এ বৎসরের শুরুতে ভারতের কাশ্মীরে মসজিদগুলোতে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য চেয়ে ফর্ম বিলি পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কাশ্মীরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ। ভারতে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ভারতে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের খবর বিচ্ছিন্ন নয়। অব্যাহত এবং ভয়াবহ কাশ্মীরে স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতারাম’- চাপানো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ কাশ্মীরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হুমকি ভারতে কাশ্মীরি ছাত্রকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন

সংখ্যা: ৩০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

৭০ ধারা বাতিলের পর সরকারী হিসেবেই ১ মাসেই নিখোঁজ ১৩ হাজার শিশু

কাশ্মীরে সামগ্রিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিশেষভাবে নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীদের উপর চরম নির্যাতন করা হচ্ছে,

সব মুসলিম দেশই দেখেও না দেখার ভান করছে।

কাশ্মীরীদের কান্নায় বোবা হয়ে আছে শক্তিধর সব মুসলিম দেশ। (নাউযুবিল্লাহ)

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ও পেশা তদারককারী কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলার পাহাড়ি এলাকায় মেডিকেল ইনস্টিটিউটের (এসএমভিডিএমআই) স্বীকৃতি বাতিল করে। পির পাঞ্জাল পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকা জম্মুর সমতল অঞ্চল ও কাশ্মির উপত্যকার মাঝামাঝি।

গত বছরের নভেম্বরে কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম। তাদের অধিকাংশই কাশ্মিরের বাসিন্দা। বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাতজন হিন্দু ও একজন শিখ।

গত বছরের নভেম্বরে কলেজটির প্রথম ব্যাচে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবি তোলে।

এর মধ্যেই গত ৬ জানুয়ারি এনএমসি জানায়, সরকারি নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কলেজটির স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে।

জম্মুভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাফর চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকলে শুরুতেই কলেজকে অনুমোদন দেয়া হলো কীভাবে। তিনি বলেন, ‘ক্লাস শুরু হওয়ার পর অবকাঠামো তো উন্নত

হওয়ার কথা। হঠাৎ করে ঘাটতি এলো কোথা থেকে?’

তিনি আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে ভর্তি নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথাই ভারতের সংবিধানে থাকছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ছেড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থী সালিম মানজুর (ছদ্মনাম) বলেন, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরেও এমন মেডিকেল কলেজ আছে, যেখানে সংখ্যালঘু কোটায় হিন্দু শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়।

অপরদিকে চলতি জানুয়ারি মাসের শুরুতে ভারতীয় পুলিশ কাশ্মীরে “মসজিদের প্রোফাইলিং” শিরোনামে চার পৃষ্ঠার একটি ফর্ম বিতরণ শুরু করে, যা নজরদারি বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং বিতর্কিত মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতির অভিযোগের জন্ম দিয়েছে। ফর্মের একটি পৃষ্ঠায় মসজিদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, এটি কোন “আদর্শিক সম্প্রদায়”, এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বছর, এর তহবিলের উৎস, মাসিক ব্যয়, এটি কতজন লোকের জমায়েত হতে পারে এবং যে জমিতে কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে তার মালিকানা সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়।

বাকি তিনটি পৃষ্ঠায় মসজিদের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের – ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্যদের – ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের মোবাইল নম্বর, ইমেল, পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ। ফর্মের আরও ছদ্মবেশী কলামগুলিতে উত্তরদাতাদের বিদেশে তাদের আত্মীয়স্বজন আছে কিনা, তারা কোন “পোশাক” পরিধানে অভ্যস্ত, এমনকি তাদের মোবাইল ফোনের মডেল এবং তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিও ঘোষণা করতে বলা হয়েছে।

৪১ বছর বয়সী নওয়াজ শ্রীনগরের জওহর নগর এলাকায় তার মুদি দোকানের ভেতরে বসে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, “তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অস্বাভাবিকভাবে বিস্তারিত তথ্য চাইছে। ফর্মটিতে সাম্প্রদায়িক সম্পৃক্ততা, তহবিলের উৎস, জমির মালিকানা, দাতব্য কার্যক্রম এবং আরও অনেক কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না কেন পুলিশের এত ব্যক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন। এত বিস্তারিত রেকর্ড রাখা আমার মতো পরিবারের জন্য নিরাপদ নয়। কাশ্মীরের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকায়, এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে।”

কাশ্মীরে ইসলামী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির বৃহত্তম সংস্থা, মুতাহিদা মজলিস-ই-উলেমা (এমএমইউ) মসজিদের প্রোফাইলিং এর বিরোধিতা করে, এটিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। এমএমইউ এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকারকে এই কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এধরণের অভিযান “ভয় তৈরি করে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা নষ্ট করে। মসজিদগুলি উপাসনা, নির্দেশনা এবং সম্প্রদায়ের সেবার জন্য পবিত্র স্থান, এবং তাদের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় বিষয়গুলি হস্তক্ষেপমূলক তদন্তের আওতায় আনা যাবে না।”

কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এ পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘মসজিদকে অপরাধস্থলে পরিণত করা হচ্ছে। সরকার কি একইভাবে মন্দির, গুরুদ্বারা বা গির্জার ক্ষেত্রেও এমন তথ্য সংগ্রহ করবে?’

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর কার্যত কাশ্মীরীরা অবরুদ্ধ আছেন। সেখানে কারফিউ জারি করে রাখা হয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কসহ যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে বা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের উপর চালানো নানা রকম নিগ্রহ-নির্যাতনের খবর প্রকাশ হচ্ছে।

এতকিছুর পরও সৌদি আরবসহ বড় বড় মুসলিম রাষ্ট্রের কারো পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া তো দূরের কথা, কোনোরকম নিন্দাবাদ ব্যক্ত করার কথাও শোনা যায়নি। অবশ্য কোনো কোনো অমুসলিম রাষ্ট্র কাশ্মীরের সংকট নিয়ে দু-একটি কথা বলেছে। পাকিস্তানের অনুরোধে চীন ও জাতিসংঘ কিছু বক্তব্য রেখেছে। কিন্তু যেখানে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোই নীরবতা অবলম্বন করছে সেখানে অমুসলিম দেশ এবং অমুসলিমদের দ্বারা প্রভাবিত জাতিসংঘের কাছে কী আর পদক্ষেপ আশা করা যেতে পারে!

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।

মতামত ইরান ফিলিস্তিনে ইসরাইলী হামলার জন্য বিশেষভাবে দায়ী সালাফী-লা মাযহাবী ওহাবী মালানারা কারণ তারাই সৌদি ইহুদী শাসকদের প্রশংসা করে, পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের দোষ-ত্রুটি এবং মুসলমান বিদ্বেষী ও ইসলাম বিরোধী কাজ চুপিয়ে রাখে বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে তাদের কুফরী আক্বীদা প্রচার করে অথচ সৌদি তথা আরব শাসকরাই ট্রাম্পকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। আর তা দিয়েই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণী দেশ- আমেরিকা নিজে বাঁচে কুখ্যাত ট্রাম্প মুসলমানদের শহীদ করার অস্ত্র নিজে বানায় আর ইসরাইলকেও দেয় বিশ্ব মুসলমানের তাই শুধু কুখ্যাত ট্রাম্প আর নিয়াহুর বিদ্বেষী হলেই হবে না পাশাপাশি সৌদি তথা আরবের ইহুদী শাসক সহ সালাফী লা মাযহাবী, ওহাবী মালানাদেরও মূলোৎপাটন করতে হবে ইনশাআল্লাহ!

তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত পাঠে উপলব্ধি- (১)

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতাম বিভাগ