পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৫তম পর্ব)

সংখ্যা: ২২২তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহতিয়াতুয্ যোহ্র আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী”  উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং ব্যাখ্যায়, তাফসীর গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল।

লক্ষণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত تماثيل জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা কোন কোন অবস্থায় সরাসরি প্রাণীর ছবি বুঝানো না হলেও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোও একপ্রকার মূর্তি বা ভাস্কর্য। পূর্ব যামানা থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি তৈরি হয় পাথর, কাচ, তামা, লোহা, কাঠ, মাটি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা। আর প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি হয় কলমের কালি, তুলি ও আলো দ্বারা। এই কালি, তুলি ও আলো এগুলোও তো পাথর কাচ ও মাটির মতোই একেকটি উপকরণ। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বর্ণিত تماثيل তামাছীল, শব্দ দ্বারা যদিও প্রাণীর ছবি সরাসরি নিষেধ হয় না। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্যে প্রাণীর ছবিগুলোও একপ্রকার মূর্তি হওয়ায় এগুলোর অনুশীলন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী হিসেবে সাব্যস্ত। এটাই গ্রহণযোগ্য ফয়সালা।

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত আয়াত শরীফগুলো উল্লেখ করে বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার কিতাব থেকে তার ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ

উনাদের তাফসীর

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর : ৪

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

(৯৬৭)

قوله : (وفى كتب التواريخ ان اسمه تارح) صحح بالحاء والمهملة فى القاموس ازر اسم عم ابراهيم واما ابوه فانه تارح. (حاشية القونوى على تفسير الامام البيضاوى تاليف : علامة عصام الدين اسماعيل بن محمد الحنفى الماتريدى رحمة الله عليه المتوفى ۱۱۹۵ هجرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثامن الصفحة ۱۶۱ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: (ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিল হযরত ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম) ক্বামূস তথা অভিধান শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, নুকতাবিহীন ‘হা’ বর্ণবিশিষ্ট تارح ‘তারাহ’ নাম মুবারক পাঠ করাই ছহীহ মত। ‘আযর’ (মূর্তিপূজক) ছিলো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। আর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা হলেন হযরত ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম। যিনি কখনোই মূর্তিপূজা করেননি। (হাশিয়াতুল কুনাবী আলা তাফসীরিল ইমামিল বাইদ্বাবী আল্লামা ইছামুদ্দীন ইসমাঈল বিন মুহম্মদ হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ১১৯৫ হিজরী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম উনা ৭৪ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৮ম খ- ১৬১ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বাইরূত লেবানন)

(৯৬৮)

اخرج ابن ابى شيبة و عبد الله بن حُميد و ابن جرير و ابن المنذر و ابن ابى حاتِم عن مجاهد قال ازر لم يكن بابيه لكنه اسم صنم . (الدر المنثور فى التفسير بالمأثور تأليف: علامة الشيخ جلال الدين عبد الرحمن السيوطى الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه سورة الانعام رقم الاية ۷۴ المجلد الثالث الصفحة ۲۳ (

অর্থ : হযরত ইবনু আবী শায়বাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনু জারীর রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনুল্ মুনযির রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা সকলেই হযরত মুজাহিদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিল না। বরং আযর ছিল একটি মূর্তির (বা মূর্তিপূজকের) নাম। (আদ্ র্দুরুল মানছূর ফিত্ তাফসীর বিল্ মা’ছূর-আল্লামা শায়খ জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান সুয়ূত্বী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সূরাতুল আনয়াম উনার ৭৪ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৩য় খন্ড ২৩ পৃষ্ঠা )

(৯৬৯)

)قَالَ لاَ اُحِبُّ الْافِلِيْنَ) ان اتخذهم اربابا لان الرب لا يجوز عليه التغير و الانتقال لانهما من شأن الحوادث فلم ينجع فيهم ذلك . (تفسير الجلالين سورة الانعام رقم الاية ۷۴(

অর্থ : ( হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যা অস্তমিত হয় তাকে আমি রব হিসেবে পছন্দ করিনা ) তিনি চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্রকে রব হিসাবে মানেননি। কেননা রব তো কখনই পরিবর্তনশীল ও অস্তমিত হওয়ার নয়। আর এগুলোর মধ্যে ধ্বংসের খাছলত রয়েই গিয়েছে। (তাফসীরুল জালালাইন সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর)

(৯৭০)

)قوله واسمه تارَخ ) يقرأ بالخاء المعجمة و الحاء المهملة . ( حاشية الصاوى على تفسير الجلالين سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى  الصفحة ۲۵ المكتبة الفيصلية مكة المكرمة (

অর্থ : (হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম মুবারক ছিল হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম)  تارَخ লফ্যটির শেষ র্হাফটি নুক্তাবিশিষ্ট ‘খা’ এবং নুক্তাবিহীন ‘হা’ উভয় ক্বিরায়াতে পঠিত হয়ে থাকে। (হাশিয়াতুছ্ ছাবী আলা তাফসীরিল জালালাইন সুরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খন্ড ২৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : আল্ মাক্তাবাতুল ফায়ছালিয়াহ মক্কাতুল মুর্কারামাহ)

(৯৭১-৯৭৩)

قاله الْمحققون ان نسب رسول الله صلى الله عليه و سلم مَحفوظ من الشرك فلم يسجد احد من ابائه من عبد الله الى ادم لصنم قط ، و بذلك قال المفسر فى قوله تعالى ” وَ تَقَلُّبَكَ فِى السَّاجِدِيْنَ ” ،  و قال البوصيرى فى الهمزية :

و بدا للوجوه منك كريم + من كريم ابائه كرماء

و اجاب بعضهم ايضا بِمنع ان ازر ابوه بل كان عمه او تارَخ ابوه مات فى الفترة و لم يثبت سجوده لصنم و انما سماه ابا على عادة العرب من تسمية العم ابا و فى التوراة اعم ابى ابراهيم تارَخ . ( حاشية الصاوى على تفسير الجلالين سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى  الصفحة ۲۵ المكتبة الفيصلية مكة المكرمة(

অর্থ : মুহাক্কিকূন তথা হক্কানী-রব্বানী ইমাম মুজতাহিদ আওলিয়া কিরাম রহমতুলাহি আলাইহিম উনারা ফাতাওয়া দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশ সিলসিলা সর্বদাই র্শিক থেকে পুত: পবিত্র ছিল। হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত বাপ-দাদা পূর্ব পুরুষ কেউই কখনই মূর্তিপূজা করেননি। এ বিষয়ে একখানা প্রামাণ্য পবিত্র আয়াত শরীফ এই যে, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন “আমি তো আপনাকে সিজদাকারীগণের মধ্যেই স্থানান্তরিত করেছি”। হযরত ইমাম বূছীরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘আল্ হামযিয়াহ’ কিতাবে বলেন-

“আপনার নিকট থেকে সকলেই ইজ্জত -সম্মান পেয়েছে। আপনি সম্মানিত থেকে সম্মানিত পিতৃপুরুষ হতে আগমণ করেছেন।”

আরো কতক উলামায়ে কিরাম আযরকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা হওয়ার মতকে অস্বীকার করেছেন। বরং উনারা বলেন, আযর ছিল উনার চাচা, সে ছিল কাফির। আর উনার পিতা হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম তিনি ঈমান ইসলাম উনার উপর ইন্তিকাল করেছেন, উনি মূর্তির  উপাসনা করার কোনই প্রমাণ নেই। আরবদের প্রচলিত অভ্যাসানুযায়ী চাচাকে পিতা বলার কারণে পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে চাচার ব্যাপারে ابيه ‘আবীহি’ শব্দটি দ্বারা চাচাকে বুঝানো হয়েছে। আসমানী কিতাব উনার মধ্যে ‘তাওরাত শরীফ’-এ ব্যাপকভাবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা হিসেবে হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম উনাকে উল্লেখ করা হয়েছে। (হাশিয়াতুছ্ ছাবী আলা তাফসীরিল জালালাইন সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খন্ড ২৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : আল্ মাক্তাবাতুল ফায়ছালিয়াহ মক্কাতুল মুর্কারামাহ)

(৯৭৪)

)فائدة) قد جري المفسرون على ان ازر اسم ابيه و هو مشكل بما تقرر فى السير من ان نسبه صلى الله عليه و سلم مطهر من عبادة الاصنام بدليل قوله تعالى ” وَ تَقَلُّّبَكَ فِى السَّاجِدِيْنَ ” . (حاشية الجمل على الجلالين المسماة “الفتوحات الالهية بتوضيح تفسير الجلالين للدقائق الخفية ” : العلامة الشيخ سليمان الجمل رحمة الله عليه سورة الانعام ۷۴ الاية الجزء الثانى الصفحة ۴۹(

অর্থ : (ফায়িদাহ) কতক তাফসীরকারক উনারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম আযর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যা অস্পষ্ট অগ্রহণযোগ্য মত। সীরাত গ্রন্থসমূহে স্থির সিদ্ধান্ত দিয়ে বলা হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নসবনামার সকলেই প্রতিমা উপাসনা থেকে পুত:পবিত্র ছিলেন। প্রমাণ স্বরূপ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বাণী : “আমি তো আপনাকে সিজদাকারীগণ উনাদের মধ্যেই স্থানান্তরিত করেছি”। ( হাশিয়াতুল জামাল আলাল্ জালালাইন মূল নাম : ‘আল ফুতূহাতুল ইলাহিয়্যাহ বিতাওদ্বীহি তাফসীরি জালালাইন লিদ্ দাক্বায়িক্বিল খফিয়্যাহ’ : আল্লামা শায়েখ সুলাইমান আল জামাল রহমতুল্লাহি আলাইহি সুরাতুল আন্য়াম উনার ৭৪ নং আয়াত শরীফ ২য় খন্ড ৪৯ পৃষ্ঠা )

(৯৭৫)

قال الفراء و الزجاج : اسم ابيه تارَخ اجمع عليه النسابون . (تفسير القران  للسمعانى للامام العلامة شيخ الاسلام حجة اهل السنة و الجماعة ابى المظفر السمعانى منصور بن محمد بن عبد الجبار التميمى المروزى الشافعى رحمة الله عليه الولادة : ۴۲۶ هجرى و المتوفى : ۴۸۹ هجرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ المجلد الثانى الصفحة ۱۱۸ دار الوطن الرياض (

অর্থ: হযরত র্ফারা ও যুজাজ রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা বলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম মুবারক ছিল হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সকল বংশতত্ত্ববিদ ঐতিহাসিক উনারা ইজমা’ (ঐক্যমত পোষন) করেছেন। আর শরীয়তের উছূল অনুযায়ী ইজমা’কে অস্বীকার করা কুফরী। (তাফসীরুল কুরআন লিস্ সাময়ানী : ইমাম আল্লামা শায়খুল ইসলাম, হুজ্জাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ আবুল মুজাফ্ফর আস্ সাময়ানী মানছূর বিন মুহম্মদ বিন আব্দুল জাব্বার তামীমী মারূযী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত : ৪২৬ হিজরী ওফাত : ৪৮৯ হিজরী সূরাতুল আনয়াম ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল ওয়াত্বান রিয়াদ)

(৯৭৬)

حدثنا ابو زرعة حدثنا منجاب اخبرنا بشر بن عمارة عن ابى روق عن الضحاك عن ابن عباس قوله ( و اذ قال ابراهيم لابيه آزر) قال ان ابا ابراهيم لم يكن اسمه ازر ، انما كان اسمه تارَح . حدثنا ابى حدثنا يَحيى بن المغيرة اخبرنا جرير عن ليث عن مجاهد قال ليس ازر ابا ابراهيم . (تفسير ابن ابى حاتم التأليف: الامام الحافظ عبد الرحمن بن محمد ابن ادريس الرازى ابن ابى حاتم رحمة الله عليه المتوفى ۳۲۷ هجرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ المجلد الرابع الصفحة ۱۳۲۵ مكتبة نزار مصطفى الباز- مكة المكرمة الرياض(

অর্থ : হযরত ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ যুরয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মিনজাব রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত বিশ্র বিন আম্মারাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ রাওক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত দ্বহ্হাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে খবর দিয়েছেন। (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তিনি  و اذ قال ابراهيم لابيه ازرপবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম কখনই আযর ছিলনা। নিশ্চয়ই উনার পিতার নাম ছিল হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম।

হযরত ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন আমার পিতা। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ইয়াহ্ইয়া বিন মুগীরাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত জারীর রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে খবর দিয়েছেন। তিনি (হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলনা। (তাফসীরু ইবনি আবী হাতিম : ইমাম হাফিয আব্দুর রহমান বিন মুহম্মদ বিন ইদ্রীস র্আ রাযী ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ৩২৭ হিজরী সূরাতুল আনয়াম ৭৪ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৪র্থ খন্ড ১৩২৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : মাক্তাবাহ নাযার মুছ্তফা বায্ মক্কাতুল্ মুর্কারমা রিয়াদ)

(৯৭৭-৯৭৯)

قَالَ الضَّحَّاكُ عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ : اِنَّ اَبَا اِبْرَاهِيْمَ لَمْ يَكُنْ اِسْمُه آزَرَ ، و اِنَّمَا كان اسُمه تارَخ ، رواه ابن ابى حاتم و قال ايضا : حدثنا احمد بن عمرو بن ابى عاصم النبيل ، حدثنا ابى حدثنا ابو عاصم شبيب ، حدثنا عكرمة عن ابن عباس فى قوله (و اذ قال ابراهيم لابيه آزر) يعنى بآزر الصنم ، و ابو ابراهيم اسمه تارَخ ، و امه اسمها شانى ، و امرأته اسمها سارة ، و ام اسماعيل اسمها هاجرة ، هى سرية ابراهيم ، هكذا قال غير واحد من علماء النسب ان اسمه تارَخ ، و قال مجاهد و السدى : آزر اسم صنم. (تفسير ابن كثير  للامام ابى الفداء الحافظ عماد الدين ابن كثير الدمشقى الشافعى الاشعرى رحمة الله عليه سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى الصفحة ۲۴۰ دار الفكر بيروت لبنان(

অর্থ : হযরত দ্বহ্হাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহমা উনার থেকে বর্ননা করেন যে : নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম আযর ছিলনা। নিশ্চয়ই উনার পিতা উনার নাম ছিল হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। যা হযরত ইবনু আবী হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বর্ননা করেছেন। তিনি আরো বর্ননা করেন : আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আহমদ বিন আমর বিন আবূ আছিম নাবীল রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ননা করেছেন আমার পিতা। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত আবূ আছিম শাবীব রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ননা করেছেন হযরত ইকরামাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার থেকে। তিনি و اذ قال ابراهيم لابيه آزر  অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর মুবারক উনার মধ্যে বলেন, এখানে আযর দ্বারা মূর্তিকে বুঝানো হয়েছে।

আসলে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম মুবারক ছিল হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার আম্মা উনার নাম মুবারক ছিল হযরত শানী আলাইহাস সালাম এবং উনার আহলিয়া উনার নাম হযরত র্সারাহ আলাইহাস সালাম। হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার আম্মা উনার নাম ছিল হযরত হাজিরাহ আলাইহাস সালাম। যিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়াও ছিলেন। অধিকাংশ বংশতত্ত্ববিদ উলামা কিরাম উনারা এমনটিই বলেছেন যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা উনার নাম মুবারক ছিল হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। হযরত মুজাহিদ ও সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা বলেন, আযর ছিল মূর্তির নাম। (তাফসীরু ইবনি কাছীর : ইমাম আবুল ফাদা হাফিয ইমাদুদ্দীন ইবনু কাছীর দামিশ্কী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সূরাতুল আনয়াম উনার ৭৪ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খন্ড ২৪০ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল ফিক্র বইরূত লেবানন)

(৯৮০)

لانه ثبت ان اسم ابى ابراهيم تارَخ عليه السلام . (التسهيل لعلوم التَنْزِيل للشيخ الامام العلامة المفسر ابى القاسم محمد بن احمد بن جُزَىّ الكلبى رحمة الله عليه المتوفى ۷۴۱ هجرى سورة الانعام ۷۴ الاية الجزء الاول الصفحة ۲۷۶ دار الكتب العلمية بيروت لبنان(

অর্থ : নিশ্চয়ই এটাই প্রমাণিত আছে যে, অবশ্যই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলেন হযরত তারাখ আলাইহিস সালাম। (আত্ তাসহীল লিউলূমিত্ তানযীল : শায়েখ ইমাম আল্লামা মুফাসসির আবুল ক্বাসিম মুহম্মদ বিন আহমদ বিন জুযায়্যি কালাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ৭৪১ হিজরী সূরাতুল আনয়াম উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ১ম খন্ড ২৭৬ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বইরূত লেবনান)

 

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)