প্রসঙ্গঃ আমেরিকা, আফগানিস্তান ও ওসামা বিন লাদেন প্রচারিত ধারার বিপরীতে একটি অর্ন্তভেদী বিশ্লেষণ- ৩

সংখ্যা: ১০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

তালেবানরা দৃশ্যতঃ ইসলামী ইসলামী শরীয়ত উনার পায়রবীর দাবিদার। মাথায় পাগড়ী, গায়ে ঝুল জামা, পড়নে স্যালোয়ার। যদিও অভিজ্ঞমহল তালেবান ষ্টাইলের পাগড়ী বাধা, লম্বা জামাকে সুন্নত বা প্রকৃত ইসলামিক নয় বলে মন্তব্য করেন তথাপি তারা দেশে পুরো ইসলাম কায়েম করেছিল বলে রব উঠিয়েছিল। কিন্তু এতদ্বসত্বেও আমেরিকান সি, আই , এ কেন এতদিন তালেবানদের অকুক্ত সমর্থন যুগিয়েছিল সে প্রশ্ন অনেকের। তবে এর জবাব কঠিন কিছু নয় ।

সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার একান্ত উদ্দেশ্য সারা বিশ্বে তার প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

          দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ থেকে শুরু করে নতুন শতকের এই সময় পর্যন্ত দুনিয়া জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক দস্যুবৃত্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে এবং মিত্রদের মদদ জুগিয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরী করলে আমেরিকাকে বিশ্বের সবচে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলতে হয়। অর্থ, শক্তি ও ক্ষমতার দাপটে আমেরিকা আজ সারা দুনিয়ায় চালু করে রেখেছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ছোটখাট দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক সংঘাতকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধে রূপ দেয়া এবং তাতে জড়িয়ে ফায়দা নেয়ার কাজ আমেরিকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কয়েকটি নিদর্শন এখানে উল্লেখ করা হলো-

          ১৯৪৫ সালেঃ ২য় মহাযুদ্ধের শেষভাগে আগষ্ট মাসে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে দুটো পারমানবিক বোমা ফেলে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ হত্যা করে সভ্যতার ইতিহাসে সবচে বড় সন্ত্রাসী ও বর্বরোচিত ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় আমেরিকা। আজ পর্যন্ত জাপানের কাছে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা দুঃখ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। ১৯৪৮ঃ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের ফিরে আসার সুযোগ দিতে ইসরাঈলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি। ১৯৪৯ঃ সি. আই. এ-এর মদদপুষ্ট সামরিক অভ্যুত্থানে সিরিয়ার নির্বাচিত সরকার উৎখাত। ১৯৫০-৫২ঃ কোরিয়ার যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াকে অস্ত্রসহ সমর্থন যোগায় আমেরিকা। এই কোরিয়ার যুদ্ধের মাধ্যমেই আমেরিকা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে কোন এক পক্ষের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সূচনা করে যা পরবর্তী দশকগুলোতে অব্যাহত থাকে। ১৯৫৩ঃ ব্রিটিশ তেল কোম্পানি জাতীয়করণকারী ইরানের মোসাদ্দেক সরকার উৎখাতে সি. আই. এ-এর সহায়তা। এর ফলে রেজা শাহ্ পাহলভির সিকি শতাব্দীব্যাপী নির্যাতনমূলক শাসন শুরু। ১৯৫৮ঃ হিতিশীলতা আনার অজুহাতে লেবাননে মার্কিন সৈন্য অবতরণ। ১৯৬০ঃ কথিত বিপজ্জনক ব্যক্তি লুকিয়ে আছে, তাকে ধরতে হবে- এই অজুহাতে জোমোনিক রিপাবলিকে মার্কিন সৈন্য সরাসরি হানা দেয়। ১৯৬২ঃ কিউবায় রাশিয়া মিসাইল বেস স্থাপনের উদ্যোগ নিলে রণদামামা বাজিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে নেমে যায় যুক্তরাষ্ট্র।  এরপর থেকে সিআইএ বহুবার ফিদেল ক্যাষ্ট্রোকে হত্যার চেষ্টা করেছে। ১৯৬৩ঃ কমিউনিষ্টদের হত্যার জন্য ইরাকের বাথ পার্টিকে(আচিরেই সাদ্দাম হোসেন দলটির প্রধান হন) একটি তালিকা প্রদান এবং নির্মমভাবে তা বাস্তবায়ন। ১৯৬৫ঃ কম্বোডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালায়। ১৯৬৭ঃ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাঈলের প্রতি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখলিকৃত ভূখন্ড ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপর্যুপরি ভেটো প্রদান। ১৯৭০ঃ ভিয়েতনাম যুদ্ধের এক পর্যায়ে নমপেনে বোমা ফেলে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে মার্কিন সেনাবাহিনী পশ্চাদপসণ করে। ১৯৭৩ঃ মিসর ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাঈল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্য পেয়ে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়। ১৯৭৯ঃ আফগান যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে আমেরিকা। রাশিয়াকে আফগানিস্তান থেকে হটানোর জন্য অস্ত্র তুলে দেয় আফগানদের হাতে। ১৯৮৯ঃ সালে রাশিয়া পরাজয় বরণ করে আফগান থেকে পশ্চাদপসরণ করে। ১৯৮০-৮৮ঃ ইরান-ইরাক যুদ্ধ। ইরানের ওপর ইরাক আক্রমণ শুরু করলে নিরাপত্তা পরিষদে ইরাকের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর উদ্যোগের প্রতি মার্কিন ভেটো। সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র্রের তালিকা থেকে ইরাকের নাম খারিজ, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অস্ত্র সরবরাহ। অন্যদিকে একই সময়ে ইসরাঈলের মাধ্যমে গোপনে ইরানকে অস্ত্র প্রদান। পারস্য সাগরে অবস্থানকারী মার্কিন জাহাজ থেকে ইরানি যাত্রীবাহী বিমান লক্ষ্য করে গুলি করা হলে ২৯০ যাত্রী নিহত হয়। ১৯৮১-৮৬ঃ লিবিয়ার উপকূলে সামরিক মহড়া চালিয়ে গাদ্দাফিকে উসকানি প্রদান। লিবিয়ার বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে দুটি লিবীয় বিমান গুলি করে ভূপাতিত। ১৯৮৬ সালে লিবীয় টহল বোটে হামলায় ৭২ জন নিহত। বার্লিনে বোমা হামলার অভিযোগে লিবিয়ায় ব্যাপক বোমাবর্ষণে গাদ্দাফির পালিত কন্যাসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহত। ১৯৮২ঃ যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সস্কেত পেয়ে লেবাননে ইসরাঈলি অভিযান এবং ১০ হাজার বেসামরিক লোক হত্যা। ১৯৮৯ঃ পানামায় মার্কিন সেনাবাহিনী হানা দেয় এবং মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অজুহাতে নরিয়েগাকে অপহরণ করে নিয়ে আসে। ১৯৯১ঃ কুয়েতকে দখলমুক্ত করে ইরাককে শায়েস্তা করার জন্য জাতিসংঘের তথাকথিত অনুমোদন নিয়ে উপসাগরীয় যুদ্ধে বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেয় আমেরিকা। বছরের পর বছর ধরে ইরানকে নিয়মিত বিমান হামলা যেন রাত্রের বহু ইরাকী সৈন্যকে ট্যাংকের নিচে নির্মমভাবে পিষ্ট করা হয় আমেরিকার নির্দেশে। ১৯৯৮ঃ তাঞ্জানিয়া ও কেনিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলার পর ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়ে সুদানের ওষুধ কারখানা ধ্বংস করা হয়। দাবি করা হয়েছিল ওই কারখানায় রাসায়নিক অস্ত্র তৈরী করা হয়। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্রই সেখানে রাসয়নিক অস্ত্র তৈরীর কোন প্রমাণ না পাওয়ার কথা স্বীকার করে। ’৫০, ’৬০ ও ’৭০-এর দশকে পৃথিবীর বিভিন্ন সদ্য স্বাধীন দেশগুলোয় বিভিন্নভাবে হানা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মদদে এসব দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ও তার সরকারকে উৎখাত করা হয়। ১৯৭৩ সালে চিলিতে আলেন্দকে হত্যা এবং আরো অনেক হত্যাকান্ডের নেপথ্যে মার্কিন মদদ ছিল স্পষ্ট। আরব বিশ্বে সিরিয়া ও লিবিয়া রুশ মিত্র হওয়ার কারণে এ দেশগুলোর ওপর বিভিন্নভাবে নেমে আসে মার্কিন আক্রোশ। ফিলিস্তিনী স্বাধীনতা সংগ্রামকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করার জন্য ইসরাঈলকে সব রকম মদদ দিয়ে আসছে আমেরিকা। ইসরাঈল ১৯৮১ সালে ইরাকের ওসিরাক পারমানবিক স্থাপনা ধ্বংস করে দেয় বিমান হামলা চালিয়ে। ১৯৮৩ সালে তিউনিসিয়ায় পিএলও সদর দপ্তরেও বিমান হামলা চালায় ইসরাঈল। মধ্যপ্রাচ্য সংকট জিইয়ে রাখা এবং ইসরাঈলকে ক্রমাগত শক্তিশালী করার পেছনে রয়েছে মার্কিন মদদ। বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় হাজার হাজার নিরীহ মুসলমানকে যখন হত্যা করা হয়েছে তখন মার্কিন বিমান মানবতার পক্ষ নিয়ে সার্বিয়দের ঠেকাতে যায়নি। অথচ উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে তুচ্ছ অজুহাতে ইরাকের উপর বিমান হামলা আজও অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা।

          তবে যে কথা প্রনিধানযোগ্য আমেরিকা এ কথা খুব ভাল করে বুঝেছে যে আগামী শতাব্দীতে অমুসলিম বিশ্বের উপর প্রভূত্ব স্থাপন করা তার জন্য যতটা সহজ তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী কঠিন মুসলিম বিশ্বের উপর প্রভূত্ব স্থাপন করা। এর কারণ খুঁজে পেয়েছে আমেরিকা তার নিজস্ব ভূমিতেই। খোদ আমেরিকাতেই এখন অনেক অপরাধীরা পর্যন্ত মুসলমান হয়ে যাচ্ছে। বড় বড় অপরাধের কারণে তাদেরকে ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে আর তারা জেলে পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ে ইসলামের আদর্শের সন্ধান পেয়ে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা জানে এভাবেই জাগরণ হচ্ছে মুসলমানের। আর মুসলমানের এ জাগরণের অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে অতি নিকট ভবিষ্যতে একটি ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা। আর দুনিয়ার কোন স্থানে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা হলে তা যে গোটা বিশ্বকেই নিয়ন্ত্রণে আনবে আমেরিকার তা ভাল করেই জানা। পাশাপাশি আমেরিকার এও জানা রয়েছে যে পরিপূর্ণ ইসলামী আদর্শের প্রতিফলন তথা বাস্তবায়নসহ একটি ইসলামী হুকুমত সারা বিশ্বের মুসলমানদের অনেকেরই প্রাণের লালিত স্বপ্ন।

          আর সে স্বপ্নকেই দুঃস্বপ্নে পরিণত করার কৌশলটি বাস্তবায়ন করেছে আমেরিকা তালেবানদের মাধ্যমে।

          কারণ আখিরী যামানার মুসলমান হাজার হলেও দুনিয়াদার, একবারেই পূর্ণ ইসলাম পরিপূর্ণভাবে পালনের মানসিকতা তাদের নেই।

          উল্লেখ্য, শরাব পান একবারে নিষিদ্ধ হয়নি। যেখানে তালেবানদের মাধ্যমে আমেরিকা তথাকথিত  ইসলামী রাষ্ট্রের নামে এমনসব কাজ করাল যাতে করে সাধারণ দুনিয়াদার মুসলমান আর কল্পিত ইসলামী হুকুমতের প্রতি আসক্ত না হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে তালেবানদের আমলে নারীশিক্ষা পৌঁছেছিল মাত্র ৪%।

          ২৭শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ কাবুল পতনের পর তালেবানরা বেপর্দা মেয়েদের লাঠি দিয়ে ঠেলা দিয়েছে। চারিত্রিক অপরাধীদের ফাঁসি দিয়েছে। এমনকি বিয়ের আগে কনে একবারের জন্য দেখাও নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল তালেবানরা। অথচ এসব একটি কাজও শরীয়তে বর্ণিত শাস্তির অনুরূপ নয়। কারণ ইসলামে মেয়েদের লাঠি চার্জ, ফাসি প্রদান ইত্যাদি শাস্তি নেই। বরং রয়েছে সাক্ষী সাপেক্ষে দোররা মারা ও কতলের নির্দেশ। শুধু তাই নয় তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের আমলে ইসলামে হারাম বলে সাব্যস্ত আফিমের উৎপাদন চার হাজার ছয়শ টনে পৌঁছেছিল। যা ছিল গোটা বিশ্বে উৎপাদিত আফিমের সত্তর ভাগ। আর এই আফিম তথা হেরোইন বিক্রি করে তালেবানরা আয় করত বার্ষিক দশ হাজার কোটি থেকে বিশ হাজার কোটি ডলার। আর হারাম টাকা দিয়েই চলত তাদের তথাকথিত ইসলামী রাষ্ট্রের যাবতীয় খয়-খরচ।

          সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখেনা যে তালেবান আর ওসামা এ দুটোকে দিয়ে আমেরিকা মুসলমান ও ইসলামের শান এর অবমাননা করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। তালেবানের দ্বারা আমেরিকা গোটা বিশ্বকে এটাই বুঝাতে চেয়েছে যে দেখ, যারা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার দাবী তোলে, আদর্শের কথা প্রচার করে সেই ইসলামী হুকুমত কতটা কুপমন্ডুক। যেখানে নারীশিক্ষা ব্যাহত হয়, মানবাধিকার লংঘিত হয়, সভ্যতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

          অপরদিক মুসলিমরা যাকে  হিরো মনে করে  সেই ওসামা কত মিথ্যাবাদী! সে হামলা অস্বীকার করে আবার স্বীকার করে এবং সে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসের কথা স্বীকার করে ও প্রচার করে। এরকমই ইসলাম ও মুসলিম নেতা আরসন্ত্রাসী। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।

          মূলতঃ এসব বিষয় ইসলামে না থাকলেও সেটাই প্রচার করতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকা তালেবান ও ওসামার বদৌলতে।

-মুহম্মদ আশরাফুল মাহবুবে রব্বানী, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে