ইমামুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তালবীসে ইবলিস” নামক কিতাবে লিখেন,
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
অর্থাৎ “কিছু সময় দুনিয়াদার, ভ-, বিদয়াতী মৌলভীদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ষাট বৎসর বে-রিয়া নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম।” আর হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও এই মন্তব্য পরিপূর্ণরূপে সমর্থন করেন।
তদানুরূপ বর্তমান শতকের মুজাদ্দিদ, গাউছুল আ’যম, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যখন মুসলমানদের ঈমান-আমল হিফাযতের লক্ষ্যে এবং উলামায়ে ‘ছূ’দের চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে তাদের বদ আক্বীদা ও আমলগুলো ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’-এর মাধ্যমে তুলে ধরলেন তখন তারা ‘আল বাইয়্যিনাতে’ উত্থাপিত সঠিক অভিযোগগুলো খ-ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নামে অপপ্রচার শুরু করেছে। তাদের সে অপপ্রচার শুধুমাত্র উনার লক্বব মুবারক উনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
তাদের বক্তব্য ছিল, “এত লক্বব কোন নবী-রসূল উনাদেরও ছিলনা, পূর্ববর্তী কোন ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহগণ উনাদেরও এত লক্বব ব্যবহার করেনি।” ক্ষেত্র বিশেষে তারা কোন কোন লক্ববের মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, তাদের ওহাবী মুখপত্র সহ আরো অনেক অখ্যাত পত্রিকায়।
কিন্তু তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” যখন তাদের উক্ত অপপ্রচার সমূহের দলীলভিত্তিক দাঁত ভাঙ্গা জবাব এসে গেল। অর্থাৎ যখন দলীলের দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, “আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক হাজারেরও বেশি লক্বব মুবারক রয়েছে, পূর্ববর্তী সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহগণ উনাদের অসংখ্য লক্বব মুবারক ছিল। খোদ ওহাবীদের মুরুব্বীরাও অসংখ্য লক্বব ব্যবহার করেছে। সাথে সাথে যে সকল লক্বব মুবারক উনার অপব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা যখন “আল বাইয়্যিনাতে” চলে আসলো তখন থেকে ওদের জবান চিরদিনের জন্যই বন্ধ হয়ে গেল, স্তব্ধ হয়ে গেল ওদের কলম।
অনুরূপভাবে সুন্নীয়তের অন্তরালে ওহাবীদের প্রকৃত দোসর ভ-, অদক্ষ জলীলের হাক্বীক্বত যখন জনগণ “আল বাইয়্যিনাত”-এর মাধ্যমে জেনে গেল; জেনে গেল তার কুফরী আক্বীদা ও বদ আমল এবং জিহালতী সম্পর্কে। জেনে গেল যে, অদক্ষ জলীল মনে করে, “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নূর বা আলো, মহান আল্লাহ পাক উনার দেহ বা আকার-আকৃতি রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জাতের অংশ, তারাবীহ নামায পড়া সুন্নতে ক্বিফায়া, অর্থাৎ কিছু লোক তারাবীহ পড়লেই হবে অন্যরা না পড়লে গুণাহ হবেনা। বর্তমানে বে-পর্দা হওয়া, ছবি তোলা, ভি.ডি.ও করা জায়েয! তাই সে বেপর্দা, বেগানা মহিলার সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়, প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ছবির জন্য পোজ দেয়, সেদিনের পল্টনের জনসভায়ও ভি.ডি.ও করেছে ও ছবি তুলেছে।
তখন সে ওগুলো খ-ন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে ওহাবীদের পুরোনো বুলিকেই নতুনরূপে আওড়াচ্ছে।
মূলত, ওহাবীদের বুলি আওড়িয়ে সে নিজেকে প্রথমতঃ ওহাবীদের খাছ দালাল হিসেবেই প্রমাণ করলো। দ্বিতীয়তঃ নিজেকে সত্যিকার বেয়াদব, জাহিল ও চরম ফাসিক হিসেবেই চিহ্নিত করলো।
এই জাহিল ও বেয়াদবের বক্তব্য হলো, “হাবীবুল্লাহ ও খলীফাতুল্লাহ” নবী উনাদের নবী খাছ লক্বব, যেই ওলী এ লক্বব ব্যবহার করবে, সে কাজ্জাব।” (নাউযুবিল্লাহ)
পাঠক! বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে, “উপরের দিকে থু থু দিলে নিজের গায়ে থু থু পড়ে” বেয়াদব জালিম হক্কানী ওলীগণ উনাদেরকে কাজ্জাব বলে যে নিজে বেঈমান হয়ে গেল, সে খবর কি তার আছে? স্বয়ং আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
السخى حبيب الله ولو كان فاسقا.
অর্থ: “দানশীল ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু যদিও সে ফাসিক।”
এখন প্রশ্ন হলো, “দানশীলকে ‘হাবীবুল্লাহ’ লক্বব দেয়ার কারণে বেয়াদব জাহিল, ফাসিক এই জালিমের মতে নবীজি কি “কাজ্জাব?” নাউযুবিল্লাহ!
আর একজন ফাসিক যদি দান করার কারণে “হাবীবুল্লাহ” হতে পারেন তবে একজন ওলী সব কিছু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে সপে দেয়ার পরও কেন “হাবীবুল্লাহ” হতে পারবেননা?
বেয়াদব, মুর্খ এই জালিম কোথায় পেয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর অন্য কেউ এই লক্বব ব্যবহারকারী “কাজ্জাব”? তবে তো ভ- এই জালিমের মতে দ্বিতীয় শতকের বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত জুননূন মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও এই পাক-ভারতে ইসলামের আলো বিতরণকারী, এক কোটিরও বেশি বিধর্মীকে ঈমান দানকারী, অন্যতম তরীক্বা চিশতিয়া তরীক্বার ইমাম, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “কাজ্জাব।” নাউযুবিল্লাহ!
কারণ উনাদের উভয়েরই লক্বব ছিল ‘হাবীবুল্লাহ।’ এরপরও কি বেয়াদব এই জালিমের কাফির হওয়ায় কিছু বাকী থাকে? আর “খলীফাতুল্লাহ” সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বলেন,
انى جاعل فى الارض خليفة.
অর্থাৎ “আমি যমীনে খলীফা প্রেরণ করবো।”
উক্ত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষই আমভাবে যমীনে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খলীফা অর্থাৎ “খলীফাতুল্লাহ।”
আর যমীনে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ খলীফা হচ্ছেন, প্রথমতঃ সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা, তন্মধ্যে খাছ করে “খলীফাতুল্লাহ” হলেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম।
দ্বিতীয়তঃ যমীনে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ খলীফা হলেন হক্কানী আলিম-ওলামা বা ওলীগণ। যেমন, গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর আব্দুল ক্বাদীর জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অসংখ্য লক্ববক মুবারক উনার মধ্যে একখানা লক্বব রয়েছে “খলীফাতুল্লাহি ফিল আরদ।”
এখন প্রশ্ন হলো, যদি নাদান, বেয়াদব এই জালিমের মতে- হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম ব্যতীত অন্য কেউ “খলীফাতুল্লাহ” লক্বব গ্রহণকারী কাজ্জাব হয়, তবে কি অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকলেই কাজ্জাব?”
পাঠক! বেয়াদব, গোমরাহ এই জালিম শুধু মাত্র নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকেই কাজ্জাব বলল না বরং যেই ‘গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর আব্দুল ক্বাদীর জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ডাইরী বিক্রি করে সে প্রতি জুমুয়ার হাজার হাজার টাকা নিরীহ মুছল্লীদের থেকে হাতিয়ে নেয় সেই ‘গাউছুল আযম’ হযরত বড় পীর আব্দুল ক্বাদীর জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও সে কাজ্জাব বলতে কুণ্ঠবোধ করলোনা!”
এবার আপনারাই ফিকির করে দেখুন, আব্দুল জলীল নামধারী জালিম কোন স্তরের বেয়াদব, জাহিল ও কাফির। তার বেয়াদবী ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়, আরো অপেক্ষা করুন।
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
প্রসঙ্গঃ ছানী আযান (ষষ্ঠ অংশ)
পাঠক! রেযাখানী মুখপত্রের নভেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যার খ-নমূলক আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখলাম। এ সংখ্যায় আলোচনা করবো, রেযাখানী মুখপত্র এপ্রিল/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রকাশিত ‘ফযলুল হক্বের’ “খোলা চিঠি” নিয়ে।
মিথ্যা বলতে সবচেয়ে বেশি অভ্যস্ত, নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে সবচেয়ে বেশি পারঙ্গম, কিতাবের ইবারত কাট-ছাট করতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, এক স্থানের ইবারত আর এক স্থানে ঢুকিয়ে নিজের মত ছাবেত করতে বেশি পটু রেযাখানীরা দীর্ঘ ৪/৫ মাস কোশেশ করার পর আরেকটি মিথ্যাচার ও জালিয়াতির জন্ম দিয়েছে এপ্রিল সংখ্যার খোলা চিঠিতে।
পাঠক! “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” রেযখানীদের ইবারত জালিয়াতির বহু প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন। তাদের বহু ভুল সম্পর্কেও আপনারা অবহিত হয়েছেন। কিন্তু রেযাখানীরা “আল বাইয়্যিনাত”-এর কোন ভুল ধরতে ও ইবারত কারচুপির কোন প্রমাণ পেশ করতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা দীর্ঘ ৪/৫ মাস সময় নিয়ে সম্ভবতঃ “আল বাইয়্যিনাত”-এর প্রতিটি সংখ্যা তন্ন তন্ন করে মশক করেছে, যদি “আল বাইয়্যিনাত”-এর একটি ভুল পাওয়া যায়। “আল বাইয়্যিনাত”-এর আদ্যপান্ত পাঠ করার পরও যখন কোন ভুল খুঁজে পাওয়া গেলনা তখন তারা তাদের সেই পুরোনো ও জন্মগত অভ্যাস “মিথ্যাচারিতার” আশ্রয় গ্রহণ করলো।
রেযাখানীদের মিথ্যাচারিতার জবাবে যাওয়ার পূর্বে প্রসঙ্গক্রমে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেই নয়। আর তাহলো “ছানী আযান” নিয়ে যে ইখতিলাফ বা মতভেদ ও লেখালেখি তা কিন্তু আযানের সংখ্যা নিয়ে নয় অর্থাৎ জুমুয়ার দিন আযান একটি না দু’টি হবে এ নিয়ে কিন্তু কোন মতভেদ নে ই। কারণ, “ছানী আযান” নিয়ে মতভেদ সৃষ্টিকারী রেযাখানীদের গুরু খোদ রেযা খা-ই দু’টি আযানের কথা স্বীকার করেছে।
আর জুমুয়ার দিন প্রথম আযানের সময় মসজিদের দিকে সায়ী করবে, না দ্বিতীয় আযানের সময় এ বিষয়টিও কিন্তু লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং ছানী আযান নিয়ে যে ইখতিলাফ বা লেখালেখি তা কিন্তু “ছানী আযান” মসজিদের ভিতরে হবে, না বাইরে হবে তা নিয়ে। কারণ, রেযাখানীদের বক্তব্য হলো ‘ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়া মাকরূহ।’
আর “আল বাইয়্যিনাত বলেছে, ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়া মাকরূহ নয় বরং সুন্নত।” রেযাখানীরা এ পর্যন্ত যতগুলো সংখ্যায় ছানী আযান নিয়ে লেখালেখি করেছে তার একটিতেও এ বিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্রও আলোচনা করেনি। মূলতঃ এ বিষটির ধারেকাছেও তারা যায়নি। বরং অযথা অপ্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় নিয়ে হৈ চৈ করেছে। এটা নয়, ওটা। একটা নয়, দু’টা। দু’টা নয়, তিনটা আযীমত নয়, সূকুতী ইত্যাদি লিখে পাঠকদেরকে বুঝ দিতে চেয়েছে; কিন্তু ভুলেও একবার ‘ছানী আযান ভিতরে হবে না বাইরে হবে’ সে বিষয়ে আলোচনা করেনি। কারণ তারা ভাল করেই জানে যে, এ বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে তাদের গুরু রেযা খার হাক্বীক্বত ভালভাবেই প্রকাশ পাবে। তাই তারা বার বার এ বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে পাগলের প্রলাপ বকছে।
পাঠক! এবার আসুন মূল আলোচনায়- রেযাখানীরা এপ্রিল সংখ্যায় প্রথম অভিযোগ করেছে, “আল বাইয়্যিনাত-এর ৭২তম সংখ্যার ৪৪ পৃষ্ঠায় “ফতহুল ক্বাদীর ও মারাকিউল ফালাহ” নামক কিতাবের বরাতে যে ইবারত উল্লেখ করেছে তা উক্ত কিতাবদ্বয়ে নেই।”
রেযাখানীরা উক্ত বক্তব্য প্রদান করে নিজেদেরকে যে শুধু জাহিল হিসেবেই প্রমাণ করলো তা নয়, বরং তারা মিথ্যাচারিতার ফাঁদে ভালভাবেই ফেঁসে গেল। তারা যদি জাহিলই না হতো তবে বলতো, “আল বাইয়্যিনাতে বর্ণিত ইবারত ও উক্ত কিতাবদ্বয়ে বর্ণিত ইবারতের মধ্যে শাব্দিক কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।” তবে প্রকৃতপক্ষে অর্থগত দিক থেকে কোন পার্থক্য নেই। আর ফতওয়ার দিক থেকে তো অবশ্যই নয়।
মূলত, বাইয়্যিনাতে বর্ণিত ইবারতটি হচ্ছে ‘মারাকিউল ফালাহ’ কিতাবের। তাতে ইবারতটি এভাবে উল্লেখ আছে,
وقال الطحاوى المعتبر هوالاذان الثانى عند المنبر.
তবে বাইয়্যিনাতে বর্ণিত ইবারতে যে “بين يدى الخطييب” অতিরিক্ত এসেছে তা মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণেই এসেছে। কেননা হাশিয়াতুশ শারকাভী, রদ্দুল মুহতার, হেদায়া, আইনী শরহে হেদায়া, জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ, ওমদাতুর রেযায়াহ, আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব, ইলাউস সুনান, ফতওয়ায়ে শামী, বাদায়েউস সানায়ে ইত্যাদি কিতাব সমূহেও “بين يدى الخطييب” বাক্যটি উল্লেখ আছে। যা বাইয়্যিনাতে বর্ণিত ইবারতের সাথে ইতোপূর্বেই বাইয়্যিনাতে পত্রস্থ হয়েছে। তাই মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে সেখান থেকে এসে উক্ত স্থানে যুক্ত হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। এ ছাড়া কিতাবে বর্ণিত ইবারতের সাথে বাইয়্যিনাতে বর্ণিত ইবারতের পুরোপুরিই মিল রয়েছে।
আর ফতহুল ক্বাদীরের ইবারতে আনুসাঙ্গিক কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল ইবারত মারাকিউল ফালাহ-এর ইবারতের মতই এবং তাতে ছানী আযান মিম্বরের নিকট দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। তাই ফতহুল ক্বাদীর কিতাবের নাম এখানে দলীল হিসেবে উল্লেক করা হয়েছে।
সুতরাং “মারাকিউল ফালাহ”-এর ইবারত ও “ফতহুল ক্বাদীরে” বর্ণিত ইবারতের মধ্যে শাব্দিক কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও অর্থগত ও ফতওয়াগত দিক দিয়ে কোনই পার্থক্য নেই। বরং উক্ত উভয় ইবারতেই মিম্বরের নিকটে ছানী আযান দেয়ার কথা উল্লেখ আছে।
স্মর্তব্য যে, রেযাখানীরা ৭২তম সংখ্যার উক্ত ইবারত উল্লেখ করার মুল কারণটি কিন্তু সম্পূর্ণরূপে গোপন করেছে। বাইয়্যিনাতে উক্ত ইবারত উল্লেখ করার কারণ হলো- রেযা খা তার “আহকামে শরীয়ত” নামক কিতাবে “ফতহুল ক্বাদীর ও মারাকিউল ফালাহ” কিতাবের বরাতে লিখেছে “মসজিদের ভিতর ছানী আযান দেয়া মাকরূহ।” এর জবাবে আল বাইয়্যিনাত লিখেছে- রেযা খা ছানী আযান সম্পর্কে উক্ত কিতাবদ্বয় থেকে যে ইবারত উল্লেখ করেছে তা মূলতঃ ছানী আযান সম্পর্কিত নয় বরং মতলক্ব আযান সম্পর্কিত।
কেননা উক্ত ইবারতে اذان الثانى অর্থাৎ ছানী আযানের কথা উল্লেখ নেই। পক্ষান্তরে উক্ত কিতাবদ্বয়ের “জুমুয়ার অধ্যায়ে” ছানী আযানের আলোচনায় “ছানী আযান” মিম্বরের নিকটে বা মিম্বরের সামনে দেয়ার কথা স্পষ্ট উল্লেখ আছে।
যেমন, উপরে বর্ণিত “মারাকিউল ফালাহ” কিতাবে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, اذان الثانى عند المنبر.
অনুরূপ “ফতহুল ক্বাদীর” কিতাবেও যেহেতু “ছানী আযান” মিম্বরের সামনে দেয়ার কথা উল্লেখ আছে তাই উক্ত কিতাবের ইবারত আলাদা ভাবে উল্লেখ না করে উক্ত কিতাবের নাম দলীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব, রেযাখানীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ যদি তারা “মারাকিউল ফালাহ ও ফতহুল ক্বাদীর” কিতাবদ্বয়ের কোথাও দেখাতে পারে যে, “ছানী আযান” মসজিদের ভিতরে দেয়া মাকরূহ” একথা লিখা রয়েছে, তবে তাদেরকে এক লক্ষ নয় এক কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। এজন্যে তাদেরকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সময় দেয়া হলো।
মূলকথা হলো- “মারাকিউল ফালাহ ও ফতহুল ক্বাদীর” কিতাবদ্বয়ের “জুমুয়ার অধ্যায়ে” উক্ত ইবারত তথা ছানী আযান মিম্বরের নিকটে দেয়ার কথা অবশ্যই উল্লেখ রয়েছে। কেউ দেখতে চাইলে আমাদের কাছে আসলে আমরা অবশ্যই দেখিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।
বস্তুতঃ তারা চেয়েছিল, “আল বাইয়্যিনাতকে” মিথ্যাবাদী বানাতে অথচ তারাই মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হলো। তাই বলে, “অপরের জন্য গর্ত খুঁড়লে সে গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়।”
রেযাখানীদের দ্বিতীয় অভিযোগ, আল বাইয়্যিনাতে নাকি লেখা হয়েছে, “ফতহুল ক্বাদীর ও মারাকিউল ফালাহ লেখকদ্বয়ের মতে জুমুয়ার ছানী আযানের সময় সায়ী করা ওয়াজিব।”
পাঠক! রেযাখানীদের উক্ত অভিযোগ শুধু মিথ্যাই নয় বরং চরম জালিয়াতপূর্ণ। কারণ ‘আল বাইয়্যিনাত’-এর উক্ত সংখ্যায় কেন, কোন সংখ্যাতেই এ ধরনের কোন কথা লেখা হয়নি। রেযাখানীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ- “যদি প্রমাণ করতে পারে যে, আল বাইয়্যিনাতে “মুছান্নিফ দ্বয়” এই শব্দটি রয়েছে, তবে তাদেরকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।”
তারা জালিয়াতী করে “মুছান্নিফ” শব্দটা উক্ত অর্থের সাথে নিজ থেকে যুক্ত করেছে। কারণ আল বাইয়্যিনাতে বলা হয়েছে, “গ্রহণযোগ্য মত এই যে, ছানী আযান যা মিম্বরের নিকটে খতীবের সম্মুখে দেয়া হয়। (তখন থেকেই মসজিদের দিকে সায়ী করা ওয়াজিব।)”
রেযাখানীরা ব্রাকেটে প্রদত্ত কথাটিকে, ‘আল বাইয়্যিনাত’-এর কথা বলে চালিয়ে দিয়েছে এবং সাথে নিজ থেকে “মুছান্নিফদ্বয়” যুক্ত করে দিয়েছে। অথচ ব্রাকেটের ভিতরের কথাটি ‘আল বাইয়্যিনাত’-এর নয় এবং উক্ত ব্রাকেটে “মুছান্নিফদ্বয়” একথা লেখা নেই।
মূলতঃ ব্রাকেটের ভিতরের কথাটা উক্ত ইবারতেরই অংশ। আর সায়ী করা সম্পর্কিত উক্ত মতটি হচ্ছে, ইমাম তাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার। কারণ উক্ত ইবারতের পূর্বে একথা স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে,
وقال الطحاوى ………….
অর্থাৎ “ইমাম তাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য মত এই যে, ছানী আযান যা মিম্বরের নিকটে দেয়া হয়; তখন থেকেই সায়ী করা ওয়াজিব।”
কাজেই রেযাখানীরা ব্রাকেটের কথাটি মুছান্নিফের বলে চরম জালিয়াতী করেছে।
তাছাড়া ‘আল বাইয়্যিনাত’ কর্তৃপক্ষ হযরত ইমাম তাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্ত মতে যে বিশ্বাসী নয়, তার প্রমাণ ‘আল বাইয়্যিনাত’-এর ৫০তম সংখ্যার ১৫নং পৃষ্ঠার নিম্মোক্ত ইবারত-
(ويجب السعى وترك البيع بالاذان الاول) …………. وقيل بالاذان الثانى لكن الاول هو الاصح وهو المختار
অর্থ: “প্রথম আযান থেকেই মসজিদের দিকে ধাবিত হওয়া এবং বেচা-কেনা বন্ধ করা ওয়াজিব। কেউ কেউ বলেন, ছানী আযানের সময় থেকে। কিন্তু প্রথমটিই ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য মত।” (শরহু মুলতাকাল আবহুর ১ম জি: ১৭১ পৃষ্ঠা)
অতএব, সুস্পভাবেই প্রমাণিত হলো যে, সায়ী করা সম্পর্কিত রেযাখানীদের উক্ত অভিযোগ স্পূর্ণরূপেই মিথ্যা ও অবান্তর।
পাঠক! লক্ষণীয় বিষয় এই যে, এক্ষেত্রেও রেযাখানীরা উক্ত ইবারত উল্লেখ করার মূল উদ্দেশ্য “অর্থাৎ ছানী আযান মিম্বরের নিকটে দেয়ার কথা ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ আছে, মসজিদের বাইরে দেয়ার কথা উল্লেখ নেই।” এটাকে পাশ কাটিয়ে অপ্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ে মনগড়া বক্তব্য প্রদান করে মূল ও প্রাসঙ্গিক বিষয়টিকে পাঠকের চোখের আড়াল করতে চাইছে। যেমনটি তারা করেছে, পূর্ববর্তী সংখ্যাতেও।
তাই রেযাখানীদের প্রতি আহ্বান- জালিয়াতি, মিথ্যাচারিতা ও বানোয়াটি ছেড়ে দিয়ে কোন কিতাবে আছে “ছানী আযান মসজিদের বাইরে দেয়া সুন্নত” তার প্রমাণ পেশ করুন। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, “রেযাখানীরা ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোশেশ করলেও তার স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য একটি দলীলও পেশ করতে পারবে না।”
কাজেই আগামী সংখ্যাতেও যদি তারা এর দলীল পেশ না করে তবে তারা মিথ্যাবাদী বলেই সাব্যস্ত হবে। সাথে সাথে প্রমাণিত হবে যে, রেযাখানীদের উক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনই দলীল নেই।
-মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, চিলমারী, কুড়িগ্রাম।
মাওলানা আব্দুল মওদুদ ছাহেব তার “ওহাবী আন্দোলন” গ্রন্থে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জিহাদী আন্দোলনের পূর্ণতা ও উনার মুজাহিদ বাহিনীর বিচিত্র জীবনের হালচিত্র এমন সুন্দর ও নিখূঁতভাবে তুলে ধরেছেন যা পড়ে যে কোন একজন শক্ত কঠিন হৃদয়সম্পন্ন ব্যক্তিও মুজাহিদদের প্রেমে, মুহব্বতে আবেগাপ্লুত হয়ে অশ্রু ঝরাবেন।
যেমন, মওদুদ ছাহেব তার “ওহাবী আন্দোলন” গ্রন্থের ১৪৩-১৪৪ পৃষ্ঠায় মুজাহিদদের সম্পর্কে বলেন, “মুজাহিদদের রসদ জোগান হতো সারা ভারতব্যাপী ‘তরগিব-ই মুহম্মদিয়া’ প্রতিষ্ঠানের গোপন কর্মকুশলতায়। হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুই মশহুর পুত্র মাওলানা ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও মাওলানা ইয়াকুব রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন উনার কর্ণধার। দূর দূর অঞ্চল থেকে কাফেলার দল আসতো টাকা-কড়ি, রসদ ও চিঠিপত্র নিয়ে। এভাবে সারা ভারত থেকে যতো টাকাকড়ি ও রসদ আসত এবং যুদ্ধে যেসব মালামাল লাভ হত (মাল-ই গণিমত) সবই বায়তুল মালে রাখা হতো। আর তার হিফাযতকারী ছিলেন হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভাইপো মুজাহিদ বাহিনীর কুতুব মাওলানা মুহম্মদ ইউছুফ মুলতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি এতদূর ন্যায়নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষভাবে টাকা-কড়ি ও রসদ ভাগ করে দিতেন যে, খোদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও একজন সাধারণ মুজাহিদের চেয়ে বেশি অংশ পেতেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা মুজাহিদদের সর্বোতভাবে সাহায্য করতো- অবশ্য তাদের অবস্থাও ছিল শোচনীয়। যেখানে বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ছিল সেই পাঞ্জতরের শাসকদের, বিশেষতঃ ফতেহ খা ও আশরাফ খার নাম উল্লেখযোগ্য। সব রকম দৈহিক কাজ- যেমন, মেথরের কাজ থেকে ঘরামীর কাজ সবই মুজাহিদদের করতে হতো। অথচ উনাদের মধ্যে দিল্লী আগ্রার এমন বহু শরীফ লোক ছিলেন যাঁদের জীবন কেটে গেছে আরাম আয়েশে, প্রতিপত্তি ও মর্যাদার সঙ্গে। তবু উনারা এসব কাজ হাসিমুখে অসংকোচে করতেন কেবল যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রীতিতে মশগুল হয়ে। উনাদের জীবনও ছিল বড় কষ্টের। যখনই বাইরের রসদে টানাটানি পড়তো ও স্থানীয় লোকদের সাহায্য মিলতোনা তখন জীবন হয়ে উঠতো আরও দুঃখময়। সাইদুর যুদ্ধের পর শীতকালটা বড়ো কঠিন সময় হয়ে পড়েছিল। প্রায়ই মুজাহিদগণ উনাদেরকে গাছের ছাল, পাতা ও ঘাস খেয়ে কাঁটাতে হতো। অথচ তাদের দেখে ¤্রম হতো যেন সবাই উৎসব করতে এসেছে। এত হাসাহাসি, এত আনন্দ নিয়ে উনারা নিজের নিজের কাজ সমাধা করে যেতো।
ভদ্রতা ও সামাজিক সদ্ব্যবহার, নৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তারা কখনও অবহেলা করতো না। প্রত্যেকেই যেন সেবা করতে ও ত্যাগ করতে তৎপর থাকতো। তারা জিহাদ করতো অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আর সেই সঙ্গে জিহাদ করতো হীন মনোবৃত্তির বিরুদ্ধেও। কুকথা, কুচিন্তা ও কুকাজ তারা সর্বোতভাবে পরিহার করতো। মশহুর আলিম ও ফাযিলদের সাহচর্যে অশিক্ষিতের দলও শিক্ষিত হয়ে উঠেছিল। হযরত শাহ ইসমাঈল হোসেন দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতিদিনই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার তাফসীর শোনাতেন, ফলে শ্রোতারা পরবর্তীকালে যারা ভারতবর্ষে উনার বাণী ছড়িয়েছিল।”
উক্ত গ্রন্থের ১৪৮ পৃষ্ঠায় তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে লিখেন, “এভাবে এই উপমহাদেশে একটি আজাদী ইসলামী রাষ্ট্র গঠনপ্রয়াসী সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শহীদের জীবনাবসান হয়। জীবনে তিনি নির্মমভাবে বিশ্বাসঘাতকের হাতে প্রতারিত হয়েছেন আর ইন্তিকালের পরও তিনি উপেক্ষিত হয়েছেন কিন্তু উনার অনুসৃত বৃহৎ আন্দোলন স্তব্ধ হয় নাই। এই নিধনযজ্ঞের পরেও যাঁরা বেঁচে ছিলেন তাদের অনেকেই টংকে অথবা বিহার শরীফ-এর সাতানায় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বস্ত খাদেমের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল স্থাপন করলেন। পরবর্তীকালে পাঞ্জাবে সা¤্রাজ্যবাদী ইংরেজরা যখন শিখদের ন্যায় অত্যাচার শুরু করে তখন মুজাহিদদের সর্বরোষ তাদের উপর উদ্যত হয় কিন্তু তার দরুন তাদের ভাগ্যে জোটে কারাবাস, উৎপীড়ন ও ফাঁসিকাষ্ঠে মৃত্যুবরণের নির্মম শাস্তি এবং তারও চেয়ে হীনতম ছিল নি¤œশ্রেণীর মোল্লা ও তথাকথিত আলিমদের এসব সংগ্রামী অগ্রপথিকদের নামে অযথা কুৎসা রটনা ও মিথ্যা ভাষণ। উনাদের আন্দোলন নাকি ওহাবী আন্দোলনের নামান্তর এবং জিহাদ ঘোষণাও নাকি শরীয়ত বিরুদ্ধ। অবশ্য হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতো সদ্বিচ্ছা প্রণোদিত বন্ধুদের ভূমিকা অনভিপ্রেত ছিলনা। কারণ, উনারা বাস্তবিকই এসব বীর মুজাহিদের কার্যকলাপ এমনভাবে সমর্থন করতে চেয়েছিলেন যে, তারা ইংরেজদের ক্ষতি বা অনিষ্টকারী নয় এবং তারা বিদেশী শাসকদের প্রতি অনুরক্ত ও বিশ্বাসীও বটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য এ রকম ছলনাময় ভূমিকার কোনও দরকার নেই। এখন সময় এসেছে এসব বীর মুজাহিদের গৌরবোজ্বল অসমসাহসিক কার্যাবলিকে স্বীকৃতি দেয়া ও শ্রদ্ধা করা কারণ উনারাই প্রকৃতপক্ষে এই উপমহাদেশে বহু পূর্বেই পাকিস্তানের বুনিয়াদ স্থাপনে সব রকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। যদিও হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ প্রতিষ্ঠানের মারফাত পাকিস্তান হাছিল হয়নি তবুও এ কথা অনস্বীকার্য যে, তার মধ্যেই ছিল বীজমন্ত্র; আর ওয়াকিবহাল ব্যক্তি মাত্রই হৃদয়ঙ্গম করবেন যে রায় বেরেলীর হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শহীদের দান ছিল এই চেতনা উজ্জীবনে অপরিসীম।”
-শেরই বাংলা মূফতী মুহম্মদ শামছুল আলম, ঢাকা।
চিশতীয়া তরীক্বার শাজরা শরীফ
১। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, শাফিউল মুজনিবীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হযরত মুহম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ২। ইলাহী বহুরমতে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। ৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ বিন যায়েদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ ফোজাইল ইবনে আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ ইব্রাহীম ইবনে আদহাম বলখী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ হোজাইফা মারয়াশী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৮। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আমীনুদ্দীন বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৯। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আবূ ইব্রাহীম ইসহাক মামশাদ উলু দিনারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১০। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা আবূ ইসহাক শামী চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১১। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা আবূ আহমদ আবদাল চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১২। ইলাহী রহুরমতে হযরত খাঁজা আবূ মুহম্মদ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা নাসিরুদ্দীন আবূ ইউসূফ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা কুতুবুদ্দীন মওদুদ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা হাজী শরীফ জিন্দানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা ওসমান হারুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৭। ইলাহী বহুরমতে সুলতানুল হিন্দ, খাঁজায়ে খাঁজেগাঁ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাঁজা মুঈনুদ্দীন চিশতী আজমীরি রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৮। ইলাহী বহুরমতে কুতুবে যামান হযরত খাঁজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ১৯। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা, বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গনজে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২০। ইলাহী বহুরমতে সুলতানুল আউলিয়া মাহবুবে ইলাহী হযরত খাঁজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২১। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাঁজা আখি সিরাজুদ্দীন ওসমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২২। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আলাওল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ হোসসামুদ্দীন মানিকপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ রাজী হামিদ শাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ হাসান বিন তাহের রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ কাজী খান আবূ ইউসুফ নাসেহী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৮। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। ২৯। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ নাজমুল হক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩০। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ কুতুবুল আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩২। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ রফি উদ্দীন মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আব্দুর রহীম মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩৪। ইলাহী বহুরমতে রঈসুল মুহাদ্দিসীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৩৬। ইলাহী বহুরমতে আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদুযযামান, হযরত মাওলানা শাহ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
-সাইয়্যিদ শহীদ আহমদ, ঢাকা।
“মালফুজাতে আহমাদ রেযা খান” কিতাবের ২য় জিঃ ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
উর্দূ কম্পোজ করতে হবে
অর্থ: “মৌলভী বরকত আহমদ ইন্তিকালের পর সাইয়্যিদ আমীর আহমদ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি ঘোড়ার পিছে সওয়ার হয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কোথায় তাশরীফ নিয়ে যাচ্ছেন? জাওয়াবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “বরকত আহমদ” উনার জানাযার নামায পড়ার জন্য যাচ্ছি।
আহমদ রেযা তখন বললো, আলহামদুলিল্লাহ! এ মুবারক জানাযার নামায আমি পড়িয়েছি। ইহা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন।” (রেযাখানী মাযহাব/৯৭)
সম্মানিত পাঠক! আহমদ রেযা খা শুধু নফসে আম্মারার দাসই ছিলনা, সাথে সাথে চরম বেয়াদবও ছিল বটে। যিনি হচ্ছেন- আখিরী রসূল, যার ইমামতিতে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কিরামগণ উনারা নামায পড়েছেন। সেই আখিরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই কিনা মুক্তাদি হয়ে আহমদ রেযার পিছনে জানাযার নামায আদায় করেছেন। আর সেটাই আবার ঢালাওভাবে প্রচার করে নিজেকে বড় বযুর্গ বলে জাহির করে সম্মান-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তির তালাশে বিভোর। আর সাথে সাথে দলীলও পেশ করছে যে, এটা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নাকি অনুগ্রহ করেছেন। নাউযুবিল্লাহ!
অর্থাৎ ব্যাপারটা এমন যে, সে নিজের বড়ত্ব তার অন্ধ অনুসারীদের কাছে প্রকাশ করছে যে, দেখ, আমার ইমামতিতে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানাযার নামায আদায় করেছেন।
সুন্নত ধ্বংসকারী, বিদয়াত জিন্দাকারী, তাবৎ কুফুরী-শিরকের প্রচলনকারী আহমদ রেযা খা ছিল একজন নফসের পূজারী। সারাজীবন নফসানীয়তের মধ্যে আকণ্ঠ ডুবে ছিল। আর নফসে আম্মারার দাবী হচ্ছে- সম্মান, মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রত্যাশী হওয়া। আহমদ রেযা খা তারই পিছনে ছুটে চলেছিল সারাজীবন। ইমামে রব্বানী, গাউসে সামদানী, কাউয়্যূমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত “মাকতুবাত শরীফ-এ” উল্লেখ করেন, “নফসে আম্মারা স্বভাবতই সম্মান ও কর্তৃত্বের প্রত্যাশী এবং সর্বদা স্বীয় সঙ্গি তথা সমসাময়িক সকলের থেকে উচ্চ বা শ্রেষ্ঠ হওয়ার আশাধারী। সে চায় যে, সৃষ্ট বস্তু সকলেই তার মুখাপেক্ষী ও আজ্ঞাবহ হয় এবং সে যেন কারো অধীন না হয়। ইহা যে, খোদায়ী দাবী এবং লা-শারীক আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীফক বা সমকক্ষতা করা। বরং ঐ হতভাগা সমকক্ষ হয়েও যেন সন্তুষ্ট হয়না। সে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উপরেও কর্তৃত্ব করতে চায়, যেন সকলে তার আদেশ পালন করে চলে।”
এ নফসে আম্মারাকে অক্ষম এবং ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন। উনাদের ধারাবাহিকতা বন্ধ হলে নায়েবে নবী, হযরত আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদেরকে উনাদের স্তলাভিষিক করে দিয়েছেন।
আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা সে মহান দায়িত্ব পালনে যখন তৎপর হন তখন নফসের পূজারী, দুনিয়ালোভী আলিমগণ উনাদের সে পথের মুখালিফ বা বিরুদ্ধবাদী হয়ে দ-ায়মান হয়। যেমনটি হয়েছে ত্রয়োদশ শতকের মুজাদ্দিদ আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, শহীদে আযম, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্ষেত্রে আহমদ রেযা খার অন্যায় বিরোধীতা এবং অপপ্রচার।
-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী।
ফযলে রসূল বাদায়ূনীর হাক্বীক্বত
এরপর এই রিজভী নিমমোল্লা রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রে জানুয়ারি/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় মৌলভী ফযলে রসূল বাদায়ূনীর “ফতওয়ায়ে ফয়জুর রসূল” ৫৭, ৫৮ পৃষ্ঠার একটি উর্দূ ইবারত অনুবাদসহ তুলে দিয়েছে। আমি আমার নির্দিষ্ট কলামের কলেবর বর্ধিত হবার কারণে কেবলমাত্র ফতওয়ার মূল কথাগুলো তুলে দিলাম। উক্ত ফতওয়ায় আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বিশুদ্ধ সুন্নী আক্বীদা সম্পন্ন মনে করা হবে, না ফাসিদুল আক্বীদা সম্পন্ন পথভ্রষ্ট আখ্যায়িত করা হবে এবং তার সীলসীলায় বাইয়াত গ্রহণ করা জায়েয হবে কিনা, প্রশ্ন করা হয়েছে। জবাবে নাকি মৌলভী বাদায়ুনী লিখেছে, “সৈয়দ আহমদ বেরলভী সুন্নী আক্বীদা সম্পন্ন ছিলেননা। রায় বেরেলীর সীলসীলায় মুরীদ হওয়া সঠিক হবে না। এবং যেসব লোক উনার সীলসীলায় বাইয়াত হয়েছেন তারা উক্ত বাইয়াত বাতিল করে অন্য কোন সুন্নী পীরের নিকট বাইয়াত হয়ে যাবেন।”
এর জবাবে আমরা বলতে চাই, শত ধিক! শত আফসুস!! এই মৌলভী বাদায়ুনীর জন্য। এই মৌলভী ছাহেবের উপমা, মেছাল হচ্ছে, “সে পরের ঘরে আগুন লাগাবার জন্য দৌঁড়াদৌঁড়ি করে কিন্তু পশ্চাতে যে তার ঘরেই প্রথম আগুন লেগে সব ছাই ভস্ম হয়ে গিয়েছে সে খবর আর তার জানা নেই।” বাদায়ুনীর জানা উচিত ছিল, তার সমসাময়িক কালে হিন্দুস্থানে তার চেয়ে বহু উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন আলিম, ছুফী-দরবেশ আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট মুরীদ হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র ও শিষ্য ছিলেন এবং তারা শাহ ছাহেবের নির্দেশেই তার হাতে বাইয়াত হয়ে তার জিহাদী কাফেলায় শরীক হয়েছেন। এমনকি হিন্দুস্থানের বহু নামজাদা আলিম সুলূক সম্পন্ন ছূফী-দরবেশগণ আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে উনার স্বরচিত পা-ুলিপিসমূহ মাওলানাকে দেখিয়ে উনার সমর্থন লাভ করতে এবং হযরত মাওলানা ইসমাঈল হোসেন দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি উনার দ্বারা কাফিরী ফতওয়া জারী করাতে চাইলেন।
ইতোমধ্যে নামাযের জামায়াত তৈরি হয়ে গেল। মসজিদে অবস্থানকারী সেই বিজ্ঞ আলিম ও মৌলভী ফযলে রসূল বাদায়ুনী জামায়াতে শামীল হলেন। কিন্তু মৌলভী ফযলে রসূল ছাহেবের সঙ্গিটি নামায পড়ার জন্য না উঠে সে হুক্কা টানতে লাগলো। মাওলানা ছাহেব নামাযান্তে এসে দেখতে পেলেন, সেই লোকটি তখনও হুক্কা টানতেছে। এতে মাওলানা ছাহেব মৌলভী ফযলে রসূলকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এ লোকটি কে?” তিনি বললেন, “আমার আত্মীয়।” মাওলানা ছাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, “কতদিন পর্যন্ত এ লোকটি আপনার সঙ্গে আছে?” তিনি বললেন, “দীর্ঘকাল যাবৎ।” এতে মাওলানা ছাহেব বললেন, “হযরত শাহ ইসমাঈল হোসেন শহীদ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি কাফিরী ফতওয়া জারী করার ইচ্ছা আমার পূর্বেও ছিলনা তবে এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কিছু লিখে দেয়ার ইচ্ছা করেছিলাম। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ! এখন নামাযের বরকতে আমার দৃষ্টিতে অন্য একটি স্বরূপ ধরা পড়েছে। তাহালো এই যে, এ লোকটি আপনার আত্মীয়ও বটে আবার আপনার সঙ্গে এতদিন ধরে চলাফেরা করে কিন্তু এতদসত্ত্বেও আপনি তাকে মুসলমান অর্থাৎ নামাযী বানাতে পারলেন না। অথচ হযরত ইসমাঈল হোসেন শহীদ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি যেদিকেই বের হয়েছেন সেদিকেই হাজার হাজার মানুষকে ধর্ম পথে আনয়ন করেছেন।
সুতরাং দেখুন কাফিরী ফতওয়া আপনার প্রতি হওয়া উচিত, না হযরত ইসমাঈল হোসেন শহীদ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি হওয়া উচিত? যাও তুমি আমার নিকট হতে চলে যাও, আমি তোমার লেখা সম্বন্ধে কোন মতই প্রকাশ করবনা। মৌলভী ফযলে রসূল অতঃপর লজ্জিত ও নিরাশ হয়ে তথা হতে ফিরে আসলো। আমীর খা ছাহেব বললেন, “বহু দিন পরে মৌলভী ফযলে রসূলের সেই সাথীটিকে বৃদ্ধাবস্থায় দেখতে পাই। বার্ধক্যেও সে বেনামাযীই রয়েছে। লোকটি খেলাধুলা ও তামাসায় খুব পটু।”
কাজেই উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা প্রমাণিত হলো, যে মৌলভী নিজেই দূরস্ত বা ইসলাহ প্রাপ্ত নয়। সে কিভাবে অপরকে দূরস্ত করবে? একজন হুক্কাখোরকে যে ব্যক্তি নামাযের তালিম দিতে অক্ষম সে ব্যক্তির ফতওয়া কে গ্রহণ করবে? বাদায়ুনীর মত কত শত শত আলিম রায় বেরেলীর সীলসীলার চৌকাঠ চুম্বন করার জন্য ও উনার জুতা বহন করার জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সে কথা কি হুক্কা-বিড়ি সেবনকারী নামধারী সুন্নী মৌলভীরা ভুলে গেছে?
-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ নুরুল আমীন, ঢাকা।
প্রসঙ্গতঃ হাদীয়ে বাঙ্গাল, জৈনপুর সিলসিলার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “মুর্শিদে বরহক” আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে যা বলেন, তা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো-
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
আর মুর্শিদে বরহক, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এমন তরীক্বার প্রচলন করিয়াছেন যে, একদিনের মধ্যেই লতিফার যিকির আরম্ভ করিয়া নদী পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিবে এবং মোশাহেদার বিষয়বস্তু ভালভাবে স্মরণে আনিয়া দিবে। এইজন্য তাহার খলীফা এবং বন্ধু-বান্ধুবদের মধ্যে আজ পর্যন্ত এই তরীক্বাই প্রচলিত রহিয়াছে। এই অধমকে আরেফে রব্বানী হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জৌনপুর শহরে জামে মসজিদে নকশবন্দিয়া তরীক্বার তাওয়াজ্জুহ দিয়া দুই ঘণ্টার মধ্যে নফী পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিয়াছিলেন। আর হযরত মুর্শিদে বরহক আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বেরেলীর মসজিদে আঠার দিন পর্যন্ত তরীক্বতের রহস্যসমূহ এই অধমকে বুঝাইয়াছিলেন। উহার বরকতে এই ফকির এমন পদ্ধতি গ্রহণ করিলেন যে, চার দিনের মধ্যে তালেবের নূরের পর্দা ভালভাবে অতিক্রম করিতে লাগিলাম। আর দশ দিনের মধ্যে এমন হইলাম, যেমন, দুধ ছাড়ান ছেলের মত। এবং মুর্শিদের নিকট হইতে পৃথক হইতে কোন ভয় ভীতি রহিল না। হ্যাঁ, যদি কোন ব্যক্তি অবিশ্বাসী হয় তাহার কথা ভিন্ন।
অতএব, বিশেষ লোকেরা এই সমস্ত আলামতের দ্বারা হযরত মুর্শিদে বরহককে চিনিতে পারিয়াছে। এই প্রকারের বর্ণনাই উনার মুজাদ্দিদ হওয়ার নির্দশনের পরিচয় লাভে যথেষ্ট।
-মুফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।
আমীরুল মু’মিনীন, মুর্দে মুজাহিদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন ইংরেজ বিরোধী, খিলাফত প্রতিষ্ঠার সফল রূপকার। ওহাবী মতবাদের ও ওহাবী আন্দোলনের সাথে তার কোন সংশ্রবই ছিলনা। প্রসঙ্গতঃ এ বিষয়ে আরো দলীল পেশ করা হলো। ইতোপূর্বে এই কলামে ইসলামিক ফাউ-েশন, বাংলা একাডেমী প্রণীত অনেক বই থেকে বর্ণনা দেয়া হয়েছিল। গ্লোব লাইব্রেরী লিমিটেড প্রকাশিত ডঃ সৈয়দ মাহমুদুল হাসান প্রণীত “ভারত বর্ষের ইতিহাস” কিতাবের ৫৭২-৫৭৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ওহাবী আন্দোলনের প্রবক্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ওহাবী ছিলেননা। কারণ তার মতবাদ বহুলাংশে আব্দুল ওহাবের চিন্তাধারা হতে পৃথক ছিল।
প্রথমতঃ তিনি আব্দুল ওহাব অথবা তার শিষ্যদের সংস্পর্শে আসেননি। কারণ আব্দুল ওহাব পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে এবং তার শিষ্যরা হেজাজ হতে বিতাড়িত হয়।
দ্বিতীয়তঃ আব্দুল ওহাব গোঁড়াপন্থী মুসলমান ছিল এবং কেবলমাত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাকে অনুসরণ করত অপরদিকে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আব্দুল ওহাব নয় রবং হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পুত্র হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শিষ্য ছিলেন এবং উনার মতবাদে প্রভাবাম্বিত হন। ধর্মীয় সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণের প্রয়াস পান। ইংরেজদের প্ররোচনায় পাঞ্জাবের শিখ দলপতি রণজিং সিংহ মুসলমানদের উপর নির্যাতন শুরু করলে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি ফতওয়া জারী করেন। এই আন্দোলন “মুহম্মদী আন্দোলন” নামে সমধিক পরিচিত।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং উনার সহকর্মী হযরত শাহ ইসমাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শাহ আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রমূখ ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় মুহম্মদী আন্দোলন পশ্চিমে কাবুল ও কান্দাহার হতে পূর্বে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। বালাকোটের যুদ্ধে দুর্ধর্ষ শিখ বাহিনীর নিকট হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও উনার কতিপয় শিষ্য পরাজিত হয়ে শাহাদত বরণ করেন।
বলা বাহুল্য যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শাহাদতের পর মুহম্মদী আন্দোলন নিস্প্রভ হয়ে পড়ে। যাই হোক হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন প্রকৃত অগ্রদূত ছিলেন।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান।
“তাযকেরাতুল আউলিয়া” কিতাব খুলিলে এইরূপ ইতিহাস পাওয়া যাইবে শত শত। মোটামুটি ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে বেয়াদবি করিলেও তাহার অনেক ক্ষতি সাধিত হইয়াছে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হইয়াছে, ধন-সম্পদ বিনষ্ট হইয়াছে। কিন্তু সীরাতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুলিলে দেখা যায়, অনেক কাফির সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে অনেক বেয়াদবি করিয়াছে, অপবাদ, মিথ্যা কল্পকাহিনী প্রচার করিয়াছে কিন্তু সাক্ষাত তাহাদের কিছু হয় নাই। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনষ্ট হয় নাই, ধন-সম্পদ নষ্ট হয় নাই কিন্তু ক্ষতি তাহাদের হইয়াছে সর্বাধিকভাবে, এবং তাৎক্ষনিভাবেই তাহা হইয়াছে। আর সেটা হইতেছে, ঈমান বিলুপ্ত হইয়া যাওয়া।
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পড়ে বড় ওলীআল্লাহগণ উনাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। যিনি যত বড় ওলীআল্লাহ উনার সাথে বেয়াদবির ফলও তত সূক্ষ্ম এবং ভয়াবহ। অর্থাৎ ঈমান-আমলের ক্ষতি।
সুন্নী নামধারী অদক্ষ জলীল গং এর ক্ষেত্রেও একই কথা। ওহাবী, খারিজীদের পর এই সব নামধারী সুন্নীদের প্রতি মানুষ একটু কোমল নজরে তাকাইত। সুন্নী দাবীর প্রেক্ষিতে তাহাদের মাঝে সুন্নীয়তের একটু আভাস, আমল-আখলাক ইত্যাদি ফুটিয়া উঠুক তাহা চাহিত। মোটামুটি না হইলেও ছিটাফোটা যে দু’একটু সুন্নী মনোভাব তথা আমল উহাদের মাঝে ছিল তাহাতেই অন্ততঃ খারিজী, ওহাবীদের চেয়ে তাহাদের ভাল জানিত।
কারণ ততদিনেও তাহারা খারিজীদের ন্যায় ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক দল করে নাই, আসন ভাগাভাগির রাজনীতিতে নামে নাই। কিন্তু এক্ষণে ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একের পর এক বিরোধীতা, অপবাদ, অপপ্রচারে তাহারাও এখন খারিজীদের ফুরেই মাথা কামাইল।
খারিজীদের নেতা শাইখুল হদসের ন্যায় অদক্ষ আব্দুল জলীল তাহার নিজ হস্তে “বুখারী শরীফ উনার” বঙ্গানুবাদে “যে ব্যক্তি ক্ষমতা প্রার্থনা করে তাহার প্রতি লা’নত। অথবা যে ক্ষমতা চাহে তাহাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়না।” এই কথা লিখিয়া নিজেরাই আবার ক্ষমতা প্রার্থনার রাজনীতি শুরু করিল।
সকল সার্বভৌম ক্ষমতা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার। এই কথা বলিয়া এতদিন পরে আবার ওহাবীদের নেতা শাইখুল হাদীসের ন্যায় “সকল সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের” এই নীতিতে উৎসারিত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় তথাকথিত ইসলামী ফ্রণ্ট রচনা করিয়াছে। শুধু তাই নয়, মুখে মুখে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত দেখাইয়া, সুন্নী নাম বেচিয়া, নিজ হস্তে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ উনার অর্থ লিখিয়া আবার নিজেই সেই লিখিত হাদীছ শরীফ উনার প্রতি সম্পূর্ণ অবমাননা করিয়া আগামী সংসদে নারী নেতৃত্বের কাছে একটি আসন ভিক্ষা চাহিয়াছে অর্থাৎ কিনা অদক্ষ জলীল গং প্রকাশ্য দিবালোকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে প্রতারণা, বিরোধীতা ও বিদ্রোহ করিয়াছে।
সুতরাং যে বা যাহারা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে প্রতারণা করিতে পারে সে মহান প্রতারক, জালিয়াত। সে যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, যামানার মুজাদ্দিদ রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নামেও অপপ্রচারের পাহাড় তৈরি করিতে পারে তাহা আর বিচিত্র কি?
আর ইহাই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তার চেয়ে অধিক জালিম কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে যে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে।” অন্যত্র বলেন, “আপনার পূর্বে এমন কোন নবী অতীত হয় নাই যাকে তাহারা মিথ্যাবাদী বলে নাই।”
-মুহম্মদ জিশান আযীয।
যেমন ছাত্র তেমনি ওস্তাদের কাহিনী। অনুপম মেধা, আমল, পরহেযগারীর অধিকারী হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরজী জানালেন, তার ওস্তাদকে। বললেন, “হুযূর! আমার ইলম বৃদ্ধির জন্য স্মরণশক্তি আরো বেশি দরকার।” জবাবে হযরত ওয়াকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “গুণাহ করা ছেড়ে দাও। গুণাহ করলে ইলম থাকেনা। হযরত ওয়াকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেও জানেন যে, হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কবীরাহ গুণাহ তো বটেই এমনকি ছগীরাহ গুণাহ থেকেও হিফাযত রয়েছেন। কিন্তু তারপরেও যে গুণাহ না করা বা করার সাথে ইলমের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে অর্থাৎ গুণাহ করলে ইলম ছলব (বিলুপ্ত) হয়ে যায় সেই বিষয়টিই তিনি বিশেষভাবে প্রতিভাত করতে চেয়েছেন। আর এ বিষয়টিই করুণভাবে ফুটে উঠেছে মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীনের ক্ষেত্রে। সে তার পত্রিকায় লিখেছে,
মাসিক মদীনা : ফেব্রুয়ারি/৯৬ ঈসায়ী সংখ্যায় বলেছে, “বেতের নামাযে দোয়ায়ে কুনুত ভুলে গেলে এবং সেজদায়ে সাহু ছাড়াই নামায পড়ে ফেললেও নামায আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়তে হবেনা।”
মাসিক আল বাইয়্যিনাত : ফিক্বাহের কিতাব সমূহে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে যে, সিজদায়ে সাহু ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক অথবা ভুলবশতই হোক, তরক করলে নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। অন্যথায় ওয়াজিব ত্বরকের গুণাহ গুণাহগার হতে হবে।” (দলীল-দুররুল মোখতার, রদ্দুল মোহতার, আলমগীরী, ফতহুল ক্বাদীর, ফতওয়ায়ে দেওবন্দ, বেহেশতী জেওর ইত্যাদি)
পাঠক! অনেকদিন ধরে প্রকাশ্য হারাম কাজে লিপ্ত থাকার ফলে যামানার তাজদীদী মুখপত্র আল বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতা করার ফলে একের পর এক ভুল মাসয়ালা, গোমরাহীমূলক ভুল ফতওয়া বিস্তারের ফলে, মাহিউদ্দীনের ইলম এখন এতই ছলব হয়েছে যে, এখন “সিজদায়ে সাহু না আদায় করলে নামায পুনরায় আদায় করতে হবে” এ মাসয়ালাও সে ভুল করে বসেছে। নাউযুবিল্লাহ!
কিন্তু এর পরিণতি যে কত ভয়াবহ তা সে নিজেও চিন্তা করতে পারেনি। কারণ নামায দ্বীন ইসলামের খুঁটি। মু’মিন আর কাফিরের মধ্যে ফারাককারী আমল হলো নামায। ক্বিয়ামতের ময়দানে প্রথম হিসেব হবে নামাযের। নামাযের হিসেবে যে পাশ করে যাবে সে সব কিছুতেই পাশ করে যাবে। যার নামাযের হিসেবে হেরফের হবে তার সবকিছুতেই হেরফের হবে। আর দ্বীন ধ্বংস করার কোশেশে লিপ্ত মাহিউদ্দীন দ্বীনের খুঁটি নামাযকেই ক্ষতিগ্রন্থ করতে প্রচেষ্ট। তার মাসয়ালা অনুযায়ী আমল করলে মুসলমানের বিতর নামাযই আদায় হবে না। অথচ যে নামায ওয়াজিব, যার আলাদা ফযীলত ও গুরুত্ব রয়েছে।
মূলত: হারাম লংমার্চ, হরতাল আর মৌলবাদী আন্দোলনের জন্য নারী নেতৃত্ব গ্রহণ করার ফলে মাহিউদ্দীনের উপর লা’নত পড়ে গেছে। এ লা’নতের কারণেই তার ইলম-কালাম সব ছলব হয়ে গেছে। তার দ্বারা তাই এখন শয়তান আম মানুষের আমলও নষ্ট করে দিতে চাচ্ছে। বিতর নামাযের ভুল ফতওয়া দেয়া তারই সাক্ষাত প্রমাণ। (আউযুবিল্লাহ মিনাশ শাইত্বনির রাজিম) (চলবে)
-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ।