মতামত বিভাগ

সংখ্যা: ৯৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

ভণ্ড  পীরে তরীক্বতের গোমর ফাঁক- (৭) ভণ্ড গোমরাহ, বে-পর্দা জলীল বাহাস করবে কোন সাহসে!

ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আযম, আওলাদুর রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি শুরু থেকেই বাতিল ফিরক্বাসমূহ যেমন- ওহাবী, খারেজী, লা-মাযহাবী, শিয়া, মুতাযিলা ও রেযাখানী ইত্যাদির প্রতি প্রতিটি ওয়াজ-মাহফিলে ও মাসিক আল বাইয়্যিনাতের প্রতিটি সংখ্যায় “প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ” দিয়ে আসছেন। বর্তমানেও তা অব্যাহত আছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা অব্যহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

অথচ বাতিল পন্থিরা আজও পর্যন্ত বাহাসের উক্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মত সাহস দেখাতে পারেনি। কোন কোন স্থানে যদিও জনগণকে ধোকা দেয়ার উদ্দেশ্যে বাহাস করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিজেরাই তা প্রত্যাখ্যান করেছে নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে। আবার কোন কোন স্থানে জনগণের চাপের মুখে যদিও বাতিল পন্থি কেউ কেউ রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম  উনার সামনা-সামনি হয়েছে। কিন্তু সেখানেও তারা লা-জাওয়াব হয়ে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এক্ষেত্রে শ্রীমঙ্গলের বাহাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাই ওহাবী-খারিজীরা এখন আর বাহাস নিয়ে তেমন একটা মাতা-মাতি করেনা। কারণ তারা ভাল করেই জানে যে, “রাজারবাগ শরীফ-এর সাথে বাহাস করার মত পূঁজি বা দলীল আদিল্লাহ তাদের নেই।”

পাঠক! বাহাসের ব্যাপারে ওহাবীরা লা-জাওয়াব ও নিশ্চুপ হলেও ইদানিং বে-পর্দা, বে-হায়া, হর-হামেশা হারাম কাজে লিপ্ত, মুশাবিহা ফিরক্বার যোগ্য মুকাল্লিদ, ভণ্ড, গোমরাহ, রেযাখানী পা চাটা গোলাম অদক্ষ জলীল তার অবৈধ প্রচার পত্রের মাধ্যমে কিছুটা মাতা-মাতি করছে। তবে তার এ মাতা-মাতি বা লাফালাফী যে শুধুমাত্র জনগণকে ধোকা দেয়ার উদ্দেশ্যে তা আজ দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

কারণ, যদি অদক্ষ জলীল সত্যিই বাহাস করার আগ্রহী হয়, তবে রাজারবাগ শরীফ উনার সাথে বাহাসে চুক্তি নামায় আবদ্ধ হয়না কেন? হবেই বা কোন সাহসে! কেননা অদক্ষ জলীল তো ভাল করেই জানে যে, “বাহাসে গেলে প্রথমেই তাকে তার কুফরী আক্বীদা ও বদ আমলের জবাবদিহী জনগণের সামনে করতে হবে।” আর তখনই মূলতঃ প্রকাশ পেয়ে যাবে তার সত্যিকার জিহালতী ও ভণ্ডামী। কারণ, সে যে সকল কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও বদ আমলে অভ্যস্ত সে বিষয়ে কোন দলীলই তার কাছে নেই।

প্রসঙ্গ : মহান আল্লাহ পাক উনার জাত ‘নূর বা আলো’

যেমন, অদক্ষ জলীলের একটি কুফরী আক্বীদা হচ্ছে, সে মনে করে থাকে যে, মহান আল্লাহ পাক “আলো বা জ্যোতী।” নাউযুবিল্লাহ!

তাকে যদি বাহাসে বলা হয় যে, “আপনি যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে আলো বা জ্যোতি বলেন তার দলীল কোথায়?” তখন সে কি জবাব দিবে? হ্যাঁ, দলীল তার আছে, কুরআন শরীফ উনারই আছে। তবে তার পক্ষে নয় বরং বিপক্ষে। সে নিশ্চয়ই দলীল পেশ করবে “সূরায়ে নূরের” এ আয়াত শরীফ উনাকে, الله نور السموت والارض অর্থাৎ “মহান আল্লাহ পাক তিনি আসমান ও যমীনের ‘নূর”।

পাঠক! অদক্ষ জলীলের উক্ত দলীল খ-ন করার জন্য বেশি কিতাব খোলার কোনই প্রয়োজন নেই। ভণ্ড জলীলের গুরু রেযা খার তরজমা ‘কানযুল ঈমান’ খুললেই সে ধরা পরে যাবে, কেননা তার গুরু রেযাখাই উক্ত কিতাবে উল্লিখিত আয়াত শরীফ উনার অর্থ করেছে,

الله هادى السموت والارض

অর্থাৎ “মহান আল্লাহ পাক তিনি আসমান-যমীনের হাদী।”

কাজেই অদক্ষ জলীল ভাল করেই জানে যে, “বাহাসে আসলে তার গুরু রেযা খার বোমাতেই সে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হবে। তাই সে বাহাসে আসবে কোন সাহসে।”

পাঠক! এক্ষেত্রে সে আরেকটি দলীল পেশ করতে পারে আর তা হলো, “কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান আল্লাহ পাক উনার ৯৯টি নামের মধ্যে একটি নাম হচ্ছে “নূর” অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘আলো বা জ্যোতি।”

পাঠক! এক্ষেত্রে উক্ত বক্তব্যকে দলীল হিসেবে সেই ব্যক্তিই পেশ করতে পারে, যে ব্যক্তি নিরেট মুর্খ। কেননা বাহাস হচ্ছে জাত নিয়ে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার জাত পাক “আলো বা জ্যোতি’ কিনা? অথচ সে দলীল হিসেবে পেশ করলো ‘ছিফত’কে। মহান আল্লাহ পাক উনার জাত আর ছিফত কি এক বিষয়? মহান আল্লাহ পাক উনার ছিফতী নাম ‘নূর’ মূলতঃ ‘মুনাব্বির’ অর্থাৎ ‘আলোকিত কারী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কেননা, আল্লামা ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে মাযহারীতে” লিখেছেন, “নূর’ শব্দটি যদিও মাছদার কিন্তু ইসমে ফায়েল অর্থে ব্যবহৃত হবে।”

শুধু তাই নয় অনুসরণীয় সকল মুফাসসিরীনয়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ ‘নূর’ শব্দটিকে ইসমে ফায়েল বা কর্তৃবাচ্য অর্থে গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে অদক্ষ জলীলকে অর্ধশতাধিক কিতাব দেখানো সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।

অথচ অদক্ষ জলীল একটি নির্ভরযোগ্য কিতাবেও দেখাতে পারবেনা যে, সেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার শানে ব্যবহৃত ‘নূর’ শব্দটি সরাসরি অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং সে কোন সাহসে বা কি পুঁজি নিয়ে বাহাসে আসবে?

প্রসঙ্গঃ নবীজি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার জাতের অংশ

পাঠক! ভণ্ড জলীলের আরেকটি কুফরী আক্বীদা হলো- সে বলে থাকে যে, “নবীজি মহান আল্লাহ পাক উনার জাত উনার অংশ।” নাউযুবিল্লাহ!

এক্ষেত্রে সে দলীল হিসেবে পেশ করবে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ উনার এ অংশটুকু من نوره অর্থাৎ উনার নূর থেকে নবী উনার নূর সৃষ্টির করেন।

এক্ষেত্রে ভণ্ড জলীলকে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করা হবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার জাতে পাক উনার কোন অংশী আছে কিনা? যদি তার মতে অংশী থেকে থাকে তবে “সূরায়ে ইখলাসের ব্যাখ্যা কি”?

মূলতঃ সূরায়ে ইখলাছে ব্যাখ্যা করলেই ভ- জলীল ধরা পরে যাবে। কারণ “সূরায়ে ইখলাসে” স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে, لم يلد ولم يؤلد. অর্থাৎ “মহান আল্লাহ পাক উনার জাত উনাকে কেউ জন্ম দেয় নাই এবং মহান আল্লাহ পাক উনার জাত থেকেও কেউ জন্ম নেয় নাই।” মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার জাত অংশী থেকে সম্পূর্ণই পবিত্র।

দ্বিতীয়তঃ তাকে প্রশ্ন করা হবে من توره বাক্যের সরাসরি অর্থ গ্রহণ করলে, ভ- জলীল. من روحى বাক্যের কি অর্থ করবে? অর্থাৎ ভ- জলীল যদি من نوره বাক্যের অর্থ করে “তার নূর থেকে” তবে তাকে من روحى বাক্যের অর্থ করতে হবে ‘তার রূহ থেকে’। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে উনার নিজ রূহ মুবারক ফুঁকে দিয়েছেন। এতে এটাই বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রূহ আছে। নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরী।

মূলতঃ মুফাসসিরীনয়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ যেরূপ “من روحى” বাক্যের তা’বীলী অর্থ গ্রহণ করেছেন তদ্রুপ “من نزره” বাক্যেরও তা’বীলী অর্থ গ্রহণ করতে হবে। মুফাসসিরীনয়ে কিরামগণ উনারা বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাদের রূহ মুবারকদ্বয় উনাদেরকে নিজের দিকে সম্বোধন করেছেন, মূলতঃ তাযীম বা সম্মাণার্থে। আর মুহাদ্দিসীনয়ে কিরামগণ উনারা বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক উনাকে “মহান আল্লাহ পাক উনার নূর” বলে নিজের দিকে সম্বোধন করেছেন, তাযীম বা সম্মানার্থে। কেউ কেউ বলেন, من نوره অর্থ “মহান আল্লাহ পাক উনার জাত কর্তৃক তৈরি।” যা মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়া, নূরে মুহম্মদী ও মজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ে আব্দুল হাই কিতাব সমূহে উল্লেখ আছে। মূলত এক্ষেত্রেও ভ- জলীলের কোনই দলীল নেই। আর বিনা দলীলে কোন সাহসেই বা সে বাহাসে আসবে? (চলবে)

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

জাহিল ফযলুর জিহালতীর জবাব

বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে অপরকে ‘কাফির’ ফতওয়া দেয়া রেযাখানীদের জন্মগত বদঅভ্যাস

যেযাখার যোগ্য সন্তান রেযাখানীদের খরীদা গোলাম “ফযলুর হক” রেযখানী মুখপত্র মে/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যা আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩তম সংখ্যায় প্রদত্ত আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কতিপয় সম্মানিত ও বুযুর্গ লেখককে “কাফির” ফতওয়া দিয়ে যে নিজেদেরকে জন্মগত জালিয়াত হিসেবেই প্রমাণ করেছে তার সুস্পষ্ট কিছু প্রমাণ আপনারা গত সংখ্যায় পেয়েছেন।

পাঠক! আমি আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩তম সংখ্যার মতামত কলামে ভ- পীরে তরীকত অদক্ষ জলীলের কিছু বেয়াদবী ও কুফরী তুরে ধরেছিলাম। উক্ত বেয়াদব তার অবৈধ বুলেটিনে নিন্মোক্ত লাইন দু’টি পাশাপাশি উল্লেখ করেছিল। যেমন,

“প্রচ্ছদ” হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ। ও দরগাহে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশাপাশি লিখিত লাইন দুইটির প্রেক্ষিতেই আমি লিখেছি যে, তা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে বেয়াদবী যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এখনও বলছি, অদক্ষ জলিল যেভাবে পাশাপাশি লিখেছে ঠিক এভাবেই পাশিপাশি লিখার মধ্যে লক্বব কম-বেশি করা অব্যশই বেয়াদবী।

মূলতঃ আল বাইয়্যিনাত-এর কোথাও অদক্ষ জলিলের ন্যায় অনুরূপ পাশাপাশি উল্লেখ নেই। তাই আমার উক্ত ফতওয়া আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক এবং সম্মানিত লেখকগণ উনাদের উপর পড়ার প্রশ্নই উঠেনা।

পাঠক! রেযাখানী গোলাম, জাহিল ফযলূ রেযাখানী মুখপত্র জুন/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যাতে সেই একই মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নিয়েছে। মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর সম্মানিত লেখকগণ উনাদের নামে মিথ্যা তোহমত দিয়ে তাদেরকে কাফির বানানোর অপচেষ্টা করেছে। যেমন, উক্ত সংখ্যার ১৩০ পৃষ্ঠায় আল বাইয়্যিনাত-এর সম্মানিত লেখক ও বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন আল্লামা শামসুদ্দোহা ছাহেবকে কাফির বলা হয়েছে। জাহিল ফযলূ লিখেছে, “আল্লামা মুহম্মদ শামসুদ্দোহ ছাহেব নিজের নামে সাতটি লক্বব আর নবীজী উনার নাম মুবারক উনার মধ্যে শুধু ‘রসূলে পাক’ এ শব্দ দুটি ব্যবহার করেছে।”

সুপ্রিয় পাঠক! আপনারা ৯২তম সংখ্যার ৬ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন, লিখক তার উক্ত লিখার মাত্র দুই স্থানে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক উল্লেখ করেছেন। আর উক্ত দুটি স্থানই হাদীছ শরীফ উনার অনুবাদ। মূল ইবারতে যেহেতু লক্বব মুবারক নেই তাই লেখক অনুবাদেও লক্বব উল্লেখ করেনি। এছাড়া লেখক উনার প্রতিটি লেখাতেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অসংখ্য লক্বব মুবারকসহ সম্বোধন করেছেন। যেমন, ৮২তম সংখ্যার ১০ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন সেখানে ১ পৃষ্ঠায় প্রায় ৮ বার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” উল্লেখ করা করেছেন।

অতএব, স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, রেযাখানী ফযলূর আল্লামা শামসুদ্দোহা ছাহেব সমপর্কিত উক্ত বক্তব্য সর্ম্পূণই মিথ্যা।

জাহিল রেযাখানী ফযলূ অতঃপর লিখেছে, “আল বাইয়্যিনাত-এর ৭১তম সংখ্যার ২২ পৃষ্ঠায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে “হুযূর পাক” এ দু’টি শব্দ দিয়ে প্রকাশ করে একই সংখ্যার পরবর্তী পৃষ্ঠায় ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পাঁচটি লক্বব মুবারক দিয়ে সম্বোধন করেছে।”

পাঠক! রেযাখানী গোলাম জাহিল ফযলূর মিথ্যাচারিতার আর কত প্রমাণ আপনাদের সামনে পেশ করবো। মিথ্যাবাদী লিখেছে, “৭১তম সংখ্যায় নবীজি উনাকে ‘হুযূর ও পাক’ এ দুটি মাত্র লক্বব মুবারক দেয়া হয়েছে।”

আপনারা ৭১তম সংখ্যার ২২ পৃষ্ঠা খুলে দেখুন, সেখানে নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কতটি লক্বব মুবারক উল্লেখ আছে গণনা করুন, দেখুন হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেয়ে কম না বেশি। উক্ত পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, (১) মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, (২) নূরে মুজাসসাম (৩) সাইয়্যিদুল মুরসালীন (৪) ইমামুল মুরসালীন (৫) হুযূর, (৬) পাক (৭) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

অথচ মিথ্যাবাদী কাজ্জাবে আযম, জাহিল ফযলূ লিখলো, “মাত্র দুটি লক্ব মুবারক উল্লেখ করেছে।”

কাজেই গবেষণা কেন্দ্রে নয় বরং রেযাখানী গোলাম, কাজ্জাবে আযম, জাহিল ফযলূ ও তার সমগোত্রীয়দের কাঁধেই মিথ্যা আর কুফরীর ভূত চেপেছে। রেযাখানীদের গুরু খোদ ‘রেযা খা’ আসলেও এ ভূত ছাড়ানো সম্ভব নয়।

ভূতে ধরা ফযলূ সর্বশেষ মিথ্যার তোহমত দিয়েছে, আল বাইয়্যিনাত উনার সুযোগ্য সম্পাদক আল্লামা মাহবুব আলম ছাহেব উনার প্রতি। রেযাখানী ভূত ফযলূ লিখেছে, “৮২তম সংখ্যার ১৯৬ পৃষ্ঠায় নবীজি উনাকে শুধু মা’আজামা শানহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতার জন্য দশটি লক্বব মুবারক উল্লেখ করেছে।

পাঠক! রেযাখানী ভূত জাহিল ফযলূ যে জাত মিথ্যাবাদী তা তো আপনারা এরই মধ্যে জেনে গেছেন। কিন্তু মিথ্যারও তো একটি সীমা থাকা চাই। জাহিল ফযলূ মিথ্যার বেসাতী করতে করতে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আপনারা অনুগ্রহ পূর্বক একটু আল বাইয়্যিনাত-এর ৮২তম সংখ্যার সম্পাদকীয়টা খুলুন আর রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্বব মুবারক গুলো গণনা করুন। (১) রহমতুল্লিল আলামীন, (২) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, (৩) ইমামুল মুরসালীন (৪) সাইয়্যিদুল খালায়েক (৫) সরওয়ারে কাওনাইন (৬) আকরামুল আওয়ালীন (৭) ওয়াল আখিরীন (৮) রউফুর রহীম (৯) নবী করীম (১০) ফখরে বাহার (১১) ছাহেবে ইকরা (১৩) মা আ’জামা শানুহু (১৪) উসওয়ায়ে হাসানা (১৫) রসূলে পানাহ (১৬) ছাহেবে ছলাত (১৭) ওয়াসলাম (১৮) রসূলে পাক (১৯) প্রাণের আঁকা (২০) তাজেদারে মদীনা (২১) হুযূর (২২) পাক (২৩) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

পাঠক! মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর সুযোগ্য সম্পাদক আল্লাম মাহবুব আলম ছাহেব উনার মাত্র দুই পৃষ্ঠার সম্পাদকীয়তে নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ২৩টি লক্বব মুবারক উল্লেখ করার পরও মহা কাজ্জাব, রেযাখানী ভূত ফযলূ লিখলো মাত্র ১টি লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে। এবার আপনারাই নির্ধারণ করুন তারা কোন স্তরের মিথ্যাবাদী।

তাছাড়া আল বাইয়্যিনাত-এর কোন স্থানে লক্বব মুবারক কম-বেশি থাকলেও তা উল্লিখিত কুফরীর আওতায় পড়েনা। কারণ তা ভ- জলিলের ন্যায় পাশাপাশি উল্লেখ নেই। কারণ খাছ করে পাশাপাশি নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে লক্বব কম-বেশি করাকে কুফরী বলা হয়েছে। যেমনটা করেছে অদক্ষ জলিল। কেননা, যদি আমভাবে লক্বব মুবারক কম-বেশি করাকে কুফরী ধরে নেয়া হয়, তবে রেযাখানীদের মুরুব্বীরাই ফযলূর দেয়া ফতওয়া মুতাবিক “কাফির” সাব্যস্ত হয়। কারণ তারা তাদের মুখপত্রের ১ম পৃষ্ঠাতেই নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে “হাবীব, হযরত, মুস্তফা” মাত্র তিনটি লক্বব মুবারক উল্লেখ করেছে। আর তাদের তিন মুরুব্বীর নাম লিখতে সর্বমোট ১০টি লক্বব মুবারক উল্লেখ করেছে।

অতএব, জাহিল ফযলূ যদি আমার বক্তব্যকে আম অর্থে গ্রহণ করে ও আমার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে আল বাইয়্যিনাত-এর সম্মানিত লেখকদের কাফির আখ্যা দিতে চায় তবে তাকে সর্বপ্রথম নিজ মুরুব্বী তৈয়ব, তাহের ও ছাবেরকে কাফির অ্যাখ্যা দিতে হবে। আর তখনই মূলতঃ তার দেয়া শিরোনাম “আপনার তলোয়ারে গেল মোর মাথা” স্বার্থক হবে। (চলবে)

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

বাদশাহ আকবরের আমলের উলামায়ে “সূ”দের দ্বীন-ই-ইলাহী জায়েয করার মত আজকের উলামায়ে “সূ” তথা মাহিউদ্দীন, হদস, কমিনী, ফজলু গং ইসলামের নামে হরতাল, লংমার্চ, মৌলবাদ, নির্বাচন ইত্যাদি বিদয়াতী কাজকে হালাল বলে নিজেদের জঘন্য মুনাফিক রূপে প্রতিপন্ন করেছে (১)

বাংলাভাষার শব্দ প্রয়োগ করলে বলতে হত স্ববিরোধীতা এবং প্রতারণা। কিন্তু ইসলামিক পারিভাষিক শব্দ ব্যবহারে প্রযোজ্য হয় মুনাফিকী ও জিহালতি। আবূ জাহিল আর মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সূলুল-এর একান্ত যোগ্য অনুসারী হিসেবে শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন আর ফজলু গং নিজেদেরকে কতটা দক্ষ সাব্যস্ত করেছে তার লিখিত প্রমাণ পত্রস্থ হয়েছে ওদের মুখপত্র তথাকথিত রাহমানী ফয়গামের জুন/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যার জিজ্ঞাসা-জবাব বিভাগে।

ইসলামের দৃষ্টিতে হরতাল জায়েয আছে কিনা এই জিজ্ঞাসার জবাবে যেভাবে লিখিত মুনাফিকী কর হয়েছে, যেভাবে ইসলামের বিকৃত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, বিজাতীয়, বিদয়াতী, বেশরা কাজকে জায়েয করা হয়েছে তা ইমামে রব্বানী, আফজালুল আউলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যামানায় উলামায়ে “সূ” তথা নামধারী, ব্যবসায়ী আলিমদের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ঐতিহাসিক মোল্লা আব্দুল কাদির বাদায়ূনী তার রচিত “মুনতাখাবুত তাওয়ারীখ” গ্রন্থে বর্ণনা করেন, “বাদশাহ আকবরকে তার যামানায় উলামায়ে “সূ”রা এরূপ ধারণা দেয় যে, আখিরী নবী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বীনের সময়কাল ছিলো এক হাজার বছর তা পূর্ণ হয়ে গেছে। কাজেই বাদশাহ আকবর এখন যদি ইজতিহাদ বা মুক্ত বুদ্ধির প্রয়োগ দ্বারা কোন বিধি-বিধান প্রবর্তন করেন তবে সবাই মেনে নিবে। আর বাদশাহ আকবর যে ইজতিহাদ করার যোগ্য ব্যক্তি সে ব্যাপারে শয়তানী চক্রান্তের দোসর তথাকথি আলিমগণ যথা- মোল্লা মোবারক নাগরী, আবুল ফযল এবং ফৈজী প্রমুখরা বাদশাহ আকবরের মুজতাহিদ হওয়ার জন্য একখানি সনদ রচনা করেন, যা ইতিহাসে ‘মাহযার নাম’ রূপে বিখ্যাত।

এতদ্বপ্রেক্ষিতে এই অসৎ আলিমদের সহযোগীতায় বাদশাহ আকবর যেসব বিধি-বিধান চালু করে নি¤েœ তার অতি সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা পেশ করা হলো- দ্বীন-ই-ইলাহীর মূলমন্ত্র ছিল “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আকবারু খলীফাতুল্লাহ।”

দ্বীনে-ইলাহী গ্রহণ করতে হলে সকলকে স্বীয় ধর্মমত পরিত্যাগ করতে হতো। যারা দ্বীনে-ইলাহী গ্রহণ করতো, তাদের ‘চেলা’ নামে অভিহিত করা হতো।

এই নতুন ধর্মে তওহীদী ধ্যান-ধারণাকে নির্মূল করে তদস্থলে সূর্য, নক্ষত্র, আগুন, পানি, বৃক্ষ, শুকর, বানর প্রভৃতির পূজা প্রবতিত হয়। আকবর নিজে প্রত্যহ ভোরে, দ্বিপ্রহরে, সন্ধ্যায় ও মধ্যরাত্রে এই চার ওয়াক্তে বাধ্যতামূলকভাবে সূর্যের পূজা করতো।

ইসলামী আকাঈদের অন্যতম প্রধান অঙ্গ আখিরাত বা পরকালে বিশ্বাস করা দ্বীন-ই-ইলাহী এই বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করে তার পরিবর্তে ব্রাহ্মণ্য ও চানক্য সমাজের পূর্নজন্মবাদ বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত করে। বাদশাহ আকবর নিজেও বিশ্বাস করত যে, মৃত্যুর পর সে অন্য কোন স্বর্ণ সিংহাসনের অধিকারী হয়ে অনুরূপ প্রতিপত্তির সাথে পুনরায় আবির্র্ভূত হবে।

দ্বীনে-ইলাহীর অনুসারী কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার মাথা পূর্বদিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে তাকে দাফন করা হতো। মুসলমানদের পবিত্র কিবলাহ ‘কাবা’ শরীফ উনার অবমাননা করার উদ্দেশ্যেই এরূপ বিধান জারি করা হয়।

বাদশাহ আকবরের রাষ্ট্রীয় বিধান ছিলো- “যে সকল যুবতী নারী রাস্তায় কিংবা বাজারে বের হবে তাদের চেহারা অবশ্যই খোলা রাখতে হবে।” বিয়ে সম্পর্কে আকবর শাহী আইন জারী করেন যে, “কেউ তার চাচাতো, খালাতো বোনকে বিয়ে করতে পারবে না।” উনার ধর্ম মতে মদ খাওয়া হালাল ছিলো। নওরোজের উৎসবে কাজী, মুফতী এবং খ্যাতনামা আলিমরাও মদ ছাড়া থাকতে পারতো না।

মহান আল্লাহ পাক উনার আইনে যে সুদ ও জুয়া চিরতরে নিষিদ্ধ, শাহান শাহ আকবর তাকে বৈধ ঘোষণা করে। এমনকি শাহী দরবারের মধ্যেই একটি জুয়াগৃহ স্থাপন করা হয়, যেখানে জুয়াড়ীদেরকে রাজকোষ হতে সুদী-কর্জ দেয়া হতো।

আকবর শাহের নিকট ইসলামের কোন কিছুই মনঃপুত ছিলো না। তাই একদিকে সে যেমন বাঘ, ভাল্লুক, কুকুর ও বিড়ালের গোশত হালাল ঘোষণা করে, অন্যদিকে তেমন গরু, মহিষ, উট ও বকরীর গোশত সম্পর্কে হারামের সুস্পষ্ট ফরমান জারী করে।

একদা নবরতেœর অন্যতম রতœ আবুল ফযল বাদশাহ আকবরের সম্মুখে একখানি পুস্তক পেশ করে বলে, “এটা আসামানী কিতাব”, যাতে এক জায়গায় লিখিত ছিলো, ‘হে মানবম-লী! তোমরা গাভী যবেহ করো না। যদি করো তবে তোমাদের স্থান হবে নরকে।” নিরক্ষর স¤্রাট এটা বিশ্বাস করে তার রাজ্যে গরু যবেহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কসাইগিরী যার পেশা, তার সঙ্গে কেউ পানাহার করলে তার হাত কেটে দেয়া হবে বলেও সে আইন করে দিয়েছিলো।

কিন্তু পাঠক! আজকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও ইসলাম বিরোধী এইসব চরম অনৈসলামিক কাজও তৎকালীন উলামায়ে সূরা ইসলামের দোহাই দিয়েই, কুরআন শরীফ উনার আয়াত ও হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেই জায়েয করেছিল। বাদশাহ আকবরের উল্লিখিত ইসলাম বিধ্বংসী কাজের সমর্থনে তারা তাদের মাহযার নামায় যা লিখেছিল তা নি¤œরূপ- “বাদশাহ আকবরের ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফের বদৌলতে আজ সমগ্র ভারতবর্ষে শান্তি ও মৈত্রী বিরাজমান। তিনি যে সমস্ত আলিম, জ্ঞানী-গুণী, বিজ্ঞানী ও মনীষীদের একত্রিত করেছে, তারা বাস্তবিকই যাবতীয় বিষয়ে পরিপক্ক জ্ঞানের অধিকারী। তারা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, দর্শন মুবারক, বিজ্ঞান- সর্ব শাস্ত্রেই ইমাম। উনারা নি¤œলিখিত দলীলের উপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন যে, শাহানশাহ আকবরের মর্যাদা একজন মুজতাহিদের মর্যাদা অপেক্ষাও উচ্চ। দলীলঃ- ১. মহান আল্লাহ পাক, রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বের অধিকারী, উনাদের অনুসরণ করা তোমাদের উপর ফরয। (আল-কুরআন শরীফ) ২. কিয়ামতের দিন ন্যায়-বিচারক বাদশাহই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে সর্বাধিক প্রিয় পাত্র বলে বিবেচিত হবেন। (আল-হাদীছ শরীফ) ৩. যে ব্যক্তি নেতার অনুগত হয়ে চলে সে যেন আমারই প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলো। আর যে ব্যক্তি নেতার বিরুদ্বাচারণ করে, সে যেন আমারই বিরুদ্ধাচারণ করলো। (আল-হাদীছ শরীফ)

উপরোক্ত সনদে আরও বলা হয় যে, “যেহেতু শাহানশাহ আকবর একজন অনন্য সাধারণ ন্যায়-বিচারক ও অসীম ধীশক্তিসম্পন্ন মহাপুরুষ, সেই হেতু যে সব ধর্মীয় বিধানে পূর্ববর্তী মুজতাহিদ ইমামগণ একমত হতে পারেননি সেই সব ব্যাপারে অর্থনৈতিক উন্নতি ও পার্থিব সুখ সুবিধের প্রতি লক্ষ্য রেখে শাহানশাহ আকবর কোন একটি দিককে প্রাধান্য দিলে অথবা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার আলোকে ধর্মীয় বিষয়ে নতুন কোন ফরমান জারি করলে তা অম্লান বদনে মেনে নেয়া এবং তদনুসারে আমল করা জনগণের অবশ্য কর্তব্য রূপে নির্ধারিত হবে। আর তার বিরোধিতা করা দুনিয়া ও আখিরাতের বরবাদী ছাড়া কিছুই নয়। আর এ বদ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আরো যা করা হয়ে সে প্রসঙ্গে মোল্লা ছাহেব উল্লেখ করেছেন, “টাকা ও আশরাফীর মধ্যে আলফের তারিখ লিখিত হয়। এর মধ্যে বাদশাহর উদ্দেশ্য নিহিত ছিলো যে, হযরত মুহম্মদ মুস্তফা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীনের আয়ু হাজার বছর ছিলো এবং তা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সুতরাং এখন সময় হলো, বাদশাহ আকবর ও তার দ্বীন-ই-ইলাহীর। নাউযুবিল্লাহ! এ ছাড়া তারিখে আলফী নামক একটি পুস্তকও সে প্রণয়ন করিয়েছিলো।” আর সবকিছুতেই পূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল উলামায়ে ‘সূ’রা।

পাঠক! ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান শাইখুল হদস মাহিউদ্দীন, ফজলু গং, স¤্রাট আকবরের যামানার আবুল ফজল, ফৈজী প্রভৃতি উলামায়ে ‘সূ’দের মত এই প্রচার করতে শুরু করেছে যে, বর্তমান যামানা যেহেতু আখিরী যামানা সেহেতু বর্তমানে বাতিল প্রতিরোধে হরতাল, লংমার্চ, নির্বাচন ইত্যাদি জায়েয বরং জিহাদের অন্তর্ভূক্ত।

অর্থাৎ বাদশাহ আকবরের মত তাদের মতে, “বর্তমান যামানাটা হচ্ছে, শাইখুল হদস, কমিনী, মাহিউদ্দীন ইত্যাদির। বর্তমান যামানা আর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানা নয়। নাউযুবিল্লাহ!

পাঠক! তাদের একথাগুলো যে বাদশাহ আকবরের উল্লিখিত ইসলাম বিরোধী চরম ন্যাক্কারমূলক কর্মকা- থেকে কোন অংশেই কম নয় তার এই লিখার ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে ইনশাল্লাহ। কিন্তু বর্তমানে সংখ্যায় এসব হারাম হালাল করতে যেয়ে সূত্র রাহামানী পয়গাম মে’ ২০০১ইং। তারা যে মুনাফিকী বক্তব্য দিয়েছে তা তুলে ধরতে হয়। তারা বলেছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রকার বাতিলের প্রতিরোধ করা জরুরী ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তার জন্য একক কোন নিয়ম বেধে দেননি।”

পাঠক! মহান আল্লাহ পাক ও ইসলাম সম্পর্কে এহেন বিমথ্যাচার করে তারা আজ স¤্রাট আকবরের যুগের উলামায়ে ‘সূ’দের ন্যায়ই ইসলামের নামে সকল অনৈসলামিক কাজ জায়েয করতে চায়।

পাঠক! বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এখানে এদের যে মুনাফিকীটা সুস্পষ্ট তা হলো যে, যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন নিয়ম কানুন বেদে দেননি সেহেতু এখন ইসলামের নামে ওদের রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করণের বর্তমান কর্মসূচী হরতাল, যা গান্ধী প্রবর্তিত তা জায়েয। নাউযুবিল্লাহ! এর দ্বারা মূলতঃ এরা যে কত জঘন্য স্তরের মুনাফিক তাও প্রতয়িমান হয়েছে। হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, এ সূত্রানুযায়ী এরা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে ও লিখিতভাবে মিথ্যা বলেছে। কারণ, অবশ্যই অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি বাতিল প্রতিরোধের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধি-বিধান নাযিল করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “আর লড়াই করো মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াস্তে তাদের সাথে যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করোনা। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা বাক্বারা/১৯০)

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, “সন্ধি-চুক্তিকারীদের সঙ্গে পারস্পরিক চুক্তির কারণে তোমাদের পক্ষ থেকে প্রথমে হামলা করার অনুমতি নেই। কিন্তু তারা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে তোমাদের উপর আক্রমণ চালায়, তখন তোমরা অন্তরে কোনরূপ দ্বিধা দ্বন্দ্বের স্থান দিওনা; এবং (নিঃশঙ্কচিত্তে) তোমরাও মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর। (অর্থাৎ এই নিয়তে যে, এরা দ্বীন ইসলামের বিরোধীতা করছে এবং চুক্তি ভঙ্গ করে) তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়েছে। (কিন্তু নিজেরা চুক্তির) সীমা অতিক্রম করোনা (চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়োনা) প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক তিনি (শরীয়তের আইনের) সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেননা।

আয়াত শরীফ উনার নির্দেশ এই যে, মুসলমানগণ কেবলমাত্র সে সব কাফিরদের সঙ্গেই যুদ্ধ করবে যারা তাদের বিপক্ষে সম্মুখ সমরে উপস্থিত হবে। এর অর্থ এই যে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, ধর্মীয় কাজে সংসারত্যাগী, উপাসনারত, সন্নাসী, পাদরী প্রভৃতি এবং তেমনিভাবে অন্ধ, খঞ্জ, পঙ্গু, অসমর্থ অথবা যারা কাফিরদের অধীনে মেহনত মজদুরী করে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয়না এসব লোককে যুদ্ধে হত্যা করা জায়েয নয়। কেননা, আয়াতের নির্দেশে কেবলমাত্র তাদেরই সঙ্গে যুদ্ধ করার নির্দেশ রয়েছে, যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কিন্তু উল্লেখিত ধরণের কেউই যুদ্ধে যোগদানকারী নয়।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত এক হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

অনুরূপভাবে আবু দাউদ শরীফ উনার মধ্যে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত হয়েছে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নামে এবং রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মিল্লাতের উপর জিহাদে যাও। কোন দূর্বল, বৃদ্ধ এবং ছোট শিশুকে অথবা কোন স্ত্রী লোককে হত্যা করোনা।” (মাযহারী, মা’রিফুল কুরআন শরীফ)

হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি যখন ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ানকে সিরিয়া অভিযানে প্রেরণ করেন, তখন যুদ্ধ সম্পর্কিত বিধি-বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গে হুবহু এ উপদেশগুলোর কথাই উল্লেখ করেছিলেন, এতদসঙ্গে তিনি আরো উপদেশ দেন যে, “উপাসানরত রাহেব বা সন্নাসী, কাফিরদের শ্রমিক ও চাকরদের কেউ হত্যা করোনা, যদি না তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।” (কুরতুবী, মা’রিফুল কুরআন শরীফ)

কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত “স্বহস্তে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিওনা।” এ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বিভিন্নমত ব্যক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন মহাত্মা বলেছেন, এমন সময় যুদ্ধাভিযানে যাওয়াকে নিজের হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনা বলা যেতে পারে। যখন সুস্পষ্ট বুঝা যায় যে, শত্রুর কোন ক্ষতি সাধন করা সম্ভব হবেনা বরং নিজেরাই ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত হবে। এরূপ ক্ষেত্রে এই আয়াতের মর্ম অনুযায়ী এরূপ যুদ্ধাভিযান নাজায়েয।

“সে প্রাণকে হত্যা করোনা, যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তারাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্য প্রাপ্ত।” (সূরা বণী ইসরাঈল/৩৩)

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালন কর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।” (সূরা বাক্বারা/১৭৮)

পাঠক! কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এরকম অনেক আয়াত শরীফ সুস্পষ্টভাবে থাকার পরও এই হদস, মুনাফিক গং লিখিতভাবে মুনাফেকী করেছে যে, অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য কোন নিয়ম-কানুন বেধে দেননি। অথচ উল্লিখিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে কখন জিহাদ করতে হবে, কাকে আঘাত করতে হবে, কি পন্থায় করতে হবে, কতটুকু করতে হবে, কোনক্রমে সীমালঙ্ঘন তথা বর্ণিত বিধি-বিধান লঙ্ঘন করা যাবেনা সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধি-নিষেধ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু তারপরেও যখন গোমরাহ ও বিদয়াতী শাইখুল হদস গং বলে যে, অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কোন নিয়ম-কানুন বেধে দেননি তখন তারা যে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত স্পষ্ট আয়াত শরীফ অস্বীকার করে কেবল তাই নয় মূলতঃ এর দ্বারা তারা গোটা ইসলামকেই অবমাননা ও অস্বীকার করতে চায়। কারণ ইসলাম পরিপূর্ণ ধর্ম। বাতিল কিভাবে প্রতিবাদ করতে হবে, গান্ধীর হরতালের মত বিজাতীয়, বিধর্মীয় পন্থায়, জনজীবনে বিশৃঙ্খলা, মহান জুলুম, ফিৎনা-ফাসাদ করে জান মালের ক্ষতি করে, একজনের শাস্তি অন্যকে দিয়ে আর হারাম পন্থায় কাজ করে বা হরতাল করে যে বাতিল প্রতিরোধ করা যাবেনা করলে সেটাই হবে বিশেষ বাতিল প্রথা যে ব্যাপারে কুরআন শরীফ-সুন্নাহ শরীফ উনার স্পষ্ট নিদর্শন আছে।

-মুহম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, বাসাবো, ঢাকা।

স্বীয় অন্তরে আবু লাহাবের মুহব্বত টুইটম্বুর থাকার কারণেই ইহুদী-খ্রিস্টানের বংশবদ, আবু লাহাবের পুত্র, খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতীরা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘লাহাবী উৎসব’ বলে

নিজেদের ইবলিসের খাছ অনুচর বলে প্রতীয়মান করেছে (১)

সতেরবার ভারত বিজয়ী গজনীর সুলতান মাহমুদের খেয়াল হলো তিনি ওলীআল্লাহ উনাদের জিয়ারতে যাবেন। এদিক-সেদিক অনেক নামধারীর সাক্ষাতই হলো। তারা তাকে অনেক তাযীম-তাকরীমও করলো। কিন্তু সুলতান মাহমুদের ব্যাকুল মন তাতে শান্তি পেলনা। তিনি উজীরে আযমকে বললেন, অন্য কোথাও নিয়ে যেতে।

উজীরে আযম এবার তাকে নিয়ে আসলেন হযরত আবুল হাসান খারক্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে। অন্যান্যদের মত ইনি, তাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন না, এমনকি মোসাফাহ করার জন্য হাতও বাড়িয়ে দিলেন না। অতঃপর সুলতান মাহমুদ নিজেই সেখানে যথা নিয়মে বসে পড়লেন। তার তাক্বওয়া, রূহানী জ্ঞান তথা ইলমে লাদুন্নী সমৃদ্ধ তত্ত্বমূলক কথা সুলতান মাহমুদকে অভিভূত করলো। এক পর্যায়ে হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বীয় পীর ছাহেব সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েযীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রশংসা করতে গিয়ে বলরেন, “আমার পীর ছাহেব সুলতানুল আরিফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যার দেখেছেন তারা নাযাত পেয়েছেন, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছেন।” দ্বিগ¦ীজয়ী সুলতান মাহমুদ এবার আর চুপ থাকতে পারলেননা। তিনি বলে উঠলেন, “হুযূর! আপনার পীর ছাহেব কি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকেও বড় হয়ে গেলেন? আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আবু জেহেল, আবূ লাহাব সারাজীবনে লাখ-লাখ বার দেখলো এতদ্বসত্ত্বেও তারা জাহান্নামী বলে সাব্যস্ত হলো, আর আপনার পীর ছাহেবকে যেই দেখেছে সেই জাহান্নাম থেকে নাযাত পেয়েছে, এটা কেমন কথা হলো?” সুলতান মাহমুদের প্রশ্ন শেষ না হতেই হযরত আবুল হাসান খারক্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বদনমন্ডলে ফুটে উঠলো রক্তিম আভা। তিনি জ্বালালী তবিয়তে বলে উঠলেন, “মুখ সামলে কথা বলো হে সুলতান।” আবূ জেহেল, আবূ লাহাব কখনও মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেনি। তারা দেখেছে তাদের ভাতিজা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।

গাছ, পাথর, বনের হরিণী, মেঘমালা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিনেছে। তারা ছালাম দিয়েছে, ঈমান এনেছে। কিন্তু মক্কার কাফিরদের বেলায় কি তাই হয়েছে? বরং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে তাদের জিহালতি ও গোমরাহী প্রকাশ পেয়েছে। নি¤েœাক্ত আয়াত শরীফ, “উনি কেমন রসূল, যিনি বাজারে যান, খাদ্য খান” অর্থাৎ কাফিররা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাজার এবং খাদ্য ক্রয়ের মাঝে জ্যান্ত একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই দেখেছে। নাউযবিল্লাহ!

মূলতঃ রসূল হিসেবে মূল্যায়ণ ব্যতিরেকে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন আবূ লাহাব গোষ্ঠী তথা মক্কাবাসীর নিকট খুবই প্রিয় মানুষ। ইতিহাস তাই প্রতিভাত করে।

পবিত্র কা’বা শরীফ পুনঃ নির্মাণে প্রত্যেক গোত্র আলাদাভাবে পাথর সংগ্রহ করলো ও পুনঃ নির্মাণ কাজ সমাধা করলো। হাজরে আসওয়াদের স্থান পর্যন্ত দেয়াল নির্মাণ সম্পন্ন হলে হাজরে আসওয়াদকে পুনঃ স্থাপন করা নিয়ে বিরোধে প্রায় যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলো। এমতাবস্থায় কুরাঈশ সম্প্রদায়ের প্রধানতম নেতা আবু উমাইয়া ইবনুল মুগীরা নি¤œরূপ আহ্বান জানালেন, “হে কুরাঈশগণ! এই পবিত্র মসজিদের দরজা দিয়ে যে ব্যক্তি প্রথম প্রবেশ করবে উনাকেই তোমরা এই বিরোধ মীমাংসার দায়িত্ব দাও।” সবাই এ প্রস্তাবে সম্মত হয়। অতঃপর দেখা গেল, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই সর্বপ্রথম প্রবেশ করলেন। আর উনাকে দেখা মাত্রই সবাই এক বাক্যে বলে উঠেলো, “এতো আমাদের আল আমীন, পরম বিশ্বস্থ মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার ফায়সালা আমরা মাথা পেতে নিব।”

পাঠক! সমূহ সীরাত প্রন্থে বর্ণিত এই ঘটনা থেকে এটাই প্রতিভাত হয় যে, হুব্বুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রসূল পরিচয় ব্যতিরেকে কুরাঈশদের নিকট কত প্রিয় ছিলেন। এর থেকে বাদ ছিলনা আবূ লাহাবও। সাফা পাহাড়ের উপর উঠে যখন শাফীউল মুজনিবীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আওয়াজ দিলেন, “ইয়া সাব্বাহ! অর্থাৎ হায় সকাল! তখন অন্য সকলের আগে আবূ লাহাবও এগিয়ে এসেছিলো। যে তাদের প্রিয় আল আমীন, তাদের প্রিয় ভাতিজা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি বলেন। “সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে” ঘটনাটি বর্ণিত আছে এভাবে, “এবং আপনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদেরকে (মহান আল্লাহ পাক উনার আযাবের) ভয় প্রদর্শন করুন।” (সূরা শুয়ারার) এই আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাফা পাহাড়ের উপর আরোহন করে আওয়াজ দিলেন, হে বণি ফিহর! হে বণি আদী! এ আওয়াজ শুনে কুরাঈশদের সকল নেতৃস্থানীয় লোক একত্রিত হলো। যে আসতে পারেনি সে একজন প্রতিনিধি পাঠালো, কি ব্যাপার সেটা জানার জন্য। আবূ লাহাবও তাদের মাঝে বিশেষভাবে ছিলো। সরওয়ারে কায়েনাত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “যদি আমি কোন কতা বলি তা কি তোমরা বিশ্বাস করবে?” তারা সবাই এক বাক্যে বলে উঠলো, হ্যাঁ, কেননা আপনি আল আমীন। আপনি সব সময় সত্য কথা বলে থাকেন।” সরদারে দো’আলম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “যদি আমি বলি যে, এই পাহাড়ের আঁড়াল হতে একটি অশ্বারোহী বাহিনী আসছে যারা তোমাদের উপর আক্রমণ করতে উদ্যত। তোমরা কি সে কথা বিশ্বাস করবে?” সবাই বললো, “হ্যাঁ, বিশ্বাস করবো। কারণ আমরা আপনাকে কখানো মিথ্যা বলতে শুনিনি।” আবূ লাহাবও উপস্থিত জনতার সাথে সাথে সমস্বরে বলে উঠলো, “হ্যাঁ করবো।”

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “সত্য সত্যই আমি তোমাদের মহান আল্লাহ পাক উনার কঠিন আযাবের ভয় প্রদর্শন করছি।”

একথা শ্রবণে আবূ লাহাবের এতদিনের ভালবাসার খোলস সব উবে গেল। কারণ এতদিন পর্যন্ত সে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ভালবেসেছিল তার সুশীল ভাতিজা হিসেবে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হিসেবে নয়। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মে সে খুশি হয়েছিল স্বীয় গোত্রে, স্বীয় বংশে, স্বীয় ভাইয়ের ঘরে, অনিন্দ সুন্দর, ফুটফুটে বেমেছাল এক শিশুপুত্র জন্মগ্রহণের সংবাদ পেয়ে। কারণ তৎকালে আরব জাহানে কণ্যা সন্তান জন্মগ্রহণ ছিল অবমাননার প্রতীক। কণ্যা সন্তানকে তখন জীবন্ত কবর দেয়া হত। আর সুন্দর শিশুপুত্র হওয়া ছিল আরবদের গর্বের বিষয়। আর তাই স্বীয় গোত্রে অপূর্ব অপরূপ শিশু মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণ ছিল আবূ লাহাবের জন্যও গর্বের বিষয়।

পাপাত্ম আবূ লাহাব হয়ত ভেবেছিল, এই শিশু বড় হয়ে-ওজ্জারই সুনাম বৃদ্ধি করবে। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু লাত-ওজ্জার ধ্বংসের জ্যই রসূল হিসেবে যে এই শিশুর আগমণ সেটা আবূ লাহাব বুঝেনি। এবং লাত-ওজ্জার ধ্বংসকারী রসূল হিসেবে আগত শিশুর জন্মের উপরও সে খুশি হয়নি। বরং এ কথা বুঝতে পারলে সে হয়তোবা তখনই শিশু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করতে উদ্যত হত। যেমনটি ফিরআউন বুঝেনি যে, তার পালিত শিশু পুত্রই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। অথচ এরকম একটি শিশুর আগমণবাণী জানতে পেরে সে লক্ষ লক্ষ শিশু পুত্রকে হত্যা করেছিল। আর একইভাবে আবূ লাহাবও যখন রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে রিসালতের দাওয়াত পেল তখন সে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে বলে উঠলো, “আপনি ধ্বংস হোন।” নাউযুবিল্লাহ!

বলাবাহুল্য, তার এ কথার জবাবে তার ধ্বংস এবং তার দু’হাতের ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে সূরা লাহাব নাযিল হয়। আর এর দ্বারা এই প্রতিভাত হয় যে, “ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রিসালত স্বীকার ও গ্রহণের বিপরীতে আবূ লাহাবের অন্তরে কত বেশি গোমরাহী, জিহালতী ও বিদ্বেষ বিরাজ করছিলো।

সুতরাং এ কথা কি করে বলা ঠিক যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল  সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মে আবূ রাহাব খুশি হয়েছিল। মূরতঃ এ কথা কেবল খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতীরাই বলতে পারে, যারা এখনও নিজেদের মত মানুষ হিসেবে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে, রসূল হিসেবে নয়।

উল্লেখ্য, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবির্ভাবে আবূ লাহাব খুশি হয়েছিল বলে যারা একে “লাহাবী উৎসব” বলে আখ্যা দিতে চায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা তাহলে এই সাব্যস্ত হয় যে, আবূ লাহাব বা তার সমগোত্রীয়রা যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম ঠেকাতে পারত অথবা জন্ম মুহুর্তে উনাকে শহীদ করতে পারত (নাউযুবিল্লাহ) তাহলেই আজকের ওহাবী, খারিজী, বিদয়াতী শাইখুল হদস গংদের কাছে তা অধিকতর আনন্দদায়ক ও গ্রহণযোগ্য হতো।

বলঅবাহুল্য, এরও নজীর রয়েছে সীরাতগ্রন্থে। “মক্কার ইহুদী ও খ্রিস্টানরা ছিল আসমানী কিতাবধারী। ওরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণ সম্পর্কে অনেক তথ্যাদি জানতো। ওরা হযরত আব্দুল্লাহ তায়ালা আনহু উনার মাঝে এমন অনেক লক্ষণ পরিস্কার দেখতে পায় যাতে ওদের মাঝে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণের সাথে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কোন না কোনভাবে অবশ্যই সম্পৃক্ত আছেন। ওরা উনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো এবং সেই চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করলো।

একবার হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দূরবর্তী এক জঙ্গলে শিকার করতে গেলেন। টের পেয়ে আহলে কিতাবরা উনাকে ঘিরে ফেললো। তিনি তখন সম্পূর্ণ একা এবং অসহায়। ওরা ছিল সশস্ত্র। ঘটনাক্রমে এ সময় হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার পিতা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঐ জঙ্গলে ছিলেন। তিনি দেখলেন, হঠাৎ অদৃশ্য থেকে একটি দল আবির্ভূত হলো এবং হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ঘিরে ফেলা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের দলটিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। (মাদারেজুন নুবুওওয়াত)

“সীরাতে ইবনে হিশাম” গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, “শিশু বয়সে সীনা চাকের ঘটনার পর লোকজনের পরামর্শে হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এক গণকের কাছে নিয়ে যান। সে লোক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললো, “(হে বালক!) বলতো, ব্যাপারটা কি?” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলতেই গণক লাফিয়ে দাঁড়াল এবং চিৎকার করে ডাকতে লাগলো, “হে আরবরা! এক মহাদূযোগ আসন্ন। এ বালক এবং আমাকে হত্যা কর। যদি তোমরা তা না কর এবং সে বড় হয়ে যায়, তবে তোমাদের বড়দের বুদ্ধি-বিবেক নষ্ট করে দিবে, তোমাদের ধর্মকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে, মানুষকে অচেনা এক প্রতিপালকের দিকে আহ্বান করবে এবং সম্পূর্ণ অচেনা এক নতুন ধর্মের দিকে তোমাদের ডাকবে।”

হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, “এসব শুনে আমি তার হাত থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছিনিয়ে নিলাম। বললাম, ‘তুই এক বদ্ধপাগল ও উন্মাদ। এসব কথা বলবি যদি আগে জানতাম, কিছুতেই এ বরকতময় শিশুকে নিয়ে আসতাম না। তোর মরার সাধ জেগে থাকলে তুই নিজেই লোকজন ডেকে নে। আমি কিছুতেই মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম উনাকে হত্যা করতে দিবনা। (ইবনে হিশাম)

হযরত ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক হতে রেওয়ায়েত আছে যে, এক বৃদ্ধ গণক তার ক্বওম বণু হুজায়েলকে ডেকে বললো, “এ শিশু আকাশ থেকে কোন হুকুমের অপেক্ষায় আছে। এসব বলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে মানুষকে উস্কে দিতে লাগলো। কিছুদিনের মাঝে লোকটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উন্মাদ হয়ে গেল এবং এ অবস্থায়ই সে মারা গেল।

কিছুদিন পর হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার বাড়িতে কয়েকজন ইহুদী এলো। পরীক্ষার জন্য হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি তাদের বললেন, “আমার এ ছেলের ভবিষ্যত সম্পর্কে তোমরা বল। তিনি এভাবে গর্ভে ছিলেন এবং এভাবে ভূমিষ্ট হয়েছেন। উনার ব্যাপারে আমি এই দেখেছি। হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার কাছে হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি যা যা শুনেছিলেন সব তিনি এদের বললেন।

সব শুনে ইহুদীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলো, এ শিশুকে হত্যা কর। তারপর হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে ওরা জিজ্ঞেস করলো, “শিশুটি কি এতিম? হযরত হালিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (ভয় পেয়ে) বললেন, “না, উনি এতিম নন। ইনি হচ্ছেন উনার পিতা (উনার স্বামীকে দেখিয়ে) আর আমি উনার মা।” ইহুদীরা বললো, “উনি এতিম হলে অবশ্যই আমরা উনাকে হত্যা করতাম।” (খাসায়েসুল কুবরা)

সুতরাং পাঠক! যদিও আবূ লাহাব রসূল হিসেবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণে খুশি প্রকাশ করেনি, করেছে তার ভাতিজার আগমণে। তারপরেও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণের উপর খুশি প্রকাশ যদি ‘লাহাবী উৎসব’ হয় অর্থাৎ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণের উপর আনন্দ না প্রকাশ বা অখুশি প্রকাশই যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে বলতে হয় যে, যারা এরূপ করবে তারা ইতোপূর্বে বর্ণিত খ্রিস্টান ও ইহুদী। কারণ আমরা এ লেখায় প্রমাণ পেয়েছি যে, সব ইহুদী ও খ্রিস্টানরাই আখিরী নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণ মুবারক চায়নি এমনকি আগমণের পথ তথা ধারাবাহিকতা তারা রুদ্ধ করেছিল আর আগমণ মুবারক উনাকে খুশিও হয়নি। যেমনটি খুশি হয়নি শয়তান।

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম মুবারক উনার কারণে সবচেয়ে গাত্রদাহের কারণ হয়েছিল শয়তানের। যেমনটি হয়েছে আজকে শয়তানের অনুচর খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতী শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, ফজলু গংদের।

কারণ যমীনে উসওয়ায়ে হাসানা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ থাকার কারণেই, ইহুদী-খ্রিস্টানদের খিলাফ করতে বলার কারণেই, তাদের আদর্শ গ্রহণ করতে নিষেধ করার পরেও আজকে তারা ইহুদী-খ্রিস্টানদের আদর্শ গ্রহণ করে লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, নির্বাচন ইত্যাদি কর্মসূচী গ্রহণ করে সত্যানুসন্ধানী মুসলমানদের কাছে ধিকৃত ও লাঞ্ছিত হচ্ছে; এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ সমুন্নত থাকার কারণে তারা তাদের নফসের চাহিদা মত ইহুদী-খ্রিস্টানদের ঢালাওভাবে অনুসরণ করতে পারছেনা।

সুতরাং ছুরতান না বললেও হাক্বীক্বতান তারা ইহুদী-খ্রিস্টান তথা শয়তানের ন্যায় মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণের উপরই অখুশি। আর এরূপ শয়তানের অন্ধ অনুচর হওয়ায় ওরা দেখতে পায়নি যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণের উপর প্রথম খুশি প্রকাশ করেছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি।

রহমতুল্লিল আলামীন, মুখতাছারুস সীরাত, ইবনে হিশাম, বায়হাক্বী তিবরানী, খাসায়েলুস কুবরা, ইবনে ইসহাক, আন নিয়ামাতুল কুবরা প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে বর্ণনা পাওয়া যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে আগমণ মূহুর্তে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় খুশির নিদর্শন স্বরূপ অভূতপূর্ব কুদরতী ঘটনার সমাহার ঘটিয়েছেন।

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আর আমি দেখতে লাগলাম, দীর্ঘ বাহুবিশিষ্ট জনেরা আমার নিকট দলে দলে আসছেন। আমি আমার গৃহের দিকে তাকালাম, এখানে নানান ভাষায় বৈচিত্রপূর্ণ দূর্বোধ্য কথা আমি শুনতে পেলাম। এসব কথা বার্তায় সুরিয়ানী ভাষার কথাগুলো বেশি মনে হচ্ছিল। হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি সেসময় লক্ষ্য করলাম, দলে দলে ফেরেশতাগণ আমার ডানে-বামে উড়ছেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ করলেন, হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! রুহ সমূহকে পবিত্র শরাবের পাত্রের নিকট শ্রেণীবদ্ধ কর। হে রিদওয়ান! জান্নাতের নবোদভিন্না যুবতীগণকে নতুন সাজে সজ্জিত কর, আর পবিত্র মেশকের সুগন্ধি ছড়িয়ে দাও। সারা মাখলুকাতের যিনি মহান ব্যক্তিত্ব সেই মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবির্ভাব উপলক্ষ্যে।

হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! বিছিয়ে দাও নৈকট্য ও মিলনের জায়নামায সেই মহান ব্যক্তিত্বের জন্য যিনি অধিকারী নূরের, উচ্চ মর্যাদার এবং মহা মিলনের। হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! দোযখের রক্ষক ফিরিশতা মালিক আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ কর যেন তিনি দোযখের দরজাসমূহ বন্ধ করে। হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! জান্নাতের তত্ত্বাবধায়ক ফিরিশতা রিদওয়ান আলাইহিস সালাম উনাকে বলো, যেন তিনি জান্নাতের দরওয়াজা সমূহ উম্মুক্ত করে। হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! রিদওয়ানের পোশাক (এর অনুরূপ পোশাক) পরিধান কর। হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! যমিনের বুকে গমণ কর সুসজ্জিত হয়ে, কাছের ও দূরের সকল ফিরিশতা সহকারে। হে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! আসমান-যমীনের চার পাশে ঘোষণা দাও, সময় ঘনিয়ে এসেছে মুহিব ও মাহবুবের মিলনের, তালিব ও মাতলুবের সাক্ষাতের অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সহিত উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে মি’রাজ হবে উনার সময় নিকটবর্তী হল, উনার আবির্ভাবের মাধ্যমে।”

“অতঃপর হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম তিনি হুকুম বর্ণনা করলেন যেমনটি মহান আল্লাহ জাল্লাজালালুহু আদেশ করলেন। এক জামাত ফিরিশতাকে মক্কার পাহাড়ে দায়িত্ব দিলেন। উনারা হারাম শরীফ উনার দিকে নজর মুবারক রাখলেন। উনাদের পাখা সমুহ যেন সুগন্ধিযুক্ত সাদা মেঘের টুকরা। তখন পাখিসমূহ তাসবীহ করতে লাগল এবং উম্মুক্ত প্রান্তরে বনের পশুগুলো সহানুভূতির ডাক আশার ডাক দিতে লাগল। এসব কিছুই সেই মহান মালিক জলীল জাব্বার মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উনার আদেশ মুতাবিক হল।”

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার চোখের পর্দা অপসারিত করলেন। আমি দেখতে পেলাম শাম দেশের বসরা নগরীর প্রাসাদ সমূহ। আর আমি দেখলাম তিনটি পতাকা। একটি পতাকা পূর্ব প্রান্তে, আরেকটি পতাকা পশ্চিম প্রান্তে এবং তৃতীয়টি কা’বা শরীফ উনার ছাদে।”

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমি যখন এ অবস্থায় উপনীত তখন আমি দেখলাম, আমি পাখিদের একটি দলে যে পাখিদের চক্ষুগুলো স্বর্ণাভ, ডানাগুলো বৈচিত্রময় রঙবেরঙের ফুলের মত। সেগুলো আমার কক্ষে প্রবেশ করল। মনিমুক্তার মত। এরপর উক্ত পাখিগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার ছানা-ছিফত করতে লাগল আমার চার পাশে। আমি উম্মিলিত রইসাম এ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর ফিরিশতাগণ আমার নিকট দলে দলে আসতে লাগলেন। আর তাদের হাতে ছিল আগরদান-স্বর্ণাভ ও রৌপ্য নির্মিত। আর তারা সুগন্ধি ধু¤্র ছড়াচ্ছিল। সেই সাথে তারা উচ্চ কণ্ঠে সম্মানিত রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি, মর্যাদাবান হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত ও সালাম পাঠ করছিল। তাদের কণ্ঠে সৌজন্যতার ও মহানুভবতার ভাব স্পষ্ট ছিল।”

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “চন্দ্র আমার মাথার উপর চলে এল তাবু মাথার উপর থাকার মত। আর তারকারাজি আমার মাথার উপর সুদৃশ্য মোমবাতির ন্যায়। সে অবস্থায় আমার নিকট ছিল দুধের ন্যায় শুভ সুগন্ধিময় পাণীয়। যা ছিল চিনি ও মধুর চেয়ে মিষ্ট এবং বরফের চেয়ে বেশি ঠা-া। তখন আমার খুব পিপাসা লেগেছিল। আমি গ্রহণ করলাম ও পান করলাম। এর চেয়ে অধিক কোন সুপেয় পানীয় আগে পান করিনি। ইহা থেকে আমাতে প্রকাশ পেল মহিমান্বিত নূরের ছূটা।”

পাঠক! এরা শয়তানের অনুচর বলেই ঠাহর করতে পারেনি যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম উপলক্ষ্যে যমীনে হাক্বীক্বীভাবে যিনি ঈদ করেছিলেন, খুশি প্রকাশ করেছিলেন তিনি হলেন উনার দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।

“সীরাতে ইবনে হিশাম” গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, “জন্মের পর হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংবাদ পৌঁছানো হলে তিনি খুব খুশি হলেন এবং অত্যন্ত খুশির সাথে উনাকে কা’বা শরীফ উনার মধ্যে নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে শোকরিয়া আদায় করলেন এবং দোয়া করলেন।

হযরত আবুল হাকাম তানুখী বর্ণনা করেন, “কুরাঈশরা তাদের কোন শিশু জন্মগ্রহণ করলে তাকে হাঁড়িতে দেয়ার জন্য মহিলাদের হাতে সোপর্দ করা হতো। (তারা ঐ শিশুকে এক রাত হাঁড়ির নিচে রাখতো) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জন্ম লাভ করলে উনাকেও ঐ উদ্দেশ্যে হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মহিলাদের হাতে সোপর্দ করেন। সকালে সবাই দেখলো, হাঁড়ি দ্বিখ-িত হয়ে আছে এবং আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দু’চোখ মুবারক মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মহিলারা হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে এসে বললো, “এমন শিশু আমরা কখনও দেখিনি। উনার উপরের হাঁড়ি ভেঙে গেছে। দেখলাম, তিনি আকাশের দিকে চোখ মুবারক মেলে তাকিয়ে আছেন।”

হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, “তোমরা উনাকে দেখে রেখো। উনার থেকে আমি মঙ্গলই আশা করি।”

সাত দিনের দিন হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পশু জবেহ করে কুরাঈশদের দাওয়াত করলেন। আহার শেষে কুরাঈশরা জিজ্ঞেসা করলেন, “হে আব্দুল মুত্তাবিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! শিশুর নাম কি রাখলেন?” তিনি বললেন, “মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” তারা বললো, “গোত্রীয় ধরণের নাম রাখলেন না কেন?” হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, “আমি চাই আকাশে মহান আল্লাহ পাক তিনি আর যমীনে মানব জাতি সকলেই উনার প্রশংসা করুক।” (বায়হাক্বী)

পাঠক! আলোচ্য বর্ণনায় দেখা যায়, হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বত জেনে চলমান রীতির বাইরে উনার নাম মুবারক ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রেখে, জন্মের সাথে সাথে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, কা’বা শরীফ উনার মধ্যে তাওয়াফ করে শোকরিয়া পালন করেছেন এবং আনন্দ তথা খুশি স্বরূপ পশু জবেহ করে কুরাঈশদের দাওয়াত করে খাইয়েছেন।

সুতরাং এক্ষেত্রে হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম মুবারক উনার উপর খুশি তথা ঈদ প্রকাশ করলেন সেক্ষেত্রে এটা কি ‘মুত্তালিবী ঈদ’ বলে সাব্যস্ত হয়না? আর স্বয়ং খোদা পাক তিনিই যেখানে ঈদ পালন করেছেন সুতরাং সেখানে একে কি ‘খোদায়ী ঈদ’ বলেই সাব্যস্ত করতে হয়না?

সুতরাং ‘খোদায়ী ঈদ’ নয়, ‘মুত্তালিবী ঈদ’ নয়- লাহাবের দিকে দৃষ্টি দিয়ে ‘লাহাবী ঈদ’ বলতে খারিজীদের অন্তরে এত খাহেশ জাগে কেন?

মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নয় বরং আবু লাহাবের মুহব্বত তাদের অন্তরে পরিপূর্ণ বলেই তারা একে লাহাবী ঈদ বলতে পেরেছে। হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার কাছে একবার কিছু লোক এসে দুনিয়া সম্পর্কে খুব বিষোদগার করতে লাগালো। হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা তাদেরকে বললেন, “দেখ, তোমাদের অন্তরে নিশ্চয়ই দুনিয়ার প্রতি খুব বেশি মুহব্বত রয়েছে। নইলে তোমরা এত দুনিয়ার কথা বলতেনা। আরবীতে প্রবাদ রয়েছে, “পাত্রে আছে যা, ঢাললে পড়বে তা।”

তদ্রুপ খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতী, শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, চরমোনাই ফজলু গং এর অন্তরে লাহাবী খাছলত পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীয়তের খিলাফ, ছবি তোলা, লংমার্চ, হরতাল, ব্লাসফেমী, মৌলবাদ, নির্বাচন ইত্যাদি করা তারই প্রমাণ। আর এমন হারাম জিনিসকে হালাল করতে, এসব বিদয়াতকে প্রচলন করতে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম তথা আগমণ। সুতরাং এই স্পর্শকাতর বিষয়টিতেই যদি মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলা যায় তবে তাদের যাবতীয় শয়তানী এমনিতেই সহজ হয়ে যায়। অর্থাৎ মূলই যদি ঝরে পড়ে তবে তার শাখা-প্রশাখা কিভাবে দৃশ্যমান থাকে? শয়তানের একান্ত অনুচর হিসেবে খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতী, হদস গং আজকে সেই কাজটিই করতে চাচ্ছে।

শয়তানের একান্ত অনুচর বলেই তাদের মনে এই শয়তানী খেয়াল চেপেছে। কারণ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণে শয়তান যেভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে তা কোনদিনও তার জন্য উপশম হবার নয়।

হযরত উরওয়া সূত্রে হযরত ইবনে আসাকির বর্ণনা করেন, “ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল, যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নাফায়েল, উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশ, উসমান ইবনে হুয়াইরিস প্রমুখ কুরাঈশ নেতা এক রাতে তাদের দেবমূর্তীর কাছে জমায়েত হলেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন, প্রতিমাটি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। ঘটনাটি তারা খারাপ মনে করে প্রতিমাটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। পরক্ষণেই আবার সেটি সজোরে মাটিতে আছড়ে পড়লো। আবার তারা এটাকে সোজা করে দিলেন। কিন্তু আবারও এটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। উসমান ইবনে হুয়াইরিস বললেন, “অবশ্যই কিছু একটা ঘটেছে।”

তারপর তারা আবার প্রতিমাটি সোজা করে দিল। তখন তার ভিতর থেকে আওয়াজ এলো, “এ প্রতিমা ধ্বংস হয়ে গেছে। সকল প্রতিমাই উনার আগমণে ভূমিসাৎ হয়ে গেছে। এটা হয়েছে সেই শিশুর আগমণের কারণে যাঁর নূরে সমগ্র জাহান আলোময় হয়ে গেছে। উনার ভয়ে রাজা-বাদশাহদের অন্তর কেঁপে উঠেছে। পারসিকদের প্রজ্বলিত অগ্নিকু- নিভে গেছে। পারস্য স¤্রাট মর্মযাতনায় নিপতিত হয়েছে। গণকদের জিনেরা উধাও হয়েছে। এখন আর তাদেরকে সত্য-মিথ্যা খবর জানাতে কেউ আসবে না। হে বনু কুসাই! ভ্রান্ত পথ ত্যাগ কর এবং আসল সত্যের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নাও।” (খাসায়েলুস কুবরা)

আসমা বিনতে আবূ বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল এবং ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল বলেছেন, “মক্কা শরীফ শরীফ আবরাহার বিতাড়িত হওয়ার পর একবার আমরা আবিসিনিয়ার স¤্রাট নাজ্জাশীর দরবারে গেলাম। নাজ্জালী বললেন, “হে কুরাঈশগণ! সত্য করে বলো, তোমাদের মাঝে এমন কোন শিশু জন্মগ্রহণ করেছেন কি যাঁর পিতা উনাকে বলি দেয়ার ইচ্ছা করেছিলেন। তারপর বিকল্প হিসেবে লটারি করে অনেক উট কুরবানী করে উনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল?” আমরা বললাম, হ্যাঁ, এরূপ শিশু জন্মগ্রহণ করেছিলেন।” স¤্রাট জিজ্ঞাসা করলো, “তিনি পরে কি করেছেন তোমরা জান?” আমরা বললাম, “তিনি আমিনা না¤œী এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন এবং উনাকে গর্ভবর্তী রেখে ইন্তিকাল করেছেন।” নাজ্জাশী জিজ্ঞাসা করলো, “গর্ভের ঐ শিশু জন্ম নিয়েছেন কি?” এর জাওয়াবে ওয়ারাকা বললেন, ‘আমি এক রাতে মূর্তির কাছে অবস্থান করছিলাম। সেটির ভিতর থেকে আওয়াজ শুনলাম, নবী জন্মলাভ করেছেন। স¤্রাটেরা লাঞ্ছিত হয়েছে। ভ্রষ্টতার অন্ধকার বিদূরিত হয়েছে এবং শিরক খতম হয়ে গেছে।” এরপর প্রতিমাটি উঁপুড় হয়ে আছড়ে পড়লো।”

এর মাঝে যায়েদ বললো, “হে সম্রাট! আমার কাছেও এ ধরণের সংবাদ আছে। সে রাতে আমি স্বপ্নে আবূ কুরাঈশ পাহাড়ে পৌঁছে এক ব্যক্তিকে আকাশ থেকে নামতে দেখি। তার দুটি পাখা ছিল সবুজ রংয়ের। কিছু সময় সে পাহাড়ে অবস্থান করে মক্কা শরীফ উনার মধ্যে এলো এবং বলতে লাগালো, “শয়তান লাঞ্ছিত হয়েছে, মূর্তিপূজা খতম হয়ে গেছে, ‘আমীন’ জন্মলাভ করেছেন।”

মূলতঃ এই লাঞ্ছিত শয়তানই আবার নতুন করে সওয়ার হয়েছে তার বর্তমান অনুসারী ওহাবী, খারিজী, বিদয়াতীগোষ্ঠী তথা হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী ও ফজলু গং এর উপর। লাঞ্ছিত শয়তানের অনুসারীদের লাঞ্ছনার মূল কারণ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণ তথা জন্মের উপর খুশি হওয়ার মূল্যবোধকেই তারা লাহাবী ঈদ বলে। ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা মূলতঃ খোদায়ী ঈদ, যা মুত্তালিবী ঈদ, যা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ঈদ, যা মাখলুকাতের ঈদ, যা সকল ঈদের ঈদ তাকে অবমূল্যায়ণ করতে চায়। যা কাট্টা কুফরী।

মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমের পরও শয়তান যুক্তি দেখিয়েছিলো “আমি আগুন আর হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মাটির তৈরি। সুতরাং আগুন কি করে মাটিকে সিজদা করে।”

মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমের দিকে খেয়াল না করে শয়তান তার নিজস্ব শয়তানী যুক্তির উপরেই অটল ছিল যেমন অটল রয়েছে শয়তানের বর্তমান অনুচর খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতী, হদস, মাহিউদ্দীন, ফজলু গংরা। তারা ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের মত খোদায়ী ঈদ, মুত্তালিবী ঈদ, রসূল প্রেমিকদের ঈদ, সকল ঈদের ঈদ সে বিষয়টিকে মূল্যায়ণ না দিয়ে তারা উল্লেখ করছে যে, জন্মদিন পালন করা খ্রিস্টানদের রীতি। অথচ এর পিছনে যে কোন ভিত্তি নেই যা তারাও জানে তাদের গুরু শয়তানও জানে।

Encyclopedia Americana- তে উল্লেখ আছে, BIRTHDAYS, anniversaries of the day of birth. The practice of markaing an individual’s exact reckoning of time by a fixe Calendar. The custom of observing birthday’s, althangh an ancient one and at present very popular in many countries is, far from being universal.

অর্থাৎ- কারো জন্মের সঠিক তারিখটি সুনির্দিষ্ট করার রীতি চালু হয়েছে একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযারী সময় গণান করার কথা প্রবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষিতে। জন্মবার্ষিকী প্রাথাটি খুবই প্রচীন এবং বর্তমানে অনেক দেশেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারপরও তা সার্বজনীনতা লাভ করেনি।

বলাবাহুল্য, জন্মে খুশি হওয়া, মৃত্যুতে কাঁদা, বিয়েতে খুশি প্রকাশ করা, খাওয়া-দাওয়া, হাঁটা এগুলো মানুষের সহজাত ধর্ম। সব ধর্মেই এটা আছে। কিন্তু এক এক ধর্মে এক এক প্রক্রিয়া। একজন মুসলমানও খাবে একজন কাফিরও খাবে। একজন মুসলমানও বিয়ে করবে, সন্তান হবে, খুশি প্রকাশ করবে। কাফিররাও বিয়ে করবে, সন্তান হবে, খুশি প্রকাশ করবে। তাই বলে মুসলমানদের বিয়ে করাকে কাফিরী বিয়ে, মুসলমানদের সন্তান হওয়ায়, খুশি প্রকাশ করাকে কাফিরী খুশি বলা চলবেনা। কারণ সন্তান হওয়ায় মুসলমান খুশি প্রকাশ করে মহান আল্লাহ পাক উনার নামে উনার নির্ধারিত পন্থায়, শুকরিয়া আদায় করে মীলাদ শরীফ পড়িয়ে। যেমনটি, হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম মুবারক উনাকে খুশি হয়ে উনাকে নিয়ে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করেছিলেন, পশু জবেহ করে সকলকে খাইয়েছিলেন। কিন্তু খ্রিস্টানরা জন্মোৎসব পালন করে কেক কাটা আর নাচ-গানের পার্টি দিয়ে।

সুতরাং মানুষের ফিৎরাত হিসেবে মিল থাকলেও আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মে খুশি প্রকাশকে কখনই তাদের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবেনা। কিন্তু তারপরেও যারা ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকে লাহাবী উৎসব বলে আখ্যা দিতে চায়, বলতে হয় তারা তাহলে লাহাবী সন্তান। কারণ লাহাব যেমন বিয়ে করেছে, সন্তানের জন্ম দিয়েছে। তাদের বাবারাও তেমনি বিয়ে করেছে, তাদের জন্ম দিয়েছে। সুতরাং তারা লাহাবী সন্তান। আর এরূপে যারা নিজেদের লাহাবী সন্তানরূপে মনে করে তাদের পক্ষেই ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে “লাহাবী উৎসবব” মনে করা সম্ভব। নাউযুবিল্লাহ!

-আশরাফুল মাহবুবে মুহম্মদ রব্বানী, ঢাকা।

বিশ্বের প্রায় দেড়’শ কোটি লোককে কাফির ফতওয়া দিয়ে রেযা খা তথা নামধারী সুন্নীরা নিজেদের কাদিয়ানীদের দোসর হিসেবে প্রতিপন্ন করেছে

মাসিক আল বাইয়্যিনাত (৯৪তম) বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত “পাঠকের আদালতে জিজ্ঞাসা- আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ বর্তমান দেশের দশ কোটিরও বেশি লোক কি কাফির? আর কেবলমাত্র জনবিচ্ছিন্ন অজ্ঞ তথাকথিত সুন্নীরাই মুসলমান?” শীর্ষক মতামতটি সত্যিই মুসলিম বিশ্বের জন্য এক টনক নড়ার বিষয়।

কারণ এই জনবিচ্ছিন্ন মহলটি নিজেদের সুন্নী দাবী করে সরলমনা মুসলমানদের কাছে একটা আলাদা মর্যাদা দাবী করলেও সারা বিশ্বের প্রায় দেড়’শ কোটি মুসলমানদের যে এরা মুসলমানই মনে করেনা সেই বিষয়টিই সংক্ষিপ্তাকারে হলেও প্রকাশ করা হয়েছে।

আর এক্ষেত্রে নামধারী সুন্নীদের গুরু রেযা খার মিথ্যা আক্রোশমূলক জিহালতি ফতওয়াই যে মূল কারণ তাও পত্রস্থ হয়েছে। কারণ এই রেযা খাই ফতওয়া দিয়েছে, “আমীরুল মু’মিনীন, মর্দে মুজাহিদ, শহীদে আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যারা কাফির বলবেনা তারাও কাফির।”

পাঠক! এ কথা আজ সকালের সূর্যের মত পরিস্কার যে, বিশ্বের প্রায় দেড়’শ কোটি লোকের মধ্যে নামধারী জাহিল সুন্নী ছাড়া আর কেউই তাবত উপমহাদেশে খিলাফত কায়েমকারী, খিলাফতের জন্য বালাকোটের প্রান্তে শাহাদতবরণকারী আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাফির বলতে আগ্রহী বা সম্মত নয়। অথচ এই জাহিল, গোমরাহ নামধারী সুন্নীদের সংখ্যা সারা বিশ্বে আধা লাখেরও অনেক কম।

তাহলে দেখা যাচ্ছে তাদের মতে, তারা ছাড়া (যাদের সংখ্যা আধা লাখেরও অনেক কম) বাকী প্রায় দেড়’শ কোটি মুসলমান সবাই কাফির। নাউযুবিল্লাহ!

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করতে হয় যে, তাদের এ ফতওয়া আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান স্থাপনকারী মুসলমানদের প্রতি খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী কাদিয়ানীদের মনোভাব তথা ফতওয়ার কথাই মনে করিয়ে দেয়। কারণ কাদিয়ানীদের মতে, আমরা মুসলমানরাই কাফির আর কাদিয়ানীরাই মুসলমান। তার প্রমাণ হিসাবে এখানে কতিপয় উদ্ধৃতি দেয়া হলো-

কাদিয়ানীদের মতে মুসলমানেরা কাফের (নাউযুবিল্লাহ) : “যে সকল মুসলমান হযরত মসীহে মওউদের (গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে নাই এমন কি যাহারা হযরত মসীহে মওউদের (গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) নাম পর্যন্ত শুনে নাই তাহারাও কাফের, ইসলামের বাহিরে।” মির্জা বশীরুদ্দীন মাহমুদ আহমদ প্রণীত আয়নায়ে ছদাকৃত পুস্তিকার ৩৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

“যে ব্যক্তি হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনাকে মানে অথচ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে মানে না, অথবা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে মানে কিন্তু হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানে না, কিংবা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানে কিন্তু মসীহে মওউদকে (গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে) মানে না- সে ব্যক্তি শুধু কাফের নয় বরং পাক্কা কাফের এবং ইসলামের সীমাবহির্ভূত। -মির্জা বশীরুদ্দীন আহমদ প্রণীত কলেমাতুল ফছল হতে উদ্ধৃত রিভিউ অব রিলিজনজ পত্রিকার ১১০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

কাদিয়ানীদের আদর্শ মুসলমানদের সহিত সম্পর্ক ত্যাগ : কাদিয়ানীরা মুসলমানদের সহিত সকল প্রকার সম্পর্ক ত্যাগ করে একটি আলাদা উম্মত হিসাবে নিজেদের গন্ডীভূক্ত করেছে। এর প্রমাণ হিসাবে কাদিয়ানীদের রচনাবলী যে সাক্ষ্য দেয়, তা নিন্মরূপ-

“হযরত মসীহে মওউদ (আঃ) অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যেন কোন আহমদী অন্যের পিছনে নামায না পড়ে। বিভিন্ন স্থান হইতে বহু লোক বার বার এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেছে। আমি বলতেছি, তোমরা যতবার জিজ্ঞাসা করবে ততবার আমি এই উত্তর দিব যে, অ-কাদিয়ানীদের পিছনে নামায পড়া জায়েয নাই, জায়েয নাই, জায়েয নাই।” -মির্জা বশীরুদ্দীন মাহমুদ আহমদ খলিফায়ে কাদিয়ানী রচিত “আনওয়ারে খেলাফত”-৮৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

কাদিয়ানীদের মতে মুসলমান শিশুরাও কাফের (নাউযুবিল্লাহ) : “যদি অ-কাদিয়ানীর কোন ছোট শিশু সন্তান মারা যায়, তবে তাহার জানাযার নামায কেন পড়া হইবে না? কারণ শিশুটি আর মসীহে মওউদকে (গোলাম আহমদ) অস্বীকার করেনা। আমি এই প্রশ্নকারীটিকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, যদি এই কথা সত্যই হবে- তবে হিন্দু এবং খ্রিস্টান শিশুদের জানাযা পড়া হয়না কেন? অ-কাদিয়ানীদের সন্তানও অ-কাদিয়ানীই সাব্যস্ত হবে। এই কারণেই তাদের জানাযা পড়া উচিৎ নহে।” (আনওয়ারে খেলাফত, ৯৩ পৃষ্ঠা)

কাদিয়ানীদের মুসলমানদের সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন : “যে কোন আহমদী নিজের কন্যা অ-কাদিয়ানীর সাথে বিবাহ দিবে, তাহার সম্পর্কে হযরত মসীহে মওউদ (গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) অত্যন্ত রুষ্টভাব প্রকাশ করেছেন। এক ব্যক্তি তার কাছে বার বার এ কথা জিজ্ঞাসা করল এবং নানা প্রকার অসুবিধার কথা জানাইল। কিন্তু তিনি সেই লোকটিকে বললেন, যে, মেয়েকে বসিয়ে (অবিবাহিত) রাখ, তথাপি অ-কাদিয়ানীর কাছে বিবাহ দিও না। মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মৃত্যুর পরে সেই লোকটি নিজের মেয়েকে অ-কাদিয়ানীর কাছে বিবাহ দিলে প্রথম খলিফা তাহাকে ইমামের পদ হতে অপসারণ করেন, তাকে জামাত হতে খারিজ করিয়া দেন এবং তার খেলাফতের ৬ বৎসর কালের মধ্যে লোকটির তওবা পর্যন্ত কবুল করেন নাই যদিও লোকটি বার বার তওবা করতেছিল।” (আনওয়ারে খেলাফত, ৯৩, ৯৪ পৃষ্ঠা)

পাঠক! মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর এসব ফতওয়ার সাথে আজকের জাহিল, বিদয়াতী, নামধারী সুন্নীদের গুরু তথা নবী রেযা খার ফতওয়ার এরূপ হুবহু মিল থাকার পিছনে একটি ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে বটে।

কারণ, আজকের জাহিল, গোমরাহ, বিদয়াতী, বে-পর্দা, বেশরাহ সুন্নীদের গুরু তথা নবী, আজকের কাদিয়ানীদের নবী, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বড় ভাই মির্জা গোলাম আব্দুল কাদির বেগ-এর কাছে লেখাপড়া শিখেছিল, ছবক নিয়েছিল। কথায় বলে, সংসর্গ তাছির করে আর উস্তাদের শিক্ষা ষোল আনাই ফলে।” (সূত্র : মুতালেয়াতে বেরেলিভিয়াত)

আর তাই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, জাহিল, গোমরাহ, বিদয়াতী, বে-পর্দা, বেশরাহ নামধারী সুন্নীদের নবী রেযা খা বিশ্বের প্রায় দেড়’শ কোটি মুসলমানকে কাফির বলার ছবক পেয়েছিল, দীক্ষা নিয়েছিল কোথা থেকে। আর একথাও তাই বলতে বাধা থাকে না যে, কাদিয়ানীদের মত নামধারী সুন্নী তথা রেযাভীরাও বাতিল ও গোমরাহ।

-মুহম্মদ মাছূমুর রহমান, গোড়ান, ঢাকা।

ইলমে তাছাউফে রেযা খার অন্তসার শুণ্যতাই তার পদস্খলনের কারণ আর সে পদস্খলনের ধুম্রজালে আবদ্ধ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র (১১)

স্বীয় বাহ্যিক দেহকে শরীয়তের বাহ্যিক আমল দ্বারা সু-সজ্জিত করতঃ অন্তর্জগতকে সদা সর্বদা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সংযুক্ত রাখাই তাছাউফের শিক্ষা। আর এ শিক্ষার মূল উপকরণ হচ্ছে তাক্বওয়া বা পরহেযগারী।

অতএব, পরহেযগারীর অংশটি রক্ষা করা দ্বীনের আবশ্যকীয় কাজ। হারাম কাজ হতে পূর্ণরূপে বিরত থাকার সাথে সাথে অনাবশ্যকীয় মুবাহ কাজ হতে বিরত থাকতে হবে। তবেই পরহেযগারী পূর্ণরূপে হাছিল হবে।

প্রিয় পাঠক! সুন্নীয়তের মুখোশ পরিহিত রেযাখানী মাযহাবের অনুসারীরা অনাবশ্যক মুবাহ কাজের জন্য অনুতাপ ও লজ্জিত হওয়াতো দূরের কথা ধুমপানের মত শরীয়তের প্রকাশ্য মাকরূহ তাহরীমী কাজে লিপ্ত হয়েও লজ্জিত হয়না। তাদের অন্তরাত্মা কাঁপে না, তারা অনুতপ্ত হয়না। বরং ধুমপান তথা হুক্কা-বিড়ি, সিগারেটের মত মাকরূহ তাহরীমী কাজে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।

এইতো কিছুদিন আগে “আল বাইয়্যিনাত”-এর স্বচ্ছ দর্পনে তাদের কথিত শেরে বাংলার হাক্বীক্বত প্রকাশ পেলো। তাদের কথিত শেরে বাংলা বলতে গেলে সারাজীবন ধুমপান তথা হুক্কা-বিড়ি ও সিগারেটের মধ্যেই আকণ্ঠ ডুবে ছিল। সে অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়েছে। আর রেযাখানীরা তার সে ধুমপানকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে হুক্কা-বিড়ি, সিগারেটের নেশায় মত্ত হয়ে রয়েছে। তারা তাকে দলীল হিসেবে পেশ করছে। তাদের বক্তব্য থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, “শেরে বাংলার মত ব্যক্তি ধুমপান করেছে!! সুতরাং তা সকলের জন্য হালাল হবে এটাইতো যুক্তিযুক্ত।” নাউযুবিল্লাহ!

পাঠক! রেযাখানীদের ধুমপান তথা হুক্কা-বিড়ি, সিগারেটের অভ্যাসটা নতুন নয়। এটা তাদের পূর্ব-পুরুষদের প্রিয় বদস্বভাব। শুধু নিজেরাই তা পান করে ক্ষান্ত হয়নি বরং অন্যান্যদেরকেও তাতে অভ্যস্থ করার জন্য বিস্তর লেখালেখি করেছে। তাদের হুক্কা প্রীতি এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, হুক্কার পানিকে পাক বলে ফতওয়া জাহির করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণকারী ছাত্রও অবগত যে, পানির গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদ এর মধ্যে একটি নষ্ট হলে তাদ্বারা ওজু শুদ্ধ হয়না। আর হুক্কার পানির রং, স্বাদ ও গন্ধ সবই নষ্ট হয়ে যায়, তা নিজেরাও অকপটে স্বীকার করে, তারপরেও তাদের কথিত রেযা খার ‘ফতওয়ায়ে রেযভিয়াতে’ উল্লেখ রয়েছে যে, ‘হুক্কার পানি পাক। তাদ্বারা ওজু শুদ্ধ।’ নাউযুবিল্লাহ!

“বাহরে শরীয়ত” ২য় খ-ের ৩৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থ: “হুক্কার পানি পাক। যদিও তার রং গন্ধ ও স্বাদের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। তথাাপি তার দ্বারা ওজু জায়েয। জরুরত আন্দাজ পানি থাকতে তায়াম্মুম জায়েয নেই।”

কি গভীর তাদের হুক্কা প্রীতি! হুক্কার প্রতি কত দুর্বার আকর্শণ সেখানে এটাও উল্লেখ আছে যে, “হুক্কার দুর্গন্ধ যুক্ত পানি দ্বারা ওজু করে যদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্গন্ধযুক্ত হয় তবে সেই দূর্গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে যাবেনা।” ভাবটা এমন যে, ‘তবুও হুক্কা ছেড়ে দিবেনা।’

পাঠক! তাক্বওয়া দ্বীনের মূল। সে তাক্বওয়া তো দূরের কথা, যারা নাজায়েয, হারাম কাজে লিপ্ত, হুক্কা-বিড়ি, সিগারেটের মত দুর্গন্ধে মাতোয়ারা, তাকে কি করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারিফাত-মুহব্বতের ঘ্রাণ পাবে? যারা বাহ্যিক অবস্থাকে শরীয়তের রঙ্গে রঞ্জিত করতে পারলোনা তাদের ক্ষেত্রে অন্তর্জগতকে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সদা-সর্বদা সংযুক্ত রাখার কল্পনাও করা যায়না। কাজেই বাহ্যিক দিকটাই যাদের নোংরামিতে পরিপূর্ণ তাদের অন্তরের অবস্থা কি তা সহজেই অনুমেয়।

আর যাদের অন্তরের পরিশুদ্ধি নেই তারা কি করে মহান আল্লাহ পাক উনার একান্ত মনোনীত, নির্বাচিত হাবীব, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, শহীদে আযম, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাক্বীক্বী পরিচয় পাবে? উনার যথার্থ সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান উপলব্ধি করবে? মহান আল্লাহ পাক তিনি তো হাদীসে কুদসীতে বলেই দিয়েছেন যে, “আমার বন্ধুদের হাক্বীক্বী পরিচয় আমি এবং আমার বন্ধুগণ ব্যতীত আর কেউ অবগত নয়।”

অতএব, চোর যেরূপ সকলকেই তার মত চোর মনে করে থাকে; রেযা খা এবং তার অনুসারীদের অবস্থাও তদ্রুপ।

-মাওলানা, মুফতী, মুহম্মদ আব্দুল হালাম ত্বাহেরী, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস (২)

(ইসলামী বিশ্বকোষ থেকে হুবহু উদ্বৃত)

ঐতিহাসিক স্থান ও যিয়ারতগাহসমূহ : ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে বালাকোটে শুধু একটি যিয়ারতগাহ ছিল। উক্ত যিয়ারতগহ হইতেছে বালা পীরের মাযার। বালা পীরের মাযার কুনহার নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। ইহা বালাকোট হইতে দেখা যায়। বালাকোটের যুদ্ধের পর সেইখানে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান ও কয়েকটি যিয়ারতগাহ অস্তিত্ব প্রাপ্ত হইয়াছেই। নি¤েœ উহাদের বিবরণ প্রদত্ত হইল ঃ

(১) মসজিদেই বালা- বা মসজিদেই কেল্লা : উক্ত মসজিদ মুল বালাকোটের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। যুদ্ধের পূর্বে উক্ত মসজিদে শাহ ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং অন্যান্য মুজাহিদ সালাত আদায় করিতেন। যুদ্ধের দিন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত মসজিদ হইতেই বাহির হইয়া শিখদের উপর হামলা চালাইয়াছিলেন।

(২) মসজিদ-ই যেরীন : শিখদের উপর হামলা চালাইবার সময়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মসজিদ-ই বালা হইতে বাহিরে হইয়া অল্প সময়ের জন্য উক্ত মসজিদেরও অবস্থান করিয়াছিলেন।

(৩) মসজিদ-ই বালা এর নি¤েœ অবস্থিত দালান : উক্ত দালান বর্তমানে আর অস্তিত্বশীল নাই। তবে স্থানীয় লোকদের নিকট হইতে উহার স্থানটি জানা যায়।

(৪) ওয়াসিল খানের হাবেলী : উক্ত হাবেলী মসজিদ-ই বালার নিকটেই অবস্থিত ছিল। উহার পূর্বাবস্থা আর বর্তমান নাই। তবে উহার স্থানটি সকলের নিকট জ্ঞাত রহিয়াছে। বালাকোটে অবস্থানকালে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত হাবেলীতেই অবস্থান করিতেন।

(৫) রণক্ষেত্র : মূল রণক্ষেত্রটি বালাকোট জনপদ হইতে সাত বানে নামীয় ঝরনা বরাবর হইয়া উত্তর ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এবং সেইখান হইতে মেট্টী কোট ঝরনা ও মেট্টী কোট টিলার পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। বালাকোটের উত্তর ও পূর্ব দিকেও বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল। সর্বাধিক তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল মেট্টী কোট টিলার নিকটে ও ঝরনার মধ্যে।

(৬) শহীদগণ উনাদের মাযারসমূহ : বিভিন্ন স্থান শহীদগণ উনাদের মাযার বলিয়া নির্দেশিত হইয়া থাকে। তবে শহীদ উনাদের বৃহত্তম কবরস্থান মেট্টী কোট টিলার নিকটে ঝরনার মোড়ে অবস্থিত।

(৭) শাহ ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাত লাভের স্থান : স্থানীয় বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, শাহ ইসলাঈল শহীদ  রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যুদ্ধ করিতে করিতে পশ্চাদপসরণ করিতেছিলেন। আরবাববাহরাম খান তাহকালীও উনার সঙ্গে ছিলেন। উনারা উভয়ে সাত বানে ও বারণা ঝরনাদ্বয় পার হইয়া বালাকোটের উত্তর-পূর্ব দিকে কিছু দূরে পৌঁছিবার পর শহীদ হন। উনাদের উভয়কেই সেইখানের নিকটেই দাফন করা হইয়াছিল। আরবাব বাহরাম খানের ভ্রাতুস্পুত্র ও জামাতা মুহম্মদ খান বালাকোটের বিযোগান্তক ঘটনার ছয় মাস পর স্বীয় শ্রদ্বেয় পিতৃব্য ও শ্বশুরের লাশ কবর হইতে বাহির করিয়া তাহাকালে লইয়া যান। তাহাকালের উচ্চাংশ ও নি¤œাংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত কবরস্থানে উনার কবর বিখ্যাত ও পরিচিত হইয়া রহিয়াছে। শাহ ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কবর বালাকোটের পূর্বোক্ত স্থানেই রহিয়াছে গিয়াছে। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে, উনার কবরের জন্য সেইখানে পাকা চিহৃ কায়েম করিয়া দেওয়া হইয়াছে। সম্ভবত ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে উহার চতুষ্পার্শ্বে একটি ক্ষুদ্র বেষ্টনী নির্মাণ করিয়া দেওয়া হয়। স্থানটি কৃষিজমির মধ্যে এখনও চিহিৃত ও পরিচিত হইয়া রহিয়াছে। যিয়ারতের জন্য যাইতে হইলে ঝরনা অতিক্রম করিয়া সামন্য পথ পায়ে হাঁটিয়া সেইখানে পৌঁছিতে হয়।

(৮) হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি উনার মাযার শরীফ : বিশ্বস্ত বর্ণনাসমূহ মতে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মেট্টী কোটের ঝরণাতে শাহাদাত লাভ করিয়াছিলেন।  যুদ্ধ শেষ হইবার পর শিখ সৈন্যদের সেনাপতি শের সিং-এর শিবির বালাকোটের নি¤েœ নদীর তীরে স্থাপিত হইয়াছিল। যুদ্ধে পর তিনি হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লাশ মুবারক খুঁজিয়া বাহির করান। উনার মস্তক দেহ হইতে বিচ্ছিন্ন ছিল। শের সিংকে দেখাইবার উদ্দেশ্যে লাশ মুবারক উনার উভয় অংশকে শাহাদাত মুবারক উনার স্থান হইতে উনার শিবিরে লইয়া আসা হয়। লাশ মুবারক দেখিবার পর তিনি উহাকে সম্মানের সহিত দাফন করিবার জন্য মুসলমানদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি এতদসহ লাশের উপর একখানা চাদরও ছাড়াইয়া দেন। দেওয়ান অমর নাথের বর্ণনানুসারে উক্ত অবস্থায় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লাশ মুবারক উনার চিত্রও অংকিত করা হইয়াছিল (জাফাল- নামাঃ, পৃ. ১৯৪-১৯৫)। পরবর্তী কালে যেই স্থানটিকে চিহিৃত করা হইয়াছে, উনার লাশ মুবারক সেইখানেই দাফন করা হইয়াছিল।

-মুহম্মদ নূরুল আলম, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ