পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ২৩০তম সংখ্যা | বিভাগ:

৬২তম পর্ব

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

 

স্মর্তব্য যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহ, পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল কিতাব উনাদের মধ্যে “প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন,  পুতুল ইত্যাদি তৈরি করা-করানো, তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

পবিত্র ফিক্বাহ, ফতওয়া ও উনাদের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়া ও উনাদের ব্যাখ্যামূলক নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য সকল গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র ফিক্বা ও ফতওয়া উনাদের কিতাব থেকে ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ফিকাহ ও ফাতাওয়ার কিতাব থেকে দলীল

সম্মানিত ফিকাহ ও সম্মানিত ফাতাওয়া উনাদের কিতাব উনাদের থেকে প্রমাণিত যে- মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রতিমা, প্রাণীর ছবি ইত্যাদীর অনুশীলন করা হারাম, নাজায়িয, কুফরী ও র্শিকী কাজ।

ফাতাওয়ান্ নাওয়াযিল ফিল্ ফিক্হিল হানাফী

অত্র কিতাব মুবারক খানা লিখেছেন, ইমামুল হুদা, আল-কুদওয়াহ, আল-ফাদ্বিল, আল-কামিল, আল-ফাক্বীহ আবুল্ লাইছ সামরকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী। উনি অত্র কিতাব খানায় ‘নাওয়াদিরুল্ মাসায়িল’ কিতাব সমূহের মাসয়ালা দলীল-আদিল্লাহ সহ একত্রিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ।

উক্ত কিতাবে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রতিমা, প্রাণীর ছবি ইত্যাদীর অনুশীলন সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে তা নি¤েœ পেশ করা হলো-

(১০৩৮)

و يكره ان يصلى و بين يديه او فى ثوبه صورة و كذا بين يديه كانون و فيه نار مؤقدة، وان كان سراجا او قنديلا لا يكره و لو كانت الصورة فى البساط لا يكره. (فتاوى النوازل فى الفقه الحنفى المؤلف: امام الهدى القدوة الفاضل الكامل الفقيه ابو الليث السمرقندى الحنفى رحمة الله عليه الـمتوفى ۳۷۳ هجرى كتاب الصلوة فصل فيما يكره فى الصلوة و ما لا يكره الصفحة ۵۴)

অর্থ: প্রানীর ছবিকে সামনে নিয়ে অথবা প্রাণীর ছবির পোশাক পরিহিত অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তেমনী প্রজ্জলিত অগ্নীকু- সামনে রেখে নামায পড়াও মাকরূহ তাহরীমী। তবে যদি (সিজদার উদ্দেশ্য ছাড়াই শুধু আলো পাওয়ার উদ্দেশ্যে) প্রদীপ ও মোমবাতিকে সামনে রেখে নামায পড়া হয়, তাহলে তাতে নামায মাকরূহ হবে না। অনুরূপভাবে প্রাণীর ছবি বিছানার নিচে (ঢাকা) থাকলে সেখানে নামায পড়া মাকরূহ নয়। (ফাতাওয়ান্ নাওয়াযিল ফিল্ ফিকহিল্ হানাফী লেখক: ইমামুল হুদা, আল-কুদওয়াহ, আল-ফাদ্বিল, আল-কামিল, আল-ফাক্বীহ আবুল্ লাইছ সামরকান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। হিজরী, ওফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: যে সমস্ত কারণে নামায মাকরূহ হয় এবং যে সমস্ত কারণে মাকরূহ হয় না ৫৪ পৃষ্ঠা)

আত-তারজীহ ওয়াত-তাছহীহ

আলাল্ কুদূরী

অত্র কিতাব মুবারক খানা লিখেছেন, আল্লামা  শায়েখ ক্বাসিম বিন ক্বাতলূবাগা মিছরী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৮০২ হিজরী, ওফাত: ৮৭৯ হিজরী।

(১০৩৯)

(وَ يُكْرَهُ) قال القاضى رحمة الله عليه: و يكره ان يصلى و بين يديه او فوق راسه او عن يمينه او عن يساره او فى ثوبه تصاوير. و فى البساط روايتان: و الصحيح انه لايكره على البساط اذا لم يسجد على التصاوير. (الترجيح و التصحيح على القدورى المؤلف: العلامة الشيخ قاسم بن قطلوبغا المصرى الحنفى رحمة الله عليه الولادة ۸۰۲ هجرى الوفاة ۸۷۹ هجرى كتاب الصلوة باب الجماعة)

অর্থ: (যে কারণে মাকরূহ হয়) হযরত ক্বাদ্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: নামাযী ব্যক্তির সামনে, মাথার উপরে, ডানে, বামে অথবা পরিহিত পোশাকে প্রাণীর ছবি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। আর বিছানায় ছবি থাকার ব্যাপারে দু’টি মতামত রয়েছে: তবে ছহীহ মত হলো, বিছানার নিচে প্রাণীর ছবি থাকার কারণে ছবির উপর সিজদাহ না পড়লে নামায মাকরূহ হবে না। (আত-তারজীহ ওয়াত-তাছহীহ আলাল্ কুদূরী লেখক: আল্লামা  শায়েখ ক্বাসিম বিন ক্বাতলূবাগা মিছরী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: ৮০২ হিজরী, ওফাত: ৮৭৯ হিজরী অধ্যায়: নামায পরিচ্ছেদ: জামায়াত সম্পর্কিত)

আল লুবাব ফী শরহিল কিতাব (আল লুবাব লিল মাইদানী আলাল কুদূরী)

অত্র কিতাবখানা লিখেছেন, শায়েখ আল্লামা আব্দুল্ গনী গুনাইমী মাইদানী বিন ত্বালিব বিন হাম্মাদাহ বিন ইবরাহীম হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ১২৯৮ হিজরী।

(১০৪০)

و لا يجوز لبس التصاوير. (اللباب للميدانى على القدورى المؤلف: العلامة الشيخ عبد الغنى الغنيمى الميدانى الحنفى رحمة الله عليه كتاب الحظر و الاباحة)

অর্থ: প্রাণীর ছবি বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করা জায়িয নেই। (আল-লুবাব লিল্ মাইদানী আলাল্ কুদূরী লেখক: শায়েখ আল্লামা আব্দুল্ গনী গুনাইমী মাইদানী বিন ত্বালিব বিন হাম্মাদাহ বিন ইবরাহীম হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ১২৯৮ হিজরী অধ্যায়: আল্ হাযার ওয়াল্ ইবাহাহ)

ফাতাওয়া ক্বাদ্বী খান

(ফাতাওয়ায়ে খানিয়াহ)

অত্র কিতাব মুবারক খানা লিখেছেন, আল্লামা  ইমাম ফখরুদ্দীন খান আবুল্ মাহাসিন হাসান বিন ক্বাদ্বী মানছূর বিন আব্দুল আযীয আওযাজান্দী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মাশহূর: ক্বাদ্বী ইমাম ফখরুদ্দীন খান। ওফাত: ৫৯২ হিজরী।

(১০৪১)

وقال أبو حنيفة رحمه الله تعالى لا بأس بافتراش الحرير والديباج والنوم عليهما وكذا الوسائد والمرافق والبسط والستور من الديباج والحرير إذا لم يكن فيها تماثيل وقال أبو يوسف ومحمد رحمهما الله تعالى يكره جميع ذلك. (فتاوى قاضى خان باب ما يكره من الثياب والحلي والزينة وما لا يكره وما يقبل فيه قول الواحد فى الحل والحرمة وما لا يقبل المؤلف:  الامام فخر الدين خان ابو المحاسن الحسن بن القاضي منصور بن عبد العزيز الأوزجندي الحنفى رحمة الله عليه المعروف بقاضي إمام فخر الدين خان)

অর্থ: ইমাম আ’যম হযরত আবূ হানীফাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রেশমী কাপড়ের বিছানায় শয়ন করে ঘুমানো অসুবিধার নয়। অনুরূপ, রেশমী কাপরের বালিশ, গদি ও পর্দাতে কোনো অসুবিধা নেই, যদি সে কাপড়ে প্রাণীর ছবি না থাকে। কিন্তু হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি উনারা বলেন, উক্ত সবগুলোই মাকরূহ। (ফাতাওয়া ক্বাদ্বী খান পরিচ্ছেদ: মা ইউকরাহু মিনাছ্ ছিয়াব ওয়াল্ হুল্লিয়্যি ওয়ায্ যীনাহ লেখক: ইমাম ফখরুদ্দীন খান আবুল্ মাহাসিন হাসান বিন ক্বাদ্বী মানছূর বিন আব্দুল্ আযীয আওযাজান্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মাশহূর নাম ‘ক্বাদ্বী ইমাম ফখরুদ্দীন খান’ রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

আল-মুহীতুল্ বুরহানী ফিল

ফিকহিন নু’মানী

অত্র কিতাব মুবারক খানা লিখেছেন, আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ বুখারী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। বিলাদত: ৫৫১ হিজরী, ওফাত: ৬১৬ হিজরী।

(১০৪২)

فإن كان فيه علامات الإسلام كالمصحف والدراهم الـمكتوبة فيها الشهادة، وما أشبه ذلك، فهو بمنزلة اللقطة يعرفها حولاً، وإن كان فيه علامات الشرك نحو الصنم والصليب وما أشبهها. (الـمحيط البرهانى كتاب المعادن والركاز والكنوز الفصل السابع فى تعجيل الخراج المؤلف : محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجاري برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির মধ্যে যদি ইসলামী আলামত যেমন সঙ্গে পবিত্র কুরআন মাজীদ, কালিমাতুশ্ শাহাদাহ খচিত মুদ্রা ও অনুরূপ কোন কিছু পাওয়া যায় (তাহলে তাকে মুসলিম হিসেবে ধরে নিতে হবে)। আর যদি তার মধ্যে র্শিক-এর আলামত যেমন সঙ্গে মূর্তি, ক্রুশ ও অনুরূপ কিছু পাওয়া যায় (তাহলে তাকে মুশরিক হিসেবে ধরে নিতে হবে)। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী অধ্যায়: আল-মায়াদিন ওর্য়া রিকায ওয়াল্ কুনূয সপ্তম পরিচ্ছেদ: ফী তা’জীলিল্ খিরাজ লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(১০৪৩)

وفي الجامع الصغير: لو صلى على بساط وفيه تصاوير، ولم يقع سجوده على الصورة لا يكره، ولو وقع سجوده على الصورة يكره؛ لأنه إذا وقع سجوده على الصورة صار المصلى كالـمتعبد للصورة. (الـمحيط البرهانى الفصل الرابع فى الصلاة والتسبيح وقراءة القرآن والذكر والدعاء ورفع الصوت عند قراءة القرآن والذكر والدعاء الـمؤلف : محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجاري برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: ‘আল-জামিউছ্ ছগীর’ কিতাবে বর্ণিত আছে: (প্রাণীর) ছবি যুক্ত বিছানায় যদি নামায পড়ে, এমতাবস্থায় ছবির স্থানে সিজদাহ না দিলে (অর্থাৎ ছবির স্থান ঢেকে রাখলে) নামায মাকরূহ হবে না। কিন্তু যদি (ছবি প্রকাশ করে) ছবির উপর সিজদাহ দেয়, তাহলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। কেননা, প্রাণীর ছবির উপর সিজদাহ দেয়ার কারণে মুছাল্লী ব্যক্তি প্রাণীর ছবি বা মূর্তির উপাসনাকারী হিসেবে পরিগণিত হয়। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিছ্ ছলাহ ওয়াত্ তাসবীহ ওয়া ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া ওয়া রফয়িছ্ ছাওত ইনদা ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(১০৪৪)

وإذا كانت التصاوير على السقف أو فوق رأس المصلي، أو بين يديه، أو بحذائه على الحائط، أو على الستر أو على الوسادة، والوسادة قائمة أو معلقة يكره، وإن كان التمثال مقطوع الرأس، فليس بتمثال. (الـمحيط البرهانى الفصل الرابع فى الصلاة والتسبيح وقراءة القرآن والذكر والدعاء ورفع الصوت عند قراءة القرآن والذكر والدعاء الـمؤلف : محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجاري برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: প্রাণীর ছবি বা মূর্তি যদি ছাদে, মুছাল্লী ব্যক্তির মাথার উপরে, সামনে, সম্মুখ দেয়ালে, লটকানো পর্দায়, বালিশে, গদিতে দাঁড় করনো অথবা লটকানো থাকে; তাহলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। আর যদি প্রাণীর ছবি বা মূর্তির মাথা কাটা থাকে (যা দেখতে গাছের মত), তাহলে তো তা প্রাণীর ছবি বা মূর্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিছ্ ছলাহ ওয়াত্ তাসবীহ ওয়া ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া ওয়া রফয়িছ্ ছাওত ইনদা ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(১০৪৫)

يجب أن يعلم بأن الصورة نوعان؛ صورة جماد كالشجر ونحوه، وصورة حيوان، فصورة الجماد لا يكره اتخاذها والصلاة إليها صغيرة كانت أو كبيرة؛ لأن الصلاة إلى مثل هذه الصورة لا تشبه التعبد؛ لأن مثل هذه لا تعبد. وصورة الحيوان إن كانت صغيرة بحيث لا تبدو للناظر من بعيد لا يكره اتخاذها والصلاة إليها؛ لأن هذا مما لا يعبد، … وإن كانت الصورة كبيرة بحيث تبدو للناظر من بعيد؛ يكره إمساكها والصلاة إليها؛ لأن إمساك الصورة تشبه بمن يعبد الصنم، والصلاة إليها يشبه تعظيمها وعبادتها فتكره، إلا إذا كانت مقطوعة الرأس، فحينئذٍ لا تكره؛ لأن بدون الرأس لا تعبد. (الـمحيط البرهانى الفصل الرابع فى الصلاة والتسبيح وقراءة القرآن والذكر والدعاء ورفع الصوت عند قراءة القرآن والذكر والدعاء الـمؤلف : محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجاري برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: এ বিষয়ে জানা ওয়াজিব যে, ছূরত তথা ছবি-প্রতিকৃতি দু’ প্রকারের। (১) ছূরতু জামাদ অর্থাৎ রূহহীন বস্তু তথা জড়বস্তু যেমন গাছ-পালার আকৃতি এবং (২) ছূরতু হায়াওয়ান অর্থাৎ প্রাণীর আকৃতি।

(১) ছূরতু জামাদ অর্থাৎ রূহহীন বস্তু তথা জড়বস্তুর আকৃতি বা ছবির চর্চা করা মাকরূহ নয়, বরং জায়িয। এমন ছবিযুক্ত স্থানে নামায আদায় করাও মাকরূহ নয়, তা ছোট হোক অথবা বড় হোক। কেননা, এ অবস্থায় এমন স্থানে নামায আদায় করায় মুছাল্লী মূর্তিপূজক বা প্রাণীর ছবি পূজক হয়ে যায় না। (২) আর প্রাণীর ছবি বা আকৃতি ছোট হওয়ার কারণে যদি দূর (ও নিকট) থেকে প্রাণীর ছবি হিসেবে বুঝা না যায়, তাহলে এমন ছবি গ্রহণ করা বা এমন স্থানে নামায আদায় করা মাকরূহ নয়। কেননা, এতে প্রাণীর ছবি বা মূর্তির উপাসনা করা বুঝায় না। আর প্রাণীর ছবি বা আকৃতি বড় হওয়ার কারণে যদি দূর থেকেও প্রাণীর ছবি হিসেবে বুঝা যায়, তাহলে এমন ছবি গ্রহণ করা বা এমন স্থানে নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী হবে। কেননা, এমন প্রাণীর ছবি বা মূর্তি গ্রহণ করার কারণে মুছল্লী ব্যক্তি মূর্তি পূজকের মতো হয়ে যায়। এমন স্থানে নামায পড়ায় প্রাণীর ছবি বা মূর্তিকে সম্মান দেখানো ও তার ইবাদত করার পর্যায়ভুক্ত হয়, তাই তা মাকরূহ তাহরীমী হবে। তবে যদি মাথা কাটা হয় এমতাবস্থায় নামায মাকরূহ হবে না। কেননা, মাথাছাড়া আকৃতি বা ছবি থাকাতে তার উপাসনা করা প্রমাণীত হয় না। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিছ্ ছলাহ ওয়াত্ তাসবীহ ওয়া ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া ওয়া রফয়িছ্ ছাওত ইনদা ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(১০৪৬)

ثم الكراهة في الصورة في حق المصلي على التفاوت بعضها فوق بعض، فأشدها كراهة ما يكون على القبلة أمام المصلي، ودونه في الكراهة ما يكون فوق رأس المصلي، ودونه ما يكون خلفه على الحائط، أو على الستر أو على الوسادة، واتخاذ الصورة في البيوت. (المحيط البرهانى الفصل الرابع فى الصلاة والتسبيح وقراءة القرآن والذكر والدعاء ورفع الصوت عند قراءة القرآن والذكر والدعاء الـمؤلف : محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجارى برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: নামাযী ব্যক্তির পাশে প্রাণীর ছবি বা মূর্তি থাকা মাকরূহ তাহরীমী হওয়ার মাসয়ালায় একটির থেকে আরেকটির পার্থক্য রয়েছে। নামাযীর সামনে ক্বিবলার দিকে প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি থাকা কঠিন মাকরূহ তাহরীমী বা হারাম। তাছাড়াও নামাযীর মাথার উপর প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি থাকা মাকরূহ তাহরীমী। অনুরূপ নামাযীর পিছনে দেয়ালের উপর থাকাও মাকরূহ তাহরীমী। এছাড়াও পর্দার উপর, বালিশের উপর এবং ঘর-বাড়ীতে প্রাণীর ছবি রাখা মাকরূহ তাহরীমী। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিছ্ ছলাহ ওয়াত্ তাসবীহ ওয়া ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া ওয়া রফয়িছ্ ছাওত ইনদা ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(১০৪৭)

الصلاة فى الحمام مكروهة: إذا كان هناك تماثيل، وإن لم يكن والـموضع الذى يصلى فيه طاهر. (الـمحيط البرهانى الفصل الرابع فى الصلاة، والتسبيح، وقراءة القرآن، والذكر، والدعاء ورفع الصوت عند قراءة القرآن والذكر والدعاء الـمؤلف : محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجارى برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: হাম্মাম তথা গোসলখানায় নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী, যদি সেখানে প্রাণীর ছবি-মূর্তি থাকে। কিন্তু যদি সেখানে প্রাণীর ছবি না থাকে তাহলে তা পবিত্র হওয়ায় নামায পড়া যাবে। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিছ্ ছলাহ ওয়াত্ তাসবীহ ওয়া ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া ওয়া রফয়িছ্ ছাওত ইনদা ক্বিরায়াতিল্ কুরআন ওয়ায্ যিক্র ওয়াদ্ দুয়া লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

(১০৪৮)

وكذلك تكره الصلاة فى ثوب فيه تصاوير. (الـمحيط البرهانى فى الفصل بين الاذان و الاقامة الـمؤلف: محمود بن أحمد بن الصدر الشهيد النجارى برهان الدين مازه الحنفى رحمة الله عليه)

অর্থ: যে কাপড়ে (পরিহিত, জায়নামায, বিছানায়) প্রাণীর ছবি থাকে, এমন কাপড়সহ নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। (আল-মুহীতুল্ বুরহানী চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিল্ ফাছলি বাইনাল্ আযান ওয়াল ইক্বামাহ লেখক: আল্লামা  ইমাম মাহমূদ বিন আহমাদ বিন আছ-ছাদরুশ্ শহীদ নাজ্জারী বুরহানুদ্দীন মাযাহ হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)

বাদায়িউছ্ ছনায়ি’ ফী তারতীবিশ্ শারায়ি’

অত্র কিতাব মুবারক খানা লিখেছেন, আল্লামা  ইমাম আলাউদ্দীন আবূ বকর বিন মাসঊদ বিন আহমাদ কাসানী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৫৮৭ হিজরী।

(১০৪৯)

وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رحمة الله عليه وَمُحَمَّدٍ رحمة الله عليه أَنَّهُمْ قَوْمٌ يَعْبُدُونَ الْكَوَاكِبَ ، وَعَابِدُ الْكَوَاكِبِ كَعَابِدِ الْوَثَنِ فَلَا يَجُوزُ لِلْمُسْلِمِينَ مُنَاكَحَاتُهُمْ. (بدائع الصنائع فى ترتيب الشرائع فَصْلٌ: وَمِنْهَا أَنْ لَا تَكُونَ الْمَرْأَةُ مُشْرِكَةً إذَا كَانَ الرَّجُلُ مُسْلِمًا الـمؤلف : علاء الدين ابو بكر بن مسعود بن أحمد الكاساني الحنفى رحمة الله عليه الـمتوفى: ۵۸۷ هجرى)

অর্থ: হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতে, ছাবিয়ীন (দীনত্যাগী)রা এমন সম্প্রদায়, যারা নক্ষত্রের পূজা করে। তারকা পূজারীরা মূলত: মূর্তিপূজকের মতই। মুসলমানদের জন্য তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়িয নেই। (বাদায়িঊছ্ ছনায়ি’ ফী তারতীবিশ্ শারায়ি’ পরিচ্ছেদ: মিনহা আন্ লা তাকূনাল্ র্মায়াতু মুশরিকাতান ইযা কার্না রজুলু মুসলিমান লেখক: আল্লামা  ইমাম আলাউদ্দীন আবূ বকর বিন মাসঊদ বিন আহমাদ কাসানী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৫৮৭ হিজরী)

(১০৫০)

وَعِنْدَهُمَا قَوْمٌ يَعْبُدُونَ الْكَوَاكِبَ، فَكَانُوا فِي حُكْمِ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ، فَتُؤْخَذُ مِنْهُمْ الْجِزْيَةُ إذَا كَانُوا مِنْ الْعَجَمِ. (بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع فَصْلٌ: فى بيان ما يعترض من الانساب الـمؤلف : علاء الدين ابو بكر بن مسعود بن أحمد الكاسانى الحنفى رحمة الله عليه الـمتوفى: ۵۸۷ هجرى)

অর্থ: (হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতে) ছাবিয়ীন (দীনত্যাগী)রা এমন সম্প্রদায়, যারা নক্ষত্রের পূজা করে। তারকা পূজারীদের হুকুম মূর্তিপূজারীদের মতই। অতএব, তারা যদি অনারব হয়, তাহলে তাদের কাছ থেকে জিয্ইয়া আদায় করুন। (বাদায়িঊছ্ ছনায়ি’ ফী তারতীবিশ্ শারায়ি’ পরিচ্ছেদ: ফী বায়ানি মা ইয়া’তারিদু মিনাল্ আনসাব লেখক: আল্লামা  ইমাম আলাউদ্দীন আবূ বকর বিন মাসঊদ বিন আহমাদ কাসানী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৫৮৭ হিজরী)

(১০৫১)

وَرُوِيَ أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَذِنَ لَهُ فَقَالَ كَيْفَ أَدْخُلُ وَفِى الْبَيْتِ قِرَامٌ فِيهِ تَمَاثِيلُ خُيُولٍ وَرِجَالٍ؟ فَإِمَّا أَنْ تُقْطَعَ رُءُوسُهَا أَوْ تُتَّخَذُ وَسَائِدَ فَتُوطَأُ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مَقْطُوعَةَ الرُّءُوسِ فَتُكْرَهُ الصَّلَاةُ فِيهِ ، سَوَاءٌ كَانَتْ فِي جِهَةِ الْقِبْلَةِ أَوْ فِي السَّقْفِ أَوْ عَنْ يَمِينِ الْقِبْلَةِ أَوْ عَنْ يَسَارِهَا ، فَأَشَدُّ ذَلِكَ كَرَاهَةً أَنْ تَكُونَ فِي جِهَةِ الْقِبْلَةِ؛ لِأَنَّهُ تَشَبُّهٌ بِعَبَدَةِ الْأَوْثَانِ…

وَكَذَا يُكْرَهُ الدُّخُولُ إلَى بَيْتٍ فِيهِ صُوَرٌ عَلَى سَقْفِهِ أَوْ حِيطَانِهِ أَوْ عَلَى السُّتُورِ وَالْأُزُرِ وَالْوَسَائِدِ الْعِظَامِ؛ لِأَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ : إنَّا لَا نَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ أَوْ صُورَةٌ، وَلَا خَيْرَ فِى بَيْتٍ لَا تَدْخُلُهُ الْمَلَائِكَةُ…

وَرُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ عليها السلام أَنَّهَا قَالَتْ: {دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِي وَأَنَا مُسْتَتِرَةٌ بِسِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ، فَتَغَيَّرَ لَوْنُ وَجْهِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى عَرَفْتُ الْكَرَاهَةَ فِي وَجْهِهِ، فَأَخَذَهُ مِنِّي وَهَتَكَهُ بِيَدِهِ فَجَعَلْنَاهُ نُمْرُقَةً أَوْ نُمْرُقَتَيْنِ}. (بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع فَصْلٌ: شرائط اركان الصلوة المؤلف: علاء الدين ابو بكر بن مسعود بن أحمد الكاسانى الحنفى رحمة الله عليه الـمتوفى: ۵۸۷ هجرى)

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল্ মুরসালীন নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কাছে আসার জন্য হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে অনুমতি দিলেন। তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি কিভাবে প্রবেশ করি? অথচ ঘরে ঘোড়া ও মানুষের ছবিযুক্ত পর্দা আছে। যদি এগুলোর মাথা কেটে দেয়া হয় (আর তা গাছের মত দেখা যায়) এবং বাকী অংশ দিয়ে বালিশ বানানো হয় তাহলে প্রবেশ করা যাবে। যদি মাথা কাটা না হয়, তাহলে সেখানে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী হবে। অনুরূপ ক্বিবলার দিকে, ছাদের দিকে, ডান দিকে ও বাম দিকে প্রাণীর ছবি থাকলেও নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। তবে, ক্বিবলার দিকে থাকলে শক্ত মাকরূহ তাহরীমী বা হারাম হবে। কেননা, এমন হওয়ার দ্বারা মূর্তি পূজার সাথে সাদৃশ্য হয়।

অনুরূপভাবে, ঐ ঘরে প্রবেশ করা মাকরূহ তাহরীমী যে ঘরের ছাদে, দেয়ালে, পর্দা সমূহে, কাপড়ে ও বালিশে প্রাণীর ছবি আছে। কেননা, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি থাকে। আর যে ঘরে রহমাতের ফেরেশ্তা আলাইহিমুস্ সালাম উনারা প্রবেশ করেন না সে ঘরে কোন খায়ের-বরকত থাকে না। উম্মুল্ মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন: “একদা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আমি একটি ছবিযুক্ত পর্দা লটকিয়েছিলাম। ইহা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল, এমনকি উনার চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ পেল। অতপর তিনি উক্ত পর্দাটি আমার নিকট থেকে গ্রহণ করে নিজ হাত মুবারক দ্বারা ছিড়ে ফেললেন। অতপর আমি উক্ত বাকী অংশ দিয়ে একটি অথবা দু’টি গদি বা বালিশ বানালাম।” (বাদায়িঊছ্ ছনায়ি’ ফী তারতীবিশ্ শারায়ি’ পরিচ্ছেদ: শারায়িতু আরকানিছ্ ছলাহ লেখক: আল্লামা  ইমাম আলাউদ্দীন আবূ বকর বিন মাসঊদ বিন আহমাদ কাসানী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৫৮৭ হিজরী)

(১০৫২)

وَرُوِيَ أَنَّهُ لَمَّا وُجِدَ خَاتَمُ حضرت دَانْيَالَ عليه  السلام عَلَى عَهْدِ حضرت عُمَرَ عليه السلام كَانَ عَلَى فَصِّهِ أَسَدَانِ بَيْنَهُمَا رَجُلٌ يَلْحَسَانِهِ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ فِي ابْتِدَاءِ حَالِهِ، أَوْ لِأَنَّ التِّمْثَالَ فِى شَرِيعَةِ مَنْ قَبْلَنَا كَانَ حَلَالًا، قَالَ اللهُ تَعَالَى فِى قِصَّةِ سُلَيْمَانَ عليه السلام: {يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِنْ مَحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ}، ثُمَّ مَا ذَكَرْنَا مِنْ الْكَرَاهَةِ فِي صُورَةِ الْحَيَوَانِ.

فَأَمَّا صُورَةُ مَا لَا حَيَاةَ لَهُ كَالشَّجَرِ وَنَحْوِ ذَلِكَ فَلَا يُوجِبُ الْكَرَاهَةَ ؛ لِأَنَّ عَبَدَةَ الصُّوَرِ لَا يَعْبُدُونَ تِمْثَالَ مَا لَيْسَ بِذِى رُوحٍ، فَلَا يَحْصُلُ التَّشَبُّهُ بِهِمْ، وَكَذَا النَّهْيُ إنَّمَا جَاءَ عَنْ تَصْوِيرِ ذِي الرُّوحِ لِمَا رُوِيَ عَنْ حضرت عَلِيٍّ عليه السلام أَنَّهُ قَالَ : مَنْ صَوَّرَ تِمْثَالَ ذِي الرُّوحِ كُلِّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهِ الرُّوحَ ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ فَأَمَّا لَا نَهْيَ عَنْ تَصْوِيرِ مَا لَا رُوحَ لَهُ لِمَا رُوِيَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ نَهَى مُصَوِّرًا عَنْ التَّصْوِيرِ؛ فَقَالَ: كَيْفَ أَصْنَعُ وَهُوَ كَسْبِى؟ فَقَالَ : إنْ لَمْ يَكُنْ بُدٌّ فَعَلَيْكَ بِتِمْثَالِ الْأَشْجَارِ. (بدائع الصنائع فى ترتيب الشرائع فَصْلٌ: شرائط اركان الصلوة الـمؤلف : علاء الدين ابو بكر بن مسعود بن أحمد الكاسانى الحنفى رحمة الله عليه الـمتوفى: ۵۸۷ هجرى)

অর্থ: বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফাত আমলে হযরত দান্ইয়াল আলাইহিস সালাম উনার যে আংটিটি পাওয়া গিয়েছিলো সেই আংটির নাগিনের মধ্যে দু’টি সিংহের ছবি ছিল, যার মাঝখানে একজন লোক যাকে সিংহটি চাটতেছে। ব্যাখ্যা করা হয় যে, এটা তো দীন ইসলাম আগমণের পূর্বের ঘটনা, অথবা নিশ্চয়ই আমাদের পূর্ব শারীয়াতে এগুলোর চর্চা করা হালাল ছিলো। যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা বর্ণনা করেছেন,“হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার অনুমতিক্রমে জিনরা যুদ্ধাস্ত্র, ছবি ইত্যাদি তৈরি করতো।” অতঃপর আমাদের শরীয়ত তথা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদিকে মাকরূহ তাহরীমী বা হারাম করা হচ্ছে।

যদি প্রাণহীনের ছবি হয়, যেমন গাছপালা ও অনুরূপ জড়বস্তু তাহলে এতে মাকরূহ তাহরীমী হবে না। কেননা প্রাণহীন বস্তুর ছবি বা প্রতিকৃতি  তৈরি ও চর্চা করাতে উপাসনা প্রমাণিত হয়না এবং মূর্তি পূজার সাথে এগুলোর সাদৃশ্যও হয়না। অনুরূপ প্রাণীর ছবি, মূর্তি ও প্রতিমা নিষেধ তথা হারাম যেমনটি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “দুনিয়াতে যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি, মূতি ভাস্কর্য প্রতিমা প্রতিকৃতি তৈরি করে, কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তিকে তাতে প্রাণ দিতে জোড় তাকিদ দেয়া হবে কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না।” কিন্তু ছবি ও প্রতিকৃতি যদি প্রাণহীন বস্তুর হয় তাহলে তা নিষেধ তথা হারামের আওতাভুক্ত হবে না। যেমনটি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই তিনি একজন অঙ্কনকারীকে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করতে নিষেধ করলেন। তখন সে লোকটি বললো, তাহলে আমি কি করবো অথচ এটা আমার উপার্জনের মাধ্যম? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার অঙ্কন করতেই হয়, তাহলে গাছ-পালার ছবি অঙ্কন করো। (বাদায়িঊছ্ ছনায়ি’ ফী তারতীবিশ্ শারায়ি’ পরিচ্ছেদ: শারায়িতু আরকানিছ্ ছলাহ লেখক: আল্লামা  ইমাম আলাউদ্দীন আবূ বকর বিন মাসঊদ বিন আহমাদ কাসানী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৫৮৭ হিজরী)

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)