(প্রথম পর্ব)
“বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়।” অর্থাৎ সাধারণতঃ ফলের দ্বারাই বৃক্ষের পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আম বৃক্ষে আমই হয়, জাম বৃক্ষে জামই হয় এবং কাঠাল বৃক্ষে কাঠালই হয়ে থাকে। এর ব্যতিক্রম হওয়াটা সম্পূর্ণরূপে অস্বাভাবিক।
উল্লিখিত প্রবাদ বাক্যের পূর্ণ মেছদাক হচ্ছে- নব্য মুশাব্বিহা ফিরক্বা কর্তৃক প্রকাশিত অখ্যাত মাসিক তথাকথিত “সুন্নীবার্তা।” নামে যদিও “সুন্নতীবার্তা” কিন্তু ফল বা কাজে সম্পূর্ণই উল্টো বরং কুফরী ও গোমরাহ্ীতে পরিপূর্ণ। তাই প্রশ্ন জাগে উক্ত পত্রিকাটি আসলেই কি “সুন্নীবার্তা না কুফরীবার্তা?”
বস্তুতঃ যে প্রত্রিকাটি কুফরী ও গোমরাহীতে পরিপূর্ণ সে পত্রিকাটি কখনোই “সুন্নীবার্তা” হতে পারে না বরং কুফরীবার্তা হওয়াই যুক্তিযুক্ত। কেননা “বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়।”
পাঠক! তাদের সেই পরিচয় তুলে ধরার এবং তাদের সত্যিকার স্বরূপ জনসম্মুখ্যে উম্মোচন করার জন্যই আমার এ মতামত বা প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের শুরুতেই আমি সুন্নীবার্তার ৭নং বুলেটিনের একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আর তাহলো- আমাদের আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়া মোতাবেক- “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” দরুদ শরীফের এ বাক্যখানা সংক্ষিপ্তভাবে অর্থাৎ (দঃ) অথবা (সাঃ) ইত্যাদি অক্ষর দ্বারা লেখা মাকরূহ। কেউ কেউ কুফরী বলেও ফতওয়া দিয়েছেন।
অথচ আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য যে, আশেকে রাসূলের একমাত্র দাবিদার এদেশের একমাত্র মুসলমান ও সুন্নী দাবিদার নব্য মুশাব্বিহা ফিরক্বার মুখপত্র “সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরীবার্তায়” উক্ত সংখ্যার ১ম পৃষ্ঠাতেই দরুদ শরীফ সংক্ষিপ্তভাবে (দঃ) দিয়ে লিখেছে। অথচ তাদেরই কথিত আলা হযরত কি ফতওয়া দিয়েছে, দেখুন!
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
অর্থঃ- “হুজুর পূর নূর, সাইয়্যিদে আলম, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মোবারক উল্লেখ করার সময় দরুদ শরীফ পড়ার হুকুম রয়েছে। দরুদ শরীফের স্থলে শুধুমাত্র (ص) অথবা (عم) অথবা (صلعم) অথবা (صللم) বলা কখনোই যথেষ্ট নয়। বরং উক্ত শব্দ একেবারেই অর্থহীন এবং “জালেমদেরকে যেরূপ বলতে বলা হয়েছে তদ্রুপ না বলে অন্য শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছে। অতঃপর আমি তাদের নাফরমানীর কারণে তাদের উপর আসমান থেকে আযাব অবতীর্ণ করি।” এ আয়াত শরীফের হুকুমের মধ্যে শামীল।
বরং “তাতারখানিয়া” কিতাবে এ ব্যাপারে আরো কঠিন ফায়সালা বর্ণিত রয়েছে এবং সংক্ষিপ্ত দরুদ শরীফ লেখাকে “শানে নুবুওওয়াত” খাটো করার অন্তর্ভূক্ত বলা হয়েছে। “তাহতাবী আলা দুররিল মোখতার”-এর ১ম জিঃ, ৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “….. অক্ষর দ্বারা দরুদ শরীফ লেখা মাকরুহ বরং পরিপূর্ণভাবে দরুদ শরীফ লিখবে।” “তাতারখানিয়া” কিতাবে উল্লেখ আছে, “যে ব্যক্তি হামযাহ্ এবং মীম দ্বারা দরুদ শরীফ লিখলো সে কুফরী করলো। কেননা উহা এহানত বা অবজ্ঞা। আর নবীদের শানে এহানত বা অবজ্ঞা নিঃসন্দেহে কুফরী। (মজমূয়ায়ে রাসায়েল/১০)
পাঠক! আপনারাই দেখলেন যে, তাদের কথিত আলা হযরতের ফতওয়া মোতাবেক “সুন্নীবার্তা উরফে কুফরীবার্তায়” দরুদ শরীফ (দঃ) সংক্ষিপ্তভাবে লিখে সুস্পষ্ট তারা কুফরী করেছে।
শুধু কি তাই! তাদের উল্লিখিত পূর্ণ বাক্য বা লাইনটুকুই আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানের খেলাফ হয়েছে। যেমন- তারা লিখেছে, “প্রচ্ছদঃ- হযরত মুহম্মদ (দঃ)-এর রওজা শরীফ ও দরগাহে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান (রহঃ)।”
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, তারা আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মোবারকের সাথে শুধুমাত্র “হযরত” লক্বব ব্যবহার করেছে। আর দরুদ শরীফের ক্ষেত্রে (দঃ) একটিমাত্র অক্ষর ব্যবহার করেছে। অথচ তাদের মুরুব্বীর নাম লিখতে গিয়ে “আলা, হযরত, ইমাম” তিনটি লক্বব ব্যবহার করেছে এবং (রাহঃ) লিখতে দুইটি অক্ষর ব্যবহার করেছে। এটা কি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে বেয়াদবী নয়? এতে কি তাদের কথিত মুরুব্বীকে আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অধিক মর্যাদা ও গুরুত্ব দেয়া হলো না?
আর আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে বেয়াদবী করা এবং উম্মতকে নবীর চেয়ে মর্যাদা ও গুরুত্ব বেশী দেয়া যে, কুফরী তা-কি স্বঘোষিত সুন্নীরা অস্বীকার করতে পারবে?
এটাই কি আশেকে রাসূল বা সুন্নীয়তের পরিচয়? তবে কিতাবের সুন্নীবার্ত ওরফে কুফরীবার্তার” মতে যারা রাসূলের শানে বেয়াদবী করতে পারে তারাই আশেকে রাসূল বা সুন্নী? আফছুস! এ ধরণের আশেকে রাসূল বা সুন্নীদের জন্যে।
পাঠক! এখানেই তাদের গোস্তাখীর শেষ নয়। এরপরে তারা যে বেয়াদবী করেছে তা লিখতেও শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায়। আর ভাবতেও অবাক লাগে আশেকে রাসূল পরিচয় দিয়ে তারা এ ধরণের মারাত্মক বেয়াদবী কিভাবে করে? দেখুন, তাদের পরবর্তী বেয়াদবীর নমুনা- “সুন্নীবার্তা ওরফে কুফরীবার্তার কভারের শেষ পৃষ্ঠায়- নব্য মুশাব্বিহা ফিরকার ইমামের লিখিত কিছু কিতাবের বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে, সেখানে লিখেছে, “ ….. অধ্যক্ষ, হাফেজ, এম এ জলীল সাহেব হুজুরের লিখিত …”। আর ঠিক তার নীচে লেখা আছে, …. “নূর নবী (দঃ) হুজুরের জীবনী।”
দেখুন! লেখকের নামের প্রথমে অধ্যক্ষ, হাফেজ,! আর পরে সাহেব হুজুর কত কি লেখা হলো। অথচ আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুলমুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ক্ষেত্রে লেখা হলো- “নূর নবী (দঃ) হুজুরের…!
এটা আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে সুস্পষ্ট বেয়াদবী নয় কি? আর আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে বেয়াদবীও যে কুফরী তাতে কি কারো সন্দেহ আছে? মূলতঃ এতে কারোই কোন প্রকার সন্দেহ নেই।
এ ধরণের আরো বহু কুফরী ও গোমরাহ্ীতে পরিপূর্ণ উক্ত “সুন্নীবার্তা তথা কুফরীবার্তা” যার প্রমাণ আপনারা “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় পর্যায়ক্রমে পাবেন। (ইনশাআল্লাহ্) (চলবে)
মুফ্তী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক,
বাসাবো, ঢাকা।