সম্মানিত মাস তিনটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আলোচনার বিশেষ মাস। সুবহানাল্লাহ!
আরবী সপ্তম মাসের নাম রজব শরীফ। এ মাসটি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসের মধ্যে অন্যতম। উল্লেখ্য, রজব মাসের প্রথম তারিখ মুবারক রাতটি পবিত্র রগায়িব শরীফ উনার রাত। তাই এ রাতটি দুআ কুবূলের বিশেষ রাত হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এবং এ রাতের মর্যাদা শবে বরাত, শবে ক্বদর সহ সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত ও দিন অপেক্ষা বেশি বলে গণ্য করা হয়। সুবহানাল্লাহ! অথার্ৎ এ মুবারক রাতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার নিছবতে আযীমাহ মুবারক সংঘটিত হয়। অতঃপর তিনি যে নূর মুবারক হিসেবে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার মাঝে অবস্থান করছিলেন এ মুবারক রাতেই তিনি নূর মুবারক রূপেই উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে অথার্ৎ উনার নিকট তাশরীফ মুবারক গ্রহন করেন। অতঃপর নূর মুবারক রূপেই যমীনে তাশরীফ নিয়ে ছূরত বা আকৃতি মুবারক ধারণ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর এ মাসেরই সাতাশ তারিখ মুবারক রাতটি পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাত। এ মুবারক রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীয় দীদার ও ছোহবত মুবারক হাদিয়া করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি সৃষ্টির শুরু থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক, জিয়ারত মুবারক ও ছোহবত মুবারকে ছিলেন, এখনো আছেন এবং অনন্তকাল ধরেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আরবী অষ্টম মাসের নাম শা’বান শরীফ। এ মাসটির অন্যতম ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটি।’ এই রাতটিকে কুরআন শরীফ-এ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ এবং হাদীছ শরীফ-এ ‘লাইলাতুন্ নিছফি মিন শা’বান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফার্সী ভাষায় এই রাতটিকে বলা হয় ‘শবে বরাত’ বা ভাগ্য রজনী এবং এ নামেই আমাদের এ উপমহাদেশে রাতটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এ রাতটিও দুআ কবুলের বিশেষ রাত। এ রাতটিতে বান্দার আগামী এক বছরের সমস্ত বিষয় ফায়ছালা করা হয়। সুবহানাল্লাহ! তাই এ রাতে বান্দা-বান্দী ও উম্মতের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে খালিছভাবে তওবা-ইস্তিগ্ফার করে ইবাদত-বন্দেগী করে রাতটি অতিবাহিত করা। বিশেষ করে যার যা নেক দোয়া, নেক আরজি রয়েছে এ মুবারক রাতেই তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট চাওয়া, প্রার্থনা করা।
আরবী নবম মাসের নাম রমাদ্বান শরীফ। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, রমাদ্বান শরীফ অত্যন্ত বরকতময় মাস। এ মাসের মধ্যে রয়েছে লাইলাতুল ক্বদর যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতটিও দুআ কবুলের বিশেষ রাত। মহান আল্লাহ পাক তিনি এ মাসের রোযা ফরয করেছেন। আর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তারাবীহ নামাযকে সুন্নত করে দিয়েছেন। এ মাসে একটি নফল আমল একটি ফরয আমলের সমান এবং একটি ফরয আমল সত্তরটি ফরয আমলের সমান। যে একজন রোযাদারকে ইফতার করায় তার পাপ মোচন করা হয় এবং সে একজন গোলাম মুক্ত করে দেয়ার প্রতিদান প্রাপ্ত হয়। এছাড়া সে নিজের রোযার ছওয়াব তো পাবেই তদুপরি আরেক রোযাদারের ছওয়াবও সে লাভ করবে। এক চুমুক দুধ অথবা একটি খেজুর অথবা এক গ্লাস পানি দ্বারা ইফতার করালেও বর্ণিত প্রতিদানসমূহ লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি রোযাদারকে তৃপ্তি সহকারে পানাহার করাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্বিয়ামতের দিন হাউজে কাওছার থেকে পানি মুবারক পান করাবেন, জান্নাতে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত সে আর পিপাসিত হবে না। সুবহানাল্লাহ! এ মহিমান্বিত মাসটি হাক্বীক্বী তাক্বওয়া হাছিলের মাস। তাছাড়া এ মহিমান্বিত মাসটি যাকাত আদায় করারও বিশেষ মাস। তাই প্রত্যেক মালিকে নেছাব ব্যক্তির উপর ফরয, এ মাসেই যাকাত আদায় করা।
সম্মানিত জুমাদাল ঊলা শরীফ ও সম্মানিত জুমাদাল উখরা শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা