দেশে বর্তমানে ৬০ হাজার কোটি কালো টাকা রয়েছে বলে এফ, বি, সি, সি, আই সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। মূলতঃ এ টাকার যারা মালিক তারা সবই গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রবক্তা। গণতান্ত্রিক রাজনীতি তথা অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় এমন ফাঁক-ফোঁকর থাকে যাতে করে দুর্নীতিবাজরা খুব সহজেই দেশের আম জনগণকে বঞ্চিত করে, তাদের নাঙ্গা-ভুখা, আর্ত-পীড়িত, দুঃস্থ, অসহায়-অবলা রেখে নিজেদের জন্য কোটি কোটি টাকার পাহাড় রচনা করতে পারে। “ফোরাতের তীরে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে থাকে তবে আমি আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে তার জবাব দিতে হবে। ” আম জনতার প্রতি সরকারের এই যে ইসলামী দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছা জবাদিহী প্রবণতা। তা কোন গণতান্ত্রিক সরকারই এ যাবৎ দিতে পারেনি। বরং গণতান্ত্রিক সরকারের আবহে দেখা গেছে যে, মন্ত্রী, সচীব, আমলা থেকে আরম্ভ করে প্রশাসনের সর্বত্রই অবাধ দূর্নীতিপরায়ণতা, জনপ্রিয়, বর্ষীয়ান জনপ্রতিনিধি, উচ্চ শিক্ষিত, চৌকষ সচিব, এমনকি বিচার বিভাগের লোকদেরও পর্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ রূপে পাওয়া যায়। অর্থাৎ উচ্চ শিক্ষা, চৌকষ ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয়তা ইত্যাদি কোন কিছুই দুর্নীতিপরায়ণ হতে বিরত থাকতে ঠেকায়না। বোধ করি গণতান্ত্রিক জীবনের দর্শনই এরূপ। এই কথাটি আরো জোরদার রূপে প্রতিষ্ঠিত হলো বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের তথাকথিত এক ইসলামী এম,পির কার্যকলাপে। লালবাগ জামিয়া ফোরকানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, মুফতী সেই এম,পি ইতোপূর্বে বলেছিলেন, “যে মওদুদীবাদের উপর ভিত্তি করে জামায়াতের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত, সেই মওদুদী আক্বীদাকে আমাদের বুযূর্গানে দ্বীন ও ওলী আল্লাহ্রা ভ্রান্ত মতবাদ বলে প্রকাশ করেছেন।” উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, উক্ত মুফতী ছাহেব বর্তমানে স্বীয় প্রণোদিত হয়েই সে জামায়াতের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ঘোর মিত্ররূপে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজ বাণী মুতাবিক নিজেকে ভ্রান্ত প্রমাণিত করেছেন। এবং কথিত জামায়াতী মন্ত্রীদের সরকারী গাড়ী ব্যবহারে অনিয়ম করার ক্ষেত্রে তিনি আরো বেশী অপতৎপরতা দেখিয়েছেন। গত ৩রা মার্চ/২০০২ ঈসায়ী শুক্রবার এই মুফতী এম,পি সম্পর্কে এক খবরে বলা হয়- আমিনীর গাড়ি আমদানি নিয়ে আইসিডিতে তোলপাড় ঃ মুফতী ফযলুল হক আমিনী এম,পি জালিয়াতি করে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেছেন। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে তিনি সাড়ে ৪৩ লাখ টাকার গাড়ি মাত্র ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্য প্রদর্শন করে আমদানি করেছেন। তার বিরূদ্ধে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ……. এদিকে গাড়ি আমদানির এই ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হুন্ডি পাচারেরও অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, আমদানিকারক ফযলুল হক আমিনী এলসির মাধ্যমে পরিশোধ করেছে মাত্র ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এলসি বহির্ভূত অন্য যে কোনভাবে লেনদেন করা হলে তা অবশ্যই হুন্ডি। মূফতী ফযলুল হক আমিনী নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির জন্য গত ১৩ মার্চ/২০০২ ঈসায়ী এলসি খোলে। এলসি নং ১৬৭৫০২০১০০৬১ ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বনানী শাখায় ওই এলসি খোলা হয়। এলসি কপিতে তিনি ৪ হাজার ৬৬৩ সিসি রিকন্ডিশনন্ড “টয়োটাল্যান্ড ক্রুজার” আমদানির জন্য মূল্য ঘোষণা দেন ৫ হাজার মার্কিন ডলার। স্থানীয় টাকা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩০ টাকা। গাড়ি অরিজিনাল জাপানের। আমাদানি করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আমাদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্টের নাম মেঘনা ট্রেডিং কোম্পানি। গত এপ্রিল কমলাপুর আইসিডি থেকে গাড়িটি খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। (দৈনিক যুগান্তর ৩রা মে/২০০২ ঈসায়ী, শুক্রবার) সঙ্গতকারণেই উপরোক্ত সংবাদ থেকে দু’টো বিষয় প্রতিভাত হয়, (এক) গণতান্ত্রিক রাজনীতি এমনই এক আবহমন্ডল যার প্রবাহে মন্ত্রী, সচিব, আমলা, প্রশাসনের ক্ষুদে কর্মচারীর পাশাপাশি নামধারী ইসলামী দলের মুফতী-মুহাদ্দিস, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাস্সির শাইখুল হাদীস, শাইখুত্ তাফসীররাও দুর্নীতি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। (দুই) শুধু বর্তমান গাড়ী কেলেঙ্কারীই নয়, অতীতেরও অনেক বিচ্যুতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদ্রাসা দখল এমনকি স্বীয় উস্তাদের সাথে মারামারি, লাঠালাঠির প্রবৃত্তি ও ইতিহাস এটাই সাব্যস্ত করে যে, এ ধরণের নামধারী ইসলামী ব্যক্তিত্বরাই নিজস্ব ক্ষমতার লোভে ইসলামের নামে হারাম গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দাখিল হয়। ছবি তোলা, নারী নেতৃত্ব, নির্বাচন, লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী ইত্যাদি জায়িয করে তথা হারামকে হালাল করে। সুতরাং এরা ইসলামী দাবী করলেও এরা ইসলামের কতটুকু নিরাপদ বন্ধু তা বিশেষরূপে চিন্তার অবকাশ রাখে। ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাতে’ অবশ্য এদের সম্পর্কে আগে থেকেই অনেক লেখালেখি হয়ে আসছে। সে হিসেবে এদের সম্পর্কে পুনশ্চঃ মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ্, বাসাবো, ঢাকা।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে