করোনার অজুহাতে চিকিৎসা সেবা সঙ্কটে ৬ কোটির অধিক রোগী। সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলার পরিচয় দিচ্ছে চিকিৎসকরা। সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে সরকারকে অবিলম্বে মৌলিক অধিকার- চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

সংখ্যা: ২৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

সারাদেশে তথাকথিত লকডাউনে বিভিন্ন খাতে লাখ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নে আয়ের মানুষ, ছিন্নমুল ও মধ্যবিত্তরা পড়েছে মহাবিপাকে। এমন বন্দিময় পরিস্থিতির মধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘা স্বরুপ চিকিৎসা সেবায়ও গভীর সঙ্কটের সৃষ্টি করা হয়েছে।  ক্যান্সার, কিডনী, ডায়াবেটিস, সাধারণ সর্দি-কাঁশিসহ অন্যান্য রোগে রোগাক্রান্ত রোগীরা হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে আরো মারাত্মক রোগীতে পরিণত হচ্ছে। সরকারি হাসপতালগুলোর জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও বহির্বিভাগ থাকে আধাবেলা। ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীরা কোথায় যাবেন এখনো বুঝে উঠতে পারছেনা। উদাহরণত: সারাদেশে বর্তমানে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এমনই সঙ্গীন অবস্থা যে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে জায়গা না হওয়ায় রাস্তায় বা হাসপাতালের বাইরেও রোগী ক্যাম্পিং করে রাখতে হবে। তারা পাচ্ছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ডায়রিয়ায়। প্রকৃত হিসেবে আরো বেশি। অথচ, বাংলাদেশী মিডিয়াগুলোর অপপ্রচারের কারণে চিকিৎসকরাও করোনা গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। তারা চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছে। জেলা শহরগুলোতে চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্সরা সাধারণ রোগীদের হাসপাতালে আসতে পর্যন্ত নিরুৎসাহিত করছে। চিকিৎসকদের এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মাঝে সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরের চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে সারাদেশে প্রায় ৬ কোটির অধিক রোগী চিকিৎসা সেবা পাওয়া নিয়ে শঙ্কাগ্রস্থ।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে ৬ লাখ ক্যান্সারের রোগী রয়েছে। প্রতি বছর ৫০-৬০ হাজার মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। আর এই ক্যান্সারের যদি সুচিকিৎসা না করা হয় তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। কিডনী ফাউন্ডেশনের হিসেব মতে, বাংলাদেশে আড়াই কোটি থেকে ৩ কোটি মানুষ কিডনী সমস্যায় আক্রান্ত। প্রতি বছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনী অকার্যকর হয়, প্রায় ৩০ হাজার মাানুষ মারা যায় বছরে। ডায়বেটিস আক্রান্তদের মধ্যে ১১ ভাগ মানুষ কিডনি সমস্যায় ভুগছে। দেশে উচ্চ রক্তচাপের রোগী আছে ৩ কোটি। এসব রোগীরও কিডনী সমস্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু সরকারের লকডাউনে ভীতগ্রস্থ হয়ে, করোনাকে সংক্রমক মনে করার মতো ভ্রান্ত বিশ্বাসী হয়ে চিকিৎসকরা এইসব রোগীদের চিকিৎসা সেবায় অবহেলামূলক আচরণ করছে। যা অতীব অমানবিক একটি আচরণ।

এমনিতেই বছরজুড়ে দেশের চিকিৎসা খাতে নৈরাজ্য বিরাজ করে। বৈশ্বিক মানদ- অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৪৫ জন চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী দরকার, কিন্তু বাংলাদেশে আছে মাত্র ৯ জন।  ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যের শিকার হয় প্রায় অর্ধকোটি অসহায় মানুষ।

পাশাপাশি নিম্নমানের বা অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে প্রতিবছর ৮০ লাখ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই সাথে লাখো মানুষ চিকিৎসাযোগ্য বা সারানো যায় এমন বিভিন্ন রোগের কারণে দুঃখ-দুর্দশা, ভোগান্তি, আর্থিক ক্ষতি ও নানা বিপর্যয়ের মধ্যে বসবাস করে। এরপর  চিকিৎসক সঙ্কট, বেড সঙ্কট, অবকাঠামো সঙ্কট বিরাজ করে। পাশাপাশি অসৎ ডাক্তারদের দৌরাত্ম তো রয়েছেই।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, রোগীদের অসহায় করে চিকিৎসকরা কিছুতেই ঘরে বসে থাকতে পারে না। এর আগে বহুবার চিকিৎসকরা রোগীদের জিম্মি করে দাবিও আদায় করেছে। স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে ডাক্তারদের যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোন জায়গায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। সারাদেশে লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের কোটি কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ যেখানে জীবিকার অভাবে ক্ষুধার জ্বালায় ভুগছে তার বিপরীতে ডাক্তারদের কোনো ভোগান্তি নেই। পাশাপাশি চিকিৎসকদের আয়-রোজগার কম নয়।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধের মধ্যেও চিকিৎসকদের জীবনবাজি রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই শপথ নিয়েই এ পেশায় আসতে হয় চিকিৎসকদের। ফলে চিকিৎসকদের রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ার কোনো কারণ নেই। পাশাপাশি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘চিকিৎসার অধিকার’। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জনগণ এই অতিপ্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এর মুখ্য কারণই হচ্ছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিমুখ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কুপ্রভাব। বাংলাদেশ ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশ এবং সংবিধানে রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম থাকার পরও সরকার পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম আহকাম ও শরীয়তের বিষয়গুলো থেকে সম্পূর্ণই দূরে। দেশের চিকিৎসক মহলের মধ্যে সরকার দ্বীন ইসলাম উনার অনভূতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। যার কারণে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ছোঁয়াচের অস্তিত্ব না থাকার পরও ডাক্তাররা ছোঁয়াচে আতঙ্কে সেবা প্রদান থেকে বিরত থাকছে।

এছাড়া পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে চিকিৎসা নেয়া খাছ সুন্নতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং চিকিৎসা মুবারক গ্রহণ করেছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। পাশাপাশি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ‘যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় সে আমানতদার।’ এখানে রোগীরা ডাক্তারের কাছে শারিরিক সুস্থতার অভিপ্রায়ে ডাক্তারের কাছে পরামর্শ কিংবা সেবা নিতে যায়। এক্ষেত্রে ডাক্তাররা যদি নানান অজুহাত দিয়ে রোগীকে চিকিৎসা সেবা না দেয় তাহলে স্পষ্টভাবে সেই ডাক্তার আমানতের খেয়ানত করলো। পাশাপাশি রোগীদের উপর সে জুলুম করলো। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন ‘অচিরেই জালিমরা জানতে পারবে, তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল কোথায় হবে। অন্যদিকে, আমানতের খেয়ানত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ‘তোমরা খেয়ানত করো না। কেননা খেয়ানত কতই না শাস্তি ও তিরস্কারযোগ্য।’ অর্থাৎ সম্মানীত দ্বীন ইসলাম থেকে দুরে সরে গিয়ে চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ডাক্তাররা জালিম ও মুনাফিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।

আমরা মনে করি, করোনা নিয়ে মিথ্যা আতঙ্ক থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে করোনা নিয়ে সকল প্রকার দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান লকডাউন খুলে দিয়ে সারাদেশে পবিত্র মিলাদ শরীফ পাঠ ও সুন্নতি খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে জনগণকে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে ছোঁয়াচে নামক বিভ্রান্তি থেকে সরে আসা। চলমান চিকিৎসা সেবার যে বিভ্রাট চলছে তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-আল্লামা মুহম্মদ মাহবূবুল্লাহ, ঢাকা।

“কুরআন সুন্নাহ’র বিরুদ্ধে কোন আইন পাশ হবে না” -এটি শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অথবা নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণাই নয় বরং এটা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সাক্ষাত ওয়াদা ইসলামের দৃষ্টিতে যার গুরুত্ব ও গভীরতা চরম-পরম ও ভীষণ স্পর্শকাতর

আল্লাহ পাক, আল্লাহ পাক-এর আইন, আল্লাহ পাক-এর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব, আল্লাহ পাক-এর দ্বীন, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি ঈমানী বিষয় নির্বাচনের জন্য কমমূল্যে বিক্রি করে ধর্মব্যবসায়ী জামাতীরা ইতিহাসের নিকৃষ্ট ও কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করেছে  ইসলামের নামে ধর্মব্যবসা করে তারা দ্বীন ও দুনিয়া দুটোই হারিয়েছে

আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইসলাম নয় জামাতে ইসলামী চায়- মওদুদীর ইসলাম

৩৭ বছরে বিচার হয়নি বলে এখনো বিচার করা যাবে না- এ কথা ভুয়া। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে মুক্তিযোদ্ধাই নয় গোটা দেশের প্রতিই সম্মান প্রদর্শন করা হবে॥ এর  জন্য ৭২-এর সংবিধান পুনঃজীবিত করার প্রয়োজন নেই। প্রচলিত আইনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হক্কুল ইবাদের অন্তর্ভুক্ত।

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৮