একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,ত,ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে

সংখ্যা: ৯৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

সম্মানিত পাঠক সমাজ! গত সংখ্যা থেকে আমি স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন, ছদ্মবেশি, বহুরূপী স,আ,ত,ম, আলাউদ্দীনের পূর্ণ জালিয়াতী উদ্ভট ও কুরুচিপূর্ণ লিখার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে আসছি। তাই বোধ হয় পরাজিতের গ্লানি শরীরে মেখে সে এখন পাশ কাটিয়ে অন্য প্রসঙ্গ টানছে।

অক্টোবর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় সে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৫২তম সংখ্যার ৪৮ পৃষ্ঠার সম্পাদকীয় কলামে মাননীয় সম্পাদক ছাহেবের এক পৃষ্ঠার সম্পাদকীয় কলামের মাঝখানের এই কয়েকটি লাইন তুলে দিয়েছে, “স্মর্তব্য ইসলামী শরীয়তের উৎস কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা, ক্বিয়াসের শেষ ও চূড়ান্ত কথা একটিই সেটি হল আমল। সকল মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও মুজতাহিদগণ উনাদের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত আমলের বিষয়টিই প্রণিধানযোগ্য হয়ে উঠেছে।”

সম্পাদক ছাহেবের সহজ-সরল বক্তব্যেকে অহেতুক ঘুরিয়ে-পেচিয়ে সমালোচনা শুরু করে দিয়ে সে লিখেছে, “সুপ্রিয় পাঠক! …… আল বাইয়্যিনাত-এর ৫২তম সংখ্যার ৪৮ পৃষ্ঠায় সম্পাদকীয় কলামে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে জালিয়াতিপূর্ণ ও প্রতারণামূরক।”

পাঠক! এবার উপরোক্ত উদ্ধৃতির আলোকেই প্রমাণ করা যাক কারা জালিয়াত এবং প্রতারক। আর কাদের মধ্যে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মনোভাব বিদ্যমান।

আলোচ্য নির্বোধ আলাউদ্দীনের আল বাইয়্যিনাত-এর ৫২তম সংখ্যার উদ্ধৃতির জবাবে বলতে হয়, ৫২তম সংখ্যায় যে সম্পাদকীয়টি লিখা হয়েছে, সেটি ছিল শা’বান মাস ও শব-ই-বরাত সম্পর্কিত। আর শব-ই-বরাতের ফায়দা মূলতঃ ঈমানদাররাই অধিক মাত্রায় লাভ করে থাকে।

আর যে ঈমানদার তার ক্ষেত্রে আমলের বিষয়টিই প্রণিধানযোগ্য। এখানে মুসলমানের ক্ষেত্রে বার বার যদি ঈমানের এবং আক্বীদার প্রসঙ্গই আলোচিত হয় তাহলে আমলের কথা বা অন্যান্য যে ইসলামী শরীয়তী বিধান রয়েছে সেগুলো কখন আলোচনা করা হবে? যেহেতু আলোচ্য উদ্ধৃতির সম্পাদকীয়টি শা’বান মাস ও শব-ই-বরাত সংক্রান্ত আর শব-ই-বরাতের মূল বিষয়ই হচ্ছে আমল।

কেননা এ রাত্রিতে বান্দার এক বৎসরের হায়াত-মউত, রিযিক-দৌলত ইত্যাদির ফায়সালা করা হয়ে থাকে। কাজেই বেশি-বেশি তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া-কালাম, ইবাদত-বন্দেগী তথা আমলের মাধ্যমে বিশুদ্ধ ঈমান ও আক্বীদার পরিপূর্ণতা হাছিলের দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য রাতটি অতিবাহিত করাই মু’মিনের কর্তব্য। আর আমলের গুরুত্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই দিয়েছেন সূরা জারিয়ার মধ্যে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি জিন এবং ইনসানকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।” সূরা মূলক-এর ২নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “যিনি জীবন ও মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে কার আমল ভাল তা পরীক্ষা করার জন্য।” আলোচ্য আয়াত শরীফ হতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, সৃস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে ইবাদত (যারা দ্বারা মহান  আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মারিফত সন্তুষ্টি হাছিল হয়ে থাকে) এবং আমলের পরীক্ষা। অথচ আলাউদ্দিন নিজেই মনগড়াভাবে আমলকে গুরুত্বহীন প্রতীয়মান করার জন্য আক্বীদার দোহাই দিয়ে আমল না করার জন্য আলোচ্য সম্পাদকীয়র উদ্ধৃতির মনগড়া ব্যাখ্যা লিখেছে। কারণ ৫২তম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে আমলের বিষয়কে প্রাধান্য দেয়ায় বে-আমল আলাউদ্দীন ও রেযাখানী গংদের সুন্নীয়তের জারি জুরি জাহির হয়ে গেছে। বিদয়াতী ও মনগড়া আমলের খোলসেই যে তারা নিজেদের সুন্নী সুন্নী বলে গলা ফাটাত তা জনগণের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়েছে। কাজেই আল বাইয়্যিনাত-এর আমলকে গুরুত্বহীন প্রমাণ করে যদি একটু পার পাওয়া যায়, এই হচ্ছে তাদের নব কৌশলের অবতারণা। কাজেই ৫২তম সংখ্যা আল বাইয়্যিনাতে “উদ্দেশ্য ….. ঈমান তথা আক্বীদাকে বাদ দেয়া হয়েছে …..” একথা বলে চক্ষুস্মান পাঠককে ধোকা দেয়া যাবেনা। প্রনিধানযোগ্য যে, কুরআন শরীফ উনার ১১৪টি সূরার প্রতিটিতে কিন্তু একই বিষয় আলোচিত হয়নি। একেক সূরায় একেক বিষয়ের আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। সেক্ষেত্রে আলোচ্য সম্পাদকীয়র ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সে আরো লিখেছে, “আক্বীদার কথা আসলে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়।”

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ঈসা আলাইহিস সালাম জলিলুর ক্বদর রসূল হওয়া সত্ত্বেও নির্বোধকে বোধ দিতে না পারায় আক্ষেপ করেছিলেন।

অন্ধের নিকট আলো-আঁধার, সাদা-কাগজ আর খিলাযুক্ত কাগজ একই রকম অর্থাৎ অন্ধকার বা কালো মালুম হয়। অনুরূপ নির্বোধ আলাউদ্দিীন তার অন্ধত্বের কারণে আল বাইয়্যিনাত-এর বিভিন্ন সংখ্যায় আক্বীদা সংক্রান্ত কোন লিখা দেখতে পায়নি। খোদ ৫২তম সংখ্যার সম্পাদকীয়তেও যেখানে অশুদ্ধ আক্বীদা তথা ছবি তোলা, লংমার্চ করা, কুশ পুত্তলিকা দাহ করা, মৌলবাদ সমর্থন করা, ব্লাসফেমী আইন দাবী করা, হরতাল করা, গণতন্ত্র করা ইত্যাদি ঈমান বিধ্বংসী হারাম কাজগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করে মুসলমানদের ঈমান ও আক্বীদা বিশুদ্ধ করার বিষয়ে লিখা হয়েছে এবং আল বাইয়্যিনাতের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব সংখ্যাই আক্বীদার প্রসঙ্গে বহু লেখা লিখা হলেও নির্বোধ ও অন্ধ আলাউদ্দিন তা দেখতে পায়নি।

জাহিল আলাউদ্দীন যে বিষয়টি এখানে বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি তা লিখার এ পর্যায়ে আলোকপাত করতে হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, ইসলামকে শরীয়ত, ত্বরীকত, হাক্বীকত, মারিফত এই চারটি অনুষঙ্গে আলাদা আলাদা বিভক্ত করলেও সবগুলো মিলিয়েই যেমন আবার শরীয়ত, তেমনি ঈমান, আক্বীদা, ইবাদত, মোয়ামেলাত, মোয়াশেরাত তথা বিভিন্ন আমল এগুলো আলাদা আলাদভাবে হলেও সবগুলো মিলিয়েই আবার আমল। কারণ ছহীহ আক্বীদাও মূলতঃ একটি নেক আমলই বটে, তার বাইরে নয়।

মূলতঃ সম্পাদকীয় নিবন্ধে এখানে আমলের কথাটি প্রসঙ্গতঃ এসেছে। আক্বীদার বিষয়টি তাতে প্রচ্ছন্নভাবে রয়েছে। তা বাদ দেয়া হয়নি কোনমতেই। যেমনটি কিনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মকতুবাত শরীফ উনার মধ্যে ইসলামকে তিনভাগে ভাগ করেছেন। যথাঃ ইরম আমল ও ইখলাছ। উল্লেখ্য এখানেও সুস্পষ্টভাবে আক্বীদার কথা বলা হয়নি। সুতরাং আলাউদ্দীনের বক্তব্যনুযায়ী এটাও কি প্রতারণা ও জালিয়াতী হচ্ছেনা। আর এখানেও কি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাক্বীক্বত জাহির হয়ে পড়েছে। আর পড়লে কি সেটা খারাপ?

বলাবাহুল্য এটাই হচ্ছে রেযাখানী গং তথা আলাউদ্দীনদের সিলসিলাগত খাছলত। বড় বড় ইমাম, যামানার মুজাদ্দিদগণ উনাদেরকে পর্যন্ত তারা অশ্লীল তোহমত দিতে কসূর করেনি। নাউযুবিল্লাহ!

মূলতঃ আক্বীদার কথা আসলে রাজারবাগ শরীফ উনার সাথে সংশ্লিষ্টদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়না বরং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার “জাতি নূরের তৈরি” বলায় আলাউদ্দীনদের নবীতুল্য রেযাখানী গংদের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হয় বটে।

নির্বোধ ও অন্ধ আলাউদ্দীন ওরফে বালাউদ্দীন আরো লিখেছে, “….. মুনাফিক, ওহাবী, খারিজী, রাজারবাগীসহ যত বাতিল ফিরক্বা আছে তাদের আমল আছে তবে আক্বীদা নেই বিধায় তারা বাতিল।

উল্লেখ্য, বালাউদ্দীন তার লিখায় মুনাফিক, ওহাবী, খারিজীর আমলের কথা উল্লেখ করেছে, তবে প্রসঙ্গতঃ বলতে হয়, ওহাবীদের যে আমলের কথা উল্লেখ করেছে, ওদের আমল রয়েছে সেটা মূলতঃ রেযাখানী গংদের মত তথাকথিত সুন্নীদের মত বিদয়াতী আমল। পক্ষান্তরে রাজারবাগ শরীফ উনার আমল রয়েছে যা নির্বোধ ও অন্ধ আলাউদ্দীন ওরফে বালাউদ্দীন স্বীকার করেছে, যেটা অবশ্যই সুন্নতের আমল যা রেযা খানী গংদের পূর্বাপর কারোই ছিলনা এবং বর্তমানেও নেই। সে লিখেছে, “আমল আছে তবে আক্বীদা নেই।” আসলে অন্ধ হওয়ার কারনে আক্বীদার পূর্বে একটা শব্দ বাদ পড়ে গেছে, সেটা হচ্ছে, “…. তবে “কুফরী” আক্বীদা নেই।”

সে আরো লিখেছে, “রাজারবাগী মাযহাবের প্রাণ পুরুষ …. কাছেম নানুতুবী …।”

নির্বোধ ও অন্ধ বালাউদ্দীনের প্রতি চ্যালেঞ্জ থাকল, সে যদি বৈধ পিতার সন্তান হয় তাহলে প্রমাণ করে দেখাক মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর কোন সংখ্যায় বা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি কবে কোথায় মৌঃ কাছেম নানুতুবীকে “প্রাণ পুরুষ” বলেছেন বা “হক্কানী-রব্বানী আলিম” বলেছেন অথবা “মকবুল উম্মত” বলেছেন। যদি বালাউদ্দীন তা না পারে তবে একদিকে হবে কাযিবীন, যাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত, অন্যদিকে কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত দশটি বদগুণের ধারক মুগীরার মত সেও মায়ের অবৈধ সন্তান হিসেবে প্রতীয়মান হবে।

পাঠকবর্গ। এরপর আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৪তম সংখ্যার ১৯০ পৃষ্ঠার উদ্ধিৃতি দিয়ে সে এভাবে লিখেছে, “(প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন) মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে হাবীব! আপনি ঐ সমস্ত লোকদের ছোহবত ইখতিয়ার করুন, যারা সকাল-সন্ধ্যা যিকির-আযকার করে থাকে।” এ মজলিসে প্রকৃতপক্ষে উক্ত আয়াত শরীফ উনারই মিছদাক। বলা হয়েছে, যে আনজুমান করবে এবং করাবে এবং যে এ এ মজলিসের মাধ্যমে আল বাইয়্যিনাত পড়বে এবং পড়াবে তার মাধ্যেমে যত লোক এ কাজ করবে তাদের সকলের সমপরিমাণ ছওয়াব প্রথম পথ দেখানেওয়ালা পারে।”

এ পর্যন্তই বাইয়্যিনাত-এর উদ্ধৃতি তুলে দিয়ে এরপর সে রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে অশ্লীল ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে। মূলতঃ যার চেহারা ও ছূরতই কুৎসিত ও কদাকার সে অপরের মাঝেও তার প্রকৃত চেহারাটি দেখতে পায়।

পাঠক সমাজ! গভীরভাবে ফিকির করুন! রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এ বক্তব্য থেকে দুটি জিনিস সম্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রথমতঃ তিনি পবিত্র কুরআনে কারিমা উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ঐ সমস্ত লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করুন, যারা সকাল সন্ধ্যায় যিকির-আযকার করে থাকে। এ মজলিস প্রকৃতপক্ষে উক্ত আয়াত শরীফ উনার মিছদাক।”

এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আমাদের জানা উচিত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতিটি আয়াত শরীফ উনারই নুযুল খাছ কিন্তু হুকুম আম। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার উপরোক্ত আয়াত শরীফ যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উপলক্ষ্য করে বলা হয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে এর হুকুম উনার আখাসসুল খাছ বা বিশেষ শ্রেণীর উম্মতের বেলায়ও প্রজোয্য হবে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার অধিক নৈকট্যশীল বান্দা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ণ শরীয়ত ও সুন্নতের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসারী জাহিরী-বাতিনী কামালতে পরিপূর্ণ পরবর্তী উম্মতগণ উনাদের বেলায়ও এ আয়াত শরীফ প্রজ্যেয্য হবে। উনাদের ছোহবত, উনাদের মজলিস গুলোও কামালতে মুহম্মদি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মজলিসের প্রতিবিম্বের মত কাজ করবে। কিন্তু তারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত নবী হবেননা; তারা শুধু নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নায়েব বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এই শ্রেণীর কামালতে পরিপূর্ণ আলিমদেরকেই ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া বলা হয়েছে। তাছাড়া পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি মুহসীন বান্দাদের সাথে রয়েছেন।” অন্যত্র বর্ণিত আছে, “ছদিক্বীন বা সত্যবাদীদের অনুসরণ কর।” আরো বলা হয়েছে, “ইতয়াত কর মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল ও উলীল আমর উনাদেরও।” আর এই ছদিক্বীন, মুহসীন ও উলীল আমরগণই হচ্ছেন নবী আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রকৃত ওয়ারিছ।

অতএব, উনাদের ছোহবতে থাকা বা উনাদের মজলিসে বসার অর্থ হচ্ছে, হযরত নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মজলিসে বসা।

পাঠক সমাজ! হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর মজলিসকে “সূরা কাহাফের” ২৮নং আয়াতের মিছদাক বলেছেন এই জন্য যে, প্রতি সপ্তাহের সোমবার রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার মধ্যে আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর উদ্যোগে এক মহতিপূর্ণ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়। আর সেই বরকতময় মাহফিলে বহু দূর-দূরান্ত থেকে আশেকান, ভক্ত ও ছালিকগণ শরীক থাকেন। যিকির-আযকার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল মাসিক আল বাইয়্যিনাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ, মীলাদ শরীফ-মাহফিল সর্বোপরি পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নছীহত ও দোয়ার মাধ্যমে উক্ত মাহফিল সমাপ্ত হয়। আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর একনিষ্ঠ কর্মী ও সেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই ফসল এই মাহফিল। আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত মজলিস-এর মর্দে মুজাহিদ নওজোয়ান, বলিষ্ঠ কর্মীগণ আখিরাতমূখী। তারা দুনিয়া ও উনার মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছুকে তুচ্ছ ভেবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি ও পারলৌকিক কল্যাণের জন্য মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মাধ্যমে মানুষকে হিদায়েত-এর ডাক দিয়ে যাচ্ছেন। উনারা আল্লাহওয়ালা, রাত্রী জাগরণকারী, তাহাজ্জুদ গুজার, সর্বোপরি উনার আল্লাহমুখী। আর এসব নওজোয়ান আল্লাহওয়ালা মুরীদ লোকদের আমল-আখলাক, ছীরত-ছূরত দেখেই হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদেরকে “পবিত্র সূরা কাহাফ উনার” ২৮নং আয়াতের অনুসারী বা মিছদাক বলেছেন। এটা তো সহজ-সরল ভাষা। আর এটা শুধু ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদুর রসূল রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বেলায়ই নয় বরং পৃথিবীর অন্যান্য হক্কানী-রব্বানী, মহান আল্লাহ পাক উনার যে কোন মকবুল ওলী ও উনার মুরীদানদের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে এতে অবাক হবার কিছুই নেই।

তারপর পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, “যে আনজুমান করবে, করাবে, যে এ মজলিসের মাধ্যমে আল বাইয়্যিনাত পড়বে এবং পড়াবে তার মাধ্যমে যত লোক এ কাজ করবে তাদের সকলের সমপরিমাণ ছওয়াব প্রথম পথ দেখানেওয়ালা পাবে।”

হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এই বাণী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঐ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “যে নেক কাজে পথ দেখায় সে ঐ পরিমাণ ছওয়াব পাবে যেমনটি আমল কারী পেয়ে থাকে।”

সুতরাং আনজুমানের নেককার কর্মীগণ যদি মানুষকে আল বাইয়্যিনাত পাঠদানের মাধ্যমে নেক আমল করার ব্যাপারে সহায়তা করে তবে তাদের কথা শুনে যারা নেক আমল করেছে বা করবে তারাও তাদের মত সমমাত্রার ছওয়াবের ভাগীদার হওয়ার কথা।

বালাউদ্দীন লিখেছে, …. “কিন্তু তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে, একমাত্র রেযা খার ফতওয়ায়।” আসলে গাত্রদাহ হওয়ারই কথা, কারণ রেযা খার প্রবৃত্তি। অহর্নিশ বুযুর্গ-ওলী, আওলাদে রসূলগণ উনাদেরকে কুফরী ফতওয়া দিয়ে কাফির সাব্যস্ত করার জন্য খেলায় মত্ত।”

এখানে উল্লেখ্য যে, রাজারবাগ শরীফ উনার মধ্যে হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সূরা ক্বাহাফ এর ২৮নং আয়াত শরীফ উনার মিছদাক এর কথা বলেছেন আর তাতে বালাউদ্দীন তার বিকৃত আলোচনা করেছে। পক্ষান্তরে রেযা খার যে সরাসরি বহু কুফরীমূরক ও আপত্তিকর কথা রয়েছে সেদিকে তার একবারও নজর যায়নি। নি¤েœ রেযা খার দু’চারটি কুফরীর ফিরিস্তি তুলে দেয়া হলো-

“তার পীর ভাইয়ের কবরের খুশবু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওজা শরীফ উনার খুশবুর সমান।”

“রেযাখানের তাযীম করা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাযীম করার মত।”

“মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাজির-নাজির মানা বেদ্বীনি-বদদ্বীনি। সকল জায়গায় উনার উপস্থিতি বেদ্বীনি, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম তিনি হাজির-নাজির, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার জাতের নূর থেকে তৈরি, তিনি যেমার সময় হাজির হয়ে থাকেন।” নাউযুবিল্লাহ!

“নুগমাতুর রূহ কিতাবে তার শাগরিদ বলেছে যে, “তোমার আমার সকলের খোদা আহমদ রেযা খান।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর যদি কেউ নবী হতো তবে কাজী মুহম্মদ আকীল নবী হতো।” নাউযুবিল্লাহ!

মৃত্যুর কিছু সময় আগে আহমদ রেযা খান বলেছে, “আমার মাযহাব, দ্বীনকে শক্ত ও মজবুতভাবে ধরে রাখা সকল ফরযের চেয়ে অধিক ফরয।” নাউযুবিল্লাহ!

এছাড়াও রেযাখানী গংদের নি¤েœাল্লিখিত কিতাবাদীতে ভুরি ভুরি কুফরী ও শিরকী আক্বীদা রয়েছে। যেমন- হাদায়েকে বখশীস, নুগমাতুর রূহ, মালফুজাতে আলা হযরত, হাফতে আকতার, আল জুন্নাতু লি আহলিস সুন্নাহ, হায়াতে আহমদ রেযা খান, ফতওয়ায়ে রিজভীয়া, ফাওয়াদে ফরীদিয়া, জামেউল ফতওয়া, আনোয়ারে শরীয়ত, মাদায়েহ আলা হযরত, তাযকেরায়ে গাউছিয়া, ইরফানে শরীয়ত, মাকাবীসুল মাজালিশ, আনোয়ারে সাতেয়া, ওসায়া ইত্যাদি।

বালাউদ্দীন আরো উল্লেখ করেছে, “কিন্তু যাদের কপালে গোস্তাখে রসূল উনার তিলক চিহ্ন আছে, ….. তারা (রেযা খানকে) কামিল ঈমানদার কী কদর করবে?”

পাঠক! এবার আপনারাই বলুন, উপরোক্ত কুফরী আক্বীদার আলোকে আহমক রেযা খা ও তার গংকে কী কদর করা যায়? তবে হ্যাঁ, হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাকে কুফরী ফতওয়া দিয়ে নিজেই যখন কুফরীতে পূর্ণরূপে নিমজ্জিত হয়েছে তখন তাকে আবু জাহিল, আবু লাহাব, ওতবা, শায়বা, মুগীরার সমগোত্রীয় হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, আর যদি আরো অধিক কদর প্রত্যাশী হয় তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার ভাষায়, “বালহুম আদল” রূপে মূল্যায়ন করা যায় বৈকি!

পাঠক সমাজ! এরপর বালাউদ্দীন মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১২, ১৩, ১৪, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ৪৪, ৪৭, ৪৮, ৫০, ৫৭, ৭৩, ৮২ ও ৯৪তম সংখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে দেওবন্দীদের সূরে সূর মিলিয়ে লক্ববের সমালোচনা করেছে। মূলতঃ এ বিষয়ের উপর নামধারী সুন্নীদের নিজস্ব কিছুই নেই। সবই দেওবন্দীদের থেকে ধার করা বাসি উক্তি।

নামধারী সুন্নীরা সারাজীবন যে দেওবন্দীদের কাফির ফতওয়া দিয়ে আসছে আজকে তাদেরই পা চাটা কুকুর হয়ে তাদেরই সূরে সূর মিলাচ্ছে।

এই সমস্ত নাদানদের জানা উচিৎ যে, বর্তমান যামানায় আসমানের নীচে যমীনের মধ্যে ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিলায়েতের উজ্জল রশ্মী মাশরিক থেকে মাগরিব, শিমাল থেকে জুনুব পর্যন্ত বিস্তৃত। যমীনে, মরুভুমিতে, পর্বতের গুহায়, জঙ্গলে, শহরে-গঞ্জে, বন্দরে, গ্রামে যত কুতুব, আবদাল, আওতাদ, নাজীব, নোকাবা রয়েছে, সবাই উনার উছীলায় ফয়েজ প্রাপ্ত।

তিনি হযরত নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নায়েব হিসেবে যমীনে উনার দ্বীনের খিদমতের আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে উনার দামান স্পর্শ করা ও উনার তরীক্বায় দাখিল হওয়া সৌভাগ্যের কারণ। তিনি এ শতাব্দীর মূল মুজাদ্দিদ। কিয়ামত পর্যন্ত উনার আকরাবিয়াত ও কুতুবিয়াত বলবৎ থাকবে। শত্রু, মিত্র নির্বিশেষে সকলেই উনার বিলায়েতের ছত্রছায়ায় বসবাস করছে। এমনকি তাদের খাদ্য, দানা-পানিও উনারই উছীলায় মিলছে। চাই এটা কেউ বিশ্বাস করুক অথবা নাই করুক; তিনি মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে খোশ-খবরী প্রাপ্ত। এমনকি তার বিলায়েত ও খিলাফত ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে স্বীকৃত প্রাপ্ত। কাজেই হাল যামানায় উনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ও উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মহান আল্লাহ পাক উনার গযবে পতিত হওয়া ও ঈমান বরবাদী হওয়ার লক্ষণ।

কারো যদি অন্তঃচক্ষু খোলা থাকে তবে সে যেন দেখে নেয় মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবারে ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কি মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে।

সম্মানিত পাঠক সমাজ! এই বালাউদ্দীন লিখেছে, “আল বাইয়্যিনাতের প্রতি সংখ্যায় আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত সংবাদ কলামে সারা বাংলাদেশে তার সফরের যে তালিকা প্রকাশ করা হয় এর বহর দেখলে বুঝা যায় এর পিছনে টাকার যোগানদাতা বাইরের কেউ আছে। অথবা পীরালীর নামে সারা দেশে ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। না হয় একজন পীরের কাছে কোটি টাকা সঞ্চিত থাকার কথা নয়।”

এর জবাবে প্রথমে কুরআন শরীফ উনার একটি আয়াত শরীফ বলতে হয়। আর তা হচ্ছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে বেহিসাব রিযিক দিয়ে থাকেন।” কিন্তু বালাউদ্দীনের বক্তব্যের সার কথা হচ্ছে, ওলী, বুযুর্গ, পীর-দরবেশরা থাকবে বেশ-ভুষাহীন ফকীর-মিসকীনদের মত অপরের মোহতাজ। কিন্তু সে ভুলে গেছে সত্যিকার পীর-দরবেশদের নিকট মাটির ঢেলা আর স্বর্ণের টুকরার মধ্যে কোন বিশেষত্ব নেই। কোন বুযুর্গের যখন সত্যিকার বিলায়েত হাছিল হয়ে যায় তখন তার নিকট সমস্ত আসমান-যমীনের রহস্য উদঘাটিত হয়ে যায়। আর রিযিক তখন তার পিছনে পিছনে দৌঁড়াতে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ বলঅ যেতে পারে, বিলায়েত স¤্রাট হযরত গাউসুল আযম শায়খ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা। একদা উনার প্রতি ইলহাম হলো, “হে আব্দুল ক্বাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনার প্রতি আমার যে হক্ব রয়েছে তার শপথ দিয়ে বলছি আপনি এমন কাপড়ের একটি জামা পরিধান করুন যার প্রতি গজের মূল্য এক দীনার।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি সে যামানায়ই কোটি কোটি টাকার মাীলক ছিলেন। হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাগদাদের কত আলিমকে যে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। স্বয়ং উনার অর্থে প্রতিপালিত হয়েছেন ফক্বীহ শ্রেষ্ঠ ইমাম, হযরত আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

মশহুর বুযুর্গ আব্দুল্লাহ ইবনে আমের রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বর্ণিত আছে, “তিনি সে যামানায় নব্বই হাজার টাকার বিনিময়ে একটি বাড়ি খরীদ করেছিলেন।’ একদা মুহম্মদ ইবনে ওব্বাদ মহাল্লেবীর পিতা জনসাধারণে মাঝে এক লক্ষ দিরহাম বন্টন করলেন। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মাঝে হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম, হযরত জয়নব আলাইহাস সালাম, হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা কোটি কোটি টাকার মালিক ছিলেন।

হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের বাণিজ্য কাফিলা যখন সিরিয়া থেকে মদীনা শরীফ উনার মধ্যে প্রত্যাবর্তন করতো তখন সমগ্র পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে খুশির ঢল নামতো।

বিশিষ্ট বেলায়েতধারী পীর-বুযুর্গ উনাদের মধ্যে হযরত শায়খ আব্দুল ক্বাদীর জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত উবায়দুল্লাহ আহরার রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল খালেক গজদেওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ মুরসাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমের রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত লাইস বিন সাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমূখ বুযুর্গগণ প্রচুর অর্থের মালিক ছিলেন। যদিও হাজার বছর বা শত শত বছর হতে চলেছে তথাপিও আজ পর্যন্ত এ সমস্ত বুযুর্গদের কারো কারো লঙ্গরখানা এখন পর্যন্ত চালু আছে। যদি উনাদের নিকট কোন দীনার-দিরহাম না থাকতো তাতেও উনাদের কোন অসুবিধা ছিলনা। কারণ যারা মুর্দাকে জিন্দা করার শক্তি রাখেন আর মাটির ঢেলাকে স্বর্ণে পরিণত করতে পারেন তাদের নিশ্চয়ই টাকা-পয়সার অভাব থাকার কথা নয়।

কাজেই এ বিস্তৃত লিখা থেকে বালাউদ্দীনের বুঝে নেয়া উচিত সারা বাংলাদেশে রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যে মাহফিল করে থাকেন আর তাতে যে অঢেল টাকা-পয়সা খরচ হয় তার যোগান দাতা কে? একটু গভীরভাবে ফিকির করলেই এর জবাব আপনা থেকেই বেরিয়ে আসবে। বুদ্ধিমান হলে ইশারাই যথেষ্ট।

-মুহম্মদ শফিকুল আলম, মতিঝিল, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে