সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ২৩২তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ তবারুক হুসাইন

ঢাকা

 

সুওয়াল:  নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ (যমীনে আগমন) উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা ফরয বলে আপনারা সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮ নং আয়াত শরীফ দু’খানার যে অর্থ করেছেন তার সাথে একাধিক গ্রহণযোগ্য তরজমা মালানা মাহিউদ্দীন খান (বাংলা), সহীহ ইন্টারন্যাশনাল (ইংরেজী) এবং তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, তাফহীমুল কুরআন, তাফসীরে ইবনে কাছীর কিতাবের কোনরূপ মিল নেই। এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় এবং বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় আজ পর্যন্ত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পূর্ণাঙ্গ কোনো গ্রহণযোগ্য তরজমা বা তাফসীরগ্রš’ রচিত হয়নি। যারা আরবীতে তাফসীর লিখেছেন উনারা অনেক ক্ষেত্রেই কুরআন শরীফ উনার হুবহু শব্দ মুবারকই ব্যবহার করেছেন। অনুরূপ ফার্সী ভাষাষ লিখিত তাফসীরগ্রন্থ সমূহের মধ্যে হুবহু আরবী ভাষায় লিখিত তাফসীর গ্রšে’র অনুসরণ করার কারণে উক্ত দু’ ভাষায় লিখিত তাফসীরগ্রন্থ সমূহের গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু যারা উর্দু, বাংলা কিংবা ইংরেজি ইত্যাদি ভাষায় তরজমা বা তাফসীর গ্রন্থ লিখেছেন উনারা কুরআন শরীফ উনার মর্মবাণী বুঝাতে গিয়ে নিজ ভাষার শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং এক্ষেত্রে উনারা উর্দু, বাংলা, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষায় রচিত অভিধান গ্রন্থের অনুসরণ করেছেন। এছাড়া উনারা নিজেদের কর্মের সাথে কেয়াস করে অনেক ক্ষেত্রে মনগড়াভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। যার কারণে উনাদের লিখিত তরজমা ও তাফসীর গ্রন্থের মধ্যে এমন কিছু ভুলের সমাহার ঘটেছে যা লিখক ও পাঠক সকলকে কাফির ও জাহান্নামী বানানোর জন্য যথেষ্ট। নাউযুবিল্লাহ!

কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় মাত্র দু একটি উদাহরণ এখানে উল্লেখ করা হলো।

(এক) পবিত্র সূরা আনআম ৭৪ নং আয়াত শরীফ উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তরজমা বর্ণনায় মালানা মাহিউদ্দীন খান (বাংলা) সহিহ ইন্টারন্যাশনাল (ইংরেজি) এবং তাফসীর মাআরেফুল কুরআন, তাফহিমুল কুরআন, তাফসীর ইবনে কাসীর) ইত্যাদি সবগুলি তরজমা বা তাফসীরের কিতাবে মূর্তিপূজক আযর নামক ব্যক্তিটিকে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণরূপে ভুল ও কুফরী। কেননা তা মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং সর্বোপরি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্রতম শান বা মর্যাদা মুবারক উনার প্রকাশ্য বিরোধী।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وتقلبك فى الساجدين

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) সিজদাকারীগণ উনাদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেছেন। (পবিত্র সূরা শুআরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)

এ পবিত্র আয়াতে কারীমা দ্বারা প্রতীয়মান হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব পুরুষ আলাইহিমুস সালাম এবং পূর্ব মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলেই পরিপূর্ণ ঈমানদার ও দ্বীনদার ছিলেন। উনাদের কেউই কাফির মুশরিক ছিলেন না।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الى ارحام الطاهرات

অর্থ : আমি সর্বদা পূতঃপবিত্র পুরুষ  ও মহিলা উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছি। (তাফসীরে কবীর)

এছাড়া আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হচ্ছে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারো পিতা ও মাতা উনারা কেউই কাফির-মুশরিক ছিলেন না। তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা তিনি কি করে মূর্তিপূজক তথা মুশরিক হতে পারেন!

অতএব বলার অপেক্ষা রাখেনা, উক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আযর নামক ব্যক্তিটি আসলে উনার পিতা ছিলেন না; বরং উনার চাচা ছিল। সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ابيه  অর্থ উনার পিতা নয় বরং উনার চাচা। আর উনার পিতা হচ্ছেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।

(দুই) সূরা ত্ব-হা শরীফ উনার ১২১নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শেষাংশে

وعصى ادم ربه فغوى

উনার তরজমা বর্ণনায় প্রায় সবগুলি তরজমা ও তাফসীর গ্রন্থ সমূহে উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার পালনকর্তার আদেশ লঙ্ঘণ করলেন, ফলে তিনি পথভ্রান্ত হয়ে গেলেন। নাউযুবিল্লাহ!

এ তরজমা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ হওয়ার কারণে প্রকাশ্য কুফরী। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হচ্ছে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উনারা ওহী ছাড়া কোন কথা বলেননি এবং কোন কাজ করেননি। তাই উনারা সমস্ত গুনাহখতা, ভুল-ভ্রান্তির উর্ধ্বে। উনারা মা’ছূম বা নিষ্পাপ। তাছাড়া হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নবী-রসূল হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই, হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী বা অবাধ্যতাজনিত  কাজ সংঘঠিত হয় কি করে এবং তিনি পথভ্রান্ত বা পথহারা হন কি করে!

প্রকৃতপক্ষে উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ছহীহ অর্থ হচ্ছে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার রব তায়ালা উনার আদেশ মুবারক পালন করলেন অর্থাৎ ফরমাবরদারী করলেন। অতঃপর যমীনে তাশরীফ আনলেন।

(তিন) সূরা দ্বুহা শরীফ উনার ৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ-

ووجدك ضالا فهدى

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তরজমা বর্ণনায় প্রায় সকল তরজমা বা তাফসীরগ্রšে’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পথহারা পেয়েছেন অতঃপর পথ প্রদর্শন করেছেন। নাউযুবিল্লাহ!

এ তরজমা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে জঘণ্য কুফরীর শামিল। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো সৃষ্টিই হয়েছেন মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হিসেবে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে; যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট বর্ণিত রয়েছে।

সুতরাং যাঁর সৃষ্টি নবীউল্লাহ, রসূলুল্লাহ, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে তিনি পথহারা, বিভ্রান্ত হন কি করে! এ তরজমা কোন মুসলমান করতে পারেনা। কেউ করলে তাকে খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। অন্যথায় জাহান্নামী হওয়া ব্যতীত তার কোন জায়ঠিকানা থাকবে না।

প্রকৃতপক্ষে উক্ত আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কিতাববিহীন পেয়েছেন অতঃপর কিতাব প্রদান করেছেন।

এরূপ আরো অনেক বিষয় রয়েছে যা বাংলা, ইংরেজী, উর্দুভাষায় রচিত তরজমা ও তাফসীরের কিতাবগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

সুতরাং, উক্ত আয়াত শরীফসহ আরো অসংখ্য ভুল ও কুফরীমূলক অর্থ ও ব্যাখ্যাসমূহ কথিত গ্রহণযোগ্য তরজমা বলে যেসব লিখকের তাফসীর গ্রšে’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।

কাজেই, যেসব তরজমা বা তাফসীরগ্রš’ ভুল-ত্রুটি ও কুফরীতে পরিপূর্ণ সেসব গ্রš’ আদৌ নির্ভরযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য ও অনুসরণীয় হতে পারে না। সর্বসাধারণের জন্য সেসব গ্রš’ পাঠ করা জায়িয নেই। কারণ কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার জন্য একটা কুফরী আমলই যথেষ্ট।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যাকে তাকে অনুসরণ করা, যার তার নিকট বাইয়াত হওয়া, যার তার পিছনে নামায পড়া, যার তার কাছে ইলম শিক্ষা করা, যার তার ওয়াজ-নছীহত শ্রবণ করা, যার তার লিখনী বা কিতাবাদি পাঠ করা জায়িয নেই।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ولا تطع من اغفلنا قلبه عن ذكرنا واتبع هواه وكان امره فرطا

অর্থ: “ওই ব্যক্তির অনুসরণ কর না, যার ক্বলবকে (গোমরাহীর কারণে)  আমার যিকির থেকে গাফিল করে দিয়েছি। ফলে সে তার নফসের অনুসরণ করে থাকে এবং তার কাজগুলো ত্রুটিযুক্ত অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ হয়ে থাকে।” (সূরা কাহাফ : আয়াত শরীফ ২৮)

অর্থাৎ যে বা যারা ইলমে তাছাওউফ বা তরীক্বতের সবক অনুযায়ী ক্বলবী যিকির করে না এবং এর মাধ্যমে হিংসা, গীবত, অহঙ্কার, মিথ্যা, রিয়া ইত্যাদি বদ খাছলত দূর করে ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করে না, ই”ছায় অনি”ছায় তারা নফস বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে বাধ্য, যার কারণে তাদের কাজগুলি সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ হিসেবে পরিগণিত হয়। ছূরতান (বাহ্যিক দৃষ্টিতে) তাদের কোন কাজ ভাল দেখা গেলেও তা গইরুল্লাহ থেকে মুক্ত নয়।

অপর এক আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

ومن يعش عن ذكر الرحمن نقيض له شيطانا فهو له قرين. وانهم ليصدونهم عن السبيل ويحسبون انهم مهتدون.

অর্থ: “যে বা যারা দয়াময় মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল, তাদের জন্য একটা শয়তান নিযুক্ত বা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। উক্ত শয়তান তাদের সঙ্গী হয়ে তাদেরকে সৎপথ থেকে ফিরিয়ে রাখে অর্থাৎ গুনাহর কাজে লিপ্ত করে দেয়। অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎ পথেই রয়েছে।” (সূরা যুখরূফ : আয়াত শরীফ ৩৬, ৩৭)

কাজেই, যারা ক্বলবী যিকির করে নিজেদের ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করেনি বা করেনা এমন ব্যক্তি বা সম্প্রদায় নফস ও শয়তানের অনুসারী। ফলে তারা পাপ কাজ বা শরীয়ত উনার খিলাফ কাজে লিপ্ত এবং তারা সৎ পথ বা হিদায়েত থেকেও বিচ্যুত। এক কথায় তারা গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট।

ছহীহ “মুসলিম শরীফ”-এ বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان هذا العلم دين فانظروا عمن تاخذون دينكم

অর্থ: “নিশ্চয়ই (কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের) ইলমই হচ্ছে সম্মানিত দ্বীন। সুতরাং কার নিকট থেকে তোমরা ইলম গ্রহণ বা শিক্ষা করছ তাকে দেখে নাও। অর্থাৎ তার ঈমান-আক্বীদা, আমল-আখলাক্ব শুদ্ধ আছে কিনা তথা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ সম্মত কিনা, তা যাচাই করে নাও।”

অতএব, যাদের ঈমান-আক্বীদাতে ত্রুটি বা কুফরী রয়েছে অর্থাৎ যাদের আক্বীদা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুযায়ী নয়। যাদের আমল-আখলাক্বে ত্রুটি রয়েছে অর্থাৎ আমল-আখলাক্ব সুন্নত মুয়াফিক নয়, যাদের মধ্যে তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি নেই, যারা শরীয়ত ও সুন্নতের পাবন্দ নয়, যারা হারাম-নাজায়িয, শরীয়তের খিলাফ কাজে মশগুল, যাদের ক্বলব (অন্তর) পরিশুদ্ধ নয়, যারা ইখলাছ অর্জন করেনি; এমন ব্যক্তির নিকট থেকে ইলমে দ্বীন অর্জন বা শিক্ষা করা এবং ওয়াজ-নছীহত শ্রবণ করা যেরূপ জায়িয নেই তদ্রƒপ তাদের লিখিত কিতাবাদি পাঠ করা ও শ্রবণ করাও জায়িয নেই।

স্মরণীয় যে, কথিত উক্ত তাফসীরকারকদের আক্বীদা ও আমলের মধ্যে বহু অশুদ্ধ ও কুফরী আক্বীদা ও আমল রয়েছে। যেমন মালানা মাহিউদ্দীন খান তার আক্বীদা হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির তৈরি। নাউযুবিল্লাহ। তিনি অন্যান্য মানুষের মতো রক্ত গোশতে গড়া মানুষ, নাউযুবিল্লাহ। তিনি ইলমে গইব সম্পর্কে জানেন না, নাউযুবিল্লাহ! ইত্যাদি। অনুরূপ আক্বীদার অধিকারী মাআরিফুল কুরআনের লেখক পাকিস্তানের মুফতী শফী এবং তাফহীমুল কুরআনের লেখক পাকিস্তানের মওদূদিও। নাউযুবিল্লাহ! এছাড়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে তাদের আরো বহু কুফরী আক্বীদা রয়েছে। তারা মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধী। নাউযুবিল্লাহ! তারা প্রত্যেকেই ছবি তুলেছে, ভোট নির্বাচন করেছে এবং ফরয-ওয়াজিব ফতওয়া দিয়েছে। তাদের মতে মহিলা নেতৃত্ব জায়িয, বেপর্দা হওয়া জায়িয, খেলাধুলা জায়িয ইত্যাদি।

কাজেই, যাদের আক্বীদা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ছানা-ছিফত বর্ণনার বিরুদ্ধে এবং যাদের আমল সম্মানিত শরীয়ত উনার বিরোধী তাদের লিখিত কিতাবাদি কখনোই নির্ভরযোগ্য ও অনুসরণীয় হতে পারে না। বরং তাদের কিতাবাদি পাঠ না করাটা সর্বসাধারণের জন্য ফরয-ওয়াজিব এবং ঈমান ও আমল হিফাযতের কারণ।

পক্ষান্তরে যারা নেককার, পরহেযগার আলিম, আল্লাহওয়ালা, সম্মানিত শরীয়ত ও পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পাবন্দ উনাদেরকে অনুসরণ করতে হবে, উনাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করতে হবে, উনাদের কিতাবাদী পাঠ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واتبع سبيل من اناب الى

অর্থ :“ঐ ব্যক্তির পথ অনুসরণ করো, যিনি আমার দিকে রুজু রয়েছেন অর্থাৎ আল্লাহওয়ালা হয়েছেন।” (পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولى الامر منكم

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর উনাদের আনুগত্য করো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত উলিল আমর উনাদের প্রত্যেকের আনুগত্য এক ও অভিন্ন এবং প্রত্যেকের আনুগত্য বা অনুসরণ ফরয।

অর্থাৎ যিনি উলিল আমর হবেন উনাকে পরিপূর্ণরূপে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসারী বা পাবন্দ হতে হবে। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করার অর্থই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে অনুসরণ করা। যেমন, ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

من يطع الرسول فقد اطاع الله

অর্থ : “ যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করলো, প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্য করলো।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০)

সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা উনাদের পথকে সঠিক পথ বলে ঘোষণা করেছেন এবং উনাদের পথে চলার জন্য বলেছেন। উক্ত নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা উনারা হচ্ছেন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। এ বিষয়টি পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৬৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فسئلوا اهل الذكر ان كنتم لا تعلمون

অর্থ : “ তোমরা যদি (কোন বিষয়ে) না জানো, তাহলে আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালা উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও।” (পবিত্র সূরা নহল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রতীয়মাণ হলো যে, যিনি বা যারা সত্যিকার আল্লাহওয়ালা উনাদেরকে অনুসরণ করতে হবে। কেননা, উনাদেরকে অনুসরণ করা ব্যতীত কারো পক্ষে আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক বান্দা-বান্দী উনাদেরকে আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন।  ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كونوا ربانيين

অর্থ : “তোমরা সকলেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৯)

উল্লেখ্য, যাদের আক্বীদা-আমল সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত ও পবিত্র সুন্নাহ বিরোধী তারা কখনোই হক্কানী-রব্বানী আলিম বা আল্লাহওয়ালা নয়। ফলে তাদের লেখা তরজমা বা তাফসীরগ্রš’ হোক কিংবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুবাদ বা ব্যাখ্যাগ্রš’ হোক অথবা অন্য কিতাবাদী হোক তার মধ্যে ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। কেননা আরবীতে প্রবাদ রয়েছে-

كل اناء يترشح بما فيه

অর্থ : “পাত্রে আছে যা, ঢাললে পড়বে তা।” কাজেই যার আক্বীদা-আমল যেমন, তার বক্তব্য ও লিখনীও তদ্রƒপই হবে।

অতএব, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত অর্থ ও ব্যাখ্যা করতে হলে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার যিনি প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে গভীর মুহব্বত, তায়াল্লুক, নিছবত থাকতে হবে। ইলহাম-ইলকা, ইলমে লাদুন্নী উনার অধিকারী হতে হবে। অন্যথায় তার পক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী অর্থ ও ব্যাখ্যা করা কস্মিনকালেও সম্ভব হবে না।

আরো উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হাক্বীক্বী অর্থ ও ব্যাখ্যা করার জন্য প্রতিটি পবিত্র আয়াত শরীফ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এক আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা হচ্ছে আরেক আয়াত শরীফ। অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে ইলিম না থাকলে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ব্যাখ্যা করা কখনোই সম্ভব নয়।

স্মরণীয় যে, ওহী মুবারক নাযিলের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নতুন কোন পবিত্র আয়াত শরীফ কিংবা কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ নাযিল হবে না। তবে পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অর্থ ও ব্যাখ্যা করার কাজটি অব্যাহত রয়েছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এখানে জানা আবশ্যক যে, মুহাক্কিক মুদাক্কিকগণ বলেছেন, যদিও কিতাবুল্লাহ উনার সহজ সরল ভাষা ও বর্ণনার জন্য সহজেই বোধগম্য এবং বাস্তবায়নযোগ্য তথাপি যমীনে সর্বদাই এমন সকল ব্যক্তির প্রয়োজন থাকবে যারা উনার রহস্যসমূহ উদঘাটন করতে পারেন এবং ইলমি ও আমলি ব্যাখ্যা দিতে পারেন; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে এমন ব্যক্তিদেরকে হযরত আহলু বাইত শরীফ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে তালাশ করা উচিত। এ প্রসঙ্গে আওলাদে রসূল হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ৬ষ্ঠ হিজরী শতাব্দীর সম্মানিত মুজাদ্দিদ উনার একটা বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। এক ব্যক্তি কসম করেছে, সে একটা নির্দিষ্ট সময়ে একটা নেক কাজ একাই করবে উক্ত সময়ে আর কেউই যেনো সে কাজটি করতে না পারে। এটা যদি সে করতে না পারে তাহলে তার আহলিয়া (স্ত্রী) তালাক হয়ে যাবে।

এ মাসয়ালাটি নিয়ে সমসাময়িক অনেক আলিম-উলামা, ফক্বীহ উনাদের নিকট যাওয়া হলো কিন্তু কেউই ফায়সালা দিতে সক্ষম হলেন না। শেষ পর্যন্ত আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট মাসয়ালাটি পেশ করা হলে তিনি সাথে সাথে বললেন, এটা তো একটা সহজ মাসয়ালা, সুুওয়ালকারীকে মক্কা শরীফ যেতে বলো এবং সকলের তাওয়াফ বন্ধ করে দিয়ে সে যেনো একাই তাওয়াফ করে। তার পক্ষে এককভাবে আমল করা সম্ভব হবে। ফলে তার আহলিয়া তালাক হবে না। সুবহানাল্লাহ! এখন মাসয়ালাটি জানার পর সহজ বলেই মনে হচ্ছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মাসয়ালাটি অত্যন্ত কঠিনই ছিল।

এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। তিনি একবার সূরা আর-রহমান শরীফ উনার ছোট্ট একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ-

كل يوم هو فى شأن

উনার তাফসীর করলেন একাধারা দ্ইু বৎসর। তবুও যেন তাফসীর বাকী রয়ে গেল। উনার ভিতরে একটা ফখরের ভাব পয়াদ হলো, নিশ্চয়ই তিনি মস্ত বড় একজন তাফসীরকারক। উনার মতো তাফসীরকারক হয়তো আর কেউ নেই। অন্যথায় একখানা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর দুই বৎসর করার পর বাকী থাকার কথা নয়। এরই মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার ই”ছায় এক আগš‘ক উনার তাফসীরের মজলিসে গিয়ে উনাকে প্রশ্ন করলেন, হুযূর! আপনি তাফসীর করছেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেহ একেক শানে অবস্থান করেন। বলুন তো মহান আল্লাহ পাক তিনি এখন কোন শান মুবারকে আছেন এবং এখন তিনি কি করছেন? এ প্রশ্ন শুনে হযরত ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি চুপ হয়ে গেলেন। কোন উত্তর দিতে পারলেন না।

দ্বিতীয়দিন আবার যখন তিনি তাফসীর করা শেষ করলেন সাথে সাথে উক্ত আগš‘ক ব্যক্তি একই প্রশ্ন করে বসলেন, সেদিনও তিনি কোন জাওয়াব দিতে পারলেন না। তৃতীয়দিনও একই ঘটনা ঘটলো। তিনি যারপর নেই লজ্জিত হলেন। রাতের বেলা তিনি খুব কান্নাকাটি করলেন, তওবা-ইস্তিগফার করলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসীলা দিয়ে ফায়সালা কামনা করে ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নযোগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাক্ষাৎ মুবারক দিয়ে বললেন, হে ইবনে জাওযী! আপনার কি হয়েছে? ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের অক্ষমতার কথা ব্যক্ত করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, যিনি আপনাকে প্রশ্ন করছেন, উনাকে আপনি চিনেন? তিনি বললেন যে, না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, প্রশ্নকারী ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত খিযির আলাইহিস সালাম। তিনি আগামীকালও আসবেন এবং আপনাকে উক্ত বিষয়ে আবার প্রশ্ন করবেন। তখন আপনি জাওয়াবে বলবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন ক্বদীম। উনার শান হচ্ছে আযালী-আবাদী শান মুবারক। কাজেই, তিনি নতুন করে কোন কাজ শুরু করেন না। তিনি শুরুতে যা করেছেন এখনও তাই করেন। তবে কখনও কখনও উনার কোন কোন  শান মুবারক প্রকাশ পায়। সুবহানাল্লাহ!

সত্যিই পরের দিন আগš‘ক ব্যক্তি এসে যখন প্রশ্ন করলেন তখন সহসাই হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রশ্নের জাওয়াব দিয়ে দিলেন। জাওয়াব পেয়ে আগš‘ক ব্যক্তি তিনি বললেন, হে ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি আপনার যিনি নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে ছলাত-সালাম পেশ করুন যিনি আপনাকে আমার সুওয়ালের জাওয়াব জানিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

বোঝা গেল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত পবিত্র কুরআন শরীফ কিংবা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী তাফসীর বা ব্যাখ্যা জানা ও করা সম্ভব নয়।

কাজেই, সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে رحمة – هدى – شفاء – موعظة এবং فضل الله  ও رحمته এসব শব্দ মুবারক উনাদের অর্থ ও ব্যাখ্যা বর্ণনায় কেউ কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ, দীন ইসলাম ইত্যাদি গ্রহণ করেছেন সত্যিই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উক্ত শব্দ মুবারকসমূহের দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। আর এ অর্থ ও ব্যাখ্যাই করেছেন যামানার লক্ষ¯’ল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ¯’ল আওলাদে রসূল, যামানার মুজতাহিদ ও ইমাম, তাজুল মুফাসসিরীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন,  ফখরুল ফুক্বাহা, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিষয়গুলিই হচ্ছে দ্বীন ইসলাম অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ এবং দ্বীন ইসলাম একই বিষয়ের নাম।

আর পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ধারক-বাহক প্রকাশ ও প্রচারকারী হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বান্দা-বান্দী ও উম্মত পেয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে। তিনি হচ্ছেন ছাহিবুল কুরআন শরীফ, ছাহিবুল হাদীছ শরীফ। তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বিষয়গুলি বান্দা-বান্দী ও উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। উম্মাহর মাঝে তিনিই আগে আগমন করেছেন তারপর উনার প্রতি পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার বিধান। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের পরিচয় তিনিই উম্মাহকে জানিয়েছেন। অন্যথায় উম্মাহর পক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে জানার সাধ্য ছিল না এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কেও জানার সাধ্য ছিল না।

অতএব, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, খুশি প্রকাশের কেন্দ্রবিন্দু প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ কিংবা পবিত্র সুন্নাহ শরীফ আদৌ নয় বরং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের যিনি ছাহিব যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই। সুবহানাল্লাহ!

সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হলো-

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

অর্থ: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন উপদেশ দানকারী, তোমাদের অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (স্বীয় উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ অর্থাৎ অপার দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবে উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন; সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশের আমলটি তাদের সমস্ত নেক আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ!

জানা আবশ্যক যে, উক্ত সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে موعظة-شفاء-هدى-رحمة প্রতিটি শব্দ মুবারকই হচ্ছে ইসমে মাছদার অর্থাৎ ক্রিয়ামূল। যা ক্বমূসুল কুরআন, লুগাতুল কুরআন ইত্যাদি কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। আরবী ক্বওয়ায়িদের নিয়মানুসারে মাছদার বা ক্রিয়ামূল শব্দসমূহ সাধারণত ইসমে ফায়িল (কর্তৃবাচ্য) অথবা ইসমে মাফউল (কর্মবাচ্য) উক্ত দু অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কাজেই, আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইসমে ফায়িল বা কর্তৃবাচ্য অর্থে ব্যবহার করাটাই সমধিক ছহীহ। কেননা পরবর্তী ৫৮নং উনার মধ্যে পূর্বের ৫৭নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত শব্দ মুবারকসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছেبفضل الله وبرحته অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত দ্বারা এবং উক্ত শব্দ মুবারকদ্বয় একই অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ উনার ১০৭ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি রহমত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং সূরা ইউনুস শরীফ ৫৮নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে وبرحته শব্দ মুবারক দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই উদ্দেশ্য এবং উনার পূর্বে উল্লেখিত بفضل الله দ্বারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই উদ্দেশ্য। যা বিখ্যাত তাফসীরগ্রš’ তাফসীরে রূহুল মায়ানী, তাফসীরে মুহাররারুল ওয়াজীয, তাফসীরুল মানার, তাফসীরে বয়ানুল মায়ানী, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে যাদুল মাসীর ইত্যাদি তাফসীর গ্রš’সমূহে উল্লেখ রয়েছে।

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুরা।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাপাই নবাবঞ্জ।

সুওয়াল : মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিই যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিতভাবে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর-৭)

সুতরাং উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা থেকে অত্যান্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেহেতু সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাকে যাহিরী এবং বাতিনী উভয় প্রকার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনাদের সর্বো”চ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন এবং উনাকে সর্বো”চ পš’ায় সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেছেন, অতীতের আর কোন হযরত আওলিয়াই কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে এরূপ সর্বো”চ পš’ায় সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রদান করা হয়নি এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত আর কাউকে এরূপ সর্বো”চ পš’ায় খিলাফত মুবারক প্রদান করা হবেও না। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি অবশ্য অবশ্যই সম্মানিত যাহিরী ও সম্মানিত বাত্বিনী খলীফা তথা তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ এবং সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন বিশেষ খলীফা। সুবহানাল্লাহ!

আর ধারাবাহিকতার দিক থেকে যেহেতু আফদ্বলুন নাস, বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি প্রথম খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্ত্বাব আলাইহিস সালাম তিনি দ্বিতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি তৃতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি চতুর্থ খলীফা, খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযতর ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি পঞ্চম খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন, ছাহিবুস সির সাইয়্যিদুনা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ষষ্ঠ খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সপ্তম খলীফা, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অষ্টম খলীফা এবং আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নবম খলীফা। সুতরাং সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি মুবারক ধারাবাহিকতার দিক থেকে অবশ্যই অবশ্যই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে ১০ম খলীফা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মুবারক উসীলায় অতিশীঘ্রই দুনিয়ার যমীনে তথা সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! যদিও কাফির, মুশরিক, ইহুদী, নাছারা, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’রা সেটা অপছন্দ করে থাকে।

এটাই হচ্ছে সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ সম্মত সর্বোত্তম বিশুদ্ধ ফায়সালা। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মুজাদ্দিদে আ’যম, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল আখিরি মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এবং সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অসীম ফযল, করম ও দয়া-দান-ইহসান মুবারক-এ এই বিষয়টি এতো অধিক দলীল সমৃদ্ধ, তাহ্ক্বীক্বপূর্ণ এবং সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, পৃথিবীর কোন ব্যক্তি, সে যেই হোক, আলিম, সূফী, দরবেশ, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাস্সির, ফক্বীহ যা কিছুই দাবি করুক, কেউই  সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত এই বিষয়টি কস্মিনকালেও ভুল প্রমাণ করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। এরপরেও যারা এই ব্যাপারে অপপ্রচার চালাতে চায় এবং মিথ্যা প্রপাগা-া করতে চায় তাদের প্রতি শর্ত সাপেক্ষে প্রকাশ্য বাহাছ ও চ্যালঞ্জ ঘোষণা করা হচ্ছে।

সুতরাং মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মুবারক উছীলায় অতিশীঘ্রই এই দেশ ও সারা পৃথিবীতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। এই ব্যাপারে কোন চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করার কোন অবকাশ নেই। কেননা উনার পবিত্র শান মুবারক-এ সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ ۣ الصَّدَفـِـىِﹼ رَضِىَ اللهُ  تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ بَعْدِىْ خُلَفَاءُ وَبَعْدَ الْـخُـلَفَـاءِ اُمَرَاءُ وَبَعْدَ الْاُمَرَاءِ مُلُوْكٌ وَبَعْدَ الْـمُلُوْكِ جَبَابِرَةٌ وَبَعْدَ الْـجَـبَابِرَةِ يـَخْرُجُ رَجُلٌ مـِنْ اَهْلِ بَـيْـتِـىْ يَـمْلَاُ الْاَرْضَ عَدْلًاـ

“হযরত জাবির ছদাফী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পরে হযরত খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যুগ, হযরত খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর আমীর-উমরাদের যুগ, আমীর-উমারাদের পর রাজা-বাদশাহদের যুগ তথা রাজতন্ত্র। রাজতন্ত্রের পর হবে চরম অত্যাচারী, চরম যালিম, চরম অহঙ্কারী, চরম প্রতাপশালী, চরম লুটেরা, চরম স্বৈরাচারী, চরম নাফরমান, চরম উদ্ধত্য, চরম গুমরাহ, চরম পথভ্রষ্ট, চরম বিভ্রান্ত, চরম গুমরাহকারী, চরম পথভ্রষ্টকারী, চরম বিভ্রান্তকর শাসকদের শাসন ব্যবস্থাতথা জোর জবরদস্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা, যুলুমতন্ত্র তথা সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র। (তখন অবাধ্যতা, ঔদ্ধ্যতা, কঠোরতা, অহমিকা, ধৃষ্টতা, উ”ছৃঙ্খলতা, ফিতনা-ফাসাদ, বেপর্দা-বেহায়া, অত্যাচার-অবিচার, যুলুম-নির্যাতনে, বেইনসাফীতে পুরো পৃথিবী ভরে যাবে, কোথাও পবিত্র ইনসাফ মুবারক উনার লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকবে না।) অতঃপর আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে আমার একজন খাছ আওলাদ, একজন মহান খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুাবরক নিবেন। তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুাবরক নিয়ে পুরো পৃথিবী, সারা কায়িনাত পবিত্র ইনসাফ মুবারক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবেন তথা সারা বিশ্বে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৫ম জিলদ ৪৫৬ পৃষ্ঠা,  আল ইসতিয়াব ফী মা’রিফাতিল আছহাব লিইবনে আব্দিল বার ১ম জিলদ ১৩৭ পৃষ্ঠা)

 

মুহম্মদ আশরাফুল হক

হাসপাতাল রোড, হবিগঞ্জ।

 

সুওয়াল : আহলিয়াকে তালাক দেয়ার পরে পূনঃরায় ফিরিয়ে আনার জন্য যে হিলা পদ্ধতির অবলম্বন করা হয়, তা ইসলামী শরীয়তসম্মত কিনা? দয়া করে দলীল-আদিল্লাহ্সহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব : তালাক সাধারণতঃ দুই প্রকার (১) ছরীহ ও (২) কিনায়া। প্রত্যেক প্রকার তালাক আবার দুই ভাগে বিভক্ত। (১) রিজয়ী ও (২) বাইন।

রিজয়ী তালাক হলো- “কোন স্বামী যদি আহলিয়াকেরিজয়ী তালাক দেয় অতঃপর যদি ফিরিয়ে নিতে চায়, তাহলে বিনা বিবাহে গ্রহণ করতে পারবে। যদি আহলিয়ার ইদ্দত শেষ না হয়ে থাকে। তা এক তালাকে রিজয়ী হোক বা দুই তালাকে রিজয়ী হোক।”

উল্লেখ্য, তালাকে রিজয়ী দুই তালাক পর্যন্তই হয়। আর যদি আহলিয়ার ইদ্দত পার হয়ে যায় তাহলে বিনা বিবাহেআহলিয়াকে গ্রহণ করতে পারবে না।

আর বাইন তালাক হলো- “যা প্রয়োগ করলে বিবাহ ব্যতীত আহলিয়াকে গ্রহণ করা যায়না। যদি তা এক তালাক বাইন বা দুই তালাক বাইন হয়।”

আর যদি তিন তালাক বাইন দেয়, যাকে তালাকে মুগাল্লাজাও বলা হয়। তাহলে সাধারণভাবে বিবাহ দোহরিয়েআহলিয়াকে গ্রহণ করা যাবেনা।

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার “পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার” ২২৯ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

الطلاق مرتن.

অর্থ : “তালাক হচ্ছে দুই বার। অর্থাৎ আহলিয়াকে দুই তালাক দেয়ার পরও বিনা তাহলিলে দুই তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে নিয়ে ঘর সংসার করতে পারবে।”

এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি ২৩০ নংপবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره.

অর্থ : “অতঃপর স্বামী যদি (দুই তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে তৃতীয়) তালাক দেয় তাহলে তিন তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া উক্ত তালাকদাতা স্বামীর জন্য বিনা তাহলিলে হালাল হবেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া অন্য স্বামী গ্রহণ না করবে।”

এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فان طلقها فلا جناح عليهما ان يتراجعا.

অর্থ : “অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী যদি উক্ত আহলিয়াকে তালাক দেয় (অতঃপর ইদ্দত পালনের পর) প্রথম স্বামী ও উক্ত আহলিয়া যদি পূনঃরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তাতে কোন গুণাহ হবেনা।”

উদ্ধৃত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোন স্বামী তার আহলিয়াকে তিন তালাক দেয় তাহলে তালাক প্রাপ্তা আহলিয়া তালাকদাতা স্বামীর জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যায়। এখন যদি তালাকদাতা স্বামী তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে গ্রহণ করতে চায় তাহলে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফয়সালা হলো, তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া তার ইদ্দত পালন করবে অতঃপর অন্যত্র বিবাহ বসবে। বিবাহের পর যদি দ্বিতীয় স্বামী উক্ত আহলিয়াকেআহলিয়া হিসেবে ব্যবহার করে তালাক দিয়ে দেয় এরপর তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া ইদ্দত পালন করে তখন প্রথম স্বামীর জন্য এই আহলিয়াকে বিবাহের মাধ্যমে গ্রহণ করা জায়িয বা হালাল হবে। এ পদ্ধতিকেই অনেকে হিলা বলে উল্লেখ করে থাকে। এটা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ সম্মত।

হিলা শব্দের অর্থ হলো, হালাল হওয়া। এ শব্দটি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ ২৩০ নং আয়াত শরীফ উনার تحل (তাহিল্লু) শব্দ থেকে এসেছে। এটা বাবে ضرب থেকে এসেছে। যার মাদ্দাহ বা মূল হচ্ছে, حلا  (হাল্লান) বা حل (হিল্লুন)। যার অর্থ হচ্ছে হালাল হওয়া।

সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ২৩০ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যেتحل শব্দের ব্যাখ্যায় ‘নূরুল আনওয়ার’ কিতাবে محللية (মুহাল্লিলিয়াতুন) محلل (মুহাল্লিলুন) ইত্যাদি শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। যার অর্থ হলো, দ্বিতীয় স্বামী (প্রথম স্বামীর জন্য) হালালকারী।

এই হিলা পদ্ধতি উপরে বর্ণিত নিয়মই বিশুদ্ধ পদ্ধতি। তবে আরো একটি ছূরত হতে পারে।

উক্ত ছূরত হচ্ছে- যদি কোন স্বামী তার আহলিয়াকে একাধিক সন্তান হওয়ার পর তিন তালাক দিয়ে দেয় তখন আহলিয়া সন্তান ব্যতীত থাকার কারণে চরম অশান্তিতে অবস্থান করে। আর বিপরীত দিকে স্বামীও আহলিয়া ব্যতীত সন্তানদেরকে নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করে। এ অবস্থায় যদি কোন লোক স্বামী-আহলিয়া ও সন্তানদের উপকারার্থে উক্ত তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে ইদ্দতের পর বিনা শর্তে বিবাহ্ ও ব্যবহার করে তালাক দিয়ে দেয় যাতে ইদ্দতের পর প্রথম স্বামী বিবাহ করতে পারে। কারণ এতে প্রথম স্বামী-আহলিয়া ও সন্তানদের শান্তির কারণ হবে। তাহলে উক্ত লোক নিয়ত অনুযায়ী নেকী লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও সমাজে আরো একটি ছূরত জারী রয়েছে। যে সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন। তার ব্যাখ্যা হচ্ছে- তৃতীয় কোন ব্যক্তি অথবা স্বামী নিজে তাদের এই অশান্তি দূর করার লক্ষ্যে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়ার ইদ্দতের পর এই শর্তে বিবাহ্ দেয় যে উক্ত ব্যক্তি তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে বিবাহ করতঃ আহলিয়া হিসাবে ব্যবহার করে অতি সত্তর তালাক দিয়ে দিবে। যদি উক্ত ব্যক্তি শর্ত মোতাবিক কাজ সম্পাদন করে তাহলে উক্ত তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে ইদ্দতের পর বিবাহ করা প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে কিনা? হ্যাঁ হবে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন আসতে পারে যে, শর্ত দিয়ে বিবাহ করা জায়িয রয়েছে কিনা? কারণ সময় নির্দিষ্ট করে বিবাহ করাকে নিকাহে মুতা বলা হয়। যা আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। যা শিয়াদের আক্বায়িদ মতে জায়িয।

এছাড়াও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনরা মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে-

لعن الله الـمحلل والـمحلل له.

অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি লা’নত বর্ষণ করেন, যে হালাল করেছে ও যার জন্য হালাল করা হয়েছে”। (দারিমী, ইবনে মাজাহ)

এর জওয়াবে বলতে হয়, মুতা বিবাহ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম হওয়ার কারণে বিবাহতে কোন শর্ত আরোপ করলে শর্ত বাতিল হয়ে যায় আর বিবাহ শুদ্ধ হিসেবে সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়।

সুতরাং, কোন ব্যক্তি যদি কোন তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে ইদ্দতের পর কোন শর্ত দিয়ে বিবাহ করতঃ ব্যবহার করে তালাক দেয় তাহলে উক্ত তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া তার ইদ্দতের পর প্রথম স্বামীর নিকট পূনরায় বিবাহ বসতে পারবে। অর্থাৎ বিবাহ পড়িয়ে দিলেই প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যাবে। এ বিবাহ সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবেক অবৈধ বলার কোন সুযোগ নেই বরং বৈধ বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি শর্ত দিয়ে বিবাহ করেছে বা দিয়েছে সে ব্যক্তি সম্মানিত শরীয়ত উনাকে অমান্য করার কারণে গুণাহগার হবে তবে তার বিবাহতে কোন ত্রুটি হবে না বরং তার বিবাহ সম্পূর্ণরূপেই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুয়ায়ী বৈধ বলে গণ্য হবে।

উপরোক্ত লা’নত সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলতে হয়, প্রকৃতপক্ষে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা উদ্দেশ্য সকলের প্রতি লা’নত বর্ষণ নয় বরং যারা এ কাজে উৎসাহিত করবে বা এ কাজকে ব্যবসা অথবা পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে তাদের জন্যই লা’নত বর্ষিত হবে। আর যদি কেউ কারো উপকারার্থে বিনা শর্তে এ কাজ করে দেয় তাহলে সে অবশ্যই নেকী লাভ করবে। এটা তার জন্য লা’নতের কারণ হবেনা বরং রহমতের কারণ হবে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে এ কাজে কেউ কাউকে অথবা পরস্পর পরস্পরকে উৎসাহিত না করে। বরং নিরুৎসাহিত করবে এবং খেয়াল রাখবে যেন কেউ এ কাজকে ব্যবসা ও পেশা হিসেবে গ্রহণ না করে।

মানুষের প্রতি ইহ্সান ও উপকার করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واحسنوا ان الله يحب الـمحسنين.

অর্থ :“তোমরা (মানুষের প্রতি) ইহ্সান করো।নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ইহসানকারীদেরকে ভালবাসেন।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯৫)

আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

خير الناس من ينفع الناس.

অর্থ : “মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে পরোপকার করে।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-

هل جزاء الاحسان الا الاحسان.

অর্থ : “ইহ্সানের বদলা কি ইহ্সান ব্যতীত অন্য কিছু হয়?”(পবিত্র সূরা আর রহমান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬০)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-

ارحموا من فى الارض يرحمكم من فى السماء.

অর্থ : “তাদের প্রতি দয়া কর যারা যমীনে রয়েছে। তাহলে যিনি আকাশে রয়েছেন (মহান আল্লাহ পাক) তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

ان احسنتم احسنتم لانفسكم.

অর্থ : “যদি তোমরা ইহ্সান কর তাহলে প্রকৃতপক্ষে নিজের জন্যই ইহ্সান করলে।” (পবিত্র সূরা বণী ইসরাঈল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

অতএব, উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহ ও প্রমাণাদি দ্বারা এটাই ছাবিত হয় যে, হিলা জায়িয নেই একথা বলা শুদ্ধ নয়। কারণ হিলা শব্দের অর্থ হচ্ছে হালাল হওয়া। তাই হিলা জায়িয নেই বলা শুদ্ধ নয় বরং বলতে হবে হিলার জন্য শর্ত-শারায়িত আরোপ করা জায়িয বা শুদ্ধ নয় বরং গুণাহের কারণ।

এরপরেও সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়সালা হলো, শর্ত-শারায়িত আরোপ করা সত্ত্বেও বিবাহ শুদ্ধ হবে এবং দ্বিতীয় স্বামী প্রথম স্বামীর জন্য হালালকারী হবে।

বিশেষভাবে স্মরণীয় যে, এর মূল কারণ হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ পালন করা এবং তালাকদাতা ও তালাকপ্রাপ্তা স্বামী-আহলিয়া ও তাদের সন্তানদের ইতমিনান ও শান্তি দেয়া।

{দলীলসমূহঃ- (১) কুরতুবী, (২) আহকামুল কুরআন, (৩) রুহুল মায়ানী, (৪) তাফসীরে মাযহারী, (৫) আহমদী, (৬) তাফসীরে তাবারী, (৭) ইবনে কাসীর, (৮) মা’রেফুল কুরআন, (৯) তাফসীরে ইবনে আব্বাস, (১০) যাদুল মাসির, (১১) রুহুল বয়ান, (১২) নিশাপুরী, (১৩) খাযেন, (১৪) বাগবী, (১৫) মুনিরী, (১৬) ইবনে আবি হাতিম, (১৭) শায়খ যাদাহ্, (১৮) কাসেমী, (১৯) ইবনে মাযাহ্, (২০) দারেমী, (২১) বুখারী, (২২) মুসলিম, (২৩) মিশকাত, (২৪) ফতহুল বারী, (২৫) উমদাতুল ক্বারী, (২৬) মিরকাত, (২৭) আশয়াতুল লুমুয়াত, (২৮) লুমুয়াত, (২৯) তালিকুছ্ ছবীহ্, (৩০) ত্বীবী, (৩১ মোযাহেরে হক্ব, (৩২) আলমগীরী, (৩৩) শামী, (৩৪) আইনুল হেদায়া, (৩৫) দুররুল মুখতার, (৩৬) বাহরুর রায়েক, (৩৭) হেদায়া, (৩৮) শরহে বেকায়া, (৩৯) কানযুদ্দাকায়েক্ব, (৪০) নেহায়া, (৪১) এনায়া, (৪২) নূরুল আনওয়ার, (৪৩) রদ্দুল মুহতার, (৪৪) গায়াতুল আওতার, (৪৫) কাযিখান, (৪৬) জামিউর রুমুজ, (৪৭) বায্যাযিয়া, (৪৮) ফতহুল ক্বাদীর, (৪৯) কেফায়া, (৫০) মা’দানুল হাক্বায়েক, (৫১) ফতওয়ায়ে আমিনীয়া ইত্যাদি।}

হাফিয মুহম্মদ মাসুদ পারভেজ

বিসকা, তারাকান্দা, মোমেনশাহী

সুওয়াল: কোন ইমাম সাহেব যদি আলিয়া মাদরাসায় চাকরি করেন আর যদি উক্ত মাদরাসায় পর্দার ব্যবস্থানা থাকে তাহলে ঐ ইমামের পিছনে নামায পড়া জায়িয হবে কিনা? এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: কোন ইমাম ছাহিব তিনি আলিয়া মাদরাসায় চাকরি করুন অথবা কওমী মাদরাসায় চাকরি করুন অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করুন না কেন, এটা আলোচ্য বিষয় নয়। বরং আলোচ্য বিষয় হলো ইমাম সাহেব সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক জীবন যাপন করেন কি না? অর্থাৎ ইমাম সাহেব যদি বেপর্দা মেয়েদেরকে পড়ায় যার করণে ইমাম ছাহিবকে বেগানা মেয়েদের প্রতি দৃষ্টি দিতে হয়, কথা বলতে হয়, ইত্যাদি। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে উক্ত ইমাম ছাহিব ফাসিকের অন্তর্ভুক্ত। কেননা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে পর্দা করা ফরযে আইন, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ। ফরয তরককারী ও কবীরা গুনাহে গুনাহগার ব্যক্তি চরম ফাসিকের অন্তর্ভুক্ত।

প্রকাশ থাকে যে, সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে ইমামের জন্য অনেক শর্ত শারায়েত রয়েছে তার মধ্যে দুটি শর্ত উল্লেখযোগ্য।

১। ইমামের জন্য ঈমানদার হওয়া অপরিহার্য। কোন বদ বা বাতিল আক্বীদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ করা জায়িয নেই। এমন ইমামের পিছনে নামায আদায় করলে নামায আদায় হবে না। (দলীল: সমূহ ফিক্বাহ ফতওয়ার কিতাব দ্রষ্টব্য)

২। ইমামের জন্য নেককার হওয়া অপরিহার্য। কেননা কোন ফাসিক ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ করা মাকরূহ। মুছল্লীগণ বা মুক্তাদীগণ ফাসিক ইমামের পিছনে নামায আদায় করলে নামাযের পরিপূর্ণ ফায়দা হাছিল করতে পারবে না। সেজন্য ফাসিক ইমামের পিছনে যে নামায আদায় করা হয় উক্ত নামায মুক্তাদীর জন্য দোহরানো ওয়াজিব।

 সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল – জাওয়াব বিভাগ