কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

সংখ্যা: ১৯৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি। আল্লাহ পাক-এর অশেষ রহ্মতে গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহরের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-এর দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে æছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, æনির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, æরাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, æরাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ æগুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে æছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ æছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে æছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-এর ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় æউমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-এর রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই æপ্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

সুনানুন্ নাসায়ী

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন মুহাদ্দিছ, মুফাস্সির হযরত আবূ আব্দির রহমান আহমদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী ইবনে সিনান ইবনে বাহার ইবনে দীনার নাসায়ী খুরাসানী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জš§ মুবারক: ২১৫ হিজরী মতান্তরে ২১৪ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৩০৩ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৬৭)

عن على رضى الله تعالى عنه قال صنعت طعاما فدعوت النبى صلى الله عليه وسلم فجاء فدخل فراى سترا فيه تصاوير فخرج وقال ان الملائكة لا تدخل بيتا فيه تصاوير.

অর্থাৎ হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি একদা খাদ্য প্রস্তুত করে সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে দাওয়াত করলাম। তিনি এসে ঘরে প্রবেশ করে ঘরের ভিতর একটি পর্দায় প্রাণীর ছবি দেখতে পেয়ে ঘর থেকে বের হলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের  ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে। (বাবুত্ তাছাবীর ৫ম খ- ৫০০ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৬৮)

عن على رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ঐ ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি, কুকুর ও অপবিত্র জিনিস থাকে। (বাবুল জুনুব ইয়া লাম ইয়াতাওয়াদ্দ্বা ১ম খ- ১২১ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৬৯)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صور صورة كلف يوم القيامة ان ينفخ فيها الروح وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি অঙ্কন করবে ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে তাতে প্রাণ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে পারবে না। (বাবুত তাছাবীর ৫ম খ- ৫০২ পৃষ্ঠা)

সুনানু ইবনে মাজাহ

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন হযরত ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ ক্বাযবীনী রায্য়ী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জš§ মুবারক: ২০৯ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৭৩ হিজরীর ২২ রমাদ্বান শরীফ। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭০)

عن ابى طلحة رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة.

অর্থ: হযরত আবূ তালহাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না যে সমস্ত ঘরে বা স্থানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি থাকে। (বাবুছ ছুওয়ারি ফিল বাইত ২য় খ- ১২০৩ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭১)

عن على بن ابى طالب رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: ان الملائكة لا تدخل بيتا فيه كلب ولا صورة.

অর্থ: হযরত আলী ইবনে আবূ ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে সমস্ত ঘরে বা স্থানে কুকুর বা প্রাণীর ছবি থাকে। (বাবুছ ছুওয়ার ফিল বাইত ২য় খ- ১২০৩ পৃষ্ঠা)

 

সুনানুদ দারিমী

 

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন আল্লামা আবু মুহম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জš§ মুবারক: ১৮১ হিজরী, ওফাত মুবারক: ২৫৫ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭২)

عن على رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال ان الملائكة لا تدخل بيتا فيه كلب ولا صورة ولا جنب.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রহমতের ফেরেশতাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর (শিকারী কুকুর এ হুকুমের বাইরে), প্রাণীর ছবি ও নাপাকী থাকে। (বাবুন লা তাদখুলুল মালায়িকাতু বাইতান ফীহি ২য় খ- ৩৬৯ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা দারুল কিতাবিল আরাবী বইরূত ১ম প্রকাশ ১৪০৭ হিজরী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৩)

عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه قال قالت عائشة رضى الله تعالى عنها كان لنا ثوب فيه تصاوير فجعلته بين يدى النبى صلى الله عليه وسلم وهو يصلى فنهانى او قالت فكرهه.

অর্থা: হযরত আব্দুর রহমান বিন ক্বাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, আমাদের একটি ছবিযুক্ত কাপড় ছিল, যা আমি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সামনে নামায পড়ার জন্য পেশ করেছিলাম কিন্তু তিনি তা নিষেধ করেছেন। অথবা উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, এতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। (বাবুন ফিন নাহী আনিত্ তাছাবীর ২য় খ- ৩৬৯ পৃষ্ঠা)

 

মুসনাদুল বায্যার

 

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন মুহাদ্দিছ, আল্লামা, ফক্বীহ, আবূ বকর বায্যার রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ২৯২ হিজরীর। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৪)

عن على رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال لا تدخل الملائكة بيتا فيه جنب ولا كلب ولا صورة.

অর্থ: হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না, যে ঘরে নাপাকী, কুকুর ও প্রাণীর ছবি (ভাস্কর্য-মূর্তি) থাকে। (মুসনাদুল বাযযার: মুসনাদ আলী বিন আবী ত্বালিব ১ম খ- ৪৯৯ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৫)

عن زيد بن خالدن الجهنى رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة ولا كلب قال وسمعته يقول: الا رقما فيه ثوب.

অর্থ: হযরত যায়িদ বিন খালিদ জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ঐ ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি ও কুকুর থাকে। রাবী বলেন, আমি উনার কাছ থেকে আরো শুনেছি, উনি বলেছেন, কাপড়ে প্রাণহীন বস্তুর ছবি থাকলে অসুবিধা নেই। (মুসনাদুল বাযযার: মুসনাদু যায়িদ বিন খালিদ জুহানী ৫ম খ- ২৪৮ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৬)

عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐসব ব্যক্তির সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে, যারা ছবি তোলে, আঁকে, রাখে, দেখে। (মুসনাদুল বায্যার: মুসনাদ আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২য় খ- ৪৭২ পৃষ্ঠা)

 

শরহু মাআনিল আছার (ত্বহাবী শরীফ)

 

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। যাতে হানাফী মাযহাবের মাসয়ালাগুলো অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমান করা হয়েছে। কিতাবখানা লিখেছেন হযরত ইমাম আহমদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে সালমাহ আয্দী হাজরী ত্বহাবী মিছরী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জš§ মুবারক: ২২৯ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৩২১ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৭)

عن اسامة بن زيد رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم انه دخل الكعبة فراى فيها صورة فامرنى فاتيته بدلو من ماء فجعل يضرب به الصور يقول قاتل الله قوما يصورون ما لا يخلقون.

অর্থ: হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বা শরীফ-এ প্রবেশ করে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন। অতপর তিনি আমাকে এক বালতি পানি আনতে বললে আমি নিয়ে আসলাম। তখন তিনি তা ছবিগুলোর উপর দিয়ে ছবিগুলো মুছে ফেললেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক ঐ জাতিকে ধ্বংস করুন, যারা এমন প্রাণীর ছবি তৈরি করে, যা তারা সৃষ্টি করতে অক্ষম। (শরহু মায়ানিল আছার লিত ত্বহাবী বাবুছ্ ছুওয়ার তাকূনু ফিছ্ ছিয়াব ৪র্থ খ- ২৮৩ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৮)

عن ابى طلحة رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة.

অর্থ: হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে। (বাবুছ্ ছুওয়ার তাকূনু ফিছ ছিয়াব ৪র্থ খ- ২৮২ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৭৯)

عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا مستترة بقرام ستر فيه صورة فهتكه ثم قال ان اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله عز وجل.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, একদা সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আমি একটি ছবিযুক্ত পর্দা টানিয়েছিলাম। ইহা দেখে তিনি পর্দাটি ছিড়ে ফেললেন। এরপর বললেন, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি হবে, যারা আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-উনার সৃষ্টির সদৃশ কোন কিছু তৈরি করে। (বাবুছ ছুওয়ারি তাকূনু ফিছ ছিয়াব ৪র্থ খ- ২৮৩ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৮০)

عن عون بن ابى جحيفة اخبرنى عن ابيه قال: لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المصور.

অর্থ: হযরত আউন বিন আবূ জুহাইফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা হযরত আবূ জুহাইফাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে। তিনি বলেন: সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীদের উপর অভিশম্পাত বর্ষণ করেছেন। (বাবুছ্ ছুওয়ার তাকূনু ফিছ্ ছিয়াব ৪র্থ খ- ২৮৬ পৃষ্ঠা)

ছহীহ ইবনে হিব্বান

এ কিতাবখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। কিতাবখানা লিখেছেন ইমাম হাফিয মুজাব্বিদ, মুহাদ্দিছ, মুয়াররিখ, শাইখু খুরাসান, আল্লামা আবূ হাতিম মুহম্মদ বিন হিব্বান বিন আহমদ বিন হিব্বান বিন মুয়ায বিন মা’বাদ তামীমী দারিমী বুসতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। বিলাদত শরীফ: ৩৫৪ হিজরী। ওফাত মুবারক: ৪৬৫ হিজরী। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৮১)

عن عوف قال حدثنى سعيد بن ابى الحسن قال كنت عند ابن عباس فاتاه رجل فقال انى رجل معيشتى من هذه التصاوير فقال ابن عباس رضى الله تعالى عنه سمعت محمدا صلى الله عليه وسلم يقول من صور صورة فان الله يعذبه حتى ينفخ فيه الروح وليس بنافخ فاصفر لونه فقال ان كنت لابد فعليك بالشجر وما ليس فيه روح.

অর্থ: হযরত আউফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সাঈদ বিন আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমি একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-উনার কাছে ছিলাম, এমন সময় উনার কাছে জনৈক এক ব্যক্তি আসলেন এবং বললেন: আমি এমন একজন ব্যক্তি আমি প্রাণীর ছবি অঙ্কন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন: আমি হযরত সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শ্রবণ করেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি কোন প্রাণীর ছবি অঙ্কন করবে, মহান আল্লাহ পাক এজন্য তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাতে প্রাণ না দিবে। কিন্তু সে তাতে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না। অতঃপর উনার চেহারা মুবারক অন্য রং ধারণ করলো। তৎপর বললেন, তোমার যদি ছবি আঁকতে হয়, তাহলে গাছ-গাছালির ছবি আঁক এবং যে সমস্তের প্রাণ নেই সেগুলির ছবি অঙ্কন করতে পার। (বাবুছ ছুওয়ার ওয়াল মুছাব্বিরীন ১৩ খ- ১৫৯ পৃষ্ঠা; প্রকাশনা: মুয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, বইরূত) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৮২)

عن عبد الله بن نجى عن ابيه قال سمعت عليا يحدث عن النبى صلى الله عليه وسلم انه قال لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন নুজা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি ছাহাবী হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে শ্রবণ করেছি। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। নিশ্চয়ই উনি (রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: ঐ সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি, কুকুর ও নাপাকী থাকে। (বাবু আহকামিল জুনুব ৪র্থ খ- ৫ পৃষ্ঠা) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৮৩)

عن جابر بن عبد الله ان النبى صلى الله عليه وسلم امر عمر بن الخطاب رضى الله تعالى عنه زمن الفتح وهو بالبطحاء ان يأتى الكعبة فيمحو كل صورة فيها فلم يدخلها النبى صلى الله عليه وسلم حتى محيت كل صورة فيها.

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা বিজয়ের সময় বাত্বহা নামক স্থানে থেকে হযরত উমর ফারূক বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ করলেন, তিনি যেন কাবা শরীফে প্রবেশ করে সমস্ত প্রাণীর ছবি-মূর্তিগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেন। হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত মূর্তি-ছবি ধ্বংস না করা পর্যন্ত কা’বা শরীফ-এর অভ্যন্তরে ঢুকেননি। (বাবুছ ছুওয়ারি ওয়াল মুছাব্বিরীন ১৩ খ- ১৬৮ পৃষ্ঠা)

 

‘মাছাবীহুস সুন্নাহ’ ও ‘মিশকাতুল মাছাবীহ’

 

এ কিতাব দুখানা হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব। মূলতঃ ‘মিশকাতুল মাছাবীহ’ কিতাবখানা ‘মাছাবীহুস সুন্নাহ’- কিতাবের বর্ধিত সংষ্করণ। ‘মাছাবীহুস্ সুন্নাহ’ কিতাবখানার লিখক হযরত ইমাম মুহইস্ সুন্নাহ আবূ মুহম্মদ হুসাইন ইবনে মাসঊদ ফাররা বাগবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জš§ মুবারক:৪৩৬ হিজরী। ওফাত মুবারক: ৫১৬ হিজরী। শাওয়াল মাস ৮০ বছর বয়স মুবারকে।

‘মিশকাতুল মাছাবীহ’ কিতাবখানার লিখক (বা বর্ধিত সংষ্কারক) হযরত শাইখ মুহাদ্দিছ ওয়ালি উদ্দীন আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ খতীব তাবরিযী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৮৪-১০২)

عن ابى طلحة رضى الله تعالى عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم لا تدخل الملئكة بيتا فيه كلب ولا تصاوير

অর্থ: হযরত আবূ তাল্হা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ফেরেশ্তাগণ সেই ঘরে প্রবেশ করেন না যাতে কুকুর রয়েছে এবং সেই ঘরেও না, যাতে আছে (প্রাণীর) ছবি। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১০৩-১১৪)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه عن ميمونه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم  اصبح يوما واجما وقال ان جبريل كان وعدنى ان يلقانى الليلة فلم يلقنى اما والله ما اخلفنى ثم وقع فى نفسه جرو كلب تحت فسطاط له فامر به فاخرج ثم اخذ بيده ماء فنضح مكانه فلما امسى لقيه جبرئيل فقال لقد كنت وعدتنى ان تلقانى البارجة قال اجل ولكنا لا ندخل بيتا فيه كلب ولا صورة فاصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ فامر بقتل الكلاب حتى انه يامر بقتل كلب الحائط الصغير ويترك كلب الحائط الكبير.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত মায়মূনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। একদিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চিন্তিত অবস্থায় ভোর করলেন এবং বললেন, জিবরাঈল আলাইহিস ওয়া সাল্লাম এ রাতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে ওয়াদা করেছিলেন কিন্তু সাক্ষাৎ করেননি। আল্লাহ পাক-উনার কসম! তিনি তো কখনো আমার সাথে কথা দিয়ে খিলাফ করেননি। অতঃপর উনার মনে পড়ল ঐ কুকুর ছানাটির কথা, যা উনার তাঁবুর নীচে ছিল। তখনই তিনি ওটাকে সেখান থেকে  বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। এর পর ওটাকে বের করে দেয়া হলো। অতঃপর কুকুরটি যে জায়গায় বসা ছিল, তিনি সে জায়গায় কিছু পানি নিজ হাতে নিয়ে ছিটিয়ো দিলেন। পরে যখন বিকাল হলো, হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি উনার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, গত রাতে আপনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করার ওয়াদা করেছিলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, (সাক্ষাতের ওয়াদা করেছিলাম) কিন্তু আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর বা প্রাণীর ছবি থাকে। পরের দিন সকালে রসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কুকুর মেরে ফেলার জন্য নির্দেশ দিলেন, এমন কি ছোট ছোট বাগানের (হিফাযতে রক্ষিত) কুকুরগুলিকেও মারার হুকুম দিলেন (কেননা, এর জন্য কুকুর পোষার প্রয়োজন নেই,) তবে বড় বড় বাগানের কুকুরগুলিকে ছেড়ে দেন। (অর্থাৎ, এগুলোকে মারতে বলেননি।) (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১১৫-১২৮)

عن عائشة ان النبى صلى الله عليه وسلم لم يكن يترك فى بيته شيئا فيه تصاليب الا نقضه

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপন গৃহে (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কোন জিনিসই রাখতেন না; বরং তা ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলতেন। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১২৯-১৪৮)

عن عائشة رضى الله تعالى عنها انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فلما راها رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على الباب فلم يدخل فعرفت فى وجهه الكراهية قالت فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتوب الى الله والى رسوله ماذا اذنبت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بال هذه النمرقة قلت اشتريتها لك لتقعد عليها وتوسدها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اصحاب هذه الصور يعذبون يوم القيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم وقال ان البيت الذى فيه الصورة لا تدخل الملئكة.

অর্থ: হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। একবার তনি একটি গদি (বা আসন) খরিদ করলেন। এতে প্রাণীর অনেকগুলি ছবি ছিল। তখন রসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বাহির হতে) তিনি এটা দেখলেন, দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ঘরে প্রবেশ করলেন না। আমি উনার চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের নিকট তওবা করছি। বলুন তো, আমি কি করেছি? তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই গদিটি কেন? আমি বলিলাম, আপনার বসার এবং বিছানা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমি এটা খরিদ করেছি। তখন রসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই সমস্ত ছবি যারা তৈরী করেছে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা বানিয়েছ তাতে জীবন দান কর, অতঃপর বললেন, ফেরেশতাগণ কখনো এমন ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১৪৯-১৫৬)

عن عائشة رضى الله تعالى عنها انها كانت قد اتخدت على سهوت لها سترا فيه تماثيل فهتكه النبى صلى الله عليه وسلم فاتخت منه نمرقتين فكانتا فى البيت يجلس عليهما.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। একবার তিনি ঘরের জানালায় একটি পর্দা ঝুলিয়েছিলেন। এতে ছিল প্রাণীর প্রতিকৃতি। তখন হাবীবুল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটাকে ছিড়ে ফেললেন। অতঃপর উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সে কাপড়ের খ- দ্বারা দুটি বালিশ বানিয়ে নিলেন এবং সেটা ঘরের মধ্যেই ছিল। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটাতে হেলান দিয়ে বসতেন। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১৫৭-১৭৫)

عن عائشة رضى الله تعالى عن النبى صلى الله عليه وسلم قال اشد الناس عذابا يزن القيمة الذين يضاهون بخق الله.

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন সবচাইতে কঠিন আযাব ভোগ করবে এমন সব লোক যারা আল্লাহ পাক-উনার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যতা করে। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১৭৬-১৯৪)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول قال الله تعالى ومن اظلم ممن ذهب يخلق كخلقى فليخلقوا ذرة اواليخلقوا حبة او شعيرة

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ পাক বলেন, আমার সৃষ্টির মত করে যে ব্যক্তি (কোন প্রাণী) সৃষ্টি করতে যায়, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে? সুতরাং (যদি তারা এমনই দাবি করে, তাহলে) তারা একিট পিঁপড়া বা শস্যদানা কিংবা একটি যব সৃষ্টি করুক তো দেখি। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(১৯৫-২১৩)

عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اشد الناس عذابا عند الله المصورون

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে ছবি প্রস্তুতকারীদের। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(২১৪-২৩১)

 عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كل مصور فى النار يجعل له بكل صورة صورها نفسا فيعذبه فى جهنم قال ابن عباس فان كنت لابد فاعلا فاصنع الشجر وما لا روح فيه.

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক ছবি প্রস্তুতকারী জাহান্নামী। সে যতগুলি ছবি তৈরী করেছে (কিয়ামতের দিন) সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান করা হবে এবং জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তিনি বলেন, যদি তোমাকে একান্তই ছবি তৈরী করতে হয়, তাহলে গাছ-গাছাড়া এবং এমন জিনিসের ছবি তৈরী কর, যার মধ্যে প্রাণ নেই। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(২৩২-২৫০)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من تحلم بحلم لم يره كلف ان يعقد بن شعيرتين ولن يفعل ومن استمع الى حديث قوم وهم له كارهون او يفرون منه صب فى اذنيه الانك يوم القيمة ومن صور صورة عذب وكلف ان ينفخ فيها وليس بنافخ.

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি এমন স্বপ্নের কথা বর্ণনা করবে, যা সে দেখেনি, তাকে (কিয়ামতের দিন) দু’টি যবের বীজে গিঁট লাগানোর জন্য বাধ্য করা হবে। অথচ সে কিছুতেই গিঁট লাগাতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি অন্য লোকদের আলোচনা কান পেতে শুনবে, অথচ তারা এ ব্যক্তির শুনাটা পছন্দ করে না অথবা তারা এ ব্যক্তি হতে দূরে থাকতে চায়, ক্বিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। আর যে লোক (কোন প্রাণীর) ছবি তৈরী করবে, তাকে শাস্তি দেয়া হবে এবং ঐগুলিতে প্রাণ দান করার জন্য বাধ্য করা হবে, অথচ সে কিছুতেই প্রাণ ফুঁকতে পারবে না। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ১ম পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(২৫১-২৬৭)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتانى جبرئيل عليه السلام قال اتيتك البارحة فلم يمنعنى ان اكون دخلت الا انه كان على الباب تماثيل وكان فى البيت قرام ستر فيه تماثيل وكان فى البيت كلب فمر براس التمثال الذى على باب البيت فيقطع فيصير كهيئة الشجرة ومر بالستر فليقطع فليجعل وسادتين منبوذتين توطان ومر بالكلب فليخرج ففعل رسول الله صلى الله عليه وسلم.

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হযরত জিবরায়ীল আলাইহিস্ সালাম আমার কাছে এসে বললেন, আমি গত রাতে আপনার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে আমাকে যে জিনিসে বিরত রেখেছিল তা হলো গৃহদ্বারের ছবিগুলি এবং ঘরের দরজায় একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল, এতে ছিল অনেকগুলি প্রাণীর ছবি। আর ঘরের অভ্যন্তরে ছিল একটি কুকুর। (বস্তুত যেই ঘরে এ সমস্ত জিনিস থাকে আমরা সে ঘরে প্রবেশ করিনা।) সুতরাং ঐসব প্রতিকৃতিগুলির মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিন, যা ঘরের দরজায় রয়েছে, এটা কাটা হলে তখন এটা গাছ-গাছড়ার আকৃতি হয়ে যাবে এবং পর্দাটি সম্পর্কে নির্দেশ দিন, এটাকে কেটে দুটি গদি তৈরী করে নিবে, যা বিছানা এবং পায়ের নীচে থাকবে। আর কুকুরটি সম্পর্কে নির্দেশ দিন, যেন ওটাকে ঘর হতে অবশ্যই বের করে দেয়া হয়। সুতরাং রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই করতে বললেন। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ২য় পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, তিরমিযী শরীফ, তুহফাতুল আহওয়াযী, আরিদ্বাতুল আহওয়াযী, উরফুশ শাযী, মায়ারিফুস সুনান, আবু দাউদ শরীফ, বযলুল মাজহুদ, আউনুল মা’বূদ, শরহু বদরিদ্দীন আইনী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(২৬৮-২৮০)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج عنق من النار يوم القيمة لها عينان تبصران واذنان تسمعان ولسان ينطق يقول انى وكلت بثلثة بكل جبار عنيد وكل من دعا مع الله الها اخر وبالمصورين.

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নাম হতে এমন একটি ঘাড় বের হবে যার থাকবে দুটি চক্ষু যারা দেখবে এবং থাকবে দুটি কান যারা শুনবে এবং কথা বলার জন্য থাকবে রসনা। বলবে, আমাকে তিন শ্রেণীর লোকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে (যাদেরকে জাহান্নামে টেনে আনব)। এক. প্রত্যেক উদ্ধত যালিম, দুই. ঐসব লোক যারা আল্লাহ পাক-উনার সাথে অন্যকে মা’বুদ হিসেবে ডাকে এবং  তিন. ছবি অঙ্কনকারীদের জন্য। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ২য় পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, তিরমিযী শরীফ, তুহফাতুল আহওয়াযী, আরিদ্বাতুল আহওয়াযী, উরফুশ শাযী, মায়ারিফুস সুনান) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(২৮১-২৯৪)

عن سعيد بن ابى الحسن قال كنت عند ابن عباس اذ جاءه رجل فقال يا ابن عباس انى رجل انما معيشتى من صنعة يدى وانى اصنع هذه التصاوير فقال ابن عباس لاأحدثك الا ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعته يقول من صور صورة فان الله معذبه حتى ينفخ فيه الروح وليس بنافخ فيها ابدا فربا الرجل ربوة شديدة واصفر وجهه فقال ويحك ان ابيت الا ان تصنع فعليك بهذا الشجر وكل شىء ليس فيه روح.

অর্থ: হযরত সায়ীদ ইবনে আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় উনার নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমি এমন ব্যক্তি, হস্তশিল্পই হল আমার পেশা। আমি এ সকল ছবি তৈরী করে থাকি। তখন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বললেন, আমি তোমাকে তাই বর্ণনা করব, যা আমি রসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ছবি তৈরী করবে, আল্লাহ্ ত’য়ালা তিনি নিশ্চয়ই তাকে শাস্তি দিবেনÑযে পর্যন্ত না সে ওর মধ্যে প্রাণ ফুঁকবে, অথচ সে কস্মিনকালেও ওতে প্রাণ দিতে পারব না। এ কথা শুনে লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভীষণভাবে হতাশ হয়ে পড়ল এবং তার মুখম-ল ফ্যাকাসে হয়ে উঠল।) তার অবস্থা দেখে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আফসোস তোমার প্রতি! যদি তুমি এ পেশা ছাড়া অন্য কিছু করতে না চাও, তাহলে এ সকল গাছ-গাছড়া এবং এমন সব জিনিসের ছবি নির্মাণ কর যার মধ্যে প্রাণ নেই। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ৩য় পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(২৯৫-৩১৩)

 عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت لما اشتكى النبى صلى الله عليه وسلم ذكر بعض نسائه كنيسة يقال لها مارية وكانت ام سلمة وام حبيبة اتتا ارض الحبشة فذكرتا من حمنها وتصاوير فيها فرفع راسه فقال اولئك اذا مات فيهم الرجل الصالح بنوا على قبره مسجدا ثم صوروا فيه تلك الصور اولئك شرار خلق الله.

অর্থ: হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হাবীবুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বিছাল শরীফ-এর প্রাক্কালে) অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন উনার আহলিয়াগণের কেউ (আবিসিনিয়ার) উনারা মারিয়া গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) হযরত উম্মে সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও উম্মে হাবীবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হিজরত করে হাবশা দেশে গিয়েছিলেন। তারা ঐ গির্জার সৌন্দর্য এবং তাতে যে সকল ছবি ছিল তার বর্ননা করলেন। (এ কথা শুনে) হাবীবুল্লাহ ছাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাথা উঠিয়ে বললেন, তারা এমন এক সম্প্রদায়, যখন তাদের মধ্যে নেক বান্দাহ মারা যেত, তখন তারা ঐ ব্যক্তির কবরের উপরে মসজিদ বানিয়ে নিত। অতঃপর তথায় তারা এ সকল ছবি বানাত, বস্তুত তারা আল্লাহ পাক-উনার সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ৩য় পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল কারী, ইরশাদুস্ সারী, শরহুল কিরমানি, তাইসীরুল বারী, মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী আলাল মুসলিম, আল মুফহিম, ফতহুল মুলহিম লিশ্ শিববীর আহমদ উছমানী, ফতহুল মুলহিম লিত তকী উছমানী) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৩১৪-৩২১)

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اشد الناس عذابا يوم القيامة من قتل نبيا او قتله نبى او قتل  احد والديه والمصورون وعالم لم ينتفع بعلمه

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন সবচাইতে কঠিন আযাব হবে সে ব্যক্তির, যে কোন নবী আলাইহিস সালাম-উনাকে কতল করেছে। অথবা যে ব্যক্তি তার পিতা বা মাতার মধ্যে কাউকে কতল করেছে। আর ছবি প্রস্তুতকারীদের এবং ঐ আলিম যে নিজের ইলম হতে উপকৃত হয়না। (অর্থাৎ ইলম মুতাবিক আমল করে না।) (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ৩য় পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ) এ কিতাবে প্রাণীর ছবি সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে তা হলো-

(৩২২-৩৩০)

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتى دار قوم من الانصار ودونهم دار فشق ذلك عليهم فقالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم تأتى دار فلان ولا تأتى دارنا قال النبى صلى الله عليه وسلم لان فى داركم كلبا قالوا ان فى دارهم سنورا فقال النبى صلى الله عليه وسلم السنور سبع

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায়শ এক আনসারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার ঘরে আসা-যাওয়া করতেন। অথচ উনাদের নিকটেই অন্য আরেকটি ঘর আছে, (কিন্তু তিনি সে ঘরে যেতেন না।) এতে সে গৃহবাসীর মনঃকষ্ট হলো। তখন তারা বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি অমুকের ঘরে আসেন, অথচ আমাদের ঘরে আসেন না। (এর কারণ কি?) উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যেহেতু তোমাদের ঘরে কুকুর আছে। তখন উনারা বললেন, উনাদের ঘরে তো বিড়াল রয়েছে। (আমরা তো মনে করি কুকুর ও বিড়াল উভয়টি একই শ্রেণীর প্রাণী।) তখন হাবীবুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, বিড়াল তো একটি পশু মাত্র। (মিশকাতুল মাছাবীহ কিতাবুল লিবাস বাবতু তাছাবীর ৩য় পরিচ্ছেদ, মিরকাত, শরহুত ত্বীবী, আত্ তালীকুছ ছবীহ, মুযাহিরে হক্ব, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মিরয়াতুল মানাজীহ, দারা কুতনী)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০