মহান আল্লাহ্ পাক-এর শুকরিয়া, একথা আজ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত বর্তমান যামানার তাজদীদী মুখপত্র এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক, ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, আওলাদুর রসূল রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বর্তমান যামানার মুযাদ্দিদ। বলাবাহুল্য অন্য সব বিষয়ের পাশাপাশি তার সুস্পষ্ট-অকাট্য ও ইল্মে লাদুন্নী সমৃদ্ধ তাজদীদ প্রমাণিত হয়েছে সাদ্দাম প্রসঙ্গেও। উপসাগরীয় যুদ্ধে যখন এদেশের তথাকথিত আলিম সমাজের প্রায় সবাই সাদ্দাম, সাদ্দাম, বাপের বেটা সাদ্দাম, বলে মুখে ফেনা তুলেছিল সেই সময়ই বর্তমান বিশ্বে একমাত্র তিনিই দীপ্ত কক্তে ঘোষণা করেছিলেন যে, সাদ্দাম মুসলমান ও ইসলামের বন্ধু নয়; বরং সে নাস্তিক্যবাদী ও সমাজতন্ত্রী বাথ পার্টির প্রবক্তা। কিন্তু আমাদের দেশের লোকজন এতই হুজুগে মাতাল ও পড়ালেখাশূন্য যে তারা সেই নাস্তিক, চরিত্রহীন, ভোগবিলাসী সাদ্দামকেই মুসলমানদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা, এ সময়ের গাজী সালাহউদ্দীন বলে প্রচার করছে। বিশেষতঃ একটি তথাকথিত ইসলামী দৈনিকের মাওলানা মালিক বরাবরই ফাসিক সাদ্দামের চিহ্নিত ফরমাবরদার থাকার কারণে তার প্রকাশিত তথাকথিত ইসলামী দৈনিকে প্রতিনিয়ত সাদ্দামের ছানা ছিফত করা হয়।
উল্লেখ্য, দৃশ্যতঃ পত্রিকাটি সমাজতন্ত্র তথা নাস্তিক্যবাদ বিরোধী দাবী করলেও সাদ্দাম যে মূলতঃ নাস্তিক্যবাদী সমাজতন্ত্রের ধারক বাহক বাথ পার্টির প্রবক্তা এবং তার মন মানসিকতা তথা আমল যে সম্পূর্ণরূপে ইসলাম বিরোধী সে সম্পর্কে উক্ত পত্রিকায় বিন্দুমাত্র লেখালেখি হয়নি।
মূলতঃ তথাকথিত ইসলামী দৈনিক এই পত্রিকাটি নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে বলেই সাদ্দামের নাস্তিক্যবাদী চিন্তা ও ভোগ-বিলাসী আমল বেমালুম চেপে গেছে, অথচ সাদ্দাম যে নাস্তিক্যবাদী বাথ পার্টির প্রবক্তা এবং তার আমল সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী; তা সচেতন মহল ভালভাবে অবগত। নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
এ সম্পর্কে Microsoft Encarta Encyclopedia’ 2002. তে উল্লেখ করা হয় –
Baath Party
Baath party. political party and movement influential among arab communities in the Middle east, eopecially in Syria and Iraq. The Baath Party was from the beginning a secular Arab nationalist party. Socialism was quickly adopted as the party’s economic dogma: “Unity (Arab). Freedom (from colonialism). and Socialism” are still the watchwords. Its secular socialist nature made it attractive to disadvantaged and marginal communities such as the alawites in Syria and the various Christian groups in the region.
অর্থাৎ- বার্থ পার্টি, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষতঃ সিরিয়া এবং ইরাকে বিভিন্ন আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে উঠা আন্দোলন তথা রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাথ পার্টি। শুরু থেকেই এটি ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ আরব জাতীয়তাবাদী দল। দলের অর্থনৈতিক মতবাদে খুব দ্রুত সমাজতন্ত্র প্রয়োগ করা হয়। আরব ঐক্য, ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তি আর সমাজতন্ত্র এখনও এ দলটির মূলনীতি। বার্থ পার্টির ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতন্ত্রী বৈশিষ্ট্য একে সিরিয়ার এলাবিট (শিয়া উপদল) এবং বিভিন্ন খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মত এ অঞ্চলের সংখ্যালঘু এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়সমূহের নিকট আকর্ষণীয় করে তুলেছে।” এছাড়া বিভিন্ন রেফারেন্সের আলোকে সাদ্দামের পৃষ্ঠপোষকতায় চালিত বার্থ পার্টি সম্পর্কে আরো যা জানা যায় অতি সংক্ষেপে সে বিষয়ে কিছু বর্ণনা করা হলো- আরব বাথ সোস্যালিস্ট পার্টি আরব বাথ (রেনেসাঁ) সোস্যালিস্ট পার্টির প্রবক্তা ছিল আরব খ্রীষ্টান মাইকেল আফলাক, সালাউদ্দিন বিতার এবং যাকী আরসুজী। তারা ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের শিক্ষিত প্রতিনিধি। তাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা পাশ্চাত্য শিক্ষায় প্রভাবিত। ১৯৪০ সনের শুরুর দিকে সালাউদ্দিন ও আফলাক দামেস্কে উক্ত পার্টির কার্যক্রম শুরু করে। তাদের ইস্যু ছিল ইরাকে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উপস্থিতির প্রতিবাদ করা। ইরাকে বাথ পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৫২ সালে। ইরাকে বাথ পার্টি রাষ্ট্র ক্ষমতা পায় ১৯৬৩ সনের ফেব্রুয়ারী মাসে। আর সিরিয়াতে তারা ক্ষমতা পায় মার্চ, ১৯৬৩ (এক মাস পরেই)। এই বাথ পার্টির মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি (১) আরবদেশ আরবদের জন্য অর্থাৎ আরব জাতীয়তাবাদ। (২) আরব রাষ্ট্র সমূহ একই ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অধিকারী এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ। ৩) সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং ঔপনিবেশবাদ নির্মূল করে সকল আরব দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করবে। এই বাথপার্টি সমাজতন্ত্রী ও বামপন্থী রাজনীতিকে প্রেরণা দেয় এবং শ্রমিকলীগ, ছাত্র সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব বিস্তার করে।
প্রসঙ্গতঃ এখানে আরব জাতীয়তাবাদের কথা উল্লেখ করতে হয়। আরবী ভাষাভাষী মধ্যপ্রাচ্যকে সমগ্র মুসলিম জাহান থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য খ্রীষ্টান ও ইহুদীদের আবিষ্কৃত আরব জাতীয়তাবাদের ধূয়া তুলে মিসরের প্রেসিডেন্ট নাস্তিক নাছের। আরব ঐক্যের নামে সিরিয়া ও মিশর একসাথে আরব প্রজাতন্ত্র গড়ে তোলে। কিন্তু পরে তা ভেঙ্গে যায়।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, এই নামের আরব জাতীয়তাবাদ দর্শন ছিল মারাত্মক কুফরীমূলক।
নাস্তিক নাছেরের একটি প্রিয় শ্লোগান ছিল, “নাহনু আবনাউল ফিরআউনাহ” অর্থাৎ ‘আমরা ফিরআউনের বংশধর।’ সে মিশরে আর্বিভূত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণকে বিদেশী আক্রমণকারী এবং ফিরআউনকে জাতীয় নেতা হিসেবে আখ্যা দেয় এবং রাস্তাঘাট সরকারী অফিস সব জায়গায় ফিরআউনের মূর্তি স্থাপন করে।
উল্লেখ্য, এহেন নাস্তিক্যবাদী চেতনা সম্পৃক্ত বাথ পার্টিকেই ইরাকে প্রতিষ্ঠিত করে সাদ্দাম। (দলীলঃ Encyclopedia of the Orient, www. damascus online. com, Microsoft Encarta Encyclopedia 2002. সহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব সাইট।)
উল্লেখ্য আমাদের দেশের অনেকেই জানেনা যে সাদ্দাম কমিউনিস্ট তথা সমাজতন্ত্রের আদর্শবাহী পার্টি, বাথ পার্টির প্রবক্তা। এর পেছনে অবশ্য তথাকথিত ইসলামী দৈনিকটির সাদ্দামের মিথ্যা প্রশংসার প্রচারণাই মূল কারণ। অথচ এ প্রসঙ্গে Microsoft Encarta Encyclopedia 2002. সহ প্রায় সব নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।
সাদ্দাম হুসাইন
Hussein, Saddam (1937-), authoritarian president of Iraq since 1979 …. He moved to Baghdad in 1955 and became involved In politics, joining the opposition Baath party, an Arab nationalist movement. Hussein rose quickly within the party and in 1959 Helped organize an assassination attempt on Abdul Karim’ Kassem, …. Hussein fled fo cairo … He returned to Baghdad in 1963. married. and rose to the post of assistant secretary general of the Baath party. The party remained in opposition to the govemment until 1968, when it seized power in a coup …. (Microsoft Encarta Encyclopedia 2002.)
অর্থাৎ -মূল কথা হচ্ছে, সাদ্দাম হুসাইন (১৯৩৭) ১৯৭৯ সন হতে ইরাকের প্রেসিডেন্ট ছিল। …. সে বাগদাদে আগমন করে ১৯৫৫ সনে। এসে বিরোধী দল বাথ পার্টিতে যোগদান করে। ১৯৫৯ সনে সে ইরাকের সামরিক প্রেসিডেন্ট আব্দুল করীম কাসেমকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করে কায়রোতে পালিয়ে যায়। ১৯৬৩ সনে সে বাগদাদে ফিরে এসে বিবাহ করে এবং বাথ পার্টির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল পদে আসীন হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, নাস্তিক্যবাদী দর্শনের কারণে সাদ্দাম রাশিয়া তথা কে.জি.বি’র সাথে প্রথম পর্যায়ে সম্পৃক্ত থাকার ফলে সি. আই. এ তথা পশ্চিমা শক্তি তাদের স্বভাব সূলভ ভঙ্গিতে সাদ্দামকে আকর্ষিত করে এবং প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে সাদ্দামও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তাকে রাসায়নিক যুদ্ধ পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট বা নীলনক্সা দিয়েছিল সি. আই. এ যা আমেরিকান সরকারও জানত। সাদ্দামের অপ্রচলিত অস্ত্র সংগ্রহ কর্মসূচী বেগবান হয়েছিল সত্তরের দশকে এবং এই বেগবান হওয়ার পিছনে সি. আই. এ’র প্রত্যক্ষ মদদ ও অবদান ছিল। তারা এতে সহযোগিতা করেছিল। এই সহযোগিতা করার পিছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েতের প্রভাব বলয় থেকে ইরাককে বের করে আনা। আর সেটা করার জন্য তারা সাদ্দামকে উৎকোচও দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকা সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের সুযোগ হাতের মুঠোয় পেয়েও কাজে লাগায়নি। যুক্তরাষ্ট্র তখন শুধু যে সাদ্দামের পাশে দাঁড়িয়েছিল তাই নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে তারা বিদ্রোহীদের অস্ত্রসজ্জিত হবার জন্য অস্ত্রগুদামে পৌঁছতেও দেয়নি। এমনও হয়েছে যে, সাদ্দামের বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে বিদ্রোহীদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে আর সে সময় হেলিকপ্টারকে ছত্রছায়া দিয়েছে আমেরিকান বিমান। একটি ক্ষেত্রে আমেরিকা তো রিপাবলিকান গার্ড বাহিনীকে একটি বিদ্রোহী অবস্থানে পৌঁছতে আমেরিকান লাইনের ভিতর দিয়ে নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। মীরজাফরের ভূমিকায় সাদ্দাম॥ গোপন চুক্তি বাগদাদের নাটকীয় ও আকস্মিক পতন এবং সাদ্দাম শাসনামলের উৎখাতকে অনেকে অনেকভাবে ব্যাখা করলেও আরব মিডিয়াগুলো বরাবরই একটি শব্দ ব্যবহার করছে। শব্দটি ‘সাকফা’ অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ‘দ্রুত সম্পাদিত গোপন চুক্তি।’ আর এই গোপন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাকের বাথপার্টির শাসক গোষ্ঠির মধ্যে। বাগদাদকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই এই গোপন চুক্তি করা হয়েছে বলে আরব মিডিয়াগুলো বলেছে। এই গোপন চুক্তির সঠিক শর্তাবলী জানা না গেলেও বিষয়টি সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিছু ঘটনা থেকেও বাগদাদের নাটকীয় পতনের কারণ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেয়া যায়। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের সাতজন যুদ্ধবন্দির সবাই অক্ষত ছিল। কেউ আহত হয়নি। তাদের সবাইকে খুব ভাল অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করার সময় তাদের পরনে ছিল পায়জামা। নিয়মানুসারে তাদের পরনে যুদ্ধবন্দিদের পোশাক থাকার কথা ছিল। এতে মনে হয় যুদ্ধবন্দি নয় বরং মেহমান হিসেবেই তাদের সাথে আচরণ করা হয়েছে। আরব রীতি অনুযায়ী কোনও মেহমান বাড়িতে এলে রাতে শোয়ার জন্য তাদের পাজামা দেয়া হয়। আরব মিডিয়ার খবরেও বলা হয়েছে; যুদ্ধবন্দি জেসিকা লিঞ্চ এর সাথে অনুরূপ ভালো আচরণ করা হয়েছে। ইরাকি হাসপাতালের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন কক্ষটিতেই তাকে রাখা হয়েছিল। ২রা এপ্রিল তাকে উদ্ধার করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জেসিকা এই কক্ষটিতেই ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন সৈন্যরা মার্কিন যুদ্ধবন্দিদের অবস্থান সম্পর্কে খবর পেয়ে যায় অজ্ঞাতনামা ইরাকিদের কাছ থেকেই। অন্যদিকে কুয়েতি যুদ্ধবন্দিদের ক্ষেত্রে কিন্তু এরকম হয়নি। ওদিকে ৭ মার্কিন যুদ্ধবন্ধির কেউই সরাসরি মার্কিন টি ভি-এর সাথে কথা বলেনি। অথচ যুদ্ধে আহত মার্কিন সৈন্যদের খবরাখবর অনবরত মিডিয়াতে প্রচার করা হয়েছে। মার্কিন ট্যাংক বহর কোনও প্রতিরোধ ছাড়া বাগদাদে প্রবেশ করলেও বসরায় মার্কিন সৈন্যদের তিন সপ্তাহ ধরে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। বাগদাদের পতন এতটাই দ্রুত, এতটাই নাটকীয়ভাবে হয়েছে যে আরব ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবক যারা যুদ্ধ করতে ইরাকে গিয়েছিল তারা হতবাক হয়েছেন, হতাশ হয়েছেন। ইয়েমেন, মিসর, সিরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক কোনও নির্দেশনা না পেয়ে নিস্ত্রিয় হয়ে থেকেছেন। বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের মুখে বাথ পার্টির সদস্যরা চুপচাপ বসে রইল। অথচ একটি মাত্র সেতু ধ্বংস করে দেয়া হলে মার্কিন বাহিনীর সাময়িকভাবে হলেও বাগদাদে প্রবেশ ঠেকিয়ে রাখা যেত। দু’জন শীর্ষ স্থানীয় ইরাকি বিজ্ঞানী ছাড়া বাথ পার্টির কোনও সিনিয়র কর্মকর্তা আত্মসমর্পন করেনি। অন্যদিকে বাথ পার্টির হাজার হাজার কর্মী হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। আরব মিডিয়ার বিশ্লেষণে মনে হয়, শীর্ষ মহলের নির্দেশেই ইরাকে বাথ পার্টির শাসনের অবসান হয়েছে। যা ছিল খুবই পরিকল্পিত। আর এ জন্যই ইরাকের একটা যুদ্ধ বিমানও আকাশে উড়েনি। ২০০০ ট্যাংক বহরের সামান্য ক’টাও ব্যবহার করা হয়নি। সর্বোপরি প্রায় দু’লক্ষ সৈন্যসমৃদ্ধ রিপাবলিকান গার্ডসহ বিশাল ইরাকি সেনাবাহিনীর বেশীর ভাগকেই বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সময় দেখা যায়নি। পর্যবেক্ষকমহল মন্তব্য করেন, মূলতঃ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাগদাদে ফেরার অল্প কয়েকদিনের মাঝেই রিপাবলিকান গার্ডদের আক্রমণের ক্ষিপ্রগতি স্তব্ধ হয়ে যায়। আর তখন মস্কোতে অবস্থান করছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কনডোলিজা রাইস। আর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতই ইঙ্গ-মার্কিন জোটের সাথে মস্কোর উচ্চ পর্যায়ের এক বিশেষ গোপন ব্যবস্থায় সাদ্দাম ও তার মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। অথচ ইঙ্গ-মার্কিন আক্রমণের পূর্বে এই মুনাফিক সাদ্দাম এক ঘোষণায় বলেছিলো যে সে ইঙ্গ-মার্কিন নেতৃবৃন্দের প্রস্তাব অনুযায়ী তাঁর নিজের দেশ ত্যাগ করবে না। মরতে হয় নিজের দেশের মাটিতেই মরবে। এভাবে সে সমগ্র আরব তথা মুসলিম জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জাতিসংঘে ইরাকি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল দোরিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা শেষ হয়ে গেছে।’ রাষ্ট্রদূতকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি ‘খেলা’ শব্দটি ব্যবহার করলেন কেন? তখন তার হুঁশ হলো। তিনি বললেন, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। বলা বাহুল্য, এই গোপন চুক্তি পলাশীর ঐতিহাসিক আগ্রাসনে মীরজাফরের চুক্তির অনুরূপ। মীরজাফর যেমন গোপন চুক্তির ভিত্তিতে বিশাল সেনাবাহিনীসহ ঠায় দাঁড়িয়েছিল তেমনি সাদ্দামের গোপন চুক্তির কারণেই ফেদাইন বাহিনী, রিপাবলিকান গার্ড তথা বিশাল বাহিনী হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। মীর জাফরের চুক্তির কারণে ইংরেজরা দীর্ঘ প্রায় দু’শ বছর এ উপমহাদেশে শাসন-শোষণ করেছিল কিন্তু মীর জাফরের ব্যক্তিগত লাভ দীর্ঘায়িত হয়নি। তদ্রুপ সাদ্দামের বিশ্বাস ঘাতকতার ফলেও তার ব্যক্তি লাভ কিছুই হবেনা। তবে যেহেতু সে মুসলমান পরিচয়ে নাস্তিক, মূলতঃ মুনাফিক, সে হিসেবে ইসলামের তথা মুসলমানদের দেশ ইরাককে তথা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে সে ইসরাইল-আমেরিকার করতলগত করে দিতে পারল এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
-মুহম্মদ জাকির হুসাইন, ঢাকা।