পূর্ব প্রকাশিতের পর
وَيَحْفَظْنَ فُـرُوْجَهُنَّ
তাদের ইজ্জত আবরু তারা যেন হিফাযত করে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পুরুষদেরকেও বললেন, মেয়েদেরকেও বললেন।
وَلَا يُـبْدِيْنَ زِيْـنَـتَـهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْـهَا
তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। এখন যেটা আপসে আপ প্রকাশ হয়ে যায় সেটা ভিন্ন। অর্থাৎ একজন মহিলা যদি কোন জরুরী কাজে বাড়ি থেকে বের হয় পর্দা করেই। সে পর্দা করে বের হলেও কিন্তু পুরুষের জন্য দৃষ্টি দেয়া জায়িয নয়, হারাম। অনিচ্ছাসত্বেও কিছু বিষয় প্রকাশ পায়। চলাচল করলে একজন মহিলা, সাধারণভাবে তার উচ্চতা, তার চওড়া ইত্যাদি ইত্যাদি আমভাবে সেটা প্রকাশ পেয়ে থাকে। এই জন্য সেই মহিলা গুনাহগার হবে না। এবং সেদিকেও দৃষ্টি দেয়া পুরুষের জন্য জায়িয হবে না।
وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُـوْبِـهِنَّ
মহিলারা যেন তাদের পর্দা সামনে টেনে দেয়। অর্থাৎ তারা যেন পর্দা করে চলে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে বলে দিচ্ছেন মেয়েদের জন্য যেমন পর্দা করা ফরয, পুরুষদের জন্যও পর্দা করা ফরয। এখন পুরুষেরা নিজেরাও পর্দা করবে, বেগানা মেয়েদেরকে দেখবে না। আবার তার অধীনস্থ যারা মহিলা তাদেরকেও সে পর্দার ব্যবস্থা করবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উভয়ের জন্য বলে দিলেন।
আর যেটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-
عَنْ حَضْرَتِ الْـحـَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مُرْسَلًا قَالَ بَـلَغَنِيْ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللهُ النَّاظِرَ وَالْمَنْظُوْرَ إِلَيْهِ
হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللهُ النَّاظِرَ وَالْمَنْظُورَ إِلَيْهِ
নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে দেখে এবং দেখায় উভয়ের প্রতি লা’নত। নাউযুবিল্লাহ!
হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন। যে দেখে এবং দেখায় উভয়ের প্রতি লা’নত। নাউযুবিল্লাহ! যে বেপর্দা হচ্ছে এবং করাচ্ছে অর্থাৎ যে নিজে দেখাচ্ছে এবং দেখছে উভয়ের জন্যই সেটা লা’নত হবে। বিষয়টা অত্যন্ত কঠিন বিষয়। আরেক পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হচ্ছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَـنْظُرُ الرَّجُلُ إِلٰى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلَا الْمَرْأَةُ إِلٰى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ
হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا يَـنْظُرُ الرَّجُلُ إِلٰى عَوْرَةِ الرَّجُلِ
একজন পুরুষ আরেকজন পুরুষের ছতরের দিকে তার দৃষ্টি করা জায়েয নেই। আবার একজন মহিলার জন্য আরেকজন মহিলার ছতরের দিকে দৃষ্টি করাটাও জায়েয নেই। তাহলে পর্দাটা কতটুকু, এটা ফিকির করতে হবে। এর গুরুত্ব কতটুকু রয়েছে, সেটা ফিকির করতে হবে। পর্দাটা কতটুকু তাকে পালন করতে হবে, পুরুষ হোক আর মহিলা হোক সকলের জন্য পর্দা ফরয। যেটা আমাদের পত্রিকায় গিয়েছিল অনেক বৎসর আগে। একবার হজ্জের সময় মিনাতে আগুন লেগেছিল, কিছু মানুষ মারা গিয়েছিল। তারমধ্যে কয়েকজন মহিলাও মারা গিয়েছিল। তাদের জীবনীটা প্রকাশ করেছিল পত্রিকায় ছবিসহ। নাউযুবিল্লাহ! সেখানে তারা লিখেছিল এই মহিলারা জীবনে কোন দিন বেপর্দা হয়নি, হজ্জ করতে এসে মারা গেছে। বেশ ভালো কথা। এখন সে হজ্জ করতে যেয়ে ছবি তুললো, এখন যে তার ছবিটা পত্রিকায় দেয়া হলো, নানান চ্যানেলে দেখানো হলো, এখন কতটুকু পর্দা রক্ষা হলো? সে জীবনে কোন দিন পত্রিকায় হয়নি, তাহলে কথাটা কোথায় থাকলো। সেতো সবচেয়ে বেশী বেপর্দা হলো। নাউযুবিল্লাহ! এখন রাস্তা-ঘাটে তাকে যদি কেউ দেখতো বেপর্দাভাবে তাহলে দুই চার, পাঁচ দশজন করে দেখতো। এখন কোটি কোটি লোক তাকে দেখছে। নাউযুবিল্লাহ! পত্রিকায় আসতেছে, নানান চ্যানেলে তাকে দেখানো হচ্ছে। তাহলে কত লোক তাকে দেখলো? তার সারা জীবন যত বেপর্দা হয়েছে তার চাইতে লক্ষ কোটিগুণ বেশি সে বেপর্দা হয়ে গেল। নাউযুবিল্লাহ! এখন সেখানে দেখা গেল সে হজ্জ করতে যেয়ে ছবি তুলেছে সেই ছবির কারণে আজকে সে বেপর্দা হয়ে গেল। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে এখানে গুনাহ কতগুলি হলো? এটাতো ফিকির করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে পর্দাকে ফরয করে দিলেন, মহিলাদের জন্য। তাহলে মহিলাদের এ বিষয় কতটুকু সতর্ক থাকতে হবে। কতটুকু সাবধান থাকতে হবে। সে বিষয়টাতো স্পষ্ট করে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিয়েছেন, উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও বলে দিয়েছেন। বিশেষ করে পবিত্র হাদীছ শরীফে অনেক বর্ণনা রয়েছে, অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বললেন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে-
وَإِذَا سَأَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ
সাধারণভাবে একজন পুরুষ যদি মহিলাদের কাছে কিছু নিতে চায় তাহলে পর্দার আড়াল থেকে চেও। চাইতে হয় যদি কোন মাল-সামানা, তাহলে পর্দার আড়াল থেকে চাবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
ذٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوْبِكُمْ وَقُـلُوْبِهِنَّ
এটা হচ্ছে তোমাদের জন্য, পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্য অন্তরের পবিত্রতার কারণ। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে পুরুষ মহিলা সকলের অন্তর যেন পবিত্র থাকে সে বিষয়টা বলে দিচ্ছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ السَّادِسَةِ أُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ أَنَّـهَا كَانَتْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَضْرَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ عَشَرَ مَيْمُونَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ إِذْ أَقْـبَلَ حَضْرَتْ اِبْنُ مَكْتُومٍ رَضِىَ الله تَـعَالٰى عَنْهُ فَدَخَلَ عَلَيْهِ فَـقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اِحْتَجِبَا مِنْهُ فَـقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَيْسَ هُوَ أَعْمٰى لَا يُـبْصِرُنَا؟ فَـقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفَـعَمْيَاوَانِ أَنْـتُمَا؟ أَلَسْتُمَا تُـبْصِرَانِهٖ؟
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন।
তিনি একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বসা ছিলেন। পাশে ছিলেন আরেকজন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম তিনিও ছিলেন।
তিনি বর্ণনা করেন। এ অবস্থায়
إِذْ أَقْـبَلُ حَضْرَتْ اِبْنُ مَكْتُومٍ رَضِىَ الله تَـعَالٰى عَنْهُ فَدَخَلَ عَلَيْهِ فَـقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
একজন ছাহাবী ছিলেন, যিনি উনার চক্ষু মুবারকে দেখতেন না। তিনি হলেন হযরত ইবনে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি এসে যখন প্রবেশ করতেছিলেন তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন-
اِحْتَجِبَا مِنْهُ
আপনারা উনার থেকে পর্দা করুন। এটা উম্মতদেরকে ইবরত দেয়ার জন্য, নছীহত করার জন্য। এতে উম্মতদের জন্য ইবরত রয়েছে, নছীহত রয়েছে। উনারাতো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সমস্ত উম্মতদের মাতা। কাজেই উনাদের যে পর্দার বিষয়টা, উম্মতদের শিক্ষার জন্য প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটা উম্মতদের জন্য কঠিন একটা চিন্তার বিষয়, ফিকিরের বিষয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন-
اِحْتَجِبَا مِنْهُ
আপনারা উনার থেকে পর্দা করুন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন-
فَـقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَيْسَ هُوَ أَعْمٰى لَا يُـبْصِرُنَا؟
ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনিতো আমাদেরকে দেখবেন না। উনিতো চোখে দেখেন না, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনিতো আমাদেরকে দেখবেন না।
فَـقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি বললেন? উম্মতদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য বললেন-
أَفَـعَمْيَاوَانِ أَنْـتُمَا؟ أَلَسْتُمَا تُـبْصِرَانِهٖ؟
এই ছাহাবী যিনি হযরত ইবনে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি চোখে দেখেন না। আপনারাতো চোখে দেখেন। আপনারাও কি দেখবেন না? তিনি হয়ত দেখতে পারছেন না ঠিক আছে। আপনারাতো দেখতে পাবেন। সেহেতু আপনাদের পর্দা করতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনারা যে দু’জন ছিলেন উনারা ভিতরে চলে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! অথচ উনারা হচ্ছেন
وَأَزْوَاجُهٗ أُمَّهَاتُـهُمْ
সমস্ত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত উম্মতদের মাতা। মায়ের সাথে সন্তানের পর্দাতো প্রশ্ন আসে না। তারপরও এখানে পর্দার নির্দেশ দেয়া হলো। এটাই যদি হয় তাহলে উম্মতদের জন্য পরস্পর তাদের কতটুকু পর্দা পালন করতে হবে। এটা ফিকির করতে হবে। এ বিষয়টা ফিকির করতে হবে। পর্দার কত গুরুত্ব এখানে বলে দেয়া হয়েছে। (অসমাপ্ত)