উলামায়ে ‘ছূ’দের হঠকারীতার কারণে, মুসলমানের হাতে মূর্তি দেখে দূর থেকে খিল-খিল করে হাসে শয়তান

সংখ্যা: ১১৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

মক্কা শরীফ থেকে হিজরত করে আট বছর পর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজয়ীর বেশে মক্কা শরীফে প্রবেশ করার পর কা’বা শরীফে ঢুকতে গিয়ে থেমে গেলেন। কারণ, পবিত্র কা’বা ঘরের ভিতরে তখনও বহু সংখ্যক দেব-দেবীর মূর্তি ছিল। তাঁর নির্দেশে তৎক্ষনাৎ সব মূর্তি বের করা হলো। এমনকি বের করা হলো হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম-এরও মূর্তি। যাদের হাতে ছিল যাত্রার শুভ-অশুভ নির্ণায়ক তীরফলক। তা দেখে খুবই ক্ষুব্ধ হলেন রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্ পাক তাদেরকে ধ্বংস করুন। আল্লাহ্ পাক-এর শপথ, তারা অবশ্যই জানতো যে, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম কোন সময় যাত্রার শুভ-অশুভ নির্ণায়ক তীরফলক নিক্ষেপ করেননি।’ (বুখারী )

অর্থাৎ রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লা’নত বর্ষণের পেছনে মূল কারণ এই ছিল যে, যেখানে মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর পুত্র আল্লাহ্ পাক-এর নবী হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম নিজেরাই সারাজীবন মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে আল্লাহ্ পাক-এর একত্ববাদ তথা তাওহীদ প্রচার করেছেন; সেখানে তাঁদেরই মূর্তি তৈরী করা এবং সে মূর্তির হাতে আবার যাত্রার শুভ-অশুভ নির্ণায়ক তীর সন্নিবিষ্ট করা চরম বেয়াদবী, ধৃষ্টতা ও গোমরাহী বৈ কিছুই নয়। আর মূর্তি সব নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম তো বটেই বিশেষ করে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে বেশী ঘৃণা ও ক্ষোভের বস্তু। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আমর ইবনে আব্বাস আস সুলামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনাকে কেন প্রেরণ করা হয়েছে?’ উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে ও মূর্তি ভেঙ্গে ফেলতে এবং আল্লাহ্ পাক-এর সাথে কাউকে শরীক না করে আল্লাহ্ পাক-এর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে।” (মুসলিম)

অতএব, উল্লেখ্য যে, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম-এর মূর্তি বানানোর জন্য যদি কাফিরদের প্রতিই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতটা ক্ষুব্ধ ও রূষ্ট হতে পারেন, আর মূর্তিকে ধ্বংস করার জন্যই যদি তাঁর আবির্ভাবের কারণ বলা হয়ে থাকে, তবে তাঁর উম্মত দাবী করে আজকের নামধারী আলিম সমাজ তথা মুসলমান যখন সাদ্দাম আর ওসামার মূর্তি বানিয়ে মিছিল করে এবং বুশ-ব্লেয়ারের মূর্তি বানিয়ে তাতে আগুন লাগায় তথা কুশপুত্তলিকা দাহ্ করে তখন সে ধরণের জাহিল ও জালিম উম্মতের প্রতি আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কতটুকু রূষ্ট ও ক্ষুব্ধ হতে পারেন?    মূলতঃ তাহলে যে তাঁর উম্মত থেকেই খারিজ হতে হয়, হাজারো হাদীস শরীফ দ্বারা তাই প্রমাণিত হয়; এ কথা কি করে তাদের বুঝানো যায়?

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম মূর্তি সংস্থাপনকারী সম্পর্কে আকসাম ইবনুল জাউন আল খুযায়ীকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আকসাম, আমি আমর ইবনে লুহাই ইবনে কায়াআকে তার নাড়ি-ভুঁড়ি আগুনে টেনে নিয়ে বেড়াতে দেখলাম … কেননা, সেই সর্বপ্রথম হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম-এর দ্বীনকে পরিবর্তন করেছিলো এবং সর্বপ্রথম মূর্তি স্থাপন করেছিলো।” (দারুত তাইয়্যিবা ১/৬৪)  প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করতে হয় যে, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস্ সালাম সম্পূর্ণরূপে তাওহীদের ধারক-বাহক ও প্রচারক হওয়ার পরও তাঁদের ছূরতেই মূর্তি তৈরী করার দ্বারা এই প্রতিভাত হয় যে, এই মূর্তি তৈরী হয়েছিল তাঁদের প্রতি তথাকথিত ভক্তি প্রকাশার্থেই, সম্মান জ্ঞাপনার্থেই, মুহব্বতের প্রাবল্যেই। কিন্তু এ ভক্তি, সম্মান, মুহব্বত যে স্ব-ঘোষিত, মনগড়া, সম্মান গ্রহীতার চরম অপছন্দের ও কঠোর নিষেধ জনিত কাজ; সুতরাং সে কাজ কি করে তার পক্ষে তার প্রতি মুহব্বত স্বরূপ বলে প্রচার করা যেতে পারে?         মূলতঃ ইসলামের পরিভাষায় এ বিষয়কে বলা হয় নেকীর ছূরতে ইবলিসের ওয়াস্ওয়াসা। স্মর্তব্য, ইবলিস বলেছিলো, ‘এ যমীনে তার সবচেয়ে বড় শত্রু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ (নাউযুবিল্লাহ্) আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে অপছন্দের, ঘৃণার, রোষের কাজ হলো মূর্তি। সুতরাং আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে বড় অপছন্দের এই কাজটিই যুগে যুগে মানুষকে জড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন বাহানা দিয়ে, আপাত সুন্দর সুন্দর কথা দিয়ে, দৃশ্যতঃ ধর্মের জজ্বা দিয়ে, ধর্ম বিরোধীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের, প্রতিবাদের ভাষা বলে আখ্যা দিয়ে।

বলাবাহুল্য, এ বিষয়টি তথা নছীহতটি বিবেচ্য বুশ ব্লেয়ারের মূর্তি তৈরী করে আগুন লাগানো তথা কুশপুত্তলিকা দাহ্ আর ওসামা ও সাদ্দামের মূর্তি তৈরী করে মিছিল করার ক্ষেত্রেও। উল্লেখ্য, এ হুজুগে পড়ে বুশ-ব্লেয়ার, ওসামা, সাদ্দামের মূর্তিও অনেক বিক্রি হয়েছে। অথচ এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ও আল্লাহ্ পাক-এর রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ, মৃত পশু-পাখি, শূকর এবং মূর্তি বিক্রয় হারাম করেছেন।’  উল্লেখ্য, ইরাকে হামলার প্রতিবাদে আরো যেসব কর্মসূচী পালিত হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-  কুশপুত্তলিকা তৈরী করে সেটা জুতা পেটা করা, তা কবরস্থ করা, থুথু দেয়া,  ঝাড়ূ পেটা করা, অধঃমুখী করা,  বুশের ছবি পোড়ানো, দেয়ালে দেয়ালে বুশ-ব্লেয়ারের ব্যঙ্গ কার্টুন অঙ্কন, বুশ-ব্লেয়ারের বিকৃত মাস্ক মুখে লাগিয়ে তাদেরকে ধিক্কার প্রদান, মোমবাতি প্রজ্বলন করে শোকসভা, নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিবাদ, শ মশাল প্রজ্বলন করে প্রতিবাদ, শ নির্দিষ্ট সময় নিরবতা পালন করে প্রতিবাদ, শ দশ মিনিট যানবাহনের হর্ণ বাজিয়ে প্রতিবাদ (চট্টগ্রাম), শ সকাল-সন্ধ্যা যানবাহন বন্ধ রেখে প্রতিবাদ(চট্টগ্রাম), শহীদ মিনারে গণঅনশন পালন, সাদ্দামের ছবি নিয়ে মিছিল করে প্রতিবাদ।

বলাবাহুল্য, মূর্তি তৈরীর কারণে, ছবি হওয়ার কারণে, বিজাতীয় বিধর্মীয় অনুসরণ হওয়ার ফলে অথবা মানুষকে কষ্ট দেয়ার কারণে এসবই হারাম কাজের আওতাভুক্ত হয়। আর হারাম কাজের আমলকে আল্লাহ্ পাক কখনই গ্রহণ করেন না। যদিও দৃশ্যতঃ তা মুসলমানদের পক্ষে বা জন্যই করা হয়।

যেমন, হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, হযরত সাহল ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, “কোন এক জিহাদে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুশরিক-কাফিরদের মধ্যে ভীষণ লড়াই হল। মুসলমানদের মধ্যে এক ব্যক্তি অত্যধিক বীরত্ব ও তৎপরতার সাথে কাজ করে। সে যখনই একটু সুযোগ পেয়েছে যে কোন কাফিরকে তৎক্ষণাৎ বধ করেছে।  যখন যুদ্ধের একটু বিরাম ঘটল এবং নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজস্ব লোকদের সঙ্গে একত্র হলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে আরজ করলাম, অমুক ব্যক্তি আজ এত অধিক কাজ করেছে যে, আমাদের মধ্যে অন্য আর কেউই ঐ পরিমাণ কাজ করতে পারেনি। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে দোযখী হবে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ উক্তিতে সকলেই স্তম্ভিত হয়ে গেল। এক ব্যক্তি মনে মনে এ পণ করল, আমি সাথে সাথে থেকে তার অবস্থার অনুসন্ধান করব। সে যেখানেই যে কাজ করে এ ব্যক্তি তার সাথে সাথে থাকে। দোযখী কথিত ব্যক্তির অনুসরণকারী তাকে দেখতে পেল সে এক ভীষণ আঘাত পেয়েছে এবং আঘাতের যন্ত্রণায় ধৈর্যধারণ না করে তরবারী সোজাবস্থায় রেখে তার উপর নিজেকে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। অনুসন্ধানী ব্যক্তি এতদদৃষ্টে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ছুটে আসলেন এবং ভাবাবেগে বলে উঠলেন, আমি পুনরায় সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি বাস্তবিকই আল্লাহ্ পাক-এর রসূল। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কি ব্যাপার? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি পূর্বাহ্নে বলেছেন সে দোযখী হবে এবং আপনার উক্তি শুনে সকলেই স্তম্ভিত হয়েছিলো তখন আমি মনে মনে স্থির করেছিলাম, সাথে সাথে থেকে তার অবস্থার অনুসন্ধান চালাব। আমি তার সাথে থেকে দেখতে পেলাম, সে তরবারী সোজা করে রেখে তার উপর নিজেকে পতিত করে আত্মহত্যা করেছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কোন কোন সময় এরূপ হয় যে, একজন মানুষ প্রকাশ্য দৃষ্টিতে বেহেশ্ত লাভের উপযোগী আমল করতে থাকে বটে কিন্তু সে দোযখী সাব্যস্ত হয়।” (বুখারী)

 উল্লেখ্য, এই হাদীস শরীফের আলোকে এ কথাই বিশেষভাবে বলতে হয় যে, জিহাদের মত নেক কাজে বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরও এমনকি অনেক শত্রুকে খতম করার পর নিজে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে শেষ মুহূর্তে আত্মহনন করার কারণে শুধুমাত্র ঐ আত্মহনন প্রক্রিয়াটি ইসলাম সিদ্ধ নয় বলে জিহাদে অদম্য উৎসাহে অংশগ্রহণকারী, বীরত্ব প্রদর্শনকারী, অনেক কাফির হত্যাকারী এমনকি অবশেষে নিজে আঘাতবরণকারী ব্যক্তি যদি জাহান্নামী হয় তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে ছবি তোলা, মূর্তি তৈরী করা, বিজাতীয় অনুসরণ করা তথা মানুষকে কষ্ট দেয়ার মত ঐসব হারাম আমল কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? কি করে তাকে ইসলামী বলে আখ্যা দেয়া যেতে পারে? কি করে তা মুসলমানদের জন্য হয়েছে, তার দ্বারা মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলা যেতে পারে? আর কি করে এসব আমলের দ্বারা আল্লাহ্ পাক-এর রহমত কামনা করা যেতে পারে? আর আল্লাহ্ পাক-এর রহমত অর্জন ব্যতিরেকে কি করে ইরাক তথা মুসলিম বিশ্বে ইহুদী-খ্রীষ্টান আগ্রাসন নির্মূলের আশা করা যেতে পারে?

মূলতঃ উল্লিখিত আমলের দ্বারা আল্লাহ্ পাক-এর রহমতের পরিবর্তে জহমত তথা লা’নতই কামাই  করা হয়। আর মূলতঃ লা’নতপ্রাপ্ত জীব, মালউন ইবলিসই তাতে ইন্ধন যোগায়, ওয়াস্ওয়াসা দেয়, প্রতিবাদের ভাষা, ঘৃণার প্রতীক ইত্যাদি চকচকে কথা দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে। অথচ বুখারী শরীফের অপর হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “বিদায় হজ্বের পর কা’বা শরীফে প্রবেশের সময় আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একের পর এক মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন আর পবিত্র জবান মুবারকে উচ্চারণ করেছিলেন এই আওয়াজ- “সত্য এসেছে, মিথ্যা দূরীভূত হয়েছে। নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই মিথ্যা দূরীভূত হওয়ার যোগ্য।”       তাই আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই উম্মতরা যখন ইসলামের নামে, ইসলাম বিরোধীদের প্রতিবাদের নামে জায়গায় জায়গায় অসংখ্য মূর্তি বানিয়ে রাখে, মূর্তি নিয়ে মিছিল করে তখন আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উচ্চারিত- “নিশ্চয়ই আমি এসেছি মূর্তি ধ্বংস করার জন্য” এই হাদীস শরীফ অথবা “সত্য এসেছে, মিথ্যা বিদায় নিয়েছে, নিশ্চয়ই মিথ্যা দূরীভূত হওয়ার যোগ্য।” এই আয়াত শরীফের শানের চরম খিলাফ প্রকাশ্যে হারাম কাজ হয়। আর তাই তখন আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যাদানকারী ইবলিস খুশীতে গদ গদ হয় যে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবচেয়ে অপছন্দের কাজ মূর্তি তৈরী করাকেই সে বর্তমান উম্মতদের দ্বারা করাতে সক্ষম হয়েছে। এই সফলতা তাকে দেয় আনন্দ। তাই মুসলমানরাই যখন এরূপ অগণিত মূর্তি তৈরী করে তখন সে দূরে দাঁড়িয়ে হাসে।     মূলতঃ এজন্য সাধারণ মুসলমান যতটা না দায়ী তার চেয়ে বেশী দায়ী নামধারী আলিম সমাজ। কারণ, সাধারণ লোককে কুশপুত্তলিকা দাহ্ সম্পর্কে সচেতন ও নিষেধ করার পরিবর্তে তারা নিজেরাই এ কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অশংগ্রহণ করেছে। তাদের প্ররোচনায়ই অসংখ্য মূর্তি ও ছবি কেনা-বেচা হয়েছে এবং এ টাকার ভাগও তারা নিয়েছে।  মূলতঃ এজন্যই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই দুনিয়াদার আলিমরা সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব।”

– সাইয়্যিদ মুহম্মদ আখতারুজ্জামান, ঢাকা।

তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত পাঠে উপলব্ধি- (১)

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতাম বিভাগ

মতামত বিভাগ