নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা সম্পর্কে

সংখ্যা: ০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সঙ্কলিত

পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ ও পবিত্রতম বিছাল শরীফ। অর্থাৎ একই তারিখে ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ায় আগমন করেন এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সানা সিফাত যদি সমস্ত মাখলুকাত কিয়ামত পর্যন্ত করতে থাকে তারপরও শেষ হবে না। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এবং অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা ছিফত বা মর্যাদা মর্তবা সম্বন্ধে বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,

الم نشرح لك صدرك (১) ووضعنا عنك وزك (২)  الذى انقض ظهرك (৩) ورفقنالك ذكرك(৪)

“আমি কি আপনার ছিনা মুবারক প্রসারিত করি নাই? আমি আপনার বোঝা হালকা করেছি। যা আপনাকে ভারাক্রান্ত করেছিল। আমি আপনার আলোচনা (জিকির) কে সমুচ্চ বা বুলন্দ করেছি।” এ সম্পর্কে বলা যায় যে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন কোন জিন, ইনসান, নবী বা রসূল আগমন করেন নাই এবং করবেন না যার শরহে সুদুর অর্থাৎ সিনা মুবারক চাক করা হয়েছে। এটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এক খাছ মর্তবা।

মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক চারবার চাক করা হয়। প্রথমবার করা হয় যখন বয়স মুবারক প্রায় পাঁচ বছর, আবার যখন প্রায় তের থেকে চৌদ্দ বছর বয়স মুবারক তখন দ্বিতীয়বার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছিনা চাক করা হয়। তুতীয়বার নবুওতের পূর্বে বয়স মুবারক যখন চল্লিশ আর শেষবার মে’রাজ শরীফ উনার পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছিনা মুবারক চাক করা হয়।

ছিনা চাকের ব্যাখ্যা সম্পর্কে কোন কোন কিতাবে বর্ণনা করা হয়, বাল্যকালে যখন পাঁচ বছর বয়স তখন ছিনা মুবারক চাক করা হয়েছিল তার দ্বারা শিশুসুলভ আচরণ বের করে ফেলা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার কিশোরসুলভ আচরণ বের করা হয়েছিল। মূলত কোন কিছু বের করা নয় বরং কিছু নিয়ামত প্রবেশ করানো। নবুওতের পূর্বে নবুওতকে বহন করার জন্য কিছু নিয়ামত প্রবেশ করানো হয়েছে আর মে’রাজ শরীফ উনার পূর্বে মিরাজ শরীফ অনুধাবন করার জন্য মহান আল্লাহ পাক কিছু নিয়ামত প্রবেশ করিয়েছেন। এখন ছিনা চাক না করে কি এগুলো প্রবেশ করানো যেতো না, অবশ্যই যেতো। ছিনা চাক করা বা নবুওত বহন বা মে’রাজ শরীফ অনুধাবন করাও মূল বিষয় নয় বরং মূল বিষয় হলো মহান আল্লাহ পাক, মহান আল্লাহ পাক  উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মর্যাদা দান করবেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক উনার মাথার চুল মুবারক থেকে পায়ের তালু মুবারক পর্যন্ত এমন কিছু ছিলনা যেটা ফেলে দেয়ার মত যা নাপাক বা অপছন্দনীয়। দুররুল মুখতর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পেশাব মুবারক এবং পায়খান মুবারক দুটোই পবিত্র ছিল।

একটা ওয়াকিয়া উল্লেখ করা যায়। একবার একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি গামলা দিয়েছিলেন, সেই গামলায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পেশাব মুবারক ছিল। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ থাকার কারণে বাইরে যেতে পারেন নি। সেজন্য তিনি এক পাত্রের মধ্যে ইস্তিঞ্জা করেন এবং সকাল বেলা একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন “দেখ এই পাত্রটা নিয়ে এমন এক জায়গায় ফেলবে যেই স্থানের উপর দিয়ে মানুষ হাঁটাহাঁটি করে না। যদি কেউ মাড়ায় তাহলে অবশ্যই তার ঈমানের ঘাটতি হবে এবং তার ক্ষতি হবে।” সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন এবং বুঝতে পেরে সেটা নিয়ে রওয়ানা হলেন। অনেক দূর চলে গেলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে আশে পাশে কোন লোক আছে কিনা। দেখা গেল কোন লোকজন দেখা যায় না। উনি এক জায়গায় সেটা রাখলেন এবং রেখে চলে আসলেন। আসার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি সেটা কোথায় রাখলে”? জবাবে ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা আমি এমন এক জায়গায় রেখেছি যা কিয়ামত পর্যন্ত কেউ মাড়াতে পারবেনা।” তিনি যখন কথা বলছিলেন তখন উনার মুখ দিয়ে সুঘ্রান বের হচ্ছিল। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি তুমি কি সেটা পান করে ফেলেছ? তোমার মুখ দিয়ে সুঘ্রান বের হচ্ছে।” তখন সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হ্যাঁ আমি সেটা পান করে ফেলেছি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে গেল।” সুবহানাল্লাহ!

তাই ফিকিরের বিষয় যে মহান আল্লাহ পাক  উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটুকু মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চল্লিশ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে নবুওত লাভ করেছেন।

عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قالوايا رسول الله متى وجبت لك النبوة قال وادم بين الر وح والجسد (تر مدى مشكوة(

قال النبى صلى الله عليه وسلم كنت نبيا وادم بين الماء والتين (حديث(

হযরত আবূ হুরাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, “হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কখন আপনার জন্য নবুওত ওয়াজিব হল?” অর্থাৎ কখন থেকে আপনি নবী? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তখনও নবী যখন হযরত আদম আলাইহি ওয়া সালাম রূহ ও শরীরের মধ্যে।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)। অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি তখনও নবী যখন হযরত আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি ও মাটির মধ্যে।” আমি সৃষ্টিই হয়েছি নবী হিসেবে।

كنت كنزر مخفيافا حببت ان اعف فخيلقت الخلق الاعف (حديث(

পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে মহান আল্লাহ পাক বলেন, “আমি গুপ্ত ধনভাণ্ডার ছিলাম, যখন আমার মুহব্বত হল যে আমি প্রকাশ হই, তখন আমি আমার পরিচয়ের জন্য মাখলুক সৃষ্টি করলাম।”

তখন থেকেই মহান আল্লাহ পাক সৃষ্টির সূচনা করলেন। মূলত দেখা যায় মূল জিনিস হল মুহব্বত। মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হওয়ার কারণেই মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন। সেজন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন,

قال النبى صلى الله عليه وسلم لى خمسة اسما انا محمد وانا احمد وانا الماحى الدى يمحوا الله بى الكفر وانا الماحى الذى يحشر الناس على. قدمحى وانا العاقب (البخارى) الذى تعده النبى (ترمذى(

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (খাছ করে) আমার পাঁচটি নাম আছে-

১। আমি মুহম্মদ অর্থাৎ প্রশংসিত।

২। আমি আহমদ অর্থাৎ চরম প্রশংসিত।

৩। আমি মাহী অর্থাৎ মিটানো ওয়ালা। মহান আল্লাহ পাক আমার দ্বারা সমস্ত কুফরী, শিরিকী, বেদাতি মিটিয়ে দিবেন মহান আল্লাহ পাক উনার জমীন থেকে।

৪। আমি হলাম হাশির অর্থাৎ জমা করণেওয়ালা। অর্থাৎ কিয়ামতের ময়দানে সমস্ত জিন, ইনসান, আমার কদমের নিকট জমা হবে।

৫। আমি হলাম আকীব অর্থাৎ শেষ। যার পরে আর কোন নবীর আগমন হবে না।

মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহম্মদ নাম দিয়েছেন, আহমদ নাম দিয়েছেন। মূলত মুহম্মদ নাম প্রশংসিত। প্রশংসিত কে হয়? যিনি পছন্দনীয়, তাকেই প্রশংসা করা হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল পছন্দনীয় অর্থাৎ মাহবুব এবং মাশুকও বলা হয়। যদিও মূলত মহান আল্লাহ পাকই মাশুক তবে মখলুক হিসাবে এবং মখলুকাতের মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার মাশুক। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক মর্যাদা দিয়েছেন, মর্তবা দিয়েছেন, সৃষ্টির শুরু থেকে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন,

اول ما خلق الله نوى (حديث(

মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রথমে আমার নূর তৈরী করেছেন। মূলত সৃষ্টির সূচনা এভাবেই হয়। আর মর্যাদা, মর্তবা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূলকে তৈরী করেছেন যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নবুওত প্রাপ্তি ঘটে চল্লিশ বছর বয়সে। এবং অন্যান্য মর্যাদাগুলিও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রথম থেকেই দেয়া হয়েছে। সেজন্য বলা হয় انبى نبياولو كان صبيا

“নবী নবীই যদিও তিনি শিশু হন না কেন।”

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলেছেন,

ورفعنا لك ذكرك.

আমি আপনার যিকির উনাকে বুলন্দ করেছি। কতটুকু বুলন্দ করেছেন মহান আল্লাহ পাক, এক কথায়ই বলা যায় আমরা যে কালিমা শরীফ পাঠ করি,

الااله الا الله محمد رسول الله.

মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উনার সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সংযুক্ত। কোন লোক যদি লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু বলে তাহলে সে মুসলমান হবে না, সে ঈমানদার হবে না, সে চির জাহান্নামী, যতক্ষন পর্যন্ত না সে মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবে। অর্থাৎ যতক্ষন পর্যন্ত সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মেনে না নিবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুসলমান হতে পারবে না। সে নাজাত পাবে না, সে জান্নাতে যাবে না, সে জাহান্নামী হবে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারককে ঈমানের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। নামায হোক, আযান হোক, সকল স্থানে আল্লাহ পাক উনার নামের সাথে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক যুক্ত আছে। ইসলামের যত প্রকার কাজ আছে, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, প্রত্যেকটা কাজে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ ব্যতীত সম্ভব নয়।

এখন চিন্তা ফিকির করতে হবে যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটুকু ফযীলত ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করেছেন,

واذ قال ادم ياربى اغفر لى بحف محمد صلى الله عليه وسلم قال كيف عقت محمدا قال لائك لما خلقتنى بيدك ونفخت فى ن ر وحك رفعت رأسى فرأبت على قوام الع شمكتو با لا اله الا الله محمدر سول الله فعلمت ائك لم تضف الى اسمك الااحب الخ لق اليك قال صدقت يا ادم ولو لا محمد ما خلقتك (رواه حاكم(

হযরত আদম আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করলেন, “হে মহান আল্লাহ পাক আমাকে ক্ষমা করেন হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছিলায়।” মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম আপনি কিভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিচয় পেলেন।” তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বললেন, “মহান আল্লাহ পাক আপনি যখন আমাকে কুদরতি হাত মুবারক দ্বারা তৈরী করলেন এবং আমার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন তখন আমি আমার মাথা উপরের দিকে উত্তোলন করলাম। অতঃপর দেখলাম আরশের খুঁটির মধ্যে লেখা ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি বুঝতে পারলাম নিশ্চয়ই আপনার নাম মুবারকের সাথে যার নাম মুবারক সংযুক্ত তিনি সাধারণ ব্যক্তি নন, আপনার খাছ মুহব্বতের ব্যক্তি হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “হে হযরত আদম আলাইহি ওয়া সালাম আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমি যদি আমার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি না করতাম তবে আপনপাকেও আমি সৃষ্টি করতাম না।” বেহেশতের পাতায় পাতায়, গাছের কাণ্ডে কাণ্ডে হুর গেলমানের কপালে সব জায়গায় লেখা আছে ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আছে যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اناارسلنك شاهداو مبسرأ وئذير (৮) لتؤ منو ا بالله ورسوله وتعزروه وت وقر ط وتسبحوه يكرة واصيلا  (৯) )القتح(

“আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীদাতা হিসেবে, ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে, সুসংবাদদাতা হিসেবে যেন মানুষ ঈমান আনে মহান আল্লাহ পাক এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। আর আপনাকে যেন সাহায্য করে, সম্মান করে এবং সকাল-সন্ধ্যা যিকির করে।” এখানে উল্লেখ যে মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মান করতে বলেছেন, সাহায্য করতে বলেছেন। তবে বান্দা কি করে সাহায্য করবে? যেমন একটা ওয়াকিয়া উল্লেখ করা হয়।

হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পরবর্তী সময় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন যদিও তিনি আবু জেহেলের ছেলে ছিলেন। একবার (আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তখনও মুসলমান হননি বা ইসলাম গ্রহণ করেনি) একটা আইন করা হলো কোন ব্যক্তি যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক প্রকাশ করে বা সম্পর্ক স্থাপন করে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তার কিছুদিন পর দেখা গেলো এই হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তখনও তিনি মুসলমান হননি) রাস্তার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মুয়ানাকা করলেন বা কোলাকুলি করলেন মুহব্বতের সাথে। কুরাইশরা এটা দেখে ফেললো। তখন কুরাইশরা আকরামাকে লক্ষ্য করে বললো, হে আলকামা আপনি তো আমাদের সরদারের ছেলে আপনারা যে আইন করেছেন, কোন ব্যক্তি যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বা মুহব্বত স্থাপন করে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি নিজে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোলাকুলি বা মুয়ানাকা করলেন। এখন নিশ্চয়ই আপনাদের আইন মুতাবেক আপনার শাস্তি হওয়া উচিৎ। তখন আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, সত্যি, আমি সরদার বা সরদারের ছেলে হয়েছি তাতে কি, আমার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তোমরা তা বাস্তবায়িত কর। আমার এটা ভুল হয়ে গেছে। তখন আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কিভাবে শাস্তি নিবেন। তিনি বললেন, তোমরা যা পছন্দ কর। শেষ পর্যন্ত উনার কথামতই উনাকে হাত-পা বেঁধে লোহিত সাগরের মধ্যে ফেলে দেয়া হল। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত, আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু পানিতে ডুবছিলেন না। তিনি স্বাভাবিকভাবে বেচেঁ রইলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা গেল হাজার হাজার মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী উনার চর কিনারে ঘুরতে লাগল এবং দরূদ শরীফ পাঠ করতে লাগল। কেউ উনাকে স্পর্শ করলো না। বরং তারা উনাকে পিঠে ও মাথায় করে নিরাপদভাবে তীরে পৌঁছে দিল। এরপর উনাকে বলা হয়, এখন আপনাকে কিভাবে শাস্তি দেয়া যায়। তিনি বললেন, এক কাজ কর আমাকে জঙ্গলে নিয়ে যাও, হিংস্র প্রাণীর মধ্যে ফেলে দাও, আমাকে তারা খেয়ে ফেলুক, আমার উপযুক্ত শাস্তি হউক। উনার কথামত উনাকে জঙ্গলে রাখা হল; দেখা গেল যে জঙ্গলের সমস্ত হিংস্র প্রাণীগুলো এসে হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চারপাশে ভীড় করে দরূদ শরীফ পাঠ করতে লাগল। অনেকক্ষণ পর একটা সিংহী আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উনার বাঁধনগুলো কেটে জঙ্গলের কিনারে পৌঁছে দিল। কুরাইশরা উনাকে পূর্ণরূপে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পেলো। কুরাইশরা বলল, হে আকরামা আপনাকে সমুদ্রের মাছ ও জঙ্গলের প্রাণীরা ভক্ষণ করল না  বরং হিফাযত করল, তার কারণ কি? তখন হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমার সাথে সমুদ্রের মাছগুলোর আলাপ হয়েছে। আমি বলেছি ‘হে মৎস ও প্রাণীরা তোমরা আমাকে খেয়ে ফেল। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মুহব্বতের সাথে মুয়ানাকা করেছি, তার শাস্তি স্বরূপ আমাকে সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়েছে।’ কিন্তু সমুদ্রের মাছগুলো বললো, ‘হে আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এটা কোনদিন সম্বব নয়। আপনার শরীর থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘ্রাণ মুবারক আসছে। আমরা কি করে আপনাকে খাই, আমরা কি করে আপনাকে কষ্ট দেই, পানিও আপনাকে কষ্ট দিতে রাজী নয়। একমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদার কারণে।’ সুবহানাল্লাহ! একইভাবে জঙ্গলের পশুরাজ আমাকে একই কথা বললো এবং সম্মানের সাথে জঙ্গলের কিনারায় পৌঁছে দিল।” অতঃপর কোরাইশরা বলল, তাহলে কি করে আপনাকে শাস্তি দেয়া যায়। তখন হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এক কাজ কর, আমাকে পাহাড়ের উপর থেকে ফেলে দাও। তাই করা হলো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সুস্থ অবস্থায় পাহাড়ের নীচে এসে পৌঁছলেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লঅহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদার কারণে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা ধরে হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পাহাড়ের নীচে নামালেন, যার কারণে উনার কিছুই হল না। অতঃপর উনাকে আর শাস্তি দেয়া হল না। মৃত্যুদণ্ড আর কার্যকরী হল না, শেষ পর্যন্ত তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহন করেছেন এবং ইসলামের জন্য অনেক জিহাদ করেছেন। মূলতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করার কারণে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দুনিয়াবী সমস্ত আযাব থেকে বাঁচালেন, শুধু তাই নয় বরং শেষ পর্যন্ত উনাকে ঈমান দিয়ে পরকালের আযাব থেকেও বাঁচিয়ে দিলেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি একজন মর্যাদাবান ব্যক্তি হয়ে গেলেন ইহকাল এবং পরকালের জন্য। সুবহানাল্লাহ!

যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মান করবে আল্লাহ পাক উনাকে সম্মান করবেন। জিন এবং ইনসান ব্যতীত সমস্ত মাখলুকাত হযরত নবী আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে চিনে, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদেরকে চিনে, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদেরকে চিনে। কিন্তু জিন-ইনসান চিনে না। কারণ জিন-ইনসান তো গাফেল মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে। আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ধ্যানে খেয়ালে থাকে তারা চিনেন। মহান আল্লাহ পাক চিনায়ে দেন তাদেরকে।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমাকে সমস্ত হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর বেশী মর্যাদা, মর্তবা দেয়া হয়েছে, তবে খাছ করে আমাকে ছয়টা মর্তবা দেয়া হয়েছে। হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে উনার বিবরণ পাওয়া যায়।

عن ابى هريرة (رض) ان وسول الله صلى الله عليه وسلم قال فضلت على الا نبياء بست اعطيت بجوامع الكلم ونصرت بالر عب وأحلت لى الغنا هم وجعلت لى الارض مسجدا وطهورا وأر سلت الى الخلق كاقة وختم بى البيون (مسلم م شكوة(

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,

১। আমাকে মহান আল্লাহ পাক সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইলম দান করেছেন।

২। মহান আল্লাহ পাক আমাকে রোব দিয়েছেন অর্থাৎ আমার নাম শুনলে শত্রুরা এক মাসের রাস্তার দূর থেকে ভয়ে কাঁপতে থাকে। এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছেও যদি কোন ব্যক্তি আসতো তাহলেও ভয়ে কাঁপতে থাকতো এরকম হাজারো ওয়াকিয়া আছে।

মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসামা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সমস্ত লোকদের ভয় দূর করার জন্য বলতেন, “আমি তো হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক সস্তান। তোমরা আমাকে ভয় কর কেন?” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের সান্তনা দেয়ার জন্য, স্বাভাবিক করার জন্য একথা বলেছেন।

৩। মহান আল্লাহ পাক আমার জন্য গনিমত হালাল করেছেন। আমার পূর্বে কোন হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য, কোন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য, কোন রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য গনিমত হালাল ছিল না। তখন যুদ্ধে যে গনিমত পাওয়া যেত, তা একখানে রাখা হত আর রাখা হলে আসমান থেকে আগুন এসে মালগুলিকে জ্বালিয়ে দিত।

৪। মহান আল্লাহ পাক সমস্ত জমিনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্র করে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য ইবাদত খানায় ইবাদত করার নিয়ম ছিল। ইবাদত খানার বাইরে যদি কেউ ইবাদত করত সেটা গ্রহণ করা হতনা।

এ প্রসঙ্গে কিছু কিছু ভণ্ড ফকির ধরণের লোক বলে থাকে যে, সমস্ত জমিনের উপর ইবলিস সিজদা করেছে তাহলে আমরা কোথায় সিজদা করবো। এই বাহানা দিয়ে তারা নামায থেকে দূরে সরে থাকে। মূলত এটা যে গোমরাহিপূর্ণ কথা তা তারা নিজেরাও জানে। কারণ ইবলিস যখন সিজদা করেছিল তখন সে ইমানদার ছিল, কাফির ছিল না। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানিয়ে দিয়েছেন, আপনার জন্য জমিনকে ইবাদত খানা ও পবিত্র করে দেয়া হয়েছে। তাই তাদের কথা বাতিল, অবাঞ্চিত, অবান্তর, ভ্রান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছাচারিতাপূর্ণ, ধোকা ও প্রতারণা দেয়ার জন্য এগুলো বলে থাকে।

৫। আমাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মখলুকাতের জন্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমি শুধু নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট কওমের জন্য আসি নাই। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,

قل يا ايها الناس انىر سول الله اليكم جميعا(৫৮১ الاعراف(

“হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দেন, হে মানুষ জেনে রাখ, আমি সমস্ত মখলুকাতের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।”

৬। আমার দ্বারা নবুওতের দ্বার বন্ধ করা হয়েছে। যেটা মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলেছেন,

ما كان محمد ابا احد من رجالكم ولكن ر سول الله وخاتم النبين ط وكان الله بكل شى عليما (৪) الاحزاب(

“মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন, তিনি আল্লাহ পাক উনার রসূল এবং শেষ নবী” মূলত আল্লাহ পাক সব জানেন।

দেখা যায় আজকাল কিছু লোক নবী দাবী করে। তাদের মধ্যে কাদিয়ানী, যার নাম মির্জা গোলাম আহাম্মক কাদিয়ানী বাহায়ী ফের্কার মধ্যে মির্জা আলী বাব ও বাহাউল্লাহ। মূলত তারা কাফির। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আর কোন নবী আসবে না, যদি কেউ নবী দাবী করে তবে সে কাফির হবে।

স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জামানায় দুই ব্যক্তি নবী দাদি করেছিল। মহান আল্লাহ পাক উনার নবী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন স্বপ্নে দেখলেন, উনার দুই হাতের মধ্যে দুটি বলয় বা বালার মত দুটি জিনিস। স্বপ্নে দেখে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফুঁ দিয়েছিলেন, দেখা গেল সেই বালা দুটি ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে পড়ে গেল হাত থেকে। পরের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট বললেন, দেখ দুই ব্যক্তি নবী দাবী করবে। একজন মুসাইলামা আর একজন আসওয়াদ আনসি এবং তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।

দেখা গেল সত্যি কিছুদিনের মধ্যে তাই হলো। মুসাইলামার বাড়ি ছিল ইয়ামামা। সে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাৎ করলো। মূলত বাহ্যিকভাবে সে ঈমান আনলো কিন্তু আন্তরিকভাবে নয়। সে বাড়িতে গিয়ে চিঠি দিল যে রসূল মুসাইলামার তরফ থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট চিঠি। চিঠিতে লিখলো যে, মহান আল্লাহ পাক আপনাকেও রিসালত দিয়েছেন আমাকেও দিয়েছেন। আপনি এক কাজ করেন আমাকে শরীক করেন, অর্ধেক রিসালত আমাকে দিয়ে যান। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল  নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শক্ত চিঠি লিখলেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে ভণ্ড নবী মুসাইলামার নিকট। তুমি এখনও তওবা কর তোমার সময় আছে, নাহলে তোমার শাস্তি কঠিন ও কঠোর হবে, আর তোমার পরিণতি খুব খারাপ হবে। শেষ পর্যন্ত তাই দেখা গেছে, মুসাইলামা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে লাঞ্চনার সাথে মারা যায়। হযরত ওহসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে মক্কা বিজয়ের পর মুসলমান হয়েছিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, “হে ওহসী তুমি একটু আড়ালো বস। কারণ তোমাকে দেখলে আমার চাচা হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কথা স্মরণ হয়ে যায় এবং আমার খুব কষ্ট লাগে।” এতে হযরত ওহসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে মনে খুব কষ্ট পেলেন, ভাবলেন সত্যি আমি একটা বিরাট আপরাধ করেছিলাম। যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি নাই, তখন হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু উনাকে শহীদ করি। অবশ্যই এর কাফফারা আমাকে আদায় করতে হবে। তিনি খুব পারদশী ছিলেন বল্লম নিক্ষেপের মধ্যে এবং তার নিক্ষেপ লক্ষ্য ভেদ করতো। মুসাইলামার বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন উনি সেই বল্লম নিলেন যেটা দিয়ে হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাকে শহীদ করেছিলেন এবং ভাবলেন যে, হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম উনার চাচা এবং ইসলামের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, তার বদলে একজন বিশিষ্ট কাফির মুসাইলামাকে কতল করে তার কাফফারা আদায় করবেন। যখনই তিনি মুসাইলামাকে দেখলেন তখনই নিক্ষেপ করলেন সেই বল্লম; মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুসাইলামর এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল এবং সেখানে সে নিহত হয়।

আর অপর দিকে দশম হিজরীতে আসওয়াদ আনসী নবুওত দাবী করলো। সে ছিল ইয়ামেনের লোক। ইয়ামেনের কিছু অংশ সে মুসলমানদের কাছে থেকে কেড়ে নিল এবং সে যা তা বলতে লাগলো ইসলামের বিরুদ্ধে এবং অনেক লোক সে জমা করে রাখলো। সেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন উনাকে সরিয়ে দিব। অতঃপর পরবর্তী সময় তারই এক আত্মীয় তাকে হত্যা করে ফেললো। মূলত এই দুই মিথ্যাবাদী নবুওত দাবী করেছিল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় এবং উনার পরবর্তী আরো দুই ব্যীক্ত নবী দাবী করেছিলো। একজন হল তোলায়হা আর অপর জন সাজা। সাজা ছিল মেয়েলোক। তোলায়হা ও সাজা দু’জনই পরবর্ততে তওবা করে, যা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার সময় সংঘটিত হয়। তিনি সম্পূর্ণভাবে ভণ্ড নবীদেরকে নিশ্চিহ করে দেন।

قال سول الله صلى الله عليه وسلم ان مثلى ومثل الانبياء كمثل قصر احسن بنيائر ك منه مو ضع لبنة فطاف به النظار يتعجبون من حسن بنيا ئه الا موضع بلك اللبتة فكنت سددت مو ضع اللبنه ختم بى البنيان وختم بى الرسل (متفق عليه(

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই আমার এবং অন্যান্য হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের মেসাল হল একটা বালাখানা, যা সুন্দর করে তৈরী করা হয়েছে। বালাখানায় মুধু একটা ইট বাকী। দর্শকগণ ঘুরে ঘুরে বালাখানা দেখছে এবং তার সৌন্দর্য্যরে জন্য আশ্চর্য্য হচ্ছে অথচ তার মধ্যে একটা ইট বাকী রয়েছে। আমার দ্বারা সেই ইট পরিপূর্ণ করা হবে। অর্থাৎ আমিই সেই ইট, আমিই সেই নবী যিনি এই ঘরটাকে পরিপূর্ণ করবেন। আমার দ্বারা এই ঘরের কাজ শেষ হবে। এবং আমার দ্বারা নবুওতও শেষ হবে, রিসালতও শেষ হবে।

মূলত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর যদি কেউ নবী রসূল দাবী করে সে কাফির। অনেক লোক চূপে চূপে কাদিয়ানী হয়ে যায়। কাদিয়ানীদের সংগঠন আছে। তারা গরীব মুসলমানদেরকে পয়সা দেয়। খ্রিস্টান মিশনারী যেমন মুসলমাদেকে খ্রিস্টান করার জন্য পয়সা খরচ করে। বর্তমানে যত বিদেমী খ্রিস্টান কোম্পানি দেখা যায় এগুলোর মূল উদ্দেশ্য কিন্তু আমাদের দেশের কাজ করা নয় বরং খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করা। মুসলমানদের ঈমান থেকে সরিয়ে দেয়া। আর কাদিয়ানীদেরও সেই রকম উদ্দেশ্য। তারা মুসলমান উনাদেরকে পয়সা দিয়ে কাদিয়ানী করার চেষ্টা করছে। মূলত এই কাদিয়ানীদের ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না।

মীর্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর জন্ম ১৮৩৫ সালে, পাঞ্জাবে। আর তার মৃত্যু হয়েছে ১৯০৮ সালে। সে একটা পায়খানায় পড়ে মারা গিয়েছে। কোন নবী কোনদিনও খারাপ জায়গায় ইন্তেকাল করেন না। উসুল রয়েছে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনারা যেখানে বিছাল শরীফ গ্রহণ করবেন, উনাদেরকে সেখানে দাফন করতে হবে। কাদিয়ানীকে তাহলে পায়খানায় দাফন করা উচিৎ ছিল। কারণ সে পায়খানায় মারা গিয়েছে। আর কোন রসূল বা নবী কোন দিন পায়খানায় ইন্তেকাল করেন না। এটা কি সম্ভব? কারণ নবী রসূলগণ পবিত্র। উনারা তো কোন নাপাক জায়গায় ইন্তেকাল করতে পারেন না। কাজেই কাদিয়ানী মূলত কাফির, লাঞ্ছিত এবং মুরতাদ। সে প্রথমে মুসলমান ছিল। তার বাপ ছিল মির্জা গোলাম মর্তুজা। তার বাপ ব্রিটিশদের দালাল ছিল। সে বৃটিশদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাহায্য সহযোগিতা করত। যার ফলে ব্রিটিশরা গোলাম মুর্তজাকে সাহায্য করেছিল। কিছু জায়গা জমি দিয়েছিল। গোলাম কাদিয়ানী প্রথমে ছিল কোর্টের পেশকার। পেশকার থাকাকালে সে একটা কিতাব লিখলো উর্দুতে যা ইসলামের প্রতি দরদমাখা ছিল। সেটা বাজারজাত করার পর সে বেশ কিছু পয়সা অর্জন করল। তারপর সে পর্যায়ক্রমে ইসলামী সাহিত্যিক সাজলো এবং কিছু কিতাব সে রচনা করলো। অতঃপর সে নিজেকে মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক বলে দাবি করলো। তার কিছু দিন পর সে নিজকে হযরত ইমাম মেহেদী আলাইহি ওয়া সালাম বলে দাবি করল। এমনকি সে নিজেকে শেস পর্যন্ত নবী বলে দাবী করল। তার কিতাবে সে নিজে উল্লেখ করেছে “আমি ইসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি মুসা আলাইহি ওয়া সালাম, আমি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমিই আল্লাহ” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক! কাজেই মূলত সে কাফির, এটা মনে রাখতে হবে। অনেক লোক জানে না তাই অনেকে গোপনে কাদিানী হয়ে যায়। ঢাকা আলিয়া মাদরাসার সামনে বখশি বাজারে কাদিয়ানীদের মূল ঘাটি। বাংলাদেশে তাদের প্রথম ঘাটি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক জাহিল মওলানা প্রথম কাদিয়ানী হয় ১৯১২ সালে। সেখান থেকেই কাদিয়ানী মত প্রচার শুরু হয়। কাদিয়ানীদের অনেক কিতাব আছে।  সেই সমস্ত কিতাবে তারা এমন ভাবে তাদের মত সম্পর্কে ব্যখ্যা দিয়েছে যা পড়লে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা অনেক মওলানারা পর্যন্ত বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার خاتم النبين শব্দের ব্যাখ্যা করে। দারা বলে খতামুন নাবিয়্যীন, শব্দের অর্থ নবীদের মহর। মূলত এটা মহর নয় অর্থ শেষ। আরবী কাওয়ায়েদ অনুযায়ী খতম শব্দের পর যদি আলা শব্দ আসে তাহলে সেটার অর্থ হয় মহর আর খতম  শব্দের পরে যদি আলা শব্দ না হয় তাহলে সেটার অর্থ হল শেষ। কাজেই খতামুন নাবিয়্যীন অর্থ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী বা রসূল। উনার পরে কোন নবী ও রসূল নাই। কাদিয়ানীরা যখন কোন লোককে কাদিয়ানী মতে মতান্তর করে তখন তারা আলেমদের কাছে যেতে দেয় না। কারণ আলেমদের কাছে গেলে তাদের হাকীকতটা জাহির হয়ে যাবে। সেজন্য তারা গোপন রাখতে চেষ্টা করে। কাজেই কাদিয়ানীদের কাছ থেকে সাবধান থাকতে হবে।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে,

قال النبى صلى الله عليه وسلم لا يؤمن احدكم ض تى يكون الله ور سوله احب اليه من التقسه وماله وولده ووللده وال ناس اجمعين. (حديث(

অর্থ : “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লঅহু আলাইহি ওয়া সাল।লাম তোমাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি ও সমস্ত মানুষ হতে বেশী প্রিয় না হবে।”

পবিত্র বুখারী শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন,

قال النى صلى الله عليه وسلم لا يؤمن احد كم حتى اكون احت اليه من والده وولده والناس اجمع ين (البحارى(

অর্থ : “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণপর্যন্ত আমি তোমাদের নিকট তোমাদের সন্তান-সন্তুতি, পিতামাতা ও সমস্ত মানুষ হতে বেশী প্রিয় না হবো।

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ যখন উল্লেখ করা হল, তখন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সত্যি আমি আপনাকে সবকিছু থেকে বেশী মুহব্বত করি; কিন্তু আমার প্রাণ থেকে এখনও আপনাকে বেশী মুহব্বত করতে পারি নাই।” তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম! আপনি এখন ও মুমিনে কামিল হতে পারেন নাই।” তখন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম কাঁদতে লাগলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম! কাছে আসুন।” তিনি কাছে আসলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাত মুবারক হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার সিনার মধ্যে রাখলেন। মূলত এটাকে বলা হয় তাওয়াজ্জুহ বা ফয়েজ। তখন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখন আমার দিলে এতো মুহব্বত পয়দা হয়েছে যে, আমি একজন কেন, আমার মতো হাজার হাজার হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যদি আপনার জন্য জান কুরবান হয়ে যায়, তাতেও কোন আফসোস নাই।” সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হে উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম আপনি এতক্ষণে মুমিনে কামিল হলেন।” সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করতে হবে সমস্ত কিছু থেকে বেশি। কোন কিছুকেই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর প্রাধান্য দেয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে এক পবিত্র আয়াত শরীফ মহান আল্লাহ পাক নাযিল করেন,

ماكان لمؤمن ولامؤمنة اذا قضى الله ورسو امر ا ان يكون لهم الخيرة من امر هم ط ومن يعص الله ورسوله فقذ ضل ضللا مبينا (১৩৭) الاخزاب(

“কোন মুমীন নর নারীর জন্য এটা জায়িয নয় যে, যখন মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন ফায়সালা করেন, সেই ফায়সালার মধ্যে সে কোন মন্তব্য করে যদি কেউ করে তবে তা প্রকাশ্য গোমরাহী।”

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযুলে বলা হয়, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদেম ছিলেন হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যাকে হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদীয়া স্বরূপ দিয়েছিলেন খেদমত করার জন্য বাজার থেকে খরিদ করে। যদিও তিনি গোলাম ছিলেন না কিন্তু দুষ্ট লোকেরা উনাকে জোর করে এনে বাজারে বিক্রি করে। পরবর্ততে যখন হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আব্বা, আম্মা ও অন্যান্যরা এসেছিলেন উনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, তখন হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমার পক্ষে কোনদিনই সম্ভব নয় মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছেড়ে আমার পিতা মাতার নিকট যাওয়া। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা শরীফ উনার মধ্যে গিয়ে বলেছিলেন যে, আজকে থেকে হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমার সন্তান। কারণ, তিনি আমাকে ছেড়ে যেতে চাননা, আমি উনার ওয়ারিশ। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে গোলামি থেকে মুক্ত করে সন্তানের আসনে বসালেন। এই যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন বড় হয়ে গেলেন তখন উনাকে কোথায় বিয়ে করাবেন, মেয়ে খুঁজতে লাগলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণে আসল উনার ফুফাতো বোন হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উনার কথা, যাকে বিয়ে দিতে হবে। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পক্ষ হয়ে হযরত জয়নব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু হযরত আব্দুল্লাহ ও উনার বোন হযরত জয়নব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উভয় দ্বিমত পোষন করলেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করলেন। তখন হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনার এবং হযরত জয়নব রদ্বিয়াল্লাহু উনাদের মত ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে হযরত জয়নব রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার বিয়ে হয়ে গেল।

কাজেই কোন মতেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা কাজ ও সম্মতির উপর কোন দ্বিমত পেশ করা যাবে না বা অন্য কারো মতকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না। দিলে গোমরাহ হয়ে যাবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি আরব দেশে বিলাদত শরীফ গ্রহণ না করে বাংলাদেশে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করতেন তাহলে লম্বা কোর্তা পরতেন না, ছোট কোর্তা পরতেন এটাও বলা যাবে না; এ কথাটা বলাও কুফরী হবে। এটা মনে রাখতে হবে।

আক্বায়ীদের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কদু খাওয়া সুন্নত। কোন ব্যক্তি যদি বলে আমি কদু পছন্দ করিনা, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা করেছেন, যা পরেছেন, যা খেয়েছেন প্রত্যেকটা জিনিসকে মর্যাদা ও প্রাধান্য দিতে হবে। যদি আমরা পারি তো আল হামদুলিল্লাহ আর না পারলে আমাদেরকে দোয়া করতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে সমস্ত সুন্নত সমূহকে পালন করার ও মুহব্বত করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৭)

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ