ভারতে মুসলমানদের উপর হিন্দুদের বর্বরতা ও পৈশাচিক আক্রমণ ॥ প্রাচীন কাল হতেই হিন্দুদের এই নির্মম প্রবণতা॥  ঐতিহাসিক দলীল সম্বলিত একটি অনুসন্ধানী রচনা

সংখ্যা: ১০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

            উহ! কি মর্মান্তিক! কি জঘণ্য! কি হিংস্রতা! কি অকল্পনীয় পৈশাচিকতা! কি উন্মাসিক সহিংসতা! কি অমানুষিক বর্বরতা! সব শব্দ আর ভাষাই যেন বিমূঢ় হয়ে পড়ে, গুজরাট সহিংসতায় পশুবৎ হিন্দুদের দ্বারা মুসলমানদের জীবন্ত পুড়ে শহীদ করার চিহ্ন দেখে, তাদের অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশগুলো দেখে। শুধুমাত্র মুসলমান বলে তাদের উপর, হিন্দু জাতি এতটা বর্বর আক্রমণ চালাতে পারে? হোক সে যে ধর্মের? তাই বলে মানুষ; মানুষের উপর এত হিংস্র হতে পারে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।  মুসলিম বিরোধী মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের পরও ঘটনার বিশেষ ব্যাপকতার কারণে যদিও গুজরাটে মুসলিম নিধনের কিছু কিছু খবর প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু তা খুবই অপ্রতুল।

সূত্রে প্রকাশ, গত ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে ভারতের গুজরাট রাজ্যে হিন্দুরা মুসলমানদের শহীদ করেছে সংখ্যায় ৩/৪ হাজার। আহত করেছে ৮/১০ হাজার। সরাসরি আগুনে পুড়িয়ে শহীদ করেছে ৫ শতাধিক। ছুরিকাঘাতে ৬’শ ১৫ জন, পুলিশের গুলিতে ২’শ ৩০ জন। বসতবাড়ী ভস্মীভূত হয়েছে ১০ হাজার। দোকান-পাট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভস্মীমূত হয়েছে ১২ হাজার। উপদ্রুত এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার লোক ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। ক্যাম্পের সংখ্যা ১০৫। পরিসংখ্যান মতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮/১০ হাজার কোটি রূপি।

মুসলমানদের প্রতি ভারতের হিন্দুদের এই পৈশাচিক আক্রমন ও বর্বরতা মুসলিম বিরোধীদেরও আতঙ্কগ্রস্থ করে তোলে। ২২শে এপ্রিল ২০০২  NEWS WEEK”  এ মন্তব্য করা হয়, The World’s second Largest Muslin population has fallen behlnd the Hindu main stream.            অন্যত্র মন্তব্য করা হয়,

What Gujrat witnessed were not just crimes against people, but crimes against the society as a whole, indeed offences against pluralist democratic order and the Constitution of India. Gujrats barbarism falls into the category of crimes against humanity (Front Line, April 26/2002)   কিন্তু কথা হলো, এটা কি ভারতের জনবিচ্ছিন্ন একদল মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দুদের উগ্রকার্যকলাপ? এটা কি নেহায়েত সাম্প্রদায়িকতা? এটা কি গুজরাট সরকার নরেন্দ্র মোদীর মুসলিম বিরোধী হিন্দু সেন্টিমেন্ট আদায়ের রাজনৈতিক কৌশল? একইভাবে বিজেপি প্রধান বাজপেয়িরও কৌশল?  যদিও অনেকে সেভাবেই বিশেষিত করেছেন কিন্তু আসল বিষয়টি আরো গভীরে এবং তা আর রাখঢাকের ভিতরে নয়।   বিবিসি ও ইন্টারনেট সূত্র বৃটিশ গোপন রিপোর্টের শিরোনামে মন্তব্য করেছে, “গুজরাটে মুসলমানদের উপর চলছে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান” ভারতের বৃটিশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুজরাটের সাম্প্রতিক ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত এবং এই দাঙ্গায় গুজরাট সরকারের সমর্থন ছিলো। (বিবিসি, ইন্টারনেট)  এই গোপন রিপোর্টে আরো বলা হয়, গুজরাটের মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটা এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে। রাজ্যে বর্তমান মূখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে আর আপোষ-রফা সম্ভব নয়।  গুজরাটের সাম্প্রদায়িক বর্বরতা কোন ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটেনি বরং এটা ছিল পরিকল্পিত। সম্ভবত কয়েক মাস আগেই এ ঘটনার নীল-নকশা করেছিল রাজ্য সরকারের সমর্থনে একটি চরমপন্থী হিন্দু দল। নীল-নকশার লক্ষ্য ছিলো হিন্দু এলাকাগুলো থেকে মুসলমানদের জোর-জবরদস্তি ও সহিংসতা দিয়ে উচ্ছেদ করা।  এছাড়া ইইউ কূটনীতিকদের তদন্ত রিপোর্টে যা বলা হয়, ‘কয়েক মাস আগেই গুজরাটে মুসলিম হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিলো।’

 ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেমন, বৃটেন, জার্মানী ও হল্যান্ডের দূতাবাসের কূটনীতিকদের তৈরী এক তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি ‘ফাইন্যানসিয়াল টাইমস’-এর ইউরোপীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

 রিপোর্টে বলা হয়, গুজরাটের ঘটনা ছিল মুসলমানদের নির্মূল এবং তাদের অর্থনীতিকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এমনি এমনি এটি ঘটেনি। আর এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো, রাজ্যের মন্ত্রীরাও। এই জঘণ্যতম ধর্মীয় দাঙ্গায় রাজ্য সরকারের সমর্থন ছিলো। মুসলমানদের গণহারে শহীদ করার ঘটনায় রাজ্যমন্ত্রীদের জড়িত থাকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।    এতে বলা হয়, গোধরার ঘটনা এটা ছুতো ছাড়া আর কিছু নয়। গুজরাট হত্যাকান্ড ঘটানোর পরিকল্পনা কয়েক মাস আগেই নেয়া হয়েছিলো। ঘটনার আগে বিনামূল্যে অস্ত্র বিতরণ করা হয়। রিপোর্টে বিজেপি ও গুজরাট রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়, সেখানে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের দাঙ্গায় হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দেয়া হয়।

 ফিন্যানসিয়াল টাইমসে বলা হয়, কূটনীতিকরা এই প্রথম গুজরাটের ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

উল্লেখ্য, গুজরাটের এ ঘটনা ভারতের হিন্দু কর্তৃক মুসলমান নির্যাতনের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক সমীক্ষায় প্রকাশ, ১৯৪৬ সাল থেকে এযাবৎ ভারতে ছোট-বড়  মিলিয়ে প্রায় ১৮০০০ দাঙ্গা ঘটে এবং এতে হত্যা হয়েছে, দশ লক্ষাধিক মুসলমান। দখল করা হয়েছে হাজার হাজার মসজিদ, সেগুলোকে বানানো হয়েছে ক্লাব।

(চলবে)

-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা।

একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম  আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে

ইল্মে আক্বলিয়ার দৈন্য এবং বেলায়েতের অনুপস্থিতির  কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরী হচ্ছে না

খাবার স্যালাইন কি জীবন বাঁচায়? ইসলামী রাজনীতিকরা কে কোথায়?

ইমামুল আছর, আমিরুল কুলূব, কামরুস্ সূফীয়া, আমিরুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বত, গাউসে সাকালাইন, ইমামে রব্বানী, আশিকুল্লাহ্, মুর্শিদে বরহক, ফক্বীহুল উম্মাত, শাইখুশ্ শুয়ূখ, আফযালুল আউলিয়া, নক্শায়ে নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), জামিউল মা’কুলাত ওয়াল মানকুলাত, উস্তাজুল উলামা, সিরাজুম্ সালিকীন, মা’দানে কারামত, মাসদারে কামালত, দাফিউল কুফ্র ওয়াদ্ দ্বলালাত,  ছহিবে উস্ওয়াতুন্ হাসানা, ছহিবে জামাল ওয়াল কামাল, মুহাক্কিকে যামান, ফখরুল মুহাদ্দিসীন, রঈসুল মুতাকাল্লিমীন, মুবাহিসে আ’যম, হাদীয়ে মিল্লাত, ইমামদ্ দুনিয়া ফী ইলমিল ফিক্বহে ওয়াত্ তাছাউফ, ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ্, সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর  নাম মুবারকের পূর্বে ব্যবহৃত লক্বব বা উপাধী এবং তার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ 

“ফযলুর জিহালতীর জবাব” সত্যিই রাজারবাগীদের নিকট ‘দ্বীনে রেযাখানী’ নিরাপদ নয়