প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন? ইমামদের প্রতি মার্কিন মহিলা রাষ্ট্রদূত মেরী এ্যান পিটার্সের নছীহত ও প্রসঙ্গঃ কথা

সংখ্যা: ১০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

            প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, “বাংলাদেশ তালেবান হলে তার মত মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয় কি করে?” এটাই ছিল তার প্রশ্নের জিজ্ঞাসা।             প্রসঙ্গতঃ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বৃত ‘তালেবান’ শব্দটি শুধু ‘আফগান তালেবান’ ভুক্ত নয়। বরং প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত এই তালেবান আরো ব্যাপক অর্থে প্রয়োগ হয়েছে। এটি মূলতঃ সমস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে নির্দেশিত হয়েছে। কারণ একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ইসলাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান কখনই নারী নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনা।  যেহেতু যাঁকে উপলক্ষ্য করে, যাঁেক রসূল মেনে বেদ্বীন মুসলমান হয়, যাঁর কথার দ্বারাই ইসলামের রূপ পরিগ্রহ লাভ করেছে, সেই আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বলেন। মশহুর হাদীস শরীফে যা ব্যক্ত হয়েছে, “যে জাতির নেতা হয় মহিলা সে জাতির প্রতি লা’নত।” তা মূলতঃ আজকের নামধারী ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মীসহ সকলেরই জানা। কিন্তু তারপরেও ‘মহিলা হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া গেল কিভাবে?’ এটা অবশ্যই মুসলিম প্রধান দেশের জন্য এক মারাত্মক প্রশ্ন!   এ প্রশ্ন মূলতঃ এটাই প্রতিভাত করে যে, সংশ্লিষ্ট মহল তাদের আদর্শ ও নীতিবোধ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আলিম নামধারীদের এ ধরণের বিচ্যুতির স্বীকৃতি অবশ্য হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, “আখিরী জামানায়(আলিম নামধারী) এমন কিছু মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা এমন সব কথা বলবে, যা তোমরা শোননি, তোমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ শোনেনি। তোমরা তাদের কাছে যেয়োনা, তাদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিয়োনা। তবে তারা তোমাদের গোমরাহ করতে পারবেনা।”          এই হাদীস শরীফের সত্যতা আমরা দেখতে পাই, আজকের নামধারী শাইখুল হাদীস, শাইখুত্ তাফসীর, মুফতী-মাওলানা ও তথাকথিত ইমামদের মাঝে। দ্বীনের শাইখরা ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন, নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিবেন, নারী নেতৃত্বের সাথে জোট বাঁধা তো দূরের কথা, নারী ব্যক্তিত্বের সাথে ছবি তোলা, একই সঙ্গে অবস্থান করা তো অসম্ভব কথা; এমনকি কম বয়সী বালিকাও তাদের সাথে দেখা করতে চাইলে তাক্বওয়া হেতু তাকেও নিরুৎসাহিত করা হবে, দ্বীনের আলিম-বুযূর্গদের কাছে ধর্মপ্রাণ মুসলমান মাত্রই এরূপটি আশা করেন।   ধর্মপ্রাণ মুসলমান ঐতিহ্যগত ভাবেই জেনে  আসছেন, তারা সব সময়ই দেখতে অভ্যস্ত, বিশ্বাস করতে প্রবৃত্ত যে, তাদের ইমাম ছাহেবরাই ওয়াজ-নছীহত করে বেড়ান। মহিলাদের নছীহত শোনার জন্য পর্দার আঁড়ালে ইন্তেজাম করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে কোন কোন উৎসুক গ্রাম্য মহিলা পর্দার ফোঁকর দিয়ে এক নজর ওয়ায়েজীন ছাহেবের শ্মশ্রুমন্ডিত, ভারিক্কি চেহারা দেখে নিজ কৌতুহল নিবৃত্ত করেন। এটাও এযাবতকাল মানুষ জেনে এসেছে।     কিন্তু নারী নেতৃত্ব জায়িয, নারী জোট হালাল, নারী নেতৃত্বের বলয়ে বর্তমান, জোট সরকারের সুবাদে, শরাব-সুদ, সিনেমা, টি.ভি, ভি.সি.আর, ডিস, চরিত্রহননকারী উপযোগ, সন্ত্রাস, রাহাজানী, ঘুষ, বঞ্ছনা, দুর্নীতি ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বর্তমান আলিম নামধারীদের সহায়তায় কথিত জোট সরকার দেখেও বরং মানুষের বিস্ময়ের বিস্ময় বরদাশত্ করতে পারত।     কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলমানের বিস্ময়ের বিস্ময়ও খেই হারিয়ে ফেলে, যখন তারা দেখে যে, জোট সরকার সমর্থিত আলিমরা, ইমামরা ইসলামের নামে কেবল উপরোক্ত হারামকেই হালাল করে ক্ষ্যান্ত হচ্ছেনা; বরং তারা এখন ইসলামের পুরো রূপরেখাই পাল্টিয়ে দিতে প্রবৃত্ত।    যে কথা ইতোপূর্বে বলা হয়েছে। এতদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দেখে আসছে যে, ইমামরাই রাজা, উজীর, মন্ত্রী, সেনাপতি, পাত্র-মিত্র, কোটাল সবাইকে নছীহত করতে। কিন্তু জোট সরকারের ইমামদের কৃপায় তারা দেখতে পাচ্ছে যে, এখন খোদ ইমাম ছাহেবরাই ওয়াজ-নছীহত শুনতে সচেষ্ট। এতদিন যাবৎ তাও জোট সরকার সমর্থিত আলিমরা মুসলিম মহিলাকে তাদের রাজনৈতিক নেত্রীকে মানতে আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। কিন্তু এখন সে নেত্রীকে মানার, কায়দা-কানুন, আদব-মুহব্বত শেখার ব্যাপারে নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে, নেত্রীকে পর্দামুক্ত, আধুনিক সংস্কৃতিবান নারী জনশক্তি গঠনে কি করে সক্রিয় সহযোগিতা করা যায়, সেই তর্জ-তরীক্বা ও ইল্ম-কালাম শিখার জন্য এবার তারা খোদ মার্কিন মুলূকের  বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মেরী এ্যান পিটার্সের ন্যায় শর্ট স্কার্ট পরিহিতা জাদরেল খ্রীষ্টান মহিলাকে তাদের উস্তাদ, শায়খ তথা মুর্শিদরূপে কবুল করেছে।   খবরে প্রকাশ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) আর্থিক সহযোগিতায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত, “অ্যাকশান রিসার্চ ষ্টাডি অন দ্যা ইনষ্টিটিউশনাল ডেভেলপমেন্ট অব হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ” (IDHRB) প্রকল্পের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকাস্থ উত্তরা আশকোনার হাজী ক্যাম্পে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে গত ৬/৫/২০০২ ঈঃ সোমবার এক প্রশিক্ষণ  কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রে প্রকাশ, এই কর্মসূচীর অধীনে ছয়টি বিভাগের তিন’শ ইমাম মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন এবং আরো হাজার হাজার ইমামদের এরূপ নছীহত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। সূত্রে প্রকাশ, বব কাটিং, শর্ট স্কার্ট পরিহিতা মেরি এ্যান পিটার্স সত্যিই ইমাম ছাহেবদের নছীহত করতে গিয়ে কুরআন শরীফের ৪৯ নং সূরার  একটি আয়াত শরীফের অর্থ করেন এভাবে, ( যা মূলতঃ ভুল) “তোমাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, তোমরা একে অপরকে ঘৃণা করবে বরং একে অপরের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করবে।”   অর্থাৎ মেরী এ্যান পিটার্স স্পষ্টতঃ ব্যক্ত করলেন যে, তার মত খ্রীষ্টান মহিলার কাছ থেকে জোট সরকার সমর্থিত ইমামদের শিক্ষা কেবল শুরু হলো।  মেরী এ্যান পিটার্স নছীহত করেন, “কুরআন শরীফ সকল মানুষের সমান অধিকার এবং নিরপেক্ষতার শিক্ষা দেয়। ইসলাম আরো শিক্ষা দেয় যে, নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবশ্যই বিশ্বাস ও সততার উপর ভিত্তি করে করতে হবে।”  মেরী এ্যান পিটার্স আরো নছীহত করেন যে, “আমি জেনে খুশী হয়েছি যে, এই ইমাম প্রশিক্ষণের একটি বিষয় হচ্ছে, নারীর প্রতি ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া .. ।”    বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, মেরী এ্যানের কথিত নারী মর্যাদার ক্ষেত্রে তার মত শর্ট স্কার্ট পড়ে বিয়ার খেয়ে পার্টিতে নাচানাচি করা একটি শর্ত। আর এ জিনিসটিও করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হতে হলেও তাতে সাহস যুগিয়েছেন মেরী এই বলে, “তবে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের অবস্থা আগে এরকম ছিলনা এবং আমাদের দেশের নারীদের ইতিহাসে দেখা যায় তাদের পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার লাভ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।”            পাঠক! মেরীর এই বক্তব্য থেকে কয়েকটি জিনিস স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। প্রথমতঃ এই যে, বর্তমানে আমাদের দেশের জোটভুক্ত নামধারী ইমামরা ইসলামের নামে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ইত্যাদি কবুল করেছেন, সে শিক্ষা মূলতঃ তারা মেরী গং এর কাছ থেকে নিয়েছেন। কথাটি ঘুরিয়ে  বললে, এসব খ্রীষ্টান গং এদেশের নামধারী আলিমদের এই বিষয় দুটিতে কাঙ্খিতভাবে কব্জা করতে চমৎকারভাবে সার্থক হয়েছে এবং এখন তার পরেরটি হচ্ছে এদেশে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধির নামে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের মত বেলেল্লাপনায় প্রবাহিত করার ছক বাস্তবায়ন করা। উল্লেখ্য, এই কাজটি এতদিন যাবৎ মার্কিনীরা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতেই প্রচেষ্ট হত; কিন্তু “আমি মহিলা হয়েও প্রধানমন্ত্রী হলাম কি করে?” জোট সরকারভুক্ত শাইখুল হাদীস, শাইখুত্ তাফসীর, মুফতী-মাওলানা তথা ইমামরাও মহা প্রশ্ন সাপেক্ষ এ কাজটি অবলীলাক্রমে করে ফেলায় মার্কিনীদের অবস্থা হয়েছে, “গাছে না উঠতেই এক কাদি পাওয়ার মত।” তাই তারা এদেশীয় মুসলিম মা’দের বিনষ্ট করণ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করার মত দূরবর্তী প্রক্রিয়ায় না গিয়ে খোদ অন্দরমহলে প্রবেশের প্রক্রিয়াই বেছে নিয়েছে।

মার্কিনীরা জানে যে, মুসলমানের মুসলমানিত্ব সম্পূর্ণরূপে দূর করতে হলে মুসলিম মা’দেরই ধর্মহীন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা তথা ইমামরা বড় বাঁধা হতে পারতো। তাই তারা ধর্মের নামে খোদ ফায়দালোভী ইমামদেরই হাত করতে চাইছে। নারী-নেতৃত্ব গ্রহণ, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সকল অনৈসলামিক তৎপরতার পর মার্কিনীদের এই টোপ গেলা জোটভুক্ত আলিমদের জন্য এখন নিতান্ত সহজ ব্যাপার। পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব গ্রহণ,  গণতান্ত্রিক নির্বাচন করা এবং বর্তমানের রাষ্ট্রীয় সকল অনৈসলামিক কাজের বাঁধা গ্রহণের  প্রেক্ষিতে এটা একটা অনিবার্য পরিণতি বটে।

কারণ এক হারাম আর এক হারামের দিকে প্রবাহিত করে। সেই হারাম আরো বড় হারামের দিকে ঠেলে দেয়। জোটভুক্ত আলিমদের হয়েছে সেই প্রকট পরিণতি। তাদের ইমামদের মাঝে মেরীর নছীহত তারই প্রমাণ।

-আশরাফুল মাহ্বুবে মুহম্মদ রব্বানী, ঢাকা।

আজওয়াদুন্ নাছ, খিয়ারুল উম্মাত, খাইরুল বারিয়াহ্, আত্কান্ নাছ, মাখযানুল মারিফাত, মাহ্তাবে শরীয়ত, মাহবুবে সুবহানী, পীরানে পীর, দস্তগীর, কুতুবুল আকতাব, সিরাজুল মিল্লাত, মাহবুবে ইলাহী, খাইরুল বাশার, ছহেবে আসরার, আশিকে সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, শামসুল উলামা ওয়াল মাশায়িখ, মুজতাজাবুদ্ দাওয়াত, তাজুল উদাবা, বদরুল ফুযালা, সাইয়্যিদুল মুজাহিদীন, ইমামু আহ্লিস্ সুন্নাত, মুজাদ্দিদে আযম, শাইখুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল মুনাযিরীন, সুলতানুল ওয়াজেীন, ফসীহুল লিসান, বালীগুল বয়ান, গণীমতে কুবরা, ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ্, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর  নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধি এবং তার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

শুধু আজকের প্রেক্ষাপটে নয়, অতীত ইতিহাস হতেই ইহুদী-খ্রীষ্টানরা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু মুসলিম সন্ত্রাসবাদ নয়, মার্কিন হামলার পিছনে কি ইহুদী-খ্রীষ্টানরাই দায়ী নয় -৮

প্রসঙ্গঃ গণতন্ত্র; এখনই চরম সময়, বিষয়টি ভাবিবার- ৪ ইসলামী দাবীদার এম,পি’র কেলেঙ্কারী ॥ পুনশ্চঃ মন্তব্য নিস্প্রয়োজন   

গুঁতো খেয়ে কুজো হয়ে ক্ষমা চাইতে গিয়েও নিলেন স্বভাবসূলভ প্রতারণার আশ্রয় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আমীর দাবী করলেও  কর্মী হওয়ার যোগ্যতাও কি, তিনি রাখেন?

একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম  আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে