একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে

সংখ্যা: ১০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের একান্ত ভাবনার লিখক ছদ্মবেশী স, আ, ত, ম আলাউদ্দীন এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

          আপনি আপনার অক্টোবর ও নভেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যার “মাসিক আল বাইয়্যিনাত একান্ত ভাবনা” পাঁচ পৃষ্ঠার লেখাটিতে প্রথমেই দেওবন্দীদের সূরে সূর মিলিয়ে বার বার একই বিষয়ের অবতারণা করেছেন। আর তা হলো লক্বব সম্পর্কে।

          কথা হলো, সুন্নী দাবী করেন অথচ আপনাদের শরীর থেকে বর্তমান সময়ের দেওবন্দীদের বদবু আসে। কেননা দেওবন্দীরাই আওলাদুর রসূল রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর লক্ববের সমালোচনা করে। অথচ তাদের এতটুকু ক্ষমতা নেই যে, তারা রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর একটা সুওয়াল-জাওয়াব ও ফতওয়াকে খন্ডন করে?

          লক্বব সম্পর্কে আপনাদের ও বর্তমান সময়ের দেওবন্দীদের বক্তব্য হচ্ছে, “নিজ নামের পূর্বে লক্বব ব্যবহার করা তাকাব্বুরী।”

 এটা আপনাদের ভ্রান্ত ধারণা। অহংকার হচ্ছে, আত্মার অসংখ্য অসৎ গুনাবলীর একটি। আর মানবাত্মার যাবতীয় খারাবী ও সমুদয় বদ খাছলত দূরীভূত না  হওয়া পর্যন্ত কেউ আল্লাহ্ পাক উনার কোরব বা নৈকট্য লাভ করতে পারেনা। কারণ অন্ধকারে যেমন আলো স্থায়ীত্ব লাভ করতে পারেনা তদ্রুপ বদ খাছলতে পরিপূর্ণ আত্মায়ও আল্লাহ্ পাক উনার নূরের তাজাল্লী প্রবেশ করে না।

          সাধারণ মানুষের আত্মা যাবতীয় বদ খাছলত ও ওয়াস্ ওয়াসায় পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু বিশেষ শ্রেণীর লোকেরা এর থেকে নিরাপদ ও হিফাযতে থাকেন।

          যেমন, হাদীস শরীফে সামনা সামনি প্রশংসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। অথচ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আল্লাহ্ পাক উনার তরফ থেকে “ছিদ্দীকে আকবর” বা “চরম সত্যবাদী” লক্ববে ভূষিত করেছেন এবং তিনি আরো বলেছেন, “জান্নাতের সকল দরজা দিয়ে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আহবান করা হবে।” কিন্তু এতে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অন্তরে জাররা পরিমাণ অহংকারও প্রকাশ পায়নি। বরং এ শুভ সংবাদ শুনে তিনি আরো অধিক বিনয়ী হয়েছেন। যেমন, তিনি যদি কোন বৃক্ষের ডালে পাখি দেখতেন তবে বলতেন, “হে পাখি! তুমি কত স্বাধীন, যেখানে-সেখানে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতে পারো। পরকালে তোমার কোনই হিসাব নেই।”

          পবিত্র কুরআনুল কারিম হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আশিদ্দাউ আলাল কুফ্ফার (কাফিরদের প্রতি কঠোর) লক্ববে ভূষিত করেছে। আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে আল ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্য কারী) উপাধী দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, “আমার পরে কেউ যদি নবী হতেন, তাহলে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী হতেন ।” অথচ এত যোগ্যতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন আল্লাহ্ পাক উনার কালামুল্লাহ্ শরীফের কোন ভীতিমূলক আয়াত শ্রবণ করতেন তখন কাঁদতে কাঁদতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বেহুশ হয়ে থাকতেন।

          হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “বেহেশ্তে তাঁর সঙ্গী” বলেছেন এবং তিনি তাঁকে যুলহিজরাতাইন (দুই স্থানে হিজরতকারী) এবং যুন্নূরাইন (দুই নূরের অধিকারী) উপাধিতে ভূষিত করেছেন। কিন্তু এত ফযীলতপূর্ণ ও জলীলুর ক্বদর ছাহাবী হওয়া সত্ত্বেও আখিরাতের চিন্তায় তিনি বিভোর থাকতেন এবং কবরের পাশ দিয়ে গমনকালে চোখের পানিতে তার দাঁড়ী মুবারক ভিজে যেত।

          হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যুদ্ধের ময়দানে তাঁর ডান পার্শ্বে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালাম এবং বাম পার্শ্বে হযরত মিকাঈল আলাইহিস্ সালাম সাহায্যকারী হিসেবে থাকতেন। আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে আসাদুল্লাহ্ (আল্লাহ্ পাক উনার সিংহ) লক্বব দিয়েছেন। কিন্তু হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন নামাযে দন্ডায়মান হতেন তখন আল্লাহ্ পাক উনার ভয়ে তাঁর চেহারা মুবারক হলুদ এবং ফ্যাকাশে হয়ে যেত।

          কাজেই দেখা যাচ্ছে, অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত এবং যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির বেলায় অহংকারের বিষয়টা বিনয়ের ছূরত ধারণ করে। অর্থাৎ অহংকার তার কোন ক্ষতি করতে পারেনা। লক্ববের আলোচনা সম্পর্কে এটাই বিশুদ্ধ মত যে, “লক্বব বা উপাধিসমূহ সাধারণতঃ আল্লাহ্ পাক, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম কর্তৃক প্রদত্ত এবং সমসাময়িক বুযূর্গ আলিমদের দ্বারা স্বীকৃত হয়ে থাকে।”

          যেমন, আল্লাহ্ পাক ও আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদেরকে বিভিন্ন লক্বব দ্বারা সম্বোধন করেছেন। পরবর্তী উম্মতগণের বেলায়ও এটা প্রযোজ্য হবে। যেমন, এমনিভাবে হযরত মনসুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে ভারতবর্ষের লোকেরা “আবুল মুগীছ,” চীনবাসীরা “আবুল মুঈন,” খোরাসানবাসীরা “আবুল মুনীর,” পারস্যবাসীরা “আবু আব্দুল্লাহ্ জাহিদ,” খুজিস্তানবাসীরা “হাল্লাজুল আসবার” লক্ববে ভূষিত করেন। আল্লাহ্ পাক উনার তরফ থেকে হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহিকে “গাউসুল আযম” লক্বব দান করা হয়েছে এবং তার একটি মশহুর ও বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে, “আমার কদম সমস্ত ওলীদের গর্দানের উপর।” (উল্লেখ্য, এটি তাঁর সময়কার অলী আল্লাহ্দের জন্যই প্রযোজ্য) জাহিরী মৌলভীরা উক্ত বক্তব্যকে আত্ম অহমিকা বলে উল্লেখ করে থাকে। কিন্তু হাক্বীক্বত হচ্ছে, এই উক্তি প্রকাশের মধ্যে হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজস্ব কোন জাত সত্ত্বা প্রকাশ করেননি। বরং আল্লাহ্ পাকই তাঁর জবান দিয়ে এ উক্তি করিয়েছেন।

          হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “কুতুবুল হিন্দ” বা “হিন্দুস্তানের কুতুব” বলেছেন।

          হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একশত বার স্বপ্নে দেখেছি এবং তিনি আমাকে “শায়খুস্ সুন্নাহ্” লক্বব দিয়েছেন।”

 হযরত শায়খ ফারুকে সেরহিন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে “আলফে ছানী” লক্বব দিয়েছেন, তাঁরই খলীফা ও মুরীদ পাঞ্জাবের মশহুর আলিম, বুযুর্গ হযরত আব্দুল হাকিম শিয়াল কোটি রহমতুল্লাহি আলাইহি।

          হযরত ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামের পূর্বে “হুজ্জাতুল ইসলাম,” হযরত ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামের পূর্বে “শায়খে আকবর,” হযরত শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামের পূর্বে “ইমামুল হিন্দ,” হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামের পূর্বে “সিরাজুল হিন্দ,” হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামের পূর্বে “আমিরুল মু’মিনীন” মশহুর লক্ববসমূহ সমসাময়িক মুহেব্বীনরাই দিয়েছেন এবং তা আলিমদের দ্বারা স্বীকৃত।

          অনুরূপভাবে মুর্শীদে বরহক্ব ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলার্দু রসূল রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর লক্বব সমূহও মহান আল্লাহ্ পাক, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আউলিয়া-ই-কিরামগণ কর্তৃক প্রদত্ত এবং তাঁর আলিম মুরীদদের দ্বারা প্রদত্ত স্বীকৃত এবং প্রচারিত।

          আপনি লিখেছেন, “রাজারবাগীরা উত্তর দিবেন কি? তাদের পীর ছাহেবের ফতওয়া মতে লক্বব বা উপাধি ব্যবহার আল্লাহ্, রসূল, ছাহাবা ও আউলিয়া-ই-কিরামদের মহান সুন্নাত কিন্তু কথিত পীর ছাহিব নিজের নাম লিখার সময় লক্বব বা উপাধি ব্যবহার তো দূরের কথা মাওলানা শব্দও ব্যবহার করেন না এর দ্বারা তিনি নিজের ফতওয়ার খিলাফ করেছেন কিনা?”

          আপনার খোঁড়া যুক্তি দেখে আমি বিস্ময়ে! হতবাক। শুনেছি আপনি নাকি লিখা-পড়া জানা মৌলভী ছাহিব। এখন দেখছি মুর্খের মত কথা বলছেন, অর্থাৎ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর লিখিত দ্বীনি কিতাবাদি যে আপনি ভাল ভাবে অধ্যায়ন করেন না, আপনার লিখা পড়লেই তা বোঝা যায়।

          ভাল করে দেখুন, “মুসলিম শরীফে” বর্ণিত আছে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমাকে সমস্ত নবীদের উপর শ্রেষ্ট মর্যাদা-মর্তবা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ পাক আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইল্ম দান করেছেন। আল্লাহ্ পাক আমাকে রোভ দিয়েছেন অর্থাৎ আমার নাম মুবারক শুনলে শত্রুরা এক মাসের রাস্তার দূরত্ব থেকে ভয়ে কাপঁতে  থাকে। আল্লাহ্ পাক আমার জন্য গণীমতের মাল হালাল করেছেন। আমার পূর্বে কোন নবীর জন্য, কোন আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালাম-এর জন্য, কোন রসূলের জন্য গণিমত হালাল ছিলনা। আল্লাহ্ পাক সমস্ত যমীনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্র করে দিয়েছেন। আমাকে সমস্ত মাখলুকাতের জন্য নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আমি শুধু নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট ক্বওমের জন্য আসিনি। আমার দ্বারা নুবুওওয়াতের দরজা বন্ধ করা হয়েছে।” তিরমিযী শরীফে বর্ণিত রয়েছে, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি ‘মুহম্মদ’ অর্থাৎ প্রশংসিত। আমি ‘আহ্মদ’ অর্থাৎ চরম প্রশংসাকারী। আমি ‘মাহী’ অর্থাৎ মিটানেওয়ালা। আল্লাহ্ পাক আমার দ্বারা সমস্ত কুফরী, শিরিকী, বিদ্য়াত, মিটিয়ে দিবেন। আমি হলাম ‘হাশীর’। আর্থাৎ সমবেতকারী। ক্বিয়ামতের ময়দানে সমস্ত জ্বীন-ইনসান আমার কদমের নিকট সমবেত হবে। আমি হলাম ‘আক্বীব’ অর্থাৎ শেষ। যার পরে আর কোন নবী হবেননা।” হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম যখন রূহ আর দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় আমি তখনও নবী।”

          আর এই হচ্ছে মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আলীশান মাকাম ও মর্যাদার স্তরের বিবিধ বর্ণনা।”

          এরপর আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিনয় সূলভ আচরণের স্তর সম্পর্কে আলোচনা করছি।

          পবিত্র কুরআন শরীফে “সূরা ক্বাহাফের” ১১০ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “বলুন হে রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি তো তোমাদেরই মত একজন বাশার কিন্তু আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়।”

          ছহীহ্ হাদীস শরীফে রয়েছে, নাবিউল হারামাইন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমাকে হযরত ইউনূছ ইবনে মাত্তা আলাইহিস্ সালাম থেকে উত্তম মনে করা সমীচিন নয়।” অন্যত্র বর্ণিত আছে, “আমাকে অন্যান্য নবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিওনা।” আরো বর্ণিত রয়েছে, “আমি তো আমিনা (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা)-এর সন্তান। তোমরা আমাকে ভয় করো কেন?”

          কাজেই দেখা যাচ্ছে, প্রথম হাদীস শরীফগুলো দ্বারা সরকারে দো’আলম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের মর্যাদা প্রকাশ করেছেন। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কুরআন শরীফের আয়াত শরীফ ও হাদীস শরীফগুলো দ্বারা তিনি নিজেকে চরম বিনয়ী হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

          হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ছীরাত গ্রন্থে উল্লেখ আছে, আল্লাহ্ পাক উনার দরবারে তাঁর রেযা বা মর্যাদা সম্পর্কে তিনি স্বয়ং বলেন, “ক্বিয়ামতের ময়দানে অন্তত একটি লোকও যদি বেহেশ্তে প্রবেশ করে আমি মনে করি আমিই সেই ব্যক্তি।” (সুবহানাল্লাহ)

          অথচ তিনি তাঁর বিনয় সূলভ ভাব প্রকাশ করতেন এভাবে, “হায়! আমার জননী যদি আমাকে জন্ম না দিত অথবা আমি যদি মাতৃগর্ভেই নষ্ট হয়ে যেতাম।”

          হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বর্ণিত আছে, “আল্লাহ্ পাক উনার দরবারে তার অধিক নৈকট্য ও মাকবুলিয়াত এর জন্য তিনি ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে একজন সত্তর বৎসরের অগ্নি উপাসককে জান্নাতের অগ্রিম সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিন্তু তিনি হাদীস শরীফে পড়েছেন, নিহাদ নামক এক ব্যক্তি এক হাজার বৎসর পর জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পাবে। এই হাদীস শরীফ পাঠ করে তিনি বললেন, “হায়! আমি যদি সেই সর্বশেষ লোকটিও হতে পারতাম তাহলেও আমার জন্য কত ভাল ছিল।” এটা হচ্ছে তাঁর নম্রতা ও বিনয় সূলভ আচরণ।

          হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নক্শবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তরীক্বাকে হযরত ছাহাবা আজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-এর তরীক্বার সাথে তুলনা করেছেন এবং সকল মাশায়েখ-ই-কিরাম-এর তরীক্বার চেয়ে শ্রেষ্ঠ তরীক্বা বলেছেন। তিনি আল্লাহ্ পাক উনার বারগাহে তাঁর শ্রেষ্ঠ তরীক্বার মকবুলিয়াত ও বুযূর্গীর নিদর্শন প্রকাশ করেছেন। অথচ তিনি ইন্তিকালের পূর্বে ওসীয়ত করেন, “কেউ যাতে আমার জানাযার খাটের সাথে পবিত্র কালিমা শরীফ না উচ্চারণ করে। আল্লাহ্ পাক উনার দরবারে আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব মিছকীন অবস্থায় উপস্থিত হতে চাই।”

          তদ্রুপ ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আওলাদুর রসূল, হাবীবুল্লাহ্, রাজারবাগ শরীফে হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলীও তাঁর নামের পূর্বে “মাওলানা”, “মুফতি”, “পীর ছাহিব”, “ওলী”, “বুযুর্গ” এইশব্দ গুলো ব্যবহার করেননা, তিনি তাঁর নামের পূর্বে শুধু মাত্র “মুহম্মদ দিল্লুর রহমান” লিখে থাকেন। এমনকি কোন কোন জায়গায় “ফক্বীর, হাকীর, “মুহম্মদ দিল্লুর রহমান” পর্যন্ত লিখা রয়েছে।

          তাঁর কিতাবের বিশাল গ্রন্থাগার যদি কেউ দর্শন করতে চায় তবে সেখানে বহু কিতাবের প্রথমেই দেখতে পাবে তাঁর স্ব-হস্তে লিখিত তাঁর নাম মুবারক নাম মুবারকই উফিয়া আনহু” লিখা রয়েছে। এতদ্বভিন্ন দেশে বহিঃদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যখন তাঁর নিকট ফতওয়া তলব করা হয় তখন তিনি ফতওয়ার জাওয়াব দানে মুফতী শব্দ পর্যন্ত ব্যবহার করেননা। কেবল মাত্র “মুহম্মদ দিল্লুর রহমান” লিখেন। আর এটাই হচ্ছে তাঁর চরম বিনয় ও নম্রতার বহিঃপ্রকাশ।

          কিন্তু তাঁর নামের পূর্বে যে ইমামুল আইম্মা, মুহইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুযাদ্দিদুয্ যামান, লক্বব লাগনো হয় এটা হচ্ছে আল্লাহ্ পাক উনার দরবারে তাঁর উচ্চ মাকাম, শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা-মর্তবা ও অধিক নৈকট্যের অবস্থানের বর্ণনা। তিনি যদি তাঁর জবান মুবারকেও বলেন, “আমি ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, যামানার মুযাদ্দিদ” তাতেও অহংকারের লেশমাত্র প্রকাশ পাবার অবকাশ থাকবেনা। কেননা তাঁর সেই যোগ্যতা, ক্ষমতা রয়েছে বলার।

          জনাব আলাউদ্দীন সাহেব, আপনাদের আকাবিরদের যদি আল্লাহ্ পাক উনার দরবারে সেই যোগ্যতা, মর্যাদা থাকে তবে আপনারাও প্রকাশ করুন। তাতে বাধা-বিপত্তি কোথায়? কিন্তু জানি, পারবেন না। পবিত্র কুরআন শরীফের বাণী হচ্ছে, “আল্লাহ্ পাক যাঁকে ইচ্ছা তাঁকে স্বীয় ফযল-করম, অনুগ্রহ করেন।”

          অতএব, অবুঝের পরিচয় দেয়া হতে বিরত থাকুন। রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী সম্পর্কে সতর্ক হোন। কেননা হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ পাক বলেন, “যে আমার ওলীর বিরুদ্ধাচরণ করে, আমি তাঁর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করি।”

-মুহম্মদ শফিকুল আলম, মতিঝিল, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে