রেজভীদের মুখপত্র তরজুমান নভেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় তথাকথিত পীরে তরীক্বত, বেপর্দা হওয়া ও ছবি তোলার ন্যায় অসংখ্য হারাম ও বেহায়া কাজের হোতা বিদয়াতী ও ফিৎনাবাজ আব্দুল জলীলের দালালী করতে গিয়ে তরজুমান গং বাতিলের আতঙ্ক, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী অগণিত পাঠকের প্রাণের “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর প্রতি অভিযোগ করেছে যে, “আল বাইয়্যিনাত” প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যেই আব্দুল জলীলের সমালোচনা করে।” অথচ তাদের এ বক্তব্য শুধু ডাহা মিথ্যাই নয় বরং হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও জঘন্য প্রতারণামূলকও বটে। কারণ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর কোন লেখাই হিংসার বশবর্তী হয়ে লেখা হয় না। কেননা “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” তার মূলনীতিতে সম্পূর্ণরূপে অটুট ও অনড়। আর সেই মূলতনীতিটি হচ্ছে,
من احب لله وابغض لله واعطى لله وصنع لله فقد استكمل الايمان.
অর্থ: “যে ব্যক্তি মুহব্বত করে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, বিদ্বেষ পোষণ করে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, আদেশ (দান) করে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, নিষেধ করে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, সে ঈমানে পরিপূর্ণ।” (আবূ দাউদ, তিরমীযী শরীফ)
উল্লেখ্য যে, “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” নয় বরং তথা কথিত পীরে তরীক্বত আব্দুল জলীলই সর্বপ্রথম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে তার তথাকথিত স্মরণীকায় “মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও তার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউসুল আযম, আওলাদে রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে মিথ্যা, অন্যায়মূলক ও শরীয়ত বিরোধী সমালোচনা ও কুটুক্তি করেছে।
তার উক্ত মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও শরীয়ত বিরোধী সমালোচনা ও কুটুক্তির জবাবে পাঠকগণ যে “মতামত” পাঠিয়েছে তাই “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর অন্যতম বিভাগ “মতামত বিভাগে” উল্লেখ করা হয়েছে। যেন সাধারণ মুসলমানগণ বিভ্রান্ত না হয় এবং হক্ব না-হক্ব বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারে। তবে একথাও সত্য যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাতে দলীলবিহীন ও শরীয়ত বিরোধী কোন “মতামতই” পেশ করা হয় না।
অতএব, জলীলের মনগড়া, বানোয়াট ও মিথ্যা বক্তব্যের জবাবে এ পর্যন্ত যা লেখা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই দলীলভিত্তিক ও সত্য।
তাছাড়া যারা দুনিয়াদার মাওলানাদের তাদের সমালোচনা করা ও তাদের সত্যিকার পরিচয় মানুষের কাছে তুলে ধরা অনেক পূণ্যের কাজ। আল্লামা ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তালবীসে ইবলিস” কিতাবে লিখেন, “একদিন হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদানদের সম্মুখে কিছু উলামায়ে ‘ছূ’ বা দুনিয়াদার মাওলানাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করছিলেন। মজলিশের মধ্য এক ব্যক্তি বললো, “হুযূর! আলিমদের সমালোচনা না করলেই ভাল হয়।” জবাবে হযরত ইমাম হাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
অর্থাৎ কিছু সময় দুনিয়াদার মাওলানাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ষাট বৎসর বে-রিয়া নফল ইবাদত হতে উত্তম।”
পাঠক! রেজভী মুখপত্র “তরজুমান” আব্দুল জলীলের বহু যোগ্যতার কথা উল্লেখ করলেও তাকে হক্কানী আলিম বলার দুঃসাহস দেখায়নি। আর দেখাবেই বা কি করে? কারণ, তার সত্যিকার পরিচয় যে তারা ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছে।
বস্তুতঃ “তরজুমান” আব্দুল জলীলের যে যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছে তার একটাও হক্কানী আলিম হওয়ার জন্য শর্ত নয়। বরং হক্কানী আলিম হওয়ার শর্ত হচ্ছে- প্রথমতঃ তাকওয়া ও মহান আল্লাহভীতি থাকা। কেননা, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, انما يخشى الله من عباده العلماء.
অর্থাৎ “একমাত্র আলিমগণই আমাকে ভয় করে।” উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “তাফসীর খোলাছায়” উল্লেখ আছে,
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
অর্থাৎ “আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত “علماء” শব্দ দ্বারা কিতাব পড়–য়া মাওলানাদেরকে বুঝানো হয়নি। বরং তাদেরকেই বুঝানো হয়েছে, যারা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহিমাময় জাত এবং অসীম গৌরবময় গুণাবলীকে ঈমান ও মারিফতের আলোকে অবলোকন করেছেন। যেহেতু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের অনেকেই কিতাব পড়–য়া ছিলেন না। অথচ উনাদের ইলমই ছিল সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং উনারাই ছিলেন সত্যিকারে আলিম।”
উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “তাফসীরে ইবনে কাছীরে” উল্লেখ আছে,
لبس العلم عن كثرة الحديث ولكن العلم عن كثرة الخثية.
অর্থঃ “বহু সংখ্যক হাদীছ শরীফ জানলেই সে ব্যক্তি আলিম হয় না। বরং যার মধ্যে আল্লাহভীতি বেশি সে ব্যক্তি প্রকৃত আলিম।”
দ্বিতীয়তঃ প্রকৃত আলিম বা হক্কানী আলিম হওয়ার শর্ত হচ্ছে- “ইলম অনুযায়ী আমল থাকা। যেমন, এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
ومن ارباب العلم الذين يعملون بما يعلمون.
অর্থঃ “প্রকৃত আলিম কে? যে ব্যক্তি অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করে।
এছাড়াও প্রকৃত আলিম-এর বহু শর্ত কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে যদি এদুটো বিষয় নিয়েই চিন্তা করা হয় তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, আব্দুল জলীল হক্কানী আলিম নয়। কারন তার যদি বিন্দুমাত্রও তাকওয়া বা আল্লাহভীতি থাকতো তবে সে বে-পর্দা ও ছবি তোলার ন্যায় হারাম কাজগুলো প্রকশ্যে করতে পারতো না। আর তার যে ইলম অনুযায়ী আমল নেই, বে-পর্দা হওয়া ও ছবি তোলাই তার বাস্তব প্রমাণ। এদের সমালোচনা করাকে যারা মুনাফিকী বলে তারা নিজেরাই আসলে মুনাফিক। আর এই মুনাফিকীর কারণেই কিছু দিন পূর্বেও তরজমুানে যার কুৎসা রটনা হয়েছে এখন তার দালালী করা হচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে যে, তারাও কোন তবকার মুনাফিক। আর মুনাফিক বলেই তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে হক্কানী ওলীদের অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করা, কাফির, ভ-, ওহাবী বলে কুটুক্তি করা। আর ভ-, প্রতারক, বে-আমল মৌলভীদের দালালী করা। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের এ সকল দালাল মুনাফিক থেকে হিফাযত করুন। (আমীন)
-মুহম্মদ বরকত, মতলব, চাঁদপুর।
হে সন্ত্রাসী তথা মুসলমানদের ঈমান-আমল বিধ্বংসী তরজুমান! তোমার চিঠির জবাব দেয়ার পূর্বে তোমাকে শুনাতে চাই জগতখ্যাত কবি ও বুযুর্গ আল্লামা শেখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অমর গ্রন্থ “গোলস্তা” কিতাবের একখানা শে’র। যেখানে তিনি লিখেছেন,
اذ ايئس الانسان طال لسانه.
অর্থাৎ “মানুষ যখন সব দিক থেকে নিরাশ হয়ে যায় তখন তার জবান দারাজ হয়ে যায়,” অর্থাৎ মুখে যা আসে তাই বলে, কলমে যা আসে তাই লিখে কিন্তু তার শেষ পরিণাম ফল চিন্তা করেনা।
তোমার অবস্থাও যে তাই হয়েছে, তোমার কথিত আ’লা হযরত(?) রেযা খাঁ কুফরীর ফাঁন্দে পড়ে গেছে ফাঁন্দ থেকে ছোটকারা পাওয়ার কোন রাস্তা খুজে না পেয়ে নিরাশ হয়ে জবান দারাযী শুরু করে দিয়েছো। আবল-তাবল লিখে নিজেদের জিহালতীর অবশিষ্টটুকুও প্রকাশ করে দিচ্ছ। আর না করেই বা তোমার উপায় কি? তুমি যে ফান্দে পড়ে গেছ। আর কথায় তো বলে “ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে।” তোমাকে আরো কাঁদতে হবে, কতদিন যে, কাঁদতে হবে তা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভাল জানেন। তবে সময়মত তওবা করে যদি কুফরী থেকে ফিরে আসো তবেই শুধু সেই ফাঁন্দ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তোমার জন্য আমার পক্ষ থেকে এই দোয়াই রইল।
হে সন্ত্রাসী বোমাবাজ তরজুমান! তোমাকে প্রথমেই একটি কথা বলে নেয়া জরুরী আর তা হলো- তুমি যদিও আমাকে দোস্ত বলে সম্মোধন করেছো, কিন্তু আমি তা পারছিনা, কারণ তুমি যে একজন সন্ত্রাসী ও বোমাবাজ তথা মুসলমানদের আক্বীদা-আমল বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে চিহিৃত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে মশহুর হয়ে গেছ। কোন ভদ্রলোক কি এধরণের একজন সন্ত্রাসীকে দোস্ত বলতে পারে? অন্য কারো পক্ষে তা সম্ভব হলেও আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়।
ও! ভাল কথা মনে পড়েছে, তোমার ‘খোলা চিঠির’ জবাবে যাওয়ার পূর্বে তোমাকে একটি দুঃসংবাদ দিয়ে রাখছি, যে দুঃসংবাদ তোমাকে চিঠির জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালাতে থাকবে। আর সেই দুঃসংবাদটি হলো “তোমার বোমা তোমার উপরই ফেটেছে।” কিভাবে তা এখন বলবো না। সময় হলেই তুমি তা জেনে যাবে। এবার আসো, পর্যায়ক্রমে তোমার চিঠির জবাব নাও।
প্রসঙ্গঃ ছানী আযান
হে সন্ত্রাসী, বোমাবাজ তরজুমান! তোমার অভিযোগ তুমি “কিল্লতে ইলম ও কিল্লতে ফাহম” অর্থাৎ তোমার কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে তুমি আল বাইয়্যিনাত-এর ছানী আযান সম্পর্কিত কতিপয় বিষয় বুঝে উঠতে পারনি, তাই তুমি আল বাইয়্যিনাতের নিকট কিছু প্রশ্ন করেছো। যেমন তোমার একটি প্রশ্ন হচ্ছে- যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও শায়খাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যুগে শুধুই কি ইক্বামত দিয়ে জুময়ার নামায সম্পাদন করা হতো? …….
হে বোমাবাজ তরজুমান! উত্তরটা একটু মনোযোগ দিয়ে শুনবে কিন্তু, কারণ তোমার তো আবার ব্রেইন খুর ডাল। তুমি যদি “ছানী আযান সম্পর্কিত” ফতওয়াটি মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংগ্রহ করে ভালভাবে কয়েকবার মশক করতে, তবে এধরণের অবান্তর ও অজ্ঞতামূলক প্রশ্নের অবতারণা তুমি করতেনা। তোমার কাছে তো মাসিক আল বাইয়্যিনাত থাকার কথা, কারণ তুমি তোমার চেলা-চামুন্ডাদের আল বাইয়্যিনাত পড়তে নিষেধ করলেও, নিজে যে তা পাওয়ার জন্য চাতক পাখীর মত উদগ্রীব হয়ে বসে থাক তা আমি ভাল করেই জানি। ভাল খুব ভাল! কারণ মূল্যবান জিনিষে কেউ অন্যকে ভাগ দিতে চায়না, তুমিই বা তা কেন চাবে যাক অনেক কথা বলে ফেললাম, তবে তোমার মায়দার জন্যই বলা হয়েছে।
তো যেকথা বলছিলাম-তুমি যদি পূণরায় আল বাইয়্যিনাতে প্রদত্ত ছানী আযানের ফতওয়াট পড় তবে দেখবে সেখানে কোথাও একথা লেখা হয়নি যে, “নূরে মুজাসসাম, ছাহেবে মুত্তালে আলাল গায়ব, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম ও আমীরুল মু’মিনীন হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম ও হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সময়ে জুমুয়ার দিনে শুধু মাত্র ইক্বামত দিয়ে নামায পড়া হতো।”
ওহে আক্বীদা-আমল বিধ্বংসী তরজুমান! আল বাইয়্যিনাত কি তোমার মত “পচা গান্ধা ব্রেইন” নিয়ে চলা ফেরা করে, যে তোমার মত অজ্ঞের ন্যায় আবল-তাবল বলে বেড়াবে। আল বাইয়্যিনাত দলীল ছাড়া কোন কথা বলে না, তার প্রমাণ চাও তবে প্রমাণ এখনি দিচ্ছি। দেখ, আল বাইয়্যিনাত আগস্ট-৯৭ ঈসায়ী সংখ্যায় ১৬ পৃষ্ঠায় কি লিখা আছে। সেখানে লিখা আছে, ……. “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযানের ন্যায় জুমুয়ার দিনেও একটি মাত্র আযান জারী ছিল। যা মসজিদের বাইরে দরজার উপর দেয়া হতো। অনুরূপ খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি ও আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খেলাফত কালেও জুমুয়ার নামাযে একটি মাত্র আযান জারী ছিল। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
عن السائب بن يزيد قال كان الاذان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وابى بكر وعمر اذا خرج الامام- واذا اقيمت الصلاة- فلما كان عثمان زاد النداء الثالث على الزوراء.
অর্থ: “হযরত সাইব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম ও হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সময় একটি মাত্র আযানের প্রচলন ছিল। আর তা ইমাম (হুযরা) হতে বের হলে দেয়া হতো। এরপর (খুৎবা পাঠ করার পর) নামাযের জন্য ইক্বামত দেয়া হতো, অতপর হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি (খেলাফতে আসীন হওয়ার পর) ‘যাওরা’ নামক স্থানে তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন। (উল্লেখ্য হাদীছ শরীফ-এর রাবীগণ ইক্বামতকেও আযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আযানকে তৃতীয় আযান বলেছেন) ইমাম তিরমিযী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ হাদীছ শরীফকে হাসান সহীহ বলেছেন।
হে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী! তুমি কি ভাল করে খেয়াল করে শুনেছ? লক্ষ্য করে দেখ- সেখানে কি বলা হয়েছে,
প্রথমতঃ বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক ও হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদের সময় একটি মাত্র আযান ছিল।
দ্বিতীয়তঃ বলা হয়েছে, এরপর খুতবা পাঠ করার পরে নামাযের জন্য ‘ইক্বামত’ দেয়া হতো।
তৃতীয়তঃ বলা হয়েছে, হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন, সাথে সাথে এটাও বলা হয়েছে যে, হাদীছ শরীফ-এর রাবীগণ ইক্বামতকে ও আযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাই হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আযানকে তৃতীয় আযান বলা হয়েছে। এত স্পষ্ট করে সব বলে দেয়ার পরও তুমি জিজ্ঞেস করছো, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও শায়খাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের যগে শুধুই কি ইক্বামত দিয়ে জুময়ার নামায সম্পাদন করা হতো?…
তোমাকে যত সুন্দর করেই বুঝানো হোকনা কেন, তুমি তা কখনই বঝবেনা, কারণ তুমি যে সে ধনবান ব্রাহ্মণের স্ত্রী বললো, এটা আপনি বলেন কি? এমন অনেক লোক আছে যে আপনাকে তা বুঝিয়ে দিতে পারবে। ব্রাহ্মণ বললো এত সহজ নয়। কারণ সে আমাকে যতই বুঝাক না কেন আমি বলবো আমি বুঝি নাই।
ওহে সন্ত্রাসী, বোমাবাজ তরজুমান! তোমার অবস্থাও কি ঠিক তাই নয়? নচেৎ এত সুষ্পষ্টভাবে বলে দেয়া হলো- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও দুই খলীফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনারা সময়ে একটি মাত্র আযান ছিল যা মসজিদের দরজায় দেয়া হতো, অতপর খুতবা পাঠান্তে ইক্বামত দেয়া হতো,” এর পরও তুমি জিজ্ঞেস করছ ঐ সময় শুধুই কি ইক্বামত ছিল? আসলে তোমার মতলবটা কি?
সন্ত্রাসী তরজুমান! আজ আর নয়, আবার আগামীতে দেখা হবে তোমার বাকী প্রশ্নের জবাবসহ, তবে দুঃসংবাদটির কথা ভুলে যেওনা কিন্তু। ও, যাবার আগে একটি পরামর্শ দিতে চাই তোমাকে। আর তা হলো আমার চিঠি লেখা শেষ হওয়ার পূর্বে উত্তর লিখে তুমি আবার ফাঁন্দে পড়না যেন। (ওহে সন্ত্রাসী। অপেক্ষায় থেকো)
“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “জ্ঞানের প্রথম দান হচ্ছে হীনতা, দীনতা ও ন¤্রতা।” এরূপ বিশ্বাস ও জ্ঞান মানুষকে সত্যিকারভাবে তার আবদিয়াতের (অর্থাৎ সে যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পূর্ণ গোলাম (দাস) এবং উনার নিকট সর্ব বিষয়ে বিনীত) সম্যক পরিচয় ও অনুভূতি এনে দেয় তাতে মধে আবৃদিয়াত (অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দাসত্ববোধ) জাগরিত হয়নি বরং সে স্থলে তার অর্জিত জ্ঞান বিষয়ে গর্ব-গরিমাবোধ জাগরিত হয়েছে, তবে বুঝতে হবে যে প্রকৃত জ্ঞানের স্ফুরণ তার মধ্যে হয়নি।
যে জ্ঞানী, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অনন্ত, অফুরন্ত জ্ঞানের নিকট নিজের অর্জিত জ্ঞানকে অতি তুচ্ছ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মনে না করে সে জ্ঞানী কিসে? সমুদ্রের মধ্যে অফুরন্ত মাছের বাস। সেখান থেকে কয়েকটি ক্ষুদ্র মাছ ধরে এনে যদি কেউ বলে যে সমুদ্রের সকল মাছ সে ধরেছে, আর সেখানে মাছ বলতে কিছু নেই। তবে তাকে বাতুল, প্রগলত ছাড়া আর কি বলা যায়?
মূলতঃ রেযা খাঁদের অবস্থা হয়েছে তাই। আহমদ রেযা খাঁর জাহেরী কয়েকটি বিষয় পঠনের ভিত্তিতে তারা যে আস্ফালন তথা নর্তন-কুর্দন করছে তাতে তাদের উপমা দিতে হয় ঐ হীন পেশাবের উপমার মত পূর্ণ আলোকোজ্জল চাঁদনী রাতে যখন তার পোশাকের ভিতর এক ক্ষীণ উজ্জলতা পরিলক্ষিত হয় তখন সে (ঐ পেশাব) গর্বভরে ঘোষণা করে “হে পৃথিবীবাসী! অবলোকন কর, আমি কত উজ্জ্বল! কত সুন্দর! আমার ভিতর কেমন আলোচ জ্বলছে।” তার দম্ভোক্তি শুনে আকাশ হতে পূর্ণচাঁদ ব্যঙ্গ করে জবাব তোর অপবিত্রতার কথা? কিসে তোর এত গর্ব? দুর্গন্ধ এবং অপবিত্রতাই তোর প্রধান গুণ অথচ তুই করিস গর্ব! ওরে মূর্খ, যে উজ্জ্বলতা তোর মধ্যে দেখা যায়, জেনে রাখ, তা তোর নয় তা আমার ¯িœগ্ধ কিরণের প্রতিফল মাত্র।”
মূলতঃ রেযা খাঁরা শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শব্দের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা তাদের নেই। পক্ষান্তরে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তর্নিহিত গভীর ইলমে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাই বলতে হয়, নদী বা সমুদ্র অথবা আকাশ বা পৃথিবী এই শব্দগুলো লিখতে যেমন দু-তিনটি অক্ষর লাগে অথচ তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশাল এবং ব্যাপক, তেমনি আহমদ রেযা খার ইলমও শাব্দিক দু-তিনটি অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ পক্ষান্তরে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলম আকাশ বা পৃথিবী শব্দের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের ন্যায়ই বিশাল।
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার (জাত) নিজ সত্ত্বা ও (সিফত) গুণাবলীর মধ্যে কোনটিই যখন সৃজনের সাদৃশ্য নয় তখন মূলতঃ এটা সুনিশ্চিত যে শব্দের সাদৃশ্যের দ্বারা যেন অর্থের সাদৃশ্য বুঝা না হয়। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জ্ঞানকেও আমরা “ইলম” বলি এবং আমাদের জ্ঞানকেও “ইলম” বলি। এই “ইলম” শব্দ উভয়স্থানে ব্যবহৃত হয় বলে আমরা যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জ্ঞানকে আমাদের জ্ঞানের সাদৃশ্য বিবেচনা করব, তা হতেই পারে না। এজন্য “উনার সদৃশ কিছু নেই” এর দ্বারা যাবতীয় বিষয়ে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাদৃশ্যকে নফি করা হয়েছে। যখনই আমরা কোন সাদৃশ্যমূলক শব্দ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে আরোপিত হতে শুনি, তখনই আমাদের এই আয়াতটির অর্থ খেয়ালে নিয়ে আসা উচিত। নচেৎ সাদৃশ্যের শিরক এসে পড়বে এবং ঈমান নষ্ট হবে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা, কথন, দর্শন, শ্রবণ ইত্যাদি যাবতীয় শব্দ এই পর্যায়ভুক্ত। একইভাবে ‘যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নূর’ এ কথার উপরও বিশ্বাস রাখা উচিত। এই নূরকে তফসীরকারগণ মুনাব্বের (আলোক দানকারী) অর্থে ‘তাবিল’ করেছেন, এ জন্য যে, ‘নূর’ এক কায়ফিয়াতের নাম এবং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কায়ফিয়াত হতে পবিত্র।
মূলতঃ ‘ভাষা’, অনন্ত, সাদৃশ্যবিহীন ¯্রষ্টাকে অথবা উনার গুণরাজীকে বোঝা কঠিন ব্যাপার।
উল্লেখ্য, আহমদ রেযা খারা এই ভাষাগত বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও তাৎপর্যগত অর্থোপলব্ধির ক্ষমতাহীন হওয়ার কারণেই আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও তদীয় সিলসিলার নামে অহেতুক অপবাদ দিয়ে থাকে।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান।
সমসাময়িক বিখ্যাত মশহুর আলিম ও মায়ায়েখগণ উনাদের দৃষ্টিতে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মাওলানা হায়দার আলী রামপুরী তার “সিয়ানাতুন্নস” গ্রন্থের ৫-৬ পৃষ্ঠায় বলেন, “উনার হিদায়েতের নূর অত্যুজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের ন্যায় দেশ দেশান্তরের মানুষের হৃদয় রাজ্যে উদ্ভাসিত করে তুলেছে।”
মাওলানা আব্দুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “হিন্দু সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী চল্লিশ হাজার মুশরিক হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এসে ইসলাম গ্রহণ করে ও ত্রিশ লক্ষ মুসলমান উনার বাইয়াত হয়।”
“মুকাশিফাতে রহমত” কিতাবে ১৫ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “খোদা তায়ালা উনার অনুকম্পা প্রাপ্ত এই উম্মতের ভিতর কুতুবুল আকতাব, আমীরুল মু’মিনীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাহিদরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।”
নবাব ছিদ্দীক হাসান তার “তিকসার” গ্রন্থে বলেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাদের পথের দিশা প্রদান ও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুখী করার ক্ষেত্রে তিনি মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন উনার উজ্জ্বল নিদর্শন ছিলেন।”
হযরত মাওলানা ওয়াজির উদ দৌলা তার “ওয়াসীলে ওয়াজীর” গ্রন্থে বলেন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তিনটি বৈশিষ্ট্য। (১) বিনয় ন¤্রতা নিয়ে নামায আদায় করা, (২) কুরআন শরীফ-এর ইলম ও তৎপ্রতি আমল এবং (৩) মকবুল দোয়া।
“আরগুমানে আহবাব সফর নামা” কিতাবের ১৩৫ পৃষ্ঠায় মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী ছাহেব বলেন, “হযরত সাইয়্যিদ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি আমার গভীর অনুরাগ ও আস্থা রয়েছে। আমি উনাকে উনার পীর ছাহেব হযরত শাহ আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করি।”
হযরত মাওলানা বেলায়েত আলী আযিমাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “রিসালত দাওয়াত” নামক কিতাবের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, “সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যক্তিত্ব খোদায়ী সাহায্যে পুষ্ট ছিল এবং তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অত্যন্ত মকবুল ছিলেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানুষের অন্তর উনার প্রতি আকৃষ্ট হতো, ফলে তারা উনার মুরীদ হতে বাধ্য হতো।”
মাওলানা আব্দুল মওদুদ ছাহেবের “ওহাবী আন্দোলন” কিতাবের ১৪৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে, “বালাকোটের বিপর্যয় আকস্মিক নয়, অভাবনীয়ও নয়। সাম্প্রতিককালে যেসব প্রামাণ্য ঐতিহাসিক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেসব থেকে নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, ১৮৩১ সালের ৬ই মে (২৪ জিলকদ, ১২৪৬ হিজরী) তারিখে বালাকোটে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত শাহ ইসমাইল শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা কয়েক’শ মুজাহিদ নিয়ে যে মৃত্যু-যজ্ঞের সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা ছিল কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনার মতোই পূর্বনির্দিষ্ট অবশ্যম্ভাবী ঘটনা।”
“মজমুয়া মাকাতিবে শাহ ইসমাঈল” গ্রন্থে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিজের সম্পর্কে বলেন, “আমার কাছে আমীর ও সুলতানের মত দিরহাম ও দীনারের ভান্ডার নেই। আমার ভান্ডার যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উপর নির্ভরতা। আমার তরীক্বা হচ্ছে তাই, যা আমার নানা খোদ “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইখতিয়ার করেছেন। একদিন পেট ভরে শুকনো রুটি খাই আর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে শোকর জানাই। একদিন ভুখা থাকি ও সবর করি।”
“তাওয়ারিখে আজীবা” কিতাবের লিখক আল্লামা জাফর থানেশ্বরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার (তাওয়ারিখে আজীবা) কিতাবের ৪০-৪১ পৃষ্ঠায় আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলেন, “তিনি জাগ্রত অবস্থায়ই “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাভ করতে পারতেন এবং কাশফের শক্তি বলে হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত করতেন। এতে শরীয়তের জটিল মাসয়ালা অবগত হওয়া উনার নিকট সহজ ছিল।”
শাইখুল মুফাসসিরীন হযরত মাওলানা ইসাঈল শহীদ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “সিরাতুল মুস্তাকিম” কিতাবের ১৪৯ থেকে ১৫২ পৃষ্ঠায় বলেন, “আফজালুল আউলিয়া হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কামালতে নুবুওওয়াত তবকার ওলী ছিলেন।”
একখানা “বিজ্ঞাপন রদ” কিতাবে হাফিজে হাদীছ আল্লামা রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আমীরুল মু’মিনীন সম্পর্কে বলেন, “হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হানাফী ছিলেন ও উনার ত্রিশ লক্ষ মুরীদ ছিল। তিনি তরীক্বতে “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারক-এর উপর ছিলেন। (অর্থাৎ তিনি মুহম্মদিউল মাশরাবের ছিলেন) এজন্য নিজ তরীক্বাকে মুহম্মদিয়া তরীক্বা বলতেন। এটা কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, সোহরাওয়ার্দিয়া ইত্যাদি তরীক্বা গুলোর অন্তর্ভুক্ত।
“কারামতে আহম্মদী” কিতাবে বর্ণিত আছে, “হযরত মাওলানা মুহম্মদ ছিদ্দীক আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিদয়াত ধ্বংসকারী, গোমরাহী মিটানেওয়ালা হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন আলিম, কাশফ শক্তি সম্পন্ন উচ্চ দরজার ওলী ছিলেন।”
“তাযকিরাতুর রশীদ” গ্রন্থের লেখক বলেন, “হযরত সাইয়্যিদ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাওহীদ, রিসালত ও ইত্তেবায়ে সুন্নতের উপর বাইয়াত গ্রহণপূর্বক সুন্নত অনুকরণের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি বিদয়াতের ঘোর বিরোধী ছিলেন। এটা নির্মূল করা যেন উনার একমাত্র কাজ।
“নাসায়েহঃ নসীহতে আওয়াল” কিতাবের লেখক বলেন, “মক্কার মুশরিকরা যেমন মীল্লাতে ইব্রাহিমকে বিকৃত করে দিয়েছিল এবং “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সে বিকৃতি বিদূরণপূর্বক সেটাকে সরল রেখায় সমন্বিত করে দিয়েছিলেন ঠিক তেমনিভাবে মুর্খ, ভ-, বিদয়াতীরা শরীয়তে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিকৃত করেদিয়েছিল। আর কালের সুযোগ্য মুজাহিদ ও ইমাম সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই বিকৃতি ও বিদয়াতসমূহ অপসারণ করেছেন, এখন তরীক্বায়ে মুহম্মদীয়া ও ঐ জামায়াতের ভিতর নির্ভেজাল দ্বীন ও ঈমান উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।”
হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি” কিতাবের ৪৩৪ পৃষ্ঠায় বলেন, “আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধন করেন। উনার চারিত্রিক গুণাবলী, পারস্পরিক লেন-দেন ও নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে ত্রয়োদশ বা চতুর্দশ শতাব্দীর নয় বরং ইসলামের সূচনা যুগের সদস্য বলে আত্ম পরিচয় দিতে সমর্থ হয়।”
আল্লামা গোলাম রসূল মেহের উনার “সাওয়ানে আহম্মদী” কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় বলেন, “রায় বেরেলীতে অবস্থানকালীন সৈয়দ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে সমস্ত সুন্নতকে পুনর্জীবিত করেন তার মধ্যে নিজ গৃহে বিধবা বিবাহের প্রচলনই ছিল সবিশেষ উল্লেখ্যযোগ্য।”
“হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ” ও “কারামতে আহম্মদী” কিতাবে বর্ণিত আছে, উনার সম্পর্কে হযরত শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমার নিকট বার বছরে যা না হবে সাইয়্যিদ ছাহেবের নিকট বার দিনে তা হবে।” সুবহানাল্লাহ!
পরিশেষে আমরা বলি, মারিফাত শুন্য বেরেলী মৌলভীরা আর কত মানুষকে ধোকা দিবে? এতদিন তারা খালি মাঠে খুব দৌড়দৌড়ি করেছে। তারপর যখন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে “সত্য সমাগত, মিথ্যা দূরিভূত” পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এর এই আয়াত শরীফ-এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরলেন, তখন বেরেলীরা চেচামেচি ও কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ শুরু করলো। কারণ বহু দিনের চেপে রাখা ইতিহাস আজ আল বাইয়্যিনাত-এর মধ্যে প্রকাশিত হতে চলেছে।
কাজেই এখন আর পিছু টান দেবার উপায় নেই।
-শের-ই বাংগাল মুফতী মুহম্মদ মামসুল আলম, ঢাকা।
বে-পর্দা পীরদের ভ-ামী ঢাকতেই তরজুমান ছবিকে জায়েয বলছে
তাজদীদ মুখপত্র, ওহাবী রেজভীসহ সকল বাতিল ফিরক্বার আতঙ্ক, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীল ভিত্তিক পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে যখন সকল সুন্নী মুসলমানগণ জানতে পারলো যে, রেজভীদের আমদানীকৃত পীরেরা হক্ব নয় বরং ভ-, কারণ তারা বেগানা মহিলাদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে, তাদের গায় ফঁ দেয়, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণই হারাম, শুধু তাই নয়, রেজভীদের আমদানীকৃত পীরেরা ছবি তুলে ও ভি, ডি, ও করে থাকে নির্দ্বিধায়। অথচ ছবি তোলা যে হারাম ও কবীরা গুণাহ তা অসংখ্য ছহীহ হাদীছ, ফিক্বাহ, ও ফতওয়ার কিতাবের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত, এমনকি রেজভীদের কথিত মুরুব্বী রেযা খা ছাহেবও লিখেছে- ছবি তোলা হারাম।
অথচ আশ্চর্য হলেও সত্য যে, রেজভীরা অসংখ্য ছহীহ হাদীছ, ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের বর্ণনা সমূহ এমনকি নিজ মুরুব্বীর ফতওয়া ইত্যাদি সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে আমদানীকৃত পীরদের ভ-ামী ধামা-চাঁপা দিতেই “তরজুমানে” লিখেছে “ইসলামী অনুরাগ বৃদ্ধির জন্যে ছবি তোলা ও তা প্রচারের জন্য পেপার পত্রিকায় দেয়া জায়েয।” (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
আফছুছ, রেজভীদের জন্য শত আফছুছ, তারা নিজ পীরদের ভ-ামী ঢাকতে শেষ পর্যন্ত কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর অপব্যাখ্যা করে বিনা দলীলে ছবি তোলাকে জায়েয বলছে। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারামকে হালাল বা সুস্পষ্ট কুফরী। তারা কুফরী করতে রাজী কিন্তু নিজ পীরদের ভ-ামী স্বীকার করতে রাজী নয়!
মূলতঃ সমস্ত বাতিল ফিরক্বাই নিজ বাতিল আক্বীদা ও আমলকে ছাবেত করার জন্য কুরআন সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনা। যেমন কাট্টা কাফির কাদিয়ানী তার কুফরী ও ভ-ামীকে ঢাকতে এবং তার মিথ্যা নুবুওওয়াতকে ছাবেত করার লক্ষ্যে “খতামুন্নাবিয়্যীন”-এর অপব্যাখ্যা করে লিখেছে, “খতামুন্নাবিয়্যীন”-এর অর্থ হলো “নবীদের মহর।” নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই হক্ব তালাশী সুন্নী মুসলমানদের দায়িত্ব কর্তব্য হলো সময় থাকতে কাদিয়ানীদের দোসর এ সকল ভ- পীর ও তার অনুসারীদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া। নচেৎ তাদের বিষাক্ত ছোবলে সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা ও আমল ক্ষতিগ্রস্থ হবে নিসন্দেহে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে ওহাবী, রেজভীসহ সকল বাতিল ফিরক্বার ধোকা থেকে হিফাজত করুন। (আমীন)
-মুহম্মদ আবু মুসা, চট্টগ্রাম।
“আল্লাহু আকবর” শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে, একদিকে তিন লক্ষ যবন সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য।” ……. পাঠক বলিতে পার ….. কাহার প্রতাপে এই অগণিত যবন সৈন্য বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠল? কাহার বজ্রম-িত হর হর ……. শব্দে তিন লক্ষ ¤েœচ্ছ কন্ঠের আল্লাহু আকবর ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেল।” রেজা রবি ঠাকুর এই ‘কাহার’ পরিচয় দিয়েছে তার রীতিমত নভেল ছোটগল্পে কাঞ্চির সেনাপতি লানত সিংহকে উল্লেখ করে। আবার দূরাশা গল্পে সে চিত্রিত করেছে যে, একজন মুসলিম নারী হিন্দু ধর্ম, ব্রাহ্মবাদ তথা ব্রাহ্মণের আদর্শের প্রতি কি অপরিসীম শ্রদ্ধাবোধ, ব্রাহ্মণের হিন্দু আর্শীবাদ পাওয়ার কি অব্যক্ত আকুলতা, হিন্দু হওয়ার জন্য কি দুর্নিবার আকাঙ্খা।
পাঠক! রবি ঠাকুর হিন্দু ব্রাহ্মবাদী ধর্মে উদ্দীপিত হয়ে তা গ্রহণের জন্য মুসলিম নারীর যে ব্যাকুলকাঙ্খা চিত্রিত করেছে তা সে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নিতান্ত অপ্রতুল, অস্বাভাবিক এবং অস্বীকার্য হলেও নিজস্ব আদর্শবোধের গন্ডীর আবহে ও অধিক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ তাই চিত্রিত করেছে। অতএব সত্যের খাতিরে যদি তা অসত্য, অগ্রহণীয় হয় ঠিক একই ধারাবাহিকতায় আহমদ রেজা খারা সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্ষেত্রে নিজস্ব মনগড়া অনেক কিতাব লিখে এবং তার বিরুদ্ধবাদীরা তার সম্বন্ধে যেসব অসত্য মন্তব্য প্রকাশ করেছে সেগুলো অন্যায়ভাবে তুলে দিয়ে যে খোঁড়া যুক্তির ঢেউ তুলেছে ও নির্বিবাদে বর্জনীয়, অগ্রহণীয়।
যেমন, তরজুমান জুলাই-আগস্ট/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় যুক্তি দেয়া হয়েছে, শেখ মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব (কিতাবের নাম) যার বিশুদ্ধসারী আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বাজ-যা বাদশা ফয়সালের নির্দেশক্রমে মক্কা শরীফ-এর সরকারী প্রেস হতে মুদ্রিত। উক্ত কিতাবের ৭৮ পৃষ্ঠায় লেখা আছে “হিন্দু স্থানের বিভিন্ন স্থানে ওহাবী দাওয়াত সৈয়দ আহমদ নামী একজন হিন্দুস্থানীয় হাজীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঐ ব্যক্তি ১৮১৬ খ্রি/১৮২১ খ্রিস্টাব্দে মক্কা শরীফ-এ হজ্জ করতে গেলে ওহাবী আক্বীদা গ্রহণ করে শক্ত মুসলমান হয়ে যান। এবং ১৮২০/১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে স্বীয় দেশে ক্রমে ঐ ওহাবীরাও প্রচার আরম্ভ করেন।
পাঠক! সূক্ষ্মভাবে ফিকির করলে এখানে কয়েকটি জিনিস ধরা পড়ে। প্রথমত: এ কিতাবটি কোন নিরপেক্ষ অনুসরণীয় মুহাক্কিক আলিমের দ্বারা রচিত নয়। বরং এটি ঘৃণীত ওহাবী সরকারের মদদপুষ্টে লেখা। সুতরাং ওহাবীরা তাদের স্বার্থে আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তাদের লোক বলে প্রচার করে দল ভারী দেখাতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা কি দেখাতে পারবে যে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলমে তাছাউফ, মাজার শরীফ, সুন্নাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধে কিছু বলেছেন।
দ্বিতীয়তঃ উনার হজ্জ পালনের সাল দেয়া হয়েছে ১৮১৬/১৮২১ সাল এবং দেশে ফেরার সময় দেয়া হয়েছে ১৮২০/১৮২৪ সাল। অর্থাৎ বর্ণনাকারী এখানে গভীর সংশয় সন্দেহে রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্ণনাকারী এখানে গমণের ক্ষেত্রে ২টি সাল বর্ণনা করেছে এবং ফেরার ক্ষেত্রেও ২টি সাল বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ গমণের ক্ষেত্রে দুটির যে কোন একটি এবং ফেরার ক্ষেত্রেও দুটির যে কোন একটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে গমণের বেলায় যদি দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করা হয় আর ফেরার ক্ষেত্রে যদি প্রথম মতটি গ্রহণ করা হয় তাহলে দাঁড়ায় ১৮২১ সালে হজ্জ করতে গিয়ে ১৮২০ সালে হজ্জ থেকে ফিরেন। মূলত, মিথ্যা তথ্য সাজাতে গিয়ে তার বিশ্লেষণটা যে এতটা অবাস্তব ও ধোকাপূর্ণ হয়ে উঠবে তা মিথ্যারচনাকারীরা তথা তরজুমান গং বুঝে উঠতে পারেনি।
তৃতীয়তঃ বলা হয়েছে “হজ্জ করতে গেলে” ওহাবী আক্বীদা গ্রহণ করে শক্ত মুসলমান হয়ে যান। দেশে এসে ….. ঐ ওহাবীয়াত প্রচার করেন।”
পাঠক! এই আপ্তবাক্যেও রয়েছে গরমিল। কারণ জিনিষটা সত্য হলে বাক্যটা হত “….. ওহাবী আক্বীদা গ্রহণ করে শক্ত ওহাবী হয়ে যান। …. দেশে এসে ঐ ওহাবীয়াত প্রচার করেন। অথবা …. ওহাবী আক্বীদা গ্রহণ করে তিনি শক্ত মুসলমান হয়ে যান। …. দেশে এসে ঐ সহীহ ইসলাম প্রচার করেন। কিন্তু স্পষ্টতঃ ভাষার গরমিল এটাই প্রমাণ করে যে, তরজুমান গং আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা শব্দ যোগ করতে গিয়েই তারা এরূপ তালযোগল পাকিয়ে ফেলেছে।
চতুর্থতঃ তারা লিখেছে, “…. বিভিন্ন শহরে যুদ্ধ করে একটি ওহাবী হুকুমতও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটা ইংরেজদের কারণে বেশিদিন টিকেনি। কিন্তু ওহাবী আন্দোলন তার খলীফাদের মাধ্যমে এখনও চলছে।”
পাঠক! তরজুমান গং এর উপরোক্ত বক্তব্যে দুটি জিনিষ ছাবেত হয়। (ক) তরজুমান গংদের তথ্যানুযায়ী, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতিষ্ঠিত হুকুমতকে ইংরেজরা নষ্ট করে দিয়েছিল। অর্থাৎ আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হক্ব পথে ছিলেন। আর কাফির, খ্রিস্টান, ইংরেজরা উনাকে বাধা দিয়েছিল, জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে উনার প্রতিষ্ঠিত হুকুমতকে নষ্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু কথা হল, জুলাই তরজুমানের বরাতে যদি এই বক্তব্য হয় তবে অক্টোবর/২০০০ এ তরজুমানের শেখ মোহম্মদ একরাম-এর মওজে কাওসার পৃষ্ঠা-১৮, আল হাইয়্যাত বাদাল যামাত মাওলানা ফজল হোসাইন বিহারী-২৩ পৃষ্ঠা, আবুল হাসান আলী নদভী সিরাতে ইমাম সৈয়দ আহমদ শহীদ, মাওলানা মুহম্মদ জাফর থানেশ্বরী, সাওয়ানেহে আহমদী ইত্যাদি মনগড়া কিতাব থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলেছে যে, “সৈয়দ ছাহেব হজ্জ থেকে ফিরার পর শিখদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেন, এ পর্যায়ে ইংরেজদের শাসন কালে জিহাদের জন্য চাঁদা এবং লোক সংগ্রহের জন্য সর্বত্র ঘুরে বেড়ালেন কিন্তু ইংরেজরা তার কাজে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।”
পাঠক! এখন খোদ আহমদ রেজা খানী তথা তরজুমান গংদের নিকট প্রশ্ন যে, কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হবে? জুলাই/২০০০ এর তরজুমানের বক্তব্য না অক্টোবর/২০০০ এর বক্তব্য। মূলত, মনগড়া, মিথ্যা মন্তব্যের কিতাব তৈরি করা রেযাখানীদের মজ্জাগত অভ্যাস। এক মিথ্যাকে ঢাকতে গিয়ে তাদের রচনা করতে হয় শত মিথ্যা, আর শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় নিজেদেরই মিথ্যার জালে। এক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
পাঠক! দ্বিতীয়তঃ জুলাই তরজুমান এর বক্তব্যে অপর বিষয় ছাবেত করা যায়। সেটি হল যে, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ওহাবী মতবাদ চালু করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! আর ওহাবী মতবাদ নাপছন্দকারী কিন্তু সুন্নীয়ত পছন্দকারী ও প্রতিষ্ঠাকারী খ্রিস্টান, ইংরেজরা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি তিন প্রতিষ্ঠিত ওহাবীয়ত (?) নাউযুবিল্লাহ! নষ্ট করে সুন্নিয়ত প্রতিষ্ঠা করেছিল।
মূলত, ইংরেজদের প্রতি এই সুধারণাই যদি হয় তরজুমান গং তথা আহমদ রেজা খাদের তবে আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নয় বরং তরজুমান গং তথা আহমদ রেজা খাই ইংরেজদের খাঁটি দোসর।
-মুফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।
বেরেলীদের লিখিত কিতাবাদীতে মুজাদ্দিদের তালিকায় হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক বাদ দেয়া হয়েছে
অবশেষে রেজভী বেরেলীরা নিজেরাই নিজেদের গায়ে চুন-কালি মেখে নিজেদের সত্যিকার কুৎসিত কদাকার চেহারার মুখোশ উন্মোচন করলো। এতদিন পরে তাদের আসল স্বরূপ ধরা পড়ে গেছে। সারাজীবন বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছানা ছিফত বর্ণনা করে অবশেষে তাদের লিখিত কিতাবাদি হতে হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক পর্যন্ত বাদ দিয়েছে। অর্থাৎ তাদের কথিত অন্ধ ইমামের প্রশংসায় তারা এমন বিভোর যে, শেষ পর্যন্ত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথেও তারা চরম বেয়াদবী করে উনার পবিত্র নাম মুবারক পর্যন্ত নিতে ভুলে গিয়েছে।
নি¤েœ আমি ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরেলী থেকে প্রকাশিত বদরুদ্দীন আহমদের লেখা উর্দু “সাওয়ানেহ আলা হযরত” কিতাবের ১২৮, ১২৯, ১৩০, ১৩১ পৃষ্ঠায় মুজাদ্দিদের যে তালিকা লিপিবদ্ধ করেছে তা তুলে ধরলাম। যেমন, উক্ত কিতাবে লিখেছে, “প্রথম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি।
দ্বিতীয় শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও সাইয়্যিদুনা ইমাম হাসান বিন জায়েদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
তৃতীয় শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত কাজী আবুল আব্বাস শাতরীহ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং মুহম্মদ বিন জরীর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
চতুর্থ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম আবূ বকর বিন বাকিল্লানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম আবূ হামেদ আসফারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
পঞ্চম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ কাজী ফখরুদ্দীন হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম মুহম্মদ বিন গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
ষষ্ঠ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
সপ্তম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম তাকিউদ্দীন দাকিকুল ঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
অষ্টম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ফখরুদ্দীন ইরাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আল্লামা শামসুদ্দীন যাজরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং সিরাজুদ্দীন বালকিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
নবম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আল্লামা শামছুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
দশম শতাব্দীর মুজাদ্দি আল্লামা শিহাবুদ্দীন রামাল্লী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
একাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমামে রব্বানী শায়খ আহমদ সারহিন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আল্লামা মীর আব্দুল ওয়াহেদ বলগেরামী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
দ্বাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাহেন শাহে আবুল মুজাফফর মুহিউদ্দীন আলমগীর আওরঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সাইয়্যিদ কালিমুল্লাহ চিশতী দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শায়খ গোলাম আলী নকশবন্দী ও কাজী মুহিব্বুল্লাহ বিহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ জলিলুল কদর মুজাদ্দিদ আলা হযরত মুহম্মদ আহমদ রেজা খান বেরেলী সুন্নী। (আসতাগফিরুল্লাহ)
পাঠকবর্গ! লক্ষ্য করুন, বেরেলীদের মুজাদ্দিদের এই তালিকায় শাহেনশাহে বিলায়েত গাউসুল আযম, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক পর্যন্ত নেই।
আমরা বলি, গাউসুল আযম, বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যদি মুজাদ্দিদের তালিকা হতে বাদ পড়ে যান তাহলে কে আর মুজাদ্দিদের তালিকায় থাকবে? রেজভী, বেরেলীরা সারাজীবন হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রশংসা করে শেষ পর্যন্ত উনাদের নাম পর্যন্ত মুজাদ্দিদের তালিকা হতে বাদ দিয়ে দিয়েছে। এতে তাদের হাক্বিক্বত উন্মোচিত হয়েছে এবং তারা নিজেরাই প্রমাণ করলো, তারা চরম পর্যায়ের মুনাফিক। কারণ মুনাফিকের কথা ও কাজের মধ্যে কোন মিল নেই। তাদের অন্তরে থাকে একটা এবং জবান দিয়ে বের হয় আর একটা। এই জন্য কথায় বলে, “পাত্রে আছে যাহা, ঢালিলে পড়িবে তাহা।”
-মুফতী মুহম্মদ শামছুদ্দীন, ভৈরব।
আহলে বাইত তথা আওলাদে রসূলগণ উনাদের ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
النجوم امان لاهل السماء واهل بيتى امان لاهل الارض فاذا ذهب اهل بيتى ذهب اهل الارض.
অর্থ: “তারকারাজী আসমানের নিরাপত্তা দানকারী আর আমার বংশধর বা আওলাদগণ জমীনের নিরাপত্তা দানকারী। সুতরাং যখন আমার আহলে বাইত বা আওলাদগণ (দুনিয়া থেকে) চলে যাবেন তখন দুনিয়াবাসী সকলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” (আহমদ, মিরকাত, হাশিয়ায়ে মিশকাত/৫৭৩)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ বা বংশধরগণ উনাদেরকে বিশ্ববাসীর জন্য নিরাপত্তা দানকারী ও হিফাযতকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অথচ ইংরেজদের দালাল, শিয়া ও কাদিয়ানীদের দোসর রেজা খা ও তার মূর্খ এবং অন্ধ পূজারীরা সেই আওলাদে রসূল, মুজাহিদে আযম, ছহেবে ইলমুল্লাদুন্নী হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নানা প্রকার গালি-গালাজ, অপবাদ ও কুফরীর ফতওয়া দিয়ে নিজেদের কুফরী ও গোমরাহীর প্রকাশ ঘটিয়েছে।
-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ রুহুল আমীন, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
“যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনগণ উনাদের অভিভাবক। তিনি উনাদেরকে অন্ধকার (কুফরী) হতে আলোর (ঈমানের) দিকে নিয়ে যান।” (সূরা বাক্বারা/২৫৭)
আর তথাকথিত সুন্নীদের ইমাম আহমদ রেজা খা। সে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, শাইখুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুল মুজতাহিদীন, সুলতান আরিফীন, আল্লামা, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কুফরী ফতওয়া প্রদান করে হিদায়েত হতে বিচ্যূত হয়ে নিজেই কুফরীর মধ্যে হাবু-ডুবু খেয়েছে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ হতে কোন সাহায্য পায়নি। কারণ সাহায্য পাওয়ার শর্ত হচ্ছে মু’মিন হওয়া তথা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে গভীর নিসবত বা সম্পর্ক থাকা। যার জন্য প্রয়োজন ইলমে তাছাউফের দীক্ষা গ্রহণ, কালব বা মনের পরিচ্ছন্নতা। কিন্তু আহমদ রেজা খা? সে ছিল তাছাউফ শুন্য, চরম, ফাসিক, প্রতারক, ধোকাবাজ আউলিয়ায়ে কিরাম দিদ্বেষী। আর যখন কেউ আউলিয়ায়ে কিরাম বিদ্বেষী হয় তখন তার ধ্বংস অনিবার্য।
এ প্রসঙ্গে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যে আমার ওলীর সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে আমি উনার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করি।” (বুখারী শরীফ)
আহমদ রেজা খার আউলিয়ায়ে কিরাম বিদ্বেষের সীমা এতোটাই বিস্তৃত ছিল যে, তৎকালীন কোন হক্কানী আলিম তাকে সমর্থন করতো না। এমনকি তাকে ইলম শিক্ষা দেয়াও সমীচীন মনে করতো না।
এ প্রসঙ্গে “মুতালিয়ায়ে বেরীলিবিয়াত” কিতাবের ৪/৪৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “কথিত আলা হযরত মাওলানা আব্দুল হক খায়রাবাদী ছাহেবের নিকট “ইলমে মানতিক” শিক্ষা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলো। কিন্তু তাকে পড়াতে তিনি রাজী হননি। কেননা আহমদ রেজা খা তার (ঘৃণ্য) মতের খেলাফ আলিম-উলামাগণ উনাদের প্রতি কঠিন ভাষা ব্যবহার করতো। অর্থাৎ প্রতিপক্ষ হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ উনাদেরকে কাফির, ফাসিক, ওহাবী, বিদয়াতী ও গোমরাহ বলে সম্বোধন করতো।”
-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী।
এরপর এই মৌলভী জাফর থানেশ্বরী প্রণীত সাওয়ানেহ আহমদী কিতাবের ৮৫ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, “সৈয়দ সাহেব একদিন স্বপ্নযোগে প্রিয়নবী সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ফাতিমাতুজ্জুহরা আলাইহাস সালাম উনাকে স্বপ্নে দেখলেন হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনাকে নিজ হাতে গোসল দিলেন, নিজ হাতে সৈয়দ সাহেবকে উত্তম ভাবে যেভাবে পিতামাতা স্বীয় সন্তানকে গোসল দিয়ে থাকে। আর ফাতেমা আলাইহাস সালাম উনাকে উত্তম পোষাক পরিধান করালেন।
উপরোক্ত স্বপ্নের বর্ণনায় নিম্নবর্নিত ধারণার সৃষ্টির হয়।
১. সৈয়দ সাহেবের মুরীদরা এ স্বপ্নকে সত্য মনে করে যাকে এবং সৈয়দ সাহেবের বুজুর্গীর সমর্থনে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে।
২. সৈয়দ সাহেব স্বীয় বুজুর্গী প্রমাণে আপন মুরীদদের সামনে এ ধরণের উদ্ভট স্বপ্নের কথা উপস্থাপনে লজ্জাবোধ করেন নি।
মূলকথা হলো, সৈয়দ সাহেব স্বীয় বুজুর্গী ও উচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। এ কারণে মুরীদদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি যেহেতু গোসল দিয়েছেন আর হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পোশাক পরিধান করিয়েছেন এর দ্বারা তার বুজুর্গী বৃদ্ধি পাবে, মুরীদের ভক্তি-বিশ্বাসও বাড়বে। এ ধারণায় লজ্জাকেও হার মানিয়েছে।”
এর জবাব হলো- হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, মু’মিন বান্দাদের স্বপ্ন নুবুওওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। ওলী, গাউস, কুতুব, আবদালগণ যে খালিছ খাঁটি মু’মিন বান্দা এতে কারো কোন সন্দেহ নেই। উনারা স্বপ্নযোগে এমনকি জাগ্রত অবস্থায়ও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি ও নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, ফেরেশতা, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, উম্মাহাতুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনাদের নিকট থেকে অসংখ্য অগণিত নিয়ামত লাভ করে থাকেন। উনাদের পবিত্র জীবন পাঠ করলে এ ধরণের শত-সহ¯্র ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। আর স্বপ্ন প্রকাশ করা কোন তাকাব্বুরী বা অহংকারের বিষয় নয়। বরং এটা একটি খাছ সুন্নতি আমল। কেননা দু’জাহানের সর্দার সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পর্যন্ত নিজের স্বপ্ন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
যেমন “কাশফুল মাহজুব” কিতাবের (উর্দু অনুবাদ) ২১০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “হযরত আবূ আব্দুল্লাহ ইবনুল জাল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহি মদীনা শরীফ-এ গিয়ে স্বপ্নে সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হতে একটি রুটি পেয়েছেন। তিনি উক্ত রুটি স্বপ্নেই অর্ধেক খেয়ে ফেলেন এবং জাগ্রত হওয়ার পর দেখেন অবশিষ্ট রুটির অংশ উনার হাতেই রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
এই ঘটনা তিনি উনার মুরীদ ও সাথীদের বলেছেন।
“সিরাতুন নবী আজ ভেসালুন নবী” কিতাবের ২২২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত কাশেম শরীফ নামক এক বুযুর্গ (একদা) ক্ষুধার্ত ছিলেন। খাদ্যের জন্য তিনি রসূল সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবারে ফরিয়াদ করে নিদ্রিত হয়ে পড়েন। স্বপ্নে দেখেন, সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুধে পরিপূর্ণ একটি পেয়ালা উনাকে দান করলেন। অতপর তিন সেই দুধ পান করে তৃপ্তি লাভ করলেন। জাগ্রত হওয়ার পর উক্ত ঘটনা তিনি অন্যান্য লোকদের নিকট বর্ণনা করেছেন।”
উক্ত স্বপ্ন বর্ণনা করে শায়খ কি নিজের তাকাব্বুরী প্রকাশ করেছেন?
“হালাতে মাশায়েখে নকশবন্দীয়া” কিতাবের ২য় খ-ের ৪০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একদিন আমার হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু উনার জিয়ারত নসীব হলো। তিনি আমাকে বললেন, আমি আপনাকে আসমানের ইলমসমূহ শিক্ষা দিতে এসেছি। এ স্বপ্ন তিনি উনার খলীফা মুরীদানদের বলেছেন।” নিজের কামালত, বুযুর্গী বৃদ্ধি করার জন্য কি তিনি এই স্বপ্ন নিজের মুরীদানদের বলেছেন?
উক্ত কিতাবের ৫৪ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, “হযরত খাজা মুহম্মদ মা’ছূম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মদীনা শরীফ থাকাকালে জান্নাতুল বাক্বীতে অবস্থিত আম্মাজান হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ও হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনাদের জিয়ারত লাভে ধন্য হন। তিনি উনাদের দু’জন হতে প্রচুর বাতেনী নিয়ামত লাভ করেছেন।” এ ঘটনা তিনি উনার মুরীদানদের নিকট প্রকাশ করেছেন।
“সিরাতুন নবী আজ ভেসালুন নবী” কিতাবের ১৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পয়ত্রিশ বার জাগ্রত অবস্থায় সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিয়ারত লাভে সৌভাগ্যবান হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! তিনি এ ঘটনা তার সঙ্গি-সাথীদের বলেছেন।
“নিয়মাতুল উজমা” কিতাবের ২য় খ-, ৭১-৭২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “হযরত ক্বারী হাশেম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বপ্নে নবী সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিয়ারত লাভ করলেন। তিনি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সেই হাশিম, যে নিজের আওয়াজ দ্বারা কুরআনকে সৌন্দর্যা দিয়েছে? অর্থাৎ তুমি সুন্দর ইলহান দ্বারা পবিত্র কুরআন পাঠ কর? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তখন সাইয়্যিদু মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এভাবে দোয়া করলেন, “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে উত্তম জাযা দান করুন।”
“ফয়জুল বারী” ১ম খ-ের ২০৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল ফাওজুল কবীর” গ্রন্থে লিখেছেন, “আমি কুরআন মজীদ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রূহ মুবারক থেকে পাঠ করেছি।” সুবহানাল্লাহ! হযরত শাহ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কি উনার মুরীদদের উনার প্রতি ভক্তি বিশ্বাস বাঁড়ানোর জন্য এ স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন? নাউযুবিল্লাহ!
আমরা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে বেরেলীদের বদ ও কুফরীমূলক আক্বীদা থেকে শত সহ¯্রবার আশ্রয় চাই।
-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ নুরুল আমীন।
সর্ব প্রথম এই মিথ্যাবাদী মৌলভীর লিখার প্রতিবাদে বলা যায় আপনাদের তথা কথিত বেরেলীর মৌলভীরা সারা জীবন আলিমদের কিতাবের ইবারত কাট ছাট করে তাদের কাফির ফতওয়া দিয়েছে। হযরত ইসমাঈল শহীদ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাকবিয়াতুর ঈমান” কিতাবের মূল ইবারত চুরি করে আপনাদের মুরুব্বীরা নিজস্ব অভিমত ঢুকিয়ে উনাকে ওহাবী, কাফির মালউন, ইয়াজীদ, আবু জাহিল বলতে পর্যন্ত দ্বিধাবোধ করেনি। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!) অথচ আপনাদের চৌদ্দপুরুষের হিদায়েতের জন্য তিনি সারা জীবন ওয়াজ নসীহত করেছেন এবং আপনাদের মা-বোনদের ইজ্জত-আব্রু, সম্ভ্রম রক্ষার জন্য তিনি জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আপনাদের উচিত ছিল শহীদে মিল্লাত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করা। কিন্তু তা না করে অর্থাৎ নুন খেয়ে গুণ না গেয়ে এখন আপনারা নিমক হারামীর পরিচয় দিচ্ছেন। এই হচ্ছে আপনাদের স্বভাব।
দ্বিতীয়তঃ আপনাদেরকে আর ইসলাম পূর্ব মক্কার কাফির-মুশরিকদেরকে এক কাতারে শামিল করলেও বোধ হয় অত্যুক্তি হবে না। কেননা ইসলাম পূর্ব মক্কার কাফিরদের আশা ছিল যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের লাত, ইজ্জা, হোবল, মূর্তিকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও মেনে নেন তবে তারাও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বীন উনাকে মেনে নিবে। অবশেষে কাফির-মুশরিকদের প্রতিবাদে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা কাফিরুন নাযিল করলেন।
তৃতীয়তঃ আপনারা বলেছেন, রাজারবাগের পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি দেওবন্দ মাদরাসায় পড়া শোনা করেছেন এবং তিনি দেওবন্দী ওহাবী আলিমদের দ্বারা প্রভাবিত।
এর উত্তরে আপনাদেরকে ‘কাজযাবে আকবর’ বা ‘চরম মিথ্যাবাদী’ বলতে হয়। এটা যে আপনাদের ব্যক্তিগত আক্রোশ তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ আপনারাও ভাল করে জানেন হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মূল নীতিই হচ্ছে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য মুহব্বত, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিদ্বেষ ……. আর এই নীতি অনুসারে উনার মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকা (যা একমাত্র কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ, ইজমা-ক্বিয়াস ভিত্তিক) এর বহু ফতওয়া, মাসয়ালা-মাসায়েল, দেওবন্দী আলিমদের বিপক্ষে চলে গিয়েছে। যার দরুন আপনাদের মত দেওবন্দী অনুসারী মৌলভীগণও একসময় রাজারবাগের পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে অশালীন কটুক্তি করেছিল। এখন আপনারাই বলুন, রাজারবাগের পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি দেওবন্দী, ওহাবীদের অনুসারী না আপনারা?
চতুর্থতঃ বলতে হয় আপনাদের ভুলত্রুটি কেউ ধরিয়ে দিলেই আপনারা তৎক্ষনাত তা মিথ্যা, বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন। অর্থাৎ আপনারা কোন অবস্থাতেই আপনাদের তথাকথিত রেযা খার ভুলত্রুটি স্বীকার করতে রাজী নন। এমন কি আপনাদের আর এক মৌলভী ইদ্রীস রেজভী তো এই কথা পর্যন্ত লিখেছে যে, আলা হযরত ও তার অনুসারীদের দ্বারা যদি এই ধরণের কোন কথা আপনারা দেখাতে পারেন তবে আমরা আপনাদের পুরস্কার দিব এবং হাজার বার তওবা করবো।
এখন আসুন দেখা যাক আপনাদের তথাকথিত ইমাম রেযা খা মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে উক্ত কথা বলেছে কি-না এবং তা কোন কিতাবের কত পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।
যেমন, লাহোর হতে প্রকাশিত হযরতুল আল্লামা ইহসান ইলাহী জহির ছাহেব উনার সাড়াজাগানো আরবী গ্রন্থ “আল বেরেলীবিয়াত আকাইয়িদ ও তারীখ” কিতাবের ৪৫ পৃষ্ঠায় আহমদ রেযা খার ওসায়া কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে তার অন্তিম মুহুর্তের কথা গুলো লিখেছেন এই ভাবে,
ثمسكوا بدينى ومذهبى الذى هو ظاهر من كتبى- تمسكوابه واستقيموا عليه لانه فرض أهم من جميع الفروض- (وصايا شريف- ১০- البريلوية- ৪৫)
অর্থ: “তোমরা আমার দ্বীন এবং মাযহাবকে ধারণ কর, যা আমার কিতাবসমূহে স্পষ্ট বর্ণিত আছে। তোমরা তা আকড়ে ধর এবং এর উপর দৃঢ় থাক। কেননা তা আমার মাযহাবের অনুসরণ করা সকল ফরযসমূহের মধ্যে অন্যতম ফরয।”
এখন বলুন, এই লিখা বা কথাগুলো কি আপনাদের তথা কথিত আলা হযরতের “ওসায়া” কিতাবের অন্তিম মুহুর্তের নয়? নাকি আমরা অহেতুক মিথ্যা বলছি? যদি আপনারা ওয়াদা পালনকারী ও হকপন্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উচিত হবে রাজারবাগ শরীফ-এ পুরস্কার নিয়ে আসা এবং হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট খালিছভাবে তওবা করা। অন্যথায় আমরা ভাববো আপনারা চরম পর্যায়ের ওয়াদা ভঙ্গকারী।
-মুহম্মদ মুনিরুল ইসলাম (মুনির), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মূলতঃ ব্রিটিশ ভারতে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, উচ্চ-নীচ প্রায় সব লোকেই এটা পরিস্কার বুঝতে পেরেছিলো যে, ব্রিটিশ সরকারের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হলো, মুসলমানদের ধর্ম এবং আচারে হস্তক্ষেপ করা। সকল মুসলিমকে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করা। তাদের কৃষ্টি কালচারে অভ্যস্ত করা।
আর সচেতন মুসলমানরা এটাও বুঝতে সক্ষম হয়েছিলো যে, ব্রিটশ গভর্নমেন্টের নির্দেশাবলী কৌশলগত ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তারা আপন করণীয় কাজ ধীরে ধীরে করে থাকে। তারা আকস্মিক এবং বল-প্রয়োগ করেও ধর্মান্তরিত করতে চায় না। কিন্তু যখনই সুযোগ পায় তখনই ধর্মে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছাড়ে না।
বাস্তবে তাই হয়েছে। ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট প্রকাশ্যে এবং বল-প্রয়োগে তেমনভাবে ধর্মান্তরিত করেনি বটে কিন্তু আরবী এবং ফার্সী জ্ঞান ও ভাষাকে ধ্বংস করে মুসলমানদের দরিদ্র ও পরমুখাপেক্ষী করে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বানিয়ে মুসলমানদের বিশেষ ক্ষতি সাধন করেছে। এছাড়া তৎকালীন প্রেক্ষাপটে যার! ইসলামের ধারক-বাহক ছিলেন তাদের সম্পর্কে অপবাদ লেপন করে বিশেষতঃ ব্রিটিশ ভারতে ইসলামের প্রাণ পুরুষ, মুজাহিদে আযম, আমীরুল মু’মিনীন, শহীদের আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে ওহাবী ইত্যকার নানা অপবাদ প্রয়োগে দ্বীন ইসলাম, ইসলামী ঐতিহ্য ও জজবাধারী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেক থেকে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা।
এ পর্যায়ে ১৮৩৭ সালের দূর্ভিক্ষে এতিম বালকদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। এ প্রসঙ্গে স্যার সৈয়দ আহমদ তার “ভারতে বিদ্রোহের কারণ” পুস্তকে বলেন, “আমি সত্যিই বলছি, শ্রদ্ধেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার যখনই দেশের কোন অংশ অধিকার করতেন তখন ভারতের প্রজাদের মনে পড়তো শোকের করাল ছায়া।
আমি নিশ্চিতভাবে বলছি তাদের দুশ্চিন্তার একমাত্র কারণ ছিল এই যে, তারা ভাবতো যতই আমাদের গভর্নমেন্টের ক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং যতই তারা দুশমন এবং প্রতিবেশিদের ভয় থেকে নিরাপদ হবে ততই আমাদের ধর্ম এবং আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করতে সাহস করবেন।
……….. ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের ভারত শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে খ্রিস্ট ধর্মীয় আলোচনা কমই হতো। কিন্তু ক্রমে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছে।”
স্যার সৈয়দ আহমদ আরো বলেন, “প্রকৃত পক্ষেও অধিকাংশ পদস্থ কর্মচারী এবং সামরিক অফিসারগণ তাদের অধীন লোকদের সাথে ধর্মীয় আলোচনা আরম্ভ করছিলেন। কোন কোন ছাহেব কর্মচারীদেরকে তার বাসায় এসে পাদরী ছাহেবদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার আদেশ দিতেন এবং তা পালিতও হতো। মোটকথা ব্যাপারটা এত জোরালো হয়ে উঠলো যে, কোন ব্যক্তিই নিশ্চিতভাবে বলতে পারতনা যে, গভর্নমেন্টের আমলে তাদের এবং সন্তান-সন্ততির ধর্ম অটুট থাকবে কি-না?
স্যার সৈয়দ আহমদ আরো উল্লেখ করেন, “পাদরী ছাহেবেদের ধর্মলোচনা একটি নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। প্রশ্নোত্তর রচিত ধর্মীয় পুস্তকের মুদ্রণ এবং বিতরণ আরম্ভ হলো। তাতে অন্য ধর্মের বুযুর্গ লোকদের সম্পর্কে মানক্ষুন্নকর মন্তব্য প্রকাশ করা হতো।
…….. পাদরী ছাহেবরা ধর্মালোচনায় কেবল তাদের পবিত্র “ঈনজীলের” আলোচনা করেই ক্ষান্ত হত তা নয় বরং তারা পর ধর্মের বিশেষ করে মুসলমান বুযুর্গদের এবং পবিত্র স্থানসমূহের নাম নেহাত হীন শব্দযোগে উচ্চারণ করত।”
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, আমীরুল মু’মিনীন, মর্দে মুজাহিদ, শহীদে আযম, তের শত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে যাবতীয় অপপ্রচার ছিল ইংরেজদের সেই কুৎসিত নীতিরই কূট ফসল। আর আহমকী এবং জেহালতিই কেবল নয় বরং প্রবল নফসানিয়াত তথা নিজস্ব নাম-ধাম কামাইয়ের কামনায় এদেশের আপামর মুসলিম মিল্লাতের মানসপটে লালন করা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, সুন্নতের পুনঃপ্রচলনকারী, শিরক-বিদয়াত অবলুপ্তকারী, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্পূর্ণ অন্যায় অপপ্রচার দ্বারা ওহাবী আখ্যা দানের জন্য নিজের সততা ও ঈমানকে বিসর্জন দিয়ে ইংরেজদের সে হীন স্বার্থ ষোল আনা পূরণ করতে নিবেদিত হয়েছিল আহমদ রেযা খা।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান।
তথ্যটি অবশ্য তরজুমান গংই প্রকাশ করেছে। ১৯৯৭ সালে তাদের ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংখ্যার ১১৫ পৃষ্ঠায় তারা উদ্বৃত করেছে, “ইমাম আহমদ রেযা খান উনার বেছাল প্রাপ্তির ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট আগে (২৫ শে সফর ১৩৪০ হিজরী/১৯২১ সন) অসিয়ত করেছিলেন যে, উনার বেছাল প্রাপ্তির স্থান বারান্দা হতে সকল ছবি সম্বলিত কার্ড, মুদ্রা ও খাম অপসারণ করতে হবে” (হাসনাইন রেযা খাঁন প্রণীত ওয়াসায়া শরীফ, লাহোর, পৃষ্ঠা-৮) ছবি সম্বলিত চিঠির খাম, কার্ড ও মুদ্রা ইমাম ছাহেব সহ্যই করতে পারতেন না। উনার অসিয়তনামার লেখক মাওলানা হাসনাইনি রেযা লিখেছেন-
“যখন দু’টো বাজার চার মিনিট বাকী, তখন তিনি সময় কত হয়েছে তা জিজ্ঞেস করলেন। তিনি দেওয়াল ঘড়ি উনার সামনে খোলা রাখতে বললেন। অতপর হঠাৎ তিনি বললেন- ‘ছবি সরিয়ে ফেলো’। তিনি কার্ড, খাম, টাকা-পয়সাগুলো নিজের কাছে রাখতে চাননি।” (প্রাগুক্ত ওয়াসায়া শরীফ, পৃষ্ঠা-৮)
পাঠক! মূলত, উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জীবনের শেষ মুহুর্তে হলেও আহমদ রেযা খা ছবি তোলা নাজায়েয হারাম সেই কথাই ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। যা মাসিক আল বাইয়্যিনাতে ৩৫৩টি দলীল দ্বারা অকাট্যভাবে ছাবেত করা হয়েছে।
অতএব, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমান তাহের শাহ তথা তরজুমান গং আসলে আহমদ রেযা খার হাক্বীক্বী ভক্ত না, তার অনুসারী না, মুহব্বতকারী না, তারা তার আদর্শ ও আমলকে বিশ্বাস করে না। তারা নাকেছ আহমদ রেযা খার ভক্ত দাবী করে তার নামে ব্যবসা করে ফায়দা লুটে। আর যদি তারা নিজেদের আহমদ রেযা খার ভক্ত বলে দাবী করে তাহলে আহমদ রেযা খার ভাষায়ই তারা নিজেদের সাব্যস্ত করে ভ-, গোমরাহ হিসেবে।
আহমদ রেযা খা যেমন, কার্ড, খাম, টাকা-পয়সা কোনটাই নিজের কাছে রাখেনি তেমনি সব ছবি দূরে নিক্ষেপ করেছে, ঠিক একইভাবে দূরে নিক্ষিপ্ত হয় তথা বাতিল, ভ- ও গোমরাহ বলে সাব্যস্ত হয় অহরহ ছবি তুলনেওয়ালা, বে-পর্দা মহিলাকে সান্নিধ্য দেয়া তাহের শাহ তথা তরজুমান গং।
-মুহম্মদ তাজুল ইসলাম, সিলেট।
অদক্ষ জলীল অভিযোগ খ-াতে পারলো না, শুধু বলা হলো- ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’
তরজুমান গং যে কতটুকু স্ববিরোধী কাজ করতে পারে, বক্তব্য দিতে পারে তথা মুনাফিকীর পরিচয় দিতে পারে, খারেজীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে, বমনকৃত উচ্ছিষ্ট আবার গিলতে পারে বাইয়্যিনাত বিরোধীতায় তারা সেটা প্রমাণ করেছে।
যে অদক্ষ আব্দুল জলীল ছিল কিছুদিন পূর্বেও তাদের অপাংক্তের, বাইয়্যিনাত বিরোধীতায় সে আব্দুল জলীলই এখন তাদের হয়ে গেল আদর নীয়। শুধু তাই নয়, বাইয়্যিনাতে অদক্ষ আব্দুল জলীলের মুখোশ উন্মোচনে যখন মহিলাদের সাথে ছবি তোলা, বিধবা মহিলার সাথে গভীর আপত্তিকরভাবে জড়িয়ে পড়া ইত্যাদি বিষয়গুলো কিঞ্চিত প্রকাশ হতে লাগলো তখন এসব বিষয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ ও আদর্শ মুবারক অদক্ষ জলীলকে নসীহত করা বা তার ছোহবত থেকে হিফাযত থাকা তো দুরের কথা বরং উল্টো বাইয়্যিনাত-এ কেন বা সামান্য হলেও তার ফাসেকী কীর্তি প্রকাশ করা হলো সে বিষয়ে চরম জাহিলের মত উক্তি করা হলো। বলা হলো, “…… ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক ডাইরেক্টর …. আব্দুল জলীলের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়কে টেনে এনে ….। মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দোষত্রুটি খুঁজে তা জনসম্মুখে প্রচার করা শরীয়ত ও মানবিক দিক দিয়ে গুরুত্বর অপরাধ।”
পাঠক! আহমক তরজুমান গং এর ভাবখানা এমন যে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দোষগুলো বর্ণনা করা জায়েয। আর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দোষ বর্ণনা করা নাজায়েয।
আহমক আর কাকে বলে! মূলত, যে কোন রাষ্ট্রীয় আর সামাজিক অপরাধ ব্যক্তিই করে। আর সে অর্থে সেটা ব্যক্তি অপরাধ বলেও গন্য হয়। সুতরাং এ অর্থে আর কোন অপরাধকেই অপরাধ বলে গন্য করা যাবে না। আর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অপরাধ হলে তা মাফ হয়ে যাবে এটা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনার কোথায় আছে? বরং হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এসব ভ-দের দোষত্রুটি বর্ণনা করা ষাট বছর বে-রিয়া নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বর্ণনা করেছেন।
আর কোন ফতওয়া যখন কেবল নিজের জন্যই আনা হয় তখন সেটাই প্রমাণ করে যে, তারা কত অসৎ প্রকৃতির দুষ্ট লোক ও মুনাফিক। সত্যিই যদি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় টেনে আনা গুরুত্বর অপরাধ হয় তবে কি আহমদ রেযা খা ওরফে তরজুমান গং আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুন্নত পালনের খালিছ উদ্দেশ্যে বিধবা বিবাহ নিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় কথা যুক্ত করে মহান গুরুত্বর অপরাধ করেনি?
মূলত, কেবলমাত্র সুন্নত পালনে বিধবা বিবাহের পরও হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনর্থক অন্যায় সমালোচনা করার কারণে চরম ফাসিক অদক্ষ আব্দুল জলীল গযব স্বরূপ নিজেই বিধবা মহিলার সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
-মুনজির মুহম্মদ গিয়াসউদ্দীন, চট্টগ্রাম।
কালামুল্লাহ শরীফ-এ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।” মুসলমানের কাছে এই মৃত্যু বড়ই স্পর্শকাতর। ঈমানের সাথে প্রতিটি মুসলমানের মৃত্যুই কেবল কাম্য নয় বরং মৃত্যুর সাথে শরয়ী হুকুম তথা জানাযা বা কবর পাওয়াও প্রতিটি মুসলমানেরই একান্তভাবে কাম্য।
ইখতিলাফ রয়েছে, যারা আত্মহত্যা করে তাদের জানাযা পড়তে হবে কি-না। শুদ্ধ মত হলো যে, জানাযা পড়তে হবে। তবে কোন হক্কানী-রব্বানী আলিম লোক যাতে না পড়ান।
কাজেই সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে জানাযা হওয়াও প্রতিটি মুসলমানেরই বিশেষভাবে কাম্য। কিন্তু মাসিক মদীনা সম্পাদকের হাতে মুসলমানের অন্তিম বাসনা জানাযার বিষয়টিও কালিমাযুক্ত হয়েছে।
মাসিক মদীনা : ডিসেম্বর/৯৬ ঈসায়ী সংখ্যায় বলেছে, “জানাযার সবটুকুই মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া। সুতরাং জানাযার পর দোয়া করা নাজায়েয।”
মাসিক আল বাইয়্যিনাত : জানাযার নামাযের পর হাত তুলে মুনাজাত করা জায়েয, তথা সুন্নত।” (দলীল-জামিউর রুমুয, তাতারখানিয়া, হাদীয়াতুল মুসাল্লিন, শরহে বরযখ, ফতওয়ায়ে দেওবন্দ, ফতওয়ায়ে মাহমুদীয়া, ফতহুলবারী, শরহে বুখারী ইত্যাদি)।
পাঠক! সেখানে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি ডুবন্ত ব্যক্তির ন্যায়। ডুবন্ত ব্যক্তি যেমন ভাসমান খড়-কুটা যা-ই পায় সেটাকে আকড়ে ধরেই বাঁচতে চেষ্টা করে, তেমনি মৃত ব্যক্তি তার আত্মীয়-স্বজন যত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র নেকীই তার জন্য প্রেরণ করুক না কেন বা যত সংক্ষিপ্ত দোয়াই করুক না কেন সেটাকে আকড়ে ধরেই নাযাত পাওয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু মাসিক মদীনায় লেখা হয়েছে যে, জানাযার পর দোয়া করা নাজায়েয। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জানাযার সবটুকুই মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।
উল্লেখ্য, এখানে মাসিক মদীনা সম্পকের চরম জেহালতি ধরা পড়ে। কারণ জানাযায় ছানা রয়েছে, দরুদ শরীফ রয়েছে। সুতরাং জানাযার সবটুকুই মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া হয় কি করে। আর জানাযার সবটুকু দোয়া হলেও দোয়ার পর দোয়া করা যাবে না সেটা মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন কোথায় পেল?
মূলত, কেবল দুনিয়াতেই মানুষের ঈমান-আমল নষ্ট নয় বরং কবরে গিয়েও যাতে মানুষ শান্তি না পায়, তাদের গুণাহ মাফ না হয়, তাদের মর্যাদা না বাড়ে সেজন্যই ইবলিস মাসিক মদীনা সম্পাদকের কলমে ভর করে লিখিয়েছে যে, জানাযার পর দোয়া করা যাবে না। (আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম) (চলবে)।
-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ।
একে একে দশদিন কেটে গেল। তৎকালীন যামানার বিখ্যাত আলিম হযরত আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অবশেষে সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত জোনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ থেকে নিজস্ব মাল-ছামানা গুছিয়ে ফেললেন। বিষয়টি হযরত জোনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার গোচরীভুত হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কি হে শিবলী! তুমি চলে যাচ্ছ?” নূর মিশ্রিত এই কথা যেন হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্তরের মর্মস্থলে গিয়ে স্পর্শ করলো। তিনি মনের কথা পুরোই ব্যক্ত করলেন। বললেন, “হুযূর আমি তো আপনাকে বড় ওলীআল্লাহ মনে করেই আপনার নিকট বাইয়াত হওয়ার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, আজ একে একে দশদিন থাকলাম কিন্তু আপনার একটি কারামতও দেখলাম না। নবাগত খোদা প্রেম অন্বেষীর এই আক্ষেপে হযরত জোনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্মিত হাসলেন। তিনি বললেন, “হে শিবলী! তুমি আমার মাঝে সুন্নতের আমল কি দেখেছ?” আলিম হওয়ার কারণে হযরত শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বীকার করতে হলো যে, সত্যিই তিনি হযরত জোনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাঝে সুন্নতের আমল দেখেছেন। এর স্বীকারোক্তির সাথে সুন্নতী কায়দায় হেসে হযরত জোনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাব দিলেন, “এটাই আমার বড় কারামত।”
উল্লেখ্য, সুন্নত পালনই হক্ব আর না-হক্ব ফারাককারীর একমাত্র মাপকাঠি। যিনি যত বেশি সুন্নত পালন করেন তিনি তত বড় ওলীআল্লাহ।
মূলত, এই কারণে যখন কোন বড় ওলীআল্লাহ উনার দ্বারা অনেক বেশি সুন্নত আদায় হতে থাকে তখন ভ-রা, বিদয়াতীরা তাদের আমলের অসারতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় হিংসায় জ্বলতে থাকে এবং উনার না-হক্ব বিরোধীতা করতে থাকে এবং অন্যায় অপবাদ যুক্ত করতে থাকে।
রেযা খানীদের মুখপত্র তরজুমান মূলতঃ সে ন্যাক্কারজনক কাজটিই শুরু করেছে। জনৈক নিজামউদ্দীন পাঠকের কথামালায় গ-মূর্খের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জাহিল তরজুমান গং-এর জন্য আফসুস! তাদের এটাও জানা নেই যে, দু-একটি বিচ্ছিন্ন উদাহরণ বাদ দিলেও মূলতঃ সম্ভাব্য সার্বিক সুন্নত পালন কখনও অসৎ মানসিকতা লালনকারীর পক্ষে সম্ভব হয়না। এজন্য যুগে যুগে ওলীআল্লাহগণ উনারা বলে গেছেন যে, “শয়তান সবকিছু পারে, পানিতে হাঁটতে পারে, আগুনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, নানা অস্বাভাবিক কিছু দেখাতে পারে কিন্তু একটা জিনিসই পারে না, সেটা হলো সুন্নত পালন।” বলা হয়, সুন্নত পালন করতে গেলে শয়তানের গায়ে আগুন ধরে যায়।
সুতরাং রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে তরজুমান গং এর এই মন্তব্য, “বাহ্যিকভাবে তিনি সুন্নতের মস্ত বড় পাবন্দ কিন্তু মূলতঃ সৈয়দ আহমদ বেরেলভী ও ইসমাইল দেহলভীর দুর্গন্ধময় কুফরী আক্বীদার উপর তার সুদৃঢ় ঈমান রয়েছে।”
এই কথা মূলতঃ তাদের আহমকী ও অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কারণ যিনি বাহ্যিকভাবে সুন্নতের পাবন্দ আভ্যন্তরীনভাবে তিনি অবশ্যই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টিজনক আক্বীদার উপর দায়েম-কায়েম। কেবলমাত্র আহমক আর অজ্ঞ তরজুমান গংই স্ববিরোধী মানসিকতার কারণে তা বুঝতে ব্যর্থ হয়। যা তাদের স্ব-বিরোধী বক্তব্যে প্রকাশ পায়।
-মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম।