মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ ও মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৮৪

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”- পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

মাযহাব বিদ্বেষী বাতিল ফিরক্বা

লা-মাযহাবীদের গোমরাহীসমূহের দলীলভিত্তিক জবাব

গোমরাহীমূলক বক্তব্য-৫

 পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থাকতে ক্বিয়াস বা ইজতিহাদ করার কি প্রয়োজন?

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ শোনা যায় যে, আমাদের জন্য পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফই যথেষ্ট। পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র হাদীছ শরীফে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। কাজেই ক্বিয়াস ও ইজতিহাদের কোনই প্রয়োজন নেই। নাউযুবিল্লাহ!

এর জবাবে প্রথমত: বলতে হয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كُلٌّ فِىْ كِتَابٍ مُّبِيْنٍ

অর্থ: পবিত্র সুস্পষ্ট কিতাবে সবকিছুই বর্ণিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হুদ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৬)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَا رَطْبٍ وَّلَا يَابِسٍ اِلَّا فِىْ كِتَابٍ مُّبِيْنٍ

অর্থ: শুকনা ও ভিজা কোনো কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে বর্ণনা করতে তরক করা হয়নি। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)

কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে মানব জীবনের আগত-অনাগত সকল সমস্যার সমাধান অবশ্যই আছে। একথা সর্বস্বীকৃত। তবে সব সমস্যার সমাধান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই। বরং কিছু সমাধান সংক্ষিপ্তভাবে অর্থাৎ মূলনীতি আকারে উল্লেখ আছে। আবার কিছু পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছে একাধিক অর্থবোধক।

বিশেষ করে পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র হাদীছ শরীফে কিছু সমস্যার সমাধান সূক্ষ্মভাবে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। যেমন- হাতিফ বা দূরালাপনীতে বিবাহ, অন্তরজালের মাধ্যমে আধুনিক পন্থায় ব্যবসা, উড়োজাহাজে নামায আদায় করা, টেষ্ট টিউবের মাধ্যমে সন্তান লাভ ইত্যাদি। এগুলোর সমাধান পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র হাদীছ শরীফে সুপ্তভাবে ও অতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতে বলা হয়েছে। লা-মাযহাবীরা এসব বিষয়ের সমাধান ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ ছাড়া পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে সরাসরি কিভাবে প্রদান করবে? তাদের নিকট এমন কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ আছে কি? যাতে নব-আবিষ্কৃত এসব বিষয়ের সমাধান উল্লেখ আছে? মোটকথা, জীবনের জটিল কিছু সমস্যার সমাধানের জন্য ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, যদি ক্বিয়াস বা ইজতিহাদ করার পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়; তাহলে নব আবিষ্কৃত সমস্যাগুলো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় পড়ে থাকবে। আর বর্তমানে ওহী মুবারক উনার ধারা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ, তাই আসমান থেকেও এগুলোর সমাধান আসবে না। এমতাবস্থায় পবিত্র দ্বীন ইসলাম সার্বজনীন ও পরিপূর্ণ দ্বীন হবে কিভাবে? লা-মাযহাবীদের বলছি, যদি তারা পবিত্র দ্বীন ইসলামকে সার্বজনীন, যুগোপযোগী এবং সর্বযুগের সকল সমস্যার সমাধানদাতা বলে বিশ্বাস করে থাকে, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ মানতে হবে। এছাড়া দ্বীন ইসলামকে সর্বজনীন ও পরিপূর্ণ দ্বীনরূপে মানার বিকল্প কোন পথ নেই।

তৃতীয়তঃ বলতে হয় যে, ক্বিয়াস ও ইজতিহাদকে শরীয়তের দলীল সাব্যস্ত করার বিশেষ হিকমত হলো- সম্মানিত ইসলাম উনার উৎসমূল পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ। কারো কারো মতে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সংখ্যা মাত্র ৫০০। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সংখ্যা সামান্য কম-বেশের সাথে মাত্র ৩০০০। তবে এছাড়াও আহকাম সম্পর্কিত অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছে। অথচ সম্মানিত শরীয়ত উনার মাসআলা-মাসায়েল হচ্ছে লক্ষ-লক্ষ। তাই সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, ৫০০ পবিত্র আয়াত শরীফ ও ৩০০০ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে মানুষের জীবনের খুঁটি-নাটি সবকিছুর সমাধান স্ববিস্তারে উল্লেখ করা হয়নি। যদি স্ববিস্তারে খুঁটি-নাটি সকল সমস্যার সমাধান পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ থাকতো, তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র হাদীছ শরীফের বর্তমান আকার লক্ষ-লক্ষ গুণ বড় হয়ে যেতো। একারণে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফের মধ্যে সবগুলো সমস্যার সমাধান বিস্তারিতভাবে না দিয়ে, কিছু সমাধান সূক্ষ্মভাবে প্রদান করেছেন এবং সূক্ষ্ম হুকুমগুলোকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে বিস্তারিতভাবে উম্মতের সম্মুখে প্রকাশ করার জন্যই মুজতাহিদগণের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। এই হিকমতের ভিত্তিতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থাকা সত্ত্বেও ক্বিয়াস বা ইজতিহাদের পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতএব কেউ যদি এ পথ রুদ্ধ করতে চায়, তাহলে এটি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিরোধিতা করার নামান্তর বলে গণ্য হবে, যা কাট্টা কুফরী। নাউযুবিল্লাহ!

গোমরাহীমূলক বক্তব্য-৬

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের আরেকটি গোমরাহীমূলক বক্তব্য হলো- ক্বিয়াস ও ইজতিহাদে ভুল হয়; কাজেই এগুলো আস্থাহীন।

লা-মাযহাবীরা ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ অস্বীকার করে। তাদের দাবি হচ্ছে: মুজতাহিদ ইমামগণ ক্বিয়াস ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে ভুলও করে থাকেন। মানুষ হিসেবে তাদের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। অতএব তাদের ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ প্রসুত সিদ্ধান্তাবলী বিশুদ্ধ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। কাজেই ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ বর্জনীয়। নাউযুবিল্লাহ!

এর জবাবে প্রথমতঃ বলতে হয় যে, কিতাবে উল্লেখ আছে-

اَلْـمُجْتَهِدُ يُـخْطِئُ وَيُصِيْبُ

অর্থাৎ মুজতাহিদ ইমামগণ ভুলও করেন: সঠিকও করে থাকেন।

একারণে যদি ইজতিহাদ করতে গিয়ে কোন মুজতাহিদের ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়, তাহলে এই ভুল সম্মানিত শরীয়তে মার্জনীয় এবং এর ওপর ছাওয়াব ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। হযরত আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِذَا حَكَمَ الْـحَاكِمُ فَاجْتَـهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَـلَهٗ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَـهَدَ ثُمَّ أَخطَأَ فَـلَهٗ أَجْرٌ

অর্থাৎ যদি কোন হাকিম (বিচারক) ইজতিহাদের ভিত্তিতে ফয়সালা করে এবং তার ইজতিহাদটি সঠিক হয়, তাহলে তাকে দুটি বিনিময় (ছাওয়াব) দেওয়া হবে। আর যদি হাকিম ইজতিহাদ করলো, কিন্তু তা সঠিক হলো না, তারপরেও তার জন্য একটি বিনিময় (ছাওয়াব) রয়েছে। অর্থাৎ যে মুজতাহিদ উনার ফয়সালা আমলের উপযুক্ত হয় সেই মুজতাহিদ উনাকে দুই সওয়াব দেয়া হবে। আর যে মুজতাহিদ উনার ফয়সালা আমলের উপযুক্ত হয় না সে মুজতাহিদ তিনি এক সওয়াব পাবেন। কারণ প্রত্যেক মুজতাহিদই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকেই ইজতিহাদ করেন। সুবাহনাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, ২/১০৯২: হাদীছ শরীফ-৭৩৫২)

এই পবিত্র হাদীছ শরীফের ভিত্তিতে উলামায়ে কিরামের ইজমায়ী সিদ্ধান্ত হলো- যদি কোন বিচারক বিচার করতে গিয়ে অথবা কোন মুজতাহিদ ইজতিহাদ করতে গিয়ে, ছহীহ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন, তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি দ্বিগুণ ছাওয়াব দিবেন। একটি গবেষণার ছাওয়াব, অপরটি প্রকৃত সত্যে উপনীত হওয়ার ছাওয়াব। আর যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারেন তাকে একগুণ ছাওয়াব দেওয়া হবে। কারণ তিনিও প্রকৃত সত্যে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (ফতুহুল বারী, ১৩/৩৩১; শরহে নববী, ১১/২৪০)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ইজতিহাদের মধ্যে যদি সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়, তাহলেও ছাওয়াব, আর যদি ব্যতিক্রম হয়, তাহলেও ছাওয়াব। অর্থাৎ এ ইজতিহাদে কোন গুনাহ নেই; ছাওয়াব আছে।

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীদের প্রতি জিজ্ঞাসা হলো। যেটি ছাওয়াবের বিষয়, তাকে নিয়ে এতো মাথা-ব্যথা কেন? একে সমালোচনার পাত্র বানানোর উদ্দেশ্য কী?

দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, পূর্বে বলা হয়েছে, ক্বিয়াস ও ইজতিহাদ মনগড়া নয়; বরং সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ভিত্তিক। ইমামগণ পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফকে ভিত্তি করেই ইজতিহাদ ও ইস্তিম্বাত করে থাকেন।

অতএব যদি কোন মাসআলায় ইজতিহাদ বা ক্বিয়াস করতে গিয়ে কোন মুজতাহিদ আমলের উপযুক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে পারেন, তাহলে মূল উপরকণ পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ হওয়ার কারণে আপত্তিকর হবে না: বরং প্রশংসাযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কাজেই ভুল হতে পারে এই অজুহাত দাঁড় করিয়ে ক্বিয়াস ও ইজতিহাদের সমালোচনা করার অবকাশ নেই।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যদি ক্বিয়াস-ইজতিহাদ এজন্য বর্জনীয় হয় যে, মুজতাহিদগণ মা’ছূম নন; তারা ইজতিহাদ করতে গিয়ে ভুলও করেন; তাহলে আমরাও বলবো, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রাবীগণও তো মা’ছূম নন। তারাও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ভুল করতে পারেন। অতএব, তাদের বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ মানবো কিভাবে? অনুরূপ মুহাদ্দিছীন কর্তৃক কোন পবিত্র হাদীছ শরীফকে ছহীহ-জয়ীফ বলাও গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ তারাও মা’ছূম নন। তাদেরও ভুল হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে লা-মাযহাবীদের জবাব কি?

উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন ইজতিহাদ করেন তখন উনার সাথে ছিলেন ইমাম আবূ ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম যুফার রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম মুহাম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতো মুজতাহিদ, গবেষক ও ক্বিয়াস বিশেষজ্ঞ। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত হাফস ইবনে গিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মিনদান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতো হাফিযে হাদীছ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশেষজ্ঞ। ইমাম কাসেম বিন মাআন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতো আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞ। হযরত দাউদ বিন নাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আত-তায়ী ও ফুযাইল ইবনে আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতো মুত্তাকী-পরহেযগার ও যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন উনারা। যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার গবেষণা-সঙ্গী এই মানের ব্যক্তিবর্গ ছিলেন, তাই উনার ইজতিহাদ নির্ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা যদি কোন ভুল হয়েও যায়, তাহলে এমন ব্যক্তিবর্গ উনাকে অবশ্যই হক্বের দিকে ফিরিয়ে আনবেন। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফিকহে হানাফী বা হানাফী মাযহাব সংকলনের সময় শুধুমাত্র নিজের ইলিম ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেননি; বরং যুগশ্রেষ্ঠ চল্লিশজন প্রসিদ্ধ আলিম ও মুজতাহিদের সমন্বয়ে একটি ফিকহী মাজলিস গঠন করেন। ইজতিহাদ পদ্ধতি ছিল এরূপ: মাজলিসের সামনে কোন একটি মাসআলা পেশ করা হতো। সবাই এ ব্যাপারে একমত না হলে অত্যন্ত স্বাধীনভাবে বাহাছ শুরু হয়ে যেতো। এ বাহাছ কখনো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আবার কখনো কয়েকদিন পর্যন্ত চলতো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ধ্যান ও ধৈর্য সহকারে সকলের বক্তব্য শুনতেন। সর্বশেষে তিনি এমন ফায়ছালা পেশ করতেন যে, সকলেই তা মানতে বাধ্য হতেন, আবার কখনো কখনো এরূপ হতো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফয়ছালার পরেও কেউ কেউ নিজ নিজ মতামতের ওপর অটল থাকতেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফয়ছালার পাশাপাশি ওইসব মতামতও লিপিবদ্ধ করা হতো। যতক্ষণ পর্যন্ত অধিকাংশ সদস্য কোন ব্যাপারে একমত না হতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন মাসআলার ফয়ছালা না করার নিয়ম ছিল। সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হানাফী মাযহাব খুবই আস্থাশীল ও নির্ভরযোগ্য। এক্ষেত্রে কোন ধরণের সংশয় বা সন্দেহ নেই। আল্লামা আল-মুয়াফফিক মক্কী রহমতুল্লাহি আলাই তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরস্পর আলোচনা ও পরামর্শ্বের ভিত্তিতে ফিকহী মাসআলা রচনা করেছেন। মজলিসে শূরা এর সাথে আলোচনা ব্যতীত তিনি একাকী অভিমতের ভিত্তিতে কিছুই করেননি। সুবহানাল্লাহ!

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের ইমামগণ যদিও মা’ছূম নন, তবে উনারা অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক খাছভাবে ইজতিহাদ বা মাযহাবের জন্যই মনোনীত ও মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক কুদরতীভাবে নিয়ন্ত্রিত বা হিফাযতকৃত। আর উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে ইলমে জাহিরের পাশাপাশি ইলমে লাদুন্নীপ্রাপ্ত ছিলেন। যার ফলে উনারা সাধারণ ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

গোমরাহীমূলক বক্তব্য-৭

ইজতিহাদের দরজা উন্মুক্ত; কাজেই সকল মাসআলায় নতুন করে ইজতিহাদ করতে হবে

বাতিল ফিরক্বা লা-মাযহাবীরা বলে বেড়ায় যে, ক্বিয়াস ও ইজতিহাদের দরজা ক্বিয়ামত পর্যন্ত উন্মুক্ত। বর্তমানে হানাফী মাযহাবের অনেক মাসআলা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ পরিপন্থী। কাজেই নতুন করে ইজতিহাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যাতে করে হাদীছ শরীফ ও মাসআলার মাঝে বৈপরীত্য না থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

এর জবাবে প্রথমতঃ বলতে হয় যে, এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ রয়েছে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এক মুরীদ উনার কাছে এসে বললো, হুযূর আমার মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আমার হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, যাও এক টুকুরা মাটি নিয়ে আসো। মুরীদ মাটির একটি টুকরা নিয়ে আসলেন। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তিনবার পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ পাঠ করে মাটির টুকরায় ফু মুবারক দিলেন, সাথে সাথে মাটির টুকরাটি স্বর্ণের টুকরায় পরিণত হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ! হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরীদকে বললেন, যাও এটা বিক্রি করে তোমার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করো। মুরীদ স্বর্ণের টুকরাটি নিয়ে দরবার শরীফ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটি পুকুরের মধ্যে স্বর্ণের টুকুরাটি ফেলে দিল। আর মনে মনে বললো, এইটুকু স্বর্ণ দিয়ে কি হবে। স্বর্ণ বানানোর ত্বরীকা তো জেনেই গেছি। সে বাসায় গিয়ে তার আহলিয়াকে বললো, বড় দেখে একটি মাটির টুকরা নিয়ে আসো। এদিকে সে ভালো করে পবিত্রতা অর্জন করে জায়নামাযে বসলো। তাঁর আহলিয়া বড় একটি মাটির টুকরা এনে তাকে দিল। সে পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ পাঠ করে মাটির টুকরায় ফঁু দিতে থাকলো। কিন্তু মাটির টুকরা মাটির টুকরাই রয়ে গেল। সে বার বার চেষ্টা করলো। কিন্তু কোন কাজই হলো না। তার আহলিয়া এটা দেখে বললো, আপনার কি হয়েছে? আপনি এমন করছেন কেন আমাকে খুলে বলুন। তখন সে তার আহলিয়াকে সব খুলে বললো। তার আহলিয়া তাকে বললো, আপনি সর্বনাশ করেছেন। আপনি আবার দরবার শরীফ যান উনাকে সব খুলে বলুন এবং উনার কাছে ক্ষমা চান। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমা করে দিবেন। তখন মুরীদ তার শায়েখ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট গিয়ে সব খুলে বললো এবং ক্ষমা চাইলো। উনার শায়েখ উনাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং আরেকটি মাটির টুকরা নিয়ে আসতে বললেন। মুরীদ আরেকটি মাটির টুকরা নিয়ে আসলো। তিনি এবারও তিনবার পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ পাঠ করে ফুঁ দিলেন। স্বর্ণ হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!

তখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে ব্যক্তি সূরা ইখলাছ শরীফ তো রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে, কিন্তু এই যবান মুবারক কোথায় পাবে? অর্থাৎ যে কেউ পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ পাঠ করে ফুঁ দিলে মাটি স্বর্ণ হবে না। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত ব্যক্তিত্ব মুবারক ও যবান মুবারক লাগবে। অনুরূপ শুধু পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ জানা থাকলেই ইজতিহাদ করা যাবেনা। মুজতাহিদে মুত্বলাক অর্থাৎ চার মাযহাব উনাদের চার ইমাম উনাদের ন্যায় মেধা, স্মরণ শক্তি, ইলমে লাদুন্নী ও তাক্বওয়া পরহেযগারী এবং তায়াল্লুক-নিসবত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ক্বিয়াস ও ইজতিহাদের দরজা উম্মুক্ত আছে, তাই বলে ইসলামী শরীয়তে যার-তার ক্বিয়াস-ইজতিহাদ গ্রহণযোগ্য নয়। বরং যাদের ক্বিয়াস-ইজতিহাদ করার যোগ্যতা আছে, কেবলমাত্র উনাদেরই ক্বিয়াস-ইজতিহাদ গ্রহণযোগ্য। এ বিষয়টি পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهٖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلٰى أُولِي الْأَمْرِ مِنْـهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَـنْبِطُونَهٗ مِنْـهُمْ

অর্থ: যখন তাদের নিকট কোন বিষয়ের সংবাদ পৌঁছে, আনন্দের সংবাদ হোক কিংবা ভয়ের সংবাদ; তখন তারা [যাচাই-বাছাই না করেই তৎক্ষণাত] সংবাদটির প্রচার-প্রসার শুরু করে দেয়। [এটা মোটেও উচিৎ নয়। যদি তারা এটিকে মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অথবা উনাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর উনার নিকট সোপর্দ করতো, তাহলে উনাদের মধ্যে যাঁরা ইস্তিম্বাত তথা নিগুঢ় তত্ত্ব বের করার যোগ্যতা রাখেন, উনারা এই সংবাদের যথার্থতা নির্ণয় করতে পারতেন। অত:পর সঙ্গত মনে করলে তা প্রচার করতেন; নচেৎ তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আযাত শরীফ ৮৩)।

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযূল সম্পর্কে বলা হয়, পবিত্র মদীনা শরীফের মুনাফিকরা যুদ্ধ ও শান্তি সম্পর্কে নিত্যনতুন গুজব ছড়াতো। অনেক সময় সরলমনা কোন কোন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তা প্রচার শুরু করে দিতেন। ফলে পবিত্র মদীনা শরীফে এক অস্বস্তিকর ও অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হতো। মহান আল্লাহ পাক তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, যে কোন সংবাদ হোক না কেন, তা পাওয়া মাত্রই প্রচার-প্রসার শুরু করা উচিত নয়; বরং সংবাদটির ব্যাপারে তথ্য নেওয়া দরকার। এমতাবস্থায় কর্তব্য হলো: সংবাদটা মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অথবা উলিল আমর উনাদের নিকট পেশ করা। অতঃপর উনারা অনুসন্ধান ও বিচার-বিশ্লেষণের পর যে সিদ্ধান্ত মুবারক দেন অম্লান বদনে তা মেনে নেওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, যার-তার ক্বিয়াস বা গবেষণা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং সম্মানিত শরীয়ত উনার ক্ষেত্রে সম্মানিত শরীয়ত বিশেষজ্ঞ তথা মুজতাহিদ ইমামগণের মতামতই গ্রহণযোগ্য। কাজেই লা-মাযহাবীদের উল্লিখিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অবান্তর।

বর্তমান কু-প্রবৃত্তি ও সেচ্ছাচারিতার যুগে যদি যার-তার জন্য সকল বিষয়ে নতুন করে ইজতিহাদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে এর অনিবার্য ফল এই দাঁড়াবে যে, কিছু কিছু লোক বাংলা বুখারী ও বাংলা মিশকাত পড়ে নিজেকে মুজতাহিদ মনে করতে শুরু করবে এবং দাবি করতে শুরু করবে যে, অন্যদের ইজতিহাদকৃত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে আমার মতামত কেন গ্রহণযোগ্য হবে না? ফলে ইজতিহাদ ও গবেষণা তারতীববিহিনভাবে চলতে থাকবে। যার ফলে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হুকুম-আহকাম বিকৃতি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন শুরু হবে। যা মাযহাব অস্বীকারকারীরাও অস্বীকার করতে পারবে না। সুতরাং তারতীব ব্যতিত যার-তার জন্য ইজতিহাদের দরজা উন্মুক্ত রাখা যাবে না।

কারণ যার-তার জন্য যে কোন বিষয়ে নতুন করে ইজতিহাদ করার অনুমতি নেই; বরং ইজতিহাদের ক্ষেত্রগুলো সুনির্দিষ্ট। এক্ষেত্রে আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার বক্তব্য হলো- যেসব মাসআলা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে, তাতে ইজতিহাদ করার প্রয়োজনও নেই, অনুমতিও নেই। অনুরূপভাবে যেসব মাসআলা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই; তবে অতীতে সেগুলোর ফায়সালা হয়ে গেছে চাই সর্বসম্মতরূপে হোক কিংবা (ইখতিলাফের সাথে) সেগুলোতেও নতুন করে ইজতিহাদ করার কোনই প্রয়োজন নেই। পক্ষান্তরে যেসব মাসায়ালা বা সমস্যা নতুন সৃষ্ট; যেগুলো সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছা যায়নি; কেবল এ জাতীয় মাসআলার মধ্যে সমকালিন প্রকৃত মুজতাহিদগণের জন্য ইজতিহাদের দরজা উন্মুক্ত রয়েছে এবং থাকবে। উনারা খোদাপ্রদত্ত ইলিম, যোগ্যতা ও প্রতিভার মাধ্যমে সেগুলোর সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। এ জাতীয় মাসআলায় ইজতিহাদ না করলে [অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে এগুলোর আহকাম বের করে সমাধান না দিলে মানুষ হক্বের উপর থাকবে কীভাবে?

মোটকথা, দুই প্রকারের মাসআলায় ইজতিহাদের কোন প্রয়োজন নেই। মাত্র এক প্রকারের মাসআলায় ইজতিহাদের দরজা উন্মুক্ত আছে। তাও কেবল প্রকৃত মুজতাহিদ উনাদের জন্য; যার-তার জন্য নয়।

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী লিবাস বা পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনাদের জন্য ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪০)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩৮তম পর্ব)

ইমামাহ্ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া 

কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে ইমামাহ বা পাগড়ীর ফাযায়েল ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া।