মতামত বিভাগ

সংখ্যা: ৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

ভণ্ড জাহিল পীরের গোমর ফাঁক -৪

যে ব্যক্তি বেপর্দা হওয়া ও ছবি তোলার ন্যায় হারাম ও কবীরা গুনাহে সার্বক্ষণিকভাবে লিপ্ত,

সে ব্যক্তি “গাউছুল আযম” লক্ববের হাক্বীকত বুঝবে কিভাবে?

পাঠক! আপনারা হয়তো শিরোনাম পড়েই বুঝে গেছেন কাকে উদ্দেশ্য করে আমার এই উক্ত! যাকে উদ্দেশ্য করে আমার ঐ শিরোনাম বা উক্তি সেহলো- জামিয়া আহমদীয়া, কাদেরীয়া তৈয়্যেবিয়া, ইসলামী ফাউন্ডেশন, শাহজাহান পুর আমতলা মসজিদসহ আরো বহু স্থান থেকে বহিস্কৃত ও বিতারিত, হর হামেশা বেপর্দা ও ছবি তোলার ন্যায় হারাম ও কবীরা গুণাহে মশগুল, কথিত সুন্নী জামাতের মূল দল হতে বিচ্ছিন্ন ও স্বীয় পীর কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষিত ও স্বঘোষিত পীর অদক্ষ আব্দুল জলীল। তার এতগুলো বিশেষণ দেখে আপনারা হয়তো ভাবছেন সে এত যোগ্যতা কখন হাছিল করলো। তার বিশেষণ সমূহের কিছু মাত্র এখানে উল্লেখিত হয়েছে, উল্লিখিত বিশেষণের বাইরেও তার বহু বিশেষণ রয়েছে। আর এতগুলো বিশেষণে বিশেষিত বলেই তো সে বলতে পারছে যে, তারাবীহ নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নূর বা আলো, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার জাতের অংশ, হাবীবুল্লাহ লক্বব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ অন্য কেউ তা ব্যবহার করা জায়েয নেই ও হযরত বড় পীর ছাহেব তিনিই গাউছুল আযম, এরপর পৃথিবীতে আর কোন গাউছুল আযম আসবেনা।

পাঠক! হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে “দুনিয়ার মোহ বা লোভ আলিমের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয়।” ভ- পীর অদক্ষ জলীলের অবস্থাও হয়েছে ঠিক তাই, দুনিয়ার মোহে পড়ে সে আজ ‘ইলম’ শুন্য। যদি সামান্য ইলমও তার ভিতরে থাকতো তবে সে এরূপ জিহালত পূর্ণ বক্তব্য পেশ করতে পারতোনা। কারণ একজন সাধারণ মুছল্লীও জানে যে, তারাবীহ নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, কিফায়া নয়। তবে তারাবীর জামায়াতটা হচ্ছে কিফায়া।

সবাই জানে যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিরাকার, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি নূর বা আলো বলা হয়, তবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আকার রয়েছে বলে সাব্যস্থ হয় কেননা নূর বা আলোর আকার রয়েছে। সকলেরই জানা যে, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জাতে পাক উনার কোন অংশী নেই, তাহলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার জাতের অংশ হোন কি করে? তরীক্বত পন্থী মাত্রই জানেন যে, চিশতীয়া তরীক্বার ইমাম সুলতানুল হিন্দ খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী সানজেরী আজমেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে “হাবীবুল্লাহ” লক্ববে ভূষিত করা হয়েছে। আর একথা সর্বজন স্বীকৃত যে শুধু মাত্র নুবুওয়াত বা রিসালতের দরজাই বন্ধ হয়েছে, বেলায়েতের দরজা ও তার মাক্বাম সমূহ কিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবে।

যদি কেউ বলে বা লিখে থাকে যে, পৃথিবীতে আর “গাউছুল আযম” আসবেন না তবে তার একথা সম্পূর্ণরূপেই ভুল, কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কোন দলীল নেই।

বস্তুত: বেপর্দা ও ছবি তোলার ন্যায় হারাম ও কবীরা গুণাহে লিপ্ত এবং ইলমে ফিক্বাহ ও তাছাউফ শুন্য দুনিয়ালোভী ব্যক্তির পক্ষে “গাউছুল আযম” লক্ববের হাক্বীক্বত না বুঝাই স্বাভাবিক। কেননা এধরণের লক্ববগুলো হচ্ছে তাছাউফ সম্পর্কিত বিষয় আর তাছাউফ সম্পর্কিত বিষয় গুলো তাছাউফ বা রূহানিয়াত ব্যতীত বুঝা সম্ভব নয়।

ভ-পীর অদক্ষ জলীলের মধ্যে যে তাছাউফ বা রুহানিয়াতের গন্ধও নেই তার বক্তব্য ও আমলই উহার বাস্তব প্রমাণ। কাজেই এরূপ ব্যক্তি কিভাবে “গাউছুল আযম” লক্ববের হাক্বীক্বত বুঝবে?

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

জুমুয়ার ছানী আযান সম্পর্কিত রেযাখানী মুখপত্র নভেম্বর/২০০০ সংখ্যার খোলা চিঠির জবাব

অপরের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়

প্রসঙ্গ : ছানী আযান

(পঞ্চম অংশ)

পাঠক! রেযা খানী মুখপত্রের মিথ্যাচারীতা, প্রতারণা, ধোকাবাজী ও ইবারত কাট-ছাট বা জালিয়াতীর কিছু নমুনা আপনারা ইতি মধ্যেই পেয়েছেন, জেনে গেছেন তাদের মূর্খতা বা জিহালতী সম্পর্কেও। তাদের গুরু ‘রেযা খাকে’ ছানী আযান সম্পর্কিত কুফরী থেকে বাঁচানোর জন্য “খোলা চিঠি” নামক কলঙ্কিত প্রতিবেদনে লেখক যে সকল মিথ্যাচারিতা, জালিয়াতী ও জিহালতীর আশ্রয় গ্রহণ করেছে তার কিছু বিষয় নিয়ে ইতি পূর্বেই আমি আলোচনা করেছি। তবে তাদের পূর্ববর্তী সকল জিহালতীকেই হার মানিয়েছে “ইজমা” সম্পর্কিত বক্তব্য। তারা রেযা খার কুফরীকে ঢাকার জন্য ইজমায়ে আযীমতকে ইজমায়ে রোখসত বানাতে উঠে পরে লেগেছে। স্বার্থ হাছিল করতে এবং পাঠকদের ধোকা দিতে পাল্টিয়ে দিয়েছে “ইজমায়ে রোখসতের” সংজ্ঞা। অপব্যাখ্যা করেছে বুখারী শরীফ উনার ব্যাখ্যা গ্রন্থ “আইনী” কিতাবের একখানা ইবারতের।

পাঠক! সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- রেযাখানীরা ইজমায়ে রোখসতের একখানা মনগড়া ও ভুল সংজ্ঞা উল্লেখ করলেও ইজমায়ে আযীমতের কোন সংজ্ঞাই তারা উল্লেখ করেনি। মূলত: এটাও তাদের একটা জালিয়াতী ও প্রতারণা। কেননা তারা ভাল করেই জানে যে ইজমায়ে আযীমতের সঠিক সংজ্ঞা তুলে ধরা হলে তাদের স্বার্থ হাছিল হবেনা, আইনী কিতাবের ইবারতের অপব্যাখ্যা করা যাবেনা, যাবেনা রেযা খাকে কুফরী মুক্ত করা। তাই তারা ইজমায়ে আযীমতের সংজ্ঞাকে গোপন করেছে, আর ইজমায়ে রোখসতের সংজ্ঞা সম্পূর্ণই পাল্টিয়ে দিয়েছে। রেযাখানীরা ইজমায়ে রোখসতের সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে “তথা ইজতিহাদের মাধ্যমে কোন মুজতাহিদ কোন বিশেষ মাসয়ালার প্রচলন করলে অন্যরা যদি নিরবতা পালন করে প্রতিবাদ বা অস্বীকার না করে পবিত্র ইসলাম উনার পরিভাষায় তাকে ইজমায়ে রোখসত বলা হয়, যার অপর নাম ইজমায়ে সূকূতী।

পাঠক! রেযাখানীদের দাবী ইজমায়ে রোখসতের এরূপ সংজ্ঞা নাকি উছূলে ফিক্বাহার বিখ্যাত কিতাব “নুরুল আনোয়ারের” ইজমার অধ্যায়ে রয়েছে। তাদের উক্ত সংজ্ঞা যে ভূল ও মনগড়া এবং তাদের উক্ত দাবী যে, মিথ্যা ও অবান্তর উছূলে ফিক্বার কিতাব “নূরুল আনোয়ার” থেকে ইজমার আলোচনা হুবহু উল্লেখ করলেই তা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হবে। তাই নি¤েœ ইজমা সম্পর্কিত “নূরুল আনোয়ারের” বক্তব্য হুবহু উল্লেখ করা হলো-

الاجماع وهو فى اللغة الاتفاق وفى الشريعة اتفاق مجتهدين صالحين من امة محمد صلى الله عليه وسلم فى عصر واحد على امر قولى او فعلى ركن الاجماع نوعان عزيمة وهو التكلم منهم بما يوجب الاتفاق اى اتفاق الكل على الحكم- بان يقولوا اجمعنا على هذا ان كان ذالك الشى من باب القول اوشروعهم فى الفعل ان كان من بابه اى كان ذالك الشى من باب الفعل ……. ورخصة وهو ان يتكلم اويفعل البعض دون البعض اى يتفق بعضهم على قول او فعل وسكت الباقون منهم ولايردون عليم بعد مضى مدة التامل وهى ثلاثة ايام او مجلس العلم ويسمى هذا اجماعا سكوتيا. (نور الانوار مع ازهر الازهار- ص৩১৬)

অর্থ: “ইজমা” শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ঐক্যমত। আর শরীয়তে “ইজমা” বলা হয়, এক যামানায় উম্মতে মুহম্মদির সকল নেককার মুজতাহিদগণ উনাদের কোন ক্বওল শরীফ (কথা) ফে’ল (কাজ)-এর উপর ঐক্যমত পোষণ করাকে। “ইজমা” দু প্রকার-

(১) ইজমায়ে আযীমত

সকল মুজতাহিদগণ কোন বিষয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করা যদ্বারা ঐক্যমত প্রমাণিত হয়। যেমন সকলেই বললো اجمعنا هذا অর্থাৎ আমরা সকলেই এ ব্যপারে একমত। এরূপ ইজমা ক্বওলী বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অথবা উক্ত বিষয়টি যদি فعلى হয়। আর সকলেই তা আমল করা শুরু করে দেয়, তবে এরূপ ইজমাকেই “ইজমায়ে আযীমত” বলে।

(২) ইজমায়ে রোখসত

ইজতিহাদকৃত ক্বওল শরীফ বা ফে’ল এর উপর কেউ কেউ ঐক্যমত পোষণ করা আর কেউ কেউ পোষণ না করা। অর্থাৎ ইজতিহাদকৃত বিষয়ে কেউ কেউ ঐক্যমত পোষণ করেছে আর বাকী সকলে নিশ্চুপ রয়েছে। সংবাদ পৌঁছার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবাদ করেনি। এরূপ ইজমাকেই “ইজমায়ে রোখসত” বলে। এর অপর নাম হচ্ছে “সূকূতী”।

পাঠক! বিখ্যাত ও মশহুর কিতাব “নুরুল আনোয়ার” থেকে আমরা “ইজমা” সম্পর্কে যা জানলাম তার মূল বিষয়বস্তু হলো ইজতিহাদকৃত বিষয়ের উপর সকল মুজতাহিদগণ উনাদের ঐক্যমত পোষণ করাকে “ইজমায়ে আযীমত” বলে। যেমন উক্ত ইবারতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, “اى الاتفاق الكل على الحكم”

অর্থাৎ “কোন বিষয়ে সকলের ঐক্যমত। আর ইজতিহাদকৃত বিষয়ের উপর সকলের নয় বরং কিছু লোকের ঐক্যমত আর কিছু লোকের নিরবতা পালন বা বিরোধীতা না করাকে ইজমায়ে রোখসত বলে।

যেমন, উক্ত ইবারতে একথা স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

اى يتفق بعضهم على قول او فعل وسكت الباقون منهم.

অর্থাৎ “কোন বিষয়ে মুজতাহিদগণ উনাদের কেউ কেউ ঐক্যমত পোষণ করা আর অন্যরা নিরবতা পালন করা।”

এবার আসুন “নূরুল আনোয়ারে” প্রদত্ত ইজমায়ে সূকুতীর উক্ত সংজ্ঞার সাথে রেযাখানীদের দেয়া মনগড়া সংজ্ঞাটিকে মিলিয়ে দেখি তা কিতাবে প্রদত্ত সংজ্ঞার সাথে মিলে কিনা! রেযাখানীদের দেয়া সংজ্ঞা হলো “ইজতিহাদের মাধ্যমে কোন মুজতাহিদ কোন বিশেষ মাসয়ালার প্রচলন করলে অন্যরা যদি নিরবতা পালন করে, প্রতিবাদ বা অস্বীকার না করে পবিত্র ইসলাম উনার পরিভাষায় তাকে “ইজমায়ে রোখসত” বলা হয়, যার অপর নাম “ইজমায়ে সূকুতী।”

পাঠক! রেযা খানীদের বক্তব্য হলো যদি সকল মুজতাহিদ নিরবতা পালন করে প্রতিবাদ বা অস্বীকার না করে তবেই তা ইজমায়ে রোখসত বা সূকুতী। আর “নুরুল আনোয়ার”-এর বক্তব্য হলো “সকলে নয় বরং কিছু লোক ঐক্যমত পোষণ করে আর কিছু লোক নিরবতা পালন করে তবেই তা ইজমায়ে রোখসত বা সূকুতী।”

নূরুল আনোয়ারের” বক্তব্যের সাথে রেযা খানীদের বক্তব্যের কোন মিল আছে কি? তাদের দেয়া উক্ত সংজ্ঞা মনগড়া, মিথ্যা ও প্রতারণামূলক নয় কি? মূলত: রেযাখানীদের প্রদত্ত ইজমার উক্ত সংজ্ঞা রেযাখানীদের জিহালতীর আসল চেহারাই উম্মোচন করে দিয়েছে। তারা এতই আশাদ্দুদ দরজার জাহিল যে, শরীয়তের একটি অন্যতম দলীল “ইজমা” তারই খবর রাখেনা, অথচ তারাই নাকি আবার চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠ ফক্বীহ। কোন দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ? ইলমের দিক দিয়ে না জিহালতীর দিক দিয়ে? এর ফায়ছালা দেবার ভার পাঠকের উপরই ছেড়ে দিলাম।

পাঠক! আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ইজতিহাদকৃত “আযান” এর উপর তৎকালীন সময়ের সকল মুজতাহিদ তথা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন। অর্থাৎ উক্ত আযান প্রচলন করার পর সকলেই তার উপর আমল করা শুরু করেছেন। একজনও এর বিরোধীতা করেননি। আর এধরণের ইজমাকেই যে, ইজমায়ে আযীমত বলা হয় তার প্রমাণ আপনারা “নুরুল আনোয়ারের” উক্ত বক্তব্যেই পেয়েছেন। এখন রেযাখানীরা যদি “নুরুল আনোয়ারে” প্রদত্ত ইজমায়ে সূকুতীর সংজ্ঞা অনুযায়ী ছানী আযানের ইজমাকে ইজমায়ে সূকুতী প্রমাণ করতে চায়, তবে তাদেরকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, হযরত ওছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি “ছানী আযান” সম্পর্কিত ইজতিহাদ করার পর কেউ কেউ তা মেনে নিয়েছেন আর কেউ কেউ নিরবতা পালন করেছেন। কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত কেন, কিয়ামতের পরেও যদি তারা কোশেশ করে তবুও তারা তা প্রমাণ করতে পারবেনা।

সুতরাং রেযাখানীরা ইজমায়ে রোখসত বা সূকুতীর যে সংজ্ঞা দিয়েছে তা সম্পূর্ণই মনগড়া, মিথ্যা, প্রতারণামূলক ও জিহালতীপূর্ণ। এধরণের কোন সংজ্ঞা “নুরুল আনোয়ার” কিতাবে তো দূরের কথাই উছুলে ফিক্বাহার কোন কিতাবেই নাই। রেযাখানীদের প্রতি অনুরোধ রইল, তারা যদি আরবীতে লেখা মূল “নুরুল আনোয়ার” কিতাব খানা পড়তে ও বুঝতে অক্ষম হয় তবে যেন বাংলা ভাষায় অনুদিত “নুরুল আনোয়ার” কিতাবখানা একবার ভাল রূপে মুতায়ালা করে নেয়। তখন হয়তো সব কিছু বাদ দিয়ে শুধু মাত্র ইজমায়ে রোখসত নিয়ে “বাহাছ” করার স্বাধ টুকুও বাকী থাকবেনা। (চলবে)

-মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, চিলমারী, কুড়িগ্রাম।

সুন্নীয়তের অন্তরালে প্রকৃত ওহাবী পত্রিকা রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র ডিসেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় বিদয়াতী, জাহিল মৌলভী বদিউল আলম রেযভীর লেখার যুক্তি খণ্ডনে (৬)

এছাড়া প্রখ্যাত ঐতিহাসিক জ. ঈ গঁলঁসফধৎ তার বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঋৎববফড়স সড়াবসবহঃ গ্রন্থে মুজাহিদ বাহিনীর আন্দোলনে ইংরেজদের সাথে সম্পর্ক যুক্ত করা ও উনাদের ওহাবী আখ্যা দিবার প্রতিবাদে লিখেন- “আরব দেশে ওহাবী আন্দোলনের উদ্ভব হয়। কিন্তু ভারতবর্ষে যে অনুরূপ আন্দোলন হয়, তার সাথে ওহাবীদের কোন সম্বন্ধ ছিল এমন কোন প্রমাণ নেই। স্মরণ রাখতে হবে যে, রায় বেরেলীর সৈয়দ আহমদ বেরেলভী যখন ভারতে এ আন্দোলনের প্রবর্তন করেন তখনও তিনি আরব দেশে যাননি। উনার দল অনেকটা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ হওয়ার পর তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে গমন করেন। ভারতে তিনি এক বিরাট সংঘ প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তা প্রথমে শিখ ও পরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যে তুমুল সংগ্রাম করে, তাই এই আন্দোলনের প্রধান কীর্তি। এর সাথে ওহাবী মতের কোনও সম্বন্ধ নেই। ধর্মমূলক হলেও এর সাথে বিনষ্ট মুসলমান রাজমুক্তি উদ্ধারের আশা আকাঙ্খা ছিলনা তা বলা যায়না। সুতরাং এই আন্দোলনকে এক হিসেবে ব্রিটিশ রাজত্বে মুসলমানদের প্রথম মুক্তিসংগ্রাম বলে গ্রহণ করা যেতে পারে।”

এছাড়া Wahabism in India, Encyclopaedia of Islam, History of Natonalism in East, What Actually is Wahabism, Civil Disturbances during the British Rule in India, A Facinating chapter of the History of Islam in East Pakistan.  প্রভৃতি বহু তথ্যবহুল ও নির্ভর যোগ্য গ্রন্থে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার মুজাহিদ বাহিনীর আন্দোলনকে জিহাদী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উনার সংস্কার আন্দোলনকে যারা ইংরেজদের সহিত সম্পর্ক যুক্ত করে এবং আরবে মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর প্রনয়ণকৃত মুহম্মদী আন্দোলন তথা ওহাবী আন্দোলনের সাথে একত্রিত করেছে এ সমস্ত গ্রন্থগুলোতে তাদের শক্ত ও জোরালোভাবে জবাব দেয়া হয়েছে। আব্দুল ওয়াদুদ ছাহেব উনার ওহাবী আন্দোলন গ্রন্থের ১২৯-১৩০ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে আরো বলেন, উনবিংশ শতাব্দীতে পাক ভারতে মুসলমানদের মধ্যে যে আন্দোলনের জোয়ার এসছিলো যে, সশস্ত্র আন্দোলনটাকে জিহাদী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; কারণ এ আন্দোলনের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল, শিখ ও ব্রিটিশ রাজশক্তির উচ্ছেদ সাধন করে পাক ভারতকে দারুল ইসলামরূপে কাযেম করা। ধর্মরাষ্ট্র স্থাপিত না হলে ইসলামী ঈমান ও আমান প্রতিষ্ঠিত করা যায়না এবং ধর্মীয় সংস্কার সাধনও সম্ভব নয়। এটাই ছিল সেকালীন মুসলমান নেতাদের বিশ্বাস। আর ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার-কর্মে উনারা কায়েমী স্বার্থবাদীদেরও সাথে সংঘাতে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন অর্থনৈতিক কারণে। এজন্য এই আন্দোলনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক রূপের সংমিশ্রণ ঘটেছিলো, যদিও সামগ্রিকভাবে এ আন্দোলনকে জিহাদী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করাই প্রশস্ত।

কিন্তু নেহায়েত মতলববাজিতে সুবিধার জন্য এ আন্দোলনকে ‘ওহাবী’ আখ্যা দেয়া হয়েছে। এবং বিদেশী শাসক ইংরেজরা মুসলমানদের সশস্ত্র আন্দোলনকে লোকচক্ষে হেয় করবার হীন মনোবৃত্তিতে ‘ওহাবী’ নামাঙ্কিত করেছে। আসলে হেজাজে আঠারো শতকে মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব যে পিউরিটানিক বা অর্থনৈতিক আন্দোলনের সূত্রপাত করে, তার সাথে পাক ভারতীয় মুসলমানদের আন্দোলনের অনেক পার্থক্য রয়েছে। পাক ছারতীয় আন্দোলনকারীরা কখনও নিজেদের ওহাবীদের সাথে চিহ্নিত করেননি। এদেশী আন্দোলনের জনক হাজী শাহ ওয়ালীউল্লাহ, শাহ আব্দুল আযীয, সৈয়দ আহমদ শহীদ, হাজী শরীয়তুল্লাহ বা তিতুমীর কেউই আব্দুল ওহাবের বা তার অনুগামীদের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসেননি।

পবিত্র ইসলাম উনার চারটি মাযহাবের যে কোনও একটির অনুসারী হওয়া সুন্ন মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। পাক ভারতীয় জিহাদীরা নিষ্ঠার সাথে মাযহাবপন্থী ছিলেন। পীর-ফকীরী, কবর-মাযার যিয়ারতের বিরুদ্ধাচরণ করা আরবী ওহাবী পন্থীদের প্রধান নীতি। এগুলোকে তারা পৌত্তলিকতা জ্ঞান করে। অথচ এ দেশীয় জিহাদীরা কখনও কবর-মাযার যিয়ারতের বিরোধীতা করেননি। তাছাড়া বাংলাদেশে যে সংস্কারধর্মী আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে দেখা দিয়েছিলো, তার সাথে হেজাজী আন্দোলনের কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। হয়তো আরবী আন্দোলনের সাথে পাক ভারীয় জেহাদীদের ধর্মীয় সংস্কার প্রচেষ্টার কিছুটা মিল ছিল, কিন্তু জিহাদী আন্দোলনকে ‘ওহাবী’ হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। জিহাদী আন্দোলনকে ইংরেজরা ‘ওহাবী’ বলে আখ্যায়িত করেছে পাক ভারতীয় মুসলমানদের সহানুভূতি নষ্ট করে উনাদের প্রতি বিতৃষ্ণা ও বিদ্ধেষ জাগাবার দুরভিসন্ধিমূলে এবং ইংরেজরা এ প্রয়াসে এক শ্রেণীর মোল্লা-মওলভীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলো প্রচারনা কার্যে। কিন্তু দু’টি আন্দোলনকে একধর্মী বলে চিহ্নিত করা কখনও যুক্তিনির্ভর বা সমীচীন নয়।

-মাওলানা মুফতী মুহম্মদ নূরুল আমীন, ঢাকা।

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যি আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেমেছাল বুযুর্গী ও মর্যাদা মূল্যায়ণ এবং বালাকোটের ইতিহাস বিকৃতকারী আহমদ রেযা খার স্বরূপ উদঘাটন সম্পর্কে (৮)

আল্লামা গোলাম রসূল মিহির ছাহেব উপমহাদেশে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার মুজাহিদ উনাদের নিয়ে এক বিশাল ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার মূল উর্দূ গ্রন্থের নাম “সার গুজাসতে মুজাহিদীন” এবং ইহাই উপমাদেশে মুজাহিদ উনাদের উপর লিখিত সবচাইতে বৃহৎ গ্রন্থ যা পাঠক সমাজের নিকট খুবই গ্রহণ যোগ্য ও সমাদর লাভ করেছে।

উক্ত গ্রন্থে তিনি বলাকোটের রক্ত রঞ্জিত সত্যিকার ইতিহাসের উৎসধারা উদঘাটন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং এ ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি সফল কামও হয়েছেন। আমরা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে উনার পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করি। তিনি উনার এ গ্রন্থে দু’টি সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসের ধারা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, উপমহাদেশে হঠাৎ করে মুজাহিদ উনাদের বিকৃত ও লুপ্ত হয়ে যাওয়া ইতিহাসের উৎস উদঘাটন ও দ্বিতীয়ত, তৎকালীন ঔদ্ধত্য গুণেধরা আফগান সমাজে পাঠানীদের বিকৃত চরিত্র ও শরীয়ত বিবর্জীত জীবন চরিত্রের হাল তুলে ধরেছেন। যা থেকে পাঠানীদের সত্যিকার পরিচয় ফুটে উঠে। যেমন তিনি উপমহাদেশের তার আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ “সার গুজাসতে মুজাহিদীন” কিতাবে আফগান পাঠানদের পরিচয় তুলে ধরেছেন এই ভাবে- লোকেরা শরীয়তের আহকাম মেনে চলার ব্যাপারে সাধারণভাবে বেপরোয়া ছিলো। তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের লাগাম ছিলো মোল্লাদের হাতে এবং মোল্লাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও কার্যকলাপ সংক্রান্ত অবস্থা নি¤œস্তরে নেমে গিয়েছিলো। তারপর বিভিন্ন রইস আবার মোল্লাদেরও পরোয়া করতেন না; বরং তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের খাতিরে যা কিছু করতেন, মোল্লারা শরীয়তের দৃষ্টি ভংগীতে তাকেই বৈধ প্রমাণ করে দিতেন। ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার গুণাহর কাফফারার জন্য মোল্লাদের জামায়াত বসতো। এক জিলদ কুরআন শরীফ ও কিছু টাকা হাতে ঘুরিয়ে অবশেষে পুরো জামায়াতের হাতে দিয়ে দেয়া হতো। সীমান্তের পরিভাষায় তাকে বলা হতো ‘ইসকাত’ অর্থাৎ মৃতের গুণাহ দূর করার কার্য।

মেয়ের বিবাহের সম্মানজনক পরিমাণ অর্থ পণ হিসাবে গ্রহণের প্রথা প্রচলিত ছিলো। বহু পুরুষ অর্থ সংগ্রহে অসামর্থ হেতু বিবাহে বঞ্চিত হতো, ফলে বহু নারী পিতৃগৃহে থেকেই বৃদ্ধা হয়ে যেতো। অপর এক প্রথা ছিলো এই যে, কিছু অর্থ বিবাহের সময়ে দূলহার যিম্মায় থেকে গেলে তা আদায় না হওয়া পর্যন্ত দুলহিনকে বিদায় করা হতো না। হাজার হাজার মানুষ এই অর্থের জন্য মেহনত মযদুরী করতে বেরিয়ে যেতো দূর-দূরান্তরে এবং বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতো বাইরে। বেচারী পাত্রী পিতৃগৃহেই প্রতীক্ষা করতে থাকতো।

দলীয় ও গোত্রীয় বৈষম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলো যে, কারোর কোন ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বোধ ছিলো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব দল ও গোত্রের সমর্থনকেই যিন্দেগীর মূল লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছিলো, তাদের কার্যকলাপ যতোই অসংগত ও অবৈধ হোক না কেন।

মৃত ব্যক্তির স্ত্রীদেরও অন্যান্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির মতো মৃতের স্বজনদের মধ্যে বিভক্ত করা হতো। প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির ব্যাপারে তারা হয়ে গিয়েছিলো এক রকম বেপরোয়া। আজ ওয়াদা করে কাল তা অবাধে লংঘন করতো। এ সম্পর্কে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। তুচ্ছ পার্থিব কল্যাণের খাতিরে দ্বীনি ও কওমী কর্তব্য উপেক্ষা করতে তাদের কোন বাধা ছিলো না। চারটির অধিক বিবাহের রেওয়াজ প্রচলিত ছিলো। মেয়েরা উত্তরাধিকারে বঞ্চিত হতো। রেশমী বস্ত্র পরিধান, শরাব পান ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মে তারা এমন নির্বীকভাবে অভ্যস্ত ছিলো যে, তার জন্য তারা প্রকাশ্যে গর্ব প্রকাশ করতো।

দাংগা-হাংগামাকারী, ডাকাত ও চোরের মতো অপরের ধন-সম্পদ লুটে নেয়া এবং শরীয়ত সম্মত জিহাদের মধ্যে তাদের দৃষ্টিতে কোন পার্থক্য ছিলো না। যে সব কার্যকলাপে লাভের সম্ভাবনা ছিলো, তা যতোই অবৈধ হোক না কেন, তাকে তারা মনে করতো জিহাদ।

-শের-ই বাংলা মূফতী মুহম্মদ শামছুল আলম, ঢাকা।

মুসলিম বিদ্বেষী জালিম ইংরেজ জাতি তথা উইলিয়াম হান্টার গং এর জাহিল অনুসারী আহমদ রেযা খার অন্ধ পূজারীদের জিহালত উদঘাটন রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের জাহিল লেখক আবূ সাঈদের জিহালতির জাওয়াব (৭)

ইতোপূর্বে এই কলামে ইসলামী ফাউ-েশন কর্তৃক রচিত পুস্তক ব্যতীত আরো অনেক কিতাবের ইবারত আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমী প্রণীত “মুসলিম সংস্কারক ও সাধক” পুস্তকে হুমায়ুন আব্দুল হাই লিখেন, “সাইয়্যিদ আহমদ শহদি বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে [হিজরী ১২০১ সনে] ভারতের অন্তর্গত উত্তর প্রদেশের (পূর্ব নাম যুক্ত প্রদেশ০ রায় বেরিলীতে জন্মগ্রহণ করেন। উনার পিতার নাম ছিল সাইয়্যিদ মুহম্মদ এরফান ও পিতামহের নাম ছিল সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূর তিনি যে বংশে জন্মগ্রহণ করেন তা বিখ্যাত হাছানী সাইয়্যিদ বংশ নামে খ্যাত এবং তিনি ছিলেন এ বংশের পয়ত্রিশতম পুরুষ।

এ সময় সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিদ্যা ও পা-িত্যে মুগ্ধ হয়ে শাহ আব্দুল আজীজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভ্রাতুষ্পুত্র শাহ ইসমাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি ও জামাতা শাহ আব্দুল হাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় নেতা ও সমাজ সংস্কারক হিসাবে উনার সুনাম দিল্লী ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দেশ-দেশান্তর থেকে উনার ডাক আসতে থাকে।

এ সময় উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একের পর এক দাওয়াত আসতে থাকে। ফলে তিনি উনার ওস্তাদ হযরত শাহ আব্দুল আজীজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুমতি নিয়ে ভ্রমণে বের হন এবং রামপুর, শাহজাহানপুর, সাহারণপুর, দেওবন্দ, নানুতা, বেরেলী, আলহারী, মুজাফফরনগর প্রভৃতি স্থান সফর করতে শুরু করেন। সে সময় সে সব স্থানে হাজার হাজার লোক উনার সান্নিধ্যে আসে এবং উনার ব্যক্তিত্ব ও ওয়াজ-নসিহতের প্রভাবে কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচার-অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করে খাঁটি ইসলামী তরীক্বা গ্রহণ করেন। তিনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুসলমানদের দিলে পূর্ণ ইসলামী জোশ জাগিয়ে তোলেন।

তখনকার দিনে মুসলমান সমাজে বিধবা বিবাহ আদৌ প্রচলিত ছিলনা অথচ বিধবাদের বিবাহ মুসলমান সমাজে কেউ কল্পনাও করতে পারতো না। বিধবা বিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল এবং এমনকি এ অপরাধে পাত্র-পাত্রী উভয়কে হত্যা করে ফেলা হত।

হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিই সর্বপ্রথম কুসংস্কারের মূলে কুঠারাঘাত করলেন। ইতিপূর্বে উনার বড় ভাই হযরত সাইয়্যিদ ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। ফলে তিনি নিজেই বড় ভাইয়ের বিরহ বিধুরা বিধবাকে বিবাহ করে মুসলমান সমাজের প্রতিষ্ঠিত একটি কুসংস্কারের মূল উৎপাটন করলেন। এরপর থেকে তখনকার মুসলমানদের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেয় এবং ক্রমে ক্রমে বিধবা বিবাহ মুসলমান সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আর একটি বিবাদের সম্মুখীন হন। তাহলো শিয়া-সুন্নী বিবাদ।

অনেক ঐতিহাসিক, বিশেষ করে ইউরোপীয় ঐতিহাসিকগণ বলে থাকেন যে, মক্কায় অবস্থানকালে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ওহাবী মতবাদীদের সংস্পর্শে আসেন ও তাদের মতবাদে বিশেষ আকৃষ্ট হন এবং দেশে ফিরে এসে তিনি এ মতবাদ প্রচার শুরু করেন। ঐতিহাসিকদের এ মন্তব্য কতটুকু সত্য, তা বিশদ ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে। তবে এ কথা নিশ্চিত করে বলা চলে যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রচারিত মতবাদ ওহাবী মতবাদ থেকে অনেকাংশে ভিন্ন ছিল।

স্বাধীনতা লাভের জন্য তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রচারকার্য শুরু করেন। তিনি উপমহাদেশের সব মুসলমানদেরকে বিশেষ করে বড় বড় মুসলমানদেরকে স্বাধীনতার জন্য জিহাদে শরীক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। এ সময় উনার নজর পড়ল পাঞ্জাবের উপর। তিনি দেখলেন যে, পাঞ্জাবে শিখ রাজা রণজিৎ সিং-এর শাসনে মুসলমানরা নিষ্পেষিত হচ্ছে এবং এমনকি তার অবিচার ও অত্যাচারে সেখানকার মুসলমানেরা নির্বিঘেœ ধর্ম-কর্ম করতে পারছে না। তাই মুসলমানদের আত্মচেতনা ফিরিয়ে আনবার জন্য তিনি দেশময় প্রচার শুরু করলেন। তিনি নিজে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে মুসলমানদেরকে ধর্মোপদেশ প্রদান করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে অত্যাচারী শিখদের বিরুদ্ধে বাণীও প্রচার করেন।

হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রচারিত এ আন্দোলন ইতিহাসে “মুহম্মদী আন্দোলন” নামে প্রসিদ্ধ। উনার এ আন্দোলনের প্রধান ও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের কুসংস্কার ও অনৈসলামিক আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতি দূর করে প্রকৃত ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা।

হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চল্লিশ বছর বয়সের কর্মজীবনে যে কর্মসূচী প্রদর্শন করে গেছেন তা বাস্তবিকই অতুলনীয়। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন সমাজ সংস্কারক। সংগঠনী কাজে তিনি অতুলনীয় শক্তির অধিকারী ছিলেন।

তিনি একজন বিখ্যাত আলিম ছিলেন এবং অন্যান্য আলিমদেরকেও তিনি সম্মানের চোখে দেখতেন। তিনি একজন অসীম সাহসী ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোক ছিলেন। বিধবা বিবাহ প্রচলন উনার অসীম সাহস ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক।

হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কোন অন্যায়-জুলুম পছন্দ করতেন না বা নিজেও কোন অন্যায় বা জুলুম করতেন না। উনার কাছে বড় ছোট সবাই সমান ছিল। তিনি ছিলেন আদর্শ ও ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ছিল উনার চরিত্রের প্রধানতম গুণ।”

পাঠক! এ সমস্ত ঐতিহাসিক মন্তব্যের প্রতি রেযাখানী গংদের কোনই দৃষ্টি নেই। কারণ কাদিয়ানীদের মত রেযাখানীরা রেযা খাকে কার্যত এবং দৃশ্যত ওদের নবী মানতে শুরু করেছে।

-মুহম্মদ আরিফুর রহমান।

“কাফির মুনাফিকদের হুমকি প্রদর্শন নিতান্তই অসাড়” প্রসঙ্গ :

অবৈধ মালিকের অবৈধ লেখা ও বাহাসের নামে প্রতারণা

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি কি উনার বান্দার জন্য যথেষ্ট নহেন। অথচ তারা আপনাকে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে গোমরাহ করেন তার কোন পথ প্রদর্শক নাই। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই।” (সূরা আল যুমার/৩৬-৩৭)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে তাফসীরে উল্লেখ করা হয়, কাফিররা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনাকে একথা বলে ভয় দেখিয়েছিল যে, “যদি আপনি আমাদের প্রতিমাদের প্রতি বেয়াদবী প্রদর্শন করেন, তবে তাদের কোপানল থেকে আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা, প্রতিমাদের ক্ষমতা খুব সাংঘাতিক।” এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই উপরোক্ত আয়াত নাযিল করা হয়।

পাঠক! বর্ণিত ঘটনারই পুনরাবৃত্তি করেছে রেযাখানীর মাযহাবের জনবিচ্ছিন্ন অবৈধ এক মুখপত্র।

অবৈধ সন্তানের ইমামতিতে নামায পড়া মাকরূহ হওয়ার পিছনে একটি কারণ বলা হয় যে, “অবৈধ সম্পর্কের ফলে তার জন্ম হওয়ায় কথিত সন্তানের বাবা-মা তার বৈধতাও দাবী করতে পারেনা এবং স্বভাবত: তার তদারকিও করেনা এবং অন্য কেউও সেরকমভাবে এগিয়ে আসেনা। স্বাভাবিকভাবে এরকম অবৈধ সন্তান চাই স্বেচ্ছাচারী, মুর্খ নৈতিকতাবিহীন ও নীতিজ্ঞানহীন হয়ে থাকে ও তদানুরূপ কাজ করে থাকে।”

বলাবাহুল্য, এরূপ অবৈধ সন্তানের ন্যায়ই তথাকথিত সুন্নী জামায়াতের আব্দুল জলীল গ্রুপের রেজিস্ট্রেশন, অনুমোদনবিহীন অবৈধ মাসিক প্রকাশনাটি কান্ডজ্ঞানহীনতা, শিষ্টতা, নৈতিকতা, বর্জিত, অকল্পনীয় মিথ্যাচারযুক্ত বক্তব্য ও প্রতারণাপূর্ণ বাহাসের নামে মিথ্যা অহমিকা প্রকাশ করে অবৈধ প্রকাশনা হিসেবে তার বৈশিষ্ট্য যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। কাফিররা যেমন নাহক্ব হওয়া সত্ত্বেও তাদের নির্জীব প্রতিমাদের প্রতি মিথ্যা বেয়াদবির ভয় দেখিয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অলীক হুমকি প্রদর্শন করেছিল ঠিক তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে তথাকথিত সুন্নী জামাতের জলীল গ্রুপের অবৈধ মাসিক প্রকাশনাটি উহাদের তথাকথিত ইমাম আহমদ রেযা খার হাক্বীক্বত উন্মোচনকে তার প্রতি বেয়াদবি বলে উল্লেখ করে, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আ’যম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমামুল আয়িম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আযম, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি অলীক হুমকির ধৃষ্টতা ও মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে। শুধু তাই নয় রাজারবাগ শরীফ-এর প্রতি চরম মিথ্যাচারযুক্ত করে এক প্রতারণাপূর্ণ বাহাসের আমন্ত্রণের অবতারণা করেছে। তারা বলতে চেয়েছে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি নবী বলে প্রচার করছে।” (নাউযুবিল্লাহি মিন জালিক)

অথচ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পৃষ্ঠাপোষকতায় পরিচালিত মাসিক আল বাইয়্যিনাতের প্রতি সংখ্যায়ই খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির এবং তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩ (তিন) দিন তারপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদ- ঘোষণা করা হচ্ছে এবং খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী কাদিয়ানী, বাহাই, ইত্যাদিকে কাফির ঘোষণা করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি নবী বলে প্রচার করছে একথা প্রকাশ করা সুস্পষ্ট ও জঘণ্য প্রতারণা নয় কি? এই জঘণ্য প্রতারক তার অলীক কল্পনায়, রাজারবাগ শরীফ-এর কুফরী আক্বীদা (?)এর সাথে শর্ত সাপেক্ষে বাহাসের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কোন আক্বীদা কুফরী আর কোন আক্বীদার সাথে সে বাহাস করতে চায় তা কিছুই উল্লেখ করেনি।

তদুপরি শর্ত সাপেক্ষের কথা বলেছে; কিন্তু কি যে তার মনগড়া প্রতারণাপূর্ণ শর্ত তা আবার ধরা পড়ে কিনা সে ভয়ে সে বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থেকেছে।

অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর বিগত ২৪ সংখ্যা থেকে প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ দিয়ে আসা হচ্ছে। তাতে বাহাসের বিষয় তথা প্রাথমিক শর্ত-শারায়েতও বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু এরূপ একটি স্পষ্ট আহ্বান থাকা সত্ত্বেও তাতে সাড়া না দিয়ে নতুন করে বাহাসের নামে প্রতারণা করা তাদের হঠকারীতাকেই কি তুলে ধরে না?

মূলত, এরা জালিম শ্রেণীর অন্তর্গত। আর তাই নিজেদের ভিতরে এতটা শঠতা, হঠকারিতা, প্রতারণা, ছলনা আর মিথ্যা থাকার পরেও তারা, উল্টো রাজারবাগ শরীফ-এর প্রতিই মিথ্যার তোহমত দিয়ে থাকে। মূলতঃ এতে করে তারা সুন্নতের মূর্ত প্রতীক রাজারবাগ শরীফ-এর জন্য আরেকটি সুন্নত পালনেরই অবকাশ করে দেয়। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে এবং তার কাছে সত্য আগমন করার পর তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে হবে? কাফিরদের বাসস্থান জাহান্নাম নয় কি?” (সূরা আল যুমার/৩২)

যাঁরা সত্য নিয়ে আগমন করেছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিতেছে, উনারাই তো খোদাভীরু।

-মুহম্মদ জিসান।

মাসিক মদীনা ভুল মাসয়ালা আর গোমরাহী বিস্তারের এক জঘণ্য পত্রিকা ইসলামের নামে বিকৃত শিক্ষা দেয়ার অপরাধে, যে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধে আশু পদক্ষেপ একান্ত দরকার

(ধারাবাহিক)

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ তাদের অভিনব অভিজ্ঞতা ও হৃদয়ের প্রগারতম ইচ্ছা নিয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফ-এ হাযির হলেন। বললেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা দেখেছি গাছ-পালা তরুলতাসহ সৃষ্টজীব আপনাকে সিজদা করে থাকে। আমরা চাই এবার থেকে আমরাও আপনাকে সিজদা করব।” জবাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অপর কাউকে সিজদা করা হারাম। যদি তা না হত তবে আমি আদেশ করতাম স্বামীকে, স্ত্রী সিজদা করার জন্য।” (সুবহানাল্লাহ)

মূলত, বর্ণিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অনিবার্য আনুগত্যতা, ভালবাসার কথাই ব্যক্ত করা হয়েছে।

বলাবাহুল্য ইসলামে নির্দেশিত স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এই মুহব্বত তথা আনুগত্যতা এক অবর্ণনীয় বড় সম্পদ।

বলাবাহুল্য, ইসলামে নির্দেশিত এরূপ শ্রদ্ধাবোধ, নির্ভরশীলতা ও নিবিঢ় সম্পর্কের দরুণই মুসলিম সমাজে পারিবারিক বন্ধন এত অটুট, চমৎকার ও সূক্ষ্মবহ। অথচ অমুসলিম বিশ্বে পারিবারিক বন্ধন আজ একান্ত হুমকির সম্মুখীন এবং তৎসঙ্গে সেখানকার মানব বন্ধন ও বিশেষ হুমকির সম্মুখীন।

বলাবাহুল্য, এ কারণে ওরা মুসলিম বিশ্বের এই পারিবারিক বন্ধনের প্রতি ইর্ষাকাতর চোখে কেবল তাকিয়ে থাকছেনা বরং তা বিনষ্টের জন্যও ছলে-বলে কৌশলে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সহযোগীতা করছে তথাকথিত মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন।

মাসিক মদীনা : এপ্রিল/৯০ ঈসায়ী সংখ্যায় বলেছে, “মহিলারা বাপের বাড়িতে এলে কছর নামায পড়তে হয় না।” (দলীল নেই)

মাসিক আল বাইয়্যিনাত : মেয়ে যখন বিবাহ হয়ে যায় এবং স্বামীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য তুলে নেয়া হয়, তখন তার ওয়াতনে আছলি (স্থায়ী বাড়ি) হয়, স্বামীর বাড়ি। কাজেই তার স্বামীর বাড়ি ও বাপের বাড়ির মধ্যে যদি কছর পরিমাণ দূরত্ব হয়, তাহলে মহিলাকে কছর পড়তে হবে তার বাপের বাড়িতে। আর পুরা নামায পড়তে হবে তার বাড়িতে।” (দলীল- ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, বেহেশতী জেওর)

বলাবাহুল্য, তথাকথিত নারী প্রগতিবাদীদের ভয় করে মাহিউদ্দীন ইসলামের প্রসিদ্ধ ও নির্ভরশীল ফতওয়াকে অস্বীকার করে তার মনগড়া ফতওয়া দিয়েছে। কিন্তু এর …. ইসলাম নির্দেশিত স্বামীর প্রতি স্বামী-স্ত্রীর অবিভাজ্য, অকৃত্রিম ভালবাসা, নির্ভরতা আর শ্রদ্ধাবোধ, ক্ষুন্ন করে মাহিউদ্দীন ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পারিবারিক সম্পর্কে চির ফাটল ধরিয়ে দেয়ার পায়তারা করছে।

উল্লেখ করা হয়, ইবলিস তার ঐ শাগরেদের প্রতি বেশি খুশি হয়, যে পারিবারিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। বলাবাহুল্য অযাচিতভাবে সে, সেই কাজটি করছে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) (চলবে)

-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ।

ইলমে তাছাউফে আহমদ রেযা খার অন্তসার শুণ্যতাই তার পদস্খলনের কারণ (৮)

আর সে পদস্খলনের ধু¤্রজালে আবদ্ধ রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র

ইলমে তাছাউফ শূণ্য আলিম মুসলিম উম্মার জন্য আযাব ও গযবের কারণ হামীউল কুফুর ওয়াশ শিরক, মুহউল বিদয়াত, মাহীউস সুন্নাহ, আহমদ রেযা খা তার অন্ধ অনুসারী রেযাখানীদের কতটুকু আযাব ও গযবের কারণ ছিল তার কিয়দাংশ ফিরিস্তি গত সংখ্যায় পাঠক খিদমতে পেশ করেছিলাম। প্রতিশ্রুতি মুতাবিক এ সংখ্যায় কিছু বর্ণনা করার আশা রাখি।

“হায়াতে আহমদ রেযা খান বেরেলভী” কিতাবের ১৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

উর্দূ কম্পোজ করতে হবে

অর্থ: “মাওলানা বেরেলভী স্বয়ং দয়াময় মহান আল্লাহ পাক উনার ছাত্র ছিলেন। তিনি কারো থেকে ছাত্রের মর্যাদা হাছিল করেনি। অর্থাৎ তিনি কারো ছাত্র ছিলেন না।” (রেযাখানী মাযহাব-৩৫)

পাঠক! এই ছিল আহমদ রেযা খার অন্ধ অনুসারীদের আক্বিদা-বিশ্বাস। যে আক্বিদা বিশুদ্ধ না হলে কোন আমল যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হয়না, মানুষ জাহান্নামের উপযুক্ত হয়ে যায় রেযাখানীদের সে আক্বীদাই বিপর্যস্ত হয়েছে। তারা আহমদ রেযা খাকে নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের স্থানে বসানোর বৃথা চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ছাত্র তথা সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে ইলম পাওয়া নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের শান, তারা তা আহমদ রেযা খার সাথে একিভূত করে দিয়েছে।

আহমদ রেযা খার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিভাত হয় যে, সে একাধিক উস্তাদের নিকট থেকে ইলম হাছিল করেছে। যদিও তার সে বক্তব্যের মধ্যে অহঙ্কার ও আত্মগরিমা দুগন্ধ মিশ্রিত ছিল। আহমদ রেযা খা নিজেই বলেছে যে, যার নিকট হতে আমি প্রাথমিক কিতাব পড়েছি। আমাকে যখন তিনি কিতাব পড়তে দিতেন আমি দু-একবার পড়ে কিতাব বন্ধ করে রাখতাম। উস্তাদ যখন আমার পড়া শুনতেন তখন হুবহু সেভাবে শুনিয়ে দিতাম। প্রতিদিন আমার এ অবস্থা দেখে আশ্চর্য হয়ে যেতেন। একদা আমাকে বললেন আহমদ মিয়া! বলত, তুমি মানুষ না জিন। (রেযাখানী মাযহাব-৩৫) উল্লেখ্য যে, নিজেকে লোক সমাজে জাহির করার প্রবণতা ছিল ছোটবেলা থেকে তীব্রতরভাবে বিরাজ করেছিল রেযা খার অন্তরে। অথচ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

فلا تزكوا انفسكم هو اعلم بمن اتقى-

অর্থ: “তোমরা আত্ম প্রশংসা করনা। তিনি ভাল জানেন বা কে বেশি মুত্ত্বাকী, সংযমী।” (সূরা আননজম/৩২)

-মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম ত্বাহেরী।

এক মিথ্যা ঢাকতে ব্যবহার করতে হয় শত মিথ্যা, আহমকের ময়লা লাগে তিন জায়গায় আল বাইয়্যিনাত-এর লেখা খণ্ডনে রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র শত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে চরম আহমকীরই পরিচয় দিয়াছে-৮

প্রসঙ্গতঃ হাদীয়ে বাঙ্গাল, জৈনপুরি সিলসিলার প্রতিষ্ঠাতা, হযরত মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুর্শিদে বরহক্ব, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে যা বলেন তা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো-

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

কাজেই এই জনাবের তরীক্বায় বাইয়াত হওয়ার প্রভাব এই, পুরুষ-মেয়ে নির্বিশেষে সকল স্তরের লোকেরা যখন শুধু তওবা করিবার উদ্দেশ্যে উনার তরীক্বাভূক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এক প্রকার পবিত্রতা হাছিল হইয়া যাইত। যাহার ফলে শিরক বিদয়াত হইতেও পবিত্র ও পাক হইয়া যাইত; এইরূপভাবে পরিস্কার ও পবিত্রতা জনাব সাইয়্যিদ ছাহেব প্রকাশ হইবার পূর্বে অন্য মুর্শিদ উনাদের ছিলনা। সেই সময় কেহ কোন বিদয়াতে লিপ্ত ছিল, কেহ অন্য কোন কাজে লিপ্ত ছিল, এমনকি কোন কোন লোককে হাফিজ, ক্বারী, মৌলভী এবং দরবেশ বলিত তাহারাও তাজিয়া বানাইত এবং কোন কোন লোককে বুযুর্গ বলা হইত, তাহারাও তাজিয়া দেখিয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রন্দন করিত এবং উহার সম্মানের জন্য দাঁড়াইয়া যাইত।

আর ঐ পুরাতন লোকদের মধ্যে যাহারা হযরত মুর্শিদে বরহক আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রাথমিক যুগে জীবিত ছিল এবং হযরত মুর্শিদে বরহক এর তরীক্বা গ্রহণ না করিবার জন্য বাতেনী নিয়ামত হইতে বঞ্চিত হইয়াছে এবং প্রকাশ্যে এমন অপদস্থ হইয়াছে যে, তাহাদের ভক্তদের মধ্যে যাহারা হযরত মুর্শিদ উনার তরীক্বায় প্রবেশ করিয়াছে তাহাদিগকে নছীহত (উপদেশ) করিত এবং বুঝাইত। ইহাতো ছিল সাধারণ লোকদের অবস্থা। যাহারা শুধু তওবা করিবার জন্য মুরিদ হইত তাহাদের উল্লেখিত উপকার হইত।

আশ্চর্য রকমের প্রভাব যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এই তরীক্বায়ে মুহম্মদিয়াকে দান করিয়াছেন যে, সাধারণ লোকদের মধ্যে যাহারা এই তরীক্বায় প্রবেশ করিত তাহারা একেবারে শিরক, বিদয়াত এবং গর্হিত রুছুম হইতে পবিত্র হইয়া যাইত। আর বিশেষ লোকদের যে কি উপকার হইত উহা বর্ণনার অতীত। আর যে পুরুষ এই তরীক্বা গ্রহণ করিত আর তাহার স্ত্রী যদি গ্রহণ না করিত তাহা হইলে পুরুষের ভয়ে শিরক, বিদয়াতকে ছাড়িয়া দিত কিন্তু চুপে চুপে সমস্ত শিরক-বিদয়াত কাজ করিত। আর যদি সে নিজে এই তরীক্বায় প্রবেশ করিত তবে সন্তুষ্টচিত্তে সমস্ত শিরক-বিদয়াত এবং অশ্লীল কাজ ছাড়িয়ে দিত। আর যাহারা ছুলুক ইলাল্লাহু (মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার উদ্দেশ্যে বলে) এর নিয়তে এই তরীক্বার মধ্যে প্রবেশ করিত সে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দয়া ও মেহেরবানীতে সপ্তাহ কিম্বা দশ দিনে নিজের মকসুদে কিংবা উহার কাছাকাছি চলিয়া যাইত এবং যিকির ও মোরাকাবার অবস্থা ভাল ভাবে বুঝিয়া যাইত। আর জনাব সাইয়্যিদ ছাহেবের প্রকাশের পূর্বে অধিকাংশ মুর্শিদের নিকট লোকেরা বৎসরের পর বৎসর থাকিত কিন্তু শিরকে লিপ্ত থাকার দরুণ নফসের পবিত্রতা হইত না। এই জন্য তাহাদের সম্পর্ক স্থাপন হইত না এবং আসল উদ্দেশ্য হইতে বঞ্চিত থাকিত বরং উহাদের খোদ মুর্শিদের অবস্থাও এইরূপ ছিল।

একটি আফসোসের কথা শোন। এই অধম হাজার হাজার লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়াছে যাহারা যিকির ও শোগলের সঙ্গে লিপ্ত থাকিত এবং তাহাদের নিকট খুব তাহক্বীক এবং বিশ্বাসের সহিত জিজ্ঞাসা করিয়াছি কিন্তু কেহই নিজের যিকির ও শোগলের পরিণাম বলিতে পারে নাই এবং মোশাহিদার পদ্ধতিও তাহারা বলিতে পারে নাই। তাহাদের অবস্থা এই বুঝিলাম, যেমন এক ব্যক্তি তালাবের (পুকুরের) পানি ফেলিতেছে। তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল তুমি কি করিতেছ? সে বলিল কিছু খোঁজ করিতেছি। অতঃপর সে জিজ্ঞাসা করিল কি খুঁজিতেছ? সে বলিল জানি না। আর হযরত সাইয়্যিদ ছাহেবের তরীকাপন্থী যাহারা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, তাহারাও সকলেই যিকির ও শোগলের পরিণতি সম্বন্ধে ভালভাবেই ওয়াকিফহাল আছেন এবং উদ্দেশ্যে তাড়াতাড়ি পৌঁছিয়া যান। উহার কারণ, উনার তরীক্বায় প্রবেশ করিবার সঙ্গে সঙ্গেই শিরক বিদয়াত হইতে পাক পবিত্র হইয়া যায়। …… এই প্রকারের বর্ণনাই তার মুজাদ্দিদ হওয়ার নিদর্শনের পরিচয় লাভে যথেষ্ট।

-মূফতী মুহম্মদ নেয়ামত মাওলা।

আওলাদুর রসূল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফযীলত ও

রেযা খা বেরেলীর জিহালত (৮)

আওলাদুর রসূল তথা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধরগণ উনাদের ফযীলত সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রইসুল মুফাসসিরীন ওলীয়ে কামিল আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানি পথি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি قل لا اسئلكم عليه اجرا الخ (আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা) এ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এরূপ ব্যাখ্যা করি যে,

لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى وذلك لانه صلى الله عليه وسلم كان خاتم النبين لانبى بعده وانما انتصب للدعوة الى الله، بعده صلى الله عليه وسلم علماء امته من اهل الظاهر والباطن ولذالك امر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم ان يامر امته بمودة اهل بيته لان عليا رضى الله تعالى عنه والائمة من اولاده كانو قطبابالكمالات الولاية.

অর্থ: “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইতও বংশধরগণ উনাদের (সম্মান প্রদর্শন কর) হক্ব আদায় কর। কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আখেরী বা শেষ নবী। উনার পরে কেউ নবী হিসেবে আগমন করবেনা।” সুতরাং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাওয়াতের দায়িত্ব কেবল মাত্র উনার উম্মতগণ উনাদের মধ্যে যারা ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফে পরিপূর্ণ ওলামায়ে কিরাম উনাদের উপরই বর্তিয়েছে। আর সে জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নির্দেশ করেছেন যে, তিনি যেন স্বীয় উম্মতগণকে নির্দেশ দেন যেন তারা উনার আওলাদগণ উনাকে সম্মান (তা’যীম-তাকরীম) করে। কেননা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু তিনি এবং উনার বংশধরগণ উনাদের মধ্যে ইমামগণ উনারাই ছিলেন কামালত ও বেলায়েত সম্পন্ন কুতুব।” (তাফসীরে মাযহারী ৮ম জি: ৩২০ পৃষ্ঠা)

উপরোক্ত আলোচনায় যেটা প্রতীয়মান হয়েছে তাহলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে যেহেতু আর কেউ নবী হবেনা সেহেতু নুবুওওয়াতের এ মহান দায়িত্ব পালনের একচ্ছত্র অধিকারী হচ্ছেন যারা উনার ওয়ারিছ, বংশধর বা আওলাদগণ উনারা অথবা যাঁরা নায়েবে নবী বা ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া হিসাবে স্বীকৃত।

এ সম্পর্কে “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জি: ৩২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে,

ومن اجل ذالك ترى كثيرا منا سلاسل المشائخ تنتهى الى ائمة اهل البيت ومضى كثير من الاولياء فى السادات العظام منهم غوث الثقلين محى الدين عبد القادر الجيلانى الحسنى السينى وبهاء الدين النقشبندى والسيد السند مودود جيشتى وسيد معين الدين الجيشتى وابو الحسن الشاذلى وغيرهم.

অর্থ: “আর এ জন্যই পীর-মাশায়েখগণ উনাদের অনেক সিলসিলা দেখা যায় যা আহলে বাইতের ইমামগণ পর্যন্ত শেষ হয়েছে এবং অসংখ্য আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা অতীত হয়েছেন যারা এ (সাইয়্যিদ) বংশেরই অন্তর্ভুক্ত। যেমন, গাওছে ছাকালাইন, মুহিউদ্দীন হযরত বড় পীর আব্দুল কাদীর জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল্লামা বাহাউদ্দীন নকশবন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদ আল্লামা মওদূদ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদ মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত আবুল হাসান সাজালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইত্যাদি।

কাজেই হাক্বীক্বীভাবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর থেকে এ যাবৎ যাঁরাই পবিত্র ইসলাম উনার খিদমতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, পবিত্র ইসলাম উনার জন্য প্রাণ উজার করে দিয়েছেন, শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেছেন ও কাফির বেদ্বীন ও দুনিয়াদারদের কর্তৃক নির্যাতিত নিস্পেষিত হয়েছেন, উনারা অধিকাংশই হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ বা বংশধর উনার অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমাদের আরজু! যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলের অন্তকরণ আওলাদুর রসূলগণ উনাদের খাছ মুহব্বতে পরিপূর্ণ করে দেন। (আমীন)

আওলাদুর রসূলগণ উনাদের এত ফযীলত মর্যাদা ও মর্তবা থাকা সত্বেও আহমদ রেযা খা ও তার অনুসারীরা সেই আওলাদুর রসূল, মুজাহিদে আ’যম, ছাহেবে ইলমুল্লাদুন্নী, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নানা প্রকার গালি-গালাজ, অপবাদ ও কুফরীর ফতওয়া দিয়ে নিজেদেরই হাক্বীক্বত ফুটিয়ে তুলেছে।

-মাওলানা, মুফতী মুহম্মদ রুহুল আমীন, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।

আবূ রফের বৈঠকখানার উত্তরাধিকারী রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রে মনামের আড্ডাবাজি ও মাতলামি প্রসঙ্গে

পবিত্র বুখারী শরীফ উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারী আবূ রফে নামে একজন গপ্পবাজ ছিল। বিভিন্ন ধরণের কিসসা-গল্প সে শোনাইত এবং শুনিত। এই নিমিত্তে তার একটি বৈঠকখানাও মওজুদ ছিল বৈকি।”

বলাবাহুল্য, উক্ত বৈঠকখানাতেই সৃষ্টির সর্বাপেক্ষা সুন্দর চরিত্র, সর্বাপেক্ষা মহৎ ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে অপবাদ রটনার কাহিনী তৈয়ার হইত।

উল্লেখ করা যাইতে পারে, বর্তমান যামানায়, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর তথা আওলাদুর রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নামে অপবাদ রটনাকারী কুলাঙ্গার তথাকথিত রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের “মনাম” ছদ্মাবরণে আবূ রফের বৈঠকখানাটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করিয়াছে। কেবলমাত্র আবূ রফে নহে বরং আবূ জেহেল, আবূ লাহাব প্রমূখ কাফিরগোষ্ঠীর যাবতীয় কু-আচরণের নমুনাই উক্ত বৈঠকখানায় দেখা যাইতেছে।

হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন যে, “কুরাঈশ প্রধান আবূ জাহেল স্বীকার করেছিল আবদে মানাফ গোত্রের অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোত্রের সাথে আমরা প্রতি ক্ষেত্রেই প্রতিযোগীতা করেছি এবং কখনও পিছনে পড়িনি। কিন্তু এখন তারা বলে, “তোমরা শ্রেষ্ঠত্বে আমাদের সমতুল্য হইতে পারবেনা। কারণ আমাদের পরিবারে একজন নবী আগমন করেছেন। উনার কাছে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ওহী আসে।”

ইহার উত্তরে আবূ জাহেল বলেছিল, “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কছম! আমরা কোন দিনও উনাদের অনুসরণ করবোনা, যে পর্যন্ত না আমাদের কাছে তাহাদের অনুরূপ ওহী আসে।”

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে “পবিত্র সূরা আনয়ামে” বিষয়টি বিবৃত হয়েছে এইভাবে, “আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছে যেন তাহারা সেইখানে চক্রান্ত করে। তাহাদের সে চক্রান্ত তাহাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই কিন্তু তাহারা তাহা উপলব্ধি করতে পারেনা। যখন তাহাদের কাছে কোন আয়াত পৌঁছে তখন বলে, “আমরা কখনই মানিবোনা যে পর্যন্ত না আমরাও তাহা প্রদত্ত হই, যাহা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূলগণ উনাদের প্রদত্ত হয়েছেন।” মহান আল্লাহ পাক তিনি এ বিষয়ে সুপরিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করিতে হইবে। যারা অপরাধ করেছে তাহারা অতি সত্ত্বরই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে পৌঁছিয়া লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি পাইবে, তাহাদের চক্রান্তের কারণে।” (পবিত্র সূরা আনয়াম)

মূলত, আবূ জাহেল গং মোটেই বরদাশত করতে পারছিলনা যে, তাহারা না হইয়া কেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা তিনি খতামুন্নাবিয়্যীন হলেন।

ঠিক একই কায়দায় আবূ রফে, আবূ জাহেলের বর্তমান বংশবদরা বরদাশত করতে পারতেছেনা যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে কেন মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদুয যামানরূপে মকবুল করলেন, উনাকে ইমামুল আইম্মার মর্যাদা দিলেন, কুতুবুল আলমের অন্তর্ভুক্ত করলেন, মুহইস সুন্নাহর সম্মান দিলেন এবং এইরূপ অনেক অনেক লক্বব মুবারক উনাকে সম্পৃক্ত করলেন।

মূলত, রেসালতের মত বেলায়েতের নিশান বরদাররূপেও কাহাকে মকবুল করতে হবে সেটাও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনারই একান্ত ইচ্ছা। এই ইচ্ছাকেই ব্যক্ত করতে গিয়ে কাইউমে যামান হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “মাকতুবাত শরীফ উনার মধ্যে” বার বার সেই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, “এটা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ফজল বা করম মহান আল্লাহ পাক তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে দান করেন।”

মূলত, কাফিররা যেমন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াতের কারণে হিংসায় জ্বলিয়া অপবাদ রটনা করত ঠিক তেমনি আবূ রফের উত্তরাধিকারী রেযাখানী বৈঠকখানার আড্ডাবাজ মনাব, সকিনার বাপ একইভাবে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল কামালত, বেলায়েতের কাছে নিজেদের একান্ত আন্তঃসার শুণ্যতা প্রতক্ষ্য করিয়া এবং স্বীয় অযোগ্যতাকে উপলব্ধি করিয়া এখন নফসানিয়াতের বশবর্তী হয়ে আক্রোশবশত উনার নামে অপবাদ রটনা করতেছে। গলিত পুঁজ, সম, পুঁথি রচনা করতেছে এবং মহান শত্রুতা আরম্ভ করেছে। কিন্তু ইহা যে নতুন কিছুই নহে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবী উনাদের জন্য শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জ্বিনকে। তাহারা ধোকা দেয়ার জন্য একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন তবে তাহারা এ কাজ করতনা। অতএব, আপনি তাহাদেরকে এবং তাহাদের মিথ্যা অপবাদকে মুক্তভাবে ছাড়িয়া দেন যাহাতে কারুকার্যখচিত কার্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয়। যাহারা পরকালে বিশ্বাস করেনা। তাহারা পছন্দ করে নেয় এবং যাহাতে ঐ সব কাজ করে যাহা তাহারা করছে।” (পবিত্র সূরা আনআম/১১২)

উল্লেখ্য, এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে যে, আপনি তাহাদেরকে এবং তাহাদের মিথ্যা অপবাদকে মুক্তভাবে ছাড়িয়ে দেন।” অর্থাৎ তাহাদের রচিত অপবাদই তাহাদের হাক্বীক্বতকে তুলিয়া ধরবে। যেটা অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “তাহাদের চক্রান্ত যে তাহাদের বিরুদ্ধেই কিন্তু তাহারা তাহা বুঝিয়া উঠিতে পারেনা।”

বলাবাহুল্য, এই ক্ষেত্রেও তাহার অন্যথা হয় নাই। আবূ রফের পরিত্যাক্ত বৈঠকখানার বর্তমান উত্তরাধিকারী মনাম রেযাখানী তাহার আড্ডা সঙ্গি সকিনার বাপের দ্বারা যেই পুঁথি পাঠ করিয়েছে তাহাতে উহাদের চরিত্র ও কামনা-বাসনা ভাল করে ফুটিয়ে উঠিয়েছে।

তাহাদের গলিজ পুঁজ পুথির দাওয়াত ছিল-

“শোন শোন মুসলমান শোন দিয়া মন,

বোতল হইল নতুন রে ভাই শরাব পুরাতন।”

পাঠক! এই পুঁথিতে যাহা সর্তক করে দেওয়া হইতেছে তাহা শরাব সম্পর্কে। শরাব যে মুসলমানের জন্য কাট্টা হারাম, চরম নিন্দনীয় কাজ, মুসলমানিত্বের সীমার বাইরের কাজ, সেই সম্পর্কে আবূ রফের পুত্র মনামের কোন খেয়াল নাই। বরং আবূ রফের গোষ্ঠী রেযাখানীদের মতলব এই যে, বোতল নতুন হওয়ার সাথে সাথে যেন শরাবটাও নতুন হয়। তাহা হলে এতদিনের অভ্যস্ত মাতলামির স্বাদের পরিবর্তে তাহারা নতুন স্বাদ পাইতে পারে।

সুতরাং পাঠক! এই সমস্ত বুঁদ মাতালদের কথার কি মূল্য থাকিতে পারে? আর ইহাদের কিভাবে বরদাশত করা যাইতে পারে? যেহেতু ইহারা মুসলমানদের মনোযোগ আকর্ষণ করে তাহাদেরকে মদে আসক্ত করে দিতে চায়। (নাউযুবিল্লাহহি মিন যালিক)

পাঠক! শুধু যে মদে আসক্ত করিয়া ইহারা মুসলমানদের আমল নষ্ট করতে চায় কেবল তাহাই নহে বরং যাহারা ইসলামের প্রাণ-পুরুষ, যাহারা সলেহীন, ঈমান রক্ষার ও নবায়নের উসীলা, তাহাদের সম্পর্কে ভুল আক্বীদা ছড়াইয়া তাহাদের সম্পর্কে অপবাদ রটনা করে, মুসলমানদের ঈমানকেও পর্যন্ত উহারা নষ্ট করে দিতে চায়। এই পর্যায়ে আবূ রফের বংশবদ মনাম রেযাখানীর বৈঠকখানায় বলা হয়েছে, “সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইংরেজদের টাট্টুগরী ইয়ানে দালালী করেছিলেন।” বটে! ইহা মাতালদেরই যোগ্য বাতচিত হইতে পারে বটে। তবে মনামের মাতলামিতে জোশ একটু বেশি উঠেছিল বৈকি। তাই সে আওড়াইয়াছে, “ইহা ইতিহাস ঘাটিলে পাওয়া যাইবে।”

স্বভাবজাত মাতালদের মুখে এইরূপ কথা মানায় বটে। কারণ তাহাদের নৌকা নাকি নদী দিয়া চলেনা। উহা নাকি পাহাড় বাইয়া চলে। সুতরাং যাহাদের নৌকা নদীতে না চলিয়া পাহাড় বাইয়া চলে, তাহাদের রচিত ইতিহাসে যে ইংরেজদের আসল দালাল, নফসের পূজারী, জাহিল, কাদিয়ানীর ছোহবত লাভকারী আহমদ রেযার বন্দনা গাওয়া হইবে পক্ষান্তরে খাছ ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত আমীরুল মু’জাহিদীন, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে অপবাদ গাওয়া হইবে, তাহা তাহাদের মাতলামির যথার্থ পরিচয় বটে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তাহারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।” (পবিত্র সূরা আনয়াম/১১৬)

পাঠক! আবূ রফের বংশবদ মনামের মাতলামির নমুনা আরেকটু দিতে হয়। উহাদের মুখপত্রে মার্চ/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যার ৫৯ পৃষ্ঠায় মন্তব্য করা হয়েছে, “কোন ইসলামী পত্রিকা এত অমার্জিত ভাষায় কাউকে আক্রমন করতে পারে তা নিজ চোখে চড়ে না দেখলে কল্পনাই করা যায় না। এমতাবস্থায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের উচিত ভাষা সংযত করা। যা উনারা দলীল ও যুক্তি সমর্থিত বিবেচনা করেন, তা মার্জিত ভাষায় উপস্থাপন করবেন এটাই সবার কাম্য। আমরা পাঠকরাও তা দলীল ও যুক্তিগ্রাহ্য হলে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করে নেব। …. কর্তৃপক্ষ হয়তো বলতে পারেন যে, পাঠককুলের মতামতই তারা ছেপেছেন মাত্র। কিন্তু কোন ইসলামী পত্রিকায় অমার্জিত ও অনৈসলামিক কায়দায় ব্যক্তিগত আক্রমন ছাপা হলে পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগ তার দায় দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তাছাড়া অন্য কোন পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্যকে পাল্টা আঘাত করার জন্য অমার্জিত ভাষার অবতারণা করা যায় না, বরং মার্জিত আচরণ দাবী করা যায়।”

পাঠক! মনাম সুস্থ হলে উহার স্বগোত্রের এই কথানুযায়ী আমল করতে পারত। কিন্তু মনামের মাতলামি এতই তুঙ্গে উয়েছিল যে, স্বগোত্রের সেই কথা ভুলে সে একই মুখপত্রের একই সংখ্যার ৪৭ নং পৃষ্ঠায় বলেছে, “তাছাড়া ডোম ও চামারদের সাথে ডোম-চামারের ভাষায় কথা বলতে হয়। যেই ছূরতে পশুদের সাথে পশুদের ভাষায় কথা বলতে হয়। একটি কুত্তাকে যদি বলে, “একটু এদিকে আসনু।” কুত্তা আসবে না। যদি বলে, “আ… তুঁ কুত্তা দৌড়াইয়া আসবে। আবার যদি বলেন, “চলে যান।” তখন কুত্তা কিন্তু যাইবেনা। লেকিন দুই একটি লাথি দিয়ে যখন কহিবেন- “ছেই! ছেই!! ছেই!!!” তখন কুত্তা লেজ তুলিয়া ভাগিবে। তাই আমরা কুত্তাদের সাথে কুত্তাদের ভাষা ইস্তেমাল করেছি।”

পাঠক! এখানে মনাম মাতলামির ঘোরে চতুস্পদ বিশিষ্ট যে জন্তুর কথা উচ্চারণ করেছে তাহার প্রকৃত মেছদাক যে মনাম নিজেই তাহা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,

“কুকুরের কাজ কুকুর করিয়াছে

কামড় দিয়েছে পায়,

তাই বলে কুকুরের পায়ে কামড়ানো কি

মানুষের শোভা পায়।”

পাঠক! এই ক্ষেত্রে সমীকরণের নিয়মনুযায়ী বলতে হয় যে, মনাম মাতাল, মানুষ এবং কুকুর দুইটি প্রসঙ্গ টানিয়েছে। এখন হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্র অনুযায়ী আর তাই সে মানুষ নয়। যেহেতু সে মানুষ হইলে কুকুরের মত আচরণ করতে পারত না সেহেতু অবশিষ্টটি অর্থাৎ নিকৃষ্ট চতুস্পদ জন্তুর উপমাটি তাহার ঘাড়েই বর্তায়। আর এই চতুস্পদ জন্তু তাহার পূর্ব পুরুষ আবূ রফের বৈঠকখানায় যতই ঘেই ঘেই করুক তাহাতে হক্ব ওলী আল্লাহগণ উনাদের কিছুই আসে যায় না।

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তাহাদের জন্যই তাহাদের প্রতিপালকের কাছে নিরাপত্তার গৃহ রয়েছে আর তিনি তাহাদের বন্ধু তাহাদের নেক আমলের কারণে।” (সূরা আনয়াম/১২৮)

-আশরাফুল মাহবুবে মুহম্মদ রব্বানী।

সাধারণ রাজনীতি আর ইসলামের নামে গণতন্ত্র করা এক কথা নয় হীন রাজনৈতিক স্বার্থে মেয়েলোকের নেতৃত্ব জায়েয ঘোষণা করিয়া মুনাফিক শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী, ফজলু গং নিজেদের কাদিয়ানীরই দোসর প্রতীয়মান করিয়াছে

কেবল অন্তরে ঈমানের অনুভূতি ও উপলব্ধি করিলেই হইবেনা, হাজারো আমল করিলেও হইবেনা, তাহাকে পূর্ণ মুসলমান বা ঈমানদার বলা যাইবেনা যদি না আমল ও অনুভূতির সাথে প্রকাশ্যে সে ঈমানের কথা স্বীকার না করে। ইহার বিপরীতে বলিতে হয়, কেবল কু-আমল ও কু-আচরণের পাশাপাশি যদি মৌখিকভাবে কু-কাজের কথা স্বীকার করা হয় তাহা হইলে তখন তাহাকে কুখ্যাত ফাসিক, বদকার, মুনাফিক, ভ-, বিদয়াতী বলিয়াই সাব্যস্ত করিতে হয়। এই প্রেক্ষিতে মাহিউদ্দীন, হদস, ফজলু গংদের সম্পর্কে বলিতে হয়, বর্তমান রাজনৈতিক মৌসুমেই যে তাহারা প্রথম নারী নেতৃত্বের পিছনে ছুটিয়েছে তাহা নহে। মিস ফাতিমা জিন্নাহর পিছনেও এই গং দৌড়াইয়াছিল। আবার তখন হইতেই যে ছোটা অব্যাহত রাখিয়াছিল তাহাও নহে। মাঝে ভীষণ রকম নারী নেতৃত্ব বিদ্বেষী তাহারা হইয়া উঠিয়াছিল। এমনকি আজকে যাহার আঁচলে তাহারা জোট বাধিয়াছে তাহাকে মুফতী আমীনি ওরফে কমিনী মুরতাদও ঘোষণা করিয়াছিল। সেই সময়ে তথাকথিত মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন ঐক্যজোট নেতা শাইখুল হদস তাহা অবলীলাক্রমে মানিয়া লইয়া গুঞ্জন তুলিয়াছিল এমনকি চরমোনইর ফজলু উক্ত মহিলা নেতৃত্বের আচল ধরিয়া টানাটানি করিতে কিছুকাল ব্যায় করিয়া পরবর্তী আগ্রহের আধিক্যে তাহাকে চুল ধরিয়াও টানিবার খাহেশ ব্যক্ত করিয়াছিল।

কিন্তু না! রাতের আধারে উহাদের সেসব  কাজ যেন উহাদের কাছে চাপা পড়িয়া গিয়াছে। নতুন দিনের নতুন সূর্যালোকিত কর্মব্যস্ততায় দিনের মত উহারা এখন উক্ত মহিলা নেতৃত্বের পিছনে ছুটিতে ছুটিতে নিতান্ত গলদঘর্ম হইয়া পড়িয়াছে।

সুতরাং মধ্যাহ্নের প্রখর রৌদ্রে তাহাদের আর লুকাইবার কিছুই নাই। এতদিনের বর্ণচোরা রূপটি চুপাইয়া রাখিবার আর কোন জায়গা নেই।

এমতাবস্থায় উহাদের পথ ছিল দুইটি। হয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের তিরস্কারে লজ্জ্বিত হইয়া তওবা করা নতুবা ইবলিসের মত সারাজীবন কু-কর্মেই দৃঢ় থাকিবার নিলর্জ্জ ইচ্ছা পোষণ করিয়া, ইসলামের নামে হারাম কাজে লিপ্ত থাকিবার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়া কাদিয়ানীদের মত নতুন ইসলাম প্রকাশ করিয়া উহাদের দোসর সাজিয়া যাওয়া।

বলা বাহুল্য, এই ক্ষেত্রে বহুদিন যাবত যাহার কলমে ইবলিস ভর করিতেছিল এখন তাহার মুখেও ইবলিস খুব সহজেই যুৎসইভাবে আছর করিয়া বসিল। আর কোন রাখ-ঢাক না রাখিয়া সে বলিয়া ফেলিল, “অবস্থার কারণে আমরা নারী নেতৃত্ব মানিয়া লইয়াছি।”

অর্থাৎ ইসলামের বিধিবিধান সব যুগের সব অবস্থার জন্য নয়। বর্তমান অবস্থায় দরকার মাহিউদ্দীন গং এর তথাকথিত ইসলাম। নাউযুবিল্লাহ! এখন উহাদের মতে দরকার কুরআন শরীফ নয় বরং মাহিউদ্দীন গং এর ইসলাম ধ্বংসকারী মাসিক মদীনা পত্রিকা। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ যিনি খালিক্ব মালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তবে কি আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ব্যতীত অন্য কোন ফায়সালাকারী অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আমি যাদেরকে কিতাব প্রদান করেছি তারা নিশ্চিত জানেন যে, এটি আপনার প্রতিপালকের নিকট সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেননা।” (সূরা আনয়াম/১১০) (চলবে)

-মুহম্মদ আলাউদ্দীন আল আজাদ, ঢাকা।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পর্যন্ত তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)

উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশে, আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এমন এক বিরল মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী যাঁর মেছাল ও উপমা স্বয়ং তিনি নিজেই। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের পরে তিনিই এই উম্মতের একমাত্র সৌভাগ্য ও উচ্চ দরজার বেলায়েতধারী কামিল বুযুর্গ ও নিঃস্বার্থ খলীফা যিনি একই সময়ে একই সাথে ইসলামের খিদমতের দু’টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজের আঞ্জাম দিয়েছেন সমভাবে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে দ্বীনের খাতিরে প্রয়োজনের তাগিদে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে তরবারী পরিচালনা করা, অপরটি হচ্ছে মানুষের আত্মিক ইছলাহ বা চরিত্র সংশোধনের জন্য যিকির শোগলের মধ্য দিয়ে ঈমানী শক্তি বা জযবা বর্ধিত করার জন্য তা’লীমের ব্যবস্থা জারী রাখা। অর্থাৎ জিহাদে আকবর এবং আসগর উভয় প্রকার জিহাদই তিনি করেছেন কামালত ও বুযুর্গীর সাথে। সে কারণে উনাকে বলা হয় মুজাহিদে আযম।

আলহামদুলিল্লাহ! উনার মাঝে ইসলামের এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিকেরই সমাবেশ ঘটেছে। বর্তমান আরব দেশগুলোসহ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও তিনি মর্যাদাবান হিসেবে বিস্ময়েরও বিস্ময় হয়ে আছেন। ইদানিং আরবদেশে উনাকে নিয়ে প্রচুর লেখালেখি ও গবেষণা চলছে। এমনকি এই উপমহাদেশেও শতকরা নব্বই ভাগ তরীক্বতের সিলসিলা উনার খলীফাগণ উনাদের মাধ্যমে জারী রয়েছে। যা কিনা হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দীছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শুরু করে উনার তরীক্বতের শাজরা শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে আমরা পাক ভারত উপমহাদেশে সবচাইতে অধিক মশুহুর উনার চার তরীক্বার শাজরা শরীফ নামা ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ।

প্রথমে নকশবন্দিয়ায়ে মুজাদ্দিদীয়া তরীক্বার শাজরা শরীফ পেশ করা হলো-

(১) ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (২) ইলাহী বহুরমতে খলীফায়ে রসূলিল্লাহ, আফাযালুননাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। (৩) ইলাহী বহুরমতে ছাহেবে রসূলিল্লাহ হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। (৪) ইলাহী বহুরমতে ইমাম কাসিম বিন মুহম্মদ বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৫) ইলাহী বহুরমতে হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৬) ইলাহী বহুরমতে হযরত ইমাম মুসা কাযিম রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৭) ইলাহী বহুরমতে হযরত ইমাম আলী রিযা রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৮) ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ মা’রুফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৯) ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আবুল হাসান সাররি সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১০) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১১) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা আবু আলী রোদবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১২) ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আবুল কাসেম নাসিরাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৩) ইলাহী বহুরমতে হযরত আবু আলী দাককাক রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৪) ইলাহী বহুরমতে হযরত ইমাম আবুল কাসিম কুশাইরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৫) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা আবু আলী ফারমূদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৬) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা আবু ইউসুফ হামদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৭) ইলাহী বহুরমতে খাজায়ে জাহাঁ হযরত আব্দুল খালেক গুজদাওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৮) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা আরিফ রেওগারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (১৯) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা মাহমুদ আনজীর ফাগনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২০) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা আজীজানে আলী রামিতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২১) ইলাহী বহুরমতে খাজা মুহম্মদ বাবা সাম্মানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২২) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা সাইয়্যিদ আমীর কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৩) ইলাহী বহুরমতে খাজায়ে খাজেগাঁ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৪) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা আলাউদ্দীন আত্তার রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৫) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা ইয়াকুব চরখী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৬) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা ওবায়দুল্লাহ আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৭) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা মুহম্মদ জাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৮) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা দরবেশ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। (২৯) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা মুহম্মদ আমাকাংগী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩০) ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা বাকী বিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩১) ইলাহী বহুরমতে ইমামে রব্বানী, কাউউমে যামান, মুজাদ্দিদে আলফে ছানী হযরত শায়খ আহমদ ফারুকী সিরহিন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩২) ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আদম বিন নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩৩) ইলাহী বহুরমতে হযরত সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ আকবরাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩৪) ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়খ আব্দুর রহিম মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩৫) ইলাহী বহুরমতে রঈসুল মুহাদ্দিসীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩৬) ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (৩৭) ইলাহী বহুরমতে আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে যামান, হযরত শাহ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (অসমাপ্ত)

-সাইয়্যিদ শহীদ আহমদ, ঢাকা।

মতলবের জলীল ছাহেবকে বলছি

জনাব, আসসালামু আলাইকুম, আমি মতলব থানার বড়কিনাচক গ্রামের একজন সাধারণ লোক। আমি আজ এক বিশেষ কারণে আপনার কাছে পত্র লিখছি।

০২-০১-৭৩ সালে আমার জন্ম। পিতা-মাতা ধার্মিক হওয়ায় নাবালেগ অবস্থাতেই নামায-কালামে জড়িয়ে পড়ি। আজও আমাদের মুন্সীবাড়িতে নামায না পড়লে সন্তানদের খানা দেয়া হয়না। আমি নিজে ধার্মিক ছিলাম এবং এ পর্যন্ত ছোট-বড় হাজার খানেক কিতাব পড়েছি। এদেশের অনেক বড় বড় আলিমদের বয়ানও শুনেছি। আমি যখন এলাকার হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতাম তখন থেকেই “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পড়ি। তখন রাজারবাগের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আমার তেমন কোন ধারণা ছিলনা। পরে আমি রাজারবাগের শ্রদ্ধেয় পীর ছাহেব ক্বিবলা ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল, হযরত মাওলানা শাহ ছূফী শায়খ সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আলাইহিস সালাম  উনার আমল-আখলাক এবং জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য দলবলসহ বেলতলী মাহফিলে আসি। মাহফিলে পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনার অকাট্য যুক্তি ও সঙ্গতিপূর্ণ বিরামহীন আলোচনা এবং মাহফিলের আখিরী মুনাজাতের পূবে শ্রোতাদের নানামূখী প্রশ্নের তাৎক্ষাণিক জাওয়াব বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর, হাদীছ, ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবের ইবারতসহ উপস্থাপন দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাই। রাজারবাগের হুযূর সম্পর্কে আমাদের ধারণা পাল্টে যায়। কয়েকজন আলিম মন্তব্যও করলেন, “এত দলীল উনি পান কোথায়? নিশ্চয়ই পীরালী করার জন্য জ্বিনের আশ্রয় নিয়েছেন।” সেদিন না বুঝে আমিও তাদের কথায় মৌন সমর্থন করেছিলাম। পরে আমি উনাকে আরো যাচাই করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত চুপে চুপে রাজারবাগে এসে জুমুয়ার বয়ানে শামীল হই এবং জুমুয়ার নামায আদায় করি। এতে আমার ভুল ভাংগে। দিন দিন আমি উনার প্রতি দুর্বল হয়ে পরে এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, “নিশ্চয়ই তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রদত্ত জ্ঞানের অধিকারী।” আমি ঢাকায় আসার পরও নিয়মিত আল বাইয়্যিনাত পত্রিকা পড়ে যাচ্ছি এবং ছহীহ ইলম অর্জন করার চেষ্টা করছি। আমি উনার মুরীদ নই, ভক্ত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এভাবে আল বাইয়্যিনাত চলতে থাকলে আগামী দশ বছরে দেশের সমগ্র তথাকথিত নামধারী ইসলামী পত্রিকাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগ। মানুষ সহজেই হক্ব-নাহক্ব বুঝতে পারে। কাজেই তওবা করে রাজারবাগের হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবতে আসুন। নিঃসন্দেহে মেনে নিন উনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রেরিত যামানার মহান মুজাদ্দিদ। পৃথিবীর তাবৎ শ্রেষ্ঠ আলিমগণ ও উনার নগন্য ছাত্রতুল্য। আপনিতো একজন বিজ্ঞ আলিম দাবীদার। কিন্তু আপনার বয়ানেতো তেমন কিছুই পাইনা। তারপরও যদি রাজারবাগের পীর ছাহেব ভন্ড হন, তাহলে আপনারা বাহাসে যাচ্ছেননা কেন? উনাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছেননা কেন? উনারাতো সরকার বা প্রশাসনের কেউ না। তাহলে কি প্রমাণিত হয়না যে, দুর্বলতা আপনাদের? আমার বাড়ি হতে আপনার বাড়ি দুই মাইল দূরে। মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় প্রতিটি সংখ্যায় যেভাবে আপনার জিহালতি ধরা পড়ছে, তাতে কি আমাদের লজ্জা হয়না? আমাদের মতলব থানাকে মানুষ শিক্ষাদীক্ষা, আলিম, মাদরাসা ও অন্যান্য কারণে সম্মান করতো। আজ আপনার এক গুঁয়েমীর কারণে আমাদের এলাকার বদনাম হচ্ছে, ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাকে (ইসলাম বহির্ভূত) ব্যক্তিগত হেয়ালীপনা থেকে সরে এসে পরিপূর্ণভাবে ইসলামে আত্মসমর্পণ করার জন্য বিনীত আহবান জানাচ্ছি। আপনার কি একটুও আধ্যাত্মিক চেতনা নেই, ইলহাম নেই, স্বপ্ন নেই? করুণা হয় আপনার মতো আলিমদের নিয়ে। আপনি যদি কোন কথাই না শুনেন, তাহলে আমরা আপনার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়াব।

-মুহম্মদ মুঈনুদ্দীন মাস্টার, উত্তরা, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত

মতামত বিভাগ