকায় প্রচারের জন্য প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া যায়।

এখন আমার সুওয়াল হলো- ছবি সম্পর্কে মাসিক তরজুমানের উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? আর ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছবি উঠানো জায়েয হবে কি? এবং তা পত্র-পত্রিকায় প্রচার করা যাবে কি? দয়া করে দলীলসহ জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: চট্টগ্রাম আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কর্তৃক প্রকাশিত রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র মাসিক তরজুমান পত্রিকার ছবি সংক্রান্ত উপরোল্লিখিত বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং তা সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা, দলীল বিহীন এবং কুরআন-সুন্নাহ তথা শরীয়তের খেলাফ হওয়ায় কুফরী হয়েছে। কারণ তাদের বক্তব্য থেকে এটাই সাব্যস্ত হয় যে, ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় বড় মাহফিল বা অনুষ্ঠানের ছবি উঠানো জায়েয। অথচ কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর বর্ণনা মুতাবিক প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, তৈরি করা, দেখা, রাখা, ছাপা ইত্যাদি সবই হারাম ও নাজায়েয। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,

ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থ: “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ)

তিনি আরো বলেন, كل مصور فى النار.

অর্থ: “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তৈরিকারীই জাহান্নামে যাবে।” (ফতহুল বারী)

হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় ফিক্বাহর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন “ফতওয়ায়ে নঈমিয়াহ” কিতাবের ৪৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থ: “প্রাণীর ছবি তৈরি করা বা করানো সাধারণতঃ হারাম। কলম দ্বারা হোক অথবা ক্যামেরার মাধ্যমে অর্থাৎ হারাম। (কেননা) সহীহ হাদীছ শরীফ সমূহ এবং ফিক্বহি ইবারত সমূহের দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, প্রাণীর ছবি তৈরি করা নাজায়েয ও হারাম।” “ফতওয়ায়ে রেজভীয়া” কিতাবের ১০ম খ-ের ৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থ: “প্রাণীর ছবি তোলা মতলক বা সাধারণ ভাবেই হারাম। তা ছায়াযুক্ত হোক অথবা ছায়াহীন হোক, হাতে অঙ্কন করে হোক অথবা ক্যামেরায় হোক।” “বাহারে শরীয়ত” কিতাবের ৩য় খ-ের ১২৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থ: “প্রাণীর ছবি তৈরি করা বা তৈরি করানো সর্বাবস্থায়ই হারাম। চাই হাতে হোক অথবা ক্যামেরায়, উভয়ের একই হুকুম।”

অর্থাৎ ক্যামেরা, ভিডিও বা হাতে যেকোন পদ্ধতিতেই হোক না কেন, প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, তৈরি করা এবং রাখা, দেখা, ছাপা ইত্যাদি যেমন হারাম ও নাজায়েয, তেমনি তা কঠিন শাস্তিরও কারণ।

অথচ এ স্পষ্ট হারাম ও নাজায়েয কাজকে ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির নাম দিয়ে উক্ত তরজুমান পত্রিকায় মানুষ তথা প্রাণীর ছবিযুক্ত ধর্মীয় বড় মাহফিল বা অনুষ্ঠানের ছবি উঠানো জায়েয বলেছে। শুধু তাই নয় তারা ইহাও বলেছে যে, তা পত্র-পত্রিকায় প্রচারের জন্য প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া যাবে। যা মূলতঃ কুফরীর শামীল। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে,

الحلال بين والحرام بين.

অর্থ: “হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট।” (বুখারী শরীফ) অর্থাৎ দ্বীন ইসলামে কোনটি হালাল এবং কোনটি হারাম, তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর যদি কেউ কোন হারামকে হালাল এবং কোন হালালকে হারাম করার অপচেষ্টা চালায়, তবে তা হবে সম্পূর্ণ কুফরী এবং সে কাফির হয়ে যাবে। কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,

فيحلوا ما حرم الله زين لهم سوء اعمالهم والله لايهدى القوم الكفرين.

অর্থ: “অতঃপর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হারাম করেছেন, তারা তা হালাল করে। মূলতঃ তাদের জন্য মন্দ বা নিকৃষ্ট আমলই শোভন করে দেয়া হয়েছে এবং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না।” (সূরা তওবা/৩৭)

তরজুমান গং হারাম ছবিকে হালাল ফতওয়া দিয়ে নিজেদেরকে কাদিয়ানীদের দোসর তথা কাফির ও চিরজাহান্নামী সাব্যস্ত করলো

উল্লেখ্য, একদা মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আযম, হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি ইরাকের জঙ্গলে রিয়াজত কালে নিয়ত করলেন যে, তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত রিযিক দ্বারা ইফতার করবেন। ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ঝলমলে পোষাক পরিহিত চকচকে চেহারার এক লোক সোনার খাঞ্চা ও পেয়ালায় নানা রকম খাদ্য সামগ্রী পরিপূর্ণ করে হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে হাযির হয়ে বললো, “হে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! আপনার ইবাদত-বন্দেগীতে খুশি হয়ে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এসব খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছেন।” হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এ সম্বোধান শোনা মাত্রই পাঠ করলেন,

اعوذ بالله من الشيطان الرجيم.

(আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম)

অর্থ: “বিতাড়িত শয়তান থেকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” এবং لاحول ولاقوة الا بالله.

(লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)

অর্থ: “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য ব্যতীত নেক কাজ করার এবং পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার কারো ক্ষমতা নেই। সাথে সাথে শয়তান দূরে সরে গেল এবং পুনরায় বললো, “আপনার ইলম আপনাকে বাঁচিয়েছে।” তিনি আবার পাঠ করলেন, اعوذ بالله من الشيطان الرجين.

(আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম) এবং

لاحول ولاقوة الا بالله.

(লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)

অতঃপর বললেন, “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই আমাকে বাঁচিয়েছেন।” ইহা শুনে শয়তান বললো, “এভাবে ধোকা দিয়ে আমি অনেক দরবেশকে গোমরাহ ও ধ্বংস করে দিয়েছি।” অর্থাৎ শয়তান হালালকে হারাম বানিয়ে ও হারামকে হালাল বানিয়ে অনেক দরবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন এই ঘটনা বর্ণনা করলেন, তা শুনে উনার মুরীদ-মুতাকিদ, ও মুহিব্বীনগণ আরজ করলেন, হুযূর! আপনি কিভাবে বুঝতে পারলেন যে, সে ইবলিস (শয়তান)? তিনি জবাবে বললেন, “দেখ, সে যে খাঞ্চা ও পেয়ালতে করে খাদ্য নিয়ে এসেছিল সেগুলো ছিল স্বর্ণের। তা দেখেই আমি বুঝতে পারলাম যে, সে ইবলিস হবে। কেননা ওহীর দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, স্বর্ণের পাত্রে খাদ্য খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। আর ওহীর দ্বারা হালাল হালাল বলে সাব্যস্ত হয়েছে, হারাম, হারাম বলে সাব্যস্ত হয়েছে। এখন যেহেতু ওহীর দরজা বন্ধ সেহেতু নতুন করে আর কোন হারাম হালাল হবে না এবং কোন হালাল ও হারাম হবেনা।

এতে আমি নিশ্চিত হলাম যে, নিশ্চয়ই সে শয়তান। অন্যথায় সে স্বর্ণের খাঞ্চা ও পেয়ালাতে খাদ্য নিয়ে আসতোনা। তাই আমি আউযু বিল্লাহ ও লা হাওলা পাঠ করেছি।”

এরই প্রেক্ষাপটে বলতে হয় যে, তরজুমান গং শয়তানের ধোকায় পড়ে হারাম ছবিকে ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির প্রলোভন দেখিয়ে হালাল ফতওয়া দিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে কাদিয়ানীদের খাছ দোসর নতুন শরীয়ত প্রণেতা তথা কাফির হিসেব সাব্যস্ত করলো।

অতএব, কুরআন-সুন্নাহর উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দ্বারাই মাসিক তরজুমানের প্রদত্ত বক্তব্য অশুদ্ধ, হারাম, নাজায়েয ও কুফরী প্রমাণিত হলো।

স্মর্তব্য যে, ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির জন্য মানুষ বা প্রাণীর ছবিসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছবি উঠানো যদি জায়েযই হয়, তাহলে তাদের বক্তব্য মুতাবিক মদ ও জুয়া খেলাও জায়েয প্রমাণিত হয়। কেননা মদ ও জুয়ার মধ্যে মানুষের ফায়দা রয়েছে, যা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন অথচ মদ ও জুয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়েয। যেমন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

يسئلونك عن الخمر والميسر قل فيهما اثم كبير ومنامع للناس.

অর্থ: “হে হাবীব! আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, মদ ও জুয়া সম্পর্কে। আপনি বলে দিন, মদ ও জুয়ার মধ্যে মানুষের জন্য ফায়দা রয়েছে। তবে ফায়দার চেয়ে গুণাহই বড়।” (সূরা বাক্বারা/২১৯)

এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মদ ও জুয়ার মধ্যে ফায়দা রয়েছে। মদ পান করলে স্বাস্থ্য ভাল হয়, জুয়া খেললে রাতারাতি অনেক টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলোর মধ্যে ফায়দার চেয়ে গুণাহ বেশি বলে এগুলোকে হারাম করা হয়েছে। সুতরাং মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও এগুলো গ্রহণ যোগ্য নয়, বরং এগুলো হারাম। মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারীতার জন্য কেউ যদি তা জাযেয মনে করে, সে কুফরী করলো। তদ্রুপ ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির জন্য মানুষ বা প্রাণীর ছবিসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছবি উঠানোকে কেউ যদি জায়েয মনে করে তবে সেও কুফরী করলো।

অতএব, ধর্মীয় অনুরাগ বৃদ্ধির নামে ধর্মীয় বড় মাহফিল বা অনুষ্ঠানের ছবি উঠানো যেমন হারাম তদ্রুপ তা পত্র-পত্রিকায় প্রচারের জন্য প্রকাশের ব্যবস্থা করাও হারাম ও নাজায়েয। সুতরাং তরজুমান গং হারাম ছবিকে জায়েয ফতওয়া দিয়ে কুফরী করেছে।

{দলীলসমূহ: (১) বুখারী (২) মুসলিম, (৩) তিরমিযী (৪) আবূ দাউদ (৫) নাসাঈ (৬) ইবনে মাযাহ (৭) মুয়াত্তা ইমাম মুহম্মদ (৮) মুয়াত্তা ইমাম মালেক (৯) মসনদে আহমদ (১০) মুছান্নেফ ইবনে আবী শায়বা (১১) মিশকাত (১২) দায়লামী (১৩) ফতহুল বারী (১৪) উমদাতুল কারী (১৫) ফয়জুল বারী (১৬) ফতহুল মুলহিম (১৭) মুজামুল মুফহারিস (১৮) রিয়াজুস ছলেহীন (১৯) ফিক্বহুস সুনান (২০) শরহে নব্বী (২১) শরহুন নাসাঈ লিস সুয়ূতী (২২) হাশিয়ায়ে সিনদী (২৩) আওজাযুল মাসালিক (২৪) ত্বহাবী (২৫) মুযাহেরে হক (২৬) আশআতুল লুমআত (২৭) তানযীমুল আশতাত (২৮) মেরকাত (২৯) তোহফাতুল আহওয়াযী (৩০) বযলুল মাজহুদ (৩১) তোহফায়ে খাওয়াতীন (৩২) তরজুমানুস সুন্নাহ (৩৩) ইলাউস সুনান (৩৪) নাইনুল আওতার (৩৫) মাশারিকুল আনওয়ার (৩৬) ইরশাদুত ত্বালিবীন (৩৭) আকসি আশরাফী (৩৮) ফতওয়ায়ে ছিদ্দীকিয়া (৩৯) কিতাবুল ফিকিহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া (৪০) হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (৪১) হেদায়া (৪২) নুরুল হেদায়া (৪৩) নুরুদ দেরায়া (৪৪) আইনুল হেদায়া (৪৫) আইনী শরহে হেদায়া (৪৬) বাহরুর রায়েক (৪৭) আলমগীরী (৪৮) শরহে বেকায়া (৪৯) শরহে নেকায়া (৫০) আদ দুররুল মুখতার (৫১) রদ্দুল মুহতার (৫২) মা’দানুল হাকায়েক (৫৩) ফতহুল কাদীর (৫৪) জামেউছ ছগীর (৫৫) খোলাছাতুল ফতওয়া (৫৬) মাবছুত (৫৭) ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া (৫৮) হাশিয়ায়ে তাহতাবী (৫৯) গায়াতুল আওতার (৬০) নুরুল ইজাহ (৬১) মারাকিউল ফালাহ (৬২) তোহফাতুল আজম (৬৩) ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুসতাক্বীম (৬৪) জাদীদ মাসায়েল কে শরযী আহকাম (৬৫) মালাবুদ্দা মিনহু (৬৬) আনওয়ারে মাহমুদা (৬৭) ফতওয়ায়ে আব্দুল হাই (৬৮) সুন্নী বেহেস্তী শরীয়ত (৬৯) ফতওয়ায়ে নঈমীয়া (৭০) বাহারে শরীয়ত (৭১) ফতওয়ায়ে রেজভীয়া (৭২) তাবয়িনুল হাক্বায়িক্ব ইত্যাদি।}

(বিঃ দ্রঃ “ছবি সম্পর্কে দলীল-আদিল্লাহসহ বিস্তারিত ভাবে জানতে হলে” মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম সংখ্যাগুলো পড়–ন। সেখানে ৩৫৩টি অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে ফতওয়া দেয়া হয়েছে যে, প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা, ছাপানো ইত্যাদি সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয।)

মুহম্মদ মুক্তাদুল ইসলাম, সিলেট।

সুওয়াল: মাসিক তরজুমান মে-জুন ’৯৯ ঈসায়ী সংখ্যায় টেলিভিশন দেখা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বা হয়েছে। “যা এমনিতে দেখা বৈধ তা টেলিভিশনের পর্দায় দেখতেও বাধা নাই আর যা টিভির বাইরে বাইরে দেখা যাবে না তা তো টিভিতে দেখার প্রশ্নই নাই।”

এখন আমার সুওয়াল হলো- মাসিক তরজুমানের উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? আর সত্যিই কি যা এমনতি দেখা যায় তা টেলিভিশনের পর্দায়ও দেখা যাবে? দলীলসহ সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: টেলিভিশন দেখা সম্পর্কে চট্টগ্রাম আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কর্তৃক প্রকাশিত রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র মাসিক তরজুমান পত্রিকার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং তরজুমানের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা, দলীলবিহীন ও শরীয়তের খেলাফ হওয়ায় কুফরী হয়েছে, “যেমন তরজুমানে বলা হয়েছে, যা এমনিতে দেখা বৈধ তা টেলিভিশনের পর্দায় দেখতেও বাধা নাই ………।

এর জবাবে বলতে হয় যে, এমনিতে দেখা আর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা এক জিনিস নয়। কেননা এমনিতে বা বাস্তবে যেমন এক পুরুষ অপর পুরুষকে এক মহিলা অপর মহিলাকে দেখা জায়েয। টেলিভিশনে ছবির কারণে তা দেখা কখনোই জায়েয হবে না, বরং সম্পূর্ণরূপে হারাম হবে। কেননা টেলিভিশনের মূল বিষয় হলো ছবি। আর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা, ছাপা সবই হারাম ও নাজায়েয। এছাড়া টেলিভিশনে পুরুষ যেমন বেগানা মেয়ে লোককে দেখে থাকে তদ্রুপ মেয়েরাও বেগানা পুরুষকে দেখে থাকে। তাও শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন,

لعن الله الناظو والمنظور اليه.

অর্থ: “যে দেখে এবং যে দেখায়, উভয়ের প্রতি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত।” (বায়হাক্বী, মিশকাত)

কাজেই কোন অবস্থাতেই টেলিভিশনে প্রাণীর ছবি সংক্রান্ত অনুষ্ঠান দেখা, শোনা ও উপভোগ করা জায়েয হবে না। তা যতই নির্মল, নিষ্কলুষ ও শিক্ষাণীয় হোক বা তাতে যতই উপকারিতা থাকুক না কেন।

উল্লেখ্য, টেলিভিশনের পর্দায় ছবি আসার কারণে টেলিভিশন দেখা হারাম, কারণ ছবি হারাম। আর হারাম থেকে হারামই বের হবে। যেমন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

والذى خبث يخرج الا نكدا.

অর্থ: “যা নাপাক তা থেকে নাপাক ব্যতীত কিছু বের হয় না।” (সূরা আ’রাফ/৫৮)

সুতরাং টেলিভিশন, ভিসিআর ইত্যাদির মধ্যে যদিও কোন প্রকার শিক্ষণীয় বিষয় প্রচার হয় অথবা ইসলামী প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়, যেহেতু তার মূলই হলো- ছবি, যা স্পষ্টত হারাম ও নাজায়েয। এছাড়াও বর্তমানে টেলিভিশনের অন্যান্য অশ্লীলতার কারণেও এগুলো হারামের পর্যায়ে পড়ে। কেননা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,

ولا تلبس الحق بالباطل.

অর্থ: “সত্যেকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না।” (সূরা বাক্বারা/৪২)

অন্যত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

افتؤمنون ببعض الكتب وتكفرون ببعض.

অর্থ: “তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানবে, আর কিছু অংশ মানবে না, তা হবে না।” (সূরা বাক্বারা/৮৫)

সুতরাং টিভিতে বা ভিসিআর এ জ্ঞানমূলক, শিক্ষামূলক কিম্বা ইসলামী অনুষ্ঠান প্রচার বা দেখার মধ্যে বাহ্যিকভাবে কিছু উপকারীতা থাকা সত্বেও যেহেতু এসবের মূল হচ্ছে ছবি, যার ফায়দার চেয়ে গুণাহই বড়। তাই টিভি, ভিডিওতে কোন অনুষ্ঠান করা বা দেখা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়েয।

কাজেই মাসিক তরজুমান কর্তৃপক্ষ কুফরী ফতওয়া দিয়ে কুফরী করেছে। অতএব তরজুমান কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরণের কুফরী ফতওয়া প্রদান হতে খালিছ তওবা করা এবং সে ফতওয়ার সংশোধনী দেয়া। নচেৎ তাদের এধরণের কুফরী ফতওয়ার জন্য তাদের নিজেদের এবং উক্ত ফতওয়া আমলকারীদের জন্য জাহান্নামের পথই প্রশস্ত হবে।

(বিঃ দ্রঃ ছবি, টিভি, ভিসিআর ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম সংখ্যাগুলো পড়–ন। যাতে তিন শতাধিক দলীল-আদিল্লার মাধ্যমে ছবি সংক্রান্ত বিষয়াদি হারাম ও নাজায়েয প্রমাণ করা হয়েছে।)

মুহম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।

সুওয়াল: মাসিক তরজুমান মে-জুন ’৯৯ ঈসায়ী সংখ্যায় ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, “……. যে কোন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ও দেখা বৈধ।”

এখন আমার সুওয়াল হলো- তরজুমান পত্রিকার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? আর সত্যিই কি যে কোন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা ও দেখা বৈধ? অথচ আমরা জানি তিনটি খেলা ব্যতীত সকল খেলা হারাম। দলীলসহ সঠিক জাওয়াব জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: খেলাধুলা সম্পর্কে চট্টগ্রামস্থ আনজুমানে রহমানিয়া সন্নিয়া কর্তৃক প্রকাশিত রেযা খানী মাযহাবের মুখপত্র মাসিক তরজুমান- পত্রিকার উক্ত বক্তব্য কুফরী মূলক হয়েছে। কারণ হাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত কিতাব, “মুসতাদরেকে হাকেম”-এর মধ্যে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত আছে যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “সর্ব প্রকার খেলা বাতিল তিনটি ব্যতীত- (১) তীর ধনুক চালনা করা, (২) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা, (৩) নিজ স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশি করা।”

আরো উল্লেখ্য যে, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ ইত্যাদি হাদীছ শরীফ-এর কিতাবে হযরত ওকবা ইবনে আমের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে রেওয়ায়েত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মুমিনের শ্রেষ্ঠ খেলা সাঁতার কাটা, আর নারীর শ্রেষ্ঠ খেলা সূঁতা কাটা।”

সহীহ মুসলিম ও মসনদে আহমদ শরীফ-এ হযরত সালমান ইবনে আকওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দৌড় অনুশীলনে এজাযত দিয়েছেন।

আর আবূ দাউদ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোকনা পাহলোয়ানকে কুস্তিকে ধরাশায়ী করেছিলেন।

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এ উল্লিখিত খেলাগুলো ব্যতীত সর্বপ্রকার খেলাকে বাতিল বা হারাম করা হয়েছে। অথচ তরজুমান গং হাদীছ শরীফকে অস্বীকার করে সর্ব প্রকার খেলাধুলাকে বৈধ বলে কুফরী করেছে।

উল্লেখ্য, হাদীছ শরীফ-এ তথা শরীয়তে যেসব খেলার অনুমোদন রয়েছে, তা ব্যতীত যত প্রকার খেলা রয়েছে, তার প্রত্যেকটির মধ্যেই, না কোন দ্বীনী ফায়দা রয়েছে এবং না কোন দুনিয়াবী ফায়দা রয়েছে। বরং প্রতিটি খেলা তিনটি অবস্থার কোন এক অবস্থা থেকে খালি নয়। হয় তা কুফরী হবে অথবা হারাম হবে, আর না হয় তা মাকরূহ হবে।

যে খেলা বিধর্মীদের সাথে তাশাব্বুহ বা সাদৃশ্য রাখে অথবা দ্বীন ইসলাম থেকে সরিয়ে দেয়, তা সম্পূর্ণ কুফরী। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে,

من تشبه بقوم فهو منهم.

অর্থ: “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবূ দাউদ শরীফ)

যে খেলা ইসলামী আক্বীদা থেকে সরিয়ে নেয়না কিন্তু হারাম ও গুণাহর কাজে লিপ্ত করে দেয়, তা কুফরী নয়, তবে কবীরা গুণাহর কারণ। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,

تعاونوا على البر والتقوى ولاتعاونوا على الاثم والعدوان.

অর্থ: “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেক কাজ ও পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য কর, পাপ ও শত্রুতার মধ্যে সাহায্য করনা।” (সূরা মায়িদা/২)

আর যে সমস্ত খেলা কুফরী ও হারাম কোনটিই নয় কিন্তু প্রকাশ্যে তা পাপ বলেও মনে হয়না, মানুষ সাধারণভাবে সে সমস্ত খেলাকে জায়েয মনে করে থাকে, প্রকৃতপক্ষে তাও পাপেরই অন্তর্ভুক্ত। এতে যেমন ইবাদত-বন্দেগীর ব্যঘাত ঘটে এবং স্বাস্থ্য, সময় ও টাকা-পয়সার অপচয় হয়, তদ্রুপ পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষও পয়দা হয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

ان المبذرين كانوا اخوان الشياطين.

অর্থ: “নিশ্চয়ই (সর্বপ্রকার) অপচয়কারী শয়তানের ভাই।” (সূরা বণী ইসরাইল/২৭)

আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে,

من حسن اسلام المرء تركه ما لايعنيه.

অর্থ “কোন ব্যক্তির জন্য দ্বীনের সৌন্দর্য হলো- অহেতুক বা অপ্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকা।” (তিরমীযী, ইবনে মাযাহ, মুয়াত্তা)

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে- যে কাজ হারাম ও কুফরী, তাকে হালাল মনে করা কুফরী। অর্থাৎ যে হালাল মনে করবে, সে কাফির হয়ে যাবে।

আর যে কাজ হারাম ও কুফরী নয় কিন্তু পাপের কারণ, আর সে পাপকে হালকা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করে অর্থাৎ এ ধরণের পাপ করলে কিছু হয়না ইত্যাদি মনে করাটাও কুফরী।

অতএব, হাদীছ শরীফ-এ তথা শরীয়তে যে সব খেলার অনুমোদন করেছে তা ব্যতীত সর্বপ্রকার খেলাধুলা বিনা শর্ত শারায়েতেই হারাম, নাজায়েয ও অবৈধ। কারণ হাদীছ শরীফ-এ যে কোন খেলাধুলা বৈধ করার জন্য কোন শর্ত শারায়েত বৈধ বলে ফতওয়া দেয়ার অর্থ হলো হারামকে হালাল বলে সাব্যস্ত করা, যা সম্পূর্ণ কুফরী। সুতরাং হাদীছ শরীফ-এ উল্লিখিত খেলা ব্যতীত অন্য যে কোন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা ও দেখা সম্পূর্ণই হারাম, নাজায়েয ও অবৈধ।

সুতরাং তরজুমান গং যে কোন খোধুলায় অংশগ্রহণ ও দেখা বৈধ বলে কুফরী করেছে। এখন তাদের উচিৎ কুফরী থেকে খাছিল তওবা করে নিজেদের ঈমান হিফাযত করা ও ভুল ফতওয়ার সংশোধনী দেয়া। অন্যথায় ইহকাল ও পরকালে কঠিন আযাব ও গযবে গ্রেফতার হবে।

{দলীলসমূহ: (১) মুসতাদরেকে হাকেম (২) আবূ দাউদ শরীফ (৩) তিরমিযী শরীফ (৪) নাসাঈ শরীফ (৫) ইবনে মাযাহ শরীফ (৬) মুসলিম শরীফ (৭) মসনদে আহমদ (৮) কানযুল উম্মাহ (৯) বায়হাক্বী (১০) নছবুর রায়াহ (১১) ফতওয়ায়ে আমিনিয়া (১২) তাফসীরে মাযহারী (১৩) তাবারী (১৪) দুররে মানসুর (১৫) কবিরী (১৬) মাআরিফুল কুরআন (১৭) শরহে ফিক্বহে আকবর (১৮) শরহে আক্বায়েদে নছফী (১৯) আক্বায়েদে হাক্কা (২০) তাকমিলুল ঈমান (২১) দুররুল মুখতার (২২) খানিয়াহ (২৩) কাজী খান (২৪) বাহরুর রায়েক (২৫) আলমগিরী (২৬) জামেউল ফুছলিন (২৭) আল বাযযাযিয়া (২৮) হেদায়া (২৯) বেনায়া (৩০) আন কারোবিয়া (৩১) আল ফিক্বহ আলা মাজাহিবিল আরবায়া (৩২) তাফসীরে কুরতুবী (৩৩) তাফসীরে আহকামুল কুরআন ইত্যাদি।}

মুহম্মদ শাহজালাল পাটোয়ারী, চাঁদপুর।

সুওয়াল: মাসিক মদীনা জুলাই/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় নি¤েœাক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়।

প্রশ্ন : যতদূর জানি, কিতাবীদের জবাই করা পশু হালাল। সে অর্থে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের জবাই করা পশু কি হালাল হবে।

উত্তর : হালাল হবে।

এখন সুওয়াল হলো- মাসিক মদীনার দলীলবিহীন প্রদত্ত উত্তর কতটুকু সঠিক? দলীলসহ জাওয়াব দানে উপকৃত করুন।

জাওয়াব : মাসিক মদীনার উপরোক্ত বক্তব্য শুদ্ধ হয়নি। কারণ দ্বীন ইসলাম তথা ইসলামী শরীয়তে আহলে কিতাবের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়ার অনুমতি রয়েছে সত্যিই তবে তা আমভাবে সকল আহলে কিতাবের যবেহকৃত পশুর গোশত নয়। শুধুমাত্র ঐ সকল আহলে কিতাব যারা পূর্ববর্তী অবিকৃত আসমানী কিতাব অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করেন ও আমল করে থাকেন। অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদ বা একত্ববাদে পূর্ণ বিশ্বাসী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রেরিত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করেন। আর কোন প্রকার শিরক করেন না।

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে কিতাবদের যবেহকৃত গোশত খাওয়ার বিধান প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন,

وطعام الذين اوتوا الكتب حل لكم وطعامكم حل لهم.

অর্থ: আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল।” (সূরা মায়িদা/৫)

আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত طعام (ত্বয়াম)-এর ব্যাখ্যা

 طعامশব্দের আভিধানিক অর্থ, খাদ্য দ্রব্য। শাব্দিক অর্থে সর্বপ্রকার খাদ্যই এর অন্তর্ভুক্ত। طعام কিন্তু মুফাসসিরীনে কিরামগণ উনাদের মতে; এ স্থলে  বা খাদ্য” বলে শুধু আহলে কিতাবদের যবেহ করা গোশত বোঝানো হয়েছে। কেননা, গোশত ছাড়া অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের ক্ষেত্রে আহলে কিতাব, পৌত্তলিক, মুশরিক সবাই সমান। কাফিরদের হাতের দ্বারা উৎপাদিত আহার্য বস্তু যেমন গম, বুট, চাউল, ফল ইত্যাদি খাওয়া হালাল। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে যেসব খাদ্য মানুষের হাতে প্রস্তুত হয়, সেগুলোর ব্যাপারে যেহেতু কাফিরদের বাসন কোসন ও হাতের পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়না এবং তারা যা হালাল ও জায়েয মনে করে থাকে, মুসলমানদের নিকট তা সম্পূর্ণ না জায়েয ও হারাম সেহেতু তা খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম। আর তাদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত খাদ্য-পানীয় কোন প্রকার কোন প্রকার হারাম মিশ্রণের সম্ভাবনা না থাকলেও উক্ত খাদ্য-পানীয় পানাহার না করাই তাক্বওয়া। কিন্তু এতে মুশরিক মূর্তিপূজারীর যে অবস্থা আহলে কিতাবদেরও একই অবস্থা। কারণ অপবিত্রতার সম্ভাবনা উভয় ক্ষেত্রেই সমান। অতএব উক্ত আয়াত শরীফ-এর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে আহলে কিতাবদের যবেহ করা জন্তু মুসলমানদের জন্য এবং মুসলমানদের যবেহ করা জন্তু আহলে কিতাবদের জন্য হালাল।

তবে আহলে কিতাব কারা? এবং কোন শ্রেণীর আহলে কিতাবদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল/

আহলে কিতাব হচ্ছে- (১) ইহুদী সম্প্রদায় যারা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার উম্মত। যাদের প্রতি তাওরাত কিতাব নাযিল হয়েছে।

(২) খ্রিস্টান সম্প্রদায় যারা হযরত ঈসা আলাইহসি সালাম উনার উম্মত। যাদের প্রতি ইঞ্জিল শরীফ নাযিল হয়েছে।

উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র আহলে কিতাব হলেই তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত আহলে কিতাব হলেই তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল হবে না। বরং শর্ত দেয়া হয়েছে যে, আহলে কিতাব হওয়ার সাথে সাথে মুশরিক না হওয়া। অর্থাৎ যে সকল আহলে কিতাব মুশরিক তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল নয়। যেমন, যদি ইহুদী হয় তাহলে তারা যেন হযরত ওজায়ের আলাইহিস সালাম উনাকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ছেলে হিসেবে বিশ্বাস না করে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হিসেবে বিশ্বাস করে। আর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনাকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হিসেবে বিশ্বাস করে এবং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এক হিসেবে জানে।

আর যদি খ্রিস্টান হয় তাহলে তারা যেন ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস না করে। অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার ছেলে এবং হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস না করে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হিসেবে বিশ্বাস করে এবং হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ বান্দী হিসেবে বিশ্বাস করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে এক হিসেবে জানে। এই শ্রেণীর আহলে কিতাবদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল বলে কুরআন শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

এই শ্রেণীর আহলে কিতাবদেরকে বাংলায় বলা হয় তাওহীদ বা একত্বতায় বিশ্বাসী এবং আরবীতে বলা হয় موحد মুওয়াহহিদ আর ইংরেজীতে বলা হয় (টহরঃধৎরধহ) ইউনিটেরিয়ান। সুতরাং যারা কুফরী ও শেরেকী করে তারা আহলে কিতাব হোক কিংবা আহলে কুরআন বা হাদীছ শরীফ হোক তাদের কারো যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল নয়। সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কারণ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদে বিশ্বাসী নয়, উনার নাযিলকৃত কিতাবসমূহ এবং উনার প্রেরিত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি বিশ্বাসী নয় এরূপ লোকেরা কুফরী শেরেকীতে লিপ্ত। তারা মহান আল্লাহ পাক উনার ছাড়া অন্যের নামে পশু যবেহ বা উৎসর্গ করে থাকে। তাই তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন,

حرمت عليكم الميتة والدم ولحم الخنزير وما اهل لغير الله به. الخ

অর্থ: “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত শুকরের গোশত এবং যেসব জন্তু মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়।” (সূরা মায়িদা/৩)

অনুরূপ আরো একাধিক আয়াত শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া অন্যের নামে যবেহকৃত প্রার্ণী গোশত খাওয়া হারাম।

এমনকি উক্ত আয়াত শরীফ সমূহের আলোকে এই মাসয়ালা বর্ণিত হয়েছে যে, কাফির মুশরিক তো দূরের কথা মুসলমানও যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম তথা বিসমিল্লাহ না বলে পশু যবেহ করে তাহলে সে পশুর গোশত খাওয়াও হালাল হবে না।

উল্লেখ্য, আহলে কিতাবদের যবেহকৃত জন্তুর গোশত খাওয়া এবং তাদের মেয়েকে বিয়ে করার বিধানটি একইরূপ। অর্থাৎ উভয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে মুশরিক না হওয়া। মুশরিক হলে তাদেরসহ সকলেরই যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া এবং তাদের মেয়ে বিয়ে করা হারাম। যেমন মুশরিক মহিলাকে বিয়ে করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঘোষণা করেন,

ولا تنكحوا المشركت حتى يؤمن.

অর্থ: “তোমরা ঐ সকল মেয়েকে বিবাহ করনা যারা কুফরী শেরেকীতে লিপ্ত। যে পর্যন্ত না তারা ঈমান গ্রহণ করে।” (সূরা বাক্বারা/২২১)

আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে সহীহ আক্বীদা ও আমল সম্পন্ন আহলে কিতাব আছে, তবে তা অত্যন্ত নগণ্য।

অতএব, “আমভাবে আহলে কিতাবদের যবেহকৃত জন্তুর গোশত খাওয়া হালাল” এ কথা বলা শরীয়তের খেলাফ ও কুফরী।

{দলীলসমূহ: (১) জাসসাস (২) কুরতুবী (৩) রুহুল মায়ানী (৪) আহমদী (৫) মাযহারী (৬) ইবনে কাসীর (৭) খাযেন (৮) তাবারী (৯) কবীর (১০) কাশশাফ (১১) আলমগীরী (১২) শামী (১৩) দুররুল মুখতার (১৪) বাহরুর রায়েক (১৫) আইনুল হেদায়া (১৬) ফতহুল ক্বাদির (১৭) শরহে বেকায়া (১৮) কাজীখান (১৯) এনায়া (২০) নেহায়া (২১) নুরুল হেদায়া (২২) গায়াতুল আওতার ইত্যাদি।}

মুহম্মদ মুনিরুল ইসলাম (মুনির)

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়, ঢাকা।

সুওয়াল : মাসিক রাহমানী পয়গাম সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় নি¤েœাক্ত “জিজ্ঞাসার জবাব” ছাপা হয়।

জিজ্ঞাসা : আমাদের মসজিদে শুধু রমযান মাসের জন্য একজন ইমাম নির্ধারণ করেছি এইভাবে যে, তিনি আমাদেরকে সূরা তারাবীর নামায ও ওয়াক্তিয়া নামাযগুলো পড়াবেন এবং রমযানে এলাকা থেকে যে টাকা উঠবে তা আমরা উনাকে দিব। এখন এই টাকা তার জন্য হালাল হবে কিনা?

জবাব : শুধু রমযানের জন্য যেই ইমাম রাখা হয় তার দ্বারা প্রকৃত পক্ষে তারাবীহ নামাযের ইমামতিই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। আর তারাবীহ নামাযে চাই সূরা তারাবীহ বা খতম তারাবীহ হোক বিনিময় নেওয়া ও দেওয়া উভয়ই নাজায়িয। শরীয়তে ফরয নামাযের ইমামতী করা বিনিময় নেয়া জায়িয করেছে, সুন্নাত বা নফল নামাযের ইমামতী করে বিনিময় নেয়া জায়িয করে নাই। কারণ তার উপর দ্বীন টিকে থাকা জরুরী নয়।

সুতরাং পূর্বে নির্ধারিত ইমামের পিছনে সূরা তারাবীহ পড়ে নিবে। তারাবীহ এর জন্য ইমামকে আলাদা কোন বিনিময় দেবে না।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে- উপরোক্ত জিজ্ঞাসার জবাব কতটুকু সঠিক?

জাওয়াব : মাসিক রাহমানী পয়গাম গং প্রদত্ত উক্ত জবাব সম্পূর্ণই অশুদ্ধ, বিভ্রান্তিকর ও অনুসরণীয় সকল ওলামায়ে মুতাআখখিরীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও ফক্বীহগণের ফতওয়াগ্রাহ্য মতের বিপরীত। কেননা সকল ওলামায়ে কিরাম দু’ভাবে বিভক্ত। (১) ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমীন (২) ওলামায়ে মুতাআখখিরীন।

ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তী) আলেমগণ উনাদের মতে, সব প্রকার ইবাদতের বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হারাম ছিল। যেমন এ প্রসঙ্গে ফিক্বাহর বিশ্ব বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “জামিউর রুমুযে” উল্লেখ আছে,

تبطل الاجارة عند المتقدمين للعبادات كالاذان والامامة والتذكير والتد ريس والحج والغزو وتعليم القران والفقه وقرأتهما.

অর্থ: “ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমীনগণ উনাদের অর্থাৎ পূর্ববর্তী আলেমগণ উনাদের মতে- আযান, ইমামতি, যিকির, শিক্ষকতা, হজ্জ, জিহাদ, কুরআন শরীফ ও ফিক্বাহ শিক্ষা দিয়ে এবং ফিক্বাহ ও কুরআন পাঠ করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বাতিল অর্থাৎ নাযায়েয।”

উপরোক্ত দলীলের ভিত্তিতে যদি ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমীনগণ উনাদের মতকেই ফতওয়া হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে তো সমস্ত দ্বীনি কাজের বিনিময়ে উজরত বা বিনিময় গ্রহণ করা নাজায়েয ও হারাম হবে। যেমন- আযান, ইমামতি, মুয়াজ্জিনী, শিক্ষকতা ইত্যাদি।

আর ওলামায়ে মুতাআখখিরীন উনাদের প্রসঙ্গে “বাহুরুর রায়েক” কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে,

ان المفتى به جواز الاخذ على القرائة.

অর্থ: “কুরআন শরীফ পাঠ করে উজরত গ্রহণ করা জায়েয, এটা ফতওয়া গ্রাহ্যমত।”

এ প্রসঙ্গে “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবে উল্লেখ আছে,

اختلفوا فى الاستيجار على قراة القران عند القبر مدة معلومة قال بعضهم يجوز وهو المختار كذا فى سراج الوهاج.

অর্থ: “কোন নির্দিষ্ট সময়ে কবরের নিকট কুরআন শরীফ পড়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার ব্যাপারে আলেমগণ উনাদের মধ্যে মতানৈক্য আছে, কতক বলেছেন এটা জায়েয। আর এটাই ফতওয়াগ্রাহ্য মত।” “সিরাজুল ওহহাজ” কিতাবেও অনুরূপ মত রয়েছে।

“তাহতাবী” কিতাবে উল্লেখ আছে,

المختار جواز الا ستيجار على قرأة القران – الخ

অর্থ: “কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত গ্রহণ করা জায়েয হওয়াই (ফক্বীহগণ উনাদের) মনোনীত মত।”

আর ফিক্বাহ শাস্ত্রের উসূল বা নিয়ম হলো- মতভেদযুক্ত মাসয়ালায় যে মতটাকে وبه يفتى – وهو المختار – عليه الفئاوى ইত্যাদি শব্দ দ্বারা ترجيح বা প্রাধান্য দেয়া হবে, সে মতটিই গ্রহণযোগ্য হবে। প্রাধান্যপ্রাপ্ত মাসয়ালার বিপরীত ফতওয়া দেয়া সম্পূর্ণই নাজায়েয ও হারাম।

আর ওলামায়ে মুতাআখখিরীনগণ উনাদের নিকট সময় বা স্থান নির্ধারণ করার শর্তে কুরআন শরীফ খতম করাসহ সর্ব প্রকার ইবাদতের বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয ও শরীয়ত সম্মত। এটাই গ্রহণযোগ্য মত এবং এ মতের উপরই ফতওয়া। এর বিপরীত মত পোষন করা গোমরাহী ব্যতীত কিছুই নয়। যেমন “তাফসীরে আযীযীতে” উল্লেখ আছে,

وعبادات كه سبب تعيين مدت يا تخصيص مكان مباح مبشوند نيز برانها اجرت كرفتن جائزاست.

অর্থ: “যে সকল ইবাদতসমূহ সময় অথবা স্থান নির্ধারণ করার কারণে মোবাহ হয়ে যায়, সে ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করাও জায়েয।”

সুতরাং সময় অথবা স্থান নির্ধারণ করার কারণে আযান, ইমামতি, মুয়াজ্জিনী, শিক্ষকতা, জিহাদ, কুরআন শরীফ ও ফিকাহ শিক্ষা দিয়ে যেরূপ বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয তদ্রুপ তারাবীহ নামাযের ইমামতি করে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে বিনিময় বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করাও জায়েয।

“তাফসীরে কুরতুবীতে” উল্লেখ আছে, “রমযান মাসে তারাবীহর নামায পড়িয়ে যে ব্যক্তি উজরত বা বিনিময় গ্রহণ করে তার পিছনে নামায পড়া সম্পর্কে ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি জবাবে বলেছেন,

فقال ارجو الا يكون به بأس.

অর্থ: “আমি আশা করি যে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। অর্থাৎ তিনি বলেছিলেন, রমযানে তারাবীহর নামায পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ করার কারণে তার পিছনে যদি নামায পড়া মাকরূহ হয় তাহলে-

وهو اشد كراهة له فى الفريضة.

“ফরয নামাযেতো আরো বেশি কারাহাত বা মাকরূহ হওয়ার কথা।”

দামেশকের বিখ্যাত মুফতী আল্লামা মাহমুদ আফেন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “রাফউল গিশাওয়াতে” স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন,

سئلت عما حرره العالم الفاضل السيد محمد عابدين فى رد المحتار والتنقيح ورسالهء شفاء العليل من عدم جواز الاستيجار على تلاوت القران العظيم هل هو المفتى به فى المذهب او لا- فاجبت بان ماذكره المنقح فى هذه المحلات الثلاث مبنى على مذهب المتقدمين من عدم جواز الاجارة على الطاعات الا ان المشائخ نصوا على ان المفتى به جواز الاستيجار على التلاوة وهو مذهب عامة المتأخرين والنقول فى ذالك كادت تبلغ التواتر كلها موشحة بعلامة الفتاوى اوافتى به شاهير العلماء الاعلام فى سائر بلاد الاسلام- وانا اسرد نقولهم فسردها من اربعين كتابا.

অর্থ: “আল্লামা মাহমূদ আফেন্দী মুফতীয়ে দামেশক বলেন, আমাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, আলেম, ফাযেল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইবনে আবেদীন শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি “রদ্দুল মুহতার, তনকীহ ও শেফাউল আলীল” কিতাবসমূহে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নাজায়েয লিখেছেন, এটা মাযহাবের ফতওয়াগ্রাহ্য মত কি?

আমি উক্ত বক্তব্যের জবাবে বললাম যে, “সংশোধনকারী (অর্থাৎ আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত তিন কিতাবে যা লিখেছেন, তা ওলামায়ে মুতাকাদ্দেমীন অর্থাৎ পূর্ববর্তী আলেমগণ উনাদের মত। কেননা উনাদের মতে ইবাদতের বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নাজায়েয ছিল। কিন্তু ওলামায়ে মুতাআখখেরীন অর্থাৎ পরবর্তী আলেমগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যে, ফতওয়াগ্রাহ্য মতে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েয। এটা অধিকাংশ পরবর্তী আলেমগণ উনাদের মত। এ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো প্রায় মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যন্ত পৌছেছে। সবগুলোই ফতওয়ার আলামত (চিহ্ন)সহ প্রকাশিত হয়েছে এবং ইসলামী শহরের প্রবীন ও প্রসিদ্ধ আলেমগণ এটা জায়েয হওয়ার ফতওয়া দিয়েছেন। আমি উনাদের উল্লেখিত বর্ণনাগুলো সংকলন করবো। তিনি প্রায় ৪০ খানা কিতাব হতে তৎসমস্ত সংকলন করেন।” অনুরূপ তাফসীরে ইকলীলে উল্লেখ আছে)।

এছাড়া তারা আরো বলেছে যে, “শরীয়তে ফরয বা নফল নামাযের ইমামতী করে বিনিময় নেয়া জায়িয করে নাই। কারণ তার উপর দ্বীন টিকে থাকা জরুরী নয়।”

তাদের এ কথাও সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহর খেলাফ। কারণ তারাবীহর নামাযের জামায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। অর্থাৎ প্রত্যেক মসজিদে কিছু লোককে অবশ্যই তারাবীহর নামায জামায়াতে আদায় করতে হবে। অন্যথায় মহল্লার সমস্ত লোক সুন্নতে মুয়াক্কাদা তরক করার গুণাহে গুণাহগার হবে।

তারাবীহর নামাযের এই জামায়াত ইচ্ছা করলে শুধুমাত্র সূরা দিয়ে আদায় করা যেতে পারে।

তবে উল্লেখ্য যে, খতমে তারাবীহকেও সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া বলা হয়েছে। তাহলে প্রত্যেক শহরে অথবা প্রত্যেক বিশেষ এলাকায় কমপক্ষে একটা মসজিদে হলেও খতমে তারাবীহ পাঠ করতে হবে। অন্যথায় শহর অথবা বিশেষ এলাকার সমস্ত লোক সুন্নতে মুয়াক্কাদা তরক করার গুণাহে গুণাহগার হবে।

সুতরাং কিছু সংখ্যক মসজিদে হলেও হাফেয ছাহেবদেরকে তারাবীহ পাঠের জন্য নিয়োজিত করতে হবে। আর এ অবস্থায় হাফেয ছাহেবের জন্য উজরত নির্ধারণ করে নেয়া অবশ্যই জায়েয রয়েছে।

তাহলে এ কথা কি করে বলা যেতে পারে যে, “এর উপর দ্বীন টিকে থাকা জরুরী নয়?”

অতএব মাসিক রাহমানী পয়গামের তারাবীহ নামাযের …. বিনিময় গ্রহণ নামাযেয এ বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রমাণিত হলো।

উল্লেখ্য, যে সমস্ত তথাকথিত মাওলানা ছাহেবরা ওলামায়ে মুতাকাদ্দিমীন ও ওলামায়ে মুতাআখখিরীন উনাদের পার্থক্য করতে অপারগ, তাদের জন্য ইখতিলাফী বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয।

(বিঃ দ্রঃ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ২৩ ও ২৪তম ও বিশেষ করে ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৭৭ এবং ৬৯তম সংখ্যার মতামত বিভাগের উজরত সম্পর্কে “ভ-ামী ফাঁস” মতামতটি পাঠ করুন।)

মুহম্মদ আল আমীন, বি-বাড়িয়া।

সুওয়াল : মাসিক মুঈনুল ইসলাম সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় নি¤েœাক্ত জিজ্ঞাসার জবাবে ছাপা হয়।

জিজ্ঞাসা : ঢাকার রাজারবাগ শরীফ থেকে প্রকাশিত একটি লিফলেটে জনৈক পীর সাহেব কর্তৃক প্রদত্ত অযীফায় নি¤েœাক্ত দরূদ শরীফটি দেখতে পাওয়া যায়, “আল্লাহুম্মা সাল্লি আল্লা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন সায়্যিদিল মুরসালীন ওয়া আলা মুহঈ সুন্নাতিহী মুজাদ্দিদে আলফেসানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।”

প্রশ্ন হল : এই দরূদটি কি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত? হয়ে থাকলে কোন কিতাবে আছে? তাছাড়া কোন বুযুর্গ কর্তৃক প্রবর্তিত দরূদ পাঠে বেশি ফযীলত, নাকি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক বাতানো দরূদ শরীফ পাঠে বেশি ফযীলত?

সমাধান : সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর দরূদ শরীফ পাঠ একটি বিরাট পুণ্যময় ইবাদত। তাতে কোন সন্দেহ নেই। এক হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। উনার উপর দরূদ শরীফ কিভাবে পাঠ করতে হবে, তাও তিনি উম্মতকে শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। যা হাদীছ শরীফ ভা-ারে উল্লেখ আছে। বিভিন্ন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত বহু ফযীলতপূর্ণ অসংখ্য দরূদ শরীফ উপেক্ষা করে নতুনভাবে রচনার কোন প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে না। আর একথা বলাই বাহুল্য যে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ সম্মত ইবাদতই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে গ্রহণযোগ্য। মনগড়া ইবাদত কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। মনগড়া ইবাদত নবাবিস্কার বা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। আর বিদআত ও বিদআতী সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ কঠোর হুঁশিয়ারী এসেছে।

প্রশ্নে বর্ণিত দরূদ শরীফটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত নয়। কোন হাদীছ শরীফ-এর কিতাবে থাকার প্রশ্নই উঠেনা। কোন বুযুর্গ কর্তৃক রচিত দরূদ পাঠে সাওয়াব প্রাপ্তির আশা দুরাশা বৈ কিছু নয়। যথার্থ ফযীলত লাভ করতে হলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত দরূদ পাঠই বাঞ্ছনীয়। পীর-বুুযুর্গ কর্তৃক রচিত দরূদ সর্বোতভাবে বর্জনীয়। (মিশকাত শরীফ- ২৭, ৩১, ৮৬, ৮৭ পৃ: আবূ দাউদ শরীফ-৩০ পৃ:।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে- উনাদের উক্ত সমাধান শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু গ্রহণযোগ্য? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব : মাসিক মুঈনুল ইসলাম তথা তার সম্পাদক আহমদ শফী সাহেবের উক্ত সমাধান তাকে আহমদ শফী থেকে আহমক শফীতে পরিণত করেছে। কারণ তারা দরূদ শরীফ সম্পর্কে শরীয়তের সাধারণ মাসয়ালাটি পর্যন্ত জানেনা।

তাদের উক্ত সমাধানে একটি নয় একাধিক ভুল বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। উক্ত ভুল বক্তব্য খ-ন করে তার সঠিক জাওয়াব বর্ণনা করা হলো।

দরূদ শরীফ পাঠ সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন,

ان الله وملئكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلو عليه وسلموا تسليما.

অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার ফেরেশতাগণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত (দরূদ শরীফ) পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার প্রতি ছলাত ও সালাম পাঠ কর।” (সূরা আহযাব/৫৬)

এ আয়াত শরীফ-এর শানে নুযুল সম্পর্কে বলা হয়, যখন এ আয়াত শরীফ নাযিল হল তখন আখেরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন, “হে আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম! যিনি খালিক্ব মালিক রব তিনি আমার প্রতি আজকে একখানা আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন, তাতে আমার বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।”

অতএব তিনি আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত করলেন। তা শুনে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর মধ্যে আমাদের কি কোন হিসসা রয়েছে? কারণ আপনি আমাদেরকে মি’রাজ শরীফ-এর সময়েও ভুলেননি সেখানেও আপনি আমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত নিয়ামতের অংশীদার করেছেন। অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন আপনার প্রতি সালাম পেশ করলেন,

السلام عليك ايها النبى ورحمة الله وبركته.

অর্থ: “হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও বরকত।” তখন আপনি এর জাওয়াবে বলেছিলেন,

السلام علينا وعلى عباد الله الصلحين.

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনার প্রদত্ত সালাম (রহমত, বরকত) আমাদের সমস্ত নবী এবং সমস্ত নেক বান্দাদের উপরও।” অর্থাৎ আপনার উপর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে নাযিলকৃত বা প্রদত্ব সালাম রহমত, বরকতের হিসসা আমাদেরকে দান করেছিলেন।

তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপ করে রইলেন। যেহেতু তিনি ওহী ছাড়া কোন কথা বলেন না। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحى.

অর্থ: “ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী ছাড়া নিজের থেকে কোন কথা বলেন না।” (সূরা নজম/৩, ৪)

তখন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করলেন,

هو الذى يصلى عليكم وملئكته ليخرجكم من الظلمت الى النور وكان بالمؤمنين رحيما.

অর্থ: “তিনি (সেই মহান আল্লাহ পাক) এবং উনার ফেরেশতাগণ তোমাদের প্রতি ছলাত পাঠ করেন তোমাদেরকে গোমরাহী থেকে হিদায়েতের পথে বের করার জন্য। আর তিনি মু’মিনদের প্রতি দয়ালু।” (সূরা আহযাব-৪৩)

উল্লেখ্য যখন যাকাত, ফিৎরা ও তার খাত সংক্রান্ত আয়াত শরীফ নাযিল হল তখন তা আদায়ের লক্ষ্যে নি¤েœর আয়াত শরীফ নাযিল করেন,

خذ من اموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم بها وصل عليهم ان صلوتك سكن لهم والله سميع عليم.

অর্থ: “আপনি উনাদের (ধনীদের) মাল থেকে সদকা (যাকাত, ফিৎরা ইত্যাদি) গ্রহণ করুন। এর দ্বারা তাদের মাল এবং উনাদেরকে পবিত্র ও ইসলাহ করুন এবং তাদের প্রতি ছলাত পাঠ করুন। নিশ্চয়ই আপনার ছলাত তাদের জন্য শান্তির কারণ। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অধিক শ্রবণ কারী জ্ঞানী।” (সূরা তওবা/১০৩)

আর হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে,

عن عبد الله بن ابى اوفى قال كان النبى صلى الله عليه وسلم اذا اتاه قوم بصدقتهم قال اللهم صل على ال فلان فاتاه ابى بصدقته قال اللهم صلى على ال ابى اوفى. وفى رواية اذا اتى الرجل النبى صلى الله عليه وسلم بصدقته قال اللهم صل عليه.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবি আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, যখন কোন সম্প্রদায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সদকা (যাকাত) নিয়ে আসত তখন তিনি ছলাত (রহমত) বর্ষণ করুন।” অতপর আমার পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তার সদকা (যাকাত) নিয়ে আসলেন তখন তিনি বললেন, হে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক! আপনি আবূ আওফার পরিবারের উপর ছলাত (রহমত) বর্ষণ করুন।”

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন কোন লোক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সদকানিয়ে আসত তখন তিনি বলতেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক! তার প্রতি ছলাত (রহমত) বর্ষন করুন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় তাফসীর ও হাদীছ শরীফ-এর শরাহতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহল ও এয়াল অর্থাৎ আল আওলাদ, আযওয়াজ, আছহাব, ইমাম, মুজতাহিদ আউলিয়ায়ে কিরাম, বুযুর্গানে দ্বীন, পীরানে তরীক্বত, সকলের উপরেই ছলাত পাঠ করা জায়েয রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে, প্রথমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করে এরপর অন্যান্যদের প্রতি পাঠ করতে হবে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাকে ছলাত পাঠ করার কথা বলেছেন, কিন্তু তা কিভাবে পাঠ করতে হবে তার কাইফিয়ত বা পদ্ধতি বলে দেননি। বরং তার কাইফিয়ত বর্ণনা করেছেন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং পরবর্তী উনার ওয়ারিছ বা নায়েবগণ। যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে যে, “হযরত কা’ব বিন উজরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমরা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

كيف الصلوة عليكم اهل البيت فان الله قد علمنا كيف نسلم عليك قال قولوا اللهم صل على محمد وعلى ال محمد الخ.

অর্থ: কিতাবে আপনার প্রতি ও আপনার পরিবার পরিজনের প্রতি ছলাত পাঠ করবে? আর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, কিভাবে আপনার প্রতি সালাম পাঠ করব।

তিনি বললেন, “তোমরা বল, হে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক! আপনি রহমত নাযিল করুন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর এবং উনার পরিবার পরিজনের উপর।” (বুখারী, মুসলিম)

এখন ال (আল) বা পরিবার পরিজন বলতে শুধু উনার আল আওলাদ, এমনকি আহলে বাইতই নন বরং উনারা তো অবশ্যই, এমনকি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম এবং মু’মিন, মুত্তাক্বী ও মুসলমান। আর হযরত আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা হচ্ছেন খালিছ মু’মিন, মুত্তাক্বী ও মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন,

من سلك على طريقى فهو الى.

অর্থ: “যে আমার তর্জ-তরীক্বা মুতাবিক চলে সে আমার “আল” এর অন্তর্ভুক্ত।”

আর হযরত গাউসুল আযম সাইয়্যিদুল আউলিয়া বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আফজালুল আউলিয়া মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনার হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ ‘আল’-এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ নায়েবে নবী বা ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া।

বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ দেখা যাচ্ছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কিভাবে ছলাত পাঠ করতে হবে? তার পদ্ধতি তিনি নিজেই শিক্ষা দিয়েছেন যে, প্রথমে উনার প্রতি এবং সেই সাথে উনার আওলাদগণ উনাদের প্রতি ছলাত পাঠ করতে হবে।

সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, পীর-বুযুর্গ ও আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করা নিঃসন্দেহে জায়েয এবং উল্লেখিত প্রকার দরূদ শরীফ রচনা করাও জায়েয।

অতএব মুঈনুল ইসলামের জিজ্ঞাসার উল্লিখিত দরূদ শরীফ যা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি পাঠ করা হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ সম্মত। প্রকৃতপক্ষে আহমক শফী তার আহমকীর কারণে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ বুঝতে না পেরে মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও কুফরী মূলক বক্তব্য পেশ করেছে। তা হচ্ছে- “নতুন করে দরূদ শরীফ রচনা করার প্রয়োজনীয়তা নেই” এ কথা বলা সম্পূর্ণ জিহালতপূর্ণ। কারণ সূরা আহযাবের ৫৬ নং আয়াত শরীফ-এ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারগণকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত ও সালাম প্রেরণ করতে বলেছেন কিন্তু ছলাতের নির্দিষ্ট কোন তর্জ-তরীকা বেধে দেননি। অপরপক্ষে হাদীছ শরীফ-এ বিভিন্ন দরূদ শরীফ-এর ফযীলতের কথা বর্ণিত থাকলেও এ রকম কোন হাদীছ শরীফ আহমক শফীসহ কেউ দেখাতে পারবে না যেখানে বলা হয়েছে, “হাদীছ শরীফ-এ উল্লিখিত দরূদ শরীফ ব্যতীত অন্য কোন দরূদ শরীফ রচনা করা যাবে না বা পড়া যাবে না।” অর্থাৎ এ সম্পর্কিত কোন নিষেধবাণী কুরআন শরীফ, সুন্নাহর কোথাও নেই।

সুতরাং যা কুরআন-সুন্নাহর কোথাও নিষেধ নেই তাকে আহম্মকের মত নিষেধ করে আহম্মক শফী প্রকাশ্য কুফরী করেছে। আর নতুন দরূদ শরীফ রচনা করা যাবে না এ কথার অর্থ হলো, নতুন নেক কাজের সূচনা করা বা ইজতিহাদের দরজাকে বন্ধ করে দেয়া। অথচ ইজতিহাদের দরজা ক্বিয়ামত পর্যন্ত খোলা থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে খোদা বলে সম্বোধন করা হয়ে থাকে যা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর কোথাও নেই। অথচ মুজতাহিদগণ ইজতিহাদ করে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে খোদা বলে সম্বোধন করা জায়েয বলে ফতওয়া দিয়েছেন। যারা মুজতাহিদ হবেন তারা ইজতিহাদ করে অনেক দরূদ শরীফই রচনা করেছেন ও করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে তা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসসম্মত কিনা? কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসসম্মত হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে অন্যথায় গ্রহণযোগ্য হবে না।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসসম্মত কোন নতুন দরূদ শরীফ রচনা করার অর্থ এটা নয় যে, হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত দরূদ শরীফক উপেক্ষা করা। বরং হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত দরূদ শরীফ সমর্থক নতুন দরূদ শরীফ মূলতঃ হাদীছ শরীফ সমর্থিত দরূদ শরীফ। সুতরাং তাদের এ বক্তব্যও জিহালতপূর্ণ।

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ সম্মত ইবাদতই শুধু গ্রহণযোগ্য” এ জামায়াতের দলীল হচ্ছে কুরআন, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস। কাজেই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস সম্মত ইবাদতই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট গ্রহণযোগ্য। মনগড়া ইবাদত যা নবাবিস্কার যা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস সম্মত নয় তা কস্মিন কালেও গ্রহণযোগ্য নয়।

“প্রশ্নে বর্ণিত দরূদ শরীফটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত নয় বা কোন হাদীছ শরীফ-এর কিতাবে থাকার প্রশ্নই উঠেনা।” এ বক্তব্যটিও মূর্খতাসূচক ও গোমরাহী মুলক হয়েছে। কেননা সরাসরি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত না থাকলেই তা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত নয় এ কথা শুদ্ধ নয়। বরং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ক্বিয়াস দ্বারা প্রমাণিত হলেই তা শরীয়ত সম্মত। আর যা শরীয়ত সম্মত তাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত।

অতএব “ফযীলত লাভ করতে হলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত দরূদ শরীফ পাঠই বাঞ্ছনীয়।” এর জবাবে বলতে হয়, উল্লিখিত দরূদ শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকেই প্রমাণিত।

“কোন বুযুর্গ কর্তৃক রচিত দরূদ পাঠে সাওয়াব হবে না এবং তা সর্বতোভাবে বর্জনীয়।” একথাও কুফরীমূলক ও গোমরাহীপূর্ণ।

উল্লেখ্য, কোন বুযুর্গ রচিত দরূদ শরীফ বলতে সে সব বাক্যাবলীকেই বুঝানো হবে যাতে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত সালাম প্রেরণের বিষয়টি বর্ণিত থাকবে। আর “ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত সালাম প্রেরণ সম্বলিত বাক্যাবলী কোন বুযুর্গ লোক তো বটেই এমনকি কোন আদনা লোকও যদি রচনা করে বা আওড়ায় তবে তা কি করে বর্জনীয় হতে পারে?

মূলত: যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত সালাম সম্বলিত বাক্য না হলে তাকে দরূদ শরীফই বলা যাবে না। আর দরূদ শরীফ হলে সে যেই রচনা করুক তা সর্বোতভাবে বর্জনীয় একথা বলা সুস্পষ্ট কুফরী।

আরো উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফ-এ উল্লিখিত দরূদ শরীফ পাঠে দশটি ক্ষমা, দশটি রহমত, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট দরূদ বলে দেয়া হয়নি। এর দ্বারা এই বোঝায় যে, যে কোন দরূদ শরীফ পড়লেই তা পাওয়া যাবে।

সুতরাং মুফতে আহমক শফীর “কোন বুযুর্গ কর্তৃক রচিত দরূদ শরীফ পাঠে সাওয়াব হবে না” এ কথা বলা মূলত: যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথার উপর কথাই নয় বরং উনার নামে মিথ্যা কথা বলার শামীল হয়েছে। যা তা ঈমান ছলব, আমল বরবাদ এবং দুনিয়ায় থাকতেই জাহান্নামী হওয়ার কারণ বটে।

মঈনুল ইসলাম পত্রিকার প্রদত্ত জিজ্ঞাসার জবাবে পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করে মিশকাত শরীফ ও আবূ দাউদ শরীফ কিতাবদ্বয় দলীল হিসেবে পেশ করেছে। ইহা ধোকা ও প্রতারণার শামীল। কারণ উক্ত কিতাবদ্বয়ে পীর, বুযুর্গ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের প্রতি দরূদ শরীফ পড়া নিষেধ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোন বর্ণনা উল্লেখ নেই। বরং তাতে দরূদ শরীফ পড়ার পক্ষেই বর্ণনা রয়েছে। যেমন, মিশকাত শরীফ-এর ৮৭ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় মু’মিন, মুত্তাক্বীগণ উনাদের প্রতিও দরূদ শরীফ পাঠ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে,

اجمعوا على الصلوة على نبينا صلوات الله عليه وكذا على سائر الانبياء استقلالا واما غيرهم فالجمهور على عدم الجوز ابتداء وقيل انه حرام وقيل انه مكروه وقيل هو ترك الاولى والصحيح انه مكروه كرهية تنزيه واتفقوا على جواز جعل غير الانبياء تبعالهم فى الصلوة.

অর্থ: “আমাদের নবীয়ে দু’জাহান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে সকল ওলামায়ে কিরামগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, অনুরূপ স্বতন্ত্রভাবে সকল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতিও দরূদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা ব্যতীত অন্যান্য মু’মিন, মুত্তাক্বীগণ উনাদের প্রতি স্বতন্ত্রভাবে দরূদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে জমহুর ওলামাগণ উনাদের মত হচ্ছে, মু’মিন মুত্তাক্বীগণ উনাদের প্রতি শুরুতেই দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েয নেই, কেউ কেউ ইহা হারাম বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন মাকরূহ। কেউ কেউ বলেছেন না পড়াই উত্তম। বিশুদ্ধ মত এই যে, অন্যান্যদের প্রতি শুরুতেই দরূদ শরীফ পড়া মাকরূহে তানযীহী। আর নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের অনুসরণ করে অন্যান্য মু’মিন, মুত্তাক্বীগণ উনাদের প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে সকল উলামায়ে কিরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। অর্থাৎ প্রথমে নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করে তারপর অন্যান্য মু’মিন, মুত্তাক্বীগণ উনাদের প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েয।

অতএব হাটহাজারী মাদরাসা থেকে প্রকাশিত আহমক শফী কর্তৃক সম্পাদিত পত্রিকার বক্তব্য শরীয়তের দৃষ্টিতে পরিপূর্ণভাবে বর্জনীয়। কারণ তা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ক্বিয়াসের সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে যা জিহালতপূর্ণ, গোমরাহী মূলক ও কুফরী সূচক।

স্মর্তব্য, এ সমস্ত বিভ্রান্তিকর পত্রিকা পাঠ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব।

বিঃদ্রঃ “আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি দরূদ শরীফ জায়েয” এ সম্পর্কে মাসিক আল বাইয়্যিনাতে বিস্তারিত ফতওয়া প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ।

দলীলসমূহ : (১) আহকামুল কুরআন (২) জাসসাস (৩) কুরতুবী (৪) মাযহারী (৫) খাযেন (৬) বাগবী (৭) তাবারী (৮) ইবনে কাছীর (৯) ইবনে আব্বাস (১০) রুহুল মায়ানী (১১) রুহুল বয়ান (১২) বায়জাভী (১৩) সমরকন্দী (১৪) জাওয়াহির (১৫) কবীর (১৬) দুররে মনছুর (১৭) কাশশাফ (১৮) মাআরিফুল কুরআন (১৯) কাছেমী (২০) বুখারী (২১) মুসলিম (২২) আবূ দাউদ (২৩) তিরমীযী (২৪) নাসাঈ (২৫) ইবনে মাযাহ (২৬) মেশকাত (২৭) ফতহুল বারী (২৮) ওমদাতুল ক্বারী (২৯) এরশাদুস সারী (৩০) শরহে নববী (৩১) আল আযকার (৩২) আওনুল মা’বুদ (৩৩) বজলুল মযহুদ (৩৪) মিরকাত (৩৫) আশয়াতুল লুময়াত (৩৬) লুময়াত (৩৭) মুজাহেরে হক্ব (৩৮) ত্বীবী (৩৯) তালীক্ব (৪০) হাকেম (৪১) দায়লামী (৪২) কানজুল উম্মাল ইত্যাদি।

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ:

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ