(গত সংখ্যার পর)
গত সংখ্যায় আলোচিত হয়েছিল যে, ইহুদী সম্প্রদায় নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অ-ইহুদী দেশসমূহে বিভিন্ন নামে আধ্যাত্মিক শিক্ষাবিস্তার বা জনকল্যাণমূলক কাজের বাহানায় ক্লাব ও সমিতি গঠন করে এবং অতি সঙ্গোপনে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চালিয়ে যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফ্রি-ম্যাসন আন্দোলনকে ইহুদীদের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা নিম্নে এ আন্দোলনের কিছুটা পরিচয় দিচ্ছি- ফ্রি-ম্যাসন আন্দোলনঃ ম্যাসন (Mason) শব্দের অর্থ রাজমিস্ত্রী। প্রায় আড়াই হাজার বৎসর পূর্বে হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম-এর স্মৃতি রক্ষার্থে রাজ মিস্ত্রীদের একটি গোত্র মিশরে ‘মা’বাদে সুলাইমানীর’ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে। একাজে তাদের নানারূপ বাধা বিপত্তির সম্মূখীন হতে হয়েছিল তাই কাজটি খুব গোপনেই সম্পাদন করা হয়। এ অট্টালিকার প্রধান রাজ মিস্ত্রীর নাম ছিল হিরাক আবিফ (Hirak Abiff)। দুশমনদের অমানুষিক অত্যাচার সত্ত্বেও তিনি এ উপসনালয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। এ জন্যে তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল। তিনি এ চরম দন্ড মেনে নেন কিন্তু গৃহটির গুপ্ত রহস্য প্রকাশ করেননি। উক্ত রাজমিস্ত্রীর অনুকরণে গোপনীয়তা রক্ষা করে একটি দুনিয়া জোড়া আন্দোলন পরিচালনার মতলবেই ইহুদীরা তাদের এ আন্দোলনের নাম দিয়েছে “ফ্রি-ম্যাসন।”
ঈসায়ী ১৭১৭ সালে লন্ডনে ফ্রি-ম্যাসন আন্দোলন সর্ব প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। এর সদস্যগণ যে স্থানে একত্রিত হয় তাকে ফ্রি-ম্যাসন লজ Free Mason Lodge) বলা হয়। ঐ বছর ২৪শে জুন তারিখে লন্ডনে ৪টি ‘লজ’ এর সমন্বয়ে ইউনাইটেড গান্ড লজ (United grand Lodge) স্থাপিত হয়। ১৭২৬ সালে গ্রান্ড লজ অব আয়ারল্যান্ড এবং ১৭৩৬ সালে গ্রান্ড লজ অব স্কটল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুনিয়ার অসংখ্য ‘লজ’ এ তিনটি গ্রান্ড লজের অধীন। তবে বেশী সংখ্যক লজই লন্ডনের ইউনাইটেড গ্রান্ড লজ নিয়ন্ত্রণ করে। লজগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি সম্পর্কে ১০/৯/৬৭ তারিখে ঢাকার সাপ্তাহিক জাহানে নও পত্রিকায় নিম্নের তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়-
ঈসায়ী ১৭৩৪ সালে জার্মানীতে, ১৭৭৩ সালে পর্তূগাল ও হলান্ডে, ১৭৪০ সালে সুইজারল্যান্ডে, ১৭৪৫ সালে ডেনমার্কে, ১৭৬০ সালে ইটালীতে, ১৭৬৫ সালে বেলজিয়ামে, ১৭৭১ সালে রাশিয়ায়, ১৭৭৩ সালে সুইডেনে, ১৭৪২ সালে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ও জামাইকায়, ১৭২৮ সালে ইটিগুয়ায়, ১৭২৫ সালে ফ্রান্সে, ১৭৩৮ সালে মাদ্রিতে ও ১৭২৯ সালে জিব্রাল্টারে এর শাখা স্থাপন করা হয়। এ সমস্ত জায়গায় প্রচলিত আন্দোলনকে পরিচালিত করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে আগে থেকেই পূর্বোক্ত তিনটি গ্র্যান্ড লজ প্রতিষ্ঠিত ছিলো। ভারত উপমহাদেশেঃ ১৭২৯ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামে প্রথম লজ প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর ১৭৩৫ সালে মাদ্রাজে ও ১৭৫৮ সালে বোম্বাইতে প্রসার লাভ করে।
এখানে উল্লেখ্যযোগ্য যে, বোম্বাই শহর ছিল ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের মূল কেন্দ্র। হ্যারী গ্রীন ওয়েল তার His Highness the Agakhan lmam of the Ismailis নামক গ্রন্থে বৃটিশ সরকারের সাথে আগা খানের যোগসাজশ, এমন কি বৃটিশ ইন্টেলিজেন্সের পক্ষ হয়ে তার কাজ করা সম্পর্কে এক চমকপ্রদ বিবরণ দিয়েছেন। আগা খানের বর্তমান উত্ত্বারাধিকারীরাও যে ফ্রি-ম্যাসন আন্দোলনের সাথে জড়িত তার আভাস পাওয়া যায় ভারতীয় পত্রিকা New Wave-এর ১৯৭৮ সালের ২৯ শে অক্টোবর সংখ্যায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে। ১৮৫৯ সালে পাকিস্তানে সর্বপ্রথম লাহোর শহরের আনারকলিতে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯০৪ সালের ৪ঠা এপ্রিলে ভুমিকম্পে আনারকলির পার্শ্ববর্তী দালান ধ্বসে পড়ায় ফ্রি-ম্যাসন হলটিও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরে ১৯১৬ সালের এপ্রিল মাসে তা নির্মিত হয়। এর ছয় বছর আগে অর্থাৎ ১৯১০ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকা শহরের পুরানা পল্টনে (বাস ষ্টেশন সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে) এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাত্র কয়েক বছর পর চাঁটগাঁরও প্রদেশে আরো দু’-একটি শহরে নিয়মিতভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে পাকিস্তানের হায়দারাবাদ, কোয়েটা, মুলতান, শিয়ালকোট, রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারে এর শাখা রয়েছে। এ ছাড়া করাচিতে ২০টি এবং লাহোরে এ ধরনের ৩টি গুপ্ত লজ রয়েছে বলে জানা যায়। এ সবগুলো শাখাই গ্র্যান্ড লজ অব ইংল্যান্ডের অধীনে কাজ করে।
লজের সমস্ত রেকর্ড-পত্র, বৈঠকের কার্যবিবরণী অত্যন্ত গোপনভাবে সংরক্ষিত হয়। ফ্রি-ম্যাসনের সদস্য ছাড়া অন্য কারো পক্ষে ঘূণাক্ষরেও তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে কিছু জানার উপায় নেই। নতুন কোন লজ প্রতিষ্ঠার আগে ‘গ্র্যান্ড লজ’ (লন্ডন) থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। His Highness Right Honourable Lord Grand Master of the Grand London of England (উচ্চ মর্যদা সম্পন্ন, মহা সম্মানিত লন্ডনের ‘গ্র্যান্ড লজের’ মহান প্রভু) নতুন লজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেন।
য -সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলমগীর, ঢাকা।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে