পাঠক! আমি ৮৩তম সংখ্যায় প্রমাণ করেছিলেম, “ভণ্ড জলীল কুফরী বার্তায় তার নামের পূর্বে ৩টি ও তার কথিত আলা হযরতের নামের পূর্বে ২টি লক্বব ব্যবহার করে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এর পূর্বে মাত্র ১টি লক্বব ব্যবহার করে চরম বেয়াদবী ও কুফরী করেছে।”
এর জবাবে ভণ্ড পীর ছদ্মবেশি মোফতে মুবারক যা লিখেছে তা তাকে সত্যিকার অর্থে একজন আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হিসেবে প্রমাণিত করেছে।
সে লিখেছে, “আল বাইয়্যিনাতে নবীজির লক্বব লিখেছে ৩টি আর আল বাইয়্যিনাতের প্রতিষ্ঠাতার লক্বব লিখেছে- একবার বলেছে ১৫টি আবার বলেছে ৫২টি। কিন্তু কোন সংখ্যায় কত পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে তা কিন্তু অদক্ষ জলীল লিখে নাই। সে সুক্ষ্মভাবে সাধারণ মানুষদের ধোকা দিয়ে নিজকৃত বেয়াদবী ও কুফরী থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এরূপ প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আমি সাধারণতভাবে রেযা খাঁ ও জলীলের লক্বব বেশি হওয়ার ও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্বব মুবারক কম হওয়াকে বেয়াদবী ও কুফরী বলেনি বরং বিশেষভাবে পাশাপাশি নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে লক্বব বা তা’যীম-তাকরীম কম বেশি হওয়াকে বেয়াদবী ও কুফরী বলেছি। আর তারা মূলতঃ এ কাজটিই করেছে।
কিন্তু মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর কোথাও দেখাতে পারবে না যে, পাশাপাশি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক ও আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতার নাম উল্লেখ রয়েছে, অথচ সেখানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্বব মুবারক কম ও আল বাইয়্যিনাত উনার প্রতিষ্ঠাতার লক্বব বেশি।
পাঠক! যদি আম বা সাধারণভাবেও ধরা হয় তবেও ভ-পীর জলীল ছদ্মবেশি মোফতে মুবারক মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়। কারণ সে সাধারণভাবে সকল আল বাইয়্যিনাত-এর সংখ্যাগুলো হিসাব করে লিখেছে “৪১-৮৩” সংখ্যা পর্যন্ত সবগুলোতে ৩১৫টি লক্বব ব্যবহার করেছে।” কিন্তু আল বাইয়্যিনাতের উক্ত সংখ্যাগুলোতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কতগুলো লক্বব মুবারক ব্যবহার করা হয়েছে, তার হিসাব কিন্তু জলীল ছদ্মবেশি মোফতে মুবারক দেইনি।
অথচ আল বাইয়্যিনাত-এর ৪১-৮৩তম সংখ্যা পর্যন্ত আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক হাজারেরও বেশি লক্বব মুবারক ব্যবহার করা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে তবে প্রমাণিত হলো যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এক্ষেত্র আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কোন প্রকার বেয়াদবী করেননি। তাই তিনি কাফিরও নন। বরং ভ-পীর, জাহিল, কাজ্জাব, অদক্ষ জলীল ছদ্মবেশি মুবারক “রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা উনাকে কাফির বলার কারণে সে নিজেই কাফির হয়ে গেছে।
অদক্ষ জলীল যেহেতু মহা জাহিল। তাই সে ‘আম’ ও “খাছের” মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি বলেই খাছের ফতওয়া আমের মধ্যে নির্লজ্জভাবে চাপিয়ে দিয়েছে। এক জায়গার ফতওয়া আরেক জায়গায় প্রয়োগ করা ভণ্ডামির পরিচয় নয় কি? তাই তো কথায় বলে “আগুন লাগে জলীলের ঘরে কিন্তু পানি ঢালে খলীলের ঘরে।
পাঠক! ছদ্মবেশি মোফতে মুবারক সংক্ষিপ্তভাবে দরূদ শরীফ লিখার ক্ষেত্রে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা দেখিয়ে রেযা খাঁ প্রদত্ত কুফরী ফতওয়া থেকে রেহাই পেতে চেয়েছে। তার বক্তব্য হলো সুন্নীাবার্তায় দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লেখা হয়না। বরং দরূদ দিয়ে সংকেত বা ইশারা দেয়া হয়।
কিন্তু এটা যে আরো অধিক ‘সংক্ষেপ’ এ অনুভূতি কিন্তু তাদের নেই। কারণ এর দ্বারা সে সম্পূর্ণ দরূদ শরীফই তরক করলো। শুধু তাই নয়, সে সংকেতকেও সংক্ষেপ করলো, (দরূদ শরীফ) না লিখে (দঃ) লিখলো। কাজেই এটাও এক প্রকার সংক্ষেপ। কেননা উক্ত (দঃ) দ্বারা দরূদ শরীফকেই বুঝানো হয়েছে।
সে লিখেছে “দরূদ শরীফ-এর সংক্ষেপ করা হারাম কিন্তু সংকেত দেয়া উত্তম।” তার একথার দলীল কোথায়? নির্ভরযোগ্য কোন কিতাব থেকে সে দলীল পেশ করতে পারবে কি? যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে যেন পরবর্তী সংখ্যায় তার দলীল পেশ করে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- ভ-পীর অদক্ষ জলীল ছদ্মবেশি মোফতে মুবারক লিখেছে- “… একইভাবে সংক্ষিপ্তকরণ অবশ্যই দোষণীয়। কিন্তু সুন্নীবার্তায় কি এরূপে কোন স্থানে লেখা হয়েছে? হয় নাই। সুতরাং ঐ ফতওয়া সুন্নী বার্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।” …
মোফতে মুবারক যে দাবী করেছে, তার সে দাবী সম্পূর্ণই মিথ্যা, আর উক্ত ফতওয়া সুন্নী বার্তার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রযোজ্য। কারণ সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরী বার্তার ১০-১১ নং বুলেটিনের ১৭ পৃষ্ঠায় দরূদ শরীফ “صلعم” দ্বারা সংক্ষেপে লেখা হয়েছে। আর তার রেযা খাঁর লিখিত “মজমুয়ায়ে রাসায়েল” এর বর্ণনা মতে “صلعم” দ্বারা দরূর শরীফ সংক্ষেপ করা কুফরী। কাজেই উদোর পি- বুদোর ঘারে নয়, বরং রেযা খাঁর পি- (ফতওয়া) জোলার ঘারে।
পাঠক! মিথ্যা বলতে যে অভ্যস্ত, সেই মহাকাজ্জাব অদক্ষ জলীল ছদ্মবেশি মোফতে মুবারক সর্বশেষ যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, তাহলো- সে লিখেছে, “আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩নং সংখ্যায় ৩য় পৃষ্ঠায় রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা নাকি কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফকে বাংলায় সংক্ষিপ্ত করেছেন (রাঃ) দ্বারা।”
অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৩তম সংখ্যার ৩য় পৃষ্ঠায় এধরণের কোন আয়াত শরীফই উল্লেখ নেই।
গ-মুর্খ জলীল- ছাহাবী হযরত আবূ উসাইদ “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” উনার নাম মুবারক-এর পরে ব্যবহৃত (রাঃ) কেই কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ সংক্ষিপ্তকরণ বলেছে। অথচ কুরআন শরীফ-এর আয়াত হচ্ছে। “رضى الله عنهم” “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু”- আর সেখানে লেখা হয়েছে- “رضى الله عنه” রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।”
কাজেই এটা কি করে কুরআন শরীফ-এর আয়াত হলো? তবে কি গোমরাহ জলীলের মতে “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” কুরআন শরীফ-এর আয়াত? যদি সে এটাই মনে করে থাকে তবে তো সে নাম্বারবিহীন কাফির। কারণ সে কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফই পরিবর্তন করে ফেলেছে।
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
কিছু দিন পূর্বে ঢাকার “পার্টি হাউজে” বিবাহের দাওয়াত খেতে এসেছিল সুন্নী ফিরকার স্বঘোষিত মহাসচিব হঠাৎ গজিয়ে উঠা তথাকথিত পীরে তরীক্বত ভ- অদক্ষ জলীল। তার পার্টি হাউজের বিবাহ অনুষ্ঠানে আগমনই প্রমাণ করে যে, সে আসলেই একজন ভ- ও গোমরাহ। কারণ একজন হক্কানী আলিম বা ওলীর পক্ষে কস্মিন কালেও এধরণের বেপর্দা ও বেহায়া পরিবেশে দাওয়াত খেতে আসা সম্ভব নয়।
ভ- পীরে তরীক্বত দাওয়াত খেতে এসে শুধু বেহায়া বে-পর্দার ন্যায় হারাম কাজই করেনি বরং সহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা হারাম প্রমাণিত ছবিও তুলেছে বিরামহীন ভাবে। অথচ একজন সাধারণ মুসলমানকেও এভাবে ছবি তুলতে দেখা যায়না। তাই প্রশ্ন জাগে “কথিত পীরে তরীক্বত কি বিয়ে খেতে এসেছিল না ছবি তুলতে?”
পাঠক! যারা এভাবে প্রকাশ্যে হারাম কাজ করে বেড়ায় তারা আবার পীরে তরীক্বত হয় কি করে? এটা তার সুস্পষ্ট প্রতারণা ও ভ-ামী নয় কি? কাজেই মুসলমানদের উচিত সময় থাকতে এধরণের ভ- ও প্রতারকদের খপ্পর থেকে নিজের মহামূল্যবান ঈমানকে হিফাযত করা।
-মুহম্মদ ওয়াজিহুল্লাহু, শান্তিবাগ, ঢাকা।
রেযা খাঁর ভুল ভ্রান্তি-১
পাঠক! রেজভী ফেরক্বা ও ফিৎনার উদ্ভাবক বাশ বেরেলীর অখ্যাত তাছাউফ শুণ্য তথাকথিত আশেকে রসূল রেযা খাঁর সবচেয়ে বড় ভুল ও ভ্রান্তি হচ্ছে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, শহীদে আযম, ছহেবে ইলমে লাদুন্নী, বাহরুল উলূম ওয়াল হিকাম, শায়খুল আরব ওয়াল আযম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সিরাজুল উম্মত, আসাদুল্লাহ, মুহইস সুন্নাহ, দাফিউল বিদয়াত, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, আমীরুল মু’মিনীন, ইমামে তরীক্বায়ে মুহম্মদিয়া, আওলাদে রসূল, ইমামে আহলে সুন্নত, শায়খে আ’লা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বিনা দলীলে ও অন্যায়ভাবে ওহাবী ও কাফির অপবাদ দেয়া।
রেযা খাঁর প্রদত্ত অপবাদ খ-নের পূর্বে আমি আপনাদের সম্মুখ্যে “শহীদে আ’যম” আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পুতঃপবিত্র জীবনি মুবারক” সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরবো। যা রেযা খাঁর প্রদত্ত অপবাদ খ-নে বিশেষ সহায়ক হবে।
আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পুতঃপবিত্র জীবনি মুবারক”
বাল্যকাল
যে বয়সে বালকগণ খেলাধুলা, আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকে তিনি সে বয়স থেকে নির্জনতা অবলম্বন এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চিন্তা-ভাবনা করতেন। উনার শৈশব কাল সম্পর্কে “সাওয়ানেহ আহমদী” কিতাবে তিনি নিজেই বলেন, বাল্যকাল হতেই আমার মনে এই ধারণা বা ভাব উদয় হতো যে, একদিন আমি কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবো। তাই শৈশবেই দেখা যায় তিনি উনার সঙ্গী-সাথীদের দুই দলে বিভক্ত করে দু’টি পরস্পর সৈন্যবাহিনী দাঁড় করিয়ে দিতেন। একটি দলের আমির হয়ে তিনি উনার নাম দিতেন। “মুজাহিদে ইসলাম” অন্য দলটির নাম দেওয়া হতো “কাফির বাহিনী।” এইভাবে দু’টি দলের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যেত। যুদ্ধে যখন “মুজাহিদে ইসলাম” বাহিনী জয় লাভ করতো তখন তিনি ও উনার সঙ্গীগণ খুব জোরে শোরে তাকবীর ধ্বনি দিতেন। আর এটা হবে না-ই বা কেন? তিনি যে আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত সাইয়্যিদুনা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত সাইয়্যিদুনা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম জিহাদের ময়দানে কাফিরদের বিরুদ্ধে সিংহের মত গর্জে উঠতেন। জিহাদের ময়দানে উনার ডান পার্শ্বে সাহায্যকারী হিসেবে থাকতেন হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আর বাম পার্শ্বে থাকতেন হযরত মিকাইল আলাইহিস সালাম। হযরত সাইয়্যিদুনা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র রক্তধারা যে উনার জিসম মুবারক-এ মিশে আছে। কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যে উনার বংশগত ঐতিহ্য। এই জন্যই দেখা যায়, উনার জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বহু জিহাদ করেছেন। ভারতবর্ষ থেকে কাফিরদের অস্তিত্ব তুলে দেয়ার জন্য তিনি আকোড়ার যুদ্ধ, শিধূর যুদ্ধ, উতমান জাইর যুদ্ধ, পানজতার যুদ্ধ, ফুলড়ার যুদ্ধ, মর্দান যুদ্ধ, মায়ার যুদ্ধসহ আরো অনেক যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি কাফিরদের মুকাবিলায় তরবারী পরিচালনা করেছিলেন। অবশেষে ১৮৩১ সালে বালাকোটে শিখ, খ্রিস্টান ও মুনাফিক সীমান্ত সরদারদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে গিয়ে শাহাদত বরণ করেছেন।
“মাখজানে আহমদী ১৮ পৃষ্ঠায়, সাওয়ানেহ আহমদী, সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ” করাচী ছাপা ৯০ পৃষ্ঠায় লিখা আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রায় বেরেলী থেকে দিল্লী এলেন সিরাজুল হিন্দ, ইমামুল মুহাদ্দিস হযরত শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত ও ছোহবত লাভে জন্য। প্রথমেই তিনি উনাকে সুন্নাত ত্বরীকা মুতাবিক সালাম পেশ করলেন এবং উনার সাথে মুসাফা করলেন। হযরত শাহ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সালাম দেয়ার সুন্নাত ত্বরীকা ও আদব কায়দা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণে এলেন? জবাবে তিনি বললেন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মারিফত হাছিলের জন্য। শাহ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এরপর জিজ্ঞেস করলেন, কোন বংশের? তিনি বললেন, সাইয়্যিদ বংশের। তখন হযরত শাহ আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খুশি হয়ে বললেন, এটা তো আপনারই বংশগত মিরাসী হক। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল-করম আপনিও তা অর্জন করতে পারবেন। এরপর তিনি উনাকে চার তরীকায় বাইয়াত করালেন এবং হযরত শাহ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নেক ছোহবতের কারণে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে সুলুকের রাস্তা অতিক্রম করে মনজিলে মাকসুদে পৌঁছে গেলেন। হযরত শাহ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বল্প সময়ে আপন মুরীদের এহেন তরক্কী ও উন্নতী দেখে অত্যন্ত খুশি হলেন এবং উনার গোটা খান্দানের নামাজাদা আলেমদেরকে উনার কাছ থেকে ফয়েজ হাছিল ও তা’লিম নেয়ার জন্য বিশেষ তাগিদ দিলেন। অতঃপর উনাকে খিলাফতের খিরকা পরিধানে ভূষিত করে বিদায় দিলেন।
-মুফতী, আবুল হাসান, মতলব, চাঁদপুর।
(ধারাবাহিক)
গত সংখ্যায় সামান্য আলোকপাত করা হয়েছিল যে, মাসিক মদীনা মুসলমানদের মৌলিক বিষয়ে সহীহ ইসলামী শিক্ষার পরিবের্ত ভুল ও বিকৃত শিক্ষা দিয়ে কিভাবে মুসলমানদের মুসলমানিত্ব নষ্ট করেছে। এ পর্যায়ে গত পর্বে ইসলামের মৌলিক শেয়ার আযান প্রসঙ্গে মাসিক মদীনা যে কত জঘন্য ভুল শিক্ষা দিয়ে মুসলমানদের মারাত্মকভাবে বিভ্রান্ত করছে তার প্রমাণ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত নামায নিয়েও তার ভুলগুলো তুলে ধরা হলো-
(১) বিষয় ঃ নামায, প্রসঙ্গঃ সিজদা
মাসিক মদীনা ফেব্রুয়ারি/৯৫ ঈসায়ী সংখ্যায় বলেছে, “সিজদার সময় মাটিতে অঙ্গ স্থাপন করার শুদ্ধতম ধারাবাহিকতা হচ্ছে, প্রথমে কপাল স্থাপন করতে হবে।” (দলীল নেই)
মাসিক আল বাইয়্যিনাত ঃ “সিজদায় যেতে আগে নাক মাটিতে স্পর্শ করতে হবে পরে কপাল।” (দলীল- সমূহ ফিক্বাহর কিতাব)
পাঠক! নামায বেহেশতের চাবি। নামায মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে ফারাককারী। কিন্তু মাসিক মদীনা সম্পাদকের হাতে সে নামাযও নিরাপদ নয়।
সকলেই অবগত যে, বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সেজদার সময়। লা-শরীক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে সিজদা দিয়ে মুসলমান প্রমাণ করে যে, সে অন্য সব শক্তিকে বাদ দিয়ে একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বন্দেগী করতে নিবেদিত। সিজদার সময় তার এই বন্দেগীর ভাব সবচেয়ে বেশি ও পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ পায়। আর মু’মিনের সেই পরম পাওয়া ও স্পর্শকাতর মুহুর্তকেই নস্যাৎ করার জন্য মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের কলমে ইবলিস শয়তান ভর করেছে। সে লিখেছে, “সিজদার সময় আগে কপাল পড়ে নাক লাগাতে হবে।”
অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ সাধারণ মাসয়ালাটি সাধারণ মুসলিম বালকেরও জানা। কিন্তু মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন ধর্মের খেদমত নয় বরং ধর্মের নামে ব্যবসাতেই প্রবৃত্ত রয়েছে বলে তার ইলম সলব হতে হতে আজ সাধারণ বালকের চেয়েও অধম হয়েছে। সঙ্গত কারণেই তাই এ ধরণের পত্রিকা বন্ধে আশু পদক্ষেপ দরকার। (চলবে)
-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ।
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ করেন, “মিথ্যাবাদীদের উপর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত।”
আর হাদীছ শরীফ-এ আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কোন ব্যক্তি মিথ্যা বাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই প্রচার করে।”
তথাকথিত পীরে তরীক্বত, ভ- ও গুমরাহ জলীল একটি লিফলেটের সত্যতা যাচাই না করেই তার গুমরাহী ও কুফরী বিস্তারের মুখপত্র তথাকথিত সুন্নী ওরফে ‘কুফরী বার্তায়’ লিফলেটের মিথ্যা কথা গুলো বার বার প্রচার করে নিজের জিহালতির প্রকাশ ঘটাচ্ছে। অদক্ষ ও ভ- জলীলকে বলছি এই মিথ্যা লিফলেটটি ধুয়ে আর কত পানি খাওয়া হবে? মূলতঃ উক্ত লিফলেট ধুয়ে সারা জীবনও যদি ভ- জলীল পানি খায় তবুও কোন ……., কারণ মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন যে, ভ- জলীলের প্রকাশিত লিফলেটের কথাগুলো শুধু মিথ্যাই নয় বরং ডাহা মিথ্যা।
পাঠক! ভ- জলীলও শেষ পর্যন্ত ওহাবীদের ব্যর্থ পদ্ধতি অবলম্বন করলো। অর্থাৎ ওহাবীরা যেরূপ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা ও আমলে কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি বের তবে যখনই মাসিক আল বাইয়্যিনাতে তাদের মুরব্বী থানবী ও গাংগুহীদের ‘লক্বব’ তুলে ধরা হলো তখনই তারা ইঁদুরের ন্যায় গর্তে লুকালো। ঠিক ওহাবীদেরই অনুসরণে ভ- ও গুমরাহ জলীল যামানার মুজাদ্দিদ, গাউছুল আযম, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আক্বীদা ও আমলে কোন ভুল না পেয়ে ওহাবীদের ব্যর্থ পদ্ধতি ‘লক্বব’ নিয়ে হৈ চৈ শুরু করছে। তবে আর বেশি দেরি নয় কিছু দিনের মধ্যে ওহাবীদের ন্যায় এই ভ- বিদয়াতী ও গুমরাহ জলীলও ইঁদুরের গর্তে লুকাবে। ইনশাআল্লাহ!
-মুহম্মদ ইয়াসীন, আড়াইহাজার।
“সারা ভারতে এখন ইংরেজ রাজত্ব তথা এক রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বৈদ্যুতিক তারের সাহায্যে সব জায়গায় সমভাবে খবর পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। রেল লাইনের সাহায্যে সব জায়গায় যাতায়াতও সম্ভব হয়ে উঠছে। সুতরাং এখন ধর্মও এক হয়ে যাওয়া উচিৎ। সকলেরই খ্রিস্টান ধর্মে গোপনে নয় প্রকাশ্যেই ইংরেজ সরকারের মদদে পাদরীদের তরফ থেকে জনগণের কাছে, সাধারণভাবে এবং উর্ধ্বতন কর্মচারীদের কাছে বিশেষভাবে বহু চিঠি-পত্রি প্রচারিত হওয়া শুরু হল। নি¤েœ এ বিষয়ে পাদরী এডমন্ডের একটি চিঠির অনুবাদ দেয়া হল, পাদরী ই. এডমন্ডের পত্রানুবাদ ভারতের শিক্ষিত অধিবাসীদের সমীপে-
“মনে হয়, এখন এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে যে, সকল মানুষের একই ধর্মে দীক্ষিত হওয়া উচিত কিনা? রেলগাড়ী, স্টিমার, বৈদ্যুতিক তার দ্রুত গতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করছে। যতই বিভিন্ন জাতি পরস্পর নিকটবর্তী হচ্ছে, ততই এটা প্রতিপন্ন হতে চলেছে যে, প্রত্যেকটি মানুষের প্রয়োজন এবং চিন্তাধারা এবং আশা আকাঙ্খাও এক। আবার এটাও শাশ্বত সত্য যে, মৃত্যু সকলের জন্য পৃথিবীর এই দৃশ্যকে নিঃশেষিত করে দিচ্ছে। সুতরঅং এমন কোন উপায় কি নেই, যাতে জীবনের দুঃখ-কষ্ট এবং চিন্তা-ভাবনা কমানো যায় এবং মৃত্যুর সময় মানুষ শান্তি লাভ করতে পারে? এটা কি মেনে নেয়া উচিত হবে যে, অনুমানের উপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি জাতি তার নিস্তারের পথ খুজে নেবে? যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি আপন খান্দানের বিভিন্ন লোকের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সুখের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পথ নির্ধারণ করেছেন? নিশ্চয়ই এটা হতে পারে না।
ঈসায়ী ধর্মই একমাত্র ধর্ম যা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে সরাসরি স্বর্গীয় ধর্মরূপে অবতীর্ণ বলে দাবী করতে পারে। এটাই একমাত্র ধর্ম, যার বদৌলতে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সন্তুষ্টি অর্জিত হতে পারে। এর এমন একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দিয়ে একে পৃথিবীর যে কোন ধর্ম থেকে পৃথক করা যায়। তা হলো এই যে, এ ধর্ম মানুষের অন্তর এবং বিবেক উভয়ের প্রতি সমভাবে আবেদন করে। পৃথিবীতে এটা একমাত্র ধর্ম, যা কেবল যুক্তির জোরে প্রসার লাভ করেছে। যে সকল জাতি এ ধর্মের প্রতি বিশ্বাস করে, তারা পৃথিবীতে সবার চাইতে চিন্তাশীল এবং সবার চাইতে মার্জিতও শিষ্ট হয়ে থাকে। তাই এই ধর্ম নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত।
আমি স্বয়ং এতে মহান সৌভাগ্য অর্জন করেছি। তাই আমার উচিত, অন্যান্যদেরকেও তা হাছিল করার জন্য উৎসাহিত করা। এজন্যই আপনার প্রতি এ গুরুত্বপূর্ণ আবেদন করা হচ্ছে যে, আপনিও এ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। এ ধর্মের সমর্থনে অসংখ্য যুক্তি রয়েছে।
আমি আশা করি, এ দেশের গীর্জাসমূহ ভারতীয় লোকে ভরপুর দেখবো; এখানে শুধু বিদেশী লোকেরাই নয়, বরং তোমাদের স্বদেশবাসীও রীতিমত ইনজীলের শুভ সংবাদ প্রচার করবে। গীর্জায় নারী পুরুষ সকলকে আপন গুণাহ থেকে তওবা করার এবং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাক্ষাত করার জন্য প্রস্তুত থাকার তাকিদ করা হবে। সেখানে শিশুদের চরিত্র এবং সত্যপরায়ণতার শিক্ষা ‘দেয়া হবে’ ইহকালীন আচার-আচরণ ঠিক করা এবং পরকালীন সুখ-শান্তি লাভের উপযোগী করে তোলার জন্য তাদের পবিত্রতা ও নিস্তারে সবক দেয়া হবে। সেখানে আরো শিক্ষা দেয়া হবে যে, মৃত্যু এমন বস্তু নয়, যাকে আগামী দিনগুলোতে ভয় করতে হবে। কারণ আমাদের ত্রাণকর্তা যীশু মসীহ তার হুল বের করে দিয়েছেন এবং তাকে ধ্বংস করে ইনজীলের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জীবন লাভের পথ উজ্জল করে দিয়েছেন। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন যে, আমরা সে সময়ের অপেক্ষা করছি, যখন প্রত্যেকটি মানুষ এ বিষয়টি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারবে। বর্তমান বংশধরগণের তা অনুধাবন করা উচিত। বোকামি এবং হীনতাপ্রসূত পৌত্তলিকতায় পৃথিবীর সরজমিন কলুষিত হতে চলছে। তাই যীশু মসীহ এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত ইনজীলের অনুসরণে এ পৃথিবীর প্রভূত উন্নতি না হয়ে পারে না। আমি তোমাদের বুদ্ধিমান মনে করে কথাগুলো বলছি। আমি যা বলছি, তা পরীক্ষা করে দেখ।
পাঠক! মূলতঃ এই ছিল খ্রিস্টান মিশনারী তথা ইংরেজদের গোপন মতলব। তারা চেয়েছিল এদেশের মুসলমানদের ঈমানী চেতনা মুছে ফেলতে, তাদের খ্রিস্টান বানাতে।
সে অভিপ্রায়ে তারাই প্রথম কলকাতায় ১৭৭৮ সালে বাংলায় মুদ্রণ আরম্ভ করে তাই প্রথম ১৮১০ সালে কাগজের কল স্থাপন করে। অর্থাৎ প্রকাশনা শিল্পকে পুরোই নিয়ন্ত্রণ করে তারা ধর্মান্তরের প্রক্রিয়াকে কাজে লাগাতে চেয়েছে। আর সে উদ্দেশ্য শুধু খ্রিস্টান ধর্মের প্রশংসাই নয় বরং এদেশীয় নামধারী মুনাফিক আলেমদের কব্জা করে তাদের দ্বারা অর্ধশতাব্দী ব্যাপী ব্রিটিশ বিরোধী জিহাদের ¯্রষ্টা, পরিচালক ও মূল প্রাণশক্তি আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমাদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী জিহাদকে অবমূল্যায়িত ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য উনার পিছনে ওহাবী আখ্যা জুড়ে দেয়। অথচ ওহাবী আন্দোলনের সাথে এর কোন সংযোগই ছিলনা। আর এক্ষেত্রে ইংরেজদের নির্লজ্জ দালালের ভূমিকা পালন করে চরম মুনাফিকীর পরিচয় দেয় আহমদ রেযা খাঁ।
-মুহম্মদ রবিউল্লাহ (বাদল)
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “বুদুরে বাজেগার” মধ্যে ঈমানদারদের পরিচয় নির্ণয়ে, হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “তাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- ‘যে আমাদের জবেহ করা জীব ভক্ষণ করে, আমাদের ন্যায় নামায পড়ে, আমাদের কেবলামুখী হয়, সে হইতেছে মুসলমান। তাহার জন্য রয়েছে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ হইতে নিরাপদের ব্যবস্থা। তোমরা এই নিরাপদ ব্যবস্থাকে ক্ষুন্ন করিওনা।
এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল ওহাব শারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল কিবরিয়াতুল আহমার” কিতাবে শায়খুল আকবর হতে এও রেওয়ায়েত করেছেন-
“যাহারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর বিশ্বাসী তাহাদের সহিত শত্রুতা রাখিওনা। তাহারা সাধারণ বেলায়েতের অধিকারী। তাহারা সাধারণভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আউলিয়া যদিও পৃথিবী ভরা শুনাহ করুক না কেন? তাহারা যদি শেরেক না করিয়া থাকে, তাহা হইলে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পৃথিবী-ভরা ক্ষমা লইয়া সাক্ষাৎ করিবেন। কুরআন শরীফ-এর দ্বারা যাহার বেলায়েত সাব্যস্ত তাহার সহিত শত্রুতা রাখা হারাম। অতএব তাহাকে শত্রুরূপে গ্রহণ করিওনা। যদি তুমি সুনিশ্চিতভাবে জান যে সে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু- এবং মুশরেক ছাড়া কেহ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু নয়- তাহা হইলে তাহাকে শত্রুরূপে গ্রহণ কর। কাজেই শুধু কথার এবং সম্ভাবনার উপর নির্ভর করিয়া যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দার সহিত শত্রুতা করিওনা, সঠিক জ্ঞানের সহিত শত্রুতা করিও এবং সে জ্ঞান তোমার কোথায়? মূলতঃ উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এই সাব্যস্ত হয় যে, শিরক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে খুবই অপছন্দনীয় আর মুশরিক ব্যতীত ঈমানদারদের কাফের বলাও অগ্রহণীয়।”
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি শিরক ক্ষমা করবেননা- এতদ্ব্যতীত অন্য গুণাহ সম্বন্ধে তিনি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।
মূলতঃ এ কারণেই আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে যামান হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেসব ভাবনাকে যেভাবে নিলে শিরক হতে পারে সেগুলোকে সেভাবে শিরক-কুফরী বলেছেন। কিন্তু যাদের মাঝে শিরক, কুফরীর জোরালো গন্ধ খুজে পাওয়া যায় তারাই তা বুঝতে ব্যর্থ হয়। যেমন ব্যর্থ হয়েছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জাতের অংশ বলে শিরককারী বা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জাতির নূরের তৈরি এই শিরকী কথা বিশ্বাস ও প্রচারকারী রেযা খানী গং তথা তরজুমানগংরা।
উল্লেখ্য, কোন কাজ বাহ্যিকভাবে সবার কাছে সাধারণভাবে সমঝে নাও আসতে পারে। কিন্তু তাই বলেই তার উপর ভিত্তি করে কুফরী ফতওয়া দেয়া যাবে না।
যেমন, এ প্রসঙ্গে মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব ‘শরহে ফেকহে আকবার’-এর ১৯৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন-
“আলিমগণ বলিয়াছেন যে কুফরী সম্বন্ধীয় বিষয়ে দেখা উচিৎ যে তাহাতে যদি ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা কাফের হইবার থাকে এবং একভাগ সম্ভাবনা কাফের না হইবার থাকে তাহা হইলে কাজী ও মুফতী আলেমের উচিত যে ঐ একভাগ সম্ভানার উপর কাজ করা। কারণ একজন মুসলমানকে ধ্বংস করার ভ্রম অপেক্ষা হাজার কাফেরকে অক্ষন্ন রাখার ভ্রম অতীব সহজ। এই মাসয়ালা হইতে ইহাই পরিস্কার বুঝা যায় যে, যদি কেহ কোন বিদয়াত অথবা কোন কুফরীসূচক কথা বলিয়া থাকে তাহা হইলে তাহার বলার মধ্যে যদি কোন তাবিল (ভাবার্থ) থাকে তবে তাহাকে গ্রহণ করা উচিৎ। এইরূপ মতের বিরুদ্ধে যদি কেহ কোন কথা বলেন তবে তাহা অগ্রহণীয়।
অতএব, প্রতিভাত হয় যে, ছড়ছড়া ইলমের অধিকারী, অহংকারী আহমদ রেযা খাঁর অনুস্মরণীয় ইমাম-মুজতাহিদদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে তাদের আদর্শের ধারক-বাহক আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে অন্যায়রূপে কাফির আখ্যা দিয়েছে। যাতে করে মূলতঃ তার প্রতিই কুফরীর ফতওয়া আরোপিত হয়।
অহংকারী আহমদ রেযা খাঁর ইলমের উদাহরণ মূলতঃ খোসার মত। খোসা অহঙ্কার করে ভার উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর সে কারণেই মানুষ তাকে মাড়িয়ে যায়।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান।
সর্বপ্রথম আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও উনার মুজাহিদ বাহিনীর যারা বিরোধীতা করেছিল এবং যত জঘন্য প্রক্রিয়ায় অকল্পনীয় মিথ্যাচার যারা লেপন করেছিল তার চিত্র নি¤েœ দেয়া হলো। তারা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী পাঠান খান বংশীয় মূর্খ, মুনাফিক আলিম সমাজ ও সর্দারগণ। এই মূর্খ, জাহিল, মুনাফিক নামধারী আলিম সমাজ সর্দারদের কথায় উঠাবসা করতো। কারণ অজ্ঞ, বেকুফ সর্দারগণকে এরা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে পরিচালিত করতো। বিনিময়ে তাদের নিকট থেকে এরা উচ্চ মাশোয়ারা নিজেদের থলিতে ভরতো।
যেমন, পানজতারের যুদ্ধে যখন খাবিখানের বিশ্বাসঘাতকতা ধরা পড়লো তখন সে নিজে নির্দোষ সাজার জন্য মুজাহিদদের সম্মুখে সত্য কথা প্রকাশ করে দিল।
এ সম্পর্কে “সাওয়ানেহ আহম্মদী” কিতাবের ৩৮৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “খাবি খান বলে, হযরত! আমরা পাঠান। এই পরামর্শ মোল্লাদের কাজ। এরা আমাদের অন্নে প্রতিপালিত। রাষ্ট্রের কাজ সম্পর্কে এর অজ্ঞ। তাদের যে কাজ আমাদের মন মত হয় তা আমরা মেনে নেই আর যা আমাদের মনপুত হয় না তা প্রত্যাখান করি। তারা আমাদের অধীন আমরা তাদের অধীন নই।”
সিদুঁর যুদ্ধের মুনাফিক ইয়ার মুহম্মদ খান হযরত আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাদ্যের মধ্যে বিষ মিশ্রিত করে তার পুত পবিত্র জীবন সমাপ্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অসীম রহমতে সে মুনাফিকদের আশা সফল হয়নি।
এ সম্পর্কে “মাজমুয়া-ই-খুতুত ৩০৩ পৃষ্ঠায়, উসদুত তারিখ, সাওয়ানে আহম্মদী” ২৮৫ পৃষ্ঠা ও সমকালীন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সত্যেনলান তার “উমদাতুত তারিখ” শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, “আটক নদীর আশ-পাশের বাসিন্দাদের মুখে শোনা যায়, মহামান্য মহারাজা রনজিৎ সিং এর সহিত ইয়ার মুহম্মদ খানের যে একাগ্রতা ও আন্তরিকতা গড়ে উঠেছিল তারই ভিত্তিতে লড়াইয়ের ময়দানে সে আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খাদ্যের মধ্যে বিষ প্রয়োগ করে এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ায়। পেশোয়ারে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সুলতান মুহম্মদ ইয়ার খান নিজেদের ত্রুটি বিচ্যূতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, “আমাদের নাফরমানী ও বিদ্রোহের কারণ হচ্ছে এই, একথা বলে সে একটি ভাঁজ করা গুপ্ত চিঠি উনাকে দেখালো। উক্ত চিঠিতে মুনাফিক হিংসুক নামধারী দুনিয়ালোভী অতি সুন্নী মুখোশ পরিহিত নামধারী মাওলানারা লিখেছে।
“তোমাদের সর্দার ও খানদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সম্প্রতি সাইয়্যিদ আহমদ নামক এক ব্যক্তি ভারতের কতিপয় আলিমকে সঙ্গে নিয়ে একদল বিরাট লোক সমভ্যিহারে তোমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বাহ্যতঃ সে জিহাদ ফী সাবিলীল্লাহর দাবী করে। এ তার ধোকা ও প্রতারণা বৈ কিছুই নয়। সে তোমাদের দ্বীন ধর্মের বিরোধী। সে এক নতুন ধর্ম এবং নতুন মাযহাব আবিস্কার করেছে। ইংরেজ কর্তৃক প্রেরীত হয়ে তোমাদের দেশের হাল অবস্থা ও খবরাখবর জানতে গেছে। সে কোন ওলী বুযুর্গকে মানে না, সবাইকে মন্দ বলে ইত্যাদি ইত্যাদি। (সূত্রঃ সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি পৃষ্ঠা ২৪৮, লেখক- সাইয়্যিদ আবুল হাসান নদভী)
বালাকোর্ট যুদ্ধে আহত আল্লামা সাইয়্যিদ জাফর আলী নকভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জগৎ বিখ্যাত ফার্সী ভাষায় লিখিত সর্ববৃহৎ “মানজুরাতুস সাদাত ফি আহওয়ালুল গাযা ওয়াশ শুহাদা” গ্রন্থে এ সম্পর্কে আরো লিখেন, “অনন্তর সীমান্তের (মুনাফিক, কপট, দুনিয়ালোভী) আলিমগণ চতুর্দিকে মশহুর করে দেয় যে, এই হিন্দুস্থানী আলিম উলামা ও তাদের নেতা লা মাযহাবী প্রকৃতি পূজারী।”
সাম্মাবাসীর খাঁনরা একত্রে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিলো, সমস্ত নিস্পাপ হিন্দুস্থানী গাযীদের শহীদ করে ফেলবে।
যেমন এ সম্পর্কে “মনজুরা” ও “ওয়াকায়ে আহম্মদী” গ্রন্থে বর্ণিত আছে, হযরত সাইয়্যিদ আসগর তিনি বলেন, এখানকার সমস্ত খান কাফির হয়ে গেছে। তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সব বস্তিতে সাইয়্যিদ বাদশাহর গাযীরা মোতায়েন রয়েছে। আজ থেকে ৬ষ্ঠ দিনের মধ্যে সবাইকে হত্যা করতে হবে। অবশেষে খানরা রাতের অন্ধকারে তাদের পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক নাকাড়া বাজিয়ে নিস্পাপ অসহায় গাযীদের উপর অতর্কিত আক্রমণ হেনে তাদের জনে জনে শহীদ করতে থাকে। এমনকি যে মসজিদে মুজাহিদগণ আশ্রয় নিয়েছিল সেই খোদার ঘরে আগুণ লাগিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয়া হয়। নাউযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কে “সাওয়ানে আহম্মদী” কিতাবের ৫৪০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “বিদ্রোহী খানরা মসজিদে আগুণ লাগাবার সিদ্ধান্ত নিল। অতঃপর স্থানীয় সাইয়্যিদজাদা ও আলিমগণ তাদের বললেন, এ অসহায় গাযীদিগকে কেন হত্যা করবে? এরা হাজী, মুহাজির। তারা তোমাদের কি ক্ষতি করেছে?”
“সীরাতে সাইয়্যিদ আহম্মদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি” কিতাবের ২য় খ-ের ২৭৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, “এই মজলুম মুসলমানগণকে তোমরা নাহক হত্যা করোনা, খোদার গযবকে ভয় কর।”
হিন্দুরা একজোট হয়ে এসে আবেদন জানালো, আমরা হিন্দু জাতি, কোন জীব জানানোয়ারকে আমরা নিজেরা যেমন হত্যা করিনা। তেমনি সাধ্যমত কাউকে হত্যা করতে দেই না। তোমরা তাদের হত্যা করোনা। তোমরা যা চাও আমাদের থেকে নিয়ে নাও। আমরা কথা দিচ্ছি, এদেরকে পানজতারে সাইয়্যিদ বাদশার নিকট ফেরত পাঠাবো না বরং সিন্ধু নদের ওপারে শিখদের এলাকায় রেখে আসবো। কিন্তু খানরা কারো কথায় কর্ণপাত না করে মুজাহিদদের পবিত্র রক্তস্রোত ধারা প্রবাহিত করে এবং উল্লাসে মেতে উঠে।
“তাওয়ারীখে আযীবার” লেখক আল্লামা জাফর থানেশ্বরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ সম্পর্কে বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা লিপিবদ্ধ করার ক্ষমতা কলমের নেই।”
আল্লামা গোলাম রসূল মেহের “সাওয়ানেহ আহম্মদী” গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, “আমাদের দূর্ভাগ্যের রক্তে রাঙ্গা কাহিনী শোনার এবং স্মরণ রাখার বিষয় বটে। কিন্তু জীবন চরিত রচয়িতাদের পক্ষে উহা বর্ণনা করা ব্যতীত গত্যান্তর নেই। তা যতই হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক হউক না কেন।
শতধিক এই ঘৃণ্য, নীচ, হীনমনা, কাপুরুষ, পিচাশ কতিপয় খান বংশীয় ঔদ্ধাত্য পাঠানদের জন্য। শত আফসুছ! আহমদ রেযা খান, নকি আলী খান, রেযা আলী খান, সাইদুল্লাহ খান, ইয়ার খান ও কাজেম আলী খানদের জন্য। যাদের পূর্ব পুরুষরা মুসলমানদের জান, মাল ও তাদের রক্ত নিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছিল।
পাঠকগণ! এরপরও কি করে বেরেলীরা তাদের রেযা খাঁ ও তার পূর্ব পুরুষদের স্তুতি গেয়ে বেড়ায় তা ভাববার বিষয়।
– শের-ই বাংলা মুফতী মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
ব্যাপারটা যেন ঠিক সেই শিয়াল প-িতের পাঠশালার মত। এমনিতে শিয়াল ধূর্ত প্রকৃতির জীব। তার স্বভাবজাত ধূর্তামি প্ররোচিত করল তাকে প-িত সাজার জন্য। ভাঙ্গা চশমা কোথাও থেকে জোগাড় করে অবশেষে শিয়াল প-িত সেজে পাঠশালাও খুলল বটে। গো বেচারা কুমির তার সাতটা ছানা পাঠাল শিয়াল প-িতের কাছে। প্রতারক শিয়াল ছয় দিনে ছয়টা ছানাকে সাবাড় করে ফেলল। সপ্তাহান্তে যখন কুমির তার ছানাদের দেখতে এল তখন ধূর্ত শিয়াল সেই অবশিষ্ট এক বাচ্চাকেই সাত বার দেখিয়ে কুমিরকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছিল যে, তার সাতটি বাচ্চাই যথারীতি বেঁচে আছে এবং শিয়াল প-িত তাদের ভেতরে পা-িত্যের প্রভা বিকশিত করছে।
ধূর্ত শিয়ালের এক বাচ্চাকে সাত বা দেখানোর মত একই কায়দায় আহমদ রেযা খাঁর পা-িত্য জাহির করতে চেয়ে তার পঠিত বিষয়ের সংখ্যাধিক্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাক্ষাত প্রতারণা, শঠতা ও ধূর্ততার পরিচয় দিয়েছে শিয়াল প-িতের ন্যায় ধূর্ত প-িত প্রবর আহমদ রেযা খাঁর আহমক ভক্তরা।
যেমন, রেযা খাঁর পঠিত বিষয়ের সংখ্যাধিক্য প্রমাণ করতে তারা একই বিষয় বারবার উল্লেখ করেছে। সেপ্টেম্বর সংখ্যার তরজুমানে রেযা খাঁর পঠিত ৯৮টি বিষয়ের মধ্যে দেখা যায় ৪নং উল্লেখ করা হয়েছে, তাফসীর আবার ৫৫নং ও দেয়া হয়েছে তাফসীর। এরূপে ৩০ নং এ দেয়া হয়েছে, আখলাক আবার ৯৩ নংও দেয়া হয়েছে, আখলাক। এরূপে ৬৯ নং এ দেয়া হয়েছে তাবীর আর ৯৬ নংও দেয়া হয়েছে তাবীর।
পাঠক! শুধু এতটুকুই নয়। রেযা খাঁ গং এর ধূর্তামি শিয়াল প-িতের ধূর্তামিকেও অতিক্রম করেছে। কারণ শিয়াল প-িত একটা আস্ত কুমিরের বাচ্চাকেই দেখিয়েছিল কিন্তু রেযা খানীদের অবস্থা হয়েছে একটা আস্ত কুমির নয় বরং কুমিরের নাক, কুমিরের চোখ, কুমিরের পা, কুমিরের দাঁত, কুমিরের মাথা ইত্যাদি প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা বিবরণ দিয়ে তারা সংখ্যাধিক্য প্রমাণ করেছে। যেমন তার ৯৮টি বিষয়ের যেমন বর্ণনায় এসেছে, (১) ইলমুল কুরআন, (২) ক্বিরআত (৩) তাজবীদ, (৪) তাফসীর (৫) উসূলে তাফসীর অথচ এগুলো সব ইলমুল কুরআনেরই সম্পৃক্ত বিষয়।
এরপর (৬) হাদীছ শরীফ (৭) আসনীদে হাদীছ শরীফ, (৮) উসূলে হাদীছ, (৯) আসমাউর রেজাল, (১০) জারহ ও তা’দীল, (১১) তাখরীজে হাদীছ, (১২) লুগাতে হাদীছ। অথচ এগুলো সব হাদীছ শরীফ সম্পৃক্ত বিষয়।
এরপর (১৬) ফিক্বাহ (১৭) উসূলে ফিক্বাহ (১৮) রসমুল মুফতী, এগুলো সব ফিক্বাহর মধ্যেই পড়ে।
এরপর (২৪) ফারায়েয (৩৫) মীরাছ, মূলতঃ একই কথা।
এরপরে (৮৬) সুলুক (৮৭) তাছাউফ (৯৪) তরীক্বত (৯৭) আযকার এগুলো মুলত একই বিষয়।
মুলতঃ এভাবেই শিয়াল প-িতের চেয়েও অধিক ধূর্ততার দ্বারা প-িত্য জাহির করতে চেয়েছে তথাকথিত অতি সুন্নীদের প-িত প্রবর আহমদ রেযা খাঁ।
অথচ করুণার বিষয় হল, পঠিত বিষয়ের ব্যবচ্ছেদ দ্বারা এবং শিয়াল প-িতের মত একই কুমিরের বাচ্চা বার বার দেখানোর ধারাবাহিকতায় একই বিষয়ের বার বার উল্লেখ সহ রেযা খাঁর ৯৮টি বিষয় আজ হার মানে দশম শ্রেণীর ছাত্র বা আন্ডার মেট্রিকের ছাত্রের কাছে। কারণ একজন যেনো-তেনো আন্ডার মেট্রিকের ছাত্র আহমদ রেযা খাঁর পঠিত বিষয়ের বিবরণের কায়দায় যেসব বিষয় পড়ে, তাহলো- (১) বাংলা গল্প (২) পদ্য (৩) উপন্যাস (৪) নাটক-নাটিকা (৫) ব্যাকরণ (৬) রচনা (৭) ভাবসম্প্রসারণ (৮) সারাংশ (৯) চিঠি (১০) প্রবন্ধ (১১) অনুচ্ছেদ (১২) শুদ্ধিকরণ (১৩) অনুবাদ (১৪) বাগধারা (১৫) ভাবার্থ (১৬) আবৃত্তি (১৭) সংলাপ (১৮) ইংরেজী গল্প (১৯) ইংরেজী পদ্য (২০) ইংরেজী উপন্যাস (২১) ইংরেজী নাটক (২২) ইংরেজী রচনা (২৩) ইংরেজী প্রেসী (২৪) ইংরেজী ভাবসম্প্রসারণ (২৫) ইংরেজী কনভোর্সেশন (২৬) রেপিড রিডিং (২৭) ভোকাবুলারি (২৮) ডিকটেশন (২৯) স্পেলিং (৩০) ট্রান্সফরমেশন (৩১) স্পোকেন ষ্টাইলস (৩২) কমপ্রিহেনশন (৩৩) আইডেন্টিফাইং ক্যারেকটার (৩৪) কারেকশন (৩৫) টেবিলস (৩৬) এক্সপ্রেসিং অডস (৩৭) রাইমূস। (৩৮) ট্রান্সলেশন (৩৯) ভয়েস (৪০) ন্যারেশন (৪১) পার্টস অব স্পীচ (৪২) ইনফিনিটিভ (৪৩) প্যারাগ্রাফ (৪৪) লেটার/এপ্লিকেশন (৪৫) ফ্রেজ এ- ইডিয়মুস (৪৬) সামারি/সাবস্টেনস (৪৭) লাভ-ক্ষতি (৪৮) সুদ-কষা (৪৯) ঐকিক নিয়ম, (৫০) শতকরা (৫১) বীজগণিত (৫০) জ্যামিতি (৫১) মানসিক গণিত (৫২) ধারাপাত (৫৩) ক্ষেত্র পরিমাপ (৫৪) মৌলিক চারনিয়ম (৫৫) ত্রিকোনমিতি। (৫৬) তাপবিদ্যা (৫৭) শব্দ বিজ্ঞান (৫৮) আলোক বিজ্ঞান (৫৯) চুম্বকত্ব (৬০) তড়িৎবিদ্যা (৬১) বলবিদ্যা (৬২) ইলেক্ট্রনিক্স (৬৩) রাশি (৬৪) ব্যবহারিক। (৬৫) ভৌত রসায়ন (৬৬) জৈব রসায়ন (৬৭) ধাতু (৬৮) অধাতু (৬৯) তড়িৎ বিশ্লেষণ (৭০) পর্যায় সারণী (৭১) উদ্ভিদ বিজ্ঞান (৭২) অর্থনৈতিক উদ্ভিদ বিজ্ঞান (৭৩) শারীরবৃত্তীয় উদ্ভিদ বিদ্যা (৭৪) জীব-জড় যোগসূত্রবিদ্যা (৭৫) ডারউইনের মতবাদ (৭৬) প্রাণীবিজ্ঞান (৭৭) কোষ ও কোষতত্ত্ব (৭৮) শারীর বৃত্তীয় প্রাণীবিদ্যা (৭৯) শ্রেণী বিন্যাসতত্ত্ব (৮০) জীনতত্ত্বও মেন্ডেলিজম (৮১) অর্থনৈতিক প্রাণীবিদ্যা (৮২) রাসায়নিক জীববিজ্ঞান (৮৩) আকাঈদ ও ঈমান (৮৪) ইবাদত (৮৫) হালাল-হারাম (৮৬) কুরআন শরীফ (৮৭) হাদীছ শরীফ (৮৮) ইজমা (৮৯) ক্বিয়াস (৯০) আখলাক (৯১) পবিত্রতা (৯২) ইসলামের ইতিহাস (৯৩) তাজবীদ (৯৪) পাক ভারতের ইতিহাস (৯৫) বাংলাদেশ প্রাচীন ইতিহাস (৯৬) প্রত্নতাত্তিক ইতিহাস (৯৭) জীবনী মূলক ইতিহাস (৯৮) উমাইয়াদের ইতিহাস (৯৯) প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস (১০০) আব্বাসীয়দের ইতিহাস (১০১) আধুনিক কালের ইতিহাস (১০২) আলভীদের ইতিহাস (১০৩) মহাদেশের ইতিহাস (১০৪) সাধারণ ইসলামের ইতিহাস (১০৫) ইসলাম পূর্ব আরবের ইতিহাস (১০৬) দাস যুগের ইতিহাস (১০৭) ছাহাবায়ে কিরামের ইতিহাস (১০৮) নবী-রসূল উনাদের ইতিহাস (১০৯) তুর্কী সা¤্রাজের ইতিহাস (১১০) ফাতেমীদের ইতিহাস (১১১) পাল বংশের ইতিহাস (১১২) মুগল সা¤্রাজ্যের ইতিহাস (১১৩) বৃটিশদের ইতিহাস (১১৪) সেন বংশের ইতিহাস (১১৫) ইউরোপের ইতিহাস (১১৬) আমেরিকার ইতিহাস (১১৭) উপনেবিশকবাদদের ইতিহাস (১১৮) আফ্রিকার ইতিহাস (১১৯) ভূগোল (১২০) প্রাকৃতিক ভূগোল (১২১) বাণিজ্যিক ভূগোল (১২২) মহাদেশীয় ভূগোল (১২৩) মুসলিম পারিবারিক শিক্ষা (১২৪) মুসলিম সমাজিক শিক্ষা (১২৫) মুসলিম অর্থনৈতিক শিক্ষা (১২৬) কৃষি বিজ্ঞান (১২৭) খাদ্য ও পরিপুষ্টি।
অতএব, প্রিয় পাঠক সঙ্গত কারণেই সাব্যস্ত হল যে বিষয়বস্তুর বাহারে রেযা খাঁর জ্ঞান মূলতঃ আন্ডার মেট্রিকের বালকের পরিধিকেও অতিক্রম করে নাই। তবে যা করেছে তা হল তার সীমাহীন শুণ্যতা ও প্রতারণা ও ধূর্ততার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা প-িতি জাহিরের অসৎ প্রবণতা।
-মুফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।
উপমহাদেশের বাইরে যারা অধিক কিতাব লিখেননি তাদের মধ্যে প্রধানতঃ চার মাযহাবের চার ইমাম যেমন, ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বহস্তে লিখিত কোন কিতাব নেই। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত “ফিক্বাহ আকবর ও মুসনাদে আবূ হানীফা” হাদীছ শরীফ-এর কিতাবটি মূলতঃ উনারই লিখিত।
দ্বিতীয়তঃ হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মূল হাদীছগ্রন্থ হচ্ছে “আল মুয়াত্তা।” হযরত ইমাম শাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট ফিক্বাহর উপর লিখিত কিতাব হচ্ছে “কিতাবুল উম্মু।” মুসনাদের উপর লিখিত হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রধান ও প্রসিদ্ধ কিতাব হচ্ছে, “মুছনাদে আহমদ।” ছয়টি বিশিষ্ট হাদীছ গ্রন্থের মুসান্নিফ বা লেখকগণ যেমন, মুহম্মদ বিন ইসমাইল বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “আল জামিউল সহীহুল মুখতাসারু মিন উমুরী রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহী ওয়া আয়্যামিহি।” যা “বুখারী শরীফ” হিসেবে সারা দুনিয়ায় মশহুর হয়ে আছে। দ্বিতীয়ঃ মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে দারদ ইবনে কোশাদ কুশাইরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শ্রেষ্ঠ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব হচ্ছে, “সহীহ মুসলিম।”
তৃতীয়তঃ সুলায়মান ইবনে আশহাব ইবনে ইসহাক ইবনে বশীর ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে ইমরান আল আজাদী সিজিস্তানী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ইমাম আবু দাউদ নামে মশহুর। উনার প্রসিদ্ধ ফিক্বাহ ও হাদীছ শরীফ-এর কিতাব হচ্ছে “সুনানে আবু দাউদ।”
চতুর্থতঃ ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিখ্যাত কিতাবের নাম হচ্ছে “জামে তিরমিযী।”
পঞ্চমতঃ মুহম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাজা আল কাযদিনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মশহুর কিতাব, “সুনানে ইবনে মাযাহ শরীফ।”
ষষ্ঠতঃ আহমদ ইবনে আলী ইবনে শুয়াইব নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত একটি কিতাবই উনাকে সারা জাহানে প্রসিদ্ধ করে রেখেছে আর তাহলো হাদীছ শরীফ-এর উপর উনার লিখিত কিতাব, “আল মুজতাবা” বা “সুনানে নাসাঈ শরীফ।”
অবশ্য চার মাযহাবের ইমামগণ উনাদের মধ্যে একমাত্র হযরত নু’মান ইবনে সাবিত, ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ব্যতিত অন্য তিনজনের লিখিত আরো কিতাবের সন্ধান ইতিহাসে পাওয়া যায়। তদ্রুপ সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়খানা প্রসিদ্ধ হাদীছ শরীফ লেখকের বেলায়ও একই বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সম্পর্কে আল্লামা আমিমুল ইহসান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “উনারা অনেক কিতাব লিখেছেন কিন্তু কোন সহীহ গ্রন্থে উনাদের বর্ণিত বিপুল কিতাবের তালিকার সন্ধান পাওয়া যায় না।” এরপর সলফে সালেহীন এবং হযরত সূফিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ উনাদের মধ্যে হতে অনেকেই কোন কিতাবই লিখেননি এবং উনাদের স্বহস্তে লিখিত কোন কিতাবের সন্ধান আজ পর্যন্ত ইতিহাস দিতে পারেনি। যেমন, হযরত মালিক বিন দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ফুজাইল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইব্রাহীম বিন আদহাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ সুলায়মান দারায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বিশর বিন হারিস রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ফতেহ মওসুলী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ জাল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ আব্দুল্লাহ মানাযিল রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইউছূফ আসবাত রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবুল হাসান সায়েগ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আহমদ ইবনে হারব রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবুল আব্বাস নাহা ওয়ান্দী, হযরত আবু আমর ইব্রাহীম যুজাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি, খাজা আবু আবদাল চীশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা হাজী আহমদ আনজীর ফাগনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সাইয়্যিদ আমির কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি, খাজা হযরত আলাউদ্দীন আত্তার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত জগত বরণ্যে আউলিয়া, বুযুর্গ, সূফীদের স্বহস্তে লিখিত অন্তত একটি কিতাবের সন্ধান কি আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পেরেছে? তবে সলফে সালেহীন ও হযরত সূফীয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের মধ্যহতে বিশিষ্ট বেলায়েতধারী ওলী ও শাহেন শাহে তরীকতের ইমামগণ উনাদের মধ্যে হতে আবার কেউ কেউ কিছু সংখ্যক কিতাব লিখেছেন।
যেমন, কাদেরিয়া তরীক্বার ইমাম, পীরানে পীর দাস্তগীর হযরত শায়খ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত কিতাবের মধ্যে “আল ফাতহুর রব্বানী, গুণিয়াতুত তালেবীন, সিররুল আসরার, ফতহুল গায়ব, কাসিদাযে গাউসিয়া” ছাড়া আরো দু’একটি কিতাবের বর্ণনা পাওয়া যায়। রেফাইয়া তরীক্বার ইমাম, শায়খ আহমদ ইবনে আবুল হাসান রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বহস্তে আরবী ভাষায় লিখিত “আল বুরহানুল মুইয়াদ, আল বুনইয়ানুল মুশাইয়্যাদ, সিরাতুল মুস্তাকিম, কিতাবুত তানবীহ, নেজমুল খাছ, হালাতু আহলিল হাকীকাহ, কিতাবুল আরবাঈন, হেকামুর রিফাইয়্যাহ, আহযাবুর রিফাইয়্যাহ, মাজালিসে আহম্মদীয়াহ, আকায়েদে রিফায়ী প্রমুখ কিতাবের সন্ধান পাওয়া যায়।
সোহরাওয়ার্দীয়া তরীক্বার ইমাম হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রচনাবলীর মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত তাছাউফের উপর লিখিত উনার অন্যান্য কিতাব “আওরারিফুল মা’আরিফ” প্রসিদ্ধ। এছাড়া তার অন্যান্য লেখনি গ্রন্থের মধ্যে “হিকমাতুল ইশরাক, হায়াকিলুনুর এবং গোরবাতুল গারাবিয়া” নামক কিতাবের সন্ধানও মিলে। শাযালীয়া তরীক্বার অন্যতম শ্রেষ্ঠ তরীক্বতের ইমাম হযরত আবুল হাসান শাজালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বহস্তে লিখিত কোন কিতাবের সন্ধান নিলেনা।
নকশবন্দীয়া তরীক্বার ইমাম মুশকিল কুশা শাহেন শাহে বিলায়েত হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বহস্তে লিখিত কিতাবের সন্ধান তার জীবন চরিতকারকগণ কেউই উল্লেখ করেননি।
পাঠক সমাজ! চিন্তা করুন। সারা দুনিয়ায় যাঁদের হিদায়েতের নূরে প্রজ্জলিত ও উদ্ভাসিত ক্বিয়ামত পর্যন্ত যাঁদের হিদায়েতের ঝা-া বুলন্দ থাকবে। যাঁরা খোদা তায়ালা উনার বারগাহে মাকবুলিয়াতের সনদ হাছিল করেছেন। উনাদের কারো দ্বারা সহ¯্রাধিক কেন শতাধিক কিতাব পর্যন্ত লিখিত হয়নি। স্বয়ং পৃথিবীর প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পর্যন্ত কিতাব লিখার জন্য কলম ব্যবহার করেননি।
এখন বেরেলী মৌলভীরা যদি বলে, সহ¯্রাধিক কিতাব না লিখলে কাউকে মুজাদ্দিদ স্বীকৃতি দেয়া যাবে না। তাহলে পৃথিবীর প্রথম মুজাদ্দিদ ইমামুল আদিল হযরত ওমর ইবনুল আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি মুজাদ্দিদগণ উনাদের তালিকা হতে প্রথমেই বাদ পড়বেন। নাউযুবিল্লাহ!
পাঠক! চিন্তা করুন, বেরেলী মৌলভীরা কত গণ্ড মূর্খ, জাহিল, অজ্ঞ, জাহেরী কিতাব লিখাকেই কেবল তারা মুজাদ্দিদের জন্য শর্ত আরোপ করেছে। অথচ ইতোপূর্বে আর কেউই এ কথা বলেনি।
-মুফতী মুহম্মদ শামছুদ্দীন, ভৈরব।
আওলাদে রসূলগণ উনাদের ফযীলত সম্পর্কে অন্য হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
انا تارك فيكم الثقلين اولهما كتاب الله فيه الهدى والنور فخذوا بكتاب الله واستمسكوابه فحث على كتاب الله ورغب فيه ثم قال واهل بيتى اذكركم الله فى اهل بيتى اذكركم الله فى اهل بيتى.
অর্থ: “আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হলো, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব। যার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। তোমরা কিতাবুল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধর। তিনি কিতাবুল্লাহর প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতপর বললেন, দ্বিতীয়টি হলো, আমার আহলে বাইত বা (আওলাদগণ) বংশধর। উনাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে আমি সতর্ক করছি, উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫৬৮)
অন্য হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
انى تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা উহা আঁকড়ে ধর তবে পথভ্রষ্ট হবে না। প্রথমতঃ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও দ্বিতীয়তঃ আমার বংশধর বা আওলাদগণ।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫৬৯)
উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, “আমার বংশ হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার মাধ্যমে জারি থাকবে। অর্থাৎ হযরত ফাতেমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার দুই ছেলে হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার যারা বংশধর উনারাই সাইয়্যিদ বা আওলাদে রসূল। এ সম্পর্কে আখেরী রসূল, রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
الحسن والحسين سيدا شباب اهل الجنة.
অর্থ: “হযরত ইমাম হাসান ও হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা হচ্ছেন বেহেশতের যুবকদের সাইয়্যিদ বা সর্দার। অতএব যারা হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বংশের বা আওলাদ উনারাই আওলাদে রসূল বা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর। আর এ কথা জানা ও বিশ্বাস করা আবশ্যক যে সারা পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে বহু আওলাদে রসূলগণ উনারা রয়েছেন।
আওলাদে রসূলগণ উনাদের ফযীলত সংক্রান্ত উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,
المراد بالاخذ بهم التمسك لمحبتهم ومحا فظة حرمتهم والعمل بروايتهم والاعتماد على مقالتهم.
অর্থ: “ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল উনার বংশধরগণ উনাদেরকে আঁকড়ে ধরার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মজবুতভাবে উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের যথাযথ সম্মান রক্ষা করা, উনাদের রেওয়ায়েত (কথা) অনুযায়ী আমল করা ও উনাদের কথার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।” (মিরকাত, হাশিয়ায়ে মিশকাত/৫৬৯)
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে এটাই প্রমাণিত হলো যে, আওলাদে রসূলগণ বংশগতভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল উনার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের তা’যীম-তাকরীম করা ও উনাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জুয-ই ঈমান বা ঈমানের অঙ্গ।
অথচ মূর্খ ও জাহিল আহমদ রেযা খাঁ জামানার মুজাদ্দিদ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলী যিনি আওলাদে রসূল উনার প্রতিও কুফরীর তোহমত দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
মূলতঃ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,
كل اناء يترشح بما فيه.
অর্থ: “পাত্রে আছে যা, ঢালিলে পরে তা।” অর্থাৎ আহমদ রেযা খাঁর নিজের মধ্যে কুফরী থাকার কারণে তার পক্ষেই ইহা সম্ভব হয়েছে। আর একই কারণে তার পক্ষে এও সম্ভব হয়েছে, আওলাদে রসূল, মুজাহিদে আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি অপবাদ ও কুফরীর তোহমত দেয়া। নাউযুবিল্লাহ!
-মাওলানা মুফতী মুহম্মদ রুহুল আমীন নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
পঞ্চম হিজরী, শা’বান মাসে বণি মুস্তালিকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছফর সঙ্গিনি হিসেবে যোগদান করেন। যুদ্ধ বিজয়ের পর প্রত্যাবর্তন কালে মদীনা শরীফ-এর নিকটবর্তী এক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি কাযায়ে হাজত বা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটাবার নিমিত্তে নিকটবর্তী এক স্থানে গমন করেন। তথায় উনার গলার অতি মূল্যবান “যিফার” পাথরের হার হারিয়ে গেল। তা অন্বেষনে লিপ্ত থাকেন। এদিকে কাফেলা মদীনা শরীফ-এর উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়।
উম্মুল মু’মিনীন ফিরে এসে দেখতে পেলেন ময়দান একেবারে জনমানব শুণ্য। তখন তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করে চাদর জড়িয়ে তথায় শুয়ে পড়লেন। তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন যে, “সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমাকে এমতাবস্থায় দেখে চিনতে পান। কেননা পর্দা ফরয হওয়ার পূর্বে তিনি একদা আমাকে দেখেছিলেন। তিনি আমার নিকট উট নিয়ে এসে তাতে আরোহন করতে বলেন এবং এ সময় তিনি একটু দূরে সরে যান। আমি উঠের পিঠে আরোহন করি। তিনি উঠের রশি ধরে দ্রুত পদক্ষেপে পথ চলেন এবং কাফেলার সঙ্গে মিলিত হন।” (আবূ দাউদ শরীফ, আসাহুস সিয়ার)
তা দেখে মুনাফিক সরদার খবিছ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ষড়যন্ত্রের দ্বার খুলে গেল। মিথ্যার পাহাড় গড়ে সমাজে আজে-বাজে কথা ছড়িয়ে অপবাদের ঝড় তুললো। ফলে ছিদ্দীক পরিবারের সবাই নীরব নিস্তব্ধ হয়ে গেল। উম্মুল মু’মিনীনের চোখে পানি আর পানি। খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ। অব্যক্ত চিন্তা পেরেশানী উনাকে কঠিনভাবে আক্রান্ত করলো।
আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম রোগ শয্যার পাশে বসে সে সম্পর্কে যখন কথোপকথনে লিপ্ত ছিলেন। তারই এক পর্যায়ে উম্মুল মু’মিনীনের পবিত্রার সাক্ষ্য দিয়ে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি “সূরা নূরের” দশখানা আয়াত শরীফ নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ!
প্রিয় পাঠক! উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার নামে শুধু নয়, উনার অনেক পূর্বে হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনার নামেও মিথ্যা অপবাদ উঠেছিল। আরো উঠেছিল, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ইউছুফ আলাইহিস সালাম উনার নামেও।
কারা এ কাজের হোতা? যুগে যুগে নবী-রসূল, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল, তা আপনারা উদ্ধৃত ঘটনা হতে অবশ্য আচ করতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য যে, যারা চরিত্রহীন, বদ স্বভাবী, লম্পট, বিশেষত মুনাফিক সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের উত্তরসূরী তারাই পুত-পবিত্র চরিত্রের উপর কলঙ্কের ছাপ অঙ্কন করে থাকে। শুধু তাই নয়, ক্বিয়ামত পর্যন্ত নবী-রসূলগণ উনাদের ওয়ারিছ, উনাদের আওলাদগণ উনাদের উপর মিথ্যারোপ করবে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের গোষ্ঠী, ইসলামের ছদ্দাবরণে মুনাফিকরা।
সেক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের যোগ্য উত্তরসূরী, চরম ফাসিক ও জাহিল ইলমে তাছাউফ শুণ্য আহম্মক রেযা খাঁর কুতৎপরতা এ নিবন্ধের প্রতিবাদ্য বিষয়। এ ফাসিক শুধু আওলাদে রসূল আমিরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পকেই নয়; তদানিন্তন সময়ে যে কোন হক্কানী আলিম তার অপবাদ থেকে অব্যাহতি পাননি। যাঁরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন উনাদেরকেই নানা ভাবে কুৎসা রটনা করেছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের একান্ত ভক্ত ও যোগ্য অনুসারী আহম্মক রেযা খাঁর অন্তরে মুনাফিক বা নেফাকীর প্রকটতা এত শক্তভাবে বদ্ধমূল ছিল তা সহজেই অনুমেয়।
স্মর্তব্য যে, অন্তর হতে নেফাকীর প্রকটতা মুক্তির জন্য যে বিষয় অতীব জরুরী তা হচ্ছে ইলমে তাছাউফ। আর আহম্মক রেযা খাঁর সেখানেই ভরাডুবি হয়েছে। হক্কানী-রব্বানী আলিম, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছিদ্রান্মেষণে এমনি ব্যস্ত ছিল যে, ইলমে তাছাউফ চর্চার সময় জুটেনি। জাহিরী কিছু ইলমের ফকরে হাবুডুব খেয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে তাদের ইমাম সেজেছিল।
কাদিয়ানীদের দোসর আহম্মক রেযা খাঁর ক্বালবই জারী ছিল না। নামায-কালাম, ইবাদত-বন্দেগী কবুল হওয়ার জন্য যে ইখলাছ পূর্ব শর্ত, সেটাও তার মধ্যে ছিল অনুপস্থিত।
“মুতালায়ায়ে বেরেলীবিয়াত” কিতাবের ৪র্থ খ-ের ৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “মাওলানা মুহম্মদ ইসাইন মিরাঠী বর্ণনা করেন যে, এক বৎসর আমি আহমদ রেযা খাঁর মসজিদে এতেকাফরত ছিলাম। যখন ২৬ রমযান উপস্থিত হলো তখন আহমদ রেযা খাঁ এতেকাফে বসলো। একদা আছর ওয়াক্তে নামায আদায় করতঃ এতেকাফের স্থানে চলে গেলো। লোকজন তার এতেকাফের স্থানে পুনারায় নামায আদায় করতে দেখে জিজ্ঞেস করলো, আছর নামায আদায়ের পর এটা আবার কি নামায পড়লেন? উত্তরে সে বললো, নামাযে আমার একাগ্রতার বিঘœ ঘটেছিল অর্থাৎ অমনোযোগী হয়েছিলাম। তাই ইহতিয়াতান বা সাবধানতাবসতঃ নামায পুনরায় আদায় করলাম।” (আল মিজান- আহমদ রেযা খাঁ/২৩৪, বেরীলিবিয়াত কি আছলিয়াত/৩১)
পাঠক! সুন্নীদের তথাকথিত মূর্খ ইমাম ছাহেবের নামাযে হুজরী বা একাগ্রতা থাকে না, সে কতটুকু ইলমে তাছাউফ অর্জন করেছে তা ফিকির করুন। আর ইলমে শরীয়তেও এ অজ্ঞ ইমাম ছাহেব মূর্খ ছিল তাও বুঝতে কষ্ট হয়না। কেননা আছরের নামায ইহতিয়াত বা সাবধানতাবশতঃ উক্ত দিনে ফের করা জায়েয নেই। কেননা, আছরের নামায আদায়ের পর কোন নফল নামায পড়া মাকরূহ। আর ইহতিয়াতবশতঃ যে নামায পড়া হয় তা নফলের অন্তর্ভুক্ত।
সে মাসয়ালাটিও আহম্মক রেযা খাঁর জানা নেই।
মূলতঃ হক্কানী-রব্বানী আলিম, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের বিরুদ্ধাচরণ করলে দ্বীনের সহীহ সমঝ নষ্ট হয়ে যায়। সেটা আহম্মক রেযা খাঁর ক্ষেত্রেও ফুঠে উঠেছে।
-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী।
যখন ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আ’যম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর সুওয়াল আসতে থাকে এবং আমাদেরকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখার জন্য অনুরোধ করা হয়। তখন আমরা উপমহাদেশের মশহুর আলিম, সূফী, ঐতিহাসিকগণ উনাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদী থেকে দলীল-আদীল্লাহ সহকারে ৮২তম সংখ্যায় সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগে তা প্রকাশ করি।
আমাদের লেখা প্রকাশিত হবার পরই চট্টগ্রামের রেযা খানী অনুসারীরা তা উদ্ভট, বানোয়াট ও মিথ্যা বলে মন্তব্য করে এবং এর বিপরীতে নির্ভরযোগ্য আলিম, ঐতিহাসিকগণ উনাদের বক্তব্য বাদ দিয়ে আগে-পিছে বা কাঁট-ছাট করে (ইহা তাদের মজ্জাগত স্বভাব) জনসম্মুখে প্রকাশ করে।
আর এ শ্রেণীর একজন মৌলভী বদিউল আলম রেযভী। যে নাকি ২০০০ ঈসায়ী অক্টোবর থেকে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে অনুরূপ নীতি অনুসরণ করেছে। তাই আমিও উক্ত মৌলভীর চ্যালেঞ্জস্বরূপ অসত্য ও বানোয়াট লিখার বিপরীতে সঠিক ও সত্য লিখায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ইনশাআল্লাহ।
যেমন, জাহেল মৌলভী বদিউল আলম প্রথমে মির্জা খায়রত দেহলভীর “হায়াতে তাইয়্যেবার” বরাত দিয়ে লিখেছে, করীমার প্রথম পংক্তি “করীমা বে বখশা বরহালে মা” এ সংক্ষিপ্ত পংক্তিটিও তিন দিনে সৈয়দ সাহেবের মুখস্ত হলো।” অথচ মাওলানা যাকারিয়া কান্ধালবী ছাহেবের “তারিখে মাশায়েখে চিশত” মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ছাহেব কর্তৃক অনুমোদনকৃত “আরোয়ায়ে ছালাছা” কিতাবে বর্ণিত আছে, “চার বছর বয়সে উনাকে মক্তবে পাঠানো হয়। মক্তব পাঠ শেষে তিনি হযরত শাহ ইসহাক দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট তালিম নিয়ে “কাফিয়া, মিশকাত” পর্যন্ত পড়েছিলেন।”
“আমীরুল রেওয়ায়েত” কিতাবে বর্ণিত আছে, “শায়খে আ’যম হযরত নূর মুহম্মদ মিয়াজী ঝানঝানবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি শাহ ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট কাফিয়া পড়তেছিলাম। আর হযরত সাইয়্যিদ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন তাশরীফ আনেন তখন তিনি তার নিকট মিজান পড়া আরম্ভ করেন।
উনার পড়া-লেখা এত দ্রুত উন্নত লাভ করলো যে, মিজানের অর্ধাংশ পড়ার পূর্বেই তিনি আমার সাথে কাফিয়ার মধ্যে যোগ দেন। আর আমার কাফিয়া পড়া অবস্থায় তিনি শাহ ছাহেবের নিকট মেশকাত শরীফ পড়া শুরু করেন।”
এখন উক্ত মৌলভীর নিকট আমাদের প্রশ্ন? এতজন আলিমের লিখিত কিতাবের মোকাবিলায় “হায়াতে তাইয়্যিবা” লেখকের বক্তব্য কতটুকু শুদ্ধ?
দ্বিতীয়তঃ উক্ত রেজভী পন্থী মৌলভী আরো লিখেছে, “গোলাম রসূল মেহের ভক্তির আতি শয্যে সৈয়দ ছাহেবকে কাফিয়া ও মিশকাত শরীফ-এর দক্ষ পাঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।”
এর জবাবে আমরা উক্ত জাহিল মৌলভীকে বলি, সে যেন “সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আরোয়ায়ে ছালাছা, ওকায়ে আহম্মদী, সাওয়ানে আহম্মদী, ওয়াসিলে ওয়াজিব” ইত্যাদি নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলো পড়ে নেয়। তাতেই সে বুঝতে পারবে তিনি মিশকাত, কাফিয়া পর্যন্ত পড়েছেন কি-না?
জীবিকার ব্যাপারে সে লিখেছে, “পিতৃ ¯েœহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্তত দু’বছর পর তিনি জীবিকার সন্ধানে লক্ষ্মৌ ভ্রমনের ইচ্ছা করেন। যেটা শিয়া সুন্নী মতভেদের কেন্দ্র ছিল।”
এর জবাব হলো, জীবিকার জন্য লক্ষ্মৌ সফর করা কি শরীয়তের কোথাও নিষেধ আছে/ তবে লক্ষ্মৌ পৌঁছলেই যে জীবিকা পাওয়া যাবে এ কথা তো আর তিনি বলেননি।”
যেমন, জীবিকার ব্যাপারে “সাওয়ানেহ আহম্মদী” কিতাবের ১০৩ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন, জীবিকাদাতা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার উপর আমার এতটা বিশ্বাস যে, আমি যদি সিন্ধুর মরুভূমি অথবা আরবের জনমানবহীন জঙ্গলেও থাকি আর যদি আমার সাথে পৃথিবীর সমস্ত লোকও থাকে তথাপি সেখানে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের রিযিক পৌঁছে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা জাফর থানেশ্বরী ছাহেবের লিখিত “সাওয়ানেহ আহম্মদী” কিতাবের বরাত দিয়ে এরপর এই নাদান, অন্ধ, জাহেল লিখেছে, “সৈয়দ ছাহেবের এটাও ধারণা ছিল যে, তিনি সম সাময়িক আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের চেয়েও অধিক কামিল ও মর্যাদাবান।”
এর উত্তর হলো, ইহা তো তিনি অতি বিনয় সুলভ কমই বলেছেন। ইমাম শাতনুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “বাহজাতুল আসরার” কিতাবে বলেন, “হযরত গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার কদম সমস্ত ওলীদের ঘাড়ের উপর।”
“রওজাতুল কায়্যূমিয়াত” কিতাবে বর্ণিত আছে, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “উনাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবশিষ্ট খামীর হতে তৈরি করা হয়েছে।”
“হালাতে মাশায়েখে নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া” কিতাবের ২য় খ-ের ৩৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমার নিকট এটাও জাহের করা হয়েছে যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের মেহেরবাণীতে আমার প্রতি যে মোয়ামেলাত ও কামালত ইফাজা ফরমায়েছেন, তা হযরত ইমাম মেহদী আলাইহিস সালাম তিনি পর্যন্ত কারোও উপর অবতীর্ণ হবে না।” অর্থাৎ হযরত ইমাম মেহদী আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতিত আর কেহ এ দরজায় কামালত লাভ করবে না।
“মানারাত তাওহীদ” কিতাবে বর্ণিত আছে, আবুল আব্বাস মারাছি রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্য একজন বুযুর্গ ব্যক্তি বলেন, “আমরা চল্লিশ বছর যাবত এক মূহুর্তের জন্য যদি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত থেকে বঞ্চিত থাকি তবে নিজেদেরকে ঈমানদার হিসেবে মনে করিনা।
“ফতুহাতে মক্কীয়া” কিতাবে হযরত মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে খাতামুল বেলায়েত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
“তাযকিরা কিতাবে” ৪র্থ খ-ে বর্ণিত আছে, শায়খ আবুল হাসান শাযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হতে মীরাছ লাভ করেছি এবং আসমানের যাবতীয় ভান্ডারের মালিক হয়েছি।”
মূলতঃ এই ধারাবাহিকতায় হযরত আমীরুল মু’মিনীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে নিজেকে কমই প্রকাশ করেছেন এতে সন্দেহের অবকাশ রাখে না।”
এরপর এই দাগাবাজ মৌলভী হযরত আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুন্নতের অনুসরণে বিধবা বিবাহ করা নিয়ে কটাক্ষ করে সৈয়দ মুহম্মদ আলীর “মাখজানে আহম্মদী” কিতাবের উদ্ধতি কাটছাট করে লিখেছে সৈয়দ ছাহেবের মুখে দ্বিতীয় বিবাহের শব্দ তখনই উচ্চারিত হয় যখন উনার বড় ভাইয়ের যুবতী স্ত্রী সৈয়দা ওয়ালীয়া বিধবা হলেন। সৈয়দ ছাহেব তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। পূর্বের স্বামী যেহেতু জ্ঞানী এবং আধ্যাতিকতার অধিকারী ছিলেন সেহেতু সৈয়দ ছাহেবের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে দিলেন। সৈয়দ ছাহেবের জীবনী লেখক সৈয়দা ওয়ালীর প্রতি অবিযোগ উত্থাপন করতে গিয়ে বলে, তিনি দ্বিতীয় বিবাহকে দোষ মনে করে অস্বীকৃতি সত্বেও সৈয়দ ছাহেব পর্যায়ক্রমে দু’তিন মাস প্রচেষ্টার পর বড় ভাইয়ের যুবতী বিধবা স্ত্রীর প্রতি নজর দিলেন। (আসতাগফিরুল্লাহ)
কত বড় জালিয়াতি ও মিথ্যা কথা। সম সাময়িক কোন বুযুর্গ আলিম এবং বিশ্বস্ত ঐতিহাসিক কেউই একথা বলেননি এবং এভাবে একটি খাছ সুন্নতি আমল নিয়ে কেউ কটাক্ষ ও রসিকতা করেননি।
যেমন, “সাওয়ানে আহম্মদী” কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “রায় বেরেলীতে অবস্থানকালীন সৈয়দ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে সমস্ত সুন্নতকে পুনর্জীবিত করেন উনার মধ্যে নিজ গৃহে বিধবা বিবাহের প্রচলনই ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।”
আল্লামা গোলাম রসূল মেহের উনার “হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি” কিতাবের ১১২ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে স্বয়ং আমীরুল মু’মিনীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, এ (বিধবা) বিবাহ আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই শুধু রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতকে পুনর্জীবিত করা।” আমার স্ত্রী রূপে-গুণে কোন দিক হতে কম নয়। এ বিবাহের উদ্দেশ্য এই যে, এ সুন্নত আমার বাড়ী হতেই আরম্ভ হউক।” “সাওয়ানে আহম্মদী” কিতাবের ১১২ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, “ওয়ালিয়া বেগম প্রথমে বিবাহে রাজী হয়নি। পরে এ কাজে সুন্নত পুনর্জীবিত হবে (এই) হিসেবে তিনি রাজী হলেন।”
-মাওলানা মুফতী মুহম্মদ নুরুল আমীন।
কয়েক দশক আগের কথা। ভিনদেশের এক ব্য্যক্তিত্বময় সরকার প্রধানের অসাধারণ সাফল্য ও জনপ্রিয়তায় ইর্ষাকাতর হয়ে কুচক্রীমহল নিজেদের মধ্যে থেকে এক ঘাতক নিয়োগ করে তাকে হত্যার জন্য এদিকে উক্ত সরকার প্রধান নিরাপত্তার তেমন জোরদার ব্যবস্থা রাখতনা। ফলতঃ যে কোন সফরের বহরে তাকে হত্যা করা ছিল খুবই সোজা কাজ। আততায়ীও এমনি একটি সুযোগই খুজছিল। সুযোগ সে পেয়েছিলও বটে। কিন্তু সামান্য অন্যমনষ্কতার জন্য তার লক্ষ্যচ্যূত হল। এদিকে উক্ত সরকার প্রধান তা বুঝতে পেরে নিজের জীবন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়ায় খুশি হওয়ার পরিবর্তে ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেছিল, যে লোক কাজ করতে এসে এতটা অযোগ্যতার পরিচয় দেয় সে কি করে উন্নতি করতে পারে?
প্রসঙ্গতঃ আল বাইয়্যিনাত-এর মিথ্যা সমালোচনায় অতি সুন্নী দাবীদারদের কুপম-ুক অপপ্রয়াসের ক্ষেত্রেও আমার একই বিষয় মালুম হচ্ছে।
মাসিক আল বাইয়্যিনাত যেখানে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিদ্বেষ, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য আদেশ, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নিষেধ এই আদর্শে সমুজ্জল সেখানে মাসিক আল বাইয়্যিনাত তথা রাজারবাগ শরীফ-এর যদি কোন ভুল ওহাবীরা কেন অতি সুন্নীরাও যদি দেখাতে পারতো তবে তা সাদরেই গ্রহণ করা হতো।
কিন্তু ভিনদেশী সেই সরকার প্রধানের ন্যায় আক্ষেপ করতে হয় যে এরা কেমন সুন্নী? এরা কত অপদার্থ, অযোগ্য যে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতায় এরা যাদেরকে ওহাবী বলে, খারেজী বলে, যাদের দলীল দস্তাবেজ, যাদের বক্তব্য, মুরুব্বীদেরকে এরা ঘৃনাভরে ত্যাগ করে, অবজ্ঞা করে আজকে আল বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতা করতে গিয়ে তাদেরকে সেই চরম শত্রু ওহাবী, খারেজীদেরই ফেলে যাওয়া বর্জ্যকে পরম আদর করে তুলে নিতে হল, তাদের চর্বিত বর্চণ নতুন করে আস্বাদন করতে হল, সেই লক্বব, বংশ ও অসত্য লিফলেটেরই হুবহু উদ্ধৃতি তুলে ধরতে হল। আফসোস তাদের জন্য। আসলে এতে করে তারা এই প্রমাণ করল যে তারা মূলতঃ সুন্নী নামের কলঙ্ক। তাই বিগত শতাব্দী যাবত তারা খারেজীদের খোড়া যুক্তির জবাব দিতে কেবল করুনভাবে ব্যর্থই হয়নি তার পাশাপাশি আল বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতায় খারেজীদের লেজুড়বৃত্তি করে তারা প্রমাণ করল সুন্নীয়তের যোগ্যতা; কি ইরম, আমল, অনুভূতি দলীল ইত্যাদির ক্ষেত্রে খারেজীদের খেলাফ যোগ্যতা কিছুই তাদের নেই। বরং হাক্বীকতে তারা সুন্নী নামের কলঙ্ক এবং ওহাবীদেরই বাই প্রোডাক্ট বা উপজাতমাত্র যা মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর কষ্টি পাথরের যাচাইয়ে অনিবার্যভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ শাহীন।
“খেলারাম খেলে যা” এটা মূলতঃ ঝানু প্রতারকদের স্বগোতোক্তি। প্রতারণায় পটু জলীল মূলতঃ এই তবকায় নিজের স্থান ভালভাবে পাকাপোক্ত করে নিয়েছে। তথাকথিত অতি সুন্নীদের মাঝে তার অচ্ছ্যূত অবস্থান বিগত কয়েকবছর ধরেই সকলেই অবগত। তথাকথিত সুন্নী জামাতের মূলধারা থেকে বিচ্যূত হয়ে একটি সাইড ব্যানারে কাজ করে নতুন পূজি তৈরির প্রক্রিয়ায় সে যে বিভিন্ন চমক তৈরিতে ব্যস্ত তা তথাকথিত সুন্নী মহলের কারোরই অজানা নয়। কিন্তু ছবি তোলা, বিধবা মহিলা সংক্রান্ত ব্যাপারে কলঙ্কে জড়িয়ে পড়া, অশ্রাব্য ওয়াজের ফলশ্রুতিতে বাস্তুহারাদের মত এক মসজিদ থেকে ঠেঙ্গানি খেয়ে অন্য মসজিদে ঠাই নেয়া ইত্যাদি হাজারো লাঞ্ছনায় জর্জরিত হয়ে, মূলধারার সামান্য কৃপাদৃষ্টি পাবার আশায় মোক্ষম মওকা হিসেবে জলীল অবশেষে গ্রহণ করেছে আল বাইয়্যিনাত-এর মিথ্যা সমালোচনায়।
অথচ এই জলীলই কিছুদিন পূর্বে বাইয়্যিনাত-এর কৃপা দৃষ্টি পাবার আশায় বাইয়্যিনাত ফেরী করে বিক্রি করেছে, প্রশংসাবাণী পাঠিয়ে বাইয়্যিনাত ভক্ত হতে চেয়েছে।
কিন্তু আল বাইয়্যিনাত-এর শক্ত পর্দা, সুক্ষ্ম সুন্নত ও সহীহ আক্বীদার তোড়ে তার নফস তাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছে। অতঃপর স্বজাতে ফিরে যাওয়ার জন্য বাইয়্যিনাত-এর বিরোধীতায় সে তার বিদ্রোহী গ্রুপ তরজুমান-এর বমনকৃত বাণীকেই উদগীরণ করছে। অর্থাৎ দীর্ঘ প্রতারক জীবনের অভিজ্ঞতায় জলীল এখন নতুন প্রতারনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে তার অন্তঃসার শুন্যতাই প্রকট হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে।
-মুহম্মদ সালাউদ্দীন শিকদার।
হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, ইসলামের মূল ধারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের একমাত্র মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ৮৫তম সংখ্যার মতামত বিভাগে প্রকাশিত আমিরুল মু’মিনীন, হযরত শহীদে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফযীলত এবং রেযা খাঁ রেরেলীদের জিহালতের স্বরূপ উন্মোচনে তরজুমান গং হতভম্ব, বিচলিত, ভীত-সন্ত্রস্থ এবং কা- জ্ঞানহীন দিক-বেদিকশুণ্য হয়ে আহলে কাজ্জাব ওয়াশ শয়তানিয়া উনার যোগ্য কীটরূপে নিজেকে জাহির করলো, আমদানিকৃত তাহের শাহ ওরফে জালেম শাহ নামক তথাকথিত পীরের এক আগাছা।
সচেতন পাঠকের মনে এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, কেন আমি উক্ত তথাকথিত পীরকে আমদানীকৃত এবং জালেম শাহ নামে অবহিত করছি। মূলতঃ এটি আমি নই বরং চট্টগ্রামের অসংখ্য, অগণিত মুসলমানেরই তীব্র ক্ষোভ এবং ধিক্কারের বহিঃপ্রকাশ। একথা সকলেরই জানা, বৃটিশ ভারতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী, ইংরেজ এবং শিখদের অনাচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণাকারী আওলাদে রসূল, আমীরুল মু’মিনীন, শায়খ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অসংখ্য, অগণিত মুরীদ এবং খলীফাদের মধ্যে চট্টগ্রামের গাজীয়ে বালাকোট হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন অন্যতম প্রধান খলীফা এবং উনার সিলসিলার পরবর্তী ধারক-বাহক। পরবর্তীতে উনারই মাধ্যমে চট্টগ্রামের অলিতে-গলিতে এবং আশে পাশের এলাকাগুলোতে এই সিলসিলার মুরীদ ও খলীফাবৃন্দ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েন এবং ইসলারে মূল ধারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতর আক্বীদাভিত্তিক কার্যক্রম চালাতে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরবর্তীতে এই সিলসিলাগুলোর কোন কোন ধারার তাদের গৌরবময় কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার সুযোগে অনেকটা ঝোপ বুঝে কোপ মারার মতই ঢুকে পড়ে এই তথাকথিত তাহের শাহ ওরফে জালেম শাহ নামক পীরের পূর্বসূরীরা। চট্টলার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রেমের মিথ্যা ধোকা দিয়ে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কালক্রমে কিছু সওদাগরকে কব্জা করে তারা তাদের ঐ ধোকাবাজীর পথকে প্রশস্ত করে। পর্যায়ক্রমে এতদ্বঅঞ্চলে কতিপয় কাট মোল্লার সহযোগীতা নিয়ে তারা চট্টলার মাটিতে বিদয়াত প্রচারের এবং বিদয়াতী তৈরির একটি কারখানা চালু করে। এই বিদয়াতী তৈরির কারখানা থেকে তারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের একচ্ছত্র অধিপতি বলে দাবী করে এবং তাদের মুখালিফ সবাইকে প্রতিনিয়ত কাফির, ওহাবী ইত্যাদি বলে প্রচারনা চালাতে থাকে। এই বিদয়াতী পীরের অনুসারীরা এবং সে নিজেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামক উনার প্রেমের মিথ্যা তামাশা করার জন্য জৌলুস ও উৎসবের নামে চট্টগ্রামে গুরু-ছাগল যবেহ করে, ফরয নামায ত্যাগ করে, বেপর্দা-বেশরাভাবে পুরুষ-মহিলা একাকার করে আর এগুলোইকি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তথাকথিত প্রেমের নিদর্শন না মূলতঃ মিথ্যা প্রদর্শন? পাকিস্তান থেকে বছরে দুই-একবার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রেমের নামে চাঁদাবাজী করে, ভিডিও এবং ছবি তোলার প্রতিযোগীতা করে, নিজেদের মুখালিফদের অকথ্য-অশ্লীশ এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করার কারণে চট্টলার মানুষ এদেরকে আমদানীকৃত পীর এবং সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ তৈয়ব শাহ-তাহের শাহ না বলে জালেম শাহ নামেই অভিহিত করে।
-মুনযির মুহম্মদ গিয়াসউদ্দীন, সন্দ্বীপ।
একথা এতদিনে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত যুগের সত্য-মিথ্যা ফারাককারী। কোন বাতিলের সাথেই তার আপোষ নেই। তার পাশাপাশি একথাও সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, সকল সত্যানুসন্ধানীর মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার শেষ আশ্রয় আল বাইয়্যিনাত। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব তথ্য ও ঘণিষ্ঠ সূত্র অনুযায়ী যে সূত্র আমাদের কাছে মওজুদ থাকার পরও তা অপ্রকাশিত রাখার যে বেদনাভার আমাদের অন্তরে গুমরে মরছিল যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শোকরিয়া আল বাইয়্যিনাতই আমাদের সে বেদনাদগ্ধ হৃদয়ে শীতল পরশ দিল।
আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে জানিয়ে দিতে চাই যে, তরজুমান গং কেবল অতি সুন্নীর দাবীর অন্তরালে হাক্বীকাত ওহাবী আর বিদয়াতীই কেবল নয় বরং তাদের গুরু তাহের শাহ গং ও আসলে আওলাদে রসূল নয় বরং ভূয়া সৈয়দ। আর বিস্তারিত প্রমাণ ভিত্তিক তথ্য আমাদের কাছে আছে। যথা সময়েই তা প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
-মুহম্মদ গোলাম রসূল, প্রধান সড়ক, কক্সবাজার।
কুরআনে কারীমায় যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমান ও ঈমানদার সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “পুরুষ এবং স্ত্রীলোকদের মধ্যে যারা নেক আমল করে থাকে যদি তারা ঈমানদার হয় তবে তাহাদের জন্য রয়েছে বেহেস্ত এবং আরো সংখ্য নেয়ামত। আখেরাতে তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহাদের পরিশ্রমের পুরস্কার লাভে কোন ত্রুটি হবে না এবং বেহেস্ত প্রস্তুত হয়েছে ঈমানদারদের জন্য।”
পক্ষান্তরে বেঈমানদের সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “এবং যারা অবিশ্বাসী এবং মুশরেক মহান আল্লাহ পাক তিনি কখনও তাহাদিগকে ক্ষমা প্রদর্শন করবেন না। হাদীছ শরীফ-এ এরশাদ হয়েছে কাফের বেহেশতে প্রবেশ করবে না এবং ঈমানদার দোযখে প্রবেশ করবে না।” (ফেরদাউস)
মুসলিম শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কসম যাঁহার হাতে আমার জীবন, তোমরা কখনো বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা ঈমানদার না হও।” (মুসলিম) কাজেই মুসলমানদের সর্বোত্তম সম্পদ হচ্ছে তার ঈমান।
উল্লেখ্য কোন মুসলমান যদি তার সব কিছুও হারায় তবুও হাক্বীকতে তার কিছুই হারায়না। যদি তার ঈমান ঠিক থাকে। পক্ষান্তরে কোন মুসলমান যদি তার ঈমান হারায় আর বাকী সব কিছুই ঠিক থাকে তবুও হাক্বীকতে সে সবই হারায় যদিও তার সবই ঠিক থাকে।
উল্লেখ ঈমান কতিপয় বিশ্বাসের নাম। এ বিশ্বাস যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদ, আসমা ও সিফত ইত্যাদির প্রতি, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি; হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতি ইত্যাদি ইত্যাদি। এজন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে যে ঈমানের সত্তর এরও অধিক শাখা প্রশাখা রয়েছে। মূলতঃ এর ব্যাখ্যা হল যে ঈমানের অনেক অনেক শাখা প্রশাখা রয়েছে। সে সবকিছুর প্রতি স্বচ্ছ ধারণা রাখাই ঈমান।
মূলতঃ ঈমানদার তার আমল যতই খারাপ হোক না কেন অবশ্যই একদিন না একদিন সে বেহেস্তে যাবে। তদুপরি দোযখে গেলেও তার শাস্তি নেহায়েত কম। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে “ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন ঈমানদারদের দোযখে প্রবেশ করাবেন তখন তিনি তাহাদিগকে মৃত অবস্থায় রাখবেন এবং যখন তাদের বের করার ইচ্ছা করবেন সে মুহুর্তে তাদের দোযখের আযাবের অনুভূতি দান করবেন।” (ফেরদাউস)
অন্য এক হাদীছ শরীফ-এ আছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমার উম্মতের জন্য জাহান্নামের উষ্ণতা গোছলখানার পানির উষ্ণতার ন্যয় হবে।” (তিবরানী) অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, যাহারা দোযখের দায়েমী বাসিন্দা (অর্থাৎ কাফের, মুশরেক, মুনাফেক ইত্যাদি) তাহারা জীবন্ত অবস্থায় চিরকাল দোযখে থাকবে। আর কতক লোক (দুর্বল ঈমানদার) দোযখে তাহাদের গোনাহের জন্য গেলেও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাহাদিগকে মৃত করে দিবেন। (যাহাতে তাহাদের অনুভূতি ক্ষমতা না থাকে যদিও তাহাদের শরীর দগ্ধীভূত হবে) এমনকি যখন তারা কয়লার মত হয়ে যাবে তাদেরকে বের করার জন্য সাফায়াতের আদেশ দিবেন। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আহমদ)
অতএব দেখা যাচ্ছে ঈমান যত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রই হোক না কেন সেটাই পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামত, দোযখের আযাব হতে বাঁচা এবং বেহেশতে যাওয়ার কারণ।
আর এই ঈমানের অর্থই হচ্ছে আমল থাকুক আর নাই থাকুক ইসলামের সব বিষয় সম্পর্কে সহীহ আক্বীদা পোষন করা।
অথচ গভীর পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমানে বাজারে এমন কিছু পুস্তক পত্রিকা, ওয়ায়েজ তথাকথিত আলেম বিদ্যমান যাহাদের কথা বিশ্বাস করলে ঈমান হারা হয়ে চির জাহান্নামী হতে হয়। যাদের প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে আখেরী যামানায় এমন কিছু মিথ্যাবাদী কাজ্জাব বের হবে যারা এমন সব কথা বলবে, যা তোমরা শোননি এমনকি তোমাদের বাপ-দাদারাও শোনেনি।
মূলতঃ এই হাদীছ শরীফ-এর প্রতিফলন আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে লক্ষনীয়। আজকে উলামায়ে ‘ছূ’রা আবহমান কাল ধরে মুসলিম মূল্যবোধে যে সব কাজ হারাম ও খারাপ বলে মূল্যায়িত হয়ে আসছে সেগুলোকে তারা হালাল করছে। তারা হালাল করছে ছবি, মেয়েলোকের নের্তৃত্ব, বিজাতীয়, বিধর্মীদের কর্মসূচী তথা লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী আইন, ইসলামের নামে নির্বাচন ইত্যাদি যাবতীয় হারাম কাজ। কিন্তু মাসিক আল বাইয়্যিনাতে এসব কাজই বিস্তারিত দলীল আদীল্লা সহকারে হারাম প্রমাণিত করে দেয়া হয়েছে। ফলে উলামায়ে ‘ছূ’দের মনগড়া ব্যাখ্যা ও খোড়া যুক্তির অসারতা এবং কুরআন সুন্নাহর খেলাফ বুঝতে পেরে মানুষ ঐসব হারাম কাজকে হারাম মনে করতে পারছে। মূলত তাদের ঈমান হেফাজত হচ্ছে। কারণ হারামকে হালাল জানা কুফরী। আর হারাম এবং হালালকে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে তথা ঈমান হেফাজতের ক্ষেত্রে মাসিক আল বাইয়্যিনাত সত্যি এক বেমেছাল দিশারী উসীলা। তাদের হাত থেকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে একমাত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত উম্মাহকে হিফাজত করেছে। উম্মাহ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জাত-পাক সম্পর্কে সঠিক পরিচয় পাচ্ছে। অনেকে ধারণা করত যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নূর। কিন্তু নূর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সেফাত মাত্র যাত নয়।
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, বাসাবো, ঢাকা।
কিছুদিন পূর্বে তরজুমান পত্রিকার পাঠকের কথামালায় যা প্রকাশিত হয়েছে তার মর্ম এইরূপ, “যে টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানে কম সময় দেখা হচ্ছে। আরো বেশি দেয়া প্রয়োজন।” বলাবাহুল্য এ বক্তব্যে যা ফুটে উঠে তা হল টেলিভিশনে যেসব অনৈসলামিক অনুষ্ঠান হচ্ছে তা বন্ধের কোন জোরদার দাবী না। ভাবখানা এরকম যে সেগুলোও থাকুক তবে একটু কমমাত্রায়। আর তথাকথিত ইসলামী অনুষ্ঠানগুলো আরেকটু বেশি মাত্রায় অথচ এগুলো সবই যে শক্ত হারাম আর টেলিভিশনের মূলই যে ছবি, সে ছবি সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কঠিন নিষেধ বাণী ঘোষণা করেছেন। লা’নতের ক্ষেত্র বলেছেন। কখনও ছবি পেলে তা সাথে সাথে ছিড়ে ফেলেছেন। অতএব তারপরেও হরদম তাহের শাহ গং কি নিজেদের যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথার খেলাফকারী চরম বেয়াদব বলেই সাব্যস্ত করছেনা? সেই সাথে তারা কি লা’নতের পাত্র বলে বিবেচিত হচ্ছেনা। তদুপরি আজকে যারা নিজেদের অতি-সুন্নী দাবী করছে সত্যিই যদি তাদের অন্তরে বিন্দু মাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত থাকে তবে কি তাদের এই উচিৎ হবে না যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল তিনি যেমন কোন ছবি পেলেই তা সাথে সাথে ছিড়ে ফেলতেন তেমনি তাহের শাহের ছবিও টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলা। যারা তা ছিড়তে অস্বীকার করবে তারা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল উম্মত নয় বরং তারা আহলে তাহের শাহর উম্মত বলে নিজেদের প্রমাণ করে তা কি বলার অপেক্ষা রাখে।
উল্লেখ্য ছাত্র দেখে ওস্তাদের পরিচয় পাওয়া যায়। সুতরাং যে তরজুমান পত্রিকায় টিভি অনুষ্ঠানের মত বিদয়াতী কাজের জন্য সুপারিশ করা হয় সঙ্গত কারণেই তখন মালুম হয় যে তরজুমান মূলতঃ বিদয়াতীদেরই পত্রিকা আর তাহের শাহ মূলতঃ বিদয়াতীদেরই পীর।
-মাওলানা সাইয়্যিদ শরীফ আহমদ
সুন্নতের মূর্ত প্রতীক, বাতিলের আতঙ্ক, দ্বীনে হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী নামধারী মাওলানা তথা উলামায়ে ‘ছূ’দের খোলশ উন্মোচনকারী ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ধারক-বাহক তথা প্রতিনিধিত্বকারী “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, “আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, রহমতুল্লীল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়ে জুমুয়ার দিন একটি মাত্র আযান ছিল অন্যান্য পাঁচ ওয়াক্তের ন্যায়। যে আযানটিকে ফিক্বাহের কিতাবসমূহে মতলক্ব আযান বলা হয়েছে। জুমুয়ার দিন উক্ত আযান মসজিদে নব্বীর দরজায় দেয়া হতো। এ নিয়ম খলীফাতু রসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম ও আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার খেলাফতকাল পর্যন্ত জারী ছিল। আর এ কারণেই ফিক্বাহের কিতাবে মতলক্ব আযান মসজিদের ভিতরে দেয়াকে মাকরূহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন খেলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন। তখন ইসলামী খেলাফত বিস্তৃতি লাভ করতে লাগলো এবং মুসলমানের সংখ্যাও উত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগলো। একবার কিছু লোক এসে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন! জুমুয়ার দিন আযান হওয়ার সাথে সাথে খুৎবা শুরু হয়ে যায় আমরা যারা দূরে থাকি তাদের জন্য নামায পেতে অসুবিধা হয়ে যায়। তাদের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ওসমান ইবনে আফফান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বুযুর্গ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের সাথে পরামর্শ করতঃ আরেকটি আযান বৃদ্ধি করেন। পূর্বের আযানটি স্থান পরিবর্তন করে খতীবের সম্মুখ্যে মিম্বরের নিকট নিয়ে আসেন আর নতুন আযানটি মসজিদের বাইরে যাওয়া নামক উঁচু স্থানে দেয়ার নির্দেশ দেন। সে থেকে অদ্যবধি এ নিয়মেই সাড়া বিশ্বে আযান প্রচারিত হয়ে আসছে। আর এর উপর সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও সকল ইমাম-মুজতাহিদগণ একমত। উছূলের পরিভাষায় উক্ত একমত বা ইজমাকে ‘ইজমায়ে আযীমত’ বলে।
পাঠক! ছানী আযানের উক্ত ইতিহাস ও ফায়সালা কারো বানানো বা নতুন নয়। কারণ বিশ্বখ্যাত ও সুপ্রসিদ্ধ নি¤েœাক্ত সকল কিতাব সমূহেই তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যেমন, তাফসীরে আহকামুল কুরআন লিল জাসসাছ, আহকামুল কুরআন লিল কুরতুবী, রুহুল মায়ানী, হাশিয়াতুশ শারক্বাবী, তাফসীরে মোরাগী, মাযহারী, ওসমানী, সিরাজুম মুনীরা, আহকামুল কুরআন লি ইবনিল আরাবী, আহকামুল কুরআন শফী, তাফসীরে কামালাইন, মায়ারিফুল কুরআন, ফতহুল বারী, শরহে বোখারী, ফাইদুল বারী শরহে বোখারী, শরহে জামিউছ ছহীহ, উরফুশ শাযী শরহে তিরমিযী, মেরকাত শরহে মেশকাত, আইনী শরহে বোখারী ইত্যাদি।
উপরোক্ত কিতাবসমূহে বর্ণিত ছানী আযানের ইতিহাস ও উৎপত্তির উপর নির্ভর করে ফুক্বাহায়ে কিরাম তথা ইমাম-মুজতাহিদগণ নিম্নোক্ত ফিক্বাহর কিতাবসমূহের “জুমুয়ার অধ্যায়ে” ছানী আযান খতীবের সম্মুখে মিম্বরের নিকটে দেয়ার কথা বলেছেন। যেমন, হেদায়া, আইনী, শরহে হেদায়া, জাওহারা, রদ্দুল মোহতার, গয়াতুল আওতার, দুররুল মোখতার, আল কাহেস্তানী, বাহরুর রায়েক, হেদায়া মায়াদ্দেরায়া, ফতহুল ক্বাদীর, মারাফিউল ফালাহ, হালবিয়ে কবীর, শরহে বেক্বায়া, শরহে নেক্বায়া, শরহে সেক্বায়া, জামিউর রুমুজ, কবীরী, এনায়া, কেফায়া, কুদুরী, ওমদাতুর রেয়ায়া, শরহুল মুহাযযাব, তোহফাতুল মোহতাজ, বেদায়াতুল মুজতাহিদ, শরহে মুলতাকাল আবহুর, মাজমাউল আনহুর, কানযুদ দাক্বায়েক, আলমগীরী, বাদায়ে ও ই’লাউস সুনান ইত্যাদি।
পাঠক! কোন ব্যক্তি যদি সত্যিকার অর্থেই আলেম হয়ে থাকে তবে সে ব্যক্তি উল্লিখিত কিতাবসমূহের কোন একটি কিতাব অবশ্যই পাঠ করে থাকবে। আর কোন ব্যক্তি যদি উল্লিখিত কিতাবসমূহের কোন একটিও ভালরূপে পাঠ করে তবে সে কস্মিনকালেও ছানী আযান মসজিদের বাইরে দরজায় দেয়ার কথা বলতে পারেনা। অথচ তরজুমান গংদের মুরুব্বী রেযা খাঁ “ছানী আযান” মসজিদের বাইরে দেয়ার কথা বললো। শুধু কি তাই সে তার উক্ত জেহালতপূর্ণ বক্তব্যের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোন দলীল পেশ করতে না পেরে ফিক্বাহর কিতাব থেকে কিছু মতলক্ব আযানের ইবারত দলীল হিসেবে পেশ করে তার জেহালতীর সম্পূর্ণটাই উদগীরন করে দিয়েছে। আর এতেই প্রমাণিত হয় যে, তরজুমান গংদের মুরুব্বী রেযা খাঁর ইলমী দৌড় কতটুকু? কেননা ভাত সবগুলো টিপতে হয় না। একটা টিপলেই বুঝা যায়। তবে ভাবতে অবাক লাগে এরপরও রেযা খাঁনীরা কি করে রেযা খাঁকে “মহ প-িত” মনে করে তার প্রশংসার গীত গাইতে গাইতে তাকে নবীর উপরে উঠায়ে ফেলে। বস্তুতঃ একেই বলে অন্ধ অনুসরণ ও মুরুব্বী পূজা। এদের সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করো, তখন তারা বলে- বরং আমাদের বাপ-দাদাকেই আমরা অনুসরণ করবো। যদিও তাদের বাপ-দাদারা বে-আক্বেল ও গোমরাহ।”
-মাওলানা মুহম্মদ ছগীর আহমদ, ঢাকা।