লাদেন ও তালেবানকে নিয়ে এদেশের তথাকথিত ইসলাম দরদী রাজনৈতিক দলগুলো যে মাতামাতি করেছিল এখন ওরা দিক-নিশানা হারিয়ে ফেলেছে। লাদেন আর তালেবানের কথায় ওরা যে গণজমায়েত, জঙ্গি মিছিল আর টাকা-পয়সা আদায়ের কর্মসূচী নিয়েছিল এক্ষণে এর মূলই ম্লান হয়ে গেছে। “লাদেন আর তালেবানকে নিয়ে আর লেখালেখি অনর্থক’ অনেকের এ মন্তব্যের পরও নসীহত পেশের জন্য কিছু বলতে হয়। কথা হল আমাদের তথাকথিত উলামারা এভাবে আর কতকাল কোন কিছু হলেই ব্যাঙের মত লম্ফ-ঝম্ফ দেখিয়ে জাতীয় জনমতকে বিপথে ঠেলে দিবে? অন্তত শুরুটা না বুঝে করলেও পত্র-পত্রিকার খবরেও তো তারা হুশিয়ার হতে পারত। কিন্তু দুঃজনক হলেও সত্য যে, এত বিলম্বেও তাদের সামান্যতম বোধোদয় হয়নি। সুতরাং তাদের বিলম্বিত বোধোদয়ের জন্য হলেও নিম্নোক্ত আলোচনার অবকাশ পাওয়া গেল।
গোটা তালেবান যে সি.আই. এ-এর এজেন্ট তার প্রমাণ বহু। আমেরিকাকে আফগানিস্তান আক্রমনের সুযোগ করে দেয় তালেবান। তালেবান গং গোটা আফগানিদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব না নিয়ে, তাদের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে, আগলে রাখতে চেয়েছে ওসামাকে। অথচ ওসামা তাদের নাগরিক নয়। কিন্তু ওসামাকে উপলক্ষ্য করে আমেরিকা যখন তার আক্রমণ শুরু করে তখন একেবারে অনাগ্রহ ও নিশ্চুপ থাকে তালেবান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর করার জন্য ৩ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল এবং তাকে হস্তান্তর করা না হলে আফগানিস্তানে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছিল। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল। পাকিস্তানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবী নিয়ে কাবুলে গিয়েছিল। সম্ভাব্য হামলার আশংকায় হাজার হাজার আফগান উদ্বাস্তু শহর ছেড়েছিল। ওদিকে ইরান আফগান উদ্বাস্তু আগমন ঠেকাতে তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩ দিনের মধ্যে ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তরের জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিল, তা না হলে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানো হবে।
ওসামা বিন লাদেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত তালেবান রাষ্ট্রদূত আব্দুস সালাম জায়ীফ এ কথা ঘোষণা করেছিল। তবে তারা এখন কোথায় আছে বা কোথায় যাচ্ছে- এ সম্পর্কে তালেবানও লাদেন কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না বলে পাকিস্তানের চমন সীমান্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জায়ীফ জানিয়েছিল।
মন্তব্যঃ তালেবান যদি লাদেনের ব্যাপারে এরূপ অনাগ্রহ আগে দেখাত তবে আমেরিকা মোটেই আক্রমণের সুযোগ পেতনা। আক্রমণে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত হওয়ার পর লাদেনের ব্যাপারে তালেবানের অনাগ্রহ সম্পূর্ণ রহস্যজনক।
ইসলামের বিধি মুতাবিক জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করলে কোনদিন তার তওবা কবুল হয়না। আর এ ঘৃণ্য অপরাধেই জর্জরিত হয়েছে ওসামা, মোল্লা ওমর ও তালেবান। গোটা মুসলিম বিশ্বকে আমেরিকার আক্রমণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়ার জন্য জিহাদ ঘোষণা করেছিলো ওসামা আর মোল্লা ওমর। তবে পাকিস্তানের পারমাণবিক চুল্লী ধ্বংস এ মুহুর্তে আমেরিকার বড়ই খাহেশের বিষয় বলে সে বিশেষভাবে পাকিস্তানী মুসলমানদের প্রতি জোরদার আহবান করেছে।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)