খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৭)

সংখ্যা: ৩০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

পূর্ব প্রকাশিতের পর

এখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেছেন যে, আমরা পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করতাম পুরুষদেরকে সরিয়ে দিয়ে। যাতে কোন রকম পর্দার খেলাফ না হয়। এ বিষয়গুলি কিন্তু পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে। এখন মুসলমানরা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ফিকির করে না, যার জন্য তারা এই হারামে মশগুল হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই হজ্জ সম্পাদন করা ফরয, জীবনে একবার। যখন তার উপর ফরয হবে। আর ফরয হওয়ার যে শর্তগুলি সেগুলি তাকে ভালো করে জানতে হবে। জেনে সেটা যথাযথ পালন করতে হবে। এখন হজ্জ ফরয হলো সে পালন করলো না, সে গুনাহগার হলো। এখন হজ্জ ফরযের শর্তটা কি? এখন একটা লোকের নামায পড়া ফরয বালেগ-বালেগা। এখন ওয়াক্ত হওয়ায় সে নামায পড়লো, তাহলেতো হবে না। তাকে অযূ করতে হবে। অযূ করাতো ফরয। অযূ ছাড়া সে যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে সেতো কাফির হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! অযূ ছাড়া নামায পড়লো, কাফির হবে। অযূ করা ফরয ছিলো সেতো অযূ করলো না, তাহলে কি হলো? এখন হজ্জেতো ছবি তোলা হারাম ছিলো। সে ছবি তুলে হজ্জ করলো, তাহলে কি হবে এখন? হজ্জতো হবেই না বরং ছবিকে জায়িয মনে করলে সেতো কাফির হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! বিষয়গুলি ফিকির করতে হবে। এটা প্রত্যেক মুসলমানকে ফিকির করতে হবে।

ফিকির করে মুসলমানের দায়িত্ব কর্তব্য হবে, মুসলমান যে দেশে সে থাকে সে সরকারকে বলতে হবে। এবং পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের যে সরকার রয়েছে তাদেরকে বলতে হবে, তোমাদের দেশে আমরা হজ্জ করতে আসবো তুমি আমার বা আমাদের ছবি তুলতে পারবে না। এখন তুমি যদি ছবি তোলার ব্যবস্থা এটা দূর না করো, ছবি তোলা বন্ধ না করো তাহলে তুমি কিন্তু গুনাহগার হবে। এটা মনে রাখতে হবে। সেখানে যাওয়া যাবে না। হজ্জতো তোমার ফরয হবে না যেহেতু সে জালিম বাদশা। জালিম বাদশা থাকলে হজ্জ ফরয হয় না। অসুস্থ হলে যেমন হজ্জ ফরয হয় না, রাস্তায় বাধা থাকলে যেমন হজ্জ ফরয হয় না, ঠিক যালিম বাদশা থাকলেও হজ্জ ফরয হয় না। একইভাবে যেটা বলা হচ্ছে, অশ্লীল-অশালীন কাজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে হজ্জ ফরয হয় না। নাফরমানীমূলক কোন কাজ করার সম্ভাবনা থাকলে হজ্জ ফরয হয় না। আবার ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি, কাটাকাটি করার সম্ভবনা থাকলেও হজ্জ ফরয হয় না।

আমরা অনেক বার বলেছি যে, একজন মহিলা সারা পৃথিবীর মালিক হওয়ার পরেও তার যদি মাহরাম না থাকে, আহাল অথবা সৎচরিত্রবান মাহরাম, শুধু মাহরাম না, সৎচরিত্রবান মাহরাম না থাকে তার হজ্জ ফরয হয় না। সাকেত হওয়ারতো প্রশ্নই হয় না, কারণ হজ্জই তো ফরয হচ্ছে না। ফরয হলে তারপর সাকেত হওয়ার প্রশ্ন। এখানে হজ্জই ফরয হচ্ছে না। তাহলে হজ্জ করবে কি করে? বিষয়টা ফিকির করতে হবে। এই সূক্ষ্ম মাসয়ালা উলামায়ে সূরা না বুঝার কারণে এরা আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে থাকে, আমরা নাকি বলে থাকি, হজ্জ করার দরকার নেই। নাউযুবিল্লাহ! হজ্জ করাতো ফরয। এখন উলামায়ে সূরা মূর্খ হওয়ার কারণে ইলিম-কালাম না থাকার কারণে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ না বুঝার কারণে এরা এই এলোমেলো বিভ্রান্তিমূলক ফতওয়া দিয়ে থাকে। কাজেই বিষয়টা ফিকির করতে হবে।

মুসলমানদের জন্য হজ্জ করা ফরয। আর ব্যবস্থা যদি না থাকে তাহলেতো ফরযই হবে না। এ বিষয়টা ফিকির করতে হবে। একজন মুসলমানের জন্য একদিক থেকে হালাল খাদ্য খাওয়া, হালাল টাকা-পয়সা হওয়া আবার পুরুষ মহিলাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা থাকা। আবার হারাম থেকে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা থাকা। ছবি তোলা হচ্ছে হারামে মশগুল হওয়া। এ বিষয়টাও ফিকির করতে হবে। তখন তার জন্য হজ্জ ফরয হবে তখন হজ্জ করতে হবে। অন্যথায় কিন্তু হজ্জই ফরয হচ্ছে না। হজ্জের যে শর্ত, সে শর্ত পুরণ না হলে হজ্জই ফরয হচ্ছে না। একটা লোক অযূ করতে না পারলে তার তায়াম্মুম করা শর্ত হয়। পাক হতেই হবে। পাক-সাফ না হলে সে নামায পড়তে পারবে না। অযূ করবে পানি থাকলে, পানি না থাকলে তায়াম্মুম করতে হবে। এখন একটা লোক অযূ- তায়াম্মুম ছাড়াই সে নামায পড়া শুরু করলো তাহলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। এটা কুফরী হবে। কাজেই এ বিষয়টা বুঝতে হবে। এবং শরীয়তের হুকুম-আহকাম, মাসয়ালা-মাসায়েল না জানার কারণে, মানুষের মুর্খতার কারণে তারা ফিতনাগ্রস্থ হয়, ঈমানহারা হয়, ফিতনাগ্রস্থ হয়, বিভ্রান্ত হয়, লা’নতগ্রস্থ হয়। নাউযুবিল্লাহ! বিষয়টা ফিকির করতে হবে। কাজেই হজ্জ করতে হলে তার যে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলি সেটা পুরা হতে হবে। তখন তার জন্য হজ্জ ফরয হবে। তখন যদি সে না করে তাহলে সে কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। সে কাফির মুশরিক হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব তিনি উনার কালাম কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে, আর যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হজ্জ এবং উমরার বিষয়ে বান্দা-বান্দি, উম্মতদের জন্য বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, বর্ণনা করেছেন, উল্লেখ করেছেন। যে বিষয়গুলি বান্দা-বান্দি উম্মতদের জন্য জানা ফরয ওয়াজিবের অন্তুর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَأَتِمُّواْ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّٰهِ

 তোমরা হজ্জ এবং উমরা মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব উনার সন্তুষ্টি রেজামন্দি হাছিলের লক্ষ্যে আদায় করো, সম্পাদন করো। আরো মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন-

وَلِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَـيْتِ

মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য মানুষের প্রতি হজ্জকে ফরয করা হয়েছে।

مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا

 পথ এবং এর পাথেয় এর সংশ্লিষ্ট সমস্ত কিছু রয়েছে, তাদের জন্য।

وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ الله غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ

যারা এটা অস্বীকার করবে তারা যেন, জেনে রাখে। এটা মহান আল্লাহ পাক যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব তিনি হচ্ছেন বেনিয়াজ, ছমাদ। তিনি কারো ইবাদত বা আমল ইত্যাদির মুখাপেক্ষী নন। (অসমাপ্ত)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা সম্পর্কে

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ