(৩৬তম ফতওয়া হিসেবে)
“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো কতিপয় সুওয়াল-জাওয়াব
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
সুওয়াল-০১
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে সিসিটিভি স্থাপন করার শরঈ হুকুম কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
জওয়াব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে সিসিটিভি স্থাপন করা সম্পূর্ণরূপে কাট্টা হারাম এবং কঠিন শক্ত কবীরা গুনাহ্ ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা, সিসিটিভির মূলে হচ্ছে ছবি। আর সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, বানানো হারাম এবং শক্ত কবীরা গুনাহ্ ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে সিসিটিভি স্থাপন করা জায়েয মনে করা কাট্টা কুফরী। যে বা যারা জায়েয মনে করবে তারা কাফির হবে। আর যে সকল মসজিদ মুবারক উনাদের ভিতর সিসিটিভি রয়েছে, সে সকল মসজিদ উনাদের ইমাম ও মুছল্লী- এক কথায় যারা উক্ত মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে নামায আদায় করেছে বা করবে, তাদের প্রত্যেকের নামায ফাসিদ হয়েছে বা হবে। সকলকে পুনরায় দোহরায়ে নামায পড়তে হবে। অন্যথায় নামায না পড়ার গুনাহে গুনাহগার হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
কাজেই, কোনোভাবেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে সিসিটিভি স্থাপন করা যাবে না। আর যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদের মধ্যে সিসিটিভি রয়েছে, সেসব মসজিদ মুবারক উনাদের ইমাম, কমিটি ও মুছল্লী সকলের জন্য উক্ত সিসিটিভিগুলো অপসারণ করা ফরযে আইন। কেননা, এই সিসিটিভি স্থাপন করার কারণে (১) মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার অবমাননা হচ্ছে, যা কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। এবং (২) উক্ত মসজিদ মুবারকসমূহে যারা নামায পড়ছে তাদের প্রত্যেকের নামায ফাসিদ হচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
নিম্নে দলীলভিত্তিক জবাব তুলে ধরা হলো-
জানা আবশ্যক যে, সিসিটিভির মূলে হচ্ছে ছবি। আর সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, বানানো হারাম এবং শক্ত কবীরা গুনাহ্ ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
১ম দলীল:
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاجْتَـنِـبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ
অর্থ: “তোমরা মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ছবির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: ৩০)
২য় দলীল:
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسلم يَـقُول كُلُّ مُصَوِّرٍ فِـى النَّارِ يُـجْعَلُ لَهٗ بِكُلِّ صُوْرَةٍ صَوَّرَهَا نَـفْسًا فَـيُـعَذِّبُهٗ فِـىْ جَهَنَّمَ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি- প্রত্যেক ছবি তৈরিকারী জাহান্নামী অর্থাৎ যারা ছবি তুলে, আঁকে, বানায়, রাখে তারা প্রত্যেকেই জাহান্নামী। তার তৈরিকৃত প্রতিটি ছবিতে জীবন দেয়া হবে। অতঃপর ঐ ছবিগুলো জাহান্নামে তাকে আযাব দিতে থাকবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)
৩য় দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ اِنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَـوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُوْنَ
অর্থ: “হযরত ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি- নিশ্চয়ই যারা ছবি তুলে, আঁকে, বানায়, রাখে কিয়ামতের দিন তাদের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)
৪র্থ দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَخْـبَـرَهٗ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَنَّ الَّذِيْنَ يَصْنَـعُوْنَ هٰذِهِ الصُّوَرَ يُـعَذَّبُـوْنَ يَـوْمَ الْقِيَامِةِ فَـيُـقَالُ لَـهُمْ اَحْيُـوْا مَا خَلَقْتُمْ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যারা প্রাণীর ছবি তৈরি করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যেই ছবিগুলো তোমরা তৈরি করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দাও। (কিন্তু তারা প্রাণ দিতে পারবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দিবেন এবং যারা সেগুলো তৈরি করেছে, তাদেরকে শাস্তি দেয়ার কাজে নিয়োজিত করবেন)।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
৫ম দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَكُنْ يَـتْـرُكُ فِـىْ بَـيْـتِهٖ شَيْـئًا فِـيْهِ تَصَالِـيْبَ اِلَّا نَـقَضَهٗ
অর্থ: “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যে কোনো প্রাণীর ছবি বা ছবিযুক্ত কিছু থাকলে, সেগুলো ধ্বংস করে ফেলতেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ, শারহুস সুন্নাহ্, মিশকাত, মিরক্বাত ইত্যাদি)
৬ষ্ঠ দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ زُرْعَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ دَارًا بِالْمَدِيْـنَةِ فَـرَاٰ اَعْلَاهَا مُصَوِّرًا يُصَوِّرُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ وَمَنْ اَظْـلَمُ مِـمَّنْ ذَهَبَ يَـخْلُقُ كَخَلْقِىْ فَـلْـيَخْلُقُوْا حَبَّةً وَلْـيَخْلُقُوْا ذَرَّةً
অর্থ: “হযরত আবূ যুরআহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার এক বাড়িতে গমন করলাম। অতঃপর তিনি বাড়ির উপরে এক ছবি অঙ্কনকারীকে ছবি অঙ্কন করতে দেখতে পেয়ে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, (মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,) ‘ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোনো প্রাণীর ছূরত তৈরি করে? তাহলে তারা একটি শস্যদানা সৃষ্টি করে দেখাক, অথবা একটি ক্ষুদ্র প্রাণী (পিঁপড়া) সৃষ্টি করে দেখাক।’” (বুখারী শরীফ)
৭ম দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ حُجَيْـفَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنْ اَبِـيْهِ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـهٰى عَنْ ثَـمَنِ الدَّمِ وَثَـمَنِ الْكَلْبِ وَكَسْبِ الْبَـغْىِ وَلَعَنَ اٰكِلَ الرِّبَا وَمَوْكُلَهٗ وَالْوَاشِـمَةَ وَالْمُسْتَـوْشِـمَةَ وَالْمُصَوِّرَ
অর্থ: “হযরত আবূ হুজায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রক্তের মূল্য গ্রহণ করতে, কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে এবং যেনাকারিণীর উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, শরীরে উলকি অঙ্কনকারী, উলকি অঙ্কন করায় এমন ব্যক্তি এবং ছবি অঙ্কনকারীকে লা’নত দিয়েছেন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
৮ম দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا مُتَسَتِّـرَةٌ بِقِرَامٍ فِـيْهِ صُوْرَةٌ فَـتَـلَوَّنَ وَجْهُهٗ ثُـمَّ تَـنَاوَلَ السِّتْـرَ فَـهَتَكَهٗ ثُـمَّ قَالَ اَنَّ مِنْ اَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَـوْمَ الْقِيَامَةِ اَلَّذِيْنَ يُشَبِّهُوْنَ بِـخَلْقِ اللهِ تَـعَالـٰى
অর্থ: “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার নিকট তাশরীফ মুবারক আনলেন। তখন আমি প্রাণীর ছবিযুক্ত একখানা চাদর গায়ে দেওয়া ছিলাম। এটা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুর রহমত মুবারক (চেহারা মুবারক) পরিবর্তন হয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি চাদর মুবারকখানা নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন- ক্বিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য (কোনো প্রাণীর ছূরত) তৈরি করে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)
৯ম দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ نَـهٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الصُّوْرَةِ فِـى الْـبَـيْتِ وَنَـهٰى اَنْ يُّصْنَعَ ذٰلِكَ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরের মধ্যে কোনো প্রাণীর ছবি রাখতে নিষেধ করেছেন এবং প্রাণীর ছবি তৈরি করতেও নিষেধ করেছেন।” (তিরমিযী শরীফ)
১০ম দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ اَبِـى الْـحَسَنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ اِلـٰى حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَـقَالَ اِنِّـىْ رَجُلٌ اُصَوِّرُ هٰذِهِ الصُّوَرَ فَاَفْتِـنِـىْ فِـيْـهَا فَـقَالَ لَهٗ اُدْنُ مِنِّـىْ فَدَنَا ثُـمَّ قَالَ اُدْنُ مِنِّـىْ فَدَنَا حَتّٰـى وَضَعَ يَدَهٗ عَلـٰى رَأْسِهٖ وَقَالَ اُنَـبِّـئُكَ بِـمَا سَـمِعْتُ مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِـى النَّارِ يُـجْعَلُ لَهٗ بِكُلِّ صُوْرَةٍ صَوَّرَهَا نَـفْسًا فَـيُـعَذِّبُهٗ فِـىْ جَهَنَّمَ قَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَاِنْ كُـنْتَ لَا بُدَّ فَاعِلًا فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لَا نَـفَسَ لَهٗ
অর্থ: “হযরত সাঈদ ইবনে আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট এসে বললো, আমি এমন এক ব্যক্তি যে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করি। সুতরাং, এই ব্যাপারে আমাকে ফতওয়া দিন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ঐ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনি আমার নিকটবর্তী হন। ঐ ব্যক্তি উনার নিকটবর্তী হলেন। তিনি পুনরায় বললেন, আপনি আরো নিকটবর্তী হন। ঐ ব্যক্তি আরো নিকটবর্তী হলেন। তখন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ঐ ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি এই ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি আপনাকে তাই বলবো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, প্রাণীর ছবি তৈরিকারী প্রত্যেকই জাহান্নামে যাবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেই ছবিগুলো তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আপনার যদি ছবি আঁকতেই হয়, তাহলে গাছ-পালা বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁকুন। (মুসলিম শরীফ)
(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।)