ভারতীয় উপমহাদেশে আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পূর্বপুরুষগণের খিদমত- ২

সংখ্যা: ১০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ফুযাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বড় পুত্রের নাম হযরত সাইয়্যিদ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ছোট পুত্রের নাম হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। এই সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহিই বাদশাহ্ আওরঙ্গজেব-এর যামানায় ভারত বর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ ওলী, বুযুর্গ ছিলেন। তিনি হিজরী ১০৩৩ সনের রবিউল আউয়াল মাসে নাসিরাবাদের কাযিয়ানা মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সুন্নতের পাবন্দ ছিলেন। তাঁর চেষ্টা ও কোশেশে তৎকালে হিন্দুস্তান ও খোরাসানে দ্বীনে হক্ব ও সুন্নতের পুনঃ প্রতিষ্ঠা হয়।

          বাল্যকাল হতেই তাঁর মধ্যে সুন্নতের অনুসরণ ও বেলায়েতের নূর পরিলক্ষিত হয়। সম্মান, প্রতিপত্তি ও লোভ লালসার প্রতি তিনি বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেন। তিনি নিজ হাতে কাজ করা পছন্দ করতেন এবং জঙ্গল হতে কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

          “সাওয়ানেহ্ আহম্মদী” কিতাবে বর্ণিত আছে, “যৌবনে তিনি হযরত মুযাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রধান খলীফা হযরত শায়খ আদম বিন্ নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খানকা শরীফে গিয়ে উপস্থিত হন এবং তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে তরিক্বতের মাকামগুলো অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করেন। হযরত শায়খ আদম বিন্ নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁকে খিলাফত দিয়ে নিজ দেশে যাবার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, “সেখানে তোমার অবস্থা তারকা বেষ্টিত চন্দ্রের ন্যায় উজ্জল হবে।” পীর ছাহেবের হাতে খিলাফতনামা নিয়ে তিনি স্বীয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং হিদায়েতের কাজে নেমে পড়েন। জীবনে তিনি একাধিকবার হজ্ব করেন।

          “নাতাজুল হারামাইনের” লিখক ১৬৬৪-৬৫ সনে তাঁকে পবিত্র মক্কা শরীফে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের প্রতি সম্মান ও তাযীম রক্ষার্থে তিনি সেখানে স্বীয় পায়ের জুতা খুলে চলাফেরা করেন। নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করে স্বীয় মহল্লায় তিনি কাবা শরীফের অনুরূপ মাপে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং বরকতের জন্য তাতে যমযমের পানি মিশ্রিত করেন।

          “মাখযানে আহম্মদী” কিতাবে বর্ণিত আছে, “হযরত শাহ্ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পরিবারবর্গের জন্য খোদাতায়ালার নিকট দোয়া করেছেন (এভাবে), “তারা যেন সাংসারিক অভাব-অনটনের মধ্যে থাকে। তাহলে পার্থিব সম্পদে ডুবে থাকার দরুণ খোদা তায়ালাকে বিস্মৃত হতে পারবেনা।” সুতরাং এ বংশের কারো কোন প্রয়োজনীয় বস্তুর অভাব দেখা দিলে মনে করা হতো যে, অমুক বাড়িতে হযরত শাহ্ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর আগমন ঘটেছে।

          “হযরত সৈয়দ আহম্মদ শহীদ” গ্রন্থে বর্ণিত আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমার বুযুর্গ দাদা আল্লাহ্ পাক উনার নিকট দোয়া করেছেন, “আমার ভবিষ্যত বংশধর যেন পার্থিব স্বচ্ছলতায় না থাকে। যদি থাকে তবে আল্লাহ পাক উনার স্মরণে অলসতা করবে।”

          “বাহ্রে যাখখায়ের” গ্রন্থকার বলেন, নবীবরের পথ অনুসরণ করার মানসে পৃথিবীর প্রতি বিরূপভাব পোষণ করা সম্বন্ধে শাহ্ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে যেসব বর্ণনা রয়েছে তার উদাহরণ একমাত্র হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ব্যতীত ওলীগণের মধ্যে খুবই কম পাওয়া যায়।

          “নাতাজুল হারামাইন” কিতাবে বর্ণিত আছে, “শরীয়ত ও তরীক্বতের দৃঢ়তা এবং সুন্নতের অনুসারী ব্যক্তি তার মত খুব কম লোকই ছিল। কথা-বার্তা, আহার-বিহার, চাল-চলন প্রত্যেকটি কাজ তিনি সুন্নত মুতাবিক করতেন। ছোট-বড় সকলকে প্রথমে সালাম করতেন। কেউ সুন্নত বিরোধী কাজ করলে তওবা না করা পর্যন্ত তার সাথে মিলামিশা করতেন না। বাড়ির প্রত্যেকটি কাজে নিজে অংশগ্রহণ করতেন। কাউকে কাজের আদেশ দিতেননা। ঋণগ্রস্থ এবং দরিদ্রদের হাদিয়া গ্রহণ করতেননা। তিনি বলতেন, ‘ঋণ পরিশোধ ও আত্মীয়-স্বজনকে প্রতিপালন করা ফরয আর আমাকে দান করা নফল।”

          হযরত শাহ্ ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর চার পুত্র ছিলেন। তাঁরা হলেন, হযরত সাইয়্যিদ আয়াতুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ হুদা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সাইয়্যিদ আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

-নেছার আহমদ, ঘোড়াশাল, নরসিংদী।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে