-মুফতী, মাওলানা সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত রবিউল আউয়াল মাসের পরবর্তী মাসই হচ্ছে রবিউস্ সানী বা রবিউল আখের। আরবী অভিধানে রবিউন শব্দের অর্থ বসন্তকাল। আর আউয়াল শব্দের অর্থ প্রথম এবং ছানী বা আখের শব্দের অর্থ দ্বিতীয়। রবিউন নামের দু’টি মাসের দ্বিতীয় মাস হিসেবে এ মাসকে রবিউস্ সানী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশ থাকে যে, প্রতিটি চান্দ্র মাসই কোন না কোন কারণে মর্যাদা প্রাপ্ত হয়েছে, সম্মানিত হয়েছে। যদিও একটি মাসের তুলনায় অন্য মাসের মর্যাদার পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই রবিউস্ সানী মাসও বিভিন্ন কারণে মর্যাদাপ্রাপ্ত ও সম্মানিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এ মাসের পবিত্র ১১ তারিখে সাইয়্যিদুল আউলিয়া (ওলীগণের সর্দার), গাউসুল আ’যম, হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি বড় পীর সাহেব নামে সারা বিশ্বে মশহুর, তাঁর ওফাত মোবারক সংঘটিত হয়। যেমনিভাবে সাইয়্যিদুল আম্বিয়া (নবীগণের সর্দার), আখেরী রাসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর বেলাদত ও ওফাত মোবারকের কারণে রবিউল আউয়াল মাস সর্বাধিক মর্যাদা প্রাপ্ত হয়েছে। তেমনিভাবে এ মাসটিও তাঁর ওফাত মোবারকের মাস হিসেবে মুসলমানদের কাছে আলাদাভাবে আলোচিত ও গৃহীত। মূলতঃ ওলীগণের হায়াত মোবারক ও ওফাত মোবারক প্রত্যেকটি মর্যাদাবান। কেননা তাঁদের ওফাত মোবারকের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ পাক-এর অনুক্ষন দীদার হাছিল হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, الموت جسر الى الله.
অর্থঃ (ওলীগণের) ইন্তেকাল বা ওফাত আল্লাহ পাক- এর দীদার লাভ করার সেতু।” তাদের ফযীলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তাঁর কালামে পাকে ঘোষনা করেন, ان رحمت الله قريب من المحسنين.
অর্থঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক-এর রহমত ওলীগণের নিকটবর্তী।” (সূরা আ’রাফ/৫৬)
অর্থাৎ আল্লাহ পাক ওলীগণকে এমন ফযীলত ও নেয়ামত দান করেছেন যে, তাঁরা হায়াত ও ওফাত উভয় অবস্থায় মানুষের জন্য উছীলা।
বিশেষতঃ সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউসুল আ’যম, হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহ পাক-এর পক্ষ থেকে যমীনবাসির জন্য এমন এক ওছীলা, যার মাধ্যমে মানুষ অফুরন্ত নেয়ামত লাভে ধন্য হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে। তাঁর বুুযুগী ও সম্মান বলার অপেক্ষা রাখেনা। “বড় পীর সাহেব” এ একটি লক্বব মোবারকই তার বাহ্যিক প্রমাণ।
উল্লেখ আছে যে, একবার এক লোক তাঁর খেদমতে এসে বিনীতভাবে জানতে চাইলো, হুজুর! আপনি নাকি “ইমামুল আইম্মা?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে আবার জিজ্ঞাসা করল, আপনি নাকি “কুতুবুল আলম?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করল, আপনি নাকি “মুজাদ্দিদুয্ যামান?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর লোকটি চুপ করে রইল। তার চুপ থাকা দেখে হযরত বড় পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “হে ব্যক্তি! তুমি কি আমার সম্পর্কে আর কিছুই জাননা? তুমি জেনে রাখ, অরাউল অরা, অরাউল অরা, অরাউল অরা। অর্থাৎ তুমি যা জানতে চেয়েছো, তার চেয়ে অনেক উপরে আমার মাক্বাম বা মর্যাদা যা তোমার মত সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা কখনোই সম্ভব নয়।” যে সম্পর্কে হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,
ان اوليائى تحت قبائى لا يعرفونهم الا غيرى.
অর্থঃ “নিশ্চয়ই আমার ওলীগণ আমার কুদরতী জুব্বার নীচে অবস্থান করেন, আমি ব্যতীত কেউ তাঁকে হাক্বীক্বীভাবে চিনেনা।”
এ মহান ওলীকে আল্লাহ পাক সুসংবাদ দান করেছেন এই বলে যে,
غفرت لك ومن توسل بك بواسط او بغير واسط الى يوم القيامة.
অর্থঃ “আপনাকে ক্ষমা করা হলো এবং তাদেরকেও ক্ষমা করা হলো যারা আপনাকে মুহব্বত করবে, আপনার সাথে সম্পর্ক রাখবে, আপনার তরীক্বায় দাখিল হবে কিয়ামত পর্যন্ত।” (সুবহানাল্লাহ)।
সুতরাং এ মাসে তাঁর ওফাত মোবারক উপলক্ষ্যে তাঁর সাওয়ানে’ উমরী বা জীবনী আলোচনা, মীলাদ মাহ্ফিল, সওয়াব রেসানী করে তাঁর ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ, মুহব্বত ও জিয়ারত হাছিলের আরজু করা ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি বিশ্বব্যাপী সকলের উচিত। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে,
ان ذكر الصلحين تنزل الرحمة.
অর্থঃ “নিশ্চয়ই নেককার বা ওলীগণের আলোচনা করলে রহমত বর্ষিত হয়।”
আল্লাহ পাক, আমাদেরকে সেই খাছ ওলীর উসীলায় রহমত, মাগফিরাত, নাযাত দান করুন। (আমীন)
সম্মানিত রজবুল শরীফ, সম্মানিত শা’বান শরীফ ও সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা
সম্মানিত জুমাদাল ঊলা শরীফ ও সম্মানিত জুমাদাল উখরা শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা