সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সংখ্যা: ১০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

মাওলানা মুহম্মদ মুহসিনুর রহমান

মাওলানা মুহম্মদ মাছূম বিল্লাহ

মুহম্মদ আসাদুর রহমান, মুহম্মদ মাইজুর রহমান ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সুওয়ালঃ  আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম এই তিনটি সংখ্যায় ৩৫৩টি অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে প্রদত্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ, মুহাক্কিক-মুদাক্কিক ও হক্কানী উলামা-ই-কিরামগণের ফতওয়া মুতাবিক জানতে পারলাম যে, “প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা করানো, ঘরে রাখা সর্বাবস্থায় হারাম।”

অথচ রেযাখানী মুখপত্র নভেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় ছবি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ফতওয়া প্রকাশ করেছে। যা কিনা মানুষের ঈমান-আমল বিনষ্ট হওয়ার কারণ। রেযাখানীদের ছবি সম্পর্কিত বক্তব্যের যে বিষয়গুলো আপত্তিকর সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো-  (ক) রেযাখানীরা ছবি তোলাকে বৈধ বলেছে; কিন্তু দলীল হিসেবে পেশ করেছে ঘরে ছবি রাখা সম্পর্কিত হাদীসসমূহকে।  (খ) .. কতেক উলামা যেসব ছবির শরীর ও ছায়া নেই সেসব ছবিকে বৈধ বলেছেন। (গ) হুজুর আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরুর দিকে ছবি তৈরী করা ও সংরক্ষণ করাকে নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে অনুমতি দেন। (ঘ) পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ এবং হাম্বলী, শাফেয়ী, মালেকী এমনকি হানাফীদেরও কেউ কেউ নাকি (গায়রে মুজাস্সাম) শরীরবিহীন ছবিকে বৈধ বলেছেন। (ঙ) সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে বিশেষ প্রয়োজনে ছবি তোলা বৈধ যা যুগের চাহিদাও।  (চ) প্রত্যেক যুগের ফক্বীহ্, মুফতী, কাজী ও আলিমগণ যুগের চাহিদা অনুযায়ী ফতওয়া দিয়েছেন এবং দেয়া উচিত। (ছ) ছবি হারাম হওয়ার মূলে হলো গায়রুল্লাহ্র সম্মান ও ইবাদত।  (জ) প্রয়োজনীয় রেকর্ডের জন্য ফাইল বন্দি ছবিসমূহ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট জ্ঞান ও ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য জানার নিমিত্তে সরকারী-বেসরকারী যাদুঘর বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানসমূহে পূর্বের নানা মনীষীগণের ছবি সংরক্ষণ/ধারণ করে রাখা বিশেষ প্রয়োজনে মাকরূহ্ হবেনা।  এছাড়াও আরো বহু আপত্তিকর বিষয় তাদের উক্ত ছবি সম্পর্কিত বক্তব্যে স্থান পেয়েছে। কুরআন-সুন্নাহ্, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে তাদের উল্লিখিত আপত্তিকর বক্তব্যগুলোর শরয়ী ফায়সালা কামনা করি। জাওয়াবঃ   হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الاحاديث بما لم تسمعوا انتم ولا اباؤكم فاياكم واياهم ايضونكم ولا يفتنونكم.

অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ্ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবেনা।” (মুসলিম শরীফ)   উল্লিখিত হাদীস শরীফের পূর্ণ মেছদাক বা নমুনা হচ্ছে রেযাখানীরা। তারা ছবির ব্যাপারে এমন সব বক্তব্য প্রদান করেছে যা কিতাবে দেখা তো দূরের কথা কেউ কোন দিন শুনেও নাই। মূলতঃ রেযাখানীরা নিজেদের কৃত বদ আমলকে ধামা-চাপা দেয়ার উদ্দেশ্যেই মনগড়াভাবে ছবিকে জায়িয করার অপচেষ্টা করেছে।

 (ধারাবাহিক)

প্রাণীর ছবি সম্পর্কে প্রশ্নে উল্লিখিত রেযা-খানীদের আপত্তিকর ও প্রতারণামূলক বক্তব্য সমূহের খন্ডন মূলক জবাব- (১)

“মাসিক আল বাইয়্যিনাত” যখন জনগণের সামনে প্রমাণ করে দিলো যে, “রেযাখানীদের মুরুব্বী তৈয়ব শাহ্, তাহের শাহ্, ছাবের শাহ্, জালালুদ্দীন, আব্দুল জলীল গং ছবি তুলে, হারাম কাজ করেছে; তখনই তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ছবি সম্পর্কিত সঠিক ফতওয়াকে উপেক্ষা করে এমনকি তাদের গুরু রেযাখাঁর ফতওয়াকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার বা রদ্ করে নিজ মুরুব্বীদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে ‘ছবি সম্পর্কিত’ এমন একখানা ফতওয়া রচনা করলো যা কিনা বাদশাহ্ আকবরের ভাড়াটিয়া মৌলভী আবুল ফযল, ফৈজী, মুল্লা মুবারক নাগুরীদের ফতওয়াগুলোকেও হার মানিয়েছে।   তারা উক্ত মনগড়া ফতওয়াটি রচনা করতে কত যে জালিয়াতী, প্রতারণা ও মিথ্যাচারীতার আশ্রয় নিয়েছে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে গেলে একখানা কিতাব রচিত হয়ে যাবে। তারা হাদীস শরীফের ভুল অর্থ ও অপব্যাখ্যা করেছে, ইমাম-মুজতাহিদগণের নামে মিথ্যারোপ করেছে, কিতাবের ইবারত কাটছাট করেছে। সঠিক মতকে গ্রহণ না করে কিতাবে বর্ণিত বাতিল-পরিত্যাজ্য মতটি গ্রহণ করেছে নিজ মুরুব্বীদেরকে ছবি তোলার ‘হারাম’ কলঙ্ক থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু “আল বাইয়্যিনাতে” তাদের উক্ত জালিয়াতিপূর্ণ ফতওয়ার জবাব আসার সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তাদের মুরুব্বীরা হাক্বীক্বতে কলঙ্ক মুক্ত নয় বরং নিঃসন্দেহে তারা ছবি তোলার কারণে প্রকাশ্যে হারাম কাজে লিপ্ত। আর প্রকাশ্যে হারাম কাজে লিপ্ত ব্যক্তি চরম ফাসিক। আর ফাসিক কখনো পীর বা হাদী হতে পারেনা। সাথে সাথে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রেযাখানীরা মূলতঃ হক্বের উপর নেই। তারা দ্বীনে ইলাহীর মৌলভীদের ন্যায় ‘দ্বীনে রেযাখানী’ তৈরী করে গোমরাহ্ বা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। তাই তারা হাজারো ছল-চাতুরী ও জালিয়াতীর মাধ্যমে ছবি তোলার মত সুস্পষ্ট হারামকে হালাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এবার তাদের জালিয়াতীপূর্ণ ফতওয়ার খন্ডনমূলক জবাবে আসা যাক। গত সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, রেযাখানীরা ছবিকে হালাল করার হীন উদ্দেশ্যে ছবি হারাম সম্পর্কিত অসংখ্য সুস্পষ্ট হাদীস শরীফসমূহকে বাদ দিয়ে প্রথমতঃ এরূপ দু’খানা হাদীস শরীফ উল্লেখ করেছে যাতে স্পষ্টভাবে ‘ছবির’ প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তন্মধ্যে একখানা হাদীস শরীফের সম্পূর্ণ মনগড়া অর্থ করেছে। হাক্বীক্বত .. তাদের উল্লিখিত দু’খানা হাদীস শরীফ দ্বারাও ‘ছবি’ সম্পূর্ণরূপে হারাম প্রমাণিত হয়। যেমন, তারা প্রথমে যে হাদীস শরীফ খানা উল্লেখ করেছে তা হলো,

لاتدخل الملئكة بيتا فيه كب ولاصورة.

অর্থাৎ- “যে ঘরে প্রাণীর ছবি ও কুকুর থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করে না।” (বুখারী, মুসলিম)

উল্লেখ্য, তাদের উল্লিখিত উক্ত হাদীস শরীফখানা যদিও ‘ছবি তোলা’ সম্পর্কে নয় বরং ছবি রাখা সম্পর্কে তথাপিও উক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা ছবি তোলা হারাম প্রমাণিত হয়। কারণ যে প্রাণীর ছবি ঘরে থাকার কারণে ফেরেশ্তা প্রবেশ করেনা সেই প্রাণীর ছবি তোলা জায়িয হয় কি করে? অবশ্যই তা হারাম। অতএব, ফেরেশ্তারা প্রাণীর ছবি যুক্ত ঘরে প্রবেশ না করাই প্রমাণ করে  যে, প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা করানোও হারাম।          এবার দেখা যাক, অনুসরণীয় মুহাদ্দিসগণ তাঁদের প্রখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে হাদীস শরীফে উল্লিখিত ولاصورة -এর ব্যাখ্যায় কি লিখেছেন।

            প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ও ব্যাখ্যাকার হাফিযুল হাদীস ইমাম আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর স্ব-রচিত বুখারী শরীফের মশহুর ব্যাখ্যা গ্রন্থ “ফতহুল বারী” ১ম খন্ডের ৩৮২ পৃষ্ঠায় ولاصورة -এর ব্যাখ্যায় লিখেন,

“فيه صورة” قال الخطابى والصورة التى لاتدخل الملئكة البيت الذى هى فيه ما يحرم اقتناؤه وهو ما يكون من الصور التى فيها اروح…………

অর্থঃ- (যে ঘরে ছবি থাকে) আল্লামা খাত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে ছবি ঘরে রাখা হারাম বলা হয়েছে সে ছবির কারণেই ফেরেশ্তারা ঘরে প্রবেশ করেনা আর তা হলো, রূহযুক্ত বা প্রাণীর ছবি।” অনুরূপ শাইখুল আল্লাম ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “উমদাতুল ক্বারী”তে উল্লেখ করেছেন।    ইমামুল মুহাদ্দিসীন শায়খ আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে মুহম্মদ কুস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মশহুর ব্যাখ্যাগ্রন্থ “ইরশাদুস্ সারী শরহে বুখারীর” ৮ম জিঃ ৪০০ পৃষ্ঠায় লিখেন,

(ولاصورة) قال العلماء سبب امتناعهم من بيت فيه صورة كونها معصية فاحشة فيها مضاهاة لخلق الله تعالى.

অর্থঃ- “ …. উলামা-ই-কিরামগণ বলেন, প্রাণীর ছবি থাকার কারণেই ফেরেশ্তাগণ ঘরে প্রবেশ করেননা। কেননা, ছবি  তৈরী করা গুনাহ্ ও ফাহেশা কাজ। তদুপরি ছবি তৈরীর দ্বারা স্রষ্টার সাদৃশ্যতা দাবী করা হয়।” অনুরূপ ‘মুসলিম শরহে নববীতেও” উল্লেখ আছে।   প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ “মুসলিম শরহে নববী”-এর ১৪তম খন্ডের ৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন,

وقال اصحابنا وغيرهم من العلماء تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور فى الاحاديث ……. هذاحكم نفس التصوير واما اتخاذ المصور فيه صورة حيوان ….. فهو حرام.

অর্থঃ- “আমাদের আছহাব ও অন্যান্য আলিমগণ বলেন, প্রাণীর ছবি তোলা বা তোলানো শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ্র অন্তর্ভুক্ত। কেননা, হাদীস শরীফসমূহে এ ব্যাপারে শক্ত আযাবের কথা বলা হয়েছে। … এটা মূলতঃ প্রাণীর ছবি তোলা বা তোলানোর হুকুম। আর ঘরে প্রাণীর ছবি রাখা … তাও হারাম।”   মুসলিম শরীফের অন্যতম ব্যাখ্যাগ্রন্থ “শরহুল উবাই ওয়া মিনূসী আলা ছহীহ মুসলিম”-এর ৭ম জিঃ ২৫২ পৃষ্ঠায় “ولاصورة” -এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে,

تصوير ذى الروح حرام وكبيرة للتوعد عليه بالنار واما تصوير غير ذى الروح كالشجر فليس بحرام.

অর্থঃ- “প্রাণীর ছবি বানানো হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কেননা, এ ব্যাপারে শক্ত আযাবের কথা ব্যক্ত হয়েছে। আর রূহহীন বস্তু যেমন, গাছপালা ইত্যাদির ছবি বানানো হারাম নয়।”         মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “ফতহুল মুলহিম”-এর ৪র্থ জিঃ, ১৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ্য আছে,

قوله لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة هذا الحديث يدل عى ان تصوير ذوى الارواح واتخاذ الصور فى البيوت ممنوع شرعا واتفق عيه جمهور الفقهاء.

অর্থঃ- “(ঐ ঘরে ফেরেশ্তা প্রবেশ করে না যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে।) এ হাদীস শরীফ প্রমাণ করে যে, প্রাণীর ছবি তোলা বা তোলানো এবং তা ঘরে রাখা শরীয়তে হারাম। জমহুর ফক্বীহ্গণ এ ব্যাপারে একমত।”

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, রেযাখানীরা ছবিকে জায়িয করার উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম যে হাদীস শরীফখানা উল্লেখ করেছে তাদের উল্লিখিত উক্ত হাদীস শরীফের দ্বারাই প্রমাণিত হলো যে, “প্রাণীর ছবি তোলা বা তোলানো সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ্; হালাল মনে করা কুফরী।”  (চলবে)

 সাইয়্যিদ মুহম্মদ মোক্তাদুল ইসলাম (মিলন)

রঈসুল মজলিশ- ছাত্র আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত সুবহানীঘাট, সিলেট।

  সুওয়ালঃ রেযাখানী মুখপত্র ডিসেম্বর/২০০০ ঈঃ সংখ্যায়  “তাফসীরে রুহুল বয়ান, বুখারী, গুনিয়াতুত তালেবীন, রেজভীয়া” কিতাবের বরাত দিয়ে বলেছে, “সহীহ্ মুসলিম শরীফসহ” অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাবে নফল নামায বিশেষতঃ ক্বদর ও বরাতের নফল নামায জামাত সহকারে আদায় করা বৈধ….।”    আর আপনারা “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” লিখেছেন, “তারাবীহ, ছলাতুল কুছুফ (সূর্য গ্রহণের নামায), ছলাতুল ইস্তিস্কা (বৃষ্টির নামায) এই তিন প্রকার নামায ব্যতীত যেমন লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাত, তাহাজ্জুদ, চাশ্ত, আওয়াবীন ইত্যাদি নফল নামাযসমূহ ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদীসহ জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্।”  কোনটি সঠিক?             আর “বুখারী, মুসলিম শরীফে” কি “ক্বদর” ও বরাতের” নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করার কথা উল্লেখ আছে? দয়া করে জানাবেন। জাওয়াবঃ রেযাখানীরা তাদের মুখপত্রে “তাফসীরে রুহুল বয়ান, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, গুনিয়াতুত্ তালেবীন এবং রেজভীয়া” কিতাবের বরাত দিয়ে নফল নামায বিশেষতঃ “শবে বরাত”, “শবে ক্বদরের” নফল নামায আযান-ইক্বামত ছাড়া জামায়াত সহকারে আদায় করা যে বৈধ বলেছে, তা আমরা আমাদের “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর বিগত সংখ্যাগুলোতে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে প্রমাণ করেছি যে, “তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল, জিহালতপূর্ণ, জালিয়াতী ও প্রতারণামূলক।” কেননা, রেযাখানীরা কিতাবের নাম দিয়ে যে বক্তব্য প্রদান করেছে, আসলে উক্ত কিতাবসমূহের বক্তব্য সে রকম নয়। বরং তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, তারা কিতাবের ইবারত, সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে মনগড়া বক্তব্য প্রদান করেছে এবং ক্ষেত্র বিশেষ নিজের ভ্রান্ত মতকে টিকিয়ে রাখতে কিতাবের ইবারত কারচুপি করেছে।

(ধারাবাহিক)

বর্তমান সংখ্যায় রেযাখানীদের দলীলবিহীন  ও  মনগড়া বক্তব্য খন্ডন করা হলো

            উল্লেখ্য, রেযাখানীরা বলেছে, “কোন কোন ভন্ড ….. ঢালাওভাবে মাকরূহে তাহরীমার গরম গরম ফতোয়া দিয়ে …. নিজের খ্যাতি চমকানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ….”   এর জবাবে বলতে হয় যে,  বিগত সংখ্যায় আমরা  আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাতে দলীলের ভিত্তিতে প্রমাণ করে দিয়েছি যে, “শবে বরাত, শবে ক্বদর, লাইলাতুর রাগায়িব, তাহাজ্জুদ” ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহরীমী। এ ফতওয়া দেয়ার কারণেই যদি তা গরম গরম ফতওয়া হিসেবে সাব্যস্ত হয় তাহলে বলতে হয়, রেযাখানীদের বক্তব্য মুতাবিক প্রথম দরজার গরম গরম ফতওয়া প্রদানকারী হলো তাদের গুরু রেযা খাঁ। আর দ্বিতীয় দরজার গরম গরম ফতওয়া প্রদানকারী হলো মৌলভী আমজাদ আলী।   কেননা স্বয়ং রেযা খাঁ তার “রেজভীয়া” কিতাবে এবং মৌলভী আমজাদ আলী তার “বাহারে শরীয়ত” কিতাবে “শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব” ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতের সহিত আদায় করা মাকরূহ্ তাহরীমী, বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ ও নাজায়িয বলে ফতওয়া দিয়েছে।            তাছাড়া “বাহরুর রায়েক, ফতওয়ায়ে আলমগীরী, খুলাছাতুল ফতওয়া, আদদুররুল মুখতার, গায়াতুল আওতার, রদ্দুল মুহতার, শামী, আল কুহেস্তানী, শরহুল মুনিয়া, শরহুন নিক্বায়া, শরহে ইলিয়াস, মিনহাতুল খালিক্ব, ফতওয়ায়ে তাতারখানিয়া, হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলা মারাকিউল ফালাহ্, আইনী শরহে হিদায়া, হাশিয়ায়ে শরহে বিকায়া লি চলপী, ফতওয়ায়ে সা’দিয়াহ, জাওহারাতুন্ নাইয়ারাহ্, মাবসূত লিস সারাখসী, মাছাবাতা বিস্ সুন্নাহ্, কিতাবুল আছল, বাদায়েউছ ছানায়ে ফি তারতীবিশ্ শারায়ে, ফতহুল ক্বাদীর, কিতাবুল ফিক্বাহ্, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, হিলইয়া, হাবিল কুদসী, ইলাউস্ সুনান, আহ্সানুল মাসায়িল, কিফায়া,  নিহায়া, মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী, ফতওয়ায়ে সিরাজিয়া, গিয়াছিয়া, শাফিয়াহ্, কিতাবুজ্ জিয়া, শরহে শামায়িল, গুনিয়াতুল মুছল্লী, ইমদাদুল আহ্কাম, ইলমুল ফিক্বাহ ইত্যাদি কিতাবের ভাষ্য হলো, তারাবীহ, ছলাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের নামায) ছলাতুল ইস্তেস্কা (বৃষ্টির নামায) এই তিন প্রকার নামায ব্যতীত অন্য যে কোন নফল নামায ইমামের সহিত চারজন মুক্তাদীসহ জামায়াতে আদায় করা সকল ইমাম, মুজতাহিদ ও ফুক্বাহা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের ঐক্যমতে মাকরূহ তাহরীমী। যেমন,

وان اقتدى اربعة بواحد كره اتفاقا.

অর্থাৎ- “যদি ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদী ইক্তিদা করে নফল নামায জামায়াতের সাথে পড়ে তাহলে সকল ইমাম, মুজতাহিদ ও ফুক্বাহা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সর্বসম্মত মতে মাকরূহ তাহরীমী।”       কাজেই “শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহরীমী।” এ ফতওয়া দেয়ার কারণেই যদি তা গরম গরম ফতওয়া হিসেবে সাব্যস্থ হয় তাহলে বলতে হয় যে, উপরোক্ত সর্বজনমান্য, সর্বজন স্বীকৃত, বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহ্ ও ফওতয়ার কিতাবের মুছান্নিফ বা লিখক, ইমাম-মুজতাহিদ, সলফে-সালেহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও কি রেযাখানীদের বক্তব্য মুতাবিক গরম গরম ফতওয়া দিয়েছেন।(নাউযুবিল্লাহ)

 আরো উল্লেখ্য যে, শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায শুধু জামায়াতে আদায় করাই মাকরূহ তাহরীমী নয়; বরং শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করার জন্য ইক্তিদা করাও মাকরূহ তাহরীমী।  যেমন, “ফতওয়ায়ে বাযযাযিয়াহ” কিতাবে উল্লেখ আছে,

كره الاقتداء فى صلاة الرغائب وصلاة البراءة وليلة القدر.

অর্থাৎ- “লাইলাতুল ক্বদর নামাযে, বরাতের নামাযে এবং রাগায়িবের নামাযে ইক্তিদা করা মাকরূহ তাহরীমী।”      আদ দুররুল মুখতার কিতাবে উল্লেখ আছে,

يكره الاقتداء فى صلاة رغائب وبراءة وقدر.

অর্থাৎ- “ক্বদরের নামাযে, বরাতের নামাযে এবং রাগায়িবের নামাযে ইক্তিদা করা মাকরূহ তাহরীমী।”     “গায়াতুল আওতার” কিতাবের ১ম খন্ডের ৩২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

مكروه …… اقتداء كرنا صلوة رغائب مي اور صلوة برائت اور صلوة قدر مي.

অর্থাৎ- “শবে ক্বদরের নামাযে, শবে বরাতের নামাযে এবং রাগায়িবের নামাযে ইক্তিদা করা মাকরূহ তাহরীমী।”   সুতরাং রেযাখানীদের বক্তব্য মুতাবিক উপরোক্ত কিতাবের মুছান্নিফ বা লিখকগণও কি গরম গরম ফতওয়া দিয়েছেন? (নাউযুবিল্লাহ)             দ্বিতীয়তঃ রেযাখানীরা বলেছে, “………. ঢালাওভাবে মাকরূহে তাহরীমার গরম গরম ফতোয়া দিয়ে পীরানে পীর দস্তগীর আবদুল কাদের জিলানী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ অনেক মাশায়েখে কেরামের উপর মাকরূহে তাহরীমার অপবাদ দিয়ে নিজের খ্যাতি চমকানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”        এর জবাবে বলতে হয় যে, যেখানে স্বয়ং পীরানে পীর দস্তগীর হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর “গুনিয়াতুত্ তালেবীন” কিতাবে নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করা মাকরূহ বলা হয়েছে সেক্ষেত্রে শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী এ ফতওয়া দিলে পীরানে পীর দস্তগীর হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উপর মাকরূহ তাহরীমীর অপবাদ আসে কি করে? যেমন, “গুনিয়াতুত্ তালেবীন”-এর উর্দূ অনুবাদ কিতাবটিতে উল্লেখ আছে,

جماعت .. ساته نفل ادا كرنا مكروه … .

অর্থঃ- “নফল নামায জামায়াতের সহিত আদায় করা মাকরূহ।”   সুতরাং প্রমাণিত হলো- শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী। এ ফতওয়া দেয়ার কারণে পীরানে পীর দস্তগীর হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উপর মাকরূহ তাহরীমীর অপবাদের প্রশ্নই আসতে পারে না।    মূলতঃ রেযাখানীরাই শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা বৈধ বলে হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামে সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়ার জন্যই এ অপবাদ দিয়েছে। আর রেযাখানীরা যে হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামে অপবাদ দিবে এটাই স্বাভাবিক।  কারণ তারা গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহিকে খালিছ ওলী বা মুজ্জাদ্দিদ হিসেবে মানে না। তার প্রমাণ তাদের মুখপত্র ডিসেম্বর/২০০০ ঈঃ সংখ্যা। উক্ত সংখ্যার ৪৪পৃষ্ঠায় এ পর্যন্ত যত মুজাদ্দিদ পৃথিবীতে আগমন করেছেন তাদের তালিকা তারা দিয়েছে।              কিন্তু সেখানে গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নাম মুবারক মুজাদ্দিদের তালিকায় নেই।  (চলবে)

মুহম্মদ মুঈনুল হক্ব দিরাই, সুনামগঞ্জ

সুওয়ালঃ মাসিক মদীনা ফেব্রুয়ারী/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়। প্রশ্নঃ কোরবানীর ঈদের দিন ও পরবর্তী তিনদিন হাঁস-মুরগী ইত্যাদি জবেহ্ করা যাবে কিনা? দয়া করে জানাবেন? উত্তরঃ এ ব্যাপারে শরীয়তে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। এবং মাসিক মদীনা মার্চ/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যার প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, প্রশ্নঃ পবিত্র ঈদুল-আযহার দিন খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোরগ বা হাঁস জবাই করা যাবে কিনা? উত্তরঃ এ ব্যাপারে শরীয়তে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই।       এখন আমার সুওয়াল হলো- পবিত্র ঈদুল আযহার দিন অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা সম্পর্কে মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? দলীলসহ সঠিক জাওয়াব জানিয়ে বাধিত করবেন। জাওয়াবঃ  কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি গৃহপালিত পাখি যবেহ্ করা সম্পর্কে মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে কুফরীমূলক হয়েছে। যা সম্পূর্ণই মনগড়া ও দলীলবিহীন।          যেমন, মাসিক মদীনা বলেছে, “এ ব্যাপারে শরীয়তে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই।” এর জবাবে বলতে হয় যে, “মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের শরীয়তে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ইসলামী শরীয়তে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।      তাছাড়া শুধু এ ব্যাপারেই নয় আরো অনেক ব্যাপারে যেমন, ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, মহিলাদের মসজিদে যাওয়া, গণতন্ত্র, হরতাল, লংমার্চ ইত্যাদি ব্যাপারেও মাহিউদ্দীনের নিজস্ব বানানো শরীয়তে নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু ইসলামী শরীয়তে এগুলোকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।    অনুরূপ কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মাহিউদ্দীনের নিজস্ব বানানো শরীয়তে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ইসলামী শরীয়তে কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা নিষেধ করা হয়েছে। আর ইসলামী শরীয়ত বলতে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসকে বুঝায়। আর ইজমা ও ক্বিয়াসের সমষ্টিই হচ্ছে ফিক্বাহ্ ও ফতওয়া। সুতরাং ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবে থাকার অর্থই হলো ইজমা ও ক্বিয়াসে থাকা। আর ইজমা ও ক্বিয়াসে থাকার অর্থ হলো ইসলামী শরীয়তে থাকা।

অতএব, ইসলামী শরীয়তে তথা ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবে কুরবানীর দিনগুলোকে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী বলা হয়েছে। শুধু তাই নয় বরং ইসলামী শরীয়তে তথা ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবে এটাও বলা হয়েছে যে, কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মজূসীদের রুসূম বা বিধর্মী অগ্নি উপাসকদের ধর্মীয় প্রথা। সেহেতু আম ফতওয়া হলো, কুরবানীর দিনগুলোতে মুসলমানদের জন্য হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী। আর খাছ ফতওয়া কুফরী। কেননা, যারা মজূসী বা অগ্নি উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক মুসলমানদের আইয়্যামে নহর বা কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে থাকে। এখন যদি কোন মুসলমান, মজূসী বা অগ্নি উপাসকদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে তাহলে সেটা কুফরী হবে।   আর যদি কোন মুসলমান তার দারিদ্রতার কারণে, অভাব-অনটনের কারণে বা খুব জরুরতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে তাহলে সেটাও মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। যেহেতু এটাও কুরবানী দাতার সঙ্গে তাশাব্বুহ্ হয়ে যায়।

যেমন, ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার বিখ্যাত কিতাব “আল বাহরুর রায়িক শারহু কানযিদ্ দাক্বায়িক” কিতাবের ২য় খন্ডের ১৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

التضحية بالديك أو بالدجاج فى أيام ااضحية ممن لاأضحية عليه لعسرته بطريق التشبيه بالمضحين مكروه لان هذا من رسوم المجوس.

অর্থাৎ- “দারিদ্রতার কারণে বা অভাব-অনটনের কারণে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়; সে ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী অথবা গৃহপালিত পাখি অর্থাৎ হাঁস, মোরগ, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করে তাহলে কুরবানী দাতাদের সাথে তাশবীহ্ বা সাদৃশ্য হওয়ার কারণেই মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এটা অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মজূসীদের বা অগ্নি উপাসকদের ধর্মীয় প্রথা।”      “খুলাছাতুল ফতওয়া” কিতাবের ৪র্থ খন্ডের ৩১৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

التضحية بالديك والدجاجة فى ايام الاضحية ممن لا اضحية عليه لعساره تشبها بالمضحين مكروه لانه من رسوم المجوس.

অর্থাৎ- “দারিদ্রতার কারণে বা অভাব-অনটনের কারণে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়; সে ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী যবেহ্ করে তাহলে কুরবানী দাতাদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা সাদৃশ্য হওয়ায় মাকরুহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এটা অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী যবেহ্ করা মজূসীদের রুস্ম বা অগ্নি উপাসকদের ধর্মীয় প্রথা।”        “ফতওয়ায়ে বায্যাযীয়া” কিতাবে উল্লেখ আছে,

من لاأضحية عليه لعساره لوذبح دجاجة أوديكا يكره لانه تشبه بالمجوس.

অর্থাৎ- “দারিদ্রতার কারণে বা অভাব-অনটনের কারণে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়; সে ব্যক্তি মুরগী অথবা মোরগ যবেহ্ করে তাহলে মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এটা মজূসীদের সাথে তাশাব্বুহ্ হয়।” “হাশিয়াতুত্ ত্বাহ্ত্বাবী আ’লাদ দুররিল মুখতার” কিতাবের ১ম খন্ডের ৩৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

التحية بالديك او بالدجاج فى ايام التضحية ممن لا اضحية عليه لعسرته بطريق التشبه بالمضحين مكروهة لان هذا من رسوم المجوس.

অর্থাৎ- “দারিদ্রতার কারণে বা অভাব-অনটনের কারণে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়; সে ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী অথবা গৃহপালিত পাখি অর্থাৎ হাঁস, মোরগ, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করে তাহলে কুরবানী দাতাদের সাথে তাশাব্বুহ্ হওয়ার কারণেই মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এটা অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মজূসীদের বা অগ্নি উপাসকদের ধমীয় প্রথা।”

  “দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ আছে,

فيكره ذبح دجاجة وديك لانه تشبه بالمجوس.

অর্থাৎ- “মোরগ-মুরগী যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী। কেননা, এটা মজূসীদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা সাদৃশ্য হয়।”      “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ৫ম খন্ডের ৩০০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

التضحية بالديك والدجاجة فى أيام الاضحية ممن لا أضحية عليه لا عساره تشبيها بالمضحين مكروه لانه من رسوم المجوس.

অর্থাৎ- “অস্বচ্ছলতার কারণে বা দারিদ্রতার কারণে; যে ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি সে ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী যবেহ্ করে তাহলে কুরবানী দাতাদের সাথে তাশবীহ্ বা সাদৃশ্য হওয়ায় মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এটা অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী যবেহ্ করা মজূসীদের রসমের অন্তর্ভুক্ত। “যখীরা” কিতাবে উল্লেখ আছে,

التضحية بالديك أو بالدجاج فى أيام الاضحية ممن لاأضحية عليه لعسرته بطريق التشبيه بامضحين مكروه لان هذا من رسوم المجوس.

অর্থাৎ- “দারিদ্রতার কারণে বা অভাব-অনটনের কারণে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়; সে ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী অথবা গৃহপালিত পাখি অর্থাৎ হাঁস-মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করে তাহলে কুরবানী দাতাদের সাথে তাশবীহ্ বা সাদৃশ্য হওয়ার কারণেই মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এটা অর্থাৎ কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মজূসীদের বা অগ্নি উপাসকদের ধর্মীয় প্রথা।”

  “ওয়াজীয” কিতাবে উল্লেখ আছে,

من لا أ  ضيجو هليخ لتهسترخ لزذبج دجاجة او ديكا يكره.

অর্থাৎ- “দারিদ্রতার কারণে বা অস্বচ্ছলতার কারণে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়; সে ব্যক্তি যদি মুরগী অথবা মোরগ যবেহ্ করে তাহলে মাকরূহ্ তাহরীমী হবে।”

“ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া” কিতাবের ৮ম খন্ডের ৪৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উদূ লেখা ঢুকবে…………………………………

অর্থাৎ- “এরূপ ব্যক্তি যার উপর অস্বচ্ছলতার কারণে কুরবানীর দিনগুলোতে কুরবানী ওয়াজিব নয় সে ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিনগুলোতে মোরগ অথবা মুরগী যবেহ্ করে যার ফলে কুরবানী দাতাদের সাথে মুশাবাহাত বা সাদৃশ্য হয় তবে এটা মাকরূহ্ তাহরীমী। কেননা, এটা মজূসীদের রসমের অন্তর্ভুক্ত।”          “হাশিয়ায়ে রদ্দুল মুহতার” কিতাবের ৬ষ্ঠ খন্ডের ৩১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

فيكره ذبح دجاجة وديك لأنه تشبه بالمجوس.

অর্থাৎ- “মোরগ-মুরগী যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী। কেননা, এটা মজূসীদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা সাদৃশ্য হয়।”      উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রথমতঃ এটাই প্রমাণিত হলো যে, কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী। কারণ কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করলে কুরবানীদাতার সঙ্গে তাশাব্বুহ্ হওয়ার কারণেই তা মাকরূহ্ তাহরীমী হবে। কেননা, এখানে তাশাব্বুহটা যদিও কুরবানী দাতার সঙ্গে অর্থাৎ মুসলমানদের সঙ্গে হয়েছে তবুও মাকরূহ্ তাহরীমী হবে।

            যেমন, “বাহরুর রায়িক” কিতাবের ২য় খন্ডের ১৬৪ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উক্ত ইবারতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,

فان التشبه هنا وان كان بالمسلمين فهو مكروه.

অর্থাৎ- “নিশ্চয়ই এখানে তাশাব্বুহ্টা যদিও মুসলমানদের সঙ্গে অর্থাৎ কুরবানীদাতার সঙ্গে হয়েছে তবুও সেটা মাকরূহ্ তাহরীমী।”             দ্বিতীয়তঃ উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাও প্রমাণিত হলো যে, কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মজূসী বা অগ্নি উপাসকদের ধর্মীয় প্রথা হওয়ার কারণেই মুসলমানদের জন্য কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী, কুবুতর ইত্যাগি যবেহ্ করা আম ফতওয়া মুতাবিক মাকরূহ্ তাহরীমী।

যেমন, “বাহরুর রায়িক” কিতাবে আরো উল্লেখ আছে,

ان العلة فى كراهة التضحية كونها من رسوم المجوس.

অর্থাৎ- “নিশ্চয়ই মুসলমানদের জন্য কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী হওয়ার ইল্লতটা (কারণ) হলো, মজূসীদের রুসূম বা ধর্মীয় প্রথা হওয়ার কারণেই। অর্থাৎ মজূসী বা অগ্নি উপাসকরা যেহেতু তাদের ধর্মীয় প্রথা মুতাবিক কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে থাকে সেহেতু মুসলমানদের জন্য কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করা মাকরূহ্ তাহরীমী।

আর খাছ ফতওয়া হলো কুফরী। কেননা, মুসলমানদের আইয়্যামে নহর বা কুরবানীর দিনে যারা মজূসী বা অগ্নি উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ্ করে থাকে। এখন যদি কোন মুসলমান তাদের সাথে মুশাবাহ্ বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিন হাঁস মোরগ ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে।

কারণ, বেদ্বীন, বদ্দ্বীন, বিধর্মী, বিজাতীদের অনুসরণ-অনুকরণ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

من تشبه بقوم فهو منهم.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” (এমনকি তার হাশর-নশরও তাদের সাথে হবে।) (আবূ দাউদ, মুসনদে আহমদ)

তিনি আরো বলেন,

ليس منا من تشبه بغيرنا.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির অনুসরণ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (তিরমিযী, মিশকাত)

সুতরাং মজূসী বা অগ্নি উপাসকদের সঙ্গে মুশাবাহ্ বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিনগুলোতে হাঁস, মোরগ, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করা কুফরী।

আর তাদের সাথে মুশাবাহ্ না রেখে সাধারণভাবে করলেও আম ফতওয়া মুতাবিক সেটা মাকরূহ্ তাহ্রীমী হবে। ইসলামী শরীয়তে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি কুরবানীর দিন যবেহ্ করলে সেটা কুরবানী হয়না বা হবেনা। শরীয়ত কুরবানীর জন্য পশু নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

            এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন,

بهيمة الانعام.

 অর্থঃ-“গৃহপালিত পশু” (সূরা মায়েদা/১, হজ্ব/ ৩৪)   এর ব্যাখ্যায় তাফসীর এবং ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে- গৃহপালিত পশু হলো- গরু, মহিষ, উট, দুম্বা, খাসী, ছাগল ও ভেড়া। আরো শর্ত আরোপ করা হয়েছে, বন্যপশু যবেহ করলে সেটা কুরবানী হবেনা। যেমন- হরিণ, বন্য গরু, বন্য মহিষ, বা যে কোন বন্য প্রাণী।   বন্য ও গৃহপালিত পশুর পার্থক্য হলো- পশুর মা যদি গৃহপালিত হয় তবে সেটাই গৃহপালিত-এর হুকুম রাখবে এবং সেটা দিয়েই কুরবানী জায়িয। আর যদি পশুর মা বন্য হয় তাহলে সেটা বন্য প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে, সেটা দিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী হবেনা।    ইসলামী শরীয়তে কুরবানীর জন্য শুধু পশুই নির্দিষ্ট করে দেয়নি সাথে সাথে তার বয়সও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।    এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,

ولا تذبحوا الا مسنة.

অর্থঃ-“তোমরা মুছেন্না ব্যতীত কুরবানী (জবেহ) করবেনা।” মুছেন্না শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, উট পাঁচ বছর হলে, গরু, মহিষ দুই বৎসর হলে আর খাসী-বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি এক বছর হলে মুছেন্নার হুকুম বর্তায় অর্থাৎ কুরবানীর উপযুক্ত হয়। এর কম বয়সের পশুকে কুরবানী করলে কুরবানী হবেনা। তবে শুধুমাত্র ভেড়া ও দুম্বার বেলায় বলা হয়েছে- যদি ছয় মাসের দুম্বা বা ভেড়াকে দেখতে এক বছরের মত মনে হয় তবে সে দুম্বা বা ভেড়া দিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে।           অতএব যাদের কুরবানী করার সামর্থ আছে অথবা যাদের কুরবানী করার সামর্থ নেই তারা  উভয়েই যেন কুরবানীর দিন হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ না করে। কারণ সেটা কুফরী হবে।               উল্লেখ্য, আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক আইয়্যামে নহর বা কুরবানীর দিন হলো তিনদিন। অর্থাৎ ১০, ১১, ১২ই যিলহজ্ব।

            যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,

 الاضحى يومان بعد يوم الاضحى.

অর্থঃ- “কুরবানীর দিনটির পর আরো দু’দিন হলো কুরবানীর দিন।” (মিশকাত, মিরকাত)

আর ফতওয়ার কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে,

أيام النحر ثلاثة يوم النحر وهو العاشر من ذى الحجة ويومان بعده.

অর্থঃ- “আইয়্যামে নহর বা কুরবানীর দিন হলো তিনদিন। আর তা হলো যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ এবং তার পরবর্তী দু’দিন। অর্থাৎ ১০, ১১, ১২ই যিলহজ্ব এই তিনদিন হলো কুরবানীর দিন।”   (খুলাছাতুল ফতওয়া, হাশিয়ায়ে তাহত্বাবী আলা মারাকিউল ফালাহ্, বাহরুর রায়িক, আলমগীরী, শামী, নুরুল ইযাহ্, আইনুল হিদায়া ইত্যাদি)

            অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে এটাই প্রমাণিত হলো যে, কোন মুসলমানের পক্ষে চাই তার দারিদ্রতার কারণে হোক, অভাব অনটনের কারণে হোক, নিজে খাওয়ার জন্য হোক অথবা জরুরতে হোক নিজে কুরবানী করুক অথবা নাই করুক কোন অবস্থাতেই পবিত্র ঈদুল আযহার দিন ও পরবর্তী দু’দিন অর্থাৎ ১০, ১১, ১২ই যিলহজ্ব এই তিন দিন হাঁস, মোরগ, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি গৃহপালিত পাখি যবেহ্ করতে পারবে না। কারণ সেটা আম ফতওয়া মুতাবিক মাকরূহ্ তাহ্রীমী হবে। আর খাছ ফতওয়া মুতাবিক কুফরী হবে এবং ঈমানও নষ্ট হবে। কাজেই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব এই ধরণের কুফরী থেকে বেঁচে থাকা।       সুতরাং মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য ভুল ও কুফরীমূলক হয়েছে বলে প্রমাণিত হলো।   {দলীলসমূহঃ  (১) যখীরা, (২) উছূলুত্ তাওহীদ, (৩) ওয়াজিয, (৪) আল বাহরুর রায়িক শারহু কানযিদ দাক্বায়িক, (৫) খুলাছাতুল ফতওয়া, (৬) ফতওয়ায়ে বায্যাযিয়া, (৭) মিনহাতুল খালিক আলাল বাহরির রায়িক, (৮) হাশিয়াতুত্ তাহতাবী আ’লাদ দুররিল মুখতার, (৯) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (১০) গায়াতুল আওতার, (১১) ফতহুল ক্বাদীর, (১২) শরহে হিদায়া, (১৩) দুররুল মুখতার, (১৪) শামী ইত্যাদি}

মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম (সাঈফী)

সভাপতি- ছাত্র আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত রাজারহাট শাখা, কুড়িগ্রাম

 সুওয়ালঃ  রাহমানী পয়গাম মে/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় ‘হরতাল’ জায়িয প্রমাণ করতে গিয়ে যে সকল মনগড়া বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো-  ১. মহানবী তাঁর তরবারী দ্বারা যুদ্ধ করা সত্ত্বেও বর্তমান যুগে যুদ্ধের সময় আধুনিক সমরাস্ত্র অবলম্বন করতে হয়। বিধর্মীদের অস্ত্র নিয়ে যদি যুদ্ধ করা যায়, তাহলে তাদের প্রবর্তিত হরতাল কেন করা যাবে না?  ২. হরতাল প্রথমতঃ দু’ধরণের হতে পারে। একটি হলোঃ দ্বীনি স্বার্থে তথা বাতিলের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে। এক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল করা জায়িয। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে জরুরী হয়ে পড়ে।   দ্বিতীয় প্রকারঃ ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে সর্ব প্রকার হরতাল নাজায়িয ও হারাম। কারণ এতে জোর-জবরদস্তি, জুলূম, অত্যাচার, রাস্তা অধিকার হরণ ইত্যাদি করা হয়।  বর্তমান যুগে হরতাল বাতিল প্রতিরোধের অন্যতম পন্থা; যা ফলপ্রসূও। এক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে স্বতঃস্ফুর্ত হরতাল করা জায়িয। ক্ষেত্র বিশেষে জরুরীও বটে। ৩. আল্লাহ্ তায়ালা সকল প্রকার বাতিলের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা জরুরী ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তার জন্য একক কোন পন্থা বা নিয়ম বলে দেননি।  এখন আমার সুওয়াল হলো- হরতাল জায়িয হওয়ার ক্ষেত্রে উপরোক্ত বক্তব্যগুলো কতটুকু গ্রহণযোগ্য? দলীল আদিল্লাহ্সহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। জাওয়াবঃ ‘হরতাল’ সম্পর্কে রাহমানী পয়গামের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণই কুফরী হয়েছে। কারণ হারামকে হালাল, হালালকে হারাম  বলা সম্পূর্ণই কুফরী। তাদের এ কুফরীমূলক বক্তব্যের পিছনে তাদের অজ্ঞতা ও দুনিয়ার মোহ কাজ করছে। তারা আশাদুদ্ দরজার জাহিল ও চরম লোভী হওয়ার কারণেই এই সাধারণ জায়িয-নাজায়িযের পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।   তারা বলেছে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধর্মীদের অস্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন। যদি তাই হয় তাহলে হরতাল করা যাবে না কেন।”    এর জবাবে বলতে হয়, এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে দু’টি। একটি হচ্ছে মাল-সামানা, দ্রব্য-সামগ্রী। অর্থাৎ বিধর্মীদের দ্বারা তৈরীকৃত মাল-সামানা বা দ্রব্য-সামগ্রীর হচ্ছে এক হুকুম। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-পদ্ধতি। অর্থাৎ বিধর্মীদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকা, অনুসরণ-অনুকরণ হচ্ছে অন্য হুকুম। প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ মাল-সামানা, দ্রব্য-সামগ্রী যেমন, প্লেন, ট্রেন, গাড়ী, ঘোড়া, কাপড়-চোপড়, অস্ত্র-পাতি, তীর-ধনুক, ঢাল-তলোয়ার ইত্যাদি। মুসলমান তৈরী করুক অথবা বিধর্মী তৈরী করুক তা ব্যবহার করা শরীয়তে কোথাও নিষেধ করা হয়নি। বরং আল্লাহ্ পাক বলেছেন,

هو الذى خلق لكم ما فى الارض جميعا.

অর্থঃ- “তিনি আল্লাহ্ পাক যমীনের সমস্ত কিছু তোমাদের ফায়দার জন্য সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা বাক্বারা/২৯)

            প্লেন, ট্রেন, গাড়ী, ঘোড়া, কাপড়-চোপড়, অস্ত্র-পাতি, তীর-ধনুক, ঢাল-তলোয়ার ইত্যাদি দ্রব্য-সামগ্রী বা মাল-সামানা ব্যবহারের দ্বারা ফযীলত লাভ করা নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ কেউ যদি প্লেনে চড়ে নেক কাজে বা হজ্বে যায় তাহলে অবশ্যই প্লেনে চড়ার জন্য নেকী লাভ করবে। আর যদি কোন অবৈধ কাজে বা পাপ কাজে যায় তাহলে সে অবশ্যই নিয়ত অনুযায়ী গুণাহ্গার হবে।

যেমন, স্বয়ং আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিশর দেশীয় তৈরী সূতী কাপড়ের কামিছ পরিধান করতেন। ইয়ামেন দেশীয় চাদর ব্যবহার করতেন। রোম দেশীয় জুব্বা ব্যবহার করতেন। এছাড়া বর্হিদেশীয় ঢাল-তলোয়ার, তীর-ধনুক ব্যবহার করতেন।   এক কথায় এর ব্যাখ্যা হচ্ছে সমগ্র কায়িনাত মুসলমানদের খাদিম। তারা যা কিছু তৈরী করবে তার মধ্যে যে সমস্ত দ্রব্য-সামগ্রী মুসলমানদের প্রয়োজন ও শরীয়তসম্মত হবে তা তারা ব্যবহার করবে। আর যা প্রয়োজন ও শরীয়তসম্মত হবে না তা পরিহার করবে।  মেছালস্বরূপ, একজন বাবুর্চী অনেক প্রকার খাদ্য-সামগ্রী তৈরী করে। মুনিব তার প্রয়োজন মাফিক গ্রহণ করে বাকীটা রেখে দেয়। বিধর্মীদের দ্বারা তৈরী মাল-সামানা, দ্রব্য-সামগ্রীর ব্যাপারেও মুসলমানদের একই হুকুম।   আর দ্বিতীয় বিষয়টি যা তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-কানুন, পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন,

اتبعوا ما انزل الله.

অর্থঃ- “তোমরা অনুসরণ করো আল্লাহ্ পাক যা নাযিল করেছেন।” (সূরা বাক্বারা/১৭০)

আরো ইরশাদ করেন,

 افحكم الجاهلية يبغون ومن احسن من الله حكما لقوم يوقنون.

অর্থঃ- “তারা কি জাহিলী যুগের হুকুম-আহ্কাম তলব করে অথচ আল্লাহ্ পাক থেকে উত্তম হুকুমদাতা ঈমানদারদের জন্য কে রয়েছে?” (সূরা মায়িদা/৫০)

অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক যা আদেশ-নির্দেশ, হুকুম-আহ্কাম নাযিল করেছেন বা দিয়েছেন হুবহু সেটাই মানতে হবে, পালন করতে হবে। তার খিলাফ যদি কেউ করে তার সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন,

من لم يحكم بما انزل الله فاولئك هم الكفرون.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা আদেশ-নির্দেশ করবেনা তারা কাফির।” (সূরা মায়িদা/৪৪)             আল্লাহ্ পাক আরো বলেন,

 فاولئك هم الظلمون- فاولئك هم الفسقون.

অর্থঃ- “তারা যালিম এবং তারা ফাসিক।” (সূরা মায়িদা/৪৫, ৪৭)      আল্লাহ্ পাক-এর আদেশ-নির্দেশের বাইরে আমল করলে কুফরী হবে। আর আল্লাহ্ পাক-এর আদেশ-নির্দেশ পালন করতে হলে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন,

اطيعوا الله ورسوله ان كنتم مؤمنين.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ কর যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক।” (সূরা আনফাল/১)  আল্লাহ্ পাক আরো বলেন,

فاتبعونى.

 অর্থঃ- “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন! তোমরা একমাত্র আমাকে অনুসরণ কর।” (সূরা আলে ইমরান/৩১) অর্থাৎ প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানকে প্রতি ক্ষেত্রে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করতে হবে।       আর সেজন্যই আল্লাহ্ পাক অন্যত্র বলে দিয়েছেন,

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যেই উত্তম আদর্শ রয়েছে।”  (সূরা আহ্যাব/২১)

            অর্থাৎ তিনিই অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং তাঁরই তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-পদ্ধতি, অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে। তাঁর খিলাফ কোন কাজই করা যাবে না।   তাই আল্লাহ্ পাক অন্যত্র আরো বলেন,

ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو فى الاخرة من الخسرين.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়ম-নীতি, অন্য ধর্ম) তালাশ করে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান/৮)

এর ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

 وعن جابر عن النبى صلى الله عليه وسلم حين اتاه عمر فقال: انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترى ان نكتب بعضها فقال امتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصرى لقد حئتكم بها بيضاء نقية ولو كان مؤسى حياما وسعه الا اتباعى.

অর্থঃ- “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনে খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, (ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্য্যবোধ করি, ওটার কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিস্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস্ সালামও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে তাঁকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনদে আহমদ, বায়হাক্বী)

            সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীস শরীফ হতে বুঝা গেল যে, কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজ্মা ও ক্বিয়াস ছাড়া অন্য কোন বিজাতীয় পন্থার অনুসরণ করা হারাম।

অতএব, বিধর্মীদের দ্বারা তৈরীকৃত অস্ত্রপাতি, মাল-সামানা ব্যবহার করা হচ্ছে মুবাহ্ যা নিয়তের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এতে কাউকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হয়না।

            আর হরতাল, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকা দাহ্, গণতন্ত্র, নির্বাচন, ব্লাসফেমী আইন ইত্যাদি বিধর্মীদের দ্বারা প্রবর্তিত পদ্ধতি, আইন-কানুন ও তর্জ-তরীক্বা অবলম্বন করার দ্বারা বিধর্মীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা হয়, তাই তা আমল করা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম।

তাদের দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, হরতাল দু’ধরণের নয়। প্রকৃতপক্ষে হরতাল এক ধরণের। কারণ, হরতাল শব্দের অর্থ বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি।

হরতালের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য যানবাহন, হাটবাজার, দোকানপাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি বন্ধ করা।

হরতাল গুজরাটি শব্দ। ‘হর’ অর্থ প্রত্যেক। ‘তাল’ অর্থ তালা। অর্থাৎ প্রতি দরজায় তালা।

কাজেই যার অর্থই বিশৃংখলা, অত্যাচার, স্বেচ্চাচারিত, অবাধ্যতা, বিক্ষোভ, প্রতিরোধ তা কি করে ইসলামের জন্য হতে পারে?

            কারণ মুসলমানের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,

المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده.

অর্থঃ- “মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে।” (বুখারী)   এরপরও বলতে হয়, হরতালের উদ্ভাবক ও প্রবর্তক হচ্ছে  ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষী মুশরিক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, বৃটিশদের রাউলাট আইন বাতিল করার জন্য, তার প্রতিবাদে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে, তার নাম দেয়া হয় হরতাল। এই হরতাল পালিত হওয়ার কথা ছিল ১৯১৮ সালের ৩০শে মার্চ। পরে এই তারিখ পিছিয়ে ৬ই এপ্রিল করা হয়। ফলে কোন স্থানে ৩০ মার্চ আবার কোন স্থানে ৬ই এপ্রিল সর্ব প্রথম হরতাল পালিত হয়। বলাবাহুল্য, হরতাল গুজরাটি শব্দ। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু, সে দাবী আদায়ের পদ্ধতির নামকরণ করে হরতাল। এছাড়াও হরতাল হারাম হওয়ার উৎস ও কারণ হলো – (১) বিজাতীয়দের উদ্ভাবিত পন্থা। (২) জন-জীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। (৩) জান-মালের ক্ষতি। (৪) একজনের অন্যায়ের শাস্তি অন্যকে দেয়া। (৫) হারাম পন্থায় ইসলাম কায়েমের চেষ্টা।

অথচ আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ শরীফে বলেন,

 لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহ্যাব/২১)

      তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, মুসলমানদের জন্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষী মুশরিক মহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে অনুসরণ করে, তার উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত হরতাল করা জায়িয ও জরুরী? তাহলে কি গান্ধীর প্রবর্তিত হরতাল ব্যতীত ইসলাম অপূর্ণ?

অথচ আল্লাহ্ পাক বলেন,

االيوم اكملت لكم دينكم واتممت عليكم نعمتى ورضيت لكم الاسلام دينا.

অর্থঃ- “আজকে আমি তোমাদের দ্বীনকে কামিল করলাম এবং তোমাদের উপর নিয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের উপর সন্তুষ্ট রইলাম।” (সূরা মায়িদা/৩))   অতএব, হারাম হরতালকে জায়িয ও জরুরী বলা কাট্টা কুফরী। যদি কেউ বিধর্মী বা বিজাতীয়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করে তবে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

من تشبه بقوم فهو منهم.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।” (মিশকাত)

এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় নিম্নলিখিত ঘটনা উল্লেখ করা যায়, হিন্দুস্থানে একজন জবরদস্ত আল্লাহ্ পাক-এর ওলী ছিলেন। যিনি ইন্তিকালের পর অন্য একজন বুযূর্গ ব্যক্তি তাকে স্বপে¦ দেখে জিজ্ঞেস করেন, “হে আল্লাহ্ পাক-এর ওলী! আপনি কেমন আছেন?” তখন সেই আল্লাহ্ পাক-এর ওলী জাওয়াবে বলেন, “আপাততঃ আমি ভালই আছি, কিন্তু আমার উপর দিয়ে এক কঠিন সময় অতিবাহিত হয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার ইন্তিকালের পর আমাকে ফেরেশ্তারা সরাসরি আল্লাহ্ পাক-এর সম্মুখে পেশ করেন। আল্লাহ্ পাক ফেরেশতাদেরকে বলেন, “হে ফেরেশ্তাগণ! তোমরা কেন তাকে এখানে নিয়ে এসেছ”? ফেরেশ্তাগণ বলেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! আমরা তাকে খাছ বান্দা হিসেবে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করানোর জন্য নিয়ে এসেছি।” এটা শ্রবণ করে আল্লাহ্ পাক বললেন, “তাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, তার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে। কেননা সে পূজা করেছে।” এটা শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম এবং আমার সমস্ত শরীর ভয়ে কাঁপতে লাগল। তখন আমি আল্লাহ্ পাক-এর নিকট আরজু পেশ করলাম, “আয় আল্লাহ্ পাক! আমার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে কেন? আমি তো সব সময় আপনার এবং আপনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফরমাবরদার ছিলাম। কখনও ইচ্ছাকৃত নাফরমানি করিনি এবং কখনো পূজা করিনি আর মন্দিরেও যাইনি।” তখন আল্লাহ্ পাক বললেন, “তুমি সেই দিনের কথা স্মরণ কর, যেদিন হিন্দুস্থানে হোলি পূজা হচ্ছিল। তোমার সামনে-পিছনে, ডানে-বামে, উপরে-নীচে সমস্ত গাছ-পালা, তরু-লতা, পশু-পাখী, কীট-পতঙ্গ সবকিছুকে রং দেয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় তোমার সামনে দিয়ে একটি গর্দভ যাচ্ছিল যাকে রং দেয়া হয়নি। তখন তুমি পান চিবাচ্ছিলে, তুমি সেই গর্দভের গায়ে এক চিপটি পানের রঙীন রস নিক্ষেপ করে বলেছিলে, “হে গর্দভ! তোমাকে তো কেউ রং দেয়নি এই হোলি পূজার দিনে, আমি তোমাকে রং দিয়ে দিলাম। এটা কি তোমার পূজা করা হয়নি?” তুমি কি জান না,

من تشبه بقوم فهو منهم.

অর্থঃ- “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।  সুতরাং তোমার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে।”

            যখন আল্লাহ্ পাক এ কথা বললেন, তখন আমি লা-জাওয়াব হয়ে গেলাম এবং ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বললাম, “আয় আল্লাহ্ পাক! আমি এটা বুঝতে পারিনি।” কিছুক্ষণ পর আল্লাহ্ পাক বললেন, “হ্যাঁ, তোমাকে অন্যান্য আমলের কারণে ক্ষমা করা হয়েছে।”

আরো বর্ণিত রয়েছে, বণী ইসরাঈল আমলে আল্লাহ্ পাক হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস্ সালাম-এর উপর ওহী নাযিল করলেন, হে আমার নবী! আপনার উম্মতের মধ্যে এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যার মধ্যে ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত (গোমরাহ)। তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস্ সালাম বললেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত তাই তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে; কিন্তু বাকী চল্লিশ হাজার লোককে ধ্বংস করা হবে কেন?” তখন আল্লাহ্ পাক বললেন, “যেহেতু তারা তাদের সাথে মিলা-মিশা ও ওঠা-বসা করে এবং সম্পর্ক রাখে আর গুনাহের কাজে বাধা দেয় না, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে” এবং তাই হয়েছিল।

উপরোক্ত হাদীস শরীফ এবং তার ব্যাখ্যার দ্বারা এটাই ছাবিত হলো যে, বিজাতীয়-বিধর্মীদের কোন নিয়ম-নীতি, আমল-আখলাক ও সীরত-ছূরত কোনটাই অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবে না। যদি কেউ করে, তবে তার থেকে সেটা আল্লাহ্ পাক গ্রহণ করবেন না বা কোন ছওয়াবও দিবেন না এবং আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে কোন মদদও সে পাবেনা। বরং তার ফলে সে ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শুধু এতটুকুই নয় বরং পরকালে তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে এবং তার অবস্থানও তাদের সাথে হবে যাদেরকে সে অনুসরণ করত।       তৃতীয়তঃ তারা বলেছে যে, আল্লাহ্ পাক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার জন্য একক কোন পন্থা বা নিয়ম বলে দেননি। এর জবাবে বলতে হয়, তাদের এ বক্তব্যও সম্পূর্ণ কুফরী।

 এ পরিপ্রেক্ষিতে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে,

وعن جابر عن النبى صلى الله عليه وسلم حين اتاه عخمر فقال: انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترى ان نكتب بعضها فقال امتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصارى؟ لقد جئتكم بها بيضاء نقية ولو كان موسى حيا ما وسعه الا اتباعى.

অর্থঃ- “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমরা ইহুদীদের অনেক ধর্মীয় কাহিনী, কথাবার্তা, নিয়ম-কানুন ইত্যাদি শ্রবণ করে থাকি যা আমাদের নিকট ভাল লাগে। আমরা এটার থেকে কিছু লিখে রাখতে পারবো কি? তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্থ বা বিভ্রান্ত রয়েছ? যেভাবে ইহুদী-নাছারারা বিভ্রান্ত রয়েছে? আল্লাহ্ পাক-এর কছম! আমি তোমাদের নিকট সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও পরিপূর্ণ দ্বীন নিয়ে এসেছি।

 হযরত মুসা আলাইহিস্ সালাম যদি এখন থাকতেন, তাহলে তাঁকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহমদ, বায়হাক্বী)

সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ হতে বুঝা গেল যে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস ছাড়া অন্য কোন বিজাতীয় পন্থার অনুসরণ করা হারাম।

অতএব, বিধর্মীদের দ্বারা তৈরীকৃত অস্ত্রপাতি, মাল-সামানা ব্যবহার করা হচ্ছে মুবাহ যা নিয়তের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এতে কাউকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হয়না।

আর হরতাল, লংমাচ, কুশপুত্তলিকা দাহ, গণতন্ত্র, নির্বাচন, ব্লাসফেমী আইন ইত্যাদি বিধর্মীদের দ্বারা প্রবর্তিত পদ্ধতি, আইন-কানুন ও তর্জ-তরীক্বা অবলম্বন করার দ্বারা বিধর্মীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা হয়, তাই তা আমল করা শরীয়তে সম্পূণ নিষিদ্ধ ও হারাম।

তাদের দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, হরতাল দু’ধরণের নয়। প্রকৃত পক্ষে হরতাল এক ধরণের। কারণ, হরতাল শব্দের অর্থ বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি।

হরতালের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য যানবাহন, হাটবাজার, দোকানপাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি বন্ধ করা।

হরতাল গুজরাটি শব্দ। ‘হর’ অর্থ প্রত্যেক। ‘তাল’ অথ তালা। অর্থাৎ প্রতি দরজায় তালা।

কাজেই যার অথই বিশৃংখলা, অত্যাচার, স্বেচ্চারিত, অবাধ্যতা, বিক্ষোভ, প্রতিরোধ তা কি করে ইসলামের জন্য হতে পারে?

কারণ মুসলমানের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,

المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده.

অথ:- “মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে।” (বুখারী শরীফ)

এরপরও বলতে হয়, হরতালের উদ্ভাবক ও প্রবর্তক হচ্ছে ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষী মুশরিক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, বৃিটিশদের রাউলাট আইন বাতিল করার জন্য, তার প্রতিবাদে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে, তার নাম দেয়া হয় হরতাল। এই হরতাল পালিত হওয়ার কথা ছিল ১৯১৮ সালেরও ৩০শে মার্চ। পরে এই তারিখ পিছিয়ে ৬ই এপ্রিল করা হয়। ফলে কোন স্থানে ৩০ মার্চ আবার কোন স্থানে ৬ই এপ্রিল সর্ব প্রথম হরতাল পালিত হয়।বলাবাহুল্য, হরতাল গুজরাটি শব্দ। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু, সে দাবী আদায়ের পদ্ধতি নামকরণ করে হরতাল। এছাড়াও হরতাল হারাম ওয়ার উৎস ও কারণ হলো-

(১) বিজাতীয়দের উদ্ভাবিত পন্থা।

(২) জন-জীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি।

(৩) জান-মালের ক্ষতি।

(৪) একজনের অন্যায়ের শাস্তি অন্যকে দেয়া।

(৫) হারাম পন্থায় ইসলাম কায়িমের চেষ্টা।

অথচ আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة.

অথ:- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব/২১)

তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, মুসলমানদের জন্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষী মুশরিক মহনদাস করমচাদ গান্ধীকে অনুসরণ করে, তার উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত হরতাল করা জায়িয ও জরুরী? তাহলে কি গান্ধীর প্রবর্তিত হরতাল ব্যতীত ইসলাম অপূণ?

অথচ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اليوم اكملت لكم دينكم واتممت عليكم نعمتى ورضيت لكم الاسلام دينا.

অথ:- “আজকে আমি তোমাদের দ্বীনকে কামিল করলাম এবং তোমাদের উপর নিয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের উপর সন্তুষ্ট রইলাম।” (সূরা মায়িদা/৩)

অতএব, হারাম হরতালকে জায়িয ও জরুরী বলা কাট্টা কুফরী। যদি কউ বিধর্মী বা বিজাতীয়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করে তবে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ পাক উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

من تشبه بقوم فهو منهم.

অথ:- “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।” (মিশকাত শরীত শরীফ)

এ হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় নিম্নলিখিত ঘটনা উল্লেখ করা যায়, হিন্দুস্থানে একজন জবরদস্ত আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন। যিনি ইন্তিকালের পর অন্য একজন বুযূগ ব্যক্তি তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করেন, “হে আল্লাহ পাক উনার ওলী! আপনি কেমন আছেন?” তখন সেই আল্লাহ পাক উনার ওলী জাওয়াবে বলেন, “আপাতত: আমি ভালই আছি, কিন্তু আমার উপর দিয়ে এক কঠিন সময় অতিবাহিত হয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার ইন্তিকালের পর আমাকে ফেরেশতারা সরাসরি আল্লাহ পাক উনার সম্মুখে পেশ করেন।

আল্লাহ পাক ফেরেশতাদেরকে বলেন, “হে ফেরেশতাগণ! তোমরা কেন তাকে এখানে নিয়ে এসেছ”? ফেরেশতাগণ বলেন, “আয় আল্লাহ পাক! আমরা তাকে খাছ বান্দা হিসেবে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করানোর জন্য নিয়ে এসেছি।” এটা শ্রবণ করে আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “তাকে এখানে থেকে নিয়ে যাও, তার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে। কেননা সে পুজা করেছে।” এটা শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম এবং আমার সমস্ত শরীর ভয়ে কাঁপতে লাগল। তখন আমি আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজু পেশ করলাম, “আয় আল্লাহ পাক! আমার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে কেন? আমি তো সব সময় আপনার এবং আপনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফরমাবরদার ছিলাম। কখনও ইচ্ছাকৃত নাফরমানি করিনি এবং কখনো পূজা কেরিনি আর মন্দিরেও যাইনি।” তখন আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “তুমি সেই দিনের কথা স্মরণ কর, যেদিন হিন্দুস্থানে হোলি পূজা হচ্ছিল।  তোমরার সামনে-পিছনে, ডানে-বামে, উপরে-নীচে সমস্ত গাছ-পালা, তরু-লতা, পশু-পাখী, কীট-পতঙ্গ সবকিছুকে রং দেয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় তোমার সামনে দিয়ে একটি গর্দভ যাচ্ছিল যাকে রং দেয়া হয়নি। তখন তুমি পান চিবাচ্ছিলে, তুমি সেই গদভের গায়ে এক চিপটি পানের রঙীন রস নিক্ষেপ করে বলেছিলে, “হে গদভ! তোমাকে তো কউ রং দেয়নি এই হোলি পূজার দিনে, আমি তোমাকে রং দিয়ে দিলাম। এটা কি তোমার পূজা করা হয়নি?” তুমি কি জান না,

من تشبه بقوم فهو منهم.

অথ:- “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।সুতরাং তোমার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে।”

যখন আল্লাহ পাক তিনি এ কথা বললেন, তখন আমি লা-জাওয়াব হয়ে গেলাম এবং ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বললাম, “আয় আল্লাহ পাক! আমি এটা বুঝতে পারিনি।” কিছুক্ষণ পর আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “হ্যা, তোমাকে অন্যান্য আমলের কারণে ক্ষমা করা হয়েছে।”

আরো বণিত রয়েছে, বণী ইসরাঈল আমলে আল্লাহ পাক হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম উনার উপর ওহী নাযিল করলেন, হে আমার নবী। আপনার উম্মতের মধ্যে এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যার মধ্যে ষাট হাজার লোক সরাসরি গুণাহে লিপ্ত (গুমরাহ)। তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম বললেন, “আয় আল্লাহ পাক! ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত তাই তাদের ধবংস করে দেয়া হবে; কিন্তু বাকী চল্লিশ হাজার লোককে ধবংস করা হবে কেন?” তখন আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “যেহেতু তারা তাদের সাথে মিলা-মিশা ও উঠা-বসা করে এবং সম্পক রাখে আর গুনাহের কাজে বাধা দেয় না, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে” এবং তাই হয়েছিল।

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ এবং উনার ব্যাখ্যার দ্বারা এটাই ছাবিত হলো যে, বিজাতীয়-বিধমীদের কোন নিয়ম-নীতি, ামল-আখলাক ও সীরত-ছুরত কোনটাই অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবে না। যদি কউ করে, তবে তার থেকে সেটা আল্লাহ পাক গ্রহণ করবেন না বা কোন ছওয়াবও দিবেন না এবং আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কোন মদদও সে পাবে না। বরং তার ফলে সে ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু এতটুকুই নয় বরং পরকালে তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে এবং তার অবস্থানও তাদের সাথে হবে যাদেরকে সে অনুসরণ করত।

তৃতীয়ত: তারা বলেছে যে, ;আল্লাহ পাক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার জন্য একক কোন পন্থা বা নিয়ম বলে দেননি। এর জবাবে বলতে হয়, তাদের এ বক্তব্যও সম্পূণ কুফরী।

এ পরিপ্রেক্ষিতে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

وعن جابر عن النبى صلى الله عليه وسلم حين اتاه عمر فقال: انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترى ان نكتب بعضها فقال امتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصارى؟ لقد جئتكم بها بيضاء نقية ولو كان مؤسى حيا ماوسعه الا اتباعى.

ইঅর্থ: “হযরত জাবির রদিবয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নবী করমী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, আমরা ইহুদীদের অনেক ধর্মীয় কাহিনী, কথাবার্তা, নিয়ম-কানুন ইত্যাদি ম্রবণ করে থাকি যা আমাদের নিকট ভাল লাগে। আমরা এটার থেকে কিছু লিখে রাখতে পারবো কি? তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত বা বিভ্রান্ত রয়েছ? যেভাবে ইহুদী-নাছারারা বিভ্রানত রয়েছে? আল্লাহ পাক উনার কছম! আমি তোমাদের নিকট সম্পূর্ণ পরিস্কার ও পরিপূর্ণ দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যদি এখন থাকতেন, তাহলে উনাকে আমার অনুসরণ  করতে হতো।”

তাই আমরা দেখতে পাই, ইহুদী-খ্রীষ্টান তথা বিধর্মীরা যে সকল আমল করত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সে আমল করতেন না, তাদেরকে কোনরূপ অনুসরণও করতেন না; এবং তিনি আমাদেরকেও কঠোরভাবে বিধর্মীয় আমল ও অনুসরণ না করার জন্য তাকিদ দিয়েছেন।

অথচ হরতাল হলো মুসলিম বিদ্বেষী কাট্টা মুশরিক গান্ধীর তর্জ-তরীক্বা যা করা মুসলমানদের জন্য শুধু হারামই নয় বরং তা করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য, শুধু এক্ষেত্রেই নিষেধ করা হয়নি বরং প্রতিক্ষেত্রেই নিষেধ করা হয়েছে।

যেমন, ইহুদী-নাছারারা আশুরার একদিন রোযা রাখত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতে মুহম্মদীকে দু’দিন রোযা রাখতে বললেন। ইহুদী-নাছারারা দেরী করে ইফতার করত, এর পরিপ্রেক্ষিতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের তাড়াতাড়ি ইফতার করতে বলেন। আবার ইহুদীরা শুধুমাত্র পাগড়ী ব্যবহার করত, এর পরিপ্রেক্ষিতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম টুপি ছাড়া পাগড়ী পরতে নিষেধ করেছেন এবং টুপিসহ পাগড়ী ব্যবহার করতে বলেছেন। দাড়ী ও মোচের ব্যাপারে মজুসী (অগ্নি উপাসক) ও মুশরিকদের বিরোধীতা করতে বলেছেন।  যেমন, তারা দাড়ী কাটত ও মোচ বড় করত। তাই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা দাড়ী বড় কর ও মোঁচ ছোট কর।’ ইত্যাদি প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের আস্তিক-নাস্তিক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী-মুশরিক তথা বিজাতীয়, বিধর্মীদের অনুসরণ না করে খিলাফ করতে বলেছেন।

 অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। কেননা আল্লাহ্ পাক বলেন, তিনিই একমাত্র সর্বোত্তম আদর্শ, যা কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة.

অর্থঃ- “তোমাদের জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে (চরিত্র মুবারকে) সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহ্যাব/২১)

            আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই একমাত্র আদর্শ এবং এ আদর্শের খিলাফ কোন কাজ করা যাবেনা।

তাই আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে অন্যত্র বলেন,

ما اتكم الرسول فخذوه وما نهكم عنه فانتهوا واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থঃ- “তোমাদের রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা এনেছেন তা আঁকড়ে ধর এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ বিষয়ে আল্লাহ্ পাককে ভয় কর। আল্লাহ্ পাক কঠিন শাস্তিদাতা।” (সূরা হাশর/৭)    যার ব্যাখ্যায় হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

 عن مالك بن انس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنتى.

অর্থঃ- “হযরত মালিক ইবনে আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত তোমরা সে দু’টো জিনিস আঁকড়ে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত গোমরাহ্ হবে না। একটি হলো, আল্লাহ্ পাক-এর কিতাব ও অপরটি হলো, আমার সুন্নাহ্।” (বুখারী)

তাহলে এরপরও কি করে বলা যেতে পারে যে, আল্লাহ্ পাক এককভাবে কোন পন্থা বা নিয়ম বলে দেননি?

প্রকৃতপক্ষে এরা ঐ আয়াত শরীফেরই মিছদাক যে আয়াত শরীফে আল্লাহ্ পাক বলেন,

لهم قوب لايفقهون بنا ولهم اعين لايبصرون بها ولهم اذان لا يسمعون بها اولئك كالانعام بل هم اضل اولئك هم الغفلون.

অর্থঃ- “তাদের অন্তর থাকা সত্বেও তারা উপলব্ধি করতে পারেনা, তাদের চোখ থাকা সত্বেও তারা দেখতে পায়না এবং তাদের কান থাকা সত্বেও তারা শুনতে পায়না। তারা মূলতঃ চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বরং তার চাইতেও অধম এবং তারা গাফিল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আ’রাফ/১৭৯)

            হাদীস শরীফে রয়েছে, “সমস্ত আসমানী কিতাবে যা কিছু রয়েছে তা কুরআন শরীফে রয়েছে। আর কুরআন শরীফে যা রয়েছে তা সূরা ফাতিহাতে রয়েছে।”

            আর আল্লাহ্ পাক সূরা ফাতিহাতে বলেন, তোমরা দোয়া করো-

اهدنا اصراط المستقيم.

অর্থঃ- “(আল্লাহ্ পাক) আমাদের সরলপথ প্রদর্শন করুন।” সরলপথ কোনটি? এবং কাদের পথটা সরল পথ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত? সে সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক পরবর্তী আয়াত শরীফে বলেন,

صراط الذين انعمت عليهم.

অর্থঃ- “যাদেরকে নিয়ামত দেয়া হয়েছে তাঁদের পথ।” অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন তাঁদের পথকে সরলপথ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ্ পাক কাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন?

انعم الله عليهم من النبين والصديقين والشهداء واصلحين وحسن اولئك رفيقا.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক নিয়ামত দিয়েছেন যাঁরা নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও ছলেহ্ তাঁদেরকে এবং তাঁরাই উত্তম বন্ধু বা সঙ্গী।” (সূরা নিসা/৬৯)

            অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন তাঁরা হচ্ছেন দু’শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। প্রথম শ্রেণী হচ্ছেন নবী বা রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে ছিদ্দীক, শহীদ, ছলেহ্ অর্থাৎ যারা বিলায়েতের হক্বদার অর্থাৎ আউলিয়া-ই-কিরামের অন্তর্ভুক্ত।

            এক কথায় আল্লাহ্ পাক নিজের বলে দিলেন, আমি নবী এবং আউলিয়া-কিরামগণকে যে পথ দিয়েছি সেটাই  সরল পথ এবং সে পথই তোমরা তলব কর। এর খিলাফ পথে চলতেও পারবেনা এবং তলবও করতে পারবে না। তাই আল্লাহ্ পাক সূরা ফাতিহার পরবর্তী আয়াত শরীফে সেটা উল্লেখ করেছেন, তোমরা এ দোয়াও করবে,

 غير المغضوب عليهم ولا الضالين.

অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক আমাদের তাদের পথ দিবেন না, যারা গযবপ্রাপ্ত ও পথহারা, (ইহুদী-নাছারা)।”

(সূরা …….)   কুরআন শরীফ নাযিলের উছূল হচ্ছে,  নুযূল খাছ হুকুম আম। অর্থাৎ আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে কোন উপলক্ষ্য নিয়ে কিন্তু তার হুকুম বলবৎ থাকবে ব্যাপকভাবে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত। অর্থাৎ সূরা ফাতিহাতে যদিও ইহুদী-নাছারাদের পথ থেকে পানাহ্ চাইতে বলা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে ইহুদী-নাছারাদের সাথে সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ, মজূসী, মুশরিক, বেদ্বীন, বদ্ দ্বীন, বিদ্য়াত, বেশরা, গোমরাহ্ ইত্যাদি সকল প্রকার লোকদের পথ থেকে।  এখন প্রশ্ন হচ্ছে যদি সত্যিই আমরা সূরা ফাতিহা মানি, স্বীকার করি এবং নামাযে প্রত্যেক রাক্য়াতে তিলাওয়াত করে দোয়া করি তাহলে আমরা কি করে বিখ্যাত মুশরিক, মুসলিম বিদ্বেষী গান্ধী কর্তৃক উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত হরতাল জায়িয ও জরুরী বলে ফতওয়া দিতে পারি।   প্রকৃতপক্ষে হরতালকে জায়িয ও জরুরী বলে ফতওয়া দেয়া কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।   অতএব, কোন মুসলমানদের জন্য কোন অবস্থাতেই বিধর্মীদের অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয নেই। যারা জায়িয ও জরুরী বলবে তাদের উপর কুফরীর ফতওয়া বর্তাবে। আর যে কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আর মুরতাদের হুকুম হচ্ছে তওবা করার সময় তিনদিন; অন্যথায় শাস্তি মৃতুদন্ড।       {দলীলসমূহঃ (১) আল্ ফিকহুল আক্বার, (২) শরহে আক্বাঈদে নছফি, (৩) আক্বাঈদে হাক্কা, (৪) তাক্মিলুল ঈমান, (৫) তাফসীরে মাযহারী, (৬) রুহুল বয়ান, (৭) রুহুল মায়ানী, (৮) খাযিন, (৯) বাগবী, (১০) ইবনে কাছীর, (১১) তাবারী, (১২) বুখারী, (১৩) আবূ দাউদ, মিশকাত, (১৪) মিরকাত, (১৫) আশয়াতুল লুময়াত, (১৬) লুময়াত,  (১৭) ত্বীবী, (২৩) তালীক্ব, (১৮) মুযাহিরে হক্ব, (১৯)  ফতহুল বারী, (২০) উমদাতুল কারী, (২১) বযলুল মাযহুদ (২২) ইরশাদুস্ সারি, (২৩) মুসনদে আহমদ, (২৪) বাইহাক্বী, (২৫) আউনুল মা’বুদ (২৬) যথাশব্দ- হাবীবুর রহমান, (২৭) বাংলা অভিধান, (২৮) Encyclopeadia Britannica, (২৯) Encyclopeadia Americana. (৩০) world book. (৩১) Lexicon Encyclopedia, (৩২) Macmillan Encyclopedia, (৩৩) New book of knowledge, (৩৪) Grolier Encyclopedia, (৩৫) Funk and Wagnalls Encyclopedia, (৩৬) Wordsworth Encyclopedia ইত্যাদি।}

মুহম্মদ মাহবুবউয্ যামান ঝাউতলা, চট্টগ্রাম

সুওয়ালঃ  হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত অখ্যাত পত্রিকার জানুয়ারী/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যার ৩৫৩৫ নং জিজ্ঞাসার-সমাধানে বলা হয়েছে, “শরীয়তের দৃষ্টিতে যেসব কাজ স্বয়ং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন ও তাবে তাবিঈনে ইযামদের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়, সেসব কাজকে ইবাদত মনে করে করার নামই বিদ্আত। এরূপ বিদ্আত কাজে যারা লিপ্ত তাদেরকে বিদ্আতী বলা হয়। ফরয নামাযের পর গুরুত্ব সহকারে ইবাদত মনে করে সম্মিলিতভাবে হাত উত্তোলন পূর্বক মুনাজাত করা বিদ্আত। কেননা এ পদ্ধতিতে উল্লিখিত মহামনীষীদের যুগে মুনাজাত প্রমাণিত নয়। এপ্রিল/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যার ৩৬২৩ নং জিজ্ঞাসার- সমাধানে বলা হয়েছে, “হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন, তাবে তাবিঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন তাঁদের স্ব-স্ব জীবনে অসংখ্য অগণিত নামায জামাআতের সাথে পড়েছেন কিন্তু কখনও তাঁরা ফরয নামাযান্তে ইমাম মুক্তাদি সম্মিলিতভাবে প্রচিলত নিয়মে মুনাজাত করেছেন- এধরণের একটি দুর্বল সনদের হাদীসও পাওয়া যায় না। তাঁরা যে কাজটিকে শরীয়ত মনে করেননি, সেটি নিশ্চিত নবাবিস্কৃত তথা বিদ্আত। কাজেই এটি সর্বোতভাবে বর্জনীয়।”   মে/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যার ৩৬৭১ নং জিজ্ঞাসার- সমাধানে বলা হয়েছে, “ বিদ্আত বলা হয়, দ্বীনের মধ্যে ইবাদত মনে করে এমন নতুন কোন কিছু সংযোজন করা যা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন, তাবে তাবিঈনের যুগে ছিল না। ……… কিন্তু ইমাম-মুক্তাদী সকলে সম্মিলিতভাবে একান্ত জরুরী মনে করে মুনাজাত করা, যার অস্তিত্ব ইসলামের সোনালী যুগে ছিল না, তা বিদ্আত।”     এবং হাটহাজারীর অখ্যাত প্রত্রিকার জুন/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যাতেও বলা হয়েছে, “পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর সব সময় হাত উঠিয়ে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত …… বিদ্আত।  এখন আমার সুওয়াল হলো- পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা সম্পর্কে হাটহাজারীর অখ্যাত পত্রিকার উক্ত বক্তব্য সমূহ সঠিক হয়েছে কি? আর সত্যিই কি এ সম্পর্কে একটি দুর্বল সনদের একটি হাদীসও পাওয়া যায় না। দলীল সহ সঠিক জাওয়াব জানাবেন। জাওয়াবঃ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর গুরুত্ব সহকারে ইবাদত মনে করে সবসময় সম্মিলিতভাবে প্রচলিত নিয়মে মুনাজাত করা সম্পর্কে উল্লিখিত অখ্যাত পত্রিকার উক্ত বক্তব্য অশুদ্ধ ও কুফরীমূলক হয়েছে। কারণ ফরয নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে প্রচলিত নিয়মে মুনাজাত করা সুন্নত। আর সুন্নতকে বিদ্য়াত বলা কুফরী।

কেননা হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, আখিরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমকে নিয়ে ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করেছেন।

যেমন, হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে,

عن الاسود العامرى عن ابيه قال صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الفجر فلما سلم انصرف ورفع يديه ودعا.

অর্থঃ- “হযরত আসওয়াদ আমিরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা বলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ফজরের নামায পড়লাম, যখন তিনি সালাম ফিরালেন, ঘুরে বসলেন এবং উভয় হাত মুবারক উঠিয়ে মুনাজাত করলেন।” (মুছান্নেফ ইবনে আবী শায়বা)

অতএব, উপরোক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হলো যে, “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে নিয়ে ফরয নামাযের পর হাত উঠিয়ে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করেছেন। কাজেই, ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা সুন্নত।

উল্লেখ্য যে, হাটহাজারীর অখ্যাত পত্রিকার কর্তৃপক্ষ ও তাদের মাদ্রাসা যে সিলসিলার অন্তর্ভুক্ত এবং তারা যে সিলেবাস অনুযায়ী তা’লীম দেয়, উক্ত সিলসিলার কিতাবসমূহেও অনুরূপ বলা হয়েছে।      যেমন “ফতওয়ায়ে দেওবন্দের” ২য় জিঃ ১৯৭নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,

উদূ লেখা ঢুকবে…………………………………

অর্থঃ- “যে সকল ফরয নামাযের পর সুন্নত নামায রয়েছে, সে সকল নামাযের পরে ইমাম ও মুক্তাদীগণ সংক্ষিপ্ত মুনাজাত করে সুন্নত আদায় করবে।”     “ইখতেলাফে উম্মত আওর ছিরাতে মুস্তাকীম” ১২০ পৃষ্ঠা, “ফতওয়ায়ে মাহ্মূদিয়া” ২য় জিঃ ৩৬২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে

উদূ লেখা ঢুকবে…………………………………

অর্থঃ- “শরীয়তের নির্দেশ হলো- যে সকল ইবাদত সম্মিলিতভাবে করা হয়, উহার পর মুনাজাতও সম্মিলিতভাবে করবে।”              “ফতওয়ায়ে রহীমিয়া” ৪র্থ জিঃ২২৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উদূ লেখা ঢুকবে…………………………………

অর্থঃ- “ফরয নামাযের পর ইমাম ও মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার মধ্যে বহু ফযীলত রয়েছে। আর এটার সুন্নত পদ্ধতি হলো- ইমাম ও মুক্তাদী অল্প আওয়াজে মুনাজাত করবে।”

“ফতওয়ায়ে দেওবন্দ” ৪র্থ জিঃ ১৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উদূ লেখা ঢুকবে…………………………………

অর্থঃ- “ইমাম ছাহেব যখন নামায শেষ করবেন, তখন মুক্তাদীগণকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করবেন।”      “ফতওয়ায়ে রহীমিয়া”১ম জিঃ ২১৫-২১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

উদূ লেখা ঢুকবে…………………………………

অর্থঃ- “নামায যেভাবে জামায়াতের (সম্মিলিতভাবে) সাথে আদায় করা হয়, মুনাজাতও তদ্রুপ সম্মিলিতভাবে করা সুন্নত। অর্থাৎ ইমাম ও মুক্তাদী সকলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করবে ……..। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ও সল্ফে ছালেহীনগণের সুন্নত তরীক্বা এটাই ছিল যে, তাঁরা ফরয নামায জামায়াতে আদায় করার পর, সম্মিলিতভাবে (ইমাম ও মুক্তাদী সকলে সম্মিলিতভাবে) মুনাজাত করতেন।”   এছাড়াও শামী, গায়াতুল আওতার, আযীযুল ফতওয়া, ইলমুল ফিক্বাহ, মুনিয়াতুল মুছল্লী, আহ্সানুল ফতওয়া, বেহেস্তী জিওর ইত্যাদি কিতাবসমূহে অনুরূপ বক্তব্য পেশ করা হয়েছে।

অতএব, উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মুনাজাত সম্পর্কে হাট হাজারীর অখ্যাত পত্রিকার উপরোক্ত বক্তব্য দলীলবিহীন, মিথ্যা, অজ্ঞতা প্রসূত ও হাদীস শরীফ বিরোধী যা কুফরী। কেননা আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরয নামাযের পর হাত উঠিয়ে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করেছেন যা বর্তমানে প্রচলিত রয়েছে।

কাজেই ফরয নামাযের পর হাত উঠিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রচলিত নিয়মে মুনাজাত করা সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।        সুতরাং ফরয নামাযের পর হাত উঠিয়ে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যেহেতু সুন্নত সেহেতু এই সুন্নতকে গুরুত্ব সহকারে, জরুরী মনে করে আদায় করতে হবে। শুধু তাই নয় হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ইমামুল মুহাদ্দিসীন, ফখরুল ফুক্বাহা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি ফতওয়া দিয়েছেন যে, সুন্নতগুলো পালন করা ফরয। তিনি দলীল হিসেবে নিম্নোক্ত আয়াত শরীফ পেশ করেন।

যেমন আল্লাহ্ পাক বলেন,

وما اتكم الرسول فخذوه وما نهكم عنه فانتهوا واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থঃ- “রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের যা আদেশ করেন, তা আঁকড়িয়ে ধর। আর যার থেকে বিরত থাকতে বলেন, তার থেকে বিরত থাক। আল্লাহ্ পাককে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কঠিন শাস্তিদাতা।” (সূরা হাশর/্র৭)    আরো উল্লেখ্য যে, ফরয নামাযের পর হাত উঠিয়ে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করাকে ইবাদত মনে করেই করতে হবে। কেননা ফরয নামায যেমন ইবাদত, অনুরূপ মুনাজাত করাও ইবাদত।              যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,

الدعاء مخ العبادة.

অর্থঃ- “মুনাজাত হলো ইবাদতের মূল বা সারবস্তু।” (তিরমিযী, মিশকাত)

            হাদীস শরীফে আরো উল্লেখ আছে,

اشرف العبادة الدعاء.

অর্থঃ- “মুনাজাত হলো সর্বোত্তম ইবাদত।” (বুখারী) অতএব, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর গুরুত্ব সহকারে ইবাদত মনে করে, ইমাম-মুক্তাদী সকলকেই সবসময় সম্মিলিতভাবেই হাত উঠিয়ে মুনাজাত করতে হবে। কারণ এভাবে মুনাজাত করা সুন্নত।

সুতরাং হাটহাজারীর অখ্যাত পত্রিকার বক্তব্য কুফরী মূলক হয়েছে বলেই প্রমাণিত হলো।

তাছাড়া নিম্নোক্ত কিতাবসমূহেও ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করাকে জায়িয ও সুন্নত বলা হয়েছে, যেমন- (১) তিরমিযী শরীফ, (২) মায়ারিফুস্ সুনান, (৩) ইলাউস সুনান, (৪) কিতাবুল আযকার, (৫) সাবাহাতুল ফিক্র, (৬) মায়ারিফে মাদানিয়া (৭) নুযহাতুল মাযালিস, (৮) ফতওয়ায়ে দেওবন্দ (৯) ইমদাদুল ফতওয়া, (১০) ইমদাদুল মুফতীন, (১১) নুরুল ইজাহ্, (১২) মারাক্বিউল ফালাহ্, (১৩) মাজমাউয যাওয়ায়িদ, (১৪) বেহেস্তী জিওর, (১৫) ফতওয়ায়ে রহিমিয়া, (১৬) ফতওয়ায়ে মাহ্মূদীয়া, (১৭) নাফায়িসুল মারগুবাহ্, (১৮) ক্বিফায়াতুল মুফতী, (১৯) ইখতেলাফে উম্মত আওর ছিরাতে মুস্তাক্বীম, (২০) মিনহাজুল উম্মাল ওয়াল আকাঈদুস্ সুন্নীয়া, (২১) আল-মুরীদ ইলাল মুরাদ, (২২)  ছাহিবুল মুন্তাখার, (২৩) ইস্তেহবাবুদ দাওয়াত, (২৪) আক্বিবুছ ছালাওয়াত, (২৫) তোহ্ফাতুল মারগুবা, (২৬) আযীযুল ফতওয়া ইত্যাদি।         [বিঃ দ্রঃ- এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ১৪-২০তম ও ৮২তম সংখ্যা পাঠ করুন, তবেই মুনাজাত সম্পর্কে সকল বিভ্রান্তি দূরীভূত হবে এবং মুনাজাত বিরোধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। ]

মুহম্মদ আব্বাছ আলী বাহুবল, হবিগঞ্জ

সুওয়ালঃ  দাখিল পাস একজন লোক, আমল-আখলাক খুবই ভাল। ইমামতি করার যোগ্যতা আছে। তিনি একটি বেসরকারী দাখিল মাদ্রাসার ‘পিয়ন’ পোষ্টে চাকুরী করেন এবং সরকারী ভাবে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু উক্ত পিয়নের কোন কাজ তিনি নিজে করেননা এবং তিনি একটি জামে মসজিদের ইমাম।

এখন প্রশ্ন হলো- পিয়নের কাজ তিনি করুন বা অন্যকে দিয়ে করান, এ পোষ্টে চাকুরী করা অবস্থায় তিনি জামে মসজিদে ইমামতি করতে পারবেন কিনা? দয়া করে বিস্তারিত জানতে চাই।

জাওয়াবঃ ইমাম হোক, মুক্তাদী হোক প্রত্যেকের জন্যই হালাল কামাই-রোজগার করা ফরয। এ ফরয কামাই-রোজগারের জন্য অবশ্যই কোন না কোন কাজ-কর্ম করতে হবে। কিন্তু সে কাজটি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে বড় বা উচু শ্রেণীর হওয়া অথবা ছোট কিংবা নীচু শ্রেণীর হওয়া শর্ত নয়। বরং শর্ত হলো- কাজটি শরীয়তের দৃষ্টিতে হালাল হওয়া। জেলে, নাপিত, ধোপা, কর্মকার, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি ইত্যাদি যেই হোক তিনি যদি ইমামের যোগ্য হন তবে তাঁর পিছনে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে শরীয়তে কোনরূপ বাধা-নিষেধ নেই। এবং তাঁর পিছনে নামায আদায় করলে নামাযের কোন প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতিও ঘটবেনা।

হাদীস শরীফে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

اوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وان كان عبدا حبشيا.

অর্থঃ- “আমি তোমাদেরকে ওছিয়ত করছি যে, তোমরা আল্লাহ্ পাককে ভয় করবে এবং ইমাম বা খলীফার কথা শুনবে এবং তাঁর অনুগত থাকবে যদিও তিনি হাবসী গোলাম হন।” (এখানে ইমাম বা খলীফা বলতে ঐ ইমাম বা খলীফাকে বুঝানো হয়েছে যিনি পরিপূর্ণরূপে কুরআন-সুন্নাহ্ মুতাবিক নিজে চলেন এবং অন্যকে চলার জন্য আদেশ-নির্দেশ করেন।) (আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্, মিশকাত)

            এ হাদীস শরীফ থেকে প্রমাণিত হয়, দ্বীনদারী বা পরহিযগারীর দিক থেকে বড় ব্যক্তিই সবচে বড় ও সম্মানিত।

আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,

ان اكرمكم عند الله اتقكم.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর নিকট সেই সর্বাধিক সম্মানিত যে সর্বাধিক পরহিযগার।” (সূরা হুজুরাত/১৩)

অতএব, কোন ব্যক্তি হালাল বা শরীয়ত সম্মত যে কাজই করুক তিনি যদি ইমামের যোগ্য হন তবে তাঁর পিছনে সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি ছাড়াই নিঃসন্দেহে নামায আদায় করা জায়িয। তবে ইমামের হালাল কোন কাজে মুক্তাদিগণ যদি শংকাবোধ বা লজ্জাবোধ করেন সেক্ষেত্রে মুক্তাদীগণের দায়িত্ব হবে ইমাম ছাহেবকে কেবল ইমামতির জন্য রেখে তাঁর প্রয়োজন মুতাবিক সম্মানি-ভাতা প্রদান করা, যাতে তাঁকে আর অন্য কিছু করতে না হয়।

 উল্লেখ্য, ফিক্বাহ্র কিতাবে তিন ব্যক্তির পিছনে নামাযের ইক্তিদা করা মাকরূহ্ বলা হয়েছে। (১) গোলাম, (২) জন্মান্ধ ও (৩) অবৈধ সন্তান।         তার কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে, যেহেতু এই তিন ব্যক্তির ইল্ম শিক্ষার সুযোগ হয়ে উঠেনা। কেননা, গোলাম মনীবের অধীনে সর্বদা কাজে মশগুল থাকে, জন্মান্ধ চোখে দেখেনা এবং অবৈধ সন্তানের অভিভাবক নেই। এরপরও যদি এ তিন ব্যক্তি কোন না কোন উছীলায় হক্কানী আলিম হয়ে যায়। অর্থাৎ তার পক্ষে তাহারাত বা পবিত্রতার হুকুম-আহ্কাম এবং নামাযের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইত্যাদির মাসয়ালা-মাসায়িল জানা ও মানা সম্ভব হয় তখন তার পিছনেও নামায আদায় করলে আর মাকরূহ্ হবেনা।     {দলীলসমূহঃ (১) আহমদ, (২) আবূ দাউদ, (৩) তিরমিযী, (৪) ইবনে মাযাহ্, (৫) মিশকাত, (৬) মিরকাত, (৭) আলমগীরী, (৮) ফতহুল ক্বাদীর, (৯) বাহরুর রায়িক, (১০) তাতারখানিয়া, (১১) শামী, (১২) দুররুল মুখতার, (১৩) রদ্দুল মুহতার, (১৪) ক্বাযীখান, (১৫) আইনুল হিদায়া, (১৬) শরহে বিক্বায়া, (১৭) ফতওয়ায়ে আমীনিয়া ইত্যাদি।}

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ: