প্রসঙ্গঃ আমেরিকা, আফগানিস্তান ও ওসামা বিন লাদেন প্রচারিত ধারার বিপরীতে একটি অর্ন্তভেদী বিশ্লেষণ-২

সংখ্যা: ১০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

আফগান যুদ্ধের পেছনে যে আমেরিকার দুরভিসন্ধি অনেক ব্যাপক সে ধারণা এখন ক্রমাগত সহজ হতে চলছে। এর মধ্যে আমেরিকার বাণিজ্যিক বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, কাস্পিয়ান সাগর তলায় যে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আছে তার উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করাই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ। এই নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন কাবুলে একটি নিজেদের পছন্দের সরকার রসানো। এ কাজটি করতে হলে দরকার একটি ইস্যূ। আর এই ইস্যূটি যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে লাদেনকে কেন্দ্র করে। এখন খেলা চলছে জাতিসংঘ কিংবা অন্য মিত্রদের তদারকিতে কাবুলে পুতুল সরকার বসানোর সব রকম প্রচেষ্টা। কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চলের মজুদ প্রাকৃতিক গ্যাস পাকিস্তান কিংবা বিশ্ব বাজারে রপ্তানির মূল রুট আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের উপর দিয়েই পাকিস্তানের করাচী বন্দর পর্যন্ত গ্যাস পাইপ স্থাপন করতে হবে। কারণ সাবেক সোভিয়েত যুগের অবসানের পর রাশিয়া কিংবা ইরান কারোরই নিয়ন্ত্রন নেই মধ্য এশিয়ার স্পর্শকাতর এই দেশটির উপর।

গত ১১ সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলে মার্কিন কূটনীতির মূল দৃষ্টি ছিল। কাস্পিয়ান থেকে আফগানিস্তানের উপর দিয়ে সম্ভাব্য গ্যাস লাইন নির্মাণের দিকে। এজন্য তারা সব রকমের কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। কিন্তু তেমন একটা সুবিধা হচ্ছিলনা। তালেবানরা ক্ষমতায় আসার দু’বছর পর ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে মার্কিন কোম্পানি ইউনোকল এ ব্যাপারে মৌলবাদী ইসলামী শাসকদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করে। কিছু তারেবান নেতা এ বিষয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর করে। একই বছর তৎকালীন মার্কিন তেল শিল্প নির্বাহী ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনী কাস্পিয়ান গ্যাস সম্পদের ব্যাপারে ওয়াশিংটনে তেল শিল্প নির্বাহীদের এক বৈঠকে মন্তব্য করেন, “আমি কখনো ভাবতেই পারিনি যে কাস্পিয়ান অঞ্চল হঠাৎ করে এমন সম্ভাবনার অবিশ্বাস্য বার্তা নিয়ে আসবে। সঙ্গত কারণে বর্তমান বুশ প্রশাসন কাবুলে একটি পুতুল সরকার বসাতে সচেষ্টা।

তালেবান পরবর্তী অবস্থার এ ব্যাপারে সে কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দৃশ্যতঃ কারো মনে সন্দেহ নেই যে, লাদেনের আল কায়েদা নেটওয়ার্ক এবং তালেবানদের নির্মূলের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে আফগানিস্তানের মার্কিন সামরিক অভিযান। বহু উপজাতি সমন্বয়ে গঠিত আফগান জনগোষ্ঠির সামনে ঝুলছে তালেবান পরবর্তী তাদের সকলের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপক ভিত্তিক সরকার গঠনের আলো। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরবর্তী পূনর্গঠন কাজের নামে কোটি কোটি ডলার মার্কিন সাহায্যের লোভনীয় মোহ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে পরবর্তী কাবুল সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় এসাইনমেন্ট হচ্ছে বিশ্ব বাজারে কাস্পিয়ান গ্যাস সম্পদ পৌঁছে দেয়ার জন্য আফগানিস্তানের উপর দিয়ে গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ। তাই পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেল সরবরাহ পথ নিবিঘর্œ রাখার লক্ষ্যেই বাধানো হয় ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ। আর কাস্পিয়ান অঞ্চলের গ্যাস সম্পদ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই চালনা করা হয়েছে! এবারের আফগান যুদ্ধ।

-মুহম্মদ আশরাফুল মাহবুবে রব্বানী, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে