[সমস্ত প্রশংসা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অশেষ-অসীম সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ। মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ রহমত, বরকত, সাকীনাহ, দয়া-দান, ইহসান মুবারক উনাদের কারণে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” উনার ফতওয়া বিভাগ উনার তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্ট দলীলের আলোকে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩.নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬.মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯.ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪.প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন উনার শরয়ী ফায়সালা
এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে র্ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮.নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০.শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা) ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) ২২.হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪.হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭. ইসলামের নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়ত উনার নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২২০তম সংখ্যা-চলমান), ৩৪. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৩৮-চলমান), ৩৫. “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৪-২৮৬), ৩৬. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২৬৫-চলমান), পেশ করার পাশাপাশি-
৩৭তম সম্মানিত ফতওয়া
মুবারক হিসেবে
‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক’ পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ
থেকে দলীল:
পূর্ব প্রকাশিতের পর
(৪)
কাট্টা কাফির আবূ রফেকে হত্যা:
হিজাজের কুখ্যাত ইহুদী ব্যবসায়ী কাট্টা কাফির আবূ রফেও ছিলো কা’ব বিন আশরাফের মতোই দুরাচার ও কঠিন লা’নতগ্রস্থ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ নানা অবমাননাকর ও বেআদবীমূলক কথাবার্তা সে বলতো এবং অশ্লীল-অশালীন কবিতা রচনা করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করে তার বাড়িতে, হেজাজের বড় বড় মোড়ে মোড়ে, বাজারে বাজারে লোকজন জমা করে নাচ-গানের আসর করে নর্তকী ও গায়িকাদেরকে নিয়ে এই সকল কুফরীমূলক কবিতাগুলো পাঠ করতো এবং শরাব পান করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَلبَـرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ بَـعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلـٰى اَبِـىْ رَافِعٍ اَلْـيَـهُوْدِىِّ رِجَالًا مِّنَ الْاَنْصَارِ فَاَمَّرَ عَلَيْهِمْ حَضْرَتْ عَـبْدَ اللهِ بْنَ عَتِـيْكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ اَبُـوْ رَافِعٍ يُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِـيْـنُ عَلَيْهِ وَكَانَ فِـىْ حِصْنٍ لَّهٗ بِاَرْضِ الْـحِجَازِ فَـلَمَّا دَنَـوْا مِنْهُ وَقَدْ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَرَاحَ النَّاسُ بِسَرْحِهِمْ فَـقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ لِاَصْحَابِهٖ اِجْلِسُوْا مَكَانَكُمْ فَاِنِّـىْ مُنْطَلِقٌ وَمُتَـلَطِّفٌ لِلْبَـوَّابِ لَعَلِّـىْ اَنْ اَدْخُلَ فَاَقْـبَلَ حَتّٰـى دَنَا مِنَ الْـبَابِ ثُـمَّ تَـقَنَّعَ بِـثَـوْبِهٖ كَاَنَّهٗ يَـقْضِىْ حَاجَةً وَقَدْ دَخَلَ النَّاسُ فَـهَتَفَ بِهِ الْـبَـوَّابُ يَا عَـبْدَ اللهِ اِنْ كُـنْتَ تُرِيْدُ اَنْ تَدْخُلَ فَادْخُلْ فَاِنِّـىْ اُرِيْدُ اَنْ اُغْلِقَ الْـبَابَ فَدَخَلْتُ فَكَمَنْتُ فَـلَمَّا دَخَلَ النَّاسُ اَغْلَقَ الْـبَابَ ثُـمَّ عَلَّقَ الْاَغَالِـيْقَ عَلـٰى وَتَدٍ قَالَ فَـقُمْتُ اِلَـى الْاَقَالِـيْدِ فَاَخَذْتُـهَا فَـفَتَحْتُ الْـبَابَ وَكَانَ اَبُـوْ رَافِعٍ يُسْمَرُ عِنْدَهٗ وَكَانَ فِـىْ عَلَالِـىَّ لَهٗ فَـلَمَّا ذَهَبَ عَنْهُ اَهْلُ سَـمَرِهٖ (صَعِدْتُ اِلَيْهِ فَجَعَلْتُ كُلَّمَا فَـتَحْتُ بَـابًا اَغْلَقْتُ عَلَىَّ مِنْ دَاخِلٍ قُـلْتُ اِنِ الْقَوْمُ نَذِرُوْا بِـىْ لَـمْ يَـخْلُصُوْا اِلَـىَّ حَتّٰـى اَقْـتُـلَهٗ فَانْـتَـهَيْتُ اِلَيْهِ فَاِذَا هُوَ فِـىْ بَـيْتٍ مُظْلِمٍ وَسْطَ عِـيَالِهٖ لَا اَدْرِىْ اَيْنَ هُوَ مِنَ الْـبَـيْتِ فَـقُلْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ قَالَ مَنْ هٰذَا فَاَهْوَيْتُ نَـحْوَ الصَّوْتِ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً بِالسَّيْفِ وَاَنَا دَهِشٌ فَمَا اَغْنَـيْتُ شَيْـئًا وَصَاحَ فَخَرَجْتُ مِنَ الْـبَـيْتِ فَاَمْكُثُ غَيْـرَ بَعِيْدٍ ثُـمَّ دَخَلْتُ اِلَيْهِ فَـقُلْتُ مَا هٰذَا الصَّوْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ فَـقَالَ لِاُمِّكَ الْوَيْلُ اِنَّ رَجُلًا فِـى الْـبَـيْتِ ضَرَبَنِـىْ قَـبْلُ بِالسَّيْفِ قَالَ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً اَثْخَنَـتْهُ وَلَـمْ اَقْـتُـلْهُ ثُـمَّ وَضَعْتُ ظِبَةَ السَّيْفِ فِـىْ بَطْنِهٖ حَتّٰـى اَخَذَ فِـىْ ظَهْرِهٖ فَـعَرَفْتُ اَنِّـىْ قَـتَـلْتُهٗ فَجَعَلْتُ اَفْـتَحُ الْاَبْوَابَ بَـابًا بَـابًا حَتّٰـى اِنْـتَـهَيْتُ اِلـٰى دَرَجَةٍ لَهٗ فَـوَضَعْتُ رِجْلِـىْ وَاَنَا اُرٰى اَنِّـىْ قَدِ اِنْـتَـهَيْتُ اِلَـى الْاَرْضِ فَـوَقَـعْتُ فِـىْ لَـيْـلَةٍ مُقْمِرَةٍ فَانْكَسَرَتْ سَاقِـىْ فَـعَصَبْـتُـهَا بِعِمَامَةٍ ثُـمَّ اِنْطَـلَقْتُ حَتّٰـى جَلَسْتُ عَلَى الْـبَابِ فَـقُلْتُ لَا اَخْرُجُ اللَّـيْـلَةَ حَتّٰـى اَعْلَمَ اَقَـتَـلْتُهٗ فَـلَمَّا صَاحَ الدِّيْكُ قَامَ النَّاعِىْ عَلَى السُّوْرِ فَـقَالَ اَنْـعٰى اَبَا رَافِعٍ تَاجِرَ اَهْلِ الْـحِجَازِ فَانْطَلَقْتُ اِلـٰى اَصْحَابِـىْ فَـقُلْتُ اَلنَّجَاءَ فَـقَدْ قَـتَلَ اللهُ اَبَا رَافِعٍ فَانْـتَـهَيْتُ اِلَـى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْـتُهٗ فَـقَالَ اُبْسُطْ رِجْلَكَ فَـبَسَطْتُ رِجْلِـىْ فَمَسَحَهَا فَكَاَنَّـهَا لَـمْ اَشْتَكِهَا قَطُّ
অর্থ: “হযরত বারা’ ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দায়িত্ব দিয়ে উনার সাথে কয়েকজন হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে ইহুদী আবূ রফের (শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই ইহুদী আবূ রফে কষ্ট দিতো এবং এই ব্যাপারে লোকদের সহযোগিতা করতো। হিজায ভূমিতে তার একটি দুর্গ ছিলো, (সে ঐ দুর্গে বসবাস করত)। উনারা যখন তার দুর্গের কাছে গিয়ে পেঁৗছলেন, তখন সূর্য ডুবে গিয়েছে এবং লোকজন নিজেদের পশু পাল নিয়ে রওয়ানা হয়েছে। (তারা সারা দিন দুর্গের বাহিরে পশু পাল চরিয়ে সন্ধ্যায় নিজ নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছে।) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার সাথে যে সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা ছিলেন উনাদেরকে বললেন, ‘আপনারা আপনাদের স্থানে বসে থাকুন। আমি যাচ্ছি, দ্বাররক্ষীর সাথে আমি (কিছু) কৌশল প্রদর্শন করবো যেন অবশ্যই ভিতরে প্রবেশ করতে পারি। এরপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে পেঁৗছলেন এবং কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঢাকলেন যেন তিনি হাজত (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) রত আছেন। তখন সবাই ভিতরে প্রবেশ করলে দ্বাররক্ষী উনাকে ডেকে বললো, ‘হে আব্দুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা), ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ করুন। আমি এখনই দরজা বন্ধ করে দিতে চাই।’ তখন আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম এবং আত্মগোপন করে থাকলাম। সকলে ভিতরে প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দিল এবং একটি পেরেকের সাথে চাবিগুলো লটকিয়ে রাখল। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, এরপর আমি চাবিগুলোর দিকে এগিয়ে গেলাম এবং চাবিগুলো নিয়ে দরজা খুললাম। আবূ রফের নিকট রাতের বেলা (নিয়মিত) গল্পের (গান-বাজনা, নর্তকী ও শরাবের) আসর জমতো। এই সময় সে তার উপর তলার কামরায় অবস্থান করতো। প্রতিদিনের ন্যায় যখন ঐ দিনও গল্পের আসর শেষে আসরে আগত লোকজন চলে গেলো,
صَعِدْتُ اِلَيْهِ فَجَعَلْتُ كُلَّمَا فَـتَحْتُ بَـابًا اَغْلَقْتُ عَلَىَّ مِنْ دَاخِلٍ قُـلْتُ اِنِ الْقَوْمُ نَذِرُوْا بِـىْ لَـمْ يَـخْلُصُوْا اِلَـىَّ حَتّٰـى اَقْـتُـلَهٗ فَانْـتَـهَيْتُ اِلَيْهِ فَاِذَا هُوَ فِـىْ بَـيْتٍ مُظْلِمٍ وَسْطَ عِيَالِهٖ لَا اَدْرِىْ اَيْنَ هُوَ مِنَ الْـبَـيْتِ فَـقُلْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ قَالَ مَنْ هٰذَا فَاَهْوَيْتُ نَـحْوَ الصَّوْتِ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً بِالسَّيْفِ وَاَنَـا دَهِشٌ فَمَا اَغْـنَـيْتُ شَيْـئًا وَصَاحَ فَخَرَجْتُ مِنَ الْـبَـيْتِ فَاَمْكُثُ غَـيْـرَ بَعِيْدٍ ثُـمَّ دَخَلْتُ اِلَيْهِ فَـقُلْتُ مَا هٰذَا الصَّوْتُ يَا اَبَـا رَافِعٍ فَـقَالَ لِاُمِّكَ الْوَيْلُ اِنَّ رَجُلًا فِـى الْـبَـيْتِ ضَرَبَنِـىْ قَـبْلُ بِالسَّيْفِ قَالَ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً اَثْخَنَـتْهُ وَلَـمْ اَقْـتُـلْهُ ثُـمَّ وَضَعْتُ ظِبَةَ السَّيْفِ فِـىْ بَطْنِهٖ حَتّٰى اَخَذَ فِـىْ ظَهْرِهٖ فَـعَرَفْتُ اَنِّــىْ قَـتَـلْتُهٗ
‘তখন আমি সিঁড়ি বেয়ে তার কাছে গিয়ে পেঁৗছলাম। এই সময় আমি একটি করে দরজা খুলছিলাম এবং ভিতর থেকে তা আবার বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলাম। এই মনে করে যে, গোত্রের লোকজন আমার (আগমন) সম্বন্ধে জানতে পারলেও তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দেয়া পর্যন্ত যেন তারা আমার নিকট পেঁৗছতে না পারে। সুবহানাল্লাহ! আমি তার কাছে গিয়ে পেঁৗছলাম। এই সময় সে একটি অন্ধকার কক্ষে পরিবার-পরিজনের মাঝখানে শুয়েছিলো। কক্ষের কোন্ অংশে সে শুয়ে আছে আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই, আমি ‘হে আবূ রফে!’ বলে ডাক দিলাম। সে বললো, এটা কে? (কে আমাকে ডাকছো?) আমি তখন আওয়াজটি লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে তরবারী দ্বারা প্রচণ্ড জোরে তাকে আঘাত করলাম। তখন আমি বিস্মিত হলাম। এই আঘাতে আমি কোনো ফলাফল পেলাম না, তাকে কিছুই করতে পারলাম না। সে চিৎকার করে উঠলে আমি কিছুক্ষণের জন্য কক্ষ থেকে বের হয়ে আসলাম। এরপর পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে (কন্ঠস্বর পরিবর্তন করতঃ তার আপন লোকের ন্যায়) জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আবূ রফে এই আওয়াজ হল কিসের? সে বললো, ‘তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক! নিশ্চয়ই কিছুক্ষণ পূর্বে কক্ষের ভিতর কে যেন আমাকে তরবারী দ্বারা আঘাত করেছে।’ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমি আবার তাকে কঠিনভাবে আঘাত করলাম যা তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষত বিক্ষত করেছে; কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারিনি। তাই, তরবারীর ধারালো দিকটি তার পেটের উপর চেপে ধরলাম; এমনকি সেটা তার পিঠ পর্যন্ত স্পর্শ করলো। তখন আমি নিশ্চিতরূপে অনুভব করলাম যে, এখন আমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি।’ সুবহানাল্লাহ!
এরপর আমি এক এক দরজা খুলে নিচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পেঁৗছলাম। জ্যোৎস্নার রাত্র ছিলো। (চাঁদের আলোতেও স্পষ্ট না হওয়ায়) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিলো।) তাই, নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। সাথে সাথেই আমার পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙ্গে গেলো। (তাড়াতাড়ি করে) আমি আমার পাগড়ী দ্বারা পা বেঁধে নিলাম। তারপর একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম।
فَـقُلْتُ لَا اَخْرُجُ اللَّـيْـلَةَ حَتّٰـى اَعْلَمَ اَقَـتَـلْـتُهٗ
‘মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি কি তাকে হত্যা করতে পেরেছি? এটা নিশ্চিতভাবে না জানা পর্যন্ত আজ রাতে এখান থেকে যাব না।’
ভোর রাতে মোরগের ডাক আরম্ভ হলে মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপর উঠে ঘোষণা করলো- ‘হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রফের মৃত্যু সংবাদ গ্রহণ করো।’
فَانْطَـلَقْتُ اِلـٰى اَصْحَابِـىْ فَـقُلْتُ اَلنَّجَاءَ فَـقَدْ قَـتَلَ اللهُ اَبَا رَافِعٍ فَانْـتَـهَيْتُ اِلَـى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْـتُهٗ فَـقَالَ اُبْسُطْ رِجْلَكَ فَـبَسَطْتُ رِجْلِـىْ فَمَسَحَهَا فَكَاَنَّـهَا لَـمْ اَشْتَكِهَا قَطُّ
‘তখন আমি আমার সঙ্গীগণ উনাদের নিকট গিয়ে বললাম- কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত চলুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রফেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনি আপনার পা প্রসারিত করুন।’ আমি আমার পা প্রসারিত করলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দয়া করে তাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) বুলিয়ে দিলেন। (এতে আমার পা এমন সুস্থ হয়ে গেল) যেন তাতে কখনোই কোনো আঘাত লাগেনি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, ফাতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, শারহুয যারক্বানী ইত্যাদি)
আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায ইবনে মূসা আল ইয়াহ্চুবী আস সাব্তী মালিকী আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৪৭৬ হিজরী শরীফ এবং বিছাল শরীফ ৫৪৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূক্বিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ২য় খণ্ডের ২২১ পৃষ্ঠায় বলেন-
فَدَلَّ اَنَّ قَـتْـلَهٗ اِيَّـاهُ لِغَـيْـرِ الْاِشْرَاكِ بَلْ لِلْاَذٰى وَكَذٰلِكَ قَـتَلَ اَبَا رَافِعٍ قَالَ حَضْرَتْ اَلْـبَـرَاءُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ يُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْـنُ عَلَيْهِ
অর্থ: “(পূর্বের) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, কা’ব বিন আশরাফকে শির্ক করার কারণে হত্যা করা হয়নি; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে। (এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো) ইহুদী আবূ রফেকেও একই কারণে হত্যা করা হয়েছে। হযরত বারা’ ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার সম্পর্কে বলেন,
وَكَانَ يُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْـنُ عَلَيْهِ
“মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সে কষ্ট দিতো এবং উনার বিরুদ্ধে উনার শত্রুদেরকে সাহায্য করতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)
অতএব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা শত্রুতা করবে অথবা যারা উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়সালা। সম্মানিত খিলাফত মুবারক ক্বায়েম থাকলে তা অবশ্যই জারী করতে হবে।
পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।
ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া
কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে ইমামাহ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া।