মতামত
ভন্ড পীরে তরীক্বতের গোমর ফাঁক (২)
মুনাফিক, কাজ্জাবে আ’যম, ছদ্মবেশী মোফ্তে মুবারক-তথাকথিত ভন্ড পীরে তরীক্বতের ছবি তোলা ও বে-পর্দা হওয়া সম্পর্কিত কু-কর্মের মনগড়া সাফাই গেয়ে প্রমাণ করলো, সে জলীলের ভাড়াটিয়া দালাল
পাঠক! গত সংখ্যার আলোচনা থেকে আপনারা নিশ্চয়ই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন যে, “ভন্ড পীর, স্ব-ঘোষিত পীরে তরীক্বত, অদক্ষ জলীল একজন মহা কাজ্জাব তথা মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।” আর সে মিথ্যাবাদী ও প্রতারক বলেই ‘আল বাইয়্যিনাতে’ তার প্রতিটি বক্তব্যের দলীলভিত্তিক ও দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার পরও সে বলেছে, “আল বাইয়্যিনাত নিশ্চুপ কেন?”
পাঠক! গন্ডমূর্খ জলীল “মাসিক আল বাইয়্যিনাতের” আক্বীদা-আমল ও মাসয়ালাগত কোন ভুল ধরতে না পেরে শেষতক শব্দের বানান নিয়ে লাফালাফি শুরু করেছে।
সে আবারো লিখেছে, “আল বাইয়্যিনাতে যেভাবে ‘মুহম্মদ’ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এবং ‘খতামুন্নাবিয়্যীন’ লেখা হয় তা ভুল।”
অথচ তার উক্ত বক্তব্যের জবাব “মাসিক আল বাইয়্যিনাতের” ৮৬তম সংখ্যায় দলীলসহকারে দেয়া হয়েছে। সে উক্ত বক্তব্য খন্ডন না করে সেই পুরোনো বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছে। তাই “মাসিক আল বাইয়্যিনাতের” পাঠকগণের প্রতি অনুরোধ রইলো, “আপনারা ৮৬তম সংখ্যার মতামত বিভাগের প্রথম মতামতটি ভালরূপে পড়ে নিবেন। সেখানে মূর্খ জলীলের “বানান সম্পর্কিত” বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব রয়েছে।”
তবে ‘মুহম্মদ’ শব্দটি নিয়ে আমি এখানে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করতে চাই। আর তাহলো- ভন্ড পীরে তরীক্বত, জলীল তার অবৈধ প্রচার পত্রে লিখেছে, “মুহাম্মদ আর মোহাম্মদ” এদুটি বানান অভিধানে রয়েছে কিন্তু ‘মুহম্মদ’ বানান কোন অভিধানে নেই।”
অদক্ষ জলীল কয়টা অভিধান পড়েছে আর কয়টা অভিধানই বা তার কাছে আছে? ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত অভিধানের বাইরে সে যদি আরো দু’চারটা চটি অভিধানও পড়তো তবে সে এত বড় জিহালত পূর্ণ বক্তব্য প্রদান করতো না। তাই বড় কোন অভিধানের কথা বলছিনা বরং ছোটখাট দুটো অভিধানের কথাই বলছি, “সংসদ অভিধান ও ফরহঙ্গ-ই-রব্বানী” এ দুটি অভিধান খুলে দেখ, “মুহম্মদ” বানান কিভাবে আছে। “হ” এর পরে “া” আছে কিনা।
কাজেই যে ব্যক্তি একটি মাত্র অভিধান পড়ে মনে করে যে, পৃথিবীর আর কোন অভিধানে তা নেই, তার মত জাহিল আর কতজন আছে?
পাঠক! ভন্ড পীর, স্ব-ঘোষিত পীরে তরীক্বত জলীলের জেহালতির এখানেই শেষ নয়। তার জেহালতির ষোলআনাই সে পূর্ণ করেছে তার বে-পর্দা হওয়ার কলঙ্ক মোচন করতে গিয়ে।
আমি “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” ভন্ড পীর জলীলের নিজ হাতে লিখিত কিতাব ‘সফরনামা আজমীর’-এর বরাতে তার বে-পর্দা হওয়ার কিছু নমুনা তুলে ধরেছিলাম। লিখেছিলাম, “সে যদি হক্কানী পীর বা আলেমই হতো তবে বে-পর্দা মহিলা নিয়ে সফর করলো কিভাবে? আর বে-পর্দা মহিলার সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ছবি তুললো কিভাবে।”
পাঠক! আমার উক্ত বক্তব্যের জবাবে সে যা লিখেছে তাতে অদক্ষ জলীলকে “আবূ জাহিল” বললেও কম হয়ে যায়। সে লিখেছে, “উক্ত কাফেলায় যে মহিলা ছিল তার সাথে তার স্বামী ছিল …..।”
অর্থাৎ অদক্ষ জলীলের মতে কোন মহিলার সাথে তার স্বামী থাকলে তার সাথে দেখা করা যায়। (নাউযুবিল্লাহ)
হে আবূ জাহিলের দল! এই মাসয়ালা তোমরা পেলে কোথায়?
তোমাদের গুরু রেযা খাঁ, তৈয়ব শাহ্, তাহের শাহ্-এর কিতাব থেকে, না নিজ লেখা কিতাব থেকে? পাঠক! “উক্ত মহিলার সাথে তার স্বামী ছিল সেজন্যে উক্ত মহিলার সফর করা বৈধ হতে পারে। তাই বলে একজন পীরে তরীক্বতের জন্য উক্ত বে-পর্দা মহিলা নিয়ে ঘুরাঘুরি করা এবং তার চেহারা দর্শন করা বৈধ হতে পারে না।”
অদক্ষ জলীল উক্ত বে-পর্দা মহিলার চেহারা দর্শন করাকে বৈধ করতে গিয়ে যে যুক্তি দেখিয়েছে তা তার সত্যিকার ভন্ডামীকেই প্রকাশ করে দিয়েছে। সে লিখেছে “যদি তার উক্ত বে-পর্দা হওয়াটা অবৈধ হয় তবে তো হজ্বে যাওয়া যাবে না, কারণ, প্লেনে বে-পর্দা মহিলা থাকে, গাড়ীতে, লঞ্চে ইত্যাদিতে চলা যাবে না। কারণ সেখানেও বে-পর্দা মহিলা থাকে। এমনকি রাস্তায়ও বের হওয়া যাবে না। কারণ রাস্তাঘাটে বে-পর্দা মহিলা আছে।”
পাঠক! আপনাদের বিবেকের কাছেই প্রশ্ন করে দেখুন তো, অদক্ষ জলীলের বে-পর্দা হওয়ার ব্যাপার আর হজ্বে যাওয়া, প্লেনে, গাড়ীতে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে বে-পর্দার ব্যাপারটি কি এক বিষয়? উভয়ের হুকুম কি এক?
রমাদ্বান মাসে রোযা রেখে ঘরের ভিতর আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া গ্রহণ করা আর রাস্তাঘাটে গাড়ীর ধোঁয়া নাকের ভিতরে প্রবেশ করার হুকুম কি এক? কস্মিনকালেও নয়। বরং ঘরের ভিতর আগরবাতি জ্বালানোর পর তা নাক, মূখ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ তা ইচ্ছাকৃত। আর রাস্তাঘাটে গাড়ীর ধোঁয়া নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কেননা তা অনিচ্ছাকৃত।
সুতরাং অদক্ষ জলীলের বে-পর্দা হওয়ার বিষয়টি হচ্ছে, “ইচ্ছাকৃত যা কবীরা গুণাহ্র অন্তর্ভূক্ত।” আর প্লেন,লঞ্চ, রাস্তাঘাট ইত্যাদিতে বে-পর্দা হওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত। তবে এক্ষেত্রেও যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বেগানা বে-পর্দা মহিলার দিকে দৃষ্টি দেয় তবে “কবীরা গুণাহ্” হবে। কাজেই অদক্ষ জলীল যতই মনগড়া যুক্তি পেশ করুক না কেন, সে উক্ত বে-পর্দা হওয়ার কলঙ্ক হতে মুক্ত হতে পারবে না।
কারণ তার বে-পর্দা হওয়ার ঘটনা শুধু এই একটিই নয়, তার বে-পর্দা হওয়ার আরেকটি ঘটনা তার গ্রামের বাড়ি আমিয়া পুরেই মশহুর হয়ে আছে। গ্রামবাসীর বর্ণনা, “ভন্ড পীর জলীল বেশ কিছু দিন পূর্বে গ্রামের এক বিধবা মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। উক্ত মহিলার স্বামী ছিল ঢাকার এক মসজিদের ইমাম। উক্ত ইমাম ছাহেব বিদ্যূৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাবার পর অদক্ষ জলীল ছয় সন্তানের জননী, ইমাম ছাহেবের বিধবা স্ত্রীকে বিবাহ্ করার জন্যে উঠে পড়ে লাগে। প্রায়ই সে উক্ত মহিলার সাথে দেখা করতো। এমনকি এক রুমে বসে উক্ত মহিলার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিত।
এ অবস্থা দেখে গ্রামের অনেকেই কুৎসিত মন্তব্য করতো। এলাকাবাসীর বক্তব্য এমনকি জলীলের ভাতিজি বলতো, “শুনেছি চাচা নাকি ঢাকার কত বড় মাওলানা, তাহলে তিনি একজন বিধবা মহিলার সাথে দেখা করেন কিভাবে!” এ অবস্থা চলেছে তাদের অনেক দিন। শেষ পর্যন্ত উক্ত ভদ্র মহিলার বড় ছেলে ব্যাপারটি জানতে পারে এবং অদক্ষ জলীলের হাত, পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়। ফলে সে প্রাণ ভয়ে সেখান থেকে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়।” এটা গ্রামবাসীর বক্তব্য। যা রেকর্ড করা রয়েছে।
পাঠক! তার বে-পর্দা হওয়ার ইতিহাস এখানেই শেষ নয়। এই তো কিছুদিন পূর্বে অদক্ষ জলীল তার গ্রামের বাড়ীর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহ্ফিলে বে-পর্দা বালেগা মেয়ে দিয়ে নাতে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করায় এবং উপস্থিত মেহমানদের গলায় উক্ত যুবতী মেয়েদের দিয়ে মাল্য দান করায়। এলাকার অসংখ্য লোক এমনকি তার মাদ্রাসার ছাত্র ও তার ছাত্র জীবনের সিনিয়র ভাই জনৈক বৃদ্ধ মাওলানা ছাহেবও এ ঘটনার স্বাক্ষী। এরপরও কি অদক্ষ জলীল বলবে, সে বে-পর্দা হয় না। (চলবে)
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
জুমুয়ার ছানী আযান সম্পর্কিত রেযাখানী মুখপত্র নভেম্বর’২০০০ সংখ্যার খোলা চিঠির জবাব
অপরের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়
প্রসঙ্গঃ ছানী আযান
(তৃতীয় অংশ)
ওহে সন্ত্রাসী, বোমাবাজ, ফিৎনাবাজ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র! মনে হচ্ছে তুমি খুব পেরেশানীর মধ্যে আছ, থাকারই তো কথা, কারণ যে বোমা তুমি ফাটাতে চেয়েছিলে আল বাইয়্যিনাতের উপর সে বোমা বিষ্ফোরিত হলো, তোমার নিজেরই উপর। কথায় বলে, “অপরের জন্য গর্ত খুঁড়লে সে গর্তে নিজেই পড়ে।” তোমার অবস্থাও ঠিক তাই হয়েছে। তুমি চেয়েছিলে “ওমদাতুর রেয়ায়া” কিতাবখানা ইমামুল হুদা হযরত আব্দুল হাই দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামে চালিয়ে দিয়ে “আল বাইয়্যিনাতকে” বেকায়দায় ফেলতে। কিন্তু না, বরং তুমি নিজেই বেকায়দায় পড়ে গেলে। সাথে সাথে তুমি প্রমাণ করে দিলে, তুমি শুধু সন্ত্রাসী বোমাবাজ, ফিৎনাবাজ ও ধোকাবাজই নও বরং তুমি একজন নিরেট মূর্খও বটে।
পাঠক! রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের জিহালতী বা মূর্খতার কিছু নিদর্শন ইতোপূর্বে তুলে ধরা হয়েছিল। আমি “খোলা চিঠির” ধারাবাহিক জবাবে যাওয়ার পূর্বে প্রসঙ্গক্রমে রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র জানুয়ারী/২০০০ঈঃ সংখ্যার আরেকটি মূর্খতাসূচক বক্তব্যের পর্যালোচনা করবো।
রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের একটি সংখ্যায় তারা লিখেছে, “রেযা খাঁর মতে ছানী আযান মসজিদের দরজায় দেয়া সুন্নত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।” অর্থাৎ রেযা খাঁ এটাই বুঝাতে চেয়েছে যে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগেও দুটি আযান ছিল। তন্মধ্যে দ্বিতীয় আযানটি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে মসজিদের দরজায় দেয়া হতো।
পক্ষান্তরে আল বাইয়্যিনাত-এর বক্তব্য হলো, “রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে বর্তমানের ন্যায় দু’টো আযান ছিলনা। বরং একটি মাত্র আযান ছিল। যা মসজিদের দরজায় দেয়া হতো। তখন ছানী নামে বা ছানী বলতে কোন আযানই ছিলনা। ছানীর প্রশ্ন তো তখনই আসবে যখন আযান দুই বা ততোধিক হবে। যেখানে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে আযানই ছিল একটি সেখানে ছানীর প্রশ্ন আসে কি করে? কাজেই রেযাখার উক্ত বক্তব্য রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সুস্পষ্ট মিথ্যারোপ নয় কি? আর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যারোপ করা যে কুফরী তাতেও কি সন্দেহ আছে?”
পাঠক! ফিৎনাবাজ, মুর্খ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র, তার গুরু রেযা খাঁকে কুফরীর ফান্দ থেকে মুক্ত করার জন্য বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহের কিতাব “বাহরুর রায়েকের” একখানা ইবারতের কি নির্লজ্জ ও মনগড়া অনুবাদ করেছে একটু ভাল করে তা লক্ষ্য করুন। “বাহরুর রায়েক” কিতাবের ইবারতটি হচ্ছে-
الاذان الثانى الذى يكون بين يدى المنبمر لانه لم يكن فى زمانه عليه السلام الاهو-
তরজুমান উক্ত ইবারতের অর্থ করেছে এভাবে- “ছানী আযান যা মিম্বরের সম্মুখে বা সন্নিকটে দেয়া হয় কেননা “নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছানী আযান ব্যতীত কোন আযানই ছিলনা।”
উক্ত ইবারতের সঠিক অর্থ তুলে ধরার পূর্বে রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের মূর্খতা সূচক ও স্ববিরোধী অনুবাদের কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা যাক।
“নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছানী আযান ব্যতীত অন্য কোন আযানই ছিলনা।” তাদের করা এ অর্থটি জিহালতপূর্ণ, মূর্খতা সূচক, কেননা যদি অন্য কোন আযানই না থাকে তবে তা ছানী হয় কি করে? “ছানী” হতে হলে তো “আউয়াল” লাগবে। আর অন্য কোন আযান ছিলনা একথার অর্থ কি এই নয় যে, একটি মাত্র আযান ছিল। আর যদি একটি হয়ে থাকে তবে তা ছানী হয় কি করে? তাহলে কি এটাই প্রমাণিত হয়না যে, নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যূগে ছানী আযান বলতে কোন আযান ছিলনা। কেননা ছানী বললে অন্য আরো আযানের অস্বিত্ব মেনে নেয়া অত্যাবশ্যক। অথচ তারা একদিকে বলছে “নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে অন্য কোন আযান ছিলনা। আবার আরেক দিকে বলছে ছানী আযান ছিল।
পাঠক! তারা প্রথমতঃ চরম পর্যায়ের মূর্খ যার ফলে “বাহরুর রায়েকের” সহজ সরল ইবারতের অর্থ করতে ভুল করেছে। দ্বিতীয়তঃ তারা চরম প্রতারক, যার ফলে সাধারণ মুসলমানদের ধোকা দিয়ে রেযা খাঁকে কুফরীর ফান্দ থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে উক্ত ইবারতের নিজ মনমত অর্থ করেছে। আর না করেই বা উপায় কি? তার গুরু রেযা খাঁ যে বলে ফেলেছে, “রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছানী আযান ছিল।” তাই মানুষ মূর্খ, প্রতারক ইত্যাদি যাই বলুক না কেন তাদেরকে “বাহরুর রায়েক” কিতাবের ইবারতের অর্থকে রেযা খাঁর বক্তব্যের সাথে মিলাতেই হবে। রেযা খাঁকে কুফরী থেকে মুক্ত করতেই হবে। আর “ওমদাতুর রেয়ায়া” নামক কিতাবের লেখক সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খলীফা ইমামুল হুদা আব্দুল হাই দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি না হলেও তাকেই উক্ত কিতাবের লেখক বানিয়ে কাফির প্রমাণ করতেই হবে।
তারা অভিযোগ করেছে, আল বাইয়্যিনাত স্বার্থ হাছিল করার উদ্দ্যেশে “বাহরুর রায়েকের” উক্ত ইবারত হতে الاهو (ইল্লাহুয়া) শব্দ কাট-ছাট করেছে।”
পাঠক! ইবারত থেকে কোন শব্দ বাদ দেয়াকে তখনই কাট-ছাট বলা যেতে পারে, যখন উক্ত শব্দ বাদ দেয়ার কারণে মূল ইবারতের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় বা বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। যেমন রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের একটি সংখ্যায় দুই সিজদার মাঝখানে দোয়া পড়া সংক্রান্ত বিষয়ে “রদ্দুল মুহতারের” এক খানা ইবারত কাট-ছাট করা হয়েছে, যার ফলে তার অর্থে পরিবর্তন ঘটেছে। “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের মূল ইবারত ছিল নিম্নরূপ- ايقول الرجل ….. اللهم اغفرلى؟
অথচ তারা ইবারত কাট-ছাট করে বানিয়েছে,
يقول الرجل ….. اللهم اغفرلى- الخ.
أيقول শব্দের (أ) হামজাকে বাদ দিয়েছে, আর ইবারতের শেষে (?) প্রশ্নবোধক চিহু বাদ দিয়ে (الخ) লিখেছে। যার অর্থ হলো “ শেষ পর্যন্ত।” যার ফলে অর্থেরও বিরাট পরিবর্তন ঘটেছে। যেমন মূল ইবারতের অর্থ হচ্ছে, “মুছল্লী (দুই সিজদার মাঝ খানে) “আল্লাহুম্মাগফিরলী” দোয়াটি পড়তে পারবে কি? জবাবে বলা হয়েছে পড়া যাবে। অর্থাৎ শুধু মাত্র “আল্লাহুম্মাগফিরলী” পড়া যাবে।”
আর তাদের কাট-ছাটকৃত ইবারতের অর্থ দাঁড়ায়। “মুছল্লী (দুই সিজদার মাঝ খানে) আল্লাহুম্মাগফিরলী সহ হাদীসে বর্ণিত সম্পূর্ণ দোয়াটা) পড়তে পারবে। ”
মূলতঃ এটাকেই বলে ইবারত কাট-ছাট। ইবারত থেকে কোন শব্দ উল্লেখ না করার পরও মূল ইবারতের অর্থে কোন পরিবর্তন না ঘটলে তাকে কাট-ছাট বলা মূর্খতা বৈ কিছুই নয়। কেননা যদি ইবারত থেকে কোন শব্দ বাদ দিলেই তা কাট-ছাট হয়ে যায়, তবে তো রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রও উক্ত ইবারতে কাট-ছাট করেছে। কারণ উক্ত ইবারতের প্রথমে وقيل العبرة বাক্য রয়েছে, আর শেষে রয়েছে وهو ضعيف বাক্য। অথচ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র তা বাদ দিয়েছে।
পাঠক! আল বাইয়্যিনাতে “বাহরুর রায়েকের” উক্ত ইবারতের الاهو শব্দ ছাড়া যে অর্থ করা হয়েছে, الاهو শব্দসহ অর্থ করলে সেই একই অর্থ হয়। যেমন (ইল্লাহুয়া) ছাড়া ইবারতের অর্থ হলো “নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছানী আযান ছিলনা।”অর্থাৎ এই একটি আযানই ছিল।
আর (ইল্লাহুয়াসহ) অর্থ হলো “নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে দ্বিতীয় কোন আযান ছিলনা, এই একটি মাত্র আযান ব্যতীত।”
অর্থাৎ “বাহরুর রায়েকের” লেখক উক্ত ইবারতের দ্বারা এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমানে যেই আযানটিকে ছানী আযান বলা হচ্ছে এই একটি মাত্র আযানই নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছিল।
আর ঠিক এধরণের কথাই লিখেছেন ইমামুল হুজ্জাহ হাফেজ মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব “শরহুন্ নেকায়া” ১ম খন্ড ২৯৭ পৃষ্ঠায়, যেমন তিনি লিখেন,
(واذ اجلس الامام على المنبر اذن ثانيا بين يديه) اى المنبر ولم يكن فى عهد رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم الاهذا الاذان.
অর্থঃ- “(ইমাম যখন মিম্বরে বসবে তখন মিম্বরের সামনে দ্বিতীয় আযান দিবে।) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে এই একটি মাত্র আযান ব্যতীত কোন আযান ছিলনা।”
কাজেই রসূল ছল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম-এর যুগে যেহেতু একটি মাত্র আযান ছিল, তাই সে সময়ে ছানী আযান থাকার প্রশ্নই উঠেনা। অথচ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র উক্ত ইবারতের অর্থ করলো “নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছানী আযান ব্যতীত কোন আযানই ছিলনা।” অর্থাৎ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছানী আযান ছিল। তাদের এ অর্থ ভুল ও অশুদ্ধ।
পাঠক! রেযা খানীদের মতে ইবারতের সঠিক অর্থ করার পরও যদি তা মাথা কাটা হয়ে থাকে। তবে ইবারতের মনগড়া ভুল অর্থ করলে তা কি হিসেবে গন্য হবে? মূলতঃ রেযা খানীরা সম্পূর্ণ ইবারতটাকেই গুম করে ফেলেছে। কেননা তারা যে অর্থ করেছে তাতে করে “বাহরুর রায়েকের” উক্ত ইবারতকে বাদ দিয়ে, তাদের উচিৎ ছিল সেখানে এমন ইবারত লিখে দেয়া যে ইবারত তাদের দেয়া অর্থের সাথে মিলে যায়। যেমনটি তারা করেছে উল্লিখিত “রদ্দুল মুহতারের” ইবারতের ক্ষেত্রে। আর তখনই শুধু তাদের গুরু রেযা খাঁর দাবি বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। আর তখনই সত্যে পরিণত হবে আল বাইয়্যিনাতের প্রতি ইবারতের মাথা কাটার মিথ্যা অভিযোগ।
কাজেই রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র যদি “রদ্দুল মুহতারের” ইবারতের ন্যায় “বাহরুর রায়েকের” উক্ত ইবারতকে তাদের করা অর্থের সাথে মিলে এরূপ করে রচনা করে দিত তবে তো আর তাদেরকে গর্তে পড়তে হতোনা। বাছা রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র “গর্ত যখন খুড়েছে তখন গর্তে তো পড়তেই হবে। তাই তো বলে, “অপরের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়।”
পাঠক! আমি দুঃখিত যে, এসংখ্যায় “খোলাচিঠির” ধারাবাহিক জবাবে আসতে পারলাম না। কারণ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র জানুয়ারী/২০০০ঈঃ সংখ্যার একখানা মূর্খতাসূচক বক্তব্যের জবাবেই খোলা চিঠির জবাবের নির্ধারিত পাতা পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে যে বিষয়টি প্রসঙ্গ ক্রমে আলোচিত হয়েছে, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ এ পর্যন্তই আল্লাহ্ হাফিজ। (হে সন্ত্রাসী অপেক্ষায় থেকো)
-মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, চিলমারী, কুড়িগ্রাম।
সুন্নীয়তের অন্তরালে প্রকৃত ওহাবী পত্রিকা রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র অক্টোবর/২০০০ ঈঃ সংখ্যায়
বিদ্য়াতী, জাহেল মৌলভী বদিউল আলম রেযভীর লেখার যুক্তি খন্ডনে (৪)
বড় আশ্চর্যের বিষয়! ইংরেজদের সাথে যদি তাঁর এতই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতো তবে বৃটিশ রাজশক্তি কেন তার মুজাহিদ বাহিনীর উপর অত্যাচারের ষ্টীম রোলার চালালো? আর কেনইবা ইংরেজ লিখক হান্টার তার জাতির দূর্বলতা স্বীকার করলো? মূলতঃ এর মধ্যে ইতিহাসের এক অবমাননাকর পৈশাচিক, ঘৃন্য ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। আর এর ইন্ধনকারীরা হচ্ছে আহমদ রেযা খাঁ ও তার অনুসারীরা।
অতঃপর এই দাগাবাজ লিখক আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে মন্তব্য করেছে, “টংকুর নবাব আমীর খানের বাহিনীতে থাকাকালীন অবস্থায় সৈয়দ ছাহেবের সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক ছিল।”
এর জবাবে আল্লামা গোলাম রসূল মিহির তাঁর “হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ” গ্রন্থের ৭৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন, “নবাব ছাহেব ইংরেজদের সাথে সন্ধি করলে সৈয়দ ছাহেব নবাব ছাহেবের নিকট হতে পৃথক হয়ে যান।”
উক্ত গ্রন্থের ৮৩ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, “আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি নবাবকে উল্লেখ করে বলেন, “আপনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করুন। আল্লাহ্ পাক আপনার সহায় হবেন। জয় করলে গাজী, মরলে শহীদ। কোন মতেই ইংরেজদের সাথে সন্ধি করা ঠিক হবে না।”
এ ব্যাপারে “সার গুজাসতে মুজাহিদীন” কিতাবের গ্রন্থকার আরো লিখেন, “নবাব (আমীর খান) যতক্ষণ ইংরেজদের প্রভাব থেকে আজাদ ছিলেন সৈয়দ ছাহেব ততক্ষণ তার সাহচর্য ত্যাগ করেননি। ইংরেজদের সাথে যখন শান্তি আলোচনা শুরু হলো, তখন নবাবের সাথী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে একমাত্র সৈয়দ ছাহেবই তার বিরোধী মত পোষণ করতেন। তিনি বার বার বলতেন, ‘আল্লাহ্ পাক-এর সাহায্যের উপর ভরসা করা এবং ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করাই একমাত্র কর্তব্য।”
আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী তার “সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ” গ্রন্থের ১ম খন্ডের ১১৭ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে আরো বলেন, “ইংরেজদের সাথে সন্ধি করার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছিলো। আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ ব্যাপারে কোন অবস্থাতেই মত দিচ্ছিলেন না। বরং তাঁর মত ছিল, ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য। ইংরেজদের সাথে সন্ধি করাটা তিনি কোন মতেই ভাল মনে করলেননা। তিনি নবাবকে বললেন, সন্ধি করার পর আপনি কিছুই করতে পারবেন না। কিন্তু নবাব ছাহেব, সন্ধি করাটাই পছন্দ করলেন। নবাব ছাহেব সন্ধির ব্যাপারে সব কিছূ তৈরী করলেন। তখন হযরত আমিরুল মু’মিনীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আচ্ছা, আপনি যখন ইংরেজদের সাথে মিলে গেলেন তখন আমি পৃথক হয়ে যাচ্ছি। নবাব ছাহেবকে অনেক বুঝালেন। কিন্তু তিনি মানলেন না। কিছু সঙ্গী সাথী নিয়ে জয়পুর চলে গেলেন।”
এ সম্পর্কে নওয়াব ওয়াজীর উদ্ দৌল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “ওকায়ে আহম্মদী” গ্রন্থের ৮২ পৃষ্ঠায় বলেন,
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
অর্থঃ- “দ্বিতীয়বার মোলাকাতের সময় আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি নবাব আমীর খানকে বলেন, নবাব ছাহেব! এখনো কিছু হয়নি, আপনার মর্জির উপর সব নির্ভর করছে।
যদি আমার কথা শুনেন তবে বলি, ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করুন। পরে কিছুই করতে পারবেন না। এই কাফিরের বংশ বড়ই দাগাবাজ ও মকরবাজ। আপনাকে কোথাও টাকা-পয়সা হাদিয়া দিয়ে বা জায়গীর প্রদান করে বসিয়ে দিবে পরে এ কথা হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। এ কথা বলার পর তিনি চলে গেলেন। সন্ধির পর একদা তিনি আবার সৈন্যবাহিনীতে এলেন। কারো সাথে কোন লেন-দেন ছিল। লেন-দেন হবার পর তিনি নবাব আমীর খানের সাথে সাক্ষাত করলেন। নবাব বললেন, যা কিছু তকদীরে লিপিবদ্ধ ছিল তাই হয়েছে। আপনি যদি দিল্লী যেতে চান তবে (আমার) ছাহেবজাদা মুহম্মদ ওয়াজীর খাঁর সাথে যান। তিনি এতে রাজী হলেন এবং কিছু দিন পর হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি-এর নিকট চিঠি লিখলেন …. এই খাকসার কদমবুছীর জন্য আপনার দরবারে (অতি শীঘ্রই) আপনার দরবারে উপস্থিত হচ্ছে। এখানকার সৈন্য বাহিনী ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। নবাব ছাহেব ফিরিঙ্গিদের সাথে মিলে গিয়েছেন। এখন আর এখানে থাকার কোন প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।”
আব্দুল মওদুদ তার “ওহাবী আন্দোলন” গ্রন্থের ১৩৬ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে আরো লিখেন, “কিন্তু নবাব ছাহেব যখন মধুপুর আক্রমনের সুবিধার্থে ইংরেজদের সাহায্য গ্রহণে লালায়িত হলেন তখন সৈয়দ আহমদ-এরও টংকে থাকা দুস্কর হয়ে উঠলো। তিনি বার বার নবাব ছাহেবকে বোঝাতে চাইলেন যে, একবার ইংরেজদের অর্থগ্রহণ করলে তার পক্ষে আর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা অসম্ভব হবে। কিন্তু তিনি দেখলেন যে, ইংরেজদের বিপুল অর্থের প্রলোভন ত্যাগ করা নবাবের পক্ষে সু-কঠিন। সুতরাং তিনি দিল্লী ফিরে গেলেন।”
আল্লামা গোলাম রসূল মিহির তার “সৈয়দ আহমদ শহীদ” গ্রন্থের ৮৪ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে তার মুর্শিদে বরহকের নিকট তাঁর একটি পত্রের ভাষ্য তুলে ধরেন এভাবে- “আমি অতি শীঘ্রই হযরতের খিদমতে উপস্থিত হচ্ছি। এখানকার সৈন্যবাহিনী (নবাবখানের বাহিনী) ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। নবাব ছাহেব ফিরিঙ্গীদের সাথে মিলে গিয়েছেন। এখানে থাকার আর কোন প্রয়োজন নেই।”
অতএব, বিস্তৃত এবং নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল যে, আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বেরেলী, রেযভী ফিরকার লোকেরা যে তথ্য পরিবেশন করতে চায় তা মিথ্যা, বানোয়াট, অনির্ভরযোগ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। য
-মাওলানা, মুফতী, মুহম্মদ নূরুল আমীন, ঢাকা।
রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র নভেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সন অনুয়ায়ী
মিথ্যাবাদী মৌলভী ইউসুফ জিলানীর লিখার প্রতিবাদে
(ধারাবাহিক)
এরপর এই মিথ্যুক রেযভী মৌলভী রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র ডিসেম্বর সংখ্যায় লিখেছে, “সৈয়দ আহমদের পীর কে? সৈয়দ আহমদের পীর কে? এ নিয়ে তার অনুসারীদের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ রয়েছে। কেউ বলেছে তার পীর হযরত আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং তিনি তাকে খেলাফত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেন- তিনি শাহ্ সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেননি বরং তিনি মুরিদ হয়েছেন শাহ্ আব্দুল কাদির থেকে। এ বর্ণনা থেকে বুঝা যায় সৈয়দ আহমদের মুরীদেরা আসলেই জানে না যে, তিনি কার মুরীদ। তবে সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, তিনি শাহ্ আব্দুল কাদির থেকে লেখা-পড়া শিখেছেন।”
এর জবাবে এতটুকু বলা সমীচিন যে, ভারতীয় উপমহাদেশের সহজ সরল সাধারণ মানুষগুলো আজ দুই সম্প্রদায়ের ফিরক্বাবন্দীর বাড়াবাড়ির কারণে ঈমান-আক্বীদা নিয়ে সন্দীহান ও উদ্বিগ্ন অবস্থার মধ্যে দিন গুজরান করছে। এদের মধ্যে এক সম্প্রদায় হচ্ছে, ইদানীং কালের দেওবন্দী মৌলভীগণ। এরা সত্যিকার অর্থে তাওহীদবাদ বলতে যা বুঝাতে চায় তা ভারতীয় যোগী, সন্নাসীদের ভেলকীবাজী, ইস্তিদরাজের চেয়েও নিম্নস্তরের। অর্থাৎ এদের তাওহীদ, দর্শন, চিন্তাশক্তি ভারতীয় যোগীদের স্তর অতিক্রম করতে পারে না। আর বেরেলীদের আক্বীদা বণী ইস্রাঈলীয় ইহুদী ও নাছারাদের সদৃশ। কেননা, এরাও রেসালত নিয়ে এতটা হাঁক, ডাক ও বাড়াবাড়ি করছে যে, শেষ পর্যন্ত এদের অবস্থা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে পবিত্র কুরআনে কারীমায় বর্ণিত, ইহুদী-নাছারাদের ঘটনার মত। অর্থাৎ ইহুদী-নাছারারা যেমন, তাদের নবী-রসূলদের শান মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বলে ফেলেছে, উজাইর ইবনুল্লাহ্ ও ঈসা বা মাসীহ্ ইবনুল্লাহ্। বেরেলী রেযভীদের অবস্থা অনেকটা তথৈবচ।
কেননা, এই বাতিল সম্প্রদায়ও বণী ইস্রাঈলীদের মত তাওহীদ ও রেসালতকে একত্রিতভাবে দেখতে ইচ্ছুক। অথচ আমাদের জমহুর উলামা, ফুযালা, মাশায়েখ ও সূফীয়ায়ে কিরাম গণ এ দুটি সত্বাকে পৃথক পৃথকভাবে দেখেছেন। যদিও একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে কল্পনা করার অবকাশ নেই।
মুহতারাম পাঠক সমাজ! এই ভারতীয় উপমহাদেশে যতগুলো মশহুর তরীক্বতের সিলসিীলা জারী আছে তাদের প্রত্যেকটি সিলসিলার মূল হচ্ছে, হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও তাঁর প্রধান খলীফা আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অথচ এই বেরেলী রেযভীরা বলতে যাচ্ছে, হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি আলাইহি-এর সাথে তাঁর কোন সম্পর্কই নেই। এমনকি শাহ্ ছাহেব রহমতুল্লাহি-এর নিকট বাইয়াত হওয়া ও খিলাফত হাসিল হওয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছে। তাই আমি এ উপমহাদেশের মশহুর আলিম মাশায়েখদের লিখিত কিতাবাদী, শাজরা শরীফ থেকে তাঁদের কিতাব ও শাজরা শরীফের নাম তুলে দিলাম। এই সমস্ত কিতাবগুলোতে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রধান খলীফা, খাছ মুরীদ, জামানার মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে আযম হিসেবে দেখানো হয়েছে। বেরেলী, রেযভীদের সন্দেহ নিরসন ও প্রকৃত সত্য জানার জন্য আমরা তাদের উক্ত কিতাবগুলো দেখার অনুরোধ করছি।
১. ক্বাদেরীয়া ত্বরীকার ওযীফা- শায়খুল মাশায়েখ, শামসুল আরিফীন, হযরত মাওলানা ওয়াজিহুল্লাহ্ নানুপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (ইনি ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সম্মানিত পীর ছাহেব) ২. জিয়াউল কুলুব- হযরত হাজী এমদাদুল্লাহ্ মুহাজেরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩. জা’দুত তাক্বওয়া- হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৪. চার তরীক্বার শাজরা নামা- হযরত মাওলানা রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৫. চার তরীক্বার ওযীফা- হযরত মাওলানা নেছার উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৬. আরওয়ায়ে সালাছা- হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী ছাহেব। ৭. তারীখে মাশায়েখে চিশ্ত- হযরত মাওলানা জাকারীয়া কান্দলভী ছাহেব। ৮. নকশে হায়াত- হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী ছাহেব। ৯. সাওয়ানে আহম্মদী- আল্লামা জাফর থানেশ্বরী ছাহেব। ১০. সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ- সাইয়্যিদ আবুল হাসান নদভী। ১১. আরগুমানে আহবাব- হযরত মাওলানা হাকীম আব্দুল হাই। ১২. শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ আওর উনকি সিয়াসাত- হযরত মাওলানা উবাইদুল্লাহ্ সিন্ধি। ১৩. নজহাতুল খাওয়াতির- ১৪. মাখজানে আহম্মদী- সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলী। ১৫. হায়াতে তাইয়্যিবা- মীর্জা খায়রাত দেহলভী। ১৬. যব ঈমানকি বাহার আই- সাইয়্যিদ আবুল হাসান নদভী। ১৭. মাওজে কাওছার- শায়খ মুহম্মদ একরাম। ১৮. ওলামায়ে হিন্দকা শানধারমাজী- ১৯. ওকায়ে আহম্মদী- হযরত মাওলানা ওয়াজির উদ্ দৌলা। ২০. মনজুরাতুস্ সাদাত ফি আহলুল গাযা ওয়াশ্ শুহাদা- সাইয়্যিদ জাফর আলী নকভী। ২১. রাসায়েলে খোলাফা- হযরত মাওলানা বেলায়েত আলী আজীমাবাদী। ২২. আহলে সাদিকপুর- হযরত মাওলানা আব্দুর রহিম সাদিকপুরী। ২৩. সিয়ানাতুন্স- হযরত মাওলানা হায়দার আলী রামপুরী। ২৪. তিকসার জুয়ুদিল আহরার- হযরত মাওলানা নবাব ছিদ্দিক হাছান। ২৫. আল ফুয়ুজুল ওয়াকেয়া মিন সিলসীলাতি ফুরাফুরা- শায়খুল মাশায়েখ হযরত মাওলানা বেশারতুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৬. ফুরফুরা শরীফের ইতিবৃত্ত- হযরত মাওলানা মুবারক আলী রহমানী। ২৭. তারীখে দাওয়াত ও আযীমাত- হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান নদভী। ২৮. সীরাতে মুস্তাকিম- হযরত মাওলানা ঈসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৯. তাছাউফ শিক্ষা- হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ্ মারুফ ছিদ্দীকি। ৩০. ওয়াসিলে ওয়াজির- হযরত মাওলানা ওয়াজির উদ্ দৌলা। ৩১. তা’লীমে শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বত- মুহম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। ৩২. গন্জে আছরার- হযরত মাওলানা মুকিম উদ্দিন। ৩৩. তালীমে তাছাউফ- হযরত মাওলানা সৈয়দ আশরাফ হোসেন। ৩৪. তোহ্ফায়ে হামিদীয়া- হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ। ৩৫. পাক ভারত বাংলাদেশে তরীক্বতে সর্বোত্তম সিলসীলা- হযরত মাওলানা আজিজুর রহমান নেছারাবাদী। ৩৬. তরীক্বায়ে ফয়েজে রব্বানীয়া- হযরত মাওলানা আবূ সাদেক মুহম্মদ ফজলুল হক। ৩৭. চার তরীক্বার শাজরা- হযরত মাওলানা সূফী মুহম্মদ আলীমুদ্দিন। ৩৮. এহ্কাকুল হক্ব- হযরত মাওলানা রহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩৯. আজাদী আন্দোলনে আলিম সমাজ- হযরত মাওলানা জুলফিকার আলী কিছমতি। ৪০. তাযকেরাতুর রশীদ- ৪১. তাহরিকে বালোকোট- ৪২. কারবালা থেকে বালাকোট- ৪৩. সাওয়ানে আহম্মদী- হযরত মাওলানা গোলাম রসূল মেহের। ৪৪. মশহুর আউলিয়া আওর সূফীয়ায়ে কিরাম- মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ৪৫. তালীমে তরীক্বত- হযরত মাওলানা মুঈনুদ্দীন ছাহেব। ৪৬. চিশ্তীয়া তরীক্বার শাজরা- মুহম্মদ জহরুল ইসলাম। ৪৭. ছুবুলুল আছরার- হযরত মাওলানা আবুল হাশেম। ৪৮. তালীমে তরীক্বত ও বাতেনী শিক্ষা- পীরজাদা মুহম্মদ সাইফুদ্দীন ছিদ্দীকি ও বাকীবিল্লাহ্ ছিদ্দীকি। ৪৯. হেদায়েতুল সালেক্বীন- হযরত মাওলানা ফতেহ্ আলী। ৫০. শরীয়ত, তরীক্বত, হাক্বীক্বত ও মারেফতে সম্বনয়ে ইসলাম- হযরত মাওলানা মুহম্মদ আকবর আলী। ৫১. তাযকেরাতুল আউলিয়া (৫ম খন্ড)- হযরত মাওলানা নুরুর রহমান। ৫২. সংক্ষিপ্ত ওযীফা- মুহম্মদ মাহফুজুল হক। ৫৩. নাসায়েহ্- হযরত মাওলানা সাখওয়াত আলী মক্কী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৫৪. মোকাশেফাতে রহমত- হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৫৫. বাংলাদেশের মুসলমানদের ইতিহাস- আব্বাস আলী খান। ৫৬. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস- ডঃ এ এম রহীম। ৫৭. আসবাবে বাগাওয়াতে হিন্দ- স্যার সৈয়দ আহমদ খান। ৫৮. ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস- কে আলী। ৫৯. ইসলামী বিশ্ব কোষ- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। ৬০. চেপে রাখা ইতিহাস- গোলাম মুরতাজা।
-মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম (মুনির), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিরোধীতায়
আহমদ রেযা খাঁ
বৃটিশ শাসিত ভারতবর্ষে ইংরেজ, শিখ ও হিন্দু এই তিন উগ্র সম্প্রদায় যখন সংখ্যালঘু মুসলমানদের জান-মাল ও ইজ্জতের উপর হামলা চালালো, যখন ইংরেজরা লক্ষ লক্ষ মুসলমানদেরকে অন্যায়ভাবে শহীদ করতে লাগলো, যখন তারা হাজার হাজার বিপ্লবী আলিমদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে পৈশাচিকতার উল্লাসে মেতে উঠলো, যখন শিখরা মুসলমানদের বস্তির পর বস্তি লুট করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মুসলমান কুমারী মেয়েদের ইজ্জত-সম্ভ্রম নষ্ট করছিল, যখন মসজিদগুলোকে শিখরা ঘোড়ার আস্তাবলে পরিণত করলো তখন দিল্লীর আজাদী আন্দোলনের মহাপুরুষ হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রকাশ্য ময়দানে ভারত বর্ষকে দারুল হরব বা শত্রু কবলিতদেশ বলে ফতওয়া দিয়ে তাদের বিরূদ্ধে জিহাদ করা ফরয বলে ঘোষণা দিলেন। এবং তাঁর ছাত্র, ভক্ত ও অনুসারীদেরকে নিয়ে তিনি এমন এক শক্তিশালী সু-সজ্জিত মুজাহিদ বাহিনী তৈরী করেন যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পরবর্তীতে তাঁরই সুযোগ্য একমাত্র জাহেরী, বাতেনী কামালতে পরিপূর্ণ খলীফা আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। কিন্তু হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর চিন্তা, চেতনাকেও তার জামানায় কতিপয় হিংসুক আলিম সমাজ, ক্ষমতাবান দুনিয়ালোভী শাসকরা সহ্য করতে পারতো না। যারা ছিল অধিকাংশই ইংরেজ মদদপুষ্ট। তাদের মধ্যে উগ্র মেজাজী আক্বীদা সম্পন্ন খাঁ ছাহেবের পূর্বপুরুষ দিল্লীর শিয়া মন্ত্রী নজফ খান হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সবচাইতে অধিক বিরোধীতা করে। এই পাঠান খাঁন বংশীয় মন্ত্রী হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বার বার অপদস্ত করার চেষ্টা করে। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁকে দিল্লী শহর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে।
এছাড়াও এই নীচ প্রকৃতির লোক, হযরত মীর্জা মাযহার জান জানান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে পর্যন্ত শহীদ করে ফেলে। (নাউযুবিল্লাহ্) পরবর্তীতে এই শিয়া মন্ত্রী নজফ খানের উত্তর পুরুষ পাঠান বংশীয় আহমদ রেযা খাঁ হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ভারতবর্ষকে দারুল হরব ফতওয়া দানের বিরোধীতা করে ‘এলামুল আলাম’ কিতাব লিখে ভারত বর্ষকে দারুল ইসলাম বলে ঘোষণা করে এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা সম্পূর্ণ হারাম বলে ফতওয়া প্রচার করে বেড়ায়।
যেমন, এ সম্পর্কে “ঞযব গঁংষরসং ড়ভ ইৎরঃরংয ওহফরধ” গ্রন্থের ২৬৫ পৃষ্ঠায় লিখা আছে, “ঋড়ৎ বাবৎু অষরস যিড় রংংঁবফ ধ ঋধঃধি ঃযধঃ রহফরধ ধিং উধৎ-ঁষ-যধৎন ঃযবৎব ড়িঁষফ নব ড়হব যিড় ফপষধৎবফ ঃযধঃ রঃ ধিং উধৎ-ঁষ-রংষধস.”
অর্থঃ- “কেননা প্রত্যেক আলিম ভারতবর্ষকে “দারুল হরব” হিসেবে ফতওয়া দেয়া সত্বেও মাত্র এক ব্যক্তি (আহমদ রেযা খাঁ) যে নাকি একে “দারুল ইসলাম” হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলো।” এছাড়াও উক্ত গ্রন্থের ৩২৫ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে,
“অযসধফ ৎধুধ কযধহ ড়ভ নধৎবরষু রংংঁবফ ঋধঃধি ফবপষধৎরহম ওহফরধ ঃড় নব উধৎঁষ রংষধস.”
অর্থঃ- “বেরেলীর আহমদ রেযা খাঁ ভারত বর্ষকে দারুল ইসলাম হিসেবে ফতওয়া দিয়েছিলো।”
আমরা আশ্চর্য্য হয়ে যাই রেযা খাঁ এই ইংরেজ প্রীতি ও হক্কানী আলিম সমাজের বিরোধীতা দেখে। যেখানে বৃটিশ রাজশক্তি জানবাজ আজাদী আন্দোলনের মর্দে মুজাহিদদের গতি ধারাকে স্তব্ধ করার জন্য তাদের এক একজন সিংহ পুরুষকে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে, মৃত্যুদন্ড দিয়ে ও দ্বীপান্তরে নির্বাসন দিয়ে যাচ্ছিলো, যখন “ইংরেজ খেদাও” বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিলো, ঠিক সেই মুহুর্তটিতেই রেযা খাঁ ইংরেজ প্রভুদের সন্তুষ্টির নিমিত্তে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জিহাদ করা হারাম বলে ফতওয়া দিলো। রেযা খাঁ এখানেই থেমে থাকেনি বরং আরো এক ধাপ সামনে অগ্রসর হয়ে আজাদী আন্দোলনের বহু মুজাহিদ আলিমদের উপর কুফরী ফতওয়া জারী করে ও হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মত সর্বজনমান্য, বরণীয় বুযুর্গ আলিমদের দীর্ঘদিনের নকশাকৃত আন্দোলনের তেজস্বীতাকে স্তিমিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ্ পাক-এর অশেষ মেহেরবাণী যে, রেযা খাঁর সেই সময়কার ফতওয়া জনমনে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি। রেযা খাঁর অন্তরে কি লুকায়িত ছিল তা সত্যি ভাববার বিষয়। রেযা খাঁ কিসের নেশায় মুজাহিদদের রক্তে রঞ্জিত ভারত ভূমিতে বৃটিশ হুকুমত দেখতে চেয়েছিলো? ভাগ্যিস রেযা খাঁ ৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হবার পূর্বেই মারা গিয়েছিল অন্যথায় জীবিত থাকলে বিপ্লবী মুজাহিদদের লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ভারত ভূমিতে রেযা খাঁর যে কি পরিণতি হত তা আল্লাহ্ পাক-ই ভাল জানেন।
-মুফতী, মুহম্মদ শামসুদ্দীন, ঢাকা।
আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বেমেছাল বুযুর্গী ও মর্যাদা মূল্যায়ণ
এবং বালাকোটের ইতিহাস বিকৃতকারী আহমদ রেযা খাঁর স্বরূপ উদঘাটন সম্পর্কে (৬)
আমাদের আলোচ্য বিষয় ছিল, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি-এর কামালত, বেলায়েত, তাক্বওয়া-পরহেযগারী, অল্পেতুষ্টি, আত্মার বিশালতা, পবিত্রতা, ধৈর্য্য-ছবর, তাওয়াজুহ্, খওফ, প্রীতি, সারল্য, সুন্নতের পায়রবী করা, নফসের বিরোধীতায় আল্লাহ্ পাক-এর মা’রিফাত অর্জনে এমন এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী যার উপমা স্বয়ং তিনি নিজেই। আর তাই এই পুত পবিত্র নির্মল চরিত্রের দরুণ অনেক সময় কাফির বিধর্মী পর্যন্ত তাঁর নিকট মাথা নুইয়ে দিয়েছে। যেমন, রনজিৎ সিংহ-এর ভাড়াটিয়া বিদেশী সেনা যারা মহারাজার পক্ষ থেকে মুসলমানদের সাথে জিহাদে লিপ্ত ছিল তাদের মধ্যে উচ্চ বেতন ভোগী ফরাসী সেনা ভেন্টুরা বা দানতুয়া প্রধান। তিনি হযরত আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উচ্চ দরজার কামালত, বুযুর্গীর কথা শুনে দূত মারফত অত্যন্ত আদব ও তা’যীমের সাথে একটি পত্র প্রেরণ করেন যাতে এ কথাগুলো লিখা ছিল, “আপনি আলী খান্দান, সাইয়্যিদ, হাজী, গাজী এবং আল্লাহ্ পাক-এর ওলী। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনার মুরীদ। আমি ভাল করেই জানি যে, আপনার মনে কোন প্রকার অসৎ চিন্তা এবং আল্লাহ্ পাক-এর সৃষ্টিকে দুঃখ-যাতনা পৌঁছানোর ইচ্ছা নেই। আপনার বরকতে এদেশে দুস্কৃতি ও গোলযোগ হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু এই দেশ খালসাজীর শাসনাধীন। সামার নেতৃবৃন্দ খালসাজীকে সর্বদা নালবন্দী (খাজনা) দিত কিন্তু এই দেশে আপনার আগমণের পর থেকে এরা মহারাজা রনজিৎ সিংহকে নালবন্দী (খাজনা) দিতে টাল বাহানা করছে।”
এছাড়া তার কাফেলা যখন গোয়ালিয়র রাজ্য দিয়ে অতিক্রম করে তখন সেখানকার হিন্দু রাজা দৌলত রাও তার রাজ প্রাসাদে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে তাশরীফ রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান এবং অত্যন্ত আদবের সাথে তাঁর নিকট তিনি রূহানী ফয়েজের দরখাস্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি শুনেছি যে, আপনার তাওয়াজুহ্র মধ্যে অত্যন্ত প্রভাব ও শক্তি নিহিত। আশা করছি যে, আমাকেও আপনার ফয়েজ দ্বারা সরফরাজ করা হবে।” জবাবে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আপনার এতে আবশ্যকতা কি? বাতেনী তাওয়াজ্জুহ্ তো আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্য হাছিল করার জন্য হয়ে থাকে। শক্তিশালী খাদ্য সুস্থ সবল মানুষের জন্য শক্তি যুগিয়ে থাকে, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নয়।” রাজা দৌলত রাও বললেন, “অন্যান্য বুযুর্গানে দ্বীন আমাকে তাওয়াজ্জুহ্ দিয়েছেন অথচ আপনি ঈমান আনাকে পূর্ব শর্ত হিসেবে আরজ করছেন। আশ্চর্য্য কি যে, মহান স্রষ্টা আপনার তাওয়াজুহ্ দ্বারাই আমাকে ঈমানের মূল্যবান নিয়ামত লাভের তাওফীক প্রদান করবেন।” এরপর হযরত আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যেহেতু আপনি ঈমানকে সর্বাপেক্ষা দামী বস্তু বলে মনে করেছেন সেহেতু আমি তাওয়াজ্জুহ্ প্রদান করছি।” অতঃপর তিনি দৌলত রাওকে সামনে বসিয়ে তাওয়াজুুহ্ প্রদান করেন। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি), পৃষ্ঠা ৩৭৭, সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৮, মুজাহিদ বাহিনীর ইতিবৃত্ত, পৃষ্ঠা ৪৭১, ঈমান যখন জাগলো, পৃষ্ঠা ৮৪)
বিদগ্ধ পাঠক সমাজ! ইংরেজ, হিন্দু, শিখ এরা কি কাফির মুশরিক বেদ্বীন নয়? আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে তারা কি চির অভিশপ্ত জাহান্নামী নয়? অথচ কাফির মুশরিক হয়েও তারা আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আমল, আখলাক, বুযুর্গী, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সামনে নত হয়ে গিয়েছিল আর মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত কতিপয় মা’রিফত শুন্য দুনিয়ালোভী আলিম যাদের আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে কোনই মর্যাদা নেই তারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও স্ব-জাতির, স্ব-ধর্মের বিরোধীতা করার কারণে ইতিহাসের পাতায় ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট চির অভিশপ্ত, ঘৃণিত, অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইলো।
– শের-ই বাংলা মুফতী মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত কর্তৃক অধ্যক্ষ খেতাবের পরিবর্তে অদক্ষ খেতাব দান যথার্থ
হাফেয, ক্বারী, মাওলানা, মুফতী ইত্যাদি উপাধিকারী মুক্তি তো দূরের কথা প্রতিটি সাধারণ মুছল্লী বা নামাযী ব্যক্তিও এই অতি সহজ মাসয়ালাটি জানে যে, তারাবীহর নামায সুন্নত মুয়াক্কাদা। অথচ অদক্ষ জলীল লিখেছে, “তারাবীহ নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া।” তার মানে অদক্ষ জলীলের মতে, এলাকার কিছু লোক তারাবীহ পড়লেই অন্যান্য সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। যারা পড়বে তারা নেকী ও ফযীলত লাভ করবে আর যারা না পড়বে তাদের কোন গুণাহ হবেনা। প্রকৃতপক্ষে তার প্রদত্ত মাসয়ালাটি শুদ্ধ হয়নি। বরং শুদ্ধ মাসয়ালাটি হলো, “তারাবীহ নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদা (আইনী)। যাদের প্রতি নামায ফরয তাদের সকলকেও তা আদায় করতে হবে। অন্যথায় ওয়াজিব তরকের গুণাহ হবে।
সুতরাং এই ভুল মাসয়ালা প্রদান করে সে এটাই প্রমাণ করলো যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাতে দেয়া তার অদক্ষ উপাধিই যথার্থ।
-মুফতী, শরীফ আহমদ, কুড়িগ্রাম।
আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফযীলত ও
রেযা খাঁ বেরেলীর জিহালত (৬)
আওলাদে রসূল তথা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধরগণের ফযীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
والله لايدخل قلب امرئى مسلم ايمان حتى يحبكم لله ولقرابتى.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক-এর কছম! ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মুসলমান ব্যক্তির অন্তরে ঈমান দাখিল হবে না (হাক্বীক্বী ভাবে ঈমানদার হবে না) যতক্ষণে সে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টির জন্য ও আমার বংশধর হওয়ার কারণে কুরাঈশদেরকে মুহব্বত না করবে।” (আহমদ, ইবনে কাছীর ৭/১৮০) অর্থাৎ আওলাদে রসূলগণের মুহব্বতই ঈমানের অঙ্গ।
অন্য হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
احبوا الله تعالى لما يغدوكم من نعمه واحبونى بحب الله واحبوا اهل بيتى بحبى.
অর্থঃ- “মহান আল্লাহ্ পাক তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহ্ পাককে মুহব্বত করো। আর আমাকে মুহব্বত করো আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টি লাভ করার জন্য। আর আমার আহ্লে বাইতগণকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।”
উপরোক্ত হাদীস শরীফে আল্লাহ্ পাক ও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বত হাছিল করতে হলে আহ্লে বাইত তথা আওলাদে রসূলগণকে মুহব্বত করার কথা বলা হয়েছে। সেজন্যই অতীতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলী আল্লাহ্গণ আওলাদে রসূলগণকে প্রাণ উজাড় করে মুহব্বত করেছেন।
আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলের অন্তকরণে আওলাদে রসূলগণকে খাছ মুহব্বত করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)
আওলাদে রসূলগণের এত ফযীলত মর্যাদা ও মর্তবা থাকা সত্বেও আহমদ রেযা খাঁ ও তার অনুসারীরা সেই আওলাদে রসূল, মুজাহিদে আযম, ছহেবে ইলমুল্লাদুন্নী হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে নানা প্রকার গালি-গালাজ, অপবাদ ও কুফরীর ফতওয়া দিয়ে নিজেদেরই হাক্বীক্বত ফুটিয়ে তুলেছে।
-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ রুহুল আমীন, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
“প্রসঙ্গ-জলীলের লিফলেট ধুয়ে পানি খাওয়া” ওহাবীদের আশেক স্বঘোষিত মুফতীর পাগলামীর জবাব
মক্কার কাফিরেরা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক নিয়ে বহু অপপ্রচার করেছে তাই বলে তাদের সমস্ত অপপ্রচারের জবাব কুরআন শরীফ-এ আসে নাই। এতে বুঝা গেল সকল অপপ্রচারের জবাব দেয়া জরুরী নয়। একই কথা মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ক্ষেত্রেও। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে মক্কা শরীফ শরীফ উনার কাফিররাও তো বলেছিল, আপনি নবী নন। কারণ আপনি তো আমাদের মতই মানুষ। তাই বলে কি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নবী ছিলেন না? আর তাই বলে কি তিনি তাদের মত মানুষ ছিলেন?
তদ্রুপ মক্কা শরীফ উনার কাফিরদের দোসর স্বঘোষিত মুফতী আর ভ- পীরেরা যদি বলে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম আওলাদে রসূল নন, তাতেও তিনি “আওলাদে রসূল” থেকে বাদ হয়ে যাবেননা। ভ- মুফতী মীযান রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আওলাদে রসূল হওয়ার প্রমাণ চায়! খুব ভাল কথা। প্রমাণ অবশ্যই দেয়া হবে, এর পূর্বে স্বঘোষিত মুফতীকে তৈয়ব শাহ, তাহের শাহসহ যত আওলাদে রসূল পৃথিবীতে মশহুর হয়ে আছেন তাদের প্রমাণ পেশ করতে হবে, অথবা স্বঘোষিত মুফতী মীযান যে বৈধ সন্তান তার প্রমাণ তাকে পেশ করতে হবে।
-মুহম্মদ ইয়াসীন, আড়াইহাজার।
মাসিক মদীনা ভুল মাসয়ালা আর গোমরাহ্ী বিস্তারের এক জঘণ্য পত্রিকা
ইসলামের নামে বিকৃত শিক্ষা দেয়ার অপরাধে, যে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধে আশু পদক্ষেপ একান্ত দরকার
(ধারাবাহিক)
অন্য অনেক সময়ের মত তখনও হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার সাথে বসা ছিলেন। এক পর্যায়ে বললেন, “আল্লাহ্র রহমত ছাড়া কেউ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা।” বিস্মিত কক্তে হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিও না।” আবেগপূর্ণ কক্তে হুজুর পাক ছল্লালাৗহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় অঙ্গুলী মাথা মোবারকের চারপাশে সঞ্চালন করে বললেন, “আমিও না হে আয়েশা, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্ পাক-এর রহমত আমাকে বেষ্টন না করে।”
এই হাদীস শরীফের আলোকে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও ইমাম-মুজতাহিদ, আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এটাই একান্তভাবে সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহ্ পাককে পাবার, আমল করার, কবুল হওয়ার তথা সার্বিক ক্ষেত্রে মূল বিষয় হচ্ছে আল্লাহ্ পাক-এর রহমত। তাই আবহমান কালের সফল খোদা প্রেমিকগণ তিল পরিমাণ রহমতের জন্য বুভুক্ষুর মত কাতরতা প্রকাশ করেছেন। রহমত হাছিলের জন্য সারা রাত জেগে নামায পড়েছেন। কারণ বান্দা খোদার একান্ত কাছাকাছি হয় নামাযে সিজদার দ্বারা।
কিন্তু আফসুস! মুসলমানদের ঈমানী শক্তি নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য রহমত প্রাপ্তির সে পথটুকুও বাধাগ্রস্থ করে দিতে চায় তথা কথিত মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন।
মাসিক মদীনাঃ মে/৯৪ ঈসায়ী সংখ্যায় বলেছে, “ছবিওয়ালা ঘরে নামায পড়া জায়েয।” (দলীল- নেই)
মাসিক আল বাইয়্যিনাতঃ নামাযির সামনে, ডানে, বামে, পিছনে, উপরে, নিচে, ছাদে, অথবা অন্য যে কোন স্থানে যে কোন অবস্থায় যদি ছবি ঝুলন্ত বা লটকানো থাকে, তাহলে নামায মাকরূহ তাহরীমী।” (দলীল- কাজীখান ১ম খন্ড ১৪২ পৃষ্ঠা, আলমগীরী, তাতারখানিয়া, আইনুল হেদায়া, ফতহুল ক্বাদীর, বেনায়া ইত্যাদি)
বুখারী শরীফের হাদীসে রয়েছে, “যে ঘরে ছবি থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশ্তা থাকেনা।”
হাদীস শরীফে আরো রয়েছে, “ক্বিয়ামতের ময়দানে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তার, যে ছবি তোলে, আঁকে, দেখে।”
বলা বাহুল্য, “ছবি তোলা, আঁকা, রাখা হারাম।” এ প্রসঙ্গে শতাধিক হাদীস শরীফ সম্বলিত ৩৫৩টি দলীল দিয়ে মাসিক আল বাইয়্যিনাতে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরে মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন ছবিওয়ালা ঘরে নামায জায়েয বলে ছবির মত স্পষ্ট হারামকেই কেবল হালাল নয় বরং কাফির এবং মুসলমানের মাঝে ফারাককারী নামায যা খোদায়ী রহমত কামাইয়ের উছীলা, যে খোদায়ী রহমত মুসলমানের প্রাণ, সেটা থেকেই মানুষকে দূরে ঠেলে দিয়ে লা’নতের দিকে, গযবের কাছে, শয়তানের পথে আহবান করছে। (আউযুবিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্বনির রাজীম।) (চলবে)
-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ্।
ঘটনাস্থল লক্ষ্মীবাজার সড়ক, পুরানো ঢাকা। তারিখ ১২ই জানুয়ারী। কথিত মাহফিলে হাজির হয়েছে তথাকথিত সুন্নীদের আমদানীকৃত শায়খ তাহের শাহ। মাহফিলে তাহের শাহর উপস্থিতিকে ঘিরে অব্যাহতভাবে ভিডিও করা প্রসঙ্গে বর্ণনা দেয়ার অবকাশ এ লেখকের নেই। শুধু গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করা খ-কালীন দৃশ্য ব্যক্ত করাই প্রাসঙ্গিক আলোচনা। নামায শেষ করার মুহূর্তকালীন সময়ে তাহের শাহ পশ্চিম দিকে ক্বিবলা মুখী হয়ে নামায শেষ করে পূর্বমুখী হবেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নামায শেষ করে ফিরে দাঁড়ানোর সাথে সাথে হঠাৎ আলোর ঝলকানী নয় বরং পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকা ভক্তদের অনেকগুলো ক্যামেরার ফ্লাশের তীব্র ঝলকে আলোর বন্যা, তাহের শাহর দাঁড়ানোকে ফিল্ম-বন্দী করে ফেললো। না না ঘটনার ধারাবাহিকতায় কোন জেদ, ক্ষোভ নয়, বরং স্মিতহাস্যমুখে সদাসর্বদা ছবি তুলতে অভ্যস্ত তাহের শাহ যেন সে নামাযের জন্যই ছবি তোলা থেকে সাময়িক বিরতি দিয়েছিল। কোনমতে নামায শেষ হওয়া মাত্রই ভ- এবং ভ-তক্তরা একসাথে মেতে উঠল ছবি তোলার মত স্পষ্ট হারাম কাজে।
আর এটা যে স্পষ্ট হারাম কাজ তার দলীলের জন্য অন্য কিছুরই দরকার নেই। বরং গত সংখ্যারই বাইয়্যিনাতের একটি মতামতে এসেছে-
“হাসনাইন রেযা খা প্রণীত ওসায়া শরীফ”-এ পাওয়া গেল, “রেযা খা মৃত্যুর ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট আগে ওসীয়ত করেছিলেন, “তার বেছাল প্রাপ্তির স্থান হতে সকল ছবি সম্বলিত কার্ড, মুদ্রা ও খাম অপসারণ করতে হবে।” আরো বর্ণিত আছে যে, “রেযা খা ছবি সম্বলিত টাকা-পয়সাগুলোও কাছে রাখতে চাননি।”
পাঠক! যদি তাই হয়ে থাকে তবে এটাই কি সাবেত হয়না যে রেযখার জিগির তুলে ব্যবসা করলেও তাহের শাহ আসলে রেযা খারই ওসীয়ত অনুযায়ী ত্যাজ্য পুত্র, ভ- পুরুষ।
-হাফেয মুহম্মদ নাছির, হোসনী দালান, ঢাকা।
গেল পর্বে আলোচিত হয়েছিল, রেযা খানীরা তাদের কুমতলব হাছিলের জন্য “যখীরায়ে কারামতের” কথা উল্লেখ করলেও আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে “যখীরায়ে কারামতের” বিবৃতিগুলো কি আশ্চর্য্যজনকভাবে চুপিয়ে রেখেছে। প্রসঙ্গ এ বিষয়ে হাদীয়ে প্রসঙ্গে কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আরো বক্তব্য সংযোজিত হলো।
“আর প্রত্যেক ব্যক্তি প্রকাশ্যভাবেই দেখিতে পাইতেছে যে, হযরত সাইয়্যেদ সাহেব প্রকাশ হওয়ার সময় হইতে আযান, নামায-রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি আহকামে-শরীয়ত খুবই প্রচলিত হইয়াছে। আর জুমা এবং জামাআত এবং নামাযীদের সংখ্যাও অত্যধিক হইয়াছে। এবং গ্রামে-গ্রামে শহরে শহরে পুরাতন মসজিদগুলি আবাদ হইয়াছে এবং বহু নূতন মসজিদ নির্মিত হইয়াছে। আর ছেলে জন্মগ্রহণ করিলে লোকেরা আকিকা এবং বিবাহ্-শাদীতে ওলিমা করিতে লাগিল। আর নাচ-গান, বাজি পোড়ান ইত্যাদি খারাপ রুছুম হইতে এবং কুফরীর সাদৃশ্য হইতে পুরাপুরিভাবে বাঁচিয়া থাকিত। তিনি প্রকাশ হওয়ার পূর্বে এই অবস্থা ছিল যে, যখন এই অধম পাঁচ ওয়াক্ত আযান দেওয়া আরম্ভ করিল তখন কোন কোন মূর্খ নাদান মুসলমান বলিত যে, সকাল-সন্ধায় আযান শুনি কিন্তু দিনের আযান কখনও শুনি না- এইরূপ নূতন নূতন কথা বলিত। আর মসজিদের অবস্থা এই ছিল যে, লোকেরা নাচ করাইত এবং হিন্দুদের বরযাত্রীদলে যাইত এবং শরাব পান করিত। এই দেশে এমন অন্ধকার নামিয়া আসিয়াছিল যে, যাহাকে আল্লাহ্তায়ালা রক্ষা করিত সেই বাঁচিয়া থাকিতে পারিত। তাঁহারা ছাড়া সমস্ত পুরুষ-স্ত্রীলোক সাধারণ লোক ও বিশেষ বিশেষ লোক আহ্লে সুন্নাত ও শিয়া এবং যাহাদিগকে ‘আরিফ’ বলা হইত প্রকাশ্য শিরক ও কুফরীর রুছুমের শিকারে পরিণত হইল। এবং হিন্দুদের উৎসব, দশমী, হলী, দেওয়ালী ইত্যাদিতে শরীক হইত। হলীর মধ্যে নাচ-গান দেখিতে, আবীর উড়াইতে, রং ঢালিতে মুসলমানগণও অংশ গ্রহণ করিত। দশমীর দিনে জঈ বৃক্ষ ব্রাহ্মণের নিকট পয়সা দিয়া গ্রহণ করিত এবং উহাকে পাগড়ির মধ্যে রাখিত। এবং ঐ দিন সুন্দর সুন্দর কাপড় পরিয়া তাহাদের মেলায় যাইত ও দেওয়ালীর মধ্যে হিন্দুদের মত বাড়ী-ঘরকে চুনকাম করাইত এবং মিঠাই-মন্ডা বিতরণ করিত এবং ছেলের শ্বশুর বাড়ীতে দেওয়ালীর উৎসবে মিঠাই এবং মাটির খেলনা পাঠাইত। আর বসন্তকালে আমের মুকুল ফূলদানিতে করিয়া মালে মিরাসের মত করিয়া লইয়া আসিত এবং উহাকে শুভাশুভের নিদর্শন মনে করিত ও উহাতে পয়সা দিত এমনকি কোন কোন জায়গায় শত শত লোকের গদীনশীন পীর-মুর্শিদ বসন্তের দিনে আসর জমাইত এবং ফুলদানি এবং পানি রাখিবার মৃৎপাত্র সাজাইয়া, খোদা জানে, কত প্রকার অশ্লীল বস্তু বানাইয়া গান-বাদ্য করিত এবং ঐ মজলিসে আসিত। আর মুর্শিদ বাসন্তী কাপড় পরিধান করিত এবং বাসন্তী ফরাস বিছাইত। অবস্থা এই দাঁড়াইল যে, মানুষ অমনোযোগিতার শেষ সীমায় পৌঁছিয়া গেল যে, কিছু মুসলমান হিন্দুদের উৎসব এবং বসন্তের জায়েয হওয়ার উপর খুব জোর দিল এবং বাকী ফাসেকী ও গুণাহ্র কাজ, শরাব, তাড়ি ইত্যাদি নেশার বস্তু পান করা, হারাম কাজে লিপ্ত থাকা যেমন প্রচলিত ছিল উহার আলোচনা করা খারাপ মনে করিত এবং ছেলে-মেয়ে জন্মগ্রহণ করিলে হিন্দুদের মত ছট্টি (সন্তান জন্মের ষষ্ঠ দিনে যে সামাজিক কৃত্য করা হয়) করে এবং বিবাহ্-শাদীতে যে সমস্ত অশ্লীল কাজ করে তাহা করিত, যেমন নাচ, গান-বাদ্য, বাজি পোড়ান ইত্যাদি গর্হিত কাজ এবং ছিহরা (ফুল অথবা মোতির তৈল টোপর যাহা বর-কন্যার মাথায় পরান হয়) বাধা শরীয়তের জরুরী কাজ হইতেও গুরুত্ব দিত। আর ছিহরা বাধার প্রতি এত ঝোঁক ছিল যে, ছিহরা না বাধার দরুন হযরত সাইয়্যেদ সাহেবের প্রথম প্রকাশের সময় অনেক বিবাহ্রে নেসবত ছুটিয়া গিয়াছিল। আর তাহারা কুফরীর সদৃশ পোশাক-পরিচ্ছদ পরিয়া দাড়ি ঘুটাইয়া গোলমাল আরম্ভ করিত। আর শিরকের মধ্যে যাহারা লিপ্ত ছিল উহা ছিল, ভীষণ জুলুম। আর কুফরীর রেওয়াজের মধ্যে ছিল মেয়ে লোকেরা চিবুকের অসুখের মধ্যে অনেক শিরক কাজ করিত এবং কুফরীর কথাবার্তা বলিত এবং কুফরী গান গাইত যাহা বর্ণনার অতীত। উহার সংক্ষিপ্তসার এই যে, আল্লাহ্তায়ালা ও রসূলে মাকবুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের ইমাম, ওলী-দরবেশ শহীদ সকল হইতে ঐ ভূত এবং শয়তানকে চিবুকের জন্য নিজের খেয়াল মত বড় জানিত নাউযুবিল্লাহে মিন জালিক (উহা ইহতে আমরা আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি) এমনকি ঐ রোগের নামে কাফেরগণ যে তানজানা বানাইত মেয়েলোকেরা দাঁতের দ্বারা জুতা কামড় দিয়া ঐ তানজানার নিকট গমন করিত আর মেয়ে লোকেরা হিন্দুদের পূজার মত অছুতা করিত। যাহারা এক বৎসর না করিত যদি ছেলেমেয়ের অসুখ হইত কিম্বা চক্ষু উঠিত তবে তাহারা মনে করিত এই অছুতা না করার দরুন এইরুপ হইয়াছে। তখন তাহারা খুব নরম কক্তে অছুতা করিবার ওয়াদা করিত। আসলে ইহা জিনের পূজা। কেননা ফারসীতে জিনকেই পরী বলে।
সুতরাং এখন চক্ষু উঠাইয়া ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখ, আল্লাহ্তায়ালা কতবড় দয়াবান যে, এই সমস্ত র্শিক, কুফরী এবং জিন পূজারীকে ছাড়িয়া দিয়াছেন। এর কাহাকেও মলিন করেন নাই। এখন গ্রামবাসীগণের এমন ঈমান হাসিল হইয়াছে যে, তাহারা সকলেই হাসে যে, পরীকে আমাদের মুর্শিদ মনে করা হইতেছে। এই কথাকে শিয়া, সুন্নী উভয় লোক নিজের দিলে চিন্তা করিবে এবং আল্লাহ্তায়ালার শোকর করিবে এবং হযরত সাইয়্যেদ সাহেবকে এই তেরশত হিজরী সনের মোজাদ্দেদ মনে করিবে এবং তাঁহার জন্য দোয়া করিবে।
-মূফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।
লেখার প্রথমে ভূমিকার দরকার হয়। কিন্তু যাদের নিয়ে লিখতে যাব সেই রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র গং ভূমিকাটাই কেবল নয় বরং লেখার প্রতিপাদ্য বিষয়ই অনেকটা বলে দিয়েছে। ডিসেম্বর’ ২০০০ঈঃ সংখ্যায় তারা লিখেছে, “অনেক টিভি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, একজন যুবক ধুমপান করার পর তার মন-মস্তিস্ক সতেজ হয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণে ঘোষণা দেয়া হয় সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ধুমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর” এ যেন পরস্পর বিরোধী হাস্যকর বক্তব্য।
পাঠক! এটা যদি হাস্যকর বক্তব্য হয় তবে এ হাস্যকর বক্তব্যের পর আরো অধিক, আরো প্রকট হাস্যকর, পরস্পর বিরোধী এবং সে সাথে আশাদ্দুদ দরজার জাহিলী তথা শেষস্তরের জিহালতির পরিচয় দিয়েছে রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র নিজেই ডিসেম্বর সংখ্যায়। এতে “মাহে রমজান ধূমপান বর্জনের অপূর্ব সময়” র্শীষক নিবন্ধে বলা হয়েছে,
“এটি এমন এক অদ্বিতীয় চিকিৎসা যদ্বারা ধূমপান, মদ্যপান, অশ্লীল কথাবার্তা ইত্যাদি অপছন্দনীয় ও নিষিদ্ধ কাজগুলো মানুষ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে পারে। ”
বর্তমানে আমাদের দেশে ও বিদেশে ধূমপান মাত্রাহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। ধুমপানের বিরুদ্ধে সরকারী কোন পদক্ষেপ থাকলেও তা সফল হচ্ছেনা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস বিশ্ব ব্যাপী পালিত হয়েছে। কিন্তু কি লাভ এ সব আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে যদি এর কোন বাস্তবায়ন না হয়?
কারণ এ বদ অভ্যাসের কারণে বর্তমানে প্রতি বছর উন্নত বিশ্বে প্রায় ২০ লাখ এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ লোক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। ধূমপান ধূমপায়ীকে ধীরে ধীরে অকাল মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। মানুষের আপাদমস্তকে তার প্রভাব পড়ে। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য স্থানের ক্যান্সার, খাদ্য নালীর ক্যান্সার, মুত্রনালীর ক্যান্সার, কিডনীর ক্যান্সার, জরায়ুর ক্যান্সার, চোখের ছানি, হাঁড়ের ঘনত্ব কমে যায়, পিঠের ব্যাথ্যা, বধিরতা, বীর্যের শুক্রানুর পরিমাণ কমে যাওয়া প্রভৃতি মারাত্মক রোগসমূহ দেখা দিতে পারে।
একটি সিগারেটের গড়ে ওজন ৫০০মিলিগ্রাম। নির্গত ধোঁয়ার ৯০% হলো গ্যাসীয় পদার্থ, আর ৮%হলো বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকারক বস্তুকনা সমৃদ্ধ। এতে বিষাক্ত নিকোটিন থাকে ১ মিলিগ্রাম, আর থাকে ক্যান্সার উদ্দীপক বেনজাবাইরিনা। ধুমপানের ফলে আমাদের দেহে প্রবেশ করে ২৩ মিলিগ্রাম কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, অ্যাক্রোলিন, অক্সাইড। ফলে আমাদের শরীরে পলোনিয়াম ৩১০ নামের এক প্রকার তেজস্ক্রীয় পদার্থ প্রবেশ করে; যা ক্যান্সারে আক্রান্ত করতে পারে।
টহরাবৎংরঃু ড়ভ ডরংবপড়হংরহ গবফরপরহব এর গবেষকরা বলেছেন, ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের থেকে ৭০% কানে কম শোনে। কেননা ধূমপান এন্টি অক্সিডেটিভ ক্যাকানিজমের প্রভাব জনিত কারণে প্রতিক্রিয়ার ফলে যে সব রক্তনালী শ্রবণেন্দ্রিয়ের সঞ্চালন ঘটায় ধূমপানের কারণে ঐ সব রক্তনালী ক্ষতির সম্মুখীন হয়, ফলে শ্রবণশক্তি কমে যায় ও কানে কম শোনে।
ধুমপানের ফলে দাঁতের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দেখা যায় বিভিন্ন ধরণের রোগে মাড়ির কলা নষ্ট হয়ে যায়, মাড়ি ফুলে যায়।
ধুমপান আদব বা শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ বলে গণ্য করা হয়। ছোট-বড় সকলের ইজ্জত সম্মান যথাযথভাবে বজায় থাকেনা। রাস্তা-ঘাট, যানবাহন প্রভৃতি স্থানে এমন এক শ্রেণীর ধুমপায়ী দেখা যায়, যাদের একজনের ধুমপান অপর দশ জনের বিরক্তি ও অসহ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মানব বিধ্বংসী নেশা জাতীয় এ দ্রব্যের উচ্ছেদের জন্য সকলকে একসাথে সোচ্চার হতে হবে।”
পাঠক! ধুমপানের বিরুদ্ধে এত কিছু বলার পরও শেষ পর্যন্ত রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের ডিসেম্বর/২০০০ ঈঃ সংখ্যায় যা বলেছে তাহলো, “ধূমপান জায়েয ও মুবাহ।”
পাঠক, ধুমপানের এত ক্ষতিকর দিক বর্ণনার পরও ধূমপান করাকে যখন মোবাহ ও জায়েয বলা হয় তখন কি তা রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের দেয় উদাহরণের চেয়েও আরো বেশী হাস্যকর, লজ্জাকর ও করুণাকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না?
পাঠক! তদ্রুপ অবস্থা হয়েছে রেযা খানীদেরও। অপছন্দীয়, নিষিদ্ধ, বদ অভ্যাস, মৃত্যুর কারণ, অসহনীয় কষ্টকর, ইজ্জত হানিকর ইত্যাদি বলার পরও এমনকি নেশার বস্তু বলার পরও আবার বলছে হালাল। অর্থাৎ জাহিল ছাত্রের মতই তারা সব এক করে ফেলছে। আর বলার অপেক্ষা রাখেনা ধূমপানের মত এত ক্ষতিকর, নিষিদ্ধ ও বদ অভ্যাস জনিত কাজও যদি তরজুমান এর কাছে হালাল হয় তবে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে তাদের কাছে আরো হালাল তাহলে মদ, জুয়া, ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ, ছিনতাই-রাহাজানি ইত্যাদি।
পাঠক! উপরোক্ত বক্তব্যে বিবৃতঃ ধূমপান বিষপান, ধূমপান অপছন্দনীয়, নিষিদ্ধ, ধূমপান বদ অভ্যাস, ধূমপান অসহনীয় কষ্টকর জীবন, শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ, ধুমপান ২০ লাখ লোকের মৃত্যুর কারণ, ক্যান্সার, কানে কম শোনা, ইত্যাদি অসুখের কারণ এসব বলার পরও এবং “তাই মানব বিধ্বংসী নেশা জাতীয় এ দ্রব্যের উচ্ছেদের জন্য সকলকে এক সাথে সোচ্চার হতে হবে” এ আহবান জানানোর পরও যখন বলা হয়, “ধূমপান মোবাহ ও জায়েয” তখন তা আমাদেরকে সেই ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
যে, এক মগা ছাত্র পড়ালেখা না পারার লজ্জায় ঘর ছাড়া হয়ে বহুদূর যেতে যেতে এক ভিন দেশে গিয়ে উপস্থিত হল। সেখানে গিয়ে সে দেখল যে, ঘি’র দাম ১পয়সা, খামির দাম ১পয়সা, লবণের দাম ১পয়সা, তেলের দাম ১পয়সা, চালের দাম ১পয়সা ইত্যাদি। সবই সেখানে ১পয়সার দামেই মাপা হয়। বোকা ছাত্র এ অবস্থা দেখে খুব খুশী। খেয়ে দেয়ে সে খুব মোটা তাজা হতে লাগলো। একদিন হঠাৎ সে মুল্লুকের পাশ দিয়ে যেতে দেখল তার উস্তাদকে। দেখা মাত্র ভীষণ উল্লাসে এ আশ্চর্য্য খবর জানিয়ে উস্তাদকে সেখানে অবস্থানের আহবান জানাল। উস্তাদ বললেন, বাবা যেখানে সবকিছুই এক পাল্লায় মাপা হয় সেটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গা। এখানে থাকা মোটেও নিরাপদ নয়। উস্তাদ থাকার পরিবর্তে বরং উল্টো ছাত্রকে এক্ষনি সে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিল। কিন্তু জাহিল ছাত্র সে দেশ ছাড়তে রাজী হলনা কিছুতেই। এর কিছুদিন পর রাজার ঘরে চুরি হওয়ায় তার ফাঁসি হল। চুরি না করলেও তার ফাঁসির পিছনে তাদের যুক্তি ছিল যে, যেহেতু ফাঁসীর রজ্জু তার গলার সাথে মিলেছে তাই তারই ফাঁসী হবে।
-মুহম্মদ আব্দুল কাদের বাদল, ঢাকা।
“যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বিষয়ে তোমাদের কাউকে অন্য কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তার লালসা করোনা।” (সূরা আন নিসা/৩২) অর্থাৎ “জাগতিক বা ধর্মীয় যে কোন দিক থেকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি একজনকে অন্য জনের উপর যে শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদা দান করেছেন ইহা যেন তোমাদের পরস্পরের প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি করতে না পারে।” (তাফসীরে জালালাইন/১০৫)
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এত অল্প পরিসরে খিলাফত ব্যবস্থাও কায়েম করেছেন যার সুমোহান তাজদীদে ছিন্নভিন্ন হয়েছিল ইংরেজদের ক্ষমতার মসনদ। ইসলাম ও মুসলমানদের চির শত্রু শিখদের আগ্রাসি শক্তি চির তরে খর্ব হয়েছিল। মারাঠা ও জাঠদের অত্যাচারের ছোবল হতে পরিত্রান পেয়েছিল উপমহাদেশের শোসিত, নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহ।
সে সম্মান-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বরকত উনার পরবর্তী পুরুষগণের মাঝেও যেভাবে আজও পরিব্যপ্ত তা পেঁচারূপী আহমদ রেযা খার হিংসাত্মক মন কিভাবে মানতে পারে? কাজেই সে প্রভাব-প্রতিপত্তিকে নষ্ট করার জন্য যত মিথ্যা বলার দরকার সবটাই করতে সে রাজী। আর এই মিথ্যার বশবর্তী হয়েই আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কাফির ফতওয়া দিতে যে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী, কুড়িগ্রাম।
নামকরণ ইসলামিক দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য সন্তান হলে তার একটি সুন্দর নাম রাখা বাবা-মার বিশেষ কর্তব্য। কারণ প্রদত্ত নামের তাছির উক্ত সন্তানের জীবনে গভীরভাবে পড়ে। শুধু সন্তানের নামই নয়। সব কিছুতেই একথা প্রাসঙ্গিকভাবে প্রযোজ্য। লেখার শিরোনামেও এটি সম্পৃক্ত কথা। শিরোনাম দেখেই রচনা ও রচয়িতার প্রকৃতি ও যোগ্যতা সহজেই অনুধাবন করা যায়। রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের সম্প্রতি “বাহান্ন প্লাস ওয়ান ইকোঅ্যালটু তিপ্পান্ন শিরোনামে” প্রকাশিত লেখাটি সঙ্গতকারণেই ওদের জিহালতির মাত্রাকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
উল্লেখ্য, গণিত বিষয়ে যাদের সামান্য জ্ঞানও আছে তারাও খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারে যে, “বাহান্ন প্লাস ওয়ান ইকোঅ্যালটু তিপ্পান্ন” এটা কোন সমীকরণই নয় এবং এটা কখনও সম্ভবও নয়। বরং এটা হতে পারে “বায়ান্ন যোগ এক সমান তিপ্পান্ন” অথবা “ফিফটি টু প্লাস ওয়ান ইকোঅ্যালটু ফিফটি থ্রি।”
সুতরাং এতটুকু জ্ঞান যার নেই সে যে কত গন্ডমুর্খ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর এই গ-মুর্খ যে আল বাইয়্যিনাত বিষোদগারের নামে কত অসত্য উদগীরণ করতে পারে তথা সোজা জিনিস বাকা বুঝতে পারে ও ব্যক্ত করতে পারে তা বলাই বাহুল্য।
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলমগীর, খিলগাও মডেল কলেজ, ঢাকা।
আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় গৃহে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। যৌবনের প্রারম্ভে চাকুরীর প্রত্যাশী কয়েকজন বন্ধু ও দেশবাসীসহ তিনি লখনৌ গমন করেন ও তথায় সাত মাস অবস্থান করেন। অতঃপর যতগুলি চাকুরী পাওয়া গেল উহাতে তাঁহার বন্ধু-বান্ধবদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেন এবং নিজে কিতাবী ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট দিল্লী গমন করেন। হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁহাকে স্বীয় ভ্রাতা শাহ্ আব্দুল কাদির মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট আকবার আবাদী মসজিদে প্রেরণ করেন। (মাখযানে আহমদী)
একটি বর্ণনায় মীযান, কাফিয়্যা এবং মিশকাত অধ্যায়নের কথা উল্লেখ আছে। (আরওয়াহে ছালাছা) সেই সময় তিনি ইবাদত-বন্দেগীর জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করিয়াছিলেন। (আছরুস্ সানাদীদ, প্রথম সংস্করণ) সাধনার শুরু হইতেই বৎসরের পর বৎসর “ইশা ও ফযরের সালাত এক উযূতে আদায় করিতেন। (ওয়াসায়া ওয়াযীর) ১২২২/১৮০৭ সালে তিনি হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হস্তে বাইয়াত গ্রহণ করেন। হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, “আল্লাহ্ তায়ালা তাঁহাকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও হিদায়েতের জন্য কোনরূপ মাধ্যমের মুখাপেক্ষী রাখেন নাই। (আছারুস্ সানাদীদ) তিনি আধ্যাত্মিক শিক্ষায় এইরূপ মেধা সম্পন্ন ছিলেন যে, সামান্য ইঙ্গিতেই অতি উচ্চস্থানের উপলব্ধি করিতে পারিতেন। (মান্জুরাঃ) ১২২৩/১৮০৮ সালে তিনি দেশে ফিরিয়া আসেন এই সময়ই তাঁহার বিবাহ্ হয়।
ভারতে ইসলামী শাসন ও শরীয়তের আইন-কানুন প্রবর্তন তাঁহার জীবনের প্রধান ও সর্বাপেক্ষা প্রিয় লক্ষ্য ছিল। ইহার জন্য তিনি তাঁহার জীবনকে উৎসর্গ করিয়াছিলেন। সমসাময়িক কালের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সামরিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেবল নওয়াব আমীর খানই তাঁহার এই মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে সাহায্যকারী হইতে পারিতেন। তাঁহার নিকট বিরাট সৈন্যবাহিনী ও বৃহৎ অস্ত্রাগার ছিল। অন্যদের প্রভাব হইতে মুক্ত হওয়া ছাড়াও তিনি মধ্য ভারতে সেনানিবাস স্থাপন করিয়াছিলেন। সেখান হইতে বিভিন্ন অঞ্চলে সফল আক্রমন পরিচালনা করিয়া পাশ্ববর্তী মুসলিম শাসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করিতে পারিতেন। বস্তুত আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১২২৪/১৮০৯ সালে নওয়াব আমীর খানের নিকট রাজপুতানায় গমন করেন। (মাখযান আহম্মদী, মান্জুরা, ওয়াকাই আহম্মদী ইত্যাদি) এই উদ্দেশ্যে তিনি সাত বৎসর নওয়াবের সঙ্গে অবস্থান করেন, যাহাতে ছোট ছোট বিরোধকে এড়াইয়া নওয়াব স্বীয় পূর্ণ শক্তি জাতীয় ও ধর্মীয় স্বার্থে নিয়োজিত রাখিতে পারেন। এই সময় সংঘটিত বিভিন্ন যুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং সৈন্যবাহিনীতে ধর্মীয় চেতনা উজ্জীবনের কাজ অব্যাহত রাখেন।
ইংরেজদের জোর তৎপরতায় ১৮১৭ খৃষ্টাব্দে হঠাৎ করিয়া নওয়াবের অবস্থা শোচনীয় হইয়া পড়ে। তিনি ইংরেজদের সঙ্গে সন্ধি করিয়া টুঙ্ক (ঞড়হশ) এর কর্তৃত্ব লাভ এবং সৈন্য বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করিয়া দিতে রাজী হন। আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাহাকে এই চুক্তি হইতে বিরত রাখিতে একান্ত চেষ্টা করেন। তিনি বার বার বলেন, ইংরেজদের সঙ্গে বীরত্বের সহিত যুদ্ধ করুন। (ওয়াকাই মানজুর) কিন্তু ইহা নওয়াবের সাহসে কুলাইলো না। অতএব, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১৮১৮ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি তাহার সঙ্গ ত্যাগ করিয়া দিল্লী চলিয়া যান। উদ্দেশ্য তথায় তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কারের সাথে সাথে জিহাদের জন্য একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ বাহিনী গঠন করার এবং তাঁহার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা করিবেন। সেই ব্যাপারে আমীর খান তাঁহাকে সাহায্য করিতে স্থির প্রতিজ্ঞ থাকেন নাই।
পাঠক! ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রণীত এই বক্তব্যেও ছাবেত হয় যে, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি কখনও ইংরেজদের দোসর ছিলেন না।
– মুহম্মদ আরিফুর রহমান।
মক্কা শরীফ হইতে হিজরত করিয়া সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা শরীফে হিজরত করেন তখন মুসলমানদের সাথে অনেক মুনাফিকও আগাইয়া আসিয়াছিল। দৃশ্যতঃ আহলান সাহলান আর মোবারকবাদ জানানোর পাশাপাশি সর্ব প্রকার সাহায্যের আশ্বাস দিয়াছিল, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিয়াছিল।
কিন্তু আল্লাহ্ পাক-এর হিকমত। কুরআনে কারীমায় তিনি ঘোষণা করিয়াছেন, “সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করা ব্যতীত ছাড়িবেননা।” এই আয়াত শরীফের পরিক্রমায় আল্লাহ্ পাক একের পর এক এমন সব ঘটনা ঘটাইলেন যে এক এক করিয়া মুনাফিক সব ছিটকাইয়া পড়িতে লাগিল। একই ধারাবাহিকতায় শুধু তথাকথিত সুন্নীরাই নহে বরং ওহাবী দেওবন্দীরাও রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী যখন মাহ্ফিল করা শুরু করিলেন, আল বাইয়্যিনাত প্রকাশ হওয়া শুরু হইল তখন তাহার ভূয়সী প্রশংসা করিয়াছিল।
কিন্তু একের পর এক যখন হক্ব ফতওয়া প্রকাশ হইতে শুরু করিল তখন নিজেদের মনগড়া ফতওয়ার বিপরীত হওয়ায় ওহাবী দেওবন্দীরা বাইয়্যিনাত এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনায় লিপ্ত হইল। অপবাদের বিষয় একান্তই খোড়া। ওখানে মাহ্ফিল করিতে দেয় নাই, এত লক্বব কেহই ব্যবহার করেনাই, বর্তমানে বাঁচিয়া থাকা বৃদ্ধদের কেহ কেহ বলিয়াছে যে, তাহারা মিঞা বাড়ীর লোক হিসাবেই চিনেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য, ওহাবীরা এসব বিষয় উল্লেখ করিয়া যখন আল বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতা করিয়াছিল তখনও কিন্তু তথাকথিত সুন্নারী তাহাদের পত্র-পত্রিকায় আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানাইয়া যাইতেছিল। কিন্তু ইহারপরে যখন তাহাদের জিহালতি ধরা পড়িল তখন তাহারা ওহাবীদের কায়দায়ই বেকিয়া বসিল।
শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলিয়াছেন, “বোকা বন্ধুর চাইতে জ্ঞানী শত্রু ভাল।” কাজেই যেহেতু তাহারা সুন্নী দাবী করিয়া থাকে কাজেই সেই দাবী করার প্রেক্ষিতে হইলেও তাহাদের প্রতি আমাদের অপেক্ষাকৃত দরদ ছিল। যে প্রেক্ষিতে এটা হইলেও অন্তত আমরা একটু খুশী হইতাম যে ওহাবীরা যে জিহালতি কায়দায় আল বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতা করিয়াছে তাহারা তার চাইতে কম জিহালতির পরিচয় দিবে।
কিন্তু আশ্চর্য্য, তাহারা যাহা করিল তাহা যেন একই মুদ্রার এইপিঠ আর ওইপিঠ।
বড় আফসোস হয় যখন তাহারা বলে যে, “রাজারবাগ শরীফের পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী-এর গ্রামের বাড়ীর কোনো এক বৃদ্ধের সহিত আলাপ করিয়া শুনিয়াছে যে, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী-এর আব্বাজান সৈয়দ পদবী ব্যবহার করিতেন না।”
প্রসঙ্গতঃ এই আলোচনায় যা উল্লেখ্য, প্রথমত তাহারা কোন্ বৃদ্ধের সহিত আলাপ করিলে, তাহার নাম ঠিকানা কিন্তু দেয় নাই বা প্রকাশ করে নাই। যাহা তাহাদের দেয় তথ্যের বিশেষ দুর্বলতার প্রকাশ।
দ্বিতীয়তঃ রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান সৈয়দ পদবী সরাসরি ব্যবহার না করিলেও অন্য কোন পদবী বা এমন কোন পদবী ব্যবহার করিয়াছেন যাহা সৈয়দ বংশোদ্ভূত নয়-তাহা তাহারা উল্লেখ করিতে পানাই।
এরপরে বর্তমানে বাঁচিয়া থাকা বিচ্ছিন্নভাবে ২/১ জন অর্বাচীন বৃদ্ধই কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে সৈয়দ উপাধি দেওয়ার ইজারাদার হইয়া গেল তাহাও তাহারা দর্শাইতে পারেনাই।
আর বিশেষত তাহারা এখনও জ্ঞান লাভ করে নাই যে সৈয়দ বা আওলাদে রসূল মূল্যায়ণ করিতে কেবল সৈয়দ লিখাই অনিবার্য নয়। বরং সমার্থক আরো অনেক পদবী আছে যাহাদ্বারা মূলতঃ সৈয়দ বা আওলাদে রসূলই সাব্যস্ত হয়। যেমন মোর্শেদ, মীর, খন্দকার ইত্যাদি।
-মুহম্মদ মামুনুর রশীদ, ঢাকা।