আখবারুল আখইয়ার

সংখ্যা: ৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

          সূলতানুল মাশায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, হযরত শায়খ বদরুদ্দীন  রহমতুল্লাহি আলাইহি (শেষ জীবনে) বয়স বেশী হওয়ার দরুণ অত্যন্ত কমজোর, দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন।

          লোকেরা বললো, আপনি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন (কিন্তু আশ্চর্য হলো) এখনো সামার মজলিশে কিভাবে জজবা ও হাল প্রকাশ করে থাকেন। চিশ্তীয়া ত্বরীকায় সামার মজলিসে অনেক সময় ইশ্কে গরক হয়ে চিশ্তীয়া দরবেশ রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ দাঁড়িয়ে জজবা, হাল ও খুশী প্রকাশ করে থাকেন। দরবেশের হাল আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বতের সাথে সম্পর্কযুক্ত আর আধুনিক কালের তথাকথিত ফকিরদের হাল শয়তানের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বললেন, বয়স হাল প্রকাশ করে না, বরং ইশ্ক হাল প্রকাশ করে। যেখানে ইশ্ক আছে সেখানে হালও রয়েছে। ঐ প্রশ্ন ও জবাব থেকে হযরত সুলতানুল মাশায়েখ  রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেন যে, হযরত শায়খ বদরুদ্দীন গজনবী  রহমতুল্লাহি আলাইহি বৃদ্ধ হওয়ার দরুণ চলা-ফিরায় অক্ষম হয়ে পড়েন। কিন্তু (কোথাও) যখন গজল বা শের পরিবেশন করা হতো তখন তিনি অন্যান্য শের (কবিতা, গজল) শোনার পর তাবু থেকে বাইরে সরে এসে বাক্স (দরবেশী হাল) প্রকাশ করতেন। তাঁর মাযার শরীফ হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কদম মোবারক বরাবর।

হযরত খাজা লসবত রহমতুল্লাহি আলাইহি

জন্মঃ ৪০০ হিজরী, ওফাতঃ ৪৯৫ হিজরী

হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাযার শরীফ-এর উত্তর দিকে সামান্য উচুঁ জায়গায় একটি কবর আছে। যেটাকে হযরত লসবত  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কবর শরীফ বলা হয়। মানুষের মুখে শোনা একটি মশহুর উক্তি হচ্ছে- দিল্লী বিজয়ের প্রথম দিকে তিনি এখানে সমাহিত হন। এটা ঐ সময়ের কথা যখন পর্যন্ত হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাকবর (মাযারের গম্বুজ) নির্মিত হয়নি। হযরত লসবত  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হালত সম্পর্কে আমরা (অধিক) অবগত হতে পারিনি। আল্লাহ্ পাকই সর্ববিষয়ে জ্ঞানী।

হযরত শায়খ ফখরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি

হযরত খাজা ফখরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর অত্যন্ত প্রিয় সন্তান, আওলাদ। কৃষি কাজ করা তার পেশা ছিল। আজমীরের নিকটবর্তী একটি এলাকা তিনি আবাদ করেছিলেন। “মাফখুজাতে মাশায়িখে চিশ্ত” কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্ত  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সন্তান একটি গ্রাম আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঐ সময়ের (ঐ এলাকার) হাকিম বা বাদশাহ্ তাঁকে হয়রানি, পেরেশানি করতেছিলো। যার দরুণ তিনি দিল্লী এসে পড়েন “মাশায়েখে চিশ্ত” কিতাবের ঐ ইবারত থেকেও এটা খাজা ফখরুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর দিকেই ইশারা করে। তিনি তার (সম্মানিত) বুযুর্গ পিতার ইন্তেকালের পর বিশ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আজমীর থেকে বত্রিশ মাইল দূরে “কসবা” সারোয়ার শরীফে ওফাত প্রাপ্ত হন। ঐ কসবার একটি জলাধার বা হাওজের পার্শ্বে তাঁর মাযার শরীফ অবস্থিত।

দ্বিতীয় অধ্যায়

হযরত খাজা ফখরুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর  সাথী, মুরীদ ও খলীফাগণের হালত সম্পর্কে

হযরত খাজা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্মঃ ৬০৯, ওফাতঃ ৬৬৮

হযরত খাজা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর  রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাক্বী  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খলীফা এবং হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী  রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর থেকে (প্রচুর) ফয়েজ পেয়েছিলেন। তিনি আকাবিরে আউলিয়া-ই-কিরামগণের মধ্যে শামীল। রিয়াজত, মুজাহিদা, দারিদ্রতা, তরকে দুনিয়ায় তিনি ছিলেন বেমেছাল। রিয়াজত, মুজাহিদা, দারিদ্রতার সাথে তাঁর (জাতের) সম্পর্ক ছিল। তাঁর দ্বারা (অসংখ্য) কাশ্ফ, কারামত প্রকাশ পেয়েছিল এবং তিনি ছিলেন জওক, শওক ও মুহব্বতের নিশান বরদার  দীপ্তমান সূর্য। সব সময় নির্জনতা অবলম্বন করার কোশেশ করতেন। নিজেকে মাখলুকের দৃষ্টি থেকে চুপিয়ে রাখতেন এবং শহর থেকে অন্য শহরে সফর করতেন। জীবনের শেষ দিকে অজুধনে (পাক পাটান শরীফ, বর্তমান পাকিস্তানের পশ্চিম পাঞ্জাবে অবস্থিত) তাশরীফ আনেন। এখানকার দুনিয়ামুখী লোকেরা ফকীর-দরবেশদের দুশমন ছিল। তিনি এখানে এসেই বললেন, এ স্থানে বসবাস করাই আমার উপযোগী বা সবীক।     সুতরাং তিনি ওখানেই থেকে গেলেন। ওখানে তাঁর থাকার জন্য (নির্দিষ্ট কোন) জায়গা ছিলনা। কসবা বা গ্রামের বাইরে “কারীর” নামক এক প্রকার বৃক্ষ ছিল, তার মধ্যে (সম্ভবত নূয়ে পড়া) একটি বৃক্ষের নীচে বসে ইয়াদে ইলাহীতে মশগুল হয়ে গেলেন। এখানকারই মসজিদে অনেকবার এবং অধিকাংশ সময় নামাজ পড়তেন এবং ইবাদত-বন্দেগী করতেন। এখানেই তাঁর সন্তান ও আওলাদগণ পয়দা হয়। এবং এখানেই রিয়াজত, মুজাহিদার কষ্ট-ক্লেশ বরদাশ্ত করেছিলেন বিধায় প্রচুর রুহানী কুয়ত ও শক্তির অধিকারী হয়েছিলেন। যার দরুণ গোপন থাকা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। তিনি প্রকাশ হয়ে গিয়েছিলেন। (অসমাপ্ত)

আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার মূল- হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তর- মুহম্মদ শামসুল আলম

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম