ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৩

সংখ্যা: ১৯১তম সংখ্যা | বিভাগ:

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান

[শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করেছিলো শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিস্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিস্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে- ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিস্টীয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর- হেমপার। সে মিসর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য। ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদের উপর তুর্কি ভাষায় রচিত মুহম্মদ আইয়ূব সাবরি পাশার “মিরাত আল হারামাইন” কিতাবের ইংরেজি অনুবাদ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ।

(ধারাবাহিক)

উসমান আল-মুদাইকি এবং ইবনে শাকবান মাযার শরীফগুলোর উপর স্থাপিত গম্বুজগুলোর সাথে সাথে মসজিদ, মাদ্রাসাও ভাঙ্গার নির্দেশ দেয়। হযরত ইয়াসীন আফেন্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের একজন বড় আলিম ছিলেন, তিনি বললেন, “তোমরা মসজিদ কেন ধ্বংস করতে চাও? যা জামায়াতে নামায পড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এখানে শুয়ে আছেন। তিনি বললেন, যদি তোমরা মসজিদ ধ্বংস করতে চাও, তবে শোন আমি বলছি, উনার মাযার শরীফ এই বড় মসজিদের অনেক বাইরে অবস্থিত।” সুতরাং এই মসজিদ ভাঙ্গার কোন প্রয়োজন নেই। উসমান আল মুদাইকি এবং ইবনে শাকবান কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে মাতু নামক এক যিন্দিক খুব উদ্ধতপূর্ণ মন্তব্য করলো। সে বললো, “যে কোন সন্দেহজনক জিনিস ভেঙে ফেলা হবে।” তখন হযরত ইয়াসীন আফেন্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “মসজিদের বিষয়েও কি কোন সন্দেহ থাকতে পারে?” তখন তারা নীরব হয়ে যায়। দীর্ঘ নীরবতার পর উসমান আল মুদাইকি বললো, আমি তোমাদের কারো সাথেই একমত না। পরে সে বললো, মসজিদ ভেঙ্গোনা, মাযার শরীফ-এর গম্বুজ ভেঙে ফেলো।

এই বর্বরগুলো, তায়েফে প্রচুর পরিমাণ রক্তপাত ঘটানোর পর মক্কা শরীফ গমন করে। হজ্জের মাস হলেও তারা মক্কা শরীফ-এ প্রবেশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।

শরীফ গালিব ইফেন্দি জেদ্দায় একদল সৈন্য গঠন করেন ওহাবীদের প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। তায়েফের এই দুর্ঘটনায় ভীত হয়ে মক্কা শরীফ-এর লোকজন ওহাবী নেতাদের কাছে একটি দল পাঠান যাতে তারা মক্কা শরীফ-এর লোকদের উপর নির্যাতন না করে। ওহাবীরা ১২১৮ হিজরী (১৮০৩) সালে মক্কা শরীফ-এ প্রবেশ করে এবং তাদের ওহাবী মতবাদ প্রচার শুরু করে। তারা ঘোষণা দেয়, যারা মাযার শরীফ জিয়ারত করবে এবং মদীনা শরীফ গিয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওযা শরীফ-এর কাছে গিয়ে কিছু চাইবে, তাকে হত্যা করা হবে।

১৪ দিন পর, তারা জেদ্দা আক্রমণ করে এবং শরীফ গালিব আফেন্দিকে পাকড়াও করার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি জেদ্দার দূর্গ থেকে ওহাবী ডাকাতদের উপর সরাসরি আক্রমণ চালান এবং তাদের অধিকাংশকে হত্যা করেন। বাকিরা মক্কা শরীফ পলায়ন করে। মক্কা শরীফবাসীর অনুরোধে শরীফ গালিব আফেন্দির ভাই শরীফ আব্দাল মুঈন আফেন্দিকে মক্কা শরীফ-এর আমীর নিয়োগ করা হয়। ওহাবীদের অত্যাচার থেকে মক্কাবাসীগণকে রক্ষা করার প্রত্যয়ে তিনি এই আমীর হবার পদটি গ্রহণ করেন।

শরীফ গালিব আফেন্দি জেদ্দায় ওহাবী দস্যুদের পরাজিত করার ৩৮ দিন পর জেদ্দার গভর্নর শরীফ পাশা এবং জেদ্দার সৈন্যদেরসহ মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি মক্কা শরীফ থেকেও এই ওহাবী দস্যুদের বিতাড়িত করেন এবং পুনরায় আমীর পদে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু ওহাবী দস্যুরা মক্কাবাসীগণের উপর প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে তায়েফের কাছে গ্রামগুলোতে আক্রমণ করে এবং অনেক মানুষ হত্যা করে। তারা দস্যু সর্দার উসমান আল মুদাইকিকে তায়েফের গভর্নর নিযুক্ত করে। এই মুদাইকি মক্কা শরীফ-এর কাছে সকল ওহাবী দস্যুদের জড়ো করে এবং ১২২০ হিজরীতে (১৮০৫ সালে) বিশাল লুটেরা বাহিনী দিয়ে মক্কা শরীফ অবরোধ করে রাখে। মক্কা শরীফ-এর মুসলমানগণ অত্যন্ত দুর্দশার মধ্যে পড়েন, দিনের পর দিন অনাহারে কাটান। অবরোধের শেষ দিকে খাওয়ার জন্য একটা কুকুরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শরীফ গালিব আফেন্দি, মক্কা শরীফ-এর অধিবাসীদের বাঁচানোর জন্য শত্রুদলের সাথে সন্ধি করা ছাড়া আর কোন পথ পেলেন না। তিনি এই শর্তে আত্মসমর্পণ করলেন যে, তিনি আমীরের পদ ত্যাগ করে চলে যাবেন তাহলে সাধারণ মুসলমানগণের জান মাল নিরাপদে থাকবে। (চলবে)

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল