মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪০)

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)

 “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতিপয় সুওয়াল-জাওয়াব

(পূর্বপ্রকাশিতের পর)

সুওয়াল-১৯

নদী রক্ষার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

জাওয়াব: সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- নদী রক্ষার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা সম্পূর্ণরূপে হারাম, নাজায়িয ও কাট্টা কুফরী এবং চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা, কোনো সম্পত্তি বা জায়গা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জন্য ওয়াক্ফ করার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক কর্তৃপক্ষ সে জায়গাতে নামায আদায় করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করে এবং আযান দিয়ে নামায আদায় করে ফেললেই উক্ত জায়গা হাক্বীক্বীভাবে ওয়াক্ফকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হিসেবে গণ্য হয়। আর এই ওয়াক্ফকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে আযান-ইক্বামত দিয়ে নামায আদায় করলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হস্তান্তর সাব্যস্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় চলে যান অর্থাৎ উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি। কাজেই, জিন-ইনসান বা সৃষ্টির জন্য নদী রক্ষার্থে বা যে কোনো অজুহাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা বা স্থানান্তর করা সম্পূর্ণরূপে হারাম, নাজায়িয ও কাট্টা কুফরী এবং চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। নিম্নে দলীলভিত্তিক জাওয়াব প্রদান করা হলো-

‘ফতওয়ায়ে আলমগীরী’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ৩৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,

اَلتَّسْلِيْمُ فِـى الْـمَـسْجِدِ اَنْ تُصَلِّىْ فِيْهِ الْـجَمَاعَة بِـاِذْنِهٖ

অর্থ: “দাতার অনুমতিক্রমে জামাআতের সাথে নামায আদায় করার দ্বারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হস্তান্তর সাব্যস্ত হয়ে যাবে।”

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় চলে যাবেন। অর্থাৎ উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হয়ে যান।

শুধু তাই নয়; যদি একজন ব্যক্তিকে ইমাম ও মুয়ায্যিন নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি যদি আযান-ইক্বামত দিয়ে একাকী নামায আদায় করেন, তাহলেও সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ঐক্যমতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হয়ে যাবেন। অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিকানা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় চলে যাবে অর্থাৎ উক্ত মসজিদের মালিক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হয়ে যান।

যেমন- বিশ্বখ্যাত ফতওয়ার কিতাব ‘ফতওয়ায়ে আলমগীরী’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ৪৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

لَوْ جُعِلَ رَجُلًا وَاحِدًا مُؤَذِّنًا وَاِمَامًا فَاَذَّنَ وَاَقَامَ وَصَلَّى وَحْدَهٗ صَارَ مَسْجِدًا بِالْاِتِّـفَاقِ كَذَا فِـى الْكِفَايَةِ وَفَـتْحِ الْقَدِيْرِ

অর্থ: “যদি একজন ব্যক্তিকে ইমাম ও মুয়ায্যিন হিসাবে নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি যদি আযান-ইক্বামত দিয়ে একাকী নামায আদায় করেন, তাহলেও সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ঐক্যমতে তা (ওয়াক্ফকৃত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হয়ে যাবেন। অনুরূপ ‘কিফায়াহ্ এবং ফাতহুল ক্বদীর’ কিতাবেও রয়েছে।”

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিকানা খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় চলে যাবেন অর্থাৎ উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার মালিক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হয়ে যান।

‘ঈনায়া’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

فَاِنْ أَذَّنَ رَجُلٌ وَاحِدٌ وأَقَامَ وَصَلَّى وَحْدَهٗ صَارَ مَسْجِدًا بِالْاِتِّفَاقِ لِاَنَّ صَلَاتَهٗ عَلٰى هٰذَا الْوَصْفِ كَالْـجَمَاعَةِ

অর্থ: “যদি একজন ব্যক্তিই আযান ও ইক্বামত দিয়ে একাই নামায আদায় করেন, তাহলেও সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ঐক্যমতে তা (ওয়াক্্ফকৃত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হয়ে যাবেন। কেননা, এভাবে আযান-ইক্বামত দিয়ে নামায আদায় করা জামাআতের সাথে নামায আদায় করারই অনুরূপ।”

‘হিদায়াহ্ মা’আদ দিরায়াহ্’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ৬৪৪ পৃষ্ঠার ৩নং হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে,

وَلَوْ جُعِلَ  لَهٗ مُوَذِّنًا وَاِمَامًا فَاَذَّنَ وَاَقَامَ وَصَلَّى وَحْدَهٗ صَارَ مَسْجِدًا بِالْاِتِّـفَاقِ لِاَنَّ اَدَاءَ الصَّلٰوةِ عَلـٰى هٰذَا الْوَجْهِ كَالْـجَمَاعَةِ

অর্থ: “যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জন্য একজন ব্যক্তিকে ইমাম ও মুয়ায্যিন হিসাবে নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি যদি আযান-ইক্বামত দিয়ে একাই নামায আদায় করেন, তাহলেও সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ঐক্যমতে তা (ওয়াক্্ফকৃত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হয়ে যাবেন। কেননা, এভাবে (আযান ইক্বামত দিয়ে) নামায আদায় করা জামাআতের সাথে নামায আদায় করারই অনুরূপ।”

‘ফতহুল ক্বাদীর’ কিতাবের ৫ম খণ্ডের ৪৪৩ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে,

فَاِنْ اَذَّنَ رَجُلٌ وَاحِدٌ واَقَامَ وَصَلَّى وَحْدَه صَارَ مَسْجِدًا بِالْاِتِّـفَاقِ لِاَنَّ صَلَاتَهٗ عَلـٰى هٰذَا الْوَصْفِ كَالْـجَمَاعَةِ

অর্থ: “যদি একজন ব্যক্তিই আযান-ইক্বামত দিয়ে একাই নামায আদায় করেন, তাহলে সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ঐক্যমতে তা (ওয়াক্্ফকৃত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক হয়ে যাবেন। কেননা, এভাবে (আযান-ইক্বামত দিয়ে) নামায আদায় করা জামাআতের সাথে নামায আদায় করারই অনুরূপ।”

আরো উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র মৌখিকভাবে ওয়াক্ফকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনারও মালিকানা ওয়াক্ফকারীর মালিকানা থেকে হস্তান্তর হয়ে খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় চলে যাবেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মালিক হয়ে যান।

যেমন- ‘আল জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ্’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ৪৩০ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে,

قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ يُـوْسُفَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَـزُوْلُ الْـمِلْكُ بِـمُجَرَّدِ الْقَوْلِ

অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মৌখিকভাবে বলার মাধ্যমে মালিকানা দূর হয়ে যাবে।”

 আরো অন্যান্য কিতাবে বলা হয়েছে,

قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ يُـوْسُفَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَـزُوْلُ مِلْكُهٗ بِقَوْلِهٖ جَعَلْـتُهٗ مَسْجِدًا

অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্ধারণ করলাম’ ওয়াক্ফকারীর এমন কথার মাধ্যমে তার মালিকানা দূর হয়ে যাবে।” (হেদায়াহ্ ৩/২০, বিদায়াহ্ ১/১২৯, ইনায়াহ্ ৬/২৩৩, তাবঈনুল হাক্বাইক্ব ৩/৩৩০, আল জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ্ ১/৩৩৭, বিনায়াহ্ ৭/৪৫৪, লিসানুল হুক্কাম ১/২৯৫, আল বাহ্রুর রাইক্ব ৫/২৬৮ ইত্যাদি)

‘আল জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ্’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ৪৩৫ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় এবং ‘আল লুবাব লিল মায়দানী’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ يُـوْسُفَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَـزُوْلُ مِلْكُهٗ عَنْهُ) اَىِ الْـمَسْجِدِ (بِقَوْلِهٖ جَعَلْـتُهٗ مَسْجِدًا) لِاَنَّ التَّسْلِيْمَ عَنْدَهٗ لَيْسَ بَشَرْطٍ لِاَنَّهٗ اِسْقَاطٌ لِـمِلْكِهٖ فَـيَصِيْـرُ خَالِصًا لِلّٰهِ تَـعَالـٰى بِسُقَوْطِ حَقِّهٖ

অর্থ: “হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্ধারণ করলাম’ ওয়াক্ফকারীর এমন কথার মাধ্যমে তার মালিকানা দূর হয়ে যাবে। কেননা, হস্তান্তর সাব্যস্ত হওয়া হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে শর্তের মাধ্যমে নয়; বরং সেটা মালিকানা থেকে সাকেত হওয়ার কারণে। কাজেই, সেটা ওয়াক্্ফকারীর হক্ব সাকেত হওয়ার মাধ্যমে খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হয়ে যাবেন।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনিই মালিক হয়ে যান।

‘ফতওয়ায়ে আলমগীরী’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ৩৫১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,

وَاِذَا كَانَ الْـمِلْكُ يَـزُوْلَ عِنْدَهُـمَا يَـزُوْلُ بِالْقَوْلِ عِنْدَ اَبِـىْ يُـوْسُفَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَهُوَ قَـوْلِ الْاَئِمَّةِ الثَّلَاثَةِ وَهُوَ قَـوْلُ اَكْـثَـرِ اَهْلِ الْعِلْمِ وَعَلـٰى هٰذَا مَشَائِخُ بَـلَخَ وَفِـىْ الْـمُنِيَةِ وَعَلَيْهِ الْفَـتْـوٰى كَذَا فِـى فَـتْحِ الْقَدِيْرِ وَعَلَيْهِ الْفَـتْـوٰى كَذَا فِـى السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ

অর্থ: “হযরত তরফাইন রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনাদের মতে ওয়াক্ফকৃত মালের মালিকানা ওয়াক্ফকারীর নিকট থেকে দূর হয়ে যাবে। আর ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘মৌখিকভাবে বলার মাধ্যমে মালিকানা দূর হয়ে যাবে।’ আর এটাই তিনজন ইমাম অর্থাৎ হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের মত। আর এটাই অধিকাংশ হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরও অভিমত। আর এই মতের উপরেই বলখের হযরত মাশায়িখে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও একমত পোষণ করেছেন। ‘মুনিআ’ কিতাবেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। আর এই মতের উপরেই ফতওয়া দেয়া হয়েছে। ‘সিরাজুল ওয়াহ্হাজ’ কিতাবেও এরূপই উল্লেখ রয়েছে।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- ওয়াক্ফ কাকে বলে? এর জবাবে বলতে হয় যে, সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ইমাম ও মুজতাহিদ হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের মতে কোনো মাল-সম্পদ বা জায়গাকে খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় দিয়ে দেয়ার নামই ওয়াক্ফ।”

যেমন- এ প্রসঙ্গে ‘হিদায়াহ্ মা’আদ দিরায়াহ্’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ৬৩৮ পৃষ্ঠার ৭নং হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে,

اَلْوَقْفُ تَـمْلِيْكٌ لِلّٰهِ تَـعَالـٰى وَهُوَ مَالِكَ الْاَشْيَاءِ

অর্থ: “ওয়াক্ফ হচ্ছে খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য মালিকানা নির্দিষ্ট করে দেয়া। যদিও তিনি সমস্ত কিছুর মালিক।”

অর্থাৎ উক্ত ওয়াক্ফকৃত সম্পদের মালিক স্বয়ং খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি।

‘বাহ্রুর রায়িক্ব’ কিতাবের ৫ম খণ্ডের ১৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,

قَـوْلُهٗ حَبْسُ الْعَـيْـنِ عَلـٰى مِلْكِ الوَاقِفِ وَالتَّصَدَّقَ بِالْـمَـنْـفَعَةِ) يَـعْنِـىْ عِنْدَ اَبِـىْ حَنِـيْـفَةَ رَضَىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَعِنْدَهُـمَا هُوَ حَبْسُ الْعَـيْـنِ عَلـٰى حُكْمِ مِلْكِ اللهِ تَـعَالـٰى

অর্থ: “উনার বক্তব্য- ‘মূল সম্পত্তিকে ওয়াক্ফকারীর মালিকানায় স্থির রাখা এবং উপকারকে ছদ্ক্বা করা’ অর্থাৎ ইমাম আ’যম হযরত আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে। আর হযরত ছহিবাইন রহমতুল্লাহি আলাইহিমা অর্থাৎ হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের মতে এটি হলো- মূল সম্পত্তিকে খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানার হুকুমে স্থির রাখা।”

‘কিফায়াহ্’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

وَمَا قَالَاهُ وَهُوَ حَبْسُ الْعَـيْـنِ عَلـٰى حُكْمِ مِلْكِ اللهِ تَـعَالـٰى

অর্থ: “ওয়াক্ফ সম্পর্কে হযরত ছহিবাইন রহমতুল্লাহি আলাইহিমা অর্থাৎ হযরত ইমাম আবূ ইঊসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা যা বলেছেন, তাহলো- কোনো মাল-সম্পদ, বস্তু বা জায়গাকে খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানার হুকুমের ভিত্তিতে আবদ্ধ করার নামই ওয়াক্ফ।”

অর্থাৎ উক্ত সম্পদের মালিক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি। ‘ঈনায়া’ কিতাবেও অনুরূপ উল্লেখ রয়েছে।

আরো উল্লেখ্য যে, ওয়াক্ফকৃত স¤পদের মালিকানা ওয়াক্ফকারীর নিকট থেকে রহিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার মালিকানায় এমনভাবে চলে যায় যে, তা বিক্রি করা যাবে না, হিবা করা যাবে না, বন্ধক রাখা যাবে না এবং মীরাছ রূপে বণ্টন করাও যাবে না। এমনকি রাস্তা বর্ধনের নামে, নদী রক্ষার নামে, শহর পরিকল্পনার নামে ইত্যাদি অজুহাত দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক স্থানান্তর করা বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা যাবে না। যা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত উনার মধ্যে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

যেমন- ‘হিদায়াহ্ মা’আদ দিরায়াহ্’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ৬৩৭ পৃষ্ঠার ৪নং হাশিয়ায় উল্লেখ রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

تَصَدَّقَ بِاَصْلِهِ لَايُـبَاعُ وَلَايُـوْهَبُ وَلَايُـوْرَثُ

অর্থাৎ “মূল ভূমিকে ছদকা করো, যা কখনো বিক্রি করা যাবে না, হিবা (দান) করা যাবে না এবং মীরাছরূপে বণ্টন করা যাবে না।”

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৮৪

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩৮তম পর্ব)

ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া 

কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে ইমামাহ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া।