(ধারাবাহিক)
তৃতীয়তঃ اكرام صديقهما তাঁদের যারা বন্ধু-বান্ধব থাকে তাঁদের সাথে সদাচরণ করা। কেমন আচরণ করবে? কিতাবে উল্লেখ করা হয়, হযরত আবূ বুরদা রদিয়াল্লাহু আনহু ছাহাবী ছিলেন। তিনি মদীনা শরীফের বাইরে থাকতেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, আমি একবার বাইরে থেকে মদীনা শরীফে আসলাম। আসার পর হঠাৎ একদিন যিনি জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি আসলেন আমার সহিত সাক্ষাত করার জন্য, যেটা অবশ্যই বে-মানান। বরং আমার উচিৎ ছিল তাঁর সাথে সাক্ষাত করা। তিনি এত বড় ফযীলতপ্রাপ্ত ছাহাবী যে, আমারই উচিৎ ছিল তাঁর সহিত সাক্ষাত করা। কিন্তু আমি সেটা করতে পারিনি, তিনি দয়া করে আমার সাথে সাক্ষাত করতে আসলেন। যখন এসে পৌঁছে আমাকে দেখলেন, দেখে বললেন, হে আবূ বুরদা রদিয়াল্লাহু আনহু! তুমি কি তায়াজ্জুব হচ্ছো? আশ্চর্য হচ্ছো? আমি বললাম যে হ্যাঁ, কারণ আপনি আমার সহিত সাক্ষাত করতে এসেছেন! তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে দেখ, আমি শুধু তোমার সহিত সাক্ষাত করতে এসেছি একটা কথার কারণে যে, আমি স্বয়ং নিজে শুনেছি আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে দেখ, কেউ যদি চায় তার কবরস্থ পিতার সাথে সদাচরণ করার জন্য, তাহলে সে যেন তার পিতার সাথে যাদের বন্ধুত্ব ছিল তাদের সাথে সদাচরণ করে। আমি জানি, আমার পিতার তোমার পিতার সাথে খুব বন্ধুত্ব ছিল, সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। কাজেই সেই হাদীসের উপর আমল করার জন্য তোমার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি। তোমার ভাল-মন্দ খবর নেয়ার জন্য এসেছি। যেটা আমার পিতার সাথে সদাচরণের অন্তর্ভূক্ত হবে। অন্য কোন কারণে আমি আসিনি। তিনি সত্যি সে জন্য আসলেন, সাক্ষাত করে চলে গেলেন। যে اكرام صديقهما তাঁদের যারা বন্ধু-বান্ধব ছিল, তাঁদের সাথে সদাচরণ করা। যেমন, স্বয়ং আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফে আসার পরেও হযরত খাদিজা রদিয়াল্লাহু আনহা, যিনি ছিলেন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী, তাঁর যারা বান্ধবী ছিলেন তাঁদের জন্য তিনি স্বয়ং নিজেই খাসি যবেহ্ করে তার রান, বিশেষ গোশ্ত এবং বিশেষ ও ভাল ভাল খাবার পাক-সাক করে তাঁদের কাছে পাঠাতেন এবং বলতেন যে, যেহেতু হযরত খাদিজা রদিয়াল্লাহু আনহা নেই, তাঁর সাথে সদাচরণ করার মাধ্যম হচ্ছে- তাঁর যারা বান্ধবী রয়েছে তাঁদের সাথে সদাচরণ করা। আল্লাহ্ পাক এটা তাঁর সাথে সদাচরণ করার অন্তর্ভূক্ত করে নিবেন।
এ প্রসঙ্গে আরো বলা হয় যে, হযরত আবূ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু তিনি খুব অসুস্থ হলেন, মদীনা শরীফে অবস্থান করতেন। এমন সময় দেখা গেল একদিন হযরত ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি অনেক দূরে থাকতেন যে, আসাটা অস্বাভাবিক ছিল। তিনি এসে উপস্থিত হলেন। যখন এসে উপস্থিত হলেন, তখন হযরত আবূ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, হে ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ! তুমি কেন এসেছ এত দূর থেকে? আমার শরীর ভাল নয়, অসুস্থ আমি। তিনি বললেন যে, হুজুর! আপনার অসুস্থতার সংবাদ জেনেই আমি এসেছি, আপনার কিছু খেদমত করার জন্য। কেন? আমি খেদমত করব এবং একটা হাদীস শরীফের আমল করবো। সেটা কি? সেটা হলো একখানা হাদীস শরীফ যা আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করতে চায়, সে যেন তার পিতার যারা বন্ধু ছিলেন তাদের সাথে সদাচরণ করে। আমি জানি, আমার পিতার আপনার সাথে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। সেটা আমার স্মরণ হয়েছে সে জন্য। আমার পিতা ইন্তিকাল করেছেন। এখন তাঁর সাথে আমি কিভাবে সদাচরণ করবো। আমি এসেছি আপনার কিছু খেদমত করার জন্য। আপনার খেদমতকেই যদি আল্লাহ্ পাক আমার পিতার খেদমত হিসেবে কবুল করে নেন সেজন্য আমি এসেছি। (সুবহানাল্লাহ্)
এরপর বলা হয়েছে,
صلة الرحم التى لارحم لك الا من قبلهما.
“আত্মীয়তার সাথে সদাচরণ করা- যাদের সাথে তোমার সম্পর্ক সরাসরি নেই। তোমার পিতা-মাতার মাধ্যমে যাদের সম্পর্ক হয়েছে।” পিতা-মাতার মাধ্যমে যাদের সাথে তোমার সম্পর্ক হয়েছে তাদের সাথে তুমি সদাচরণ কর, আত্মীয়তা বজায় রাখ। তাহলে সেটা পিতার সাথে সদাচরণ, মাতার সাথে সদাচরণের অন্তর্ভূক্ত হবে। যেটা হাদীস শরীফে রয়েছে,
لايدخل الجنة قاطع الرحم.
“যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে শরীয়তের কারণ ব্যতীত সে কখনও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” যে শরীয়তের কোন ওজর ব্যতীত আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে, নষ্ট করে দেয় সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
কাজেই দায়িত্ব হচ্ছে, যারা আত্মীয়-স্বজন তাদের সাথে সদাচরণ করা। সে সদাচরণ আল্লাহ্ পাক তার পিতা-মাতা যারা ইন্তিকাল করেছেন তাদের সাথে সদাচরণ করার সমপর্যায়ের নেকী তাকে দান করবেন।
হযরত আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন,
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا مات الانسان انقطع عنه عمله الا من ثلثة الا من صدقة جارية او علم ينتفع به او ولد صالح يدعوا له.
আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, اذا مات الانسان মানুষ যখন ইন্তিকাল করে, انقطع عنه عمله তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, الا من ثلثة তিনটি আমল ব্যতীত।
الا من صدقة جارية او علم ينتفع به او ولد صالح يدعوا له.
صدقة جارية. “মসজিদ, মাদ্রাসা, লঙ্গরখানা, এতিমখানা যা রয়েছে সেটা যতদিন জারি থাকবে ততদিন সে ফযীলত পাবে।” علم ينتفع به “ইল্ম, ওস্তাদ-ছাত্র, পীর সাহেব-মুরীদ সিলসিলা যতদিন জারি থাকবে ততদিন সে সওয়াব পাবে।” ولد صالح يدعوا له
“নেক সন্তান যখন বাপ-মায়ের জন্য দোয়া করে সেই দোয়া আল্লাহ্ পাক কবুল করেন। তার উসীলায় তাকে নেকী দান করেন।”
হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, একজন আল্লাহ্ পাক-এর ওলী ছিলেন। তিনি এক এলাকায় গিয়েছেন সফর করার জন্য। তাঁকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে, তিনি গিয়েছেন। তিনি সফর করতে গিয়েছেন, সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্র। তাঁকে ঐ এলাকায় থাকতে দেয়া হয়েছে এক মসজিদের হুজরা শরীফে। মসজিদের পূর্ব দিকে ছিল কবরস্থান, পশ্চিম দিকে মসজিদ এবং দক্ষিণ দিকে ছিল হুজরা শরীফ। সেই আল্লাহ্ পাক-এর ওলী সেখানে অবস্থান করলেন। তিনি বর্ণনা করতেছেন, আমি অবস্থান করলাম। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে শুয়ে রইলাম, তাহাজ্জুদের পর ঘুমালাম। ঘুমে আমি স্বপ¦ দেখলাম। কি স্বপ¦ দেখলাম? আমি স্বপ¦ দেখলাম যে, আমি এই কবর স্থান যেটা রয়েছে মসজিদের পূর্ব পার্শ্বে সেখানে আমি গিয়েছি। যেয়ে দেখলাম, সমস্ত মুর্দা যারা রয়েছে অর্থাৎ মৃত্যু ব্যক্তি সকলেই তাদের কবরের উপর উঠে বসে আছে প্রত্যেকেই নিজ নিজ কবরের উপর উঠে বসে আছে এবং সকলের সামনে একটা আলো বা নূরের টুকরা। সেটা দেখে আমি এক প্রান্ত থেকে অর্থাৎ কবর স্থানের পশ্চিম প্রান্ত থেকে সারি সারি করে হেঁটে হেঁটে পূর্ব প্রান্তের শেষ মাথায় গিয়ে পৌঁছলাম। প্রত্যেক মুর্দার সামনে দিয়ে আমি হেঁটে গেলাম। সকলের সামনে দেখলাম নূরের টুকরা রয়েছে, কারোটা বড়, কারোটা ছোট। শেষ প্রান্তে যেয়ে যখন আমি পৌঁছলাম, শেষ মাথায় সেখানে যেয়ে দেখলাম, একটা লোক বসে রয়েছে, তার সামনে কোন নূর বা আলো নেই, শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার।
আমি সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, “হে ব্যক্তি! তোমার সামনে আমি কোন নূর দেখতে পাচ্ছিনা বা আলো দেখতে পাচ্ছিনা। তুমি ব্যতীত এই কবরস্থানে যারা রয়েছে সকলের সামনেই নূর বা আলো রয়েছে, তোমার সামনে নেই তার কি কারণ?“ সে ব্যক্তি বললো যে, “হুজুর! কি বলবো, আমি এই কবর স্থানের মধ্যে সবচাইতে লাঞ্ছিত, অপমানিত, অবহেলিত অবস্থায় রয়েছি।” তখন সেই বুযুর্গ ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন স্বপে¦র মধ্যে, “তোমার কি কোন আল আওলাদ নেই? যারা তোমার জন্য দোয়া করবে?” তখন সে ব্যক্তি বললো যে, “সকলের জন্য দোয়া করে তাদের সন্তানরা। যার জন্য তারা এত সুখ-শান্তিতে রয়েছে। হ্যাঁ, আমার একটা সন্তান রয়েছে তবে সে আমার জন্য কোন দোয়াও করে না এবং দান-খয়রাতও করে না, ফলে আমার কাছে কোন নেকীও পৌঁছেনা, তাই আমি লাঞ্ছিত, অবহেলিত এবং অপমানিত অবস্থায় রয়েছি।” তখন সেই বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, “আমি স্বপে¦র মধ্যেই সে লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আচ্ছা! তোমার যে সন্তান রয়েছে, তার ঠিকানা কি তোমার জানা রয়েছে?” সে বললো, “হ্যাঁ।” “কোথায়?” “ওমুক স্থানে।” “নাম কি?” “ওমুক।” আমি স্বপে¦র মধ্যে তার ঠিকানা এবং নামটা জেনে নিলাম। আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে আমি তোমার সন্তানকে তোমার ব্যাপারে বলবো।” এরপর ঘুম ভেঙ্গে গেল। সকাল হলো। ফজর নামাজ পড়ার পর আমি এলাকাবাসীদেরকে ডেকে বললাম যে, “তোমাদের এই কবর স্থানে কাদের কবর রয়েছে?” তারা বললো, “আমাদের এলাকায় যারা মারা গিয়েছে তাদের কবর রয়েছে।” তখন জিজ্ঞাসা করলাম, “শেষ কর্ণারে যে কবরটা রয়েছে, সেটা কার?” তারা বললো যে, “ওমুক ব্যক্তির কবর।” পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, “তার কি কোন ছেলে রয়েছে?” জবাব দিল “হ্যাঁ, তার একটা সন্তান রয়েছে। তবে কোথায় থাকে তার ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে আমাদের জানা নেই।” তখন সে বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, “আমার সেটা জানা রয়েছে, এই তার ঠিকানা। তোমরা এক কাজ কর, তাকে সংবাদ দাও, আমার কাছে দেখা করার জন্য তাকে বলো।” সে এলাকার লোকেরা ঠিকানা নিয়ে তাকে সংবাদ দিলো, সে আসলো। আসার পর সে বুযুর্গ ব্যক্তি বর্ণনা করতেছেন যে, “তার সূরত-সিরত দেখে মনে হলো, অবশ্যই সে বেশরা-বেদ্য়াতী লোক হবে।” তাকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে,“ তোমার পিতা কোথায়?” সে বললো, “ইন্তেকাল করেছেন।” “কোথায় দাফন করেছো?” “এই কবর স্থানে।” তখন আমি তাকে বললাম যে, “তোমার পিতা যে ইন্তেকাল করেছেন তার কি অবস্থা তুমি কি জান?” সে বললো, “না। সেটা কি করে আমি জানবো, কবরের ভিতরে?” সে বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, “আমি তো জানি, তোমার পিতা খুব কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তুমি সন্তান হিসেবে জমিনের উপর রয়েছো। তোমার পিতা কষ্টে রয়েছেন।” তখন সে সন্তান পিতার জন্য অনেক কাঁদা-কাটা করলো। তখন আল্লাহ্ পাক-এর ওলী বললেন, “দেখ, তোমার আব্বা এই কবর স্থানে সবচাইতে লাঞ্ছিত, অপমানিত, অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
সকলেরই সন্তান রয়েছে তারা দোয়া করে, দান-খয়রাত করে তাদের পিতা-মাতার জন্য। তাই তারা সুখ শান্তিতে রয়েছে। একমাত্র তুমি তোমার পিতার জন্য কোন দোয়া করছো না। যার জন্য তোমার পিতা খুব কঠিন অবস্থায় রয়েছে।” তখন বুযুর্গ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি কর?” সে প্রথমে বলতে চাচ্ছিল না, শেষ পর্যন্ত সে বললো, “আমি মূলত গান-বাজনা করে থাকি।” (নাউযুবিল্লাহ্) তখন তিনি বললেন, “তুমি খালিছ তওবা কর।” আরো জিজ্ঞাসা করলেন, “নামাজ-কালাম পড় কি?” সে বললো, “জ্বী-না পড়ি না।” পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, “দান-খয়রাত কর?” জবাব দিল, “না।” তিনি বললেন, “তুমি আজ থেকে খালিছ তওবা কর।” এলাকার লোকেরাও তাকে বললো, “তুমি আজকে খালিছ তওবা কর। যেহেতু আল্লাহ্ পাক-এর ওলী এসেছেন, তিনি আবার কবে আসবেন। এখনই তওবা কর।” তাকে তওবা করানো হলো। তওবা করিয়ে বলা হলো, “তুমি আজ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে। প্রত্যেক নামাজের পর দোয়া করবে। আর প্রতিদিন তুমি যা কামাই-রোজগার করবে তা থেকে কিছু দান করবে। তোমার পূর্বের যে পেশা বা ব্যবসা সেটা ছেড়ে দাও। হালাল কামাই করবে, তাতে কমপক্ষে প্রতিদিন কিছু হলেও তোমার পিতা-মাতার জন্য তুমি দান-খয়রাত করবে।” সে ওয়াদাবদ্ধ হলো, খালিছ তওবা করলো। অনেক কাঁদা-কাটি করলো। শত হলেও পিতা। অতঃপর সে চলে গেল।
আল্লাহ্ পাক-এর ওলী আবার বর্ণনা করতেছেন, মাত্র এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। এক সপ্তাহ যাবৎ আল্লাহ্ পাক-এর ওলী সেখানে অবস্থান করতেছিলেন। ঠিক পরবর্তী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ শুক্রবার জুমার রাত্রে উনি স্বপে¦ দেখলেন। একই স্বপ¦। উনি দেখলেন, সেই কবর স্থানে গিয়েছেন। (বাদ তাহাজ্জুদ) যেয়ে দেখলেন সকলেই আবার পূর্বের মত প্রত্যেকেরই কবরের উপর উঠে বসে আছেন। সকলের সামনে নূরের টুকরা রয়েছে। উনি আবার ঠিক পূর্বের মত এক প্রান্ত থেকে শুরু করে অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে শুরু করে হেঁটে হেঁটে এক কাতার এক কাতার করে, সারি সারি করে আবার ঠিক উত্তর-পূর্ব প্রান্তে গিয়ে থামলেন। সেখানে শেষ যে ব্যক্তি ছিল, গত সপ্তাহে যার সন্তানকে তওবা করানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে উনি থামলেন। থেমে তায়াজ্জুব হয়ে গেলেন! উনি বর্ণনা করতেছেন, “প্রত্যেকের সামনে যে নূরের টুকরা ছিল, প্রত্যেকটা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এক সপ্তাহে, তবে স্বাভাবিক। কিন্তু শেষ প্রান্তে যে লোকটা গত সপ্তাহে দেখেছিলাম, যার সামনে কোন নূর বা আলো নেই। যে লাঞ্ছিত, অপমানিত, অবহেলিত অবস্থায় ছিল, তার সামনে গিয়ে আমি তায়াজ্জুব হয়ে গেলাম! এক পাহাড় পরিমাণ আলো, যে আলোর দিকে দৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছিল না।” আমি দেখে বললাম যে, “হে ব্যক্তি! গত সপ্তাহে তোমাকে দেখলাম এত অপমানিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত অবস্থায়। এক সপ্তাহ মাত্র পার্থক্য। এর মধ্যে তোমার পাহাড় পরিমাণ নূর যা সমস্ত কবর স্থানে যত নূর বা আলো রয়েছে, মনে হয় তার চাইতে বেশি, এত বড় নূর তুমি কোথা থেকে পেলে?” সে ব্যক্তি বললো, “হুজুর! মূলত এটা আপনার দোয়ার বদৌলতে আমি পেয়েছি।” বুযুর্গ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, “কি হয়েছে?” তখন সে বললো, “আমার ছেলে আপনার কাছে খালিছ তওবা করেছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, প্রতি ওয়াক্তের পর আমার জন্য সে দোয়া করে থাকে, এবং প্রতিদিন সে আমার জন্য কিছু দান-খয়রাতও করে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ্ পাক আমাকে এই কবর স্থানের মধ্যে সবচাইতে সম্মানিত অবস্থায় রেখেছেন।” (সুবহানাল্লাহ্)