ইমামুল আ’ইম্মা, মুহিয়্যুস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয্যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবিবুল্লাহ্, আওলাদে রাসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী)-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

সংখ্যা: ৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

কাজেই আজকে একজন সন্তান, কালকে সে পিতা হবে। আজকের সন্তান সে কালকে মাতা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকেই সেটা হয়েছে  এবং হবে। কাজেই তাদের দায়িত্ব ঠিক সে অনুযায়ী পালন করা উচিৎ। আর পিতা-মাতা যখন ইন্তেকাল করে তাঁদের তখন হায়াত অবস্থায় সন্তানের যে দায়িত্বগুলি ছিল ঠিক মৃত্যুর পরেও সে দায়িত্বগুলি থেকে যায়। যেটা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,

عن ابى اسيد رضى الله تعالى عنه قال بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ جاءه رجل من بنى سلمة فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هل بقى من بر ابوى شيى ابر هما به بعد موتهما فقال نعم.

 “হযরত আবূ উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবার শরীফে বসা ছিলাম। অতঃপর বণী সালেমা গোত্র থেকে এক লোক এসে জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা ইন্তেকাল করার পর তাদের সাথে সদাচরণ করার কিছু বাকি রয়েছে কি? তাদের সাথে কোন কিছু নেক করার রয়েছে কি? আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন হ্যাঁ, বাকি রয়েছে। خصال اربع যে চারটি কাজ তোমার  পিতা-মাতা ইন্তেকাল করার পর বাকি রয়েছে। তা হলো,

الدعاء لهما والاستغفار لهما وانفاذ عهدهما من بعدهما واكرام صديقهما وصلة الرحم التى لارحملك الا من قبلهما.

 প্রথমতঃ তাদের জন্য দোয়া-ইস্তেগ্ফার করবে, দ্বিতীয়তঃ তাদের কোন ওয়াদা বা ওসীয়ত যদি থেকে থাকে তাহলে সেটা পুরা করবে। তৃতীয়তঃ তাদের যদি বন্ধু-বান্ধব থেকে থাকে তাদের সহিত সদাচরণ করবে। আর চতুর্থতঃ তাদের মাধ্যম দিয়ে যারা তোমার আত্মীয়-স্বজন হয়েছে অথচ যাদের সাথে তোমার সরাসরি কোন সম্পর্কই নেই, তোমার পিতা-মাতার মাধ্যম দিয়ে যাদের সম্পর্ক রয়েছে, তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখা। এই চারটি কাজ তোমার বাকি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথমতঃ যেটা বলা হয়েছে, الدعاء لهما والاستغفار لهما.

তাদের জন্য দোয়া করা এবং ইস্তেগ্ফার করা। তাদের জন্য দোয়া ইস্তেগ্ফার করার কথা বলা হয়েছে। যে কতটুকু তাদের জন্য দোয়া করবে, ইস্তেগ্ফার করবে?

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, অনেক লোক যারা বেহেশ্তে যাবে, যেয়ে দেখবে, তাদের অনেক নেকী। যেটা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله عز وجل يرفع الدرجة للعبد الصالح فى الجنة فيقول يا ربى ان لى هذه فيقول لاستغفار ولدك لك.

“হযরত আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক জান্নাতের মধ্যে নেক্কার বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন। অতঃপর সে বান্দা বলবে, হে আমার রব! এই মর্যাদা বা নেকী আমার কিভাবে আসলো? আল্লাহ্ পাক বললেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য দোয়া-ইস্তেগ্ফার করার কারণে।

ان الله عز وجل يرفع الدرجة للعبد الصالح فى الجنة.

যে কিছু লোকের মর্যাদা আল্লাহ্ পাক জান্নাতে বৃদ্ধি করে দিবেন, ফযীলত বৃদ্ধি করে দিবেন, যখন তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন, তখন আল্লাহ্ পাক অনেক নেকী বৃদ্ধি করে  থাকবেন। فيقول ياربى ان لى هذه. সে লোক বলবে, আল্লাহ্ পাক! এত নেকী আসলো কোত্থেকে, কোথা থেকে আমার এত নেকী আসলো আল্লাহ্ পাক! আমি তো এত নেক কাজ করিনি। আল্লাহ্ পাক বলবেন, لاستغفار ولدك لك. তোমার সন্তান সন্ততিরা তোমার জন্য যে ইস্তেগ্ফার করেছে, দোয়া করেছে, সেই দোয়াগুলি আজকে পাহাড় পাহাড় নেকী হয়ে তোমার কাছে এসেছে। যার ফলশ্রুতিতে জান্নাতে তোমার মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। (সুবহানাল্লাহ্) তোমার সন্তান সন্ততি যারা দোয়া করছে বা করেছে তার বদৌলতে আমি নেকী দিচ্ছি, সে নেকীগুলো তোমার কাছে আসছে তার ফলশ্রুতিতে তোমার মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাজেই সন্তানের দায়িত্ব হচ্ছে পিতা-মাতা ইন্তেকাল করলে অবশ্যই দোয়া করবে, এটা অবশ্যই দায়িত্ব এবং ইন্তেকাল করার পূর্বে জীবিত থাকলেও দায়িত্ব হচ্ছে সব সময় দোয়া করা। যেটা মৃত্যুর পর কাজে আসবে, পাহাড় পাহাড় নেকী হিসেবে আসবে। সেটা পিতা-মাতার নাযাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

          আর এরপর বলা হয়েছে, انفاذ عهدهما তাদের যে ওয়াদা, তাদের যে ওসীয়ত সেটা পুরা করা, জারি করা, পিতা-মাতা যদি কোন ওয়াদা দিয়ে থাকে বা ওসীয়ত করে থাকে, তাহলে সেটা পুরা করে দেয়া। যেমন এক সাহাবী এসে জিজ্ঞাসা করলেন,

يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان امى توفيت لم توصى افينفعها ان اتصدق عنها قال نعم.

হে আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ان امى توفيت আমার মাতা ইন্তেকাল করেছেন।

لم توصى কোন ওসীয়ত করে যেতে পারেননি এবং হয়তো তিনি মৃত্যুর সময় যদি তাঁর জবান খোলা থাকতো আমার মনে হয়, তিনি কিছু ওসীয়ত করতেন। কিন্তু তিনি ওসীয়ত করতে পারেননি।

افينفعها ان اتصدق عنها قال نعم.

আমি যদি তাঁর তরফ থেকে কিছু দান করি তাহলে তা থেকে কি তিনি কোন ফায়দা পাবেন? আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন। বলা হয় হযরত সা’দ বিন উবাদা রদিয়াল্লাহু আনহু এসে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! “আমার মার জন্য আমি কিছু করতে চাই, জিজ্ঞাসা করলেন, কি করবো? তখন আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বললেন, “এক কাজ কর। আমাদের এলাকায় পানির অভাব রয়েছে। তুমি একটি কুয়া কেটে দাও অথবা একটি কুয়া কিনে দাও।” তখন হযরত সা’দ রদিয়াল্লাহু আনহু একটি কুয়া করে দিলেন। সেটা করে ওয়াক্ফ করে দিলেন মুসলমানদের জন্য। আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, “এটা সা’দের মার জন্য।” এর দ্বারা যত নেকী বা যত ফযীলত লাভ হবে তা তার মার আমল নামায় গিয়ে পৌঁছবে।” (সুবহানাল্লাহ্) এবং পৌঁছেছে। কাজেই পিতা-মাতার যা ওসীয়ত থাকে তা পুরা করা অথবা তোমাদের উচিত পিতা-মাতার জন্য কিছু দান-খয়রাত করে যাওয়া। যেটা পিতা-মাতার জন্য কাজে আসবে। কাজেই তাঁদের ওয়াদা, তাদের ওসীয়ত পুরা করে দেয়া সন্তানের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য।  (অসমাপ্ত)

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহিয়্যুস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুয্যামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবিবুল্লাহ্, আওলাদে রাসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী)-এর ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৫)

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৪)

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুযযামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- উনার মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ কুরআন  শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে-    পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ইমামুল আ’ইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, ক্বাইয়্যুমুযযামান, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্যামান, সুলতানুল ওয়ায়েজীন, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হাবীবুল্লাহ্, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ- এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর  ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য