আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, ইসলামের বীর সিপাহসালার হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পয়তাল্লিশ বৎসর হায়াতে যিন্দেগী মুবারকে তিনটি বিবাহ করেন। উনার প্রথম বিবাহ কার্য্য সুসম্পন্ন হয় হিজরী ১২২৩ হিজরীর কোন এক সময়। এই সময় তার বয়স মুবারক ছিল বাইশ অথবা তেইশ। তিনি ইমামুল হিন্দ হযরত শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তত্ত্বাবধানে থেকে জাহিরী-বাতিনী কামালতের পরিপূর্ণ হয়ে যখন দিল্লী থেকে স্বগৃহ রায় বেরেলীতে প্রত্যাবর্তন করেন এই সময় আত্মীয়-স্বজনের বিশেষ অনুরোধে তিনি প্রথম বিবাহ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন উনার মেঝ ভাই সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইসহাকের বিধবা স্ত্রী সাইয়্যিদাহ মুসাম্মদ ওয়ালীনীয়া বেগমকে। আর উনার তৃতীয় বিবাহের কার্য্য সম্পন্ন হয় হিজরতের পথে সীমান্তে জিহাদে থাকা অবস্থায়। সীমান্তে শিখদের সাথে সীদুর যুদ্ধে ইয়ার মুহম্মদ খানের সহায়তায় উনার খাদ্যের মধ্যে বিষ মিশ্রীত করা হয়। বিষ ক্রিয়ায় উনার জীবন মরনাপন্ন হয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে পুনরায় চিত্রলের জনৈক সাইয়্যিদ বংশীয় ফাতেমা নাম্মী এক মহিলাকে বিবাহ করেন।
মারিফাত শুন্য সঙ্কীর্ণমনা অনেক জাহিরী মৌলভীরা উনার বিধবা বিবাহের সমালোচনা করেছেন। তাদের বক্তব্য তিনি উনার মরহুম ভ্রাতা সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইসহাকের বিধবা স্ত্রীর রূপে গুণে সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে জোর পূর্বক বিধবার মতের বিরুদ্ধে তাকে বিবাহ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
এটা যে জাহিরী মৌলভীদের মনগড়া বানানো মিথ্যা কথা এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ উপমহাদেশে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপর যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক সীরত গ্রন্থ ও ইতিহাস রচিত হয়েছে উনার কোন একটিতেও এই বিধবা বিবাহকে হেয় বা খাটো করে দেখানো হয়নি।
যেমন, সাওয়ানেহ আহম্মদী, মানজুরা ওয়াসীলে ওয়াজীর, সীরাতে সাইয়্যিদ আহম্মদ শহীদ, সায় গুজাসতে মুজাহিদীন, তাওয়ারীখে আজীবা, যব ঈমান কিবাহার আই নুজহাতুল খাওয়াতীর ইত্যাদি প্রসিদ্ধ মশহুর কিতাব গুলোর কোন একটিতে এই বিধবা বিবাহকে খাটো বা হেয় করে দেখানো হয়নি। বরং এটি যে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি মহান সুন্নতী আমল সেটিই দেখানো হয়েছে। বিরুদ্ধবাদী জাহিরী মৌলভীরা কি ভুলে গিয়েছেন যে, আম্মাজান হযরত আয়িশা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত সাইয়্যিদুল খলায়েক্ব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরাপর সকল পবিত্রা স্ত্রীগণ সকলেই ছিলেন বিধবা এবং অধিক বয়স্কা। যেমন, হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম, হযরত হাফসা আলাইহাস সালাম, হযরত উম্মে সালমা আলাইহাস সালাম প্রমুখ। পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের পরিভাষায় উনারা আযওয়াজুম মুতাহহারাত বা পবিত্রা এবং উম্মাহাতুল মু’মিনীন বা ঈমানদারগণ উনাদের মাতা।
হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একাধিক স্ত্রীগ্রহণ বা বিধবা বিবাহকরণ ব্যাপারটি ছিল উম্মতের প্রতি ইহসান বা উপকারার্থে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ এবং ওহীর ভিত্তিতে। অথচ ওরিয়েন্টালিষ্ট বা ইউরোপীয় খ্রিস্টান চরিত কারকরা উনার এই বিধবা বিবাহকে হেয় চক্ষে দেখেছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এত দূর পর্যন্ত স্পর্ধা দেখিয়েছে যে তিনি নাকি নারী লোলুপ ছিলেন। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)
এখন আমরা জাহিরী মৌলভীদের বলি তারা কি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার নির্দেশ এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাস্তব আমালে যিন্দেগীকে অস্বীকার করে পাশ্চাত্য খ্রিস্টান লেখকদের অনুসরণ করবেন?
আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ ও উনার রেযামন্দী এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত উনার খেয়ালে বিধবা বিবাহ করেছেন বহু কিতাবে উনার প্রমাণ মেলে।
যেমন, গোলাম রসূল মিহীর ছাহেবের হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ গ্রন্থের ১১২ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার এমন কিছু নির্দেশ আছে যাহা পালন করতে লোকে লজ্জাজনক মনে করে। বিশেষভাবে ভারতের কোন কোন লোক যদি তা পালন করে তবে অন্যরা তাকে খারাপ জানে। এর মধ্যে একটি হলো বিধবার দ্বিতীয় বিবাহ।”
উক্ত পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, “প্রথমে নিজ পরিবার হতে এই সুন্নতকে পূনর্জীবিত করে পরে অনেক নির্দেশ দিব। এ বিবাহে আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই। শুধু হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতকে পূণর্জীবিত করা। আমার স্ত্রী রূপে গুণে কোন দিক হতে কম নয়। এই বিবাহের উদ্দেশ্য এই যে, এই সুন্নত আমার বাড়ী হইতেই আরম্ভ হউক।”
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)