নানা প্রলোভনে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও উপজাতিদের খ্রিষ্টান বানাচ্ছে মিশনারীগুলো। জাতিকে বিভক্ত করে নব্য উপনিবেশবাদ তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারের উচিত, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সংখ্যা: ২৮৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাকে ঘিরে এনজিও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান লবি খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি প্রচারের লক্ষ্যে দীর্ঘকালব্যাপী নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। মুঘল আমলেই এদেশের প্রতি এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের শ্যেন দৃষ্টি পতিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে মিশনারীগুলো খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও ধর্মান্তরের যে প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে, পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তার ক্রমবিকাশ সাফল্যের সাথে অব্যাহত থাকে। স্কুল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, হাসপাতাল স্থাপন, ঋণ প্রদান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, দারিদ্র বিমোচন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি মুখরোচক কর্মসূচির আড়ালে রয়েছে এ দেশে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিস্টানিটি প্রচার করার নীল নকশার বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশে এনজিওর সংখ্যা ৩০ হাজার এবং প্রতি বর্গমাইলে গড়ে প্রায় চারটি এনজিও ‘উন্নয়নের অংশীদার’ ব্যানারে কর্মতৎপর। এনজিওদের অনেকেরই গোপন এজেন্ডা হচ্ছে নব্য উপনিবেশবাদ তৈরি করা, যা ৯৮ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশের প্রতি প্রচণ্ড হুমকি। এ দেশে বহুজাতিক কোম্পানির আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থে এবং অসহায়, নিঃস্ব, নিরক্ষর ও প্রপীড়িত মানুষকে সেবা করার নামে ইউরোপীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং খ্রিষ্টান তৈরী করার তৎপরতায় কয়েকটি এনজিও জড়িত রয়েছে। এদের বাজেটের শতকরা ৯৫ ভাগ অর্থ খ্রিষ্টান হতে পারে এমন সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের স্বার্থে, নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদেশী কনসালটেন্টের পেছনে ব্যয়িত হয়। মাত্র পাঁচ শতাংশ খরচ করে টার্গেট গ্রুপের জন্য।

দেশের উত্তরাঞ্চলে ধর্মান্তরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। মুসলমানদের মধ্যে নিজেদের দ্বীন ত্যাগ করে খ্রিষ্টান হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুরের আটটি জেলায় চার্চে মাত্র পাঁচ বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টান হয়েছে। বেকারত্ব আর দারিদ্র্যকে পুঁজি করে ধর্মান্তরের টোপ দেয়া হচ্ছে মানুষকে। শুধু যুবক-যুবতী আর অভাবী মানুষকে নয়, কোমলমতি শিশুদেরও খ্রিষ্টান করার অপতৎপরতা চলছে। এ জন্য আটটি জেলায় কমপক্ষে ৩০-৪০টি নার্সারি স্কুল খোলা হয়েছে। এসব স্কুলের ক্লাসরুমে খ্রিস্ট্রীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন ছবি ও অনুষঙ্গ টাঙ্গিয়ে রাখা হয়। পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি ওইসব ছবি দেখিয়ে শিশুদের সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, কেরি, টমাস, রিচার্ড, ক্লাউজ বার্লার, পিটারসন, রবিন মন্ডল ও অলসন-এর মতো লোকেরা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাইবেলের শিক্ষা, কৃষ্টি ও আদর্শ প্রচারের জন্য বাংলা ভাষা রপ্ত করে। কেরি নতুন আঙ্গিকে বাংলা ব্যাকরণ সংশোধন করে এবং ১৮০০ সালে ইংল্যান্ড থেকে বাংলা বর্ণমালার ছক এনে কলকাতার শ্রীরামপুর মিশন থেকে বাংলায় বাইবেল মুদ্রণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত অবস্থায় কেরি ‘কথোপকথন’ ও ‘ইতিহাসমালা’ নামক বাংলায় দুটি গ্রন্থ রচনা করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে ৯০টি প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থা কর্মরত ছিল। রোমান ক্যাথলিক চার্চের সংখ্যা এর বাইরে। এদেশে প্রতিকূল পরিবেশে খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির প্রচার ও বিকাশে তাদের বহুবিধ তৎপরতা ও প্রচেষ্টা ছিলো।

এ ধারাবাহিকতায় বিদেশী অর্থে পরিপুষ্ট বহু এনজিও পার্বত্যাঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়। এদের বেশিরভাগই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ বছরে পাবর্ত্যাঞ্চলে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে। আর এক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা রাখছে পার্বত্য জেলার গির্জাগুলো। ধর্মান্তরিতকরণের পাশাপাশি গির্জাগুলোর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। আগষ্ট ২০১৭ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানে গির্জার সংখ্যা ছিলো ৩৬৫টি, তা ২০২০ সালের আগষ্টের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ৪৪০টিতে। বর্তমান ২০২২ সালে এর সংখ্যা আরো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

পার্বত্যাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে খ্রিষ্টান মিশনারীগুলোর অপতৎপরতা আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলমান, চাকমা, মারমা, বৌদ্ধদের খ্রিষ্টান হওয়ার ঘটনা অহরহ। রংপুর ও দিনাজপুরের আটটি জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অজস্র খ্রিষ্টান মিশনারি। এসব এলাকায় গত পাঁচ বছরে হাজার হাজার লোক খ্রিষ্টান হয়েছে। বেকারত্ব আর দারিদ্র্যতাকে পুঁজি করে তারা ধর্মান্তরের টোপ দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

খ্রিষ্টান মিশনারী ও এনজিও সংস্থাগুলো যৌথভাবে “Evry man a bible and every people a charch” কর্মসূচিকে সামনে রেখে যে তৎপরতা শুরু করেছিল তা লক্ষ্যপানে ছুটে চলছে নিরন্তরভাবে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে- এভাবে ধর্মান্তকরণ করতে দিলে অচিরেই খ্রিস্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে; যা পরবর্তীতে ভয়াবহ ফিতনা সৃষ্টির কারণ হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে মিশনারীগুলোর এ অপতৎপরতা নিঃসন্দেহে মুসলমানদের ব্যর্থতার দলিল। যদি সুদুর দেশগুলো থেকে খ্রিষ্টান মিশনারীরা এদেশে এসে খ্রিষ্টানিটি ও ইউরোপিয় সংস্কৃতি প্রচার প্রসার করতে পারে। তাহলে বাংলাদেশের মুসলমানরা এতো কাছে থেকেও কেনো হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে? পার্বত্যাঞ্চলের ভাইদের প্রতি কেন সহানুভূতি ও সেবা সম্প্রসারণ করা গেলো না? এটাতো সাধারণ মুসলমানদেরই দায়িত্ব ছিল। এ দায়িত্বে অবহেলার মাশুল তামাম জনগণকেই দিতে হবে। এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জিবিত সকলকে দিতে হবে। কেননা সংস্থাগুলো যেভাবে মানবতার সেবার নামে বাঙ্গালি জাতিকে ধর্মান্তরিত করে ভিন্ন জাতিতে রূপান্তরিত করছে তা নিশ্চিতভাবে এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, একদিন পার্বত্যাঞ্চলগুলো দক্ষিণ সুদান ও ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুরের মতো জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে স্বাধীনতা লাভ করবে। গড়ে উঠবে বাংলাদেশের বুকে আরেকটি স্বাধীন দেশ। কেননা তারা যেভাবে পার্বত্যাঞ্চলগুলোকে টার্গেট করে সামনে এগুচ্ছে তা এভাবে অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের এক দশমাংস গোটা পার্বত্যাঞ্চল বড় বিপজ্জনক খ্রিষ্টান জনপদ গড়ে উঠবে। এ আশংকা অমূলক নয় যে, এ দেশের খ্রিষ্টানরা ওই পাড়ের সীমান্তবর্তি (ভারত) পার্বত্যাঞ্চলের নতুন খ্রিষ্টানদের সাথে মিলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ডাক দিতে পারে। এনজিওরা কোনো দেশের বন্ধু নয়। তারা মূলত মানবতার মিথ্যাচ্ছলে জাতিকে বিভক্ত করার কাজে নেমেছে।

সূত্র মতে, বছরখানেক আগে এসব এনজিওকে সরকারি নজরদারিতে আনলেও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই। দারিদ্র্য ও সরলতার সুযোগ নিয়ে পাহাড়িদের সাহায্য ও সহযোগিতার নাম করে এনজিওগুলো তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিল করে যাচ্ছে।

কিন্তু এখনও সতর্ক নয় সরকার। আর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এমন অবহেলামূলক আচরণ কাম্য নয়। সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে দেশে খ্রিষ্টান মিশনারীগুলোর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি গোটা দেশবাসীকে সচেতন হতে হবে।

-মুহম্মদ ওয়ালিউর রহমান, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।