আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্বপুরুষগণ ইলম-আমল, তাক্বওয়া ও বংশগত মর্যাদার দিক দিয়ে ছিলেন দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু, হযরত হাসান আলাইহিস সালাম, হযরত আব্দুল্লাহ আল মাহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মুহম্মদ আল মাহদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইব্রাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব্দুল্লাহ আল আশতার রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত নাফসে জাকিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রধান। যাঁদের কামালত বেলায়েতও বেমেছাল বুযুর্গীর বর্ণনা সর্বজন বিদীত।
সম্ভবত হযরত সাইয়্যিদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশতম পূর্বপুরুষ হযরত সাইয়্যিদ কুতুবুদ্দীন মুহম্মদ সর্বপ্রথম মদীনা শরীফ ত্যাগ করে বাগদাদ শরীফ উনার মধ্যে আসেন। অতঃপর বাগদাদ শরীফ উনার থেকে কালক্রমে উপমহাদেশে প্রবেশ করেন। উপমহাদেশে তখন দাস বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান হযরত শামসুদ্দীন আল তামাস রহমতুল্লাহি আলাইহি মুসলিম সালতানাতের মসনদে বসা ছিলেন। তিনি নবী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবার উনাদেরকে খুবই ইজ্জত ও সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন এবং হযরত সাইয়্যিদ কুতুবুদ্দীন মুহম্মদকে দিল্লীর শাইখুল ইসলাম পদ দান করেন।
“তারিখে ফিরোজ শাহীর” লিখক জিয়াউদ্দীন বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “হযরত সাইয়্যিদ কুতুবুদ্দীন মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নবী বংশ উনার উজ্জল ভাস্কর ছিলেন। তিনি বাদাউনের কাজীদের বুযুর্গ পূর্বপুরুষ। ১১৫৮ ঈসায়ী সনে উনার জন্ম। ১২৬৭ সালে উনার ওফাতের সময়কাল। ইন্তেকালের সময় তিনি তিন পুত্র রেখে যান। উনারা হচ্ছেন হযরত কিয়ামুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত তাজউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত নিযামুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।”
“তাযকিরাতুল আবরার” গ্রন্থে বর্ণিত আছে, হযরত কিয়ামুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি ইলম আমল এবং তৎকালীন সৈয়দ বংশে মুকুট স্বরূপ ছিলেন। সুলতান আলতামাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কন্যা ফাতাহাকে হযরত কিয়ামুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে বিবাহ দেন।”
উক্ত গ্রন্থে আরো বর্ণিত আছে, “হযরত সৈয়দ তাজউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কয়েক বৎসর পর্যন্ত অযোধ্যার কাজী ছিলেন। জিয়াউদ্দীন বারানী উনার সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি বলেন, উনাদের মত উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন লোক আমি খুব কমই দেখেছি। এমন পাক পবিত্রতা সম্পন্ন ও গুণাবলীর অধিকারী মহান আল্লাহ পাক তিনি খুব কম লোককেই পয়দা করেছেন। হযরত সৈয়দ তাজউদ্দীন ও উনার পুত্র সৈয়দ কুতুবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরবর্তী ষষ্ঠ পুরুষ পর্যন্ত কোন বর্ণনা পাওয়া যায়না।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দশম পূর্বপুরুষ হযরত সৈয়দ কুতুবুদ্দীন ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি কাড়া পরিত্যাগ করে জায়েসে বসবাস করেন এবং সেখানেই তিনি এবং তার স্ত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উভয়ের মাযার আনসারীদের মহল্লায় অবস্থিত। উনার পুত্র জায়েসই বসবাস করেন কিন্তু পৌত্র হযরত সাইয়্যিদ মাহমুদ রহমতুল্লাহি আলাইহি নাসিরাবাদের কাজী নিযুক্ত হন। তথাকার কাযিয়ানা মহল্লা উনারই আবাদ। উনার ইন্তিকালের পর উনার পুত্র হযরত সৈয়দ আহমদ কাজী হন। তিনি অত্যন্ত দ্বীনদার ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ছিলেন।
একবার তার আদালতে কোন আত্মীয়ের মামলা দায়ের হলো। তিনি শরীয়ত মুতাবিক ফয়সালা করলেন। ফলে ফয়সালা আত্মীয়ের বিপক্ষে গেলে আত্মীয় পরাজিত হয়ে ক্রোধবশত অপমানজনক বাক্য উচ্চারণ করে বসলেন। কাজী হযরত সৈয়দ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একথা শুনে কাজির পদ ইস্তফা দিয়ে নাসিরাবাদ ত্যাগ করে রায় বেরেলী চলে আসেন। তিনি বলেন, যে শহরে শরীয়তের রায়কে অবমাননা করা হয় সেখানে কোন মু’মিন ব্যক্তি বসবাস করতে পারেনা। হযরত সৈয়দ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি আলাইহি তিনি রায় বেরেলীতেই থেকে যান। উনার পুত্র হযরত সৈয়দ মুয়াজ্জাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বীয় বংশধরের নিকট নাসিরাবাদ চলে আসেন। হযরত সৈয়দ মুয়াজ্জাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুই পুত্র ছিলো। হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ফুযাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি। উভয় ভ্রাতাই শরীয়ত ও তরীক্বতের রাস্তায় দৃঢ় ছিলেন। হযরত ফুযাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় পাড়া প্রতিবেশির খিদমত করেন। প্রত্যেকটি বাড়ির দ্বারে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেন কোন কাজ থাকলে বলো। এমনকি কারো লাকড়ী জরুরত হলে বাজার থেকে খরিদ করে নিজ মাথায় বহন করে আনতেন। তিনি শরীয়তের খুবই পাবন্দ ছিলেন। তিনি বলেন, “যেখানে শরীয়তের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় সেখানে মুসলমানের পক্ষে বসবাস করা হারাম।”
-নেছার আহমদ, ঘোড়াশাল নরসিংদী।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)