ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯২

সংখ্যা: ৩০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইমামুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম উনার শান মুবারকে সুসংবাদ (৩)

(৩)

 ইমামুত তাফসীর হযরত মুকাতিল ইবনে সুলাইমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আবুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি! আজ রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। আকাশ থেকে এক ব্যক্তি অবতরণ করেছেন, যার পরিধানের জামা-কাপড়গুলো ছিল সাদা। লোকটি বাগদাদের সর্বোচ্চ মিনারে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছেন- মানুষ কী হারিয়ে ফেলল!!

ইমামুত তাফসীর হযরত মুকাতিল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন লোকটিকে বললেন, “আপনার স্বপ্ন যদি সত্য হয়, তাহলে নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি ইন্তেকাল করবেন।” সকাল বেলায় আমরা শুনতে পেলাম, ইমাম আ’যম হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ)

(৪)

ইমাম ইবনে বিসতাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- আমি বারো বছর  ইমাম আ’যম ইমাম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বরকতপূর্ণ ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছি। আমি উনার থেকে অধিক সমঝদার-জ্ঞানী, পরহেযগার-মুত্তাকী আর কাউকে দেখিনি। এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম, ক্বিয়ামত কায়েম হয়ে গেছে। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি ঝাণ্ডা উড্ডীন করে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি বললাম, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেন? তিনি বললেন, আমি আমার সঙ্গী-সাথী ও মুকাল্লিদ তথা আমাদের মাযহাবের অনুসারীগণকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। তারপর আমিও উনার সাথে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমি দেখলাম, বড় একটি জামায়াত উনার সামনে একত্র হয়েছেন। তারপর তিনি ঝাণ্ডা-পতাকাটি বহন করে চলতে লাগলেন। আমরাও উনাকে অনুসরণ করে পিছনে চলতে লাগলাম। পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে এসে যখন এই স্বপ্ন বর্ণনা করলাম। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। আর বলতে লাগলেন, “হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাদের শেষ ফল কল্যাণময় করুন। আমীন! (আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ ১/৪৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইহাই বলেছেন-

يَوْمَ نَدْعُوْ كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ

অর্থ: সেদিনের কথা স্মরণ করুন! যেদিন আমি সকল মানুষকে তাদের ইমামসহ ডাকবো। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বণী ইসরাইল: সম্মানিত পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)

(৫)

ইমাম হযরত আযহার ইবনে কায়সান রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- একবার আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। আর উনার পিছনে সম্মানিত দুইজন ব্যক্তিকেও দেখতে পেলাম। স্বপ্নে আমাকে বলা হলো তিনজনের মধ্যে যিনি আগে হাঁটছেন, তিনি হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবূল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর পিছনের দু’জন হলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম। আমি উনাদের দুইজনকে বললাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে কিছু জানতে চাচ্ছি। উনারা উভয়ে বললেন, যা জানার তাড়াতাড়ি জেনে নিন। তবে সাবধান। আওয়াজ যাতে উঁচু না হয়। তখন আমি  নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইমাম আ’যম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলিম সম্পর্কে আপনি কী বলেন?

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ইমাম আ’যম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলিম তো হযরত খিজির আলাইহিস সালাম উনার থেকে পাওয়া ইলিম। অর্থাৎ উনার ইলিম হলো ইলমে লাদুন্নী। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কোন মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি হাদিয়া করেছেন। (আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ- ১/৪৬)

দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-৪৬

মহাসম্মানিত হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৯৬

সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৭৬

আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে

আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে