কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

সংখ্যা: ২১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি

জামিয়িত তিরমিযী

(৭৮৫-৭৮৬)

قال النووى: يحتج به من يقول باباحة ماكان رقما مطلقا، وجوابنا وجواب الجمهور عنه انه محمول على رقم على صورة الشجر وغيره مما ليس بحيوان، وقد قدمنا ان هذا جائز عندنا. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۳۰ دار الفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাধারণত প্রাণহীনের ছবি মুবাহ বা বৈধ। আমাদের জাওয়াব ও অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জাওয়াব হলো- রক্বম দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে গাছ-পালা ও যাবতীয় জড়বস্তু, যা প্রাণী নয়। আমরা এ বিষয়ে পূর্বেও আলোচনা করেছি যে, প্রাণহীনের ছবি তৈরি করা বা তোলা আমাদের মতে জায়িয। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খ- ৪৩০ পৃষ্ঠা)

(৭৮৭-৭৮৯)

قال الحافظ فى الفتح: قال ابن العربى: حاصل ما فى اتخاذ الصور انها ان كانت ذات اجسام حرم بالاجماع، وان كانت رقما فاربعة اقوال. الاول: يجوز مطلقا على ظاهر قوله فى حديث الباب الا رقما فى ثوب، الثانى: المنع مطلقا حتى الرقم. الثالث: ان كانت الصورة باقية الهيئة قائمة الشكل حرم، وان قطعت الرأس او تفرقت الاجزاء جاز، قال وهذا هو الاصح. الرابع: ان كان مما يمتهن جاز، وان كان معلقا لم يجز، وقد حكم ابن عبد البر على القول الثالث بانه اعدل الاقوال كما فى التعليق الممجد. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۳۰ دار الفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বুখারী শরীফ-এর শরাহ ‘আল ফাতহুল বারী’ কিতাবে বলেন, হযরত ইমাম ইবনুল আরাবী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই মূল বিধান যে, ইজমা অর্থাৎ সকল ইমাম মুজতাহিদগণের ঐক্যমতে দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা বা অনুশীলন করা হারাম। আর যদি দেহহীন ছবি হয়, তাহলে এ ব্যাপারে চারটি মতামত রয়েছে।

প্রথম মত: রূহহীন গাছপালা ও জড়বস্তুর ছবি জায়িয। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, কাপড়ে প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁকতে অসুবিধা নেই।’

দ্বিতীয় মত: সাধারণত প্রাণীর ছবি তোলা তৈরি করা দেখা দেখানো ও চর্চা করা নিষেধ বা হারাম।

তৃতীয় মত: যদি প্রাণীর ছবিটি স্পষ্ট পরিপূর্ণ ছবি হয়, তাহলে তা হারাম হবে। আর যদি ছবিটি কেটে ফেলা হয় অথবা ছিড়ে ছিন্নভিন্ন করে অস্তিত্ব মিটিয়ে দেয়া হয়, এমতাবস্থায় ওই কাপড় ব্যবহার করা জায়িয। হযরত ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই অধিক বিশুদ্ধ মত।

চতুর্থ মত: প্রাণীর ছবি লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করলে জায়িয। আর যদি সম্মানের জন্য ঘরে লটকিয়ে রাখার জন্য তৈরি করে তাহলে তা হবে নাজায়িয। (তবে এই চতুর্থ মতটি গ্রহনযোগ্য নয়) কারণ সর্বসম্মত ফতওয়া হচ্ছে ছবি বা মূর্তি বা ভাসকর্য যাই হোক না কেন তা লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা সম্মান প্রদর্শনের জন্যই হোক না কেন তা তৈরী করা বা তোলা ইত্যাদি সর্ব অবস্থায়ই হারাম।

হযরত ইবনু আব্দিল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তৃতীয় মতটির প্রতি বিশুদ্ধতার রায় দিয়েছেন। কেননা এ মতটি অধিক ন্যয়সঙ্গত। অনুরূপ ‘আততা’লীকুল মুমাজ্জাদ’ কিতাবে লিখিত আছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খ- ৪৩০ পৃষ্ঠা)

(৭৯০)

ان المراد بقوله: “الا رقما فى ثوب” تصوير غير الحيوان جمعا بين الاحاديث كما صرح به النووى. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۳۱ دار الفكر)

অর্থ: “কাপড়ে রক্বম নিষেধ নয়” অত্র হাদীছাংশ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাণহীনের ছবি। যা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে। যেমনটি হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্পষ্ট বর্ণনা করেছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খ- ৪৩১ পৃষ্ঠা)

(৭৯১-৭৯৩)

قال النووى فى شرح مسلم: هذه الاحاديث يعنى حديث ابن عباس رضى الله تعالى عنه وغيره صريحة فى تحريم تصوير الحيوان وانه غليظ التحريم، واما الشجر ونحوه مما لاروح فيه فلا يحرم صنعته ولا التكسب به، وسواء الشجر المثمر او غيره، وهذا مذهب العلماء كافة الا مجاهدا فانه جعل الشجر المثمر من المكروه، قال قاضى عياض لم يقله احد غير مجاهد. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۳۲ دار الفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘শরহে মুসলিম’-এ বলেন, এই হাদীছ শরীফ তথা বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা ও অন্যান্যগণের থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ থেকে এটাই স্পষ্ট ফায়সালা যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম এবং খুবই শক্ত হারাম। গাছপালা ও প্রাণহীন বস্তু তৈরি করা এবং এর দ্বারা ব্যবসা করা হারাম নয়। অনুরূপ হুকুম ফুল ফলবিশিষ্ট গাছ ও অনুরূপ বিষয়ের। শুধু হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছাড়া এ মতটি সকল উলামাগণের। কেননা, তিনি ফুল-ফলবিশিষ্ট গাছের ছবিকে মাকরূহ তানযীহী বলেছেন। হযরত ক্বাদী আয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এমন মতামত হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত আর কেউ পেশ করেননি। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খ- ৪৩২ পৃষ্ঠা)

(৭৯৪-৭৯৬)

روى البخارى عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام قالت: كنت العب بالبنات عند رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دخل ينقمعن منه فيسربهن الى فيلعبن معى. قال الحافظ: استدل بهذا الحديث على جواز اتخاذ صور البنات واللعب من اجل لعب البنات بهن، وخص ذلك من عموم النهى عن اتخاذ الصور. وبه جزم عياض ونقله عن الجمهور وانهم اجازوا بيع اللعب للبنات لتدريبهن من صغرهن على امر بيوتهن واولادهن. قال وذهب بعضهم الى انه منسوخ، واليه مال ابن بطال. وحكى عن ابن ابى زيد عن مالك انه كره ان يشترى الرجل لابنته الصور، ومن ثم رجح الداودى انه منسوخ. وقد ترجم ابن حبان لصغار النساء اللعب باللعب، وترجم له النسائى اباحة الرجل لزوجته اللعب بالبنات فلم يقيد بالصغار وفيه نظر. قال البيهقى بعد تخريجه: ثبت النهى عن اتخاذ الصور فيحمل على ان الرخصة لعائشة عليه السلام فى ذلك كان قبل التحريم، وبه جزم ابن الجوزى. وقال المنذرى: ان كانت اللعب كالصورة فهو قبل التحريم. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۹ دار الفكر)

অর্থ: ‘বুখারী শরীফ-এর বর্ণনা- উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমি সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। আমার কিছু সাথী-সঙ্গীনী ছিলেন, যাঁরা আমার সাথে খেলতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই ঘরে আসতেন, তখন উনারা উনাকে দেখে লুকাতেন, আর তিনি উনাদেরকে আমার নিকট আসতে বলতেন, আর উনারা এসে আমার সাথে খেলা করতেন।”

হাফিযুল হাদীছ হযরত ইবনু হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, অত্র হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, শিশুর ছূরত বা পুতুল নিয়ে খেলা করা জায়িয। কিন্তু বিশেষত প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ হওয়ার বিষয়টি ব্যাপক। হযরত কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, তিনি জমহুর তথা অধিকাংশ উলামাগণের কাছ থেকে নকল করেছেন যে, উনারা ছোট সন্তান-সন্তুতির জন্য খেলনা পুতুল গ্রহণ করতে অনুমতি দিয়েছেন। তবে কতক উলামা বলেন, (পুতুল দিয়ে খেলা করার বিষয়টি) মানসূখ হয়েছে। এমনটি মত প্রকাশ করেছেন, হযরত ইবনু বাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

হযরত ইবনু আবী যায়িদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে ফায়সালা পেশ করেছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি কোন ব্যক্তির পক্ষে তার সন্তান-সন্তুতির জন্য পুতুল বা ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদী ক্রয় করাকে মাকরূহ তাহরীমী তথা হারাম মনে করতেন। এমনকি হযরত দাঊদী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই (উপরে বর্ণিত বুখারীর হাদীছ শরীফ খানার বিধান) মানসূখ বা রহিত হয়েছে।

হযরত ইবনু হাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘মহিলাদের খেলা’ নিয়ে একখানা পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি একটি পরিচ্ছেদের শিরনাম নিয়েছেন এইভাবে যে, ‘কোন লোকের পক্ষে তার স্ত্রীর সাথে পুতুল খেলা মুবাহ, এতে ছোট হওয়া অবশ্যাম্ভাবি নয়।

শরীয়ত-এর চূড়ান্ত ফায়সালা হচ্ছে:

হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আমভাবে সকল প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ বা হারাম। কিন্তু হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে পুতুল খেলার ইখতিয়ার দেয়ার বিষয়টি ছিল প্রাণীর ছবি-মূতি-ভাস্কর্য হারাম ঘোষণার পূর্বের ঘটনা। এমনটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন হযরত ইবনুল জাওযী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহিও। হযরত মুনযিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পুতুল-মূর্তি নিয়ে খেলা করা প্রমাণিত থাকলেও এ ঘটনা ছিল প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম ঘোষণা করার পূর্বের।

অর্থাৎ, পুরুষ-মহিলা, ইনসান-জিন, ছোট-বড়, শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ, বালক-বালিকা, কারো পক্ষে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য, পুতুল, প্রতিকৃতি ইত্যাদীর চর্চা, অনুশীলন করা ্এবং এগুলোর দ্বারা খেলা করা জায়িয নয়, বরং কাট্টা হারাম। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খ- ৪২৯ পৃষ্ঠা)

আল হাওয়াশিল মুফীদাতুল ক্বদীমাহ আলা সুনানিত তিরমিযী

তিরমিযী শরীফ-এর উক্ত হাশিয়াখানা লিখেছেন- মাওলানা মুহাদ্দিছ আহমদ আলী সাহারানপূরী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

তিরমিযী শরীফ-এর অত্র হাশিয়াখানায় প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৭৯৭-৭৯৯)

قوله نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصورة فى البيت لما ورد فى الصحيحين ان البيت الذى فيه الصورة لا يدخله الملائكة. (حاشيه جامع ترمذى كتاب اللباس باب ماجاء فى الصورة رقم الحاشية ۳ الجلد ۱ الصفحة ۳۰۵ اشرفى بك ڈپو ديوبند (یوپی) انڈیا)

অর্থ: হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য রাখতে নিষেধ করেছেন। যেমনটি বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত আছে। যে ঘরে বা স্থানে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। অর্থাৎ এতসব দলীল থেকে প্রমাণীত যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরী করা হারাম। (হাশিয়ায়ে জামিউত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান হাশিয়া নং-৩, ১ম খ- ৩০৫ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: আশরাফী বুক ডিপো দেওবন্দ (ইউপি) ইন্ডিয়া)

সুনানুন নাসায়ী বিশরহিস সুয়ূতী

সুনানুল নাসায়ী (তথা ‘আল মুজতাবা’, ‘আস সুনানু ছগীরাহ’) কিতাব-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থখানা লিখেছেন, দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হাফিয ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ৮৪৯ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৯১১ হিজরী।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে, তা উল্লেখ করা হলো-

(৮০০)

(قراما) بكسر القاف هو الستر الرقيق وقيل الصفيق من صوف ذى الوان وقيل الستر الرقيق وراء الستر الغليظ. (سنن النسائى بشرح السيوطى كتاب الزينة باب التصاوير الجلد ۸ الصفحة ۲۱۳ دار البشائر الاسلامية بيروت لبنان الطبعة الثانية ۱۴۰۶  هـ ۱۹۸۶ م)

অর্থ : (পর্দা) ق বর্ণে যের যোগে পড়তে হবে। ক্বিরাম হচ্ছে পাতলা কাপড়ের পর্দা। কেউ বলেন, রঙ্গিন পশমি কাপড়ের পুরু পর্দা। কারো মতে, মোটা পর্দার সাথে পাতলা কাপড়ের পর্দা। অর্থাৎ যে পর্দায় প্রাণীর ছবি থাকবে, তা মোটা, পুরু, পাতলা ইত্যাদি যে শ্রেণীরই হোক না কেন, তা লটকানো বা ব্যবহার করা হারাম। (সুনানুন নাসায়ী বিশরহিস সুয়ূতী অধ্যায় : সাজ-সাজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তি- ভাস্কার্যের বিধান ৮ম খণ্ড ২১৩ পৃষ্ঠা প্রকাশনা- দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়াহ বইরূত লেবানন, ২য় প্রকাশ ১৪০৬ হিজরী ১৯৮৬ মীলাদী)

হাশিয়াতুস সিন্দী আলান নাসায়ী

এই ব্যাখ্যা গ্রন্থখানা লিখেছেন হযরত আল্লামা ইমাম সিন্দী রহমতুল্লাহি।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য সম্পর্কে বা বর্ণিত হয়েছে, তা হলো-

(৮০১)

(اشد الناس) اى من اشد الناس (الذين يضاهون) يشبهون الله تعالى فى خلقه (تلون وجهه) اى تغير غضبا لله. (حاشية السندى على النسائى كتاب الزينة ذكر اشد الناس عذابا الجلد ۸ الصفحة ۲۱۴ دار البشائر الاسلامية بيروت لبنان الطبعة الثانية ۱۴۰۶ هـ ۱۹۸۶ م)

অর্থ : (মানুষের কঠিন শাস্তি) অর্থাৎ মানুষের মধ্যে কতকের কঠিন শাস্তি হবে (যারা সাদৃশ্য তৈরি করে) মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে। (উনার চেহারা মুবারক লাল বর্ণ ধারণ করলো) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রাগে উনার চেহারা মুবারক পরিবর্তন হলো। (হাশিয়াতুস সিন্দী আলান নাসায়ী অধ্যায়: সাজ-সজ্জা প্রসঙ্গ: যে সমস্ত লোকের কঠিন শাস্তি হবে ৮ম খণ্ড ২১৪ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়াহ বইরূত লেবানন ২য় প্রকাশ ১৪০৬ হিজরী ১৯৮৬ মীলাদী)

(৮০২)

(من صور صورة) اى صورة ذى روح. قوله (عذب حتى ينفخ) قد جعل غاية عذابه بنفخ الروح واخبر انه ليس بنافخ فيلزم انه يبقى معذبا دائما وهذا فى حق من كفر بالتصوير بان صور مستحلا او لتعبدا ويكون كافرا فى الاصل واما غيره وهو العاصى بفعل ذلك غير مستحل له. (حاشية السندى على النسائى كتاب الزينة ذكر ما يكلف اصحاب الصور يوم القيامة الجلد ۸ الصفحة ۲۱۵)

অর্থ : (যে সমস্ত ব্যক্তি ছূরত তৈরি করবে) অর্থাৎ প্রাণীর ছবি বা মূর্তি তৈরি করবে (তাকে উহাতে প্রাণ না দেওয়া পর্যন্ত শাস্তি দিতে থাকা হবে) শাস্তি ততোদিন চলবে যতদিন রূহ বা প্রাণ দিবে না। এ বর্ণনা দ্বারা এটা বুঝানো হয়েছে যে, তারা প্রাণও দিতে পারবে না অতএব তাদের সার্বক্ষনিক শাস্তি হতেই থাকবে। সার্বক্ষনিক চিরস্থায়ী আযাব হবে তাদেরই যারা এগুলোর অনুশীলন করাকে হালাল মনে করবে অথবা ইবাদত করার জন্য মূর্তি-ভাস্কর্য প্রাণীর ছবি তৈরি করবে। যেহেতু এরূপ ব্যক্তিই মূলত: কাফির। আর হালাল মনে না করলে ও উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরি না করলে, সে ব্যক্তি কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার হবে। (হাশিয়াতুস সিন্দী আলান নাসায়ী অধ্যায়: সাজ-সজ্জা প্রসঙ্গ- মূর্তি-ভাস্কর্য প্রাণীর ছবি তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন তাতে প্রাণ দিতে চাপ প্রয়োগ করা হবে ৮ম খণ্ড ২১৫ পৃষ্ঠা)

হাশিয়াতুত থানুবী আলান নাসায়ী

‘নাসায়ী শরীফ’-এর অত্র হাশিয়াহ গ্রন্থখানা লিখেছেন মাওলানা আশরাফ আলী থানূবী হানাফী। অত্র হাশিয়ায় প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে, তা হচ্ছে-

(৮০-৮০৪)

قوله اشد الناس الخ هذا محمول على من فعل الصورة لتعبد وهو صانع الاصنام ونحوها فهذا كافر وهو اشد عذابا وقيل هذا فيمن قصد المعنى الذى فى الحديث من مضاهاة خلق الله تعالى واعتقد ذلك فهذا كافر له من اشد العذاب ماللكفار ويزيد عذابه بزيادة قبح كفره فاما من لم يقصد بها العبادة ولا المضاهاة فهو فاسق صاحب ذنب كبير ولايكفر كسائر المعاصى. (حاشية التهانوى على النسائى كتاب الزينة ذكر اشد الناس عذابا الجلد ۲ الصفحة ۳۰۰ رقم الحاشية ۳ مكتبه تهانوى ديوبند ضلع سهارنفور يوپی ان ڈیا)

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বানী : “ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যারা প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য তৈরি করতো।” এর তাৎপর্য হলো- যারা ইবাদত (বা উপাসনা, পূজা)-এর জন্য মূর্তি ভাস্কর্য প্রাণীর ছবি তৈরি করবে তারাই মূর্তি পূজক এ জন্য তারা কাফির। আর এদেরই কঠিন শাস্তি হবে। হাদীছ শরীফ দ্বারা মূলত: এটাই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি করে তাদের আক্বীদাহ বিশ্বাসের কারণেই তারা কাফির। এই কাফিরদের কঠিন শাস্তি হবে এবং তাদের কুফরীর কারণে শাস্তিকে বৃদ্ধি করতেই থাকা হবে। আর যাদের উদ্দেশ্য ইবাদত করা নয় এবং সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি করা নয়, তারা ফাসিক বা কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার। তাদের গুনাহগুলো কুফরী নয়, বরং ফিসক। (হাশিয়াতুত আনুবী আলান নাসায়ী অধ্যায় : সাজ-সজ্জা প্রসঙ্গ : ঐ সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যারা প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্য তৈরি করে ২য় খণ্ড ৩০০ পৃষ্ঠা ৩নং হাশিয়াহ প্রকাশনা : মাকতারায়ে থানুবী দেওবন্দ জেলা : সাহারানপূর ইউপি ভারত শরহুন নুবাবী লিল মুসলিম)

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০