(দ্বিতীয় পর্ব)
দ্বিতীয়তঃ যে কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে তাক্বওয়া বা খোদাভীতি যা কিনা বেলায়েতের মূল। আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
الا ان اولياء الله لاخوف عليهم ولاهم يحزنون الذين امنوا وكانوا يتقون.
“সাবধান, যাঁরা আল্লাহ্ পাক-এর ওলী তাঁদের কোন ভয় নেই এবং তাঁরা চিন্তিতও হবেননা। তাঁরাই হচ্ছেন, আল্লাহ্ পাক-এর ওলী যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করেছেন।” (সূরা ইউনুছ/৬২, ৬৩) অতএব দেখা যাচ্ছে, বেলায়েতের জন্য প্রথমতঃ আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মুতাবিক ঈমানকে দুরস্ত করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ তাক্বওয়া অবলম্বন করতে হবে। তাক্বওয়া হাছিল করার উপায় সম্বন্ধে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন,
يايها الذين امنوا اتقوا الله وكونوا مع الصدقين.
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ পাককে ভয় কর, তাক্বওয়া ও পরহিযগারী অবলম্বন কর এবং আল্লাহ্ ওয়ালাগণের ছোহবত ইখতিয়ার কর।” (সূরা তওবা/১১৯) সংক্ষেপে, বেলায়েতের মূল কথা হলো, আল্লাহ্ পাক-এর সাথে দায়িমী নিছবত বা সম্পর্ক স্থাপন, কুরব বা নৈকট্য অর্জন। এর জন্য প্রয়োজন আল্লাহ্ পাক-এর মা’রিফত, মুহব্বত ও সন্তুষ্টি বা রেযা লাভ করা। যেমন, আল্লাহ্ পাক বলেন,
رضوان من الله اكبر.
“আল্লাহ্ পাক-এর সন্তুষ্টিই সবচাইতে বড়।” (সূরা তওবা/৭২)
যা কিনা দুনিয়া এবং আখিরাতের সবচাইতে বড় নিয়ামত। রুহানীভাবে আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্য লাভ করা মানেই আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বত পাওয়া। যিনি এ নিয়ামত লাভে ধন্য হয়েছেন, তাঁকেই আল্লাহ্ পাক-এর ‘ওলী’ (ولى) বা ‘আরিফ’ (عارف) বলা হয়। ওলীকে অবশ্যই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাভুক্ত হতে হবে। আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মাযহাব মানেই কুরআন-সুন্নাহ প্রদর্শিত মাযহাব বা পথ। আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আলিমগণ এই পথ হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ থেকে শিক্ষা করেছেন। তাঁরা নিজেদের মত বা বুঝকে প্রাধান্য দেননি বরং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ থেকে যা শুনেছেন সেটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই চার মাযহাবের সাথে বিরোধ করা মানেই কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের সঠিক পথ থেকে বিচ্যূত হয়ে গোমরাহ হওয়া। বিদয়াতী কখনও আল্লাহ্ পাক-এর ওলী হতে পারেনা। ওলীকে অবশ্যই ছলেহ ও মুত্তাক্বী হতে হবে। অর্থাৎ ইবাদত, আখলাক এবং আমল প্রতি ক্ষেত্রেই তাঁকে তাক্বওয়া অবলম্বন করতে হবে। তাক্বওয়া অর্থ আল্লাহ ভীতি ও গুনাহ্ থেকে বাঁচা এমনকি গুনাহের চিন্তা পর্যন্ত না করা। তাক্বওয়ার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বেলায়েতের জন্য যে শ্রেণীর তাক্বওয়া প্রয়োজন তাকে মালাকা (ملكة) বলে। এটি এমন একটি মাকাম যেখানে গুণাহ্ থেকে বাঁচার জন্য কোন জবরদস্তির প্রয়োজন হয়না। বরং তাক্বওয়া, পরহিযগারী তাঁর স্বভাবে পরিণত হয়। স্বাভাবিক এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বদাই তিনি নেক কাজে মশগুল থাকেন। তাক্বওয়ার এই স্তরের জন্য ক্বলব বা অন্তঃকরণকে পরিস্কার করতে হবে। যেমন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
الا ان التقوى ههنا واشار الى صدره.
“জেনে রাখ, তাক্বওয়া ও পরহিযগারী (এখানে’ রাবী বলেন) “একথা বলে হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় ক্বলবের দিকে ইশারা করলেন।” এর মাধ্যম হলো ইল্ম, আমল এবং ইখলাছ হাছিল করা। যে আমল ইখলাছ ব্যতীত করা হয় তার কোন ছওয়াব বা প্রতিদান নেই। ইখলাছ মানে প্রতিটি কাজ একমাত্র আল্লাহ্ পাক-এর উদ্দেশ্যেই করা। অর্থাৎ এমনভাবে প্রতিটি আমল করতে হবে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত সমস্ত কিছু দিল থেকে বের হয়ে যাবে। যখন কেউ আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বতে গরক হয়ে যাবে তখন আপন আপনি ইখলাছ চলে আসবে। আর ক্বলবের এই অবস্থাকে তাছফিয়া تصفية (অন্তরের পরিশুদ্ধি) ইত্মিনান (اطمنان) অন্তরের প্রশান্ত অবস্থা) বা ফানাফিল্লাহ (فناء فى الله) বলা হয়। এটি হাছিল করার পদ্ধতি হলো যিকির-ফিকির করা। কুরআনুল কারীমাতে আল্লাহ্ পাক বলেন,
الا بذكر الله تطمئن القلوب.
“সাবধান, একমাত্র যিকিরের দ্বারাই ক্বলব ইতমিনান হয়।” (সূরা রা’দ/২৮) আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لكل شئ صقالة وصقالة القلب ذكر الله.
“প্রত্যেক জিনিস পরিষ্কার করার যন্ত্র রয়েছে, আর দিল (অন্তর) পরিষ্কার করার যন্ত্র হলো আল্লাহ্ পাক-এর যিকির।” (বায়হাক্বী) এই যিকির মূলতঃ ক্বলবী যিকির। আল্লাহ্ পাক-এর নাম উচ্চারণ করার মাধ্যমে অথবা ওলী আল্লাহ্র ছোহবতে থেকে তাঁকে দেখার মাধ্যমে এই যিকির করা হয়। যেমন, ইরশাদুত্তালেবিন, ইবনে মাজাহ্ শরীফ প্রভৃতি কিতাবে হাদীস শরীফ উল্লেখ রয়েছে,
اذا رءوا ذكر الله.
অর্থাৎ “যাঁদেরকে দেখলে আল্লাহ্ তায়ালার কথা স্মরণ হয়।” যখন বান্দা আল্লাহ্ পাক-এর যিকিরে মশগুল হয় তখন আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে বান্দার ক্বলবে ফয়েজ (فيظ) আসতে থাকে। ফয়েজ হলো এমন নূর যা আল্লাহ্ পাক-এর রহমত। এ নূর যখন ক্বলবে পতিত হয় এবং ক্বলবে আল্লাহ্ আল্লাহ্ যিকির জারি হয় তখন শয়তান ক্বলবে ওয়াস্ওয়াসা দিতে পারেনা। ফলতঃ তখনই ইখলাছ পয়দা হয়। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মী যেমন জীবানু ধ্বংস করে অথবা যক্ষ্মা রোগী যেমন সেনটেরিয়ামে রেডিও থেরাপি নিয়ে সুস্থ হয়, বান্দার ক্বলব তদ্রুপ হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, অহংকার, রিয়া সহ সকল আখলাকে যমীমা থেকে মুক্ত হয়ে নূরানী হয়ে উঠে এবং আল্লাহ্ পাক-এর মা’রিফত-মুহব্বত লাভ করে। যেটা বলা হয়েছে,
فاذكرونى اذكركم.
“তোমরা আমার যিকির কর, আমিও তোমাদের উপর রহমত নাযিল করবো।” (সূরা বাক্বারা/১৫২)
আর আল্লাহ্ পাক-এর রহমত ব্যতীত কারো পক্ষে কোন নেক আমল করা সম্ভব নয়। এই রহমত, নূর বা ফয়েযের মূল হলেন আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ্ পাক বলেন,
وما ارسلنك الا رحمة لعلمين.
“আমি আপনাকে সমগ্র আলমের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আম্বিয়া/১০৭) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র ক্বলব মুবারক থেকে ফয়েয বিচ্ছুরিত হয়। আর প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তি তাঁর তাক্বওয়া-পরহিযগারীর ভিত্তিতে ফয়েজ প্রাপ্ত হয়। তবে ফয়েজ হাছিলের অনিবার্য শর্ত হলো আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মুহব্বত এবং তাঁর মুহব্বতের জন্য প্রকারান্তরে যা প্রয়োজন তা হলো তাঁর সুন্নাহ্, অনুপম চরিত্র মাধুর্য, মু’জিযা এবং কামালতের ইল্ম অর্জন করা। যাঁরা আল্লাহ্ পাক-এর রসূলের ছোহবত লাভ করেছেন তাঁরা সরাসরি ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ পেয়েছেন। অর্থাৎ হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, তাঁরাই সর্বাধিক ফয়েজ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং উম্মতের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন। কেউ তাঁদের সমকক্ষ হবেনা। হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে নূর ও ফয়েজ লাভ করেছিলেন তা পর্যায়ক্রমে ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া, হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ -এর ক্বলব থেকে ক্বলবে প্রবাহিত হয়ে আমাদের সময় পর্যন্ত পৌঁছেছে।
অতএব, যে এই ফয়েয হাছিল করতে চাইবে, তাকে অবশ্যই ওলীআল্লাহ্গণের ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন,
ان رحمت اله قريب من المحسنين.
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক-এর রহমত মুহসিন বা ওলী আল্লাহ্গণের নিকটবর্তী।” (সূরা আ’রাফ/৫৬)
অতএব, একমাত্র ওলীআল্লাহ্গণ থেকে ফয়েয হাছিল করার মাধ্যমেই ইখলাছ হাছিল করা সম্ভব।
আল্লাহ্ পাক বলেন,
يوم لا ينفع مال ولابنون الا من اتى الله بقلب سليم.
“সেই কঠিন দিন ক্বলবে ছালিম ব্যতীত কোন কিছুই কাজে লাগবেনা।” (সূরা শুয়ারা/৮৮, ৮৯) কানযুদ দাক্বায়েকের (كنز الدقائق) একটি হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, “প্রত্যেকটি জিনিসের একটি উৎস রয়েছে, ইখলাছ এবং তাক্বওয়া হাছিলের উৎস হলো আরিফের অন্তর।” এজন্যই আল্লাহ্ পাক তাক্বওয়া হাছিল করার দিয়েছেন,
وكونوا مع الصدقين.
“ছাদিক্বীন বা ওলী আল্লাহ্গণের ছোহবত ইখতিয়ার কর।” তাই, যে কামিল মুর্শিদ, পীর ছাহেব বা শায়েখ পাবে তার জন্য বাইয়াত হয়ে ছোহবত ইখতিয়ার করে ক্বলব ইসলাহ্ করা ফরয। কারণ ক্বলব ইসলাহ ব্যতীত কোনদিনই ইখলাস এবং হাক্বীক্বী তাক্বওয়া অর্জন করা সম্ভব নয়। আবার বাইয়াত হয়ে ছোহবত ইখতিয়ার করা ছাড়া ফয়েয ও তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ক্বলব পরিশুদ্ধ করা সম্ভব নয়। তাই যে বাইয়াত হবেনা সে ফরয তরক করে ফাসিকের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর ফাসিক কি করে আলিম হবে? বরং হলে আলিমে ‘ছু’ (عالم سوء) বা দুনিয়াদার আলিম হবে। যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি জাহান্নাম। কেউ যদি ছোহবত ইখতিয়ার করতে না পারে তবে সে রাবেতা (॥ব্জব্দম্ভ্রব্ধ) করবে। রাবেতা হল ওলীর চেহারা মুবারকের কল্পনা করা। যে কল্পনা করা শরীয়তে জায়িয রয়েছে। যেমন বুখারী এবং মুসলিম শরীফের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে,
عن ابن مسعود رضى الله عنه قال كانى انظر اى رسول الله صلى الله عليه وسلم يحكى نبيا من الانبياء ضربه قومه قادموه وهو يمسح الدم عن وجهه ويقول الهم اغفر لقومى فانهم لايعلمون.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তিনি নবীদের মধ্য হতে কোন নবীর কাহিনী বর্ণনা করছেন, যাঁকে তাঁর সম্প্রদায় আহত, রক্তাক্ত করে দিয়েছিল এবং তিনি নিজের চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন, “আয় আল্লাহ্ পাক! আমার কওমকে ক্ষমা করুন। কারণ তারা জানেনা।” ‘রাবেতার’ সময় সে এমন ফয়েয লাভ করবে যেমন ছোহবতে লাভ করা যায়। যে হাদীস শরীফ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দেখলে আল্লাহ্ পাক-এর স্মরণ হয়। হযরত মির্জা মাযহার জানজানান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি তাঁর যামানার ‘কুতুব’ এবং মহান ওলী ছিলেন। তিনি দিল্লী থেকে শাহ্ বাহিক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উপর তাওয়াজ্জুহ করেন, যিনি ছিলেন কাবুলে, এত দূরত্ব সত্বেও তাঁকে বেলায়েতের উঁচু মাকামে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “আমি সমস্ত রহমত, বারাকাত ও ফুয়ূজাত আমার পীর ছাহেবের প্রতি মুহব্বতের ফলে লাভ করেছি। অন্যথায় আমাদের ক্রটিপূর্ণ ইবাদতের কি যোগ্যতা রয়েছে?” মাকতুবাত শরীফের مكتوبات شريفة)) ১ম খন্ডের ৫৯ নং মাকতুবে উল্লেখ করেন ক্বলবে হাক্বীক্বী ইখলাছ একমাত্র ওলীর ক্বলব থেকেই লাভ করা সম্ভব।” মাকতুবাতে মাসুমিয়ায় (مكتوبات معصومية) ২০তম মাকতুবে উল্লেখ রয়েছে যে, মুহব্বতের মাধ্যমেই ক্বলবের সাথে ক্বলবের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। যখন কেউ কোন ওলীর সাক্ষাৎ লাভ করে, তাঁর সাথে কথা বলে অথবা তাঁর কিতাব পড়ে, তখন ওলীর প্রতি তাঁর মুহব্বত পয়দা হয়। সে দেখে তিনি শরীয়তের পূর্ণপাবন্দ, তাঁর ইল্ম সমুদ্রের মত, তিনি অনুপম চরিত্র মাধুর্যের অধিকারী এবং সবার প্রতি ইহ্সান করেন। যেহেতু সে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুহব্বত করে সেহেতু সে তাঁদের পথে যিনি দায়িম-কায়িম তাঁকেও মুহব্বত করতে শুরু করে। যখন সে দেখে যে মুর্শিদই তাকে সঠিক ভাবে ইসলাম শিক্ষা দিয়েছেন, দুনিয়ার ফিৎনা-ফাসাদ ও ধোকা থেকে রক্ষা করেছেন, আখিরাতের আযাব-গযব থেকে রক্ষা করে চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের পথ প্রদর্শন করেছেন তখন সে নিজের মত এমন কি তার জানের চেয়েও বেশী মুর্শিদকে মুহব্বত করে। যখন সে তাঁকে দেখে অথবা মুহব্বতের সাথে কল্পনা বা খেয়াল করে তখন ওলীর অন্তরে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্বলব মুবারক থেকে যে ফয়েয আসতে থাকে তা মুরীদের ক্বলবেও প্রবাহিত হতে থাকে। মুহব্বত যত প্রগাঢ় হবে তত অধিক ফয়েজ সে হাছিল করবে। হযরত উবায়দুল্লাহ আহরার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “দুনিয়াবী আসবাবের সাথে দিল লাগানো যদি অন্যায় বিবেচিত না হয়, তবে একজন মু’মিনের সাথে অন্তর লাগানো কেন অপরাধ বলে বিবেচিত হবে?”
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুনিস মুর্শেদ, মিরপুর, ঢাকা
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে
খাবার স্যালাইন কি জীবন বাঁচায়? ইসলামী রাজনীতিকরা কে কোথায়?
“ফযলুর জিহালতীর জবাব” সত্যিই রাজারবাগীদের নিকট ‘দ্বীনে রেযাখানী’ নিরাপদ নয়