অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

২০১৯ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিংখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। ২০০৯ সাল থেকে এই সময় পর্যন্ত প্রতি বছর নয় হাজার ৩৮০ কোটি টাকা করে খেলাপি হয়েছে।এই বিপুল পরিমাণ ঋণ বর্তমান ব্যাংকিংখাতে অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। বারবার খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর টিআইবির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। গত এক দশকে ব্যাংকিংখাতে চলমান অস্থিরতা ও নৈরাজ্য তথা অনিয়ম-দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, মূলধনের অপর্যাপ্ততা, উচ্চ সুদের হার, তারল্য সংকট ইত্যাদি বিষয় বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমে বহুলভাবে প্রকাশিত হয়। ব্যাংকিংখাত থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমানতকারী তথা সাধারণ জনগণের অর্থ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি ঋণের মাধ্যমে আত্মসাৎ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, বাংলাদেশে যেভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে তাতে আর কিছুদিন পরই দেশে ব্যাংক নামের একটি খাত থাকবে ঠিকই কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে একেবারেই অকার্যকর হয়ে পড়বে ব্যাংক খাত। সরকারের উচিত হবে এখনই এই খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের শুরুতে দেশের ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। যা সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ উক্ত সময়ে বছরে গড়ে নয় হাজার ৩৮০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৪১৭ শতাংশ, যদিও একই সময়ে মোট ঋণ বৃদ্ধির হার ৩১২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের (১১২,৪২৫ কোটি টাকা) সঙ্গে বারবার পুনর্গঠিত ও পুনঃতফসিলী করা এবং উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিতাদেশ প্রাপ্ত খেলাপি ঋণ যোগ করে ব্যাংকিংখাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৪০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আইএমএফের খেলাপি ঋণের এই পরিমাণের সঙ্গে অবলোপন করা খেলাপি ঋণ (৫৪,৪৬৩ কোটি টাকা) যোগ করে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ ঋণ বর্তমান ব্যাংকিংখাতে অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন সময়ে খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও তা কার্যকর না করে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বারবার ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ ও পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গত কিছুদিন আগে খেলাপিদের নানাধরণের সুযোগ সুবিধাও প্রদান করেছে সরকার। এর ফলে বিপুল পরিমাণের খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চরম মূলধন সঙ্কট তৈরি করেছে। এ সঙ্কট কাটাতে প্রতিবছর রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোতে জনগণের করের টাকা থেকে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এতে কিছু মানুষের অনিয়ম-দুর্নীতির বোঝা ক্রমাগতভাবে জনগণের উপর চাপানো হচ্ছে।

মূলত ব্যাংক খাতের এই খেলাপি ঋণের দুর্দশার মূল কারণেই হচ্ছে ব্যাংক খাতে বাহ্যিক প্রভাব- যার মধ্যে রয়েছে আইনি সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ব্যবসায়িক প্রভাব এবং অপরটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ- যার মধ্যে রয়েছে তদারকি সক্ষমতায় ঘাটতি, নেতৃত্বের সক্ষমতায় ঘাটতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় ঘাটতি এবং তদারকি কাজে সংঘটিত অনিয়ম দুর্নীতি। অন্যদিকে, ব্যাংক শাখার পরিমাণ যত বাড়ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের সংখ্যা তত কমে আসছে। আবার পরিদর্শনে যে অনিয়ম ধরা পড়ছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডেপুটি গভর্নরের অনুমোদন লাগছে। এতে কার্যক্রম গতি হারিয়েছে। আবার ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ হচ্ছে শিল্পগোষ্ঠীর পছন্দে। সেইসাথে ব্যাংক কম্পানি আইন করে পুরো ব্যাংক খাতে ঢুকিয়ে দেয়া পরিবারতন্ত্র।

প্রসঙ্গত, দিন যত যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ততই বেড়ে যাচ্ছে। একটি ইচ্ছাকৃত খেলাপি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ব্যাংক খাত। এই চক্রগুলো যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে তার বিপরীতে জামানত আছে মাত্র ১০ ভাগের ১ ভাগ। আর তাদের এসব অপকর্মের মাশুল গুনতে হচ্ছে সৎ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের। এভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকা- আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ায় ব্যাংক ঋণের সুদ যেমন নির্মূল হচ্ছে না, তেমনি নানা পন্থায় নেয়া হচ্ছে গলাকাটা সার্ভিস চার্জ। এছাড়া ভালো উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের পদে পদে হয়রানি-নাজেহালের তো শেষ নেই।

বিশ্লেষকরা বলছে, আর্থিক খাতে এ অব্যবস্থা বহাল থাকলে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যাবে। আর পথে বসতে হবে ব্যাংকের লাখ লাখ সাধারণ গ্রাহককে। ব্যাংকের এই পাহাড়সম খেলাপি ঋণের পিছনে রয়েছে ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তারাও। বিশেষ করে ব্যাংকের কোনো না কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কারণেই নাম সর্বস্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থা ও ঋণ গ্রহীতা উভয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই চলমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অবিলম্বে এই খেলাপি ঋণ আদায়ে খেলাপিদের সুযোগ সুবিধা না দিয়ে বরং তাদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, যতদিন পর্যন্ত দেশে সুদভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থা চালু থাকবে ততদিন পর্যন্ত ব্যাংকখাতকে ঋণ খেলাপী মুক্ত করা যাবেনা। শুধু যে বাংলাদেশে ব্যাংকখাতে রাজনৈতিক কাজেই কেবলমাত্র ইসলামী অর্থনীতি তথা ব্যাংক ব্যাংক ব্যবস্থাই হবে জনগণের টাকা তথা ব্যাংকের টাকা সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া। জনগণ ও সরকার উভয়কেই এ বিষয়ে সম্যক উপলব্ধি করতে হবে। এবং যথাশীঘ্র যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কারণ যতক্ষণ হারাম সুদভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থা থাকে ততক্ষন যাবত দুবৃত্তায়ন হয়েছে তাই নয়- অন্যান্য দেশেও হয়েছে ও হচ্ছে। গোটা ঋণ প্রক্রিয়াই হয় জালিয়াত ও জুলুম নির্ভর। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন ব্যাংক দুর্বলদের উপর জুলুম করে পথে বসিয়ে দেয় তেমনি জালিয়াত চক্রও ব্যাংকে প্রতারণা করে। খেলাপীদের প্রতারণা থেকে ব্যাংককে রক্ষা করতে এবং দুর্বলদের উপর ব্যাংকের জুলুম থেকে বাঁচাতে সুদী প্রথা বাদ দিয়ে ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা করতে হবে।

-আল্লামা মুহম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।

বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় পঁচা-গলা গোশত ঢুকছে দেশের বাজারে। মহাক্ষতিগ্রস্ত দেশের গোশত ব্যবসায়ীরা; পাশাপাশি চরম হুমকিতে দেশের জনস্বাস্থ্য। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নীরব দর্শকের ভূমিকা সমালোচক মহলের কাছে মীর জাফরের অবস্থানের মতই প্রতিভাত হচ্ছে।