“ছবি” নিয়া তথাকথিত সুন্নীদের স্ববিরোধীতা তাহের শাহকে বাঁচাইতে গিয়া আহমদ রেযা খাকেও ধরাশায়ী করা

সংখ্যা: ১০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

আঁতে ঘা টা লাগিয়াছে মূল জায়গায়। সেইটাকে হালাল করা এখন মুখ্য উদ্দেশ্য। বাকি সব বাহানা কেবল। জোড়া-তালি দিয়া সাজানো মাত্র।

কায়দাটা অবশ্য ঐ ওহাবাীদের নিকট হইতেই ধার করা। ওহাবীরা যেমন দৃশ্যতঃ ইহুদী-নাছারার বিরুদ্ধে আপাত বিষোদগার করিতেছে কিন্তু যাহা করিতেছে যতটুকু করিতেছে তাহা ঐ ইহুদী-নাছারাদের তর্জ-তরীক্বায় করিতেছে। তেমনি তথাকথিত সুন্নীরাও ওহাবীদের বিষোদগার করিলেও তাদের বর্তমান গুরুকে বাঁচাইতে গিয়া ওহাবীদের ন্যায় এলোমেলো অনেক কথাই বলিয়াছে। কিছুটা বিকৃত করিয়া, খন্ডাংশ যুক্ত করিয়া আর ভুল বক্তব্য উদ্ধৃত করিয়া যাহা কিছু সাজাইতে গিয়া উহাদের বর্তমান গুরুকে রক্ষা করিতে চাহিয়াছে তাহাতে কার্যতঃ উহাদের বর্তমান গুরু এবং কথিত ইমাম দুই জনেই ধরাশায়ী হইয়াছে।

ছবি তোলা সম্পর্কে শত শত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট নিষেধবাণী রহিয়াছে। সেই আলোক ৩৫৩টি দলীল সাপেক্ষে আল বাইয়্যিনাতে ফতওয়া দেওয়া হইয়াছে। এইদিকে এই ফতওার গুরুত্ব ও আবশ্যকতা অস্বীকার করিতে পারে নাই তথাকথিত সুন্নীদের ইমাম আহমদ রেযা খাও। যাহা আল বাইয়্যিনাত-এর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য বটে। বর্তমান চুনোপুটিরা আল বাইয়্যিনাত-এর অমূলক বিরোধীতা করিলেও উহাদের এই বিরোধীতাটা এতই ঠুনকো যে, উহাদের মুরুব্বী ইমামের কিতাবেই পাওয়া যায় আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিম্বি।

বর্তমান চুনোপুটিরা এতই বৃথা আস্ফালনে মত্ত যে নিজেদের ইমামের বক্তব্যটিও জানিয়া লইবার ফুরসত, অথবা প্রবৃত্তি তাহাদের হয়না। অথবা তাহা না জানিয়াই আল বাইয়্যিনাত বিরোধীতার লম্ফ-ঝম্ফ প্রদর্শনে তাহারা ব্যাঙাচিকেও হার মানাইতে অতিশয় পারঙ্গম।

তথাকথিত সুন্নী নামধারী বর্তমান চুনোপুটিদের ক্ষেত্রেও হইয়াছে একই অবস্থা। ছবিকে উহারা প্রায় হালালই করিয়া ফেলিয়াছিল। উহাদের বর্তমান গুরু তাহের শাহ উঠিতে, নামিতে, চলিতে, ফিরিতে এমনকি নামায পড়িতে পর্যন্ত ছবি তুলিবার পোজ দিতে ব্যস্ত থাকিতেন। তাহের শাহর এই অবাধ ছবি তুলিবার বিষয়টিকে বর্তমান চুনোপুটি নামধারী সুন্নীরা কোনই দোষের বিষয় বলিয়া মনে করিতোনা। কিন্তু ইহারপরে আল বাইয়্যিনাতে যখন উহাদের ইমামের ওসীয়তনামা হইতেও বরাত দেওয়া হইলো যে, “মৃত্যুর কিছুক্ষণ পূর্বেও রেযা খা তাহার ঘর হইতে সব ধরনের ছবি বাহির করিয়া দিতে বলিয়াছে, ছবিকে অস্পৃশ্য, অবান্তর বলিয়া বিবেচিত করিয়াছে।” তখন এই আত্মঘাতী দলীল উহাদের বড়ই বিব্রত করিলো। পরপর কয়েক সংখ্যায় এই দলীল উদ্ধৃতকরণ সাপেক্ষে আল বাইয়্যিনাত-এর ক্ষুরধার লেখনী উহাদের মর্মজালা বাড়াইয়া দিলো। উহাতেই দিশেহারা হইয়া উহারা বর্তমান নভেম্বর/২০০১ সংখ্যায় ছবি সম্পর্কে শরয়ী ফায়সালার শিরোনামে প্রলাপ বকা শুরু করিলো।

উহাতে আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতি প্রকারান্তরে এই অভিযোগ আরোপ করা ইহয়াছে যে, “আল বাইয়্যিনাত কেন ছবির ব্যাপারে এত হুশিয়ার। এই যামানায় কি এত কঠোর হইলে চলে।” অর্থাৎ এইসব বক্তব্যের আলোকে তাহারা তাহাদের বর্তমান গুরু তাহের শাহর ছবি তোলাকে জায়েয করিতে চাহিতেছে। কৌশলটা এইরকম যে, আহমদ রেযা খা ছবির বিরুদ্ধে বলিয়াছে সেটা ঠিকই আছে কিন্তু বর্তমান যুগ প্রবাহে তাহের শাহর ছবি তোলাও ঠিক আছে। কিন্তু আহমদ রেযা খার ফতওয়ার আঘাত হইতে তাহের শাহকে বাঁচাইতে গিয়া অবশেষে নামধারী সুন্নীরা যে দুইজনকে একই সাথে ধরাশায়ী ও অভিযুক্ত করিয়া ফেলিয়াছে সেইটা তাহারা ভাবিয়া দেখিয়াছে কি?

কারণ হিসাবে বলিতে হয় সত্যিই যদি ছবির সামান্য বৈধতা বলিতে কিছু মাত্রও থাকিতো তাহা হইলে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে হইলেও, আহমদ রেযা খা তাহার ঘর হইতে সকল প্রকার ছবি সরাইবার এতোটা উদগ্রীব হইয়া পড়িল কেন?

সুতরাং তথাকথিত সুন্নীদের বর্তমান বক্তব্য অনুযায়ী তাহা হইলে আহমদ রেযা খা অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, অহেতুক অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করিয়াছে।

পক্ষান্তরে তাহের শাহ বর্তমান যুগের সহিত তাল মিলাইয়া ঠিক কাজটি (?) করিতেছে। কিন্তু মুশকিল হইল এই নামধারী সুন্নীরা মুখে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল উনার মুহব্বত দাবী করিলেও কার্যত তাহারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের পরিবর্তে আহমদ রেযা খার উম্মত বলিয়াই নিজেদের প্রতীয়মান করিতেছে। সুতরাং সেই আহমদ রেযা খাই যখন ছবিকে পরিত্যাজ্য করিয়াছে তখন কি তাহের শাহও পরিত্যাক্ত হয়না অপরদিকে তাহের শাহর বর্তমান চিন্তাধারা কি আহমদ রেযা খাকেও আহমকরূপে প্রতীয়মান করেনা? (চলিবে)

-মুহম্মদ মাছুমুর রহমান, গোড়ান, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে