বর্ণনার কোন কিছুই বাকী নাই কুরআন-সুন্নায়। স্বেচ্ছা প্রনোদিত হয়ে জজবাধারী মুজাহিদও যে অবশেষে জিহাদের ময়দানে নফ্সের পায়রবী করে, আল্লাহ্ পাক-এর দ্বীনের নামে, আল্লাহ্ পাক-এর নির্ধারিত পথের বাইরে চলে, আল্লাহ্ পাক-এর রোষে পতিত হতে পারে তথা জাহান্নামী হতে পারে হাদীস শরীফে তারও জ্বলন্ত নিদর্শন মওজুদ রয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপস্থিতিতেই জনৈক ব্যক্তি এক জিহাদে খুবই মরীয়া হয়ে জিহাদ করছিল। তার দিকে ইঙ্গিত করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ছাহাবীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, লোকটা জাহান্নামী। এ কথা শুনে উক্ত ছাহাবী বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সে কি করে জাহান্নামী হয়? সে তো বড়ই উদ্দীপনার সাথে জিহাদ করে চলছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারও বললেন, লোকটা জাহান্নামী। ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে অতঃপর উক্ত ছাহাবী বলেন, আমি এরপর থেকে লোকটির প্রতি সদা নজর দিতে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম কাফিরদের চরমভাবে আঘাত করতে গিয়ে সে নিজেও প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হল এবং আঘাতের তীব্রতায় অবশেষে সে একসময় অধৈর্য হয়ে কষ্ট বরদাশত করতে না পেরে আত্মহত্যা করে বসল। প্রসঙ্গতঃ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আর ঠিক তখনই লোকটিকে জাহান্নামী বলার সত্যতা আমার কাছে উদ্ভাসিত হল। পাঠক! আলোচ্য হাদীস শরীফ থেকে প্রতিভাত হয় যে, কেবল দূরভিসন্ধিজনিত, বানানো জিহাদ নয়, খাছ জিহাদে খালিছভাবে নিবেদিত হয়েও, পূঙ্খানুপূঙ্খরূপে শরীয়ত মুতাবিক না চলার কারণে দৃশ্যতঃ চরম জজবাধারী লোকটিও হতে পারে জাহান্নামের কীট তথা আল্লাহ্ পাক-এর অপছন্দনীয় ব্যক্তি। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) পাঠক! আলোচ্য হাদীস শরীফের আলোকে একথা আরো সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, ওসামা বিন লাদেন কেবল প্রমাণিত মুনাফিকই নয় বরং সে জাহান্নামের কীট হবার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ ও স্বতঃপ্রবৃত্ত। কারণ তামাম মুসলিম বিশ্বকে সে তার কল্পিত স্বার্থবাদী জিহাদে উদাত্ত আহবান জানিয়ে চরম মুনাফিকের ন্যায় কেবল পলায়নই করেনি তার শেষ পরিণতির ব্যবস্থাও যে নিজেই করেছে জাহান্নামের প্রক্রিয়ায়। খবরে প্রকাশ, সে তার ছেলে ও ঘনিষ্ঠ জনকে একান্ত ও শক্ত নির্দেশ দিয়েছে যে, মার্কিন সৈন্য যদি তাদের মুখোমুখি হয় তবে মার্কিন সৈন্য আঘাত করার আগেই যেন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পাঠক! ওসামার এই নির্দেশ যে হাদীস শরীফে বর্ণিত লোকটির মতই আত্মহত্যার শামিল বরং তারও একধাপ নীচে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারণ হাদীস শরীফে বর্ণিত জাহান্নামী লোকটি আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ওসামা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার আগেই আত্মহত্যার ব্যবস্থা করে বসে আছে। মূলতঃ সাধারণের প্রতি এটা একটা আইওয়াশ হলেও এর মাঝে ফুটে উঠেছে ওসামার দিলের হাক্বীকত। যা তাকে নাহক্ব ও জাহান্নামী প্রমাণিত করে। অপরদিকে সি. আই. এ. এর চর ওসামা এখনও সি. আই. এ. এর সহযোগীতায় পালিয়ে বেঁচে আছে। তার জীবনীকার হামিদ মীর বলেছেন, ওসামা বিন লাদেন বেঁচে আছেন এবং আফগান-ইরান সীমান্তের কোনও গোপন আস্তানায় লুকিয়ে আছেন। সম্প্রতি মিডিয়া এবং পত্র-পত্রিকায় লাদেনের মৃত্যুর খবর বের হওয়ার প্রেক্ষিতে মীর একথা বলেন। পাশাপাশি গত ১৭ই অক্টোবর “আমরা জিহাদ করছি, এই জিহাদে আমরা বড় শয়তানদেরকে, কাফিরদেরকে পরাজিত করবোই” এ আস্ফালনকারী মোল্লা ওমর চরম মুনাফিকের পরিচয় দিয়ে সি. আই. এ. এর সহযোগীতায় দিব্যি লুকিয়ে রয়েছে। ই-মেইল থেকে সংগৃহীত খবরে বলা হয়, “মার্কিন জঙ্গী বিমান থেকে হাইটেক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু এর আগেই ওমর রিকশায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।” অথচ ৭ অক্টোবর বোমা হামলা শুরু হওয়ার সময়, সঙ্গীদের কাছে মোল্লা ওমর ব্যক্ত করেছিলেন, “বুশ যদি আমার দরজায় এসে দাঁড়ায় তবু আমি পালাব না।” কিন্তু সে কথার চরম খিলাফ করে ন্যাক্কারজনকভাবে পালিয়ে মোল্লা ওমর সুস্পষ্ট মুনাফিক হিসেবে তার পরিচয় মজবুত করেছে।
উল্লেখ্য, মোল্লা ওমর ও ওসামার উপর মার্কিন হামলা একটা আই ওয়াশ মাত্র। কারণ পাকিস্তানী সাধারণ নাগরিক হামিদ মীর যেখানে ওসামার সাথে রীতিমত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে, আমেরিকার কথায় যেখানে পাকিস্তান উঠছে বসছে সেখানে ওসামার অবস্থান নির্ণয় করা কেমন করে আমেরিকার পক্ষে অসম্ভব হতে পারে? মূলতঃ মার্কিনীরা তালেবান শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমরকে হামলার প্রথম দিনই ইচ্ছে করলে হত্যা করতে পারত। তাদের গোয়েন্দা বিমানের রাডার চিত্রে ওমরের কনভয়ের কান্দাহার ত্যাগের চিত্রও ধরা পড়েছিল। কিন্তু সি. আই. এ. ঐ সময়ে কনভয়ে হামলার নির্দেশ দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অনুসন্ধানী রিপোর্টার সেইমুর হার্শের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্য আউয চায়না মর্নিং পোষ্ট এ কথা জানিয়েছে। কয়েকটি গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে হার্শ লিখেছেন, হামলার প্রথম দিনের প্রথম প্রহরে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ওমরের কনভয়কে কান্দাহার ত্যাগ করতে দেখে। কিন্তু সি. আই. এ. ঐ কনভয় লক্ষ্য করে ক্ষেপনান্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়নি। প্রিডেটর এ গোয়েন্দা বিমান ছিল সি. আই. এ নিয়ন্ত্রনাধীন। ঐ বিমানে দুটো ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্রও ছিল।” উল্লেখ্য, মোল্লা ওমরের আমলেই আফগানিস্তানে আফিম তথা হেরোইনের উৎপাদন সবচেয়ে বেশীতে পৌঁছেছিল। যার পরিমাণ ছিলো চার হাজার ছয়শত টন। এর দ্বারা তার সরকার আয় করতো দশ হাজার কোটি ডলার থেকে বিশ হাজার কোটি ডলার। কাজেই দেখা যাচ্ছে মোল্লা ওমর আর ওসামার মূলই হচ্ছে হারাম, তাদের সার্বিক কার্যক্রমও হারাম। এরা কখনও ইসলামের সেবক ছিলনা এবং এখনও নেই। বরং এদের বিবৃতি, কর্ম-কান্ডই প্রকাশ করেছে যে, এরা বর্তমান সময়ের চরম মুনাফিক ও সি. আই. এ. এর এজেন্ট। মার্কিনীদের স্বার্থ রক্ষাই এদের মূলকাজ।
-মুহম্মদ ওয়ালিউর রহমান, ঢাকা।