৩৭তম সম্মানিত ফতওয়া
মুবারক হিসেবে
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানি করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক’ পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।
পূর্ব প্রকাশিতের পর
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানিকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ থেকে দলীল:
(১)
আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ২য় খণ্ডের ২১৪ পৃষ্ঠায় বলেন-
اِعْلَمْ وَفَّـقَنَا اللهُ وَاِيَّـاكَ اَنَّ جَـمِيْعَ مَنْ سَبَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْ عَابَهٖ اَوْ اَلْـحَقَ بِهٖ نَـقْصًا فِـىْ نَـفْسِهٖ اَوْ نَسَبِهٖ اَوْ دِيْـنِهٖ اَوْ خَصْلَةٍ مِّنْ خِصَالِهٖ اَوْ عَرَّضَ بِهٖ اَوْ شَبَّـهَهٗ بِشَىْءٍ عَلـٰى طَرِيْقِ السَّبِّ لَهٗ اَوِ الْاِزْرَاءِ عَلَيْهِ اَوِ التَّصْغِـيْـرِ لِشَأْنِهٖ اَوِ الْغَضِّ مِنْهُ وَالْعَيْبِ لَهٗ فَـهُوَ سَابٌّ لَّهٗ وَالْـحُكْمُ فِـيْهِ حُكْمُ السَّابِّ يُـقْتَلُ
অর্থ: “জেনে রাখুন! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ও আপনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক দান করুন, উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন এবং উনার যথাযথ হক্ব মুবারক আদায় করার তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন!) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে ব্যক্তি গালি দেবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল কুদরত মুবারক (ওজূদ পাক মুবারক) উনার সাথে বা উনার সম্মানিত ছিফত মুবারক উনার সাথে কোনো দোষত্রুটি সংযোজিত করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা উনার সম্মানিত বংশ মুবারক বা সম্মানিত দ্বীন (অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত মুবারক বা সম্মানিত সীরত মুবারক বা হুকুমত মুবারক) বা উনার কোনো সম্মানিত স্বভাব মুবারক ও সম্মানিত অভ্যাস মুবারক উনাদের সাথে দোষ-ত্রুটি সংযোজিত করবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর এই দোষ-ত্রুটি সংযোজনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে হোক বা ইশারা-ইঙ্গিতে হোক বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিন্দা করার জন্য উনাকে কোনো বস্তু বা ব্যক্তির সাথে উপমা দিবে বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবজ্ঞা করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত শান-মান মুবারক উনাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, হেয়জ্ঞান করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করবে এবং উনার কোনো সম্মানিত আদেশ-নির্দেশ মুবারক বা হুকুম-আহকাম মুবারক উনাদের ব্যাপারে দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে, উনার মান মুবারক হানিকারী হিসেবে গণ্য হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তার ব্যাপারে এই আদেশ কার্যকর হবে, যা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারীর ব্যাপারে, উনার মান মুবারক হানিকারীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/২১৪)
(২)
আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন-
وَكَذٰلِكَ مَنْ لَّعَنَهٗ اَوْ دَعَا عَلَيْهِ اَوْ تَـمَنّٰـى مَضَرَّةً لَّهٗ اَوْ نَسَبَ اِلَيْهِ مَا لَا يَـلِيْقُ بـِمَنْصِبِهٖ عَلـٰى طَرِيْقِ الذَّمِّ اَوْ عَبَثَ فِـىْ جِهَتِهِ الْعَزِيْـزَةِ بِسُخْفٍ مِّنَ الْكَلَامِ وَهَجْرٍ وَّمُنْكَرٍ مِّنَ الْقَوْلِ وَزُوْرٍ اَوْ عَيَّـرَهٗ بِشَىْءٍ مِّـمَّا جَرٰى مِنَ الْبَلَاءِ وَالْمِحْنَةِ عَلَيْهِ اَوْ غَمَصَهٗ بِـبَـعْضِ الْعَوَارِضِ الْبَشَرِيَّةِ الْـجَائِـزَةِ وَالْمَعْهُوْدَةِ لَدَيْهِ وَهٰذَا كُلُّهٗ اِجْـمَاعٌ مِّنَ الْعُلَمَاءِ وَاَئِمَّةِ الْفَتْـوٰى مِنْ لَّدُنِ الصَّحَابَةِ رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ اِلـٰى هَلُمَّ جَرًّا
অর্থ: “অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর যে ব্যক্তি অভিসম্পাত করবে (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য বদ দো‘আ করবে (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বা উনার ক্ষতি কামনা করবে (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিন্দা করা, অপবাদ দেয়া, দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে উনার সাথে এরূপ বস্তু সম্পর্কিত করবে, যা উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ, সম্মানিত ত্ববীয়ত বা সুমহান চরিত্র মুবারক-এ নির্বুদ্ধিতামূলক বাক্য, অশ্লীল কথা, অপছন্দনীয় কথা এবং মিথ্যাকে সম্পৃক্ত করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ই’জায শরীফ (মু’জিযা শরীফ) স্বরূপ যে সমস্ত শান মুবারক গ্রহণ করেছেন, তা পবিত্র নূরুত তাকরীর (তাবাস্সুমী) শান মুবারক হোক অথবা নূরুল ইহসান (মারীদ্বী) শান মুবারক হোক অথবা তাকলীফী শান মুবারক হোক না কেন, সে বিষয়ে উনাকে তিরস্কার করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ মানবীয় স্বভাবসুলভ কারণে স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষকে যেসব বিষয় স্পর্শ করে থাকে যেমন- রোগ-ব্যাধি, ক্ষুধা, পিপাসা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জিন-ইনসানকে মর্যাদা দানের লক্ষ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এই সকল বিষয়ে যেই পবিত্র শান মুবারক গ্রহণ করেছেন, সেই পবিত্র শান মুবারক উনাকে অবজ্ঞা করবে, তুচ্ছ জ্ঞান করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে সেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে গণ্য হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তার ব্যাপারেও এই আদেশ কার্যকর হবে, যা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। তাকেও শরঈ শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এই ব্যাপারে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে অদ্যবধি যত হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামা, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অতীত হয়েছেন উনারা সবাই ইজমা’ অর্থাৎ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/২১৪)
মূল ফতওয়া হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফয়ছালা মুবারক হচ্ছেন, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে অথবা উনার সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় মুবারক নিয়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতমও চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বক্তব্য পেশ করবে, বা কোন শব্দ ব্যবহার করবে অথবা কোনো কাজ করবে, অর্থাৎ যে কোনোভাবেই হোক না কেনো উনার মান মুবারক হানি করার চেষ্টা করবে, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে, উনার মান মুবারক হানিকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। সে নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। এই মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
(৩)
আল ইমামুল কাবীর, মুজতাহিদে মত্বলক্ব, হাফিয, শাইখুল ইসলাম হযরত আবূ বকর মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুনযির নীশাপূরী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ২৪২ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ৩১৯ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন-
اَجْـمَعَ عَوَامُّ اَهْلِ الْعِلْمِ عَلـٰى اَنَّ مَنْ سَبَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُـقْتَلُ وَمِـمَّنْ قَال ذٰلِكَ حَضْرَتْ مَالِكُ بْنُ اَنَسٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَللَّيْثُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَحْـمَدُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اِسْحَاقُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَهُوَ مَذْهَبُ الشَّافِعِـىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ
অর্থ: “সকল আহলে ইলিম অর্থাৎ হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা’ অর্থাৎ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে ব্যক্তি গালি দিবে, উনার মান মুবারক হানি করবে, তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! মালিকী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম মালিক বিন আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইসহাক্ব ইবনে রাওয়াহাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সকলেই এই মত পোষণ করেছেন এবং এটা হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযহাব।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইশরাফ ‘আলা মাযাহিবে আহলিল ‘ইলম ৩/১৬, আল ইক্বনা’ ২/৫৮৪, আল ইজমা’ ৮৭ নং পৃষ্ঠা, শিফা শরীফ ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১৯-১২০ নং পৃষ্ঠা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১২/২৩, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ২/৩৮৪, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ৭/৩৩৭, তাফসীরে কুরতুবী ৮/৮২, আল বাহরুর রায়িক্ব ১৩/৪৯৬, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার ৪/২৩২ ইত্যাদি)
(৪)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৪৭৬ হিজরী শরীফ এবং বিছাল শরীফ ৫৪৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার মধ্যে বলেন-
قَالَ حَضْرَتْ اَبُـوْ بَكْرِ بْنُ الْمُنْذِرِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَجْـمَعَ عَوَامُّ اَهْلِ الْعِلْمِ عَلـٰى اَنَّ مَنْ سَبَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُـقْتَلُ وَمِـمَّنْ قَالَ ذٰلِكَ حَضْرَتْ مَالِكُ بْنُ اَنَسٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَللَّيْثُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَحْـمَدُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اِسْحَاقُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَهُوَ مَذْهَبُ الشَّافِعِـىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَضْرَتْ اَلْقَاضِىْ اَبُو الْفَضْلِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَهُوَ مُقْتَضٰى قَـوْلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَبِـىْ بَكْرِ ۣ الصِّدِّيْقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَلَا تُـقْبَلُ تَـوْبَـتُهٗ عِنْدَ هٰؤُلَاءِ
অর্থ: “আল ইমামুল কাবীর, মুজতাহিদে মত্বলক্ব, হাফিয, শাইখুল ইসলাম হযরত আবূ বকর মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুনযির নীশাপূরী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সকল আহলে ইলম অর্থাৎ হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা’ অর্থাৎ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে ব্যক্তি গাল-মন্দ করবে, উনার মান মুবারক হানি করবে, তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! মালিকী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম মালিক বিন আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইসহাক ইবনে রাওয়াহাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সকলেই এই মত পোষণ করেছেন এবং এটা হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযহাব। সুবহানাল্লাহ! কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অভিমত। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনিসহ উপরোক্ত সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইজমা’ অর্থাৎ ঐকমত্যে (যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মান মুবারক হানি করবে,) তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২/২১৫, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১২/২৩, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ২/৩৮৪)
(৫)
শায়েখ আল্লামা হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে শিহাব ইবনে ইঊসুফ আল বায্যাযী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮২৭ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল ফাতাওউল বায্যাযিয়্যাহ আওইল জামি‘উল ওয়াজীয শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন-
اِذَا سَبَّ الرَّسُوْلَ عَلَيْهِ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ اَوْ وَاحِدًا مِّنَ الْاَنْۢبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ فَاِنَّهٗ يُـقْتَلُ حَدًّا وَّلَا تَـوْبَةَ لَهٗ اَصْلًا سَوَاءٌ بَعْدَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهِ وَالشَّهَادَةِ اَوْ جَاءَ تَائِـبًا مِّنْ قِـبَلِ نَـفْسِهٖ كَالزِّنْدِيْقِ لِاَنَّهٗ حَدٌّ وَّجَبَ فَلَا يَسْقُطُ بِالتَّـوْبَةِ كَسَائِرِ حُقُوْقِ الْاٰدَمِيِّـيْـنَ وَكَحَدِّ الْقَذْفِ لَا يَسْقُطُ بِالتَّـوْبَةِ
অর্থ: “কোনো ব্যক্তি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অথবা অন্য সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে যে কোনো একজন হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মান মুবারক হানি করবে, অবশ্যই তাকে হদ্দ বা শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো তওবা নেই। চাই তাকে বন্দি করার পর তার উপর সাক্ষী পেশ করা হোক অথবা সে স্বেচ্ছায় তওবাকারীরূপে আসুক সমান কথা। তার হুকুম যিন্দিকের হুকুমের অনুরূপ। কেননা, তার উপর হদ্দ অর্থাৎ শরঈ শাস্তি ওয়াজিব হয়ে গেছে। কাজেই, তার তওবার দ্বারা তার হদ্দ অর্থাৎ শরঈ শাস্তি রহিত হবে না। যেমনিভাবে মানুষের যাবতীয় হক্বসমূহ এবং অপবাদের হদ্দ অর্থাৎ শরঈ শাস্তি তওবার দ্বারা রহিত হয় না।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়্যাহ্ ২/৪৪২)
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন